• টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। যে কোনো নতুন আলোচনা শুরু করার আগে পুরোনো লিস্টি ধরে একবার একই বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গেছে কিনা দেখে নিলে ভালো হয়। পড়ুন, আর নতুন আলোচনা শুরু করার জন্য "নতুন আলোচনা" বোতামে ক্লিক করুন। দেখবেন বাংলা লেখার মতো নিজের মতামতকে জগৎসভায় ছড়িয়ে দেওয়াও জলের মতো সোজা।
  • সিক্রেট অব মার্শাল আইল্যান্ড

    সুগত সেনশর্মা
    বিভাগ : অন্যান্য | ২০ জুন ২০২০ | ৯৬ বার পঠিত
  • আল জাজিরা টেলিভিশনের একটা চলতি প্রোগ্রামের নাম "দ্য সিক্রেট অব মার্শাল আইল্যান্ড"। মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে অনেকগুলো দ্বীপের সমাহার। আমেরিকান উপকূল থেকে শত শত কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই দ্বীপপুঞ্জে 58000 মানুষের বসবাস। 1946-58 সালের মধ্যে আমেরিকা এখানে মোট 120 টি পরমাণু বোমা ফাটিয়েছে। হাইড্রোজেন বোমা ফাটানোর গর্ত এখনো দূর আকাশ থেকেও দেখা যায়। আমেরিকান মারণাস্ত্র পরীক্ষার এই আঁতুড়ঘরে সাংবাদিকের একটি দল পাঁচবার গিয়ে একটি রিপোর্ট বানিয়েছে, যে রিপোর্ট তারা আগে ছোট ছোট ভাগে প্রকাশ করেছিল। বর্তমানে আল জাজিরা তা সম্প্রচার করছে।

    মার্শাল দ্বীপপুঞ্জে তেজস্ক্রিয় বিকিরণের পরিমান অত্যন্ত বেশি। নানা রকম তেজস্ক্রিয় বর্জ্যের মধ্যে আছে প্লুটোনিয়াম। খোদ আমেরিকা থেকে 5300 টন তেজস্ক্রিয় বর্জ এনে এখানে ফেলা হয়। মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের সহজ সরল মানুষগুলো বুঝতেই পারে নি এখানে এসব কি হচ্ছে! মাঝে মাঝে সাহেবরা এসে তাদের নিয়ে নানারকম পরীক্ষা চালাতো। জোসেফ একজন 72 বছর বয়সের বাসিন্দা। তিনি 7 বছর বয়সে একদিন সকালে দেখেন আকাশে যেন দুটো সূর্য্য। সেই সময় আমেরিকানরা প্রথম বোমা ফাটায়। যখন তাকে জিজ্ঞাসা করা হয় অসুখ বিসুখ হলে চিকিৎসা পাওয়া যেত কিনা তিনি বলেন ওরা রক্ত নিতো ও এক্স রে করতো। চিকিৎসার কোন ব্যবস্থা ছিল না।

    প্লুটোনিয়াম ও হাইড্রোজেন বোমা পরীক্ষার পর জীবানু অস্ত্রের প্রয়োগ নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা করে। যথারীতি এই জীবানুর প্রভাব পরীক্ষা করা হতো এখানকার পশুপাখি ও মানুষদের উপর। এই দ্বীপপুঞ্জের বাসিন্দাদের তারা গিনিপিগ ও ইঁদুর হিসেবে ব্যবহার করেছে।

    মার্শাল সরকার ও আন্তর্জাতিক চাপে আমেরিকা কিছু কিছু তেজস্ক্রিয় বর্জ্য তুলে কবর দিয়েছে রুনিট দ্বীপে। যদিও আমেরিকান বিশেষজ্ঞদের মত এটি এই এলাকার তেজস্ক্রিয় দূষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে। মার্শাল দ্বীপপুঞ্জে সব ধরনের খাবারে তেজস্ক্রিয়তার পরিমান অত্যন্ত বেশি বলে এখানে সবজি ও ফলমূল খাওয়া যায় না। মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের মানুষের পুনর্বাসনের জন্য 2.5 বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেবে বলে আমেরিকা স্বীকার করলেও মাত্র 600 মিলিয়ন ডলার দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলেছে। এমনকি রুনিট দ্বীপপুঞ্জের কবরখানার দায় ও তারা নিতে চায় না। ডায়াবেটিস রোগীর হার এখানে অত্যন্ত বেশি, তার সাথে আছে তেজস্ক্রিয়তার কারনে অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনা, যথা ক্যানসার।

    আমেরিকার এই সব কাণ্ডকারখানার পেছনে আসল উদ্দেশ্য হল ভারত মহাসাগরের উপর দখলদারি। আমেরিকার ন্যাভাল ফোর্সের দুই তৃতীয়াংশ আছে ভারত মহাসাগর, প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় যা আদতে আমেরিকার উপকূল থেকে বহুদূরে। তাদের লক্ষ্য পূর্ব ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলি। একটা বলয়ের আকারে তারা এশিয়া মহাদেশকে ঘিরে রেখেছে। শুধু দক্ষিন এশিয়া জুড়ে 47000 নৌসৈন্য তারা মোতায়েন করেছে। বারাক ওবামা নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন। তিনি একটি বক্তৃতায় বলেন যে তিনি ন্যাশনাল গার্ডকে নির্দেশ দিয়েছেন এশিয়া-প্যাসিফিকে শক্তি বাড়াতে হবে।

    মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ হল এই শক্তি বৃদ্ধির লঞ্চ প্যাড। তাই মারণাস্ত্রের ঢালাও কারবার, তাই জৈব অস্ত্র দিয়ে মার্শালের গরীব জনজাতির উপর চলেছে পাশবিক পরীক্ষানিরীক্ষা যা হিটলারের জার্মানির কথা মনে করিয়ে দেয়। আমেরিকান যে সাংবাদিক সারা বিশ্বের কাছে এই ঘটনা তুলে ধরেন তিনি বলেছেনঃ এই ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘন ওরা করে কারণ অস্ত্র তৈরী করতে ওরা লক্ষ কোটি ডলার খরচ করে ফেলেছে। এই টাকা তুলতে হলে যুদ্ধ চাই, তাই যুদ্ধের উন্মাদনা ও জিগির জিইয়ে রাখে। তাই নতুন নতুন শত্রু খুঁজে ওরা ফের করে। নিজেরা মারণাস্ত্রের ভাণ্ডারে দাঁড়িয়ে অন্য দেশে weapon of mass destruction খুঁজে বেড়ায়।

    https://www.latimes.com/projects/marshall-islands-nuclear-testing-sea-level-rise/
    এই লিঙ্ক এই সংক্রান্ত অসংখ্য লেখার একটি।
  • আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা ভাইরাস

  • করোনা ভাইরাস

  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত