• টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। যে কোনো নতুন আলোচনা শুরু করার আগে পুরোনো লিস্টি ধরে একবার একই বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গেছে কিনা দেখে নিলে ভালো হয়। পড়ুন, আর নতুন আলোচনা শুরু করার জন্য "নতুন আলোচনা" বোতামে ক্লিক করুন। দেখবেন বাংলা লেখার মতো নিজের মতামতকে জগৎসভায় ছড়িয়ে দেওয়াও জলের মতো সোজা।
  • জাত-বেজাতের জুজুৎসু

    Anindita Roy Saha ফলো করুন
    অন্যান্য | ০৭ জুলাই ২০২০ | ৩০৮ বার পঠিত

  • সোনাঝরিয়া মিন্জ সংবাদে শিরোনাম হয়েছেন। তিনি ভারতের প্রথম আদিবাসী মহিলা উপাচার্য নির্বাচিত হয়েছেন, ঝাড়খণ্ডের সিধু-কানু বিশ্ববিদ্যালয়ে। একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, অভিজাত প্রতিষ্ঠানে জাতিগত বৈষম্যের চেহারাটাও অভিজাত। শিক্ষিত সমাজ থেকে মোটেই চলে যায় নি তারতম্য আর অসম্মানের ধারা।
    অনেকগুলি সাক্ষাৎকার বেরিয়েছে নানা গণমাধ্যমে। সব জায়গাতেই আলোচনার মূল বিষয় হল সোনাঝরিয়ার অতীত আর সামাজিক সংগ্রামের বিষয়টি। কিভাবে তিনি লাঞ্চিত হয়েছেন কোন শিক্ষকের কাছে, কবে কোন ঘটনায় তাঁকে কতখানি অপমানিত হতে হয়েছে, কর্মক্ষেত্র থেকে শুরু করে মেয়ের স্কুলে কী কী তাঁর অভিজ্ঞতা, এইসব আর কি। এই বর্ণনাগুলো আমাদের জানা দরকার, প্রকৃত ভারতবর্ষকে জানার জন্য। আমাদের শোনা দরকার কীভাবে লড়াই করতে হয় একটি আদিবাসী মেয়েকে, স্বাধীনতার সত্তর বছর পরেও। কিন্তু এই যে একটি বিষয়েই আমাদের এতো কৌতূহল , সেটাও কি সুন্দর মোড়কে পুরে একটা জাতি-বৈষম্যের উপহার নয় তাঁর প্রতি? তাঁর শিক্ষাগত পরিচয়কে ছাপিয়ে যাচ্ছে তাঁর গোষ্ঠী-পরিচয়। তাঁর যোগ্যতার চেয়ে বড়ো হয়ে উঠছে তাঁর একদা বঞ্চিত শৈশব। কেবল একটি জায়গায় দেখেছিলাম তাঁকে সাক্ষাৎকারের শেষে একটি ছোট প্রশ্ন করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পঠনপাঠন সম্পর্কে তাঁর কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা। অর্থাৎ, তুমি যত কৃতীই হও, সমাজ তোমাকে জাতের প্যাঁচে ফেলবেই।

    রোহিত ভেমুলার কথা নতুন করে বলছি না। কিন্তু চোখের সামনে দেখছি উদয় কুমারকে। খোদ রাজধানীর বুকে, নামী বিশ্ববিদ্যালয়ে তাকে থিসিস জমা দিতে হয়রান হতে হচ্ছে শুধু ওবিসি হওয়ার অপরাধে। নানা অছিলায় তাকে ল্যাবরেটরি ব্যবহার করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে, অনির্দিষ্ট কালের জন্য পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে থিসিস জমা দেওয়ার তারিখ। সহকর্মী অধ্যাপকদের মধ্যেও যাঁরা তপশীলি জাতি ও উপজাতির মানুষ, প্রতিনিয়ত দেখি তাঁদের নিজেকে প্রমাণ করার প্রয়াস আর নীরব ঘোষণা, আমরা যোগ্যতায় কম নই।

    প্রথম যখন বাংলার বাইরে আসি, কেউ জিজ্ঞেস করেছিল, “আপ কায়স্থ হ্যাঁয় ?” ভেবেছিলুম, একি অসভ্যতা! আমরা বাঙালিরা তো এমন নই। পরে মনে হয়েছে, এই প্রশ্নে রুচিহীনতা আছে , কিন্তু ছলনা নেই। এই সুবাদে একটু নিজের গল্প বলি। রায়বাড়ির মেয়ে যখন সাহাবাড়ির বৌ হতে চাইলো, তখন ভারী মুশকিলে পড়ে গেলেন আমার মা-বাবা। মা বললেন, আমরা যে সবাইকে নিয়ে সমাজে বাস করি। বাবা সকলকে নিমন্ত্রণ করতে গিয়ে কৈফিয়ত দিতে লাগলেন, এরা ‘তেমন সাহা’ নয়। (অর্থাৎ সাহা ব্রাদার্স কিংবা সাহা বস্ত্রালয়ের শ্রেণীর নয়।) প্রসঙ্গত বলি, আমার দাদাশ্বশুর ছিলেন আর জি কর মেডিকেল কলেজের প্রতিষ্ঠাতা-অধ্যক্ষ। কিন্তু তাতে কি? পদবী বড়ো বালাই। তারপর ধীরে ধীরে যখন ভাবতে শুরু করলাম, এসব আর নেই , যুগ পাল্টেছে , ঠিক তখনই আমার পিসতুতো দাদা মেয়ের বিয়ে স্থির করলেন। পাত্র বৈশ্য। এটা মাত্র কয়েক বছর আগের কথা, আবার আমি নায়িকা হলুম। আত্মীয়মহলে উদাহরণ দিয়ে বলা হল, সাহা তেমন খারাপ আর কী! আর এই গল্পটা সহাস্যে আমাকে পরিবেশন করলেন ঘনিষ্ঠজনেরাই। এবার আর জুজুৎসু প্যাঁচে কুপোকাৎ হলুম না, সয়ে গেছে।

    সোনাঝরিয়ার গল্প দিয়েই শেষ করি। আমরা একই সময়ে একই হোস্টেলে থেকেছি। জে এন য়ু -র প্রগতিশীল পরিবেশে থাকা কলকাতার পরিশীলিত মেয়ের দল, আমরা কোনোদিন ওর সঙ্গে কথাই বলি নি। জানতে চাওয়া তো দূরের কথা, কোনো উৎসাহই বোধ করি নি। আজ ওর ছবি দেখে বন্ধুরা বলাবলি করছি, “কি রে মনে পড়ছে?” “চিনতে পারলি?” “আরে, তোদের উইং-এই তো ছিল!” “তোদের সিনিয়র মেরি রূপা টেটে-র রুমমেট রে!” (লক্ষ্যণীয় যে রুমমেট নির্বাচনও কিন্তু সাধারণত জাতি ও গোষ্ঠীভিত্তিক।) আজ সোনাঝরিয়ার এই পরম গৌরবের আড়ালে কোথায় লুকোবো আমাদের চরম লজ্জা?
  • আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা

  • পাতা : 1
  • sm | 2402:3a80:a6d:3e65:0:63:7f6b:1e01 | ০৭ জুলাই ২০২০ ১২:৫৬732351
  • ইতিহাস চর্চা করতে গেলে কিছুটা নির্মহ দৃষ্টির তো প্রয়োজন।এলেবেলে বহু জায়গায় লিখছেন ,আম্বেদকর, জিন্না, এঁরা গান্ধীকে ধুইয়ে দিয়েছেন। অনেক রূঢ় কমেন্ট করেছেন। করতেই পারেন।এঁদের ভক্তরা গান্ধী কে আরো অবমুল্যায়ন করেছেন।করতেই পারেন।বিভিন্ন লোকের পারসেপশন আলাদা ! তো,তাই বলে,এনারা গান্ধীর এই এই অবমুল্যায়ণ; এই এই জায়গায় করেছেন,তাই গান্ধী খারাপ।এটাকেই খণ্ডিত দর্শন বলে।

    সাউথ আফ্রিকা থাকাকালীন গান্ধীর কার্যকলাপ নিয়ে ম্যান্ডেলা এট অল যথেষ্ট অবহিত ছিলেন।জানতেন গান্ধী স্থানীয় দের কি নামে ডাকতেন,জুলু দের ওপর কতোটা আন্তরিক ছিলেন,ব্রিটিশ দের কতোটা অনুরক্ত ছিলেন। এরপরেও জীবনের শেষদিন অবধি গান্ধীর প্রশংসা করে গেছেন।কারণ গান্ধীর এই  নন ভায়োলেন্ট মুভমেন্ট  এঁদের পরবর্তী কালে এপার্থেইড সরকারের বিরুদ্ধে কাজে এসেছিল।

    আম্বেদকর,জিন্না,এনারা বাস্তব বাদী নেতা।নিজেদের কম্যুনিটির উন্নতির জন্য লড়ে গেছেন।গান্ধী আক্ষরিক অর্থে বাঁধা সৃষ্টি করেছেন।কিন্তু গান্ধীর উদ্দেশ্য ছিলো আলাদা।

    গান্ধীর চরিত্র ভীষণ কমপ্লেক্স। মরালিটি ও বাস্তব বাদী গান্ধী যেন আলাদা ব্যক্তি।উনি ব্রিটিশ দের ডিভিসিভ রাজনীতি ভালো করে বুঝতেন।দলিত  রিপ্রেজনটেশন নিয়ে অসুয়া ছিলো না।কিন্তু সেপারেট ইলেকটরেট নিয়ে ছিলো। 

    প্রশ্ন উঠতেই পারে কে ঠিক কে ভূল?কিন্তু কারোর উদ্দেশ্য ই অসৎ ছিলো না।

    গান্ধী প্রথম জীবনে প্রেজুডিসড ছিলেন।আজকের বিচারে রেসিস্ট লাগতেই পারে।কিন্তু রেসিস্ট বলে কোন ইতিহাসবিদ দাগিয়ে দিলে,সেটা উদ্দেশ্য প্রণোদিত মনে হয়।

  • sm | 2402:3a80:a6d:3e65:0:63:7f6b:1e01 | ০৭ জুলাই ২০২০ ১৩:৪৪732352
  • ভুল জায়গায় পোস্ট হয়েছে , দুঃখিত।

  • করোনা

  • পাতা : 1
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত