• টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। যে কোনো নতুন আলোচনা শুরু করার আগে পুরোনো লিস্টি ধরে একবার একই বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গেছে কিনা দেখে নিলে ভালো হয়। পড়ুন, আর নতুন আলোচনা শুরু করার জন্য "নতুন আলোচনা" বোতামে ক্লিক করুন। দেখবেন বাংলা লেখার মতো নিজের মতামতকে জগৎসভায় ছড়িয়ে দেওয়াও জলের মতো সোজা।
  • জানা অজানা- কালীঘাট মন্দির

    Subhabrata
    অন্যান্য | ১৬ মে ২০২০ | ২৬৩ বার পঠিত

  • কাশীর মহারাজ আদিশূরের সময় কালে কাশী থেকে আসাম ও চট্টগ্রাম থেকে সুন্দরবন পর্যন্ত শাক্ত ও শৈব উপাসাকেরা জেগে ওঠে। বিশেষত আসাম ও অবিভক্ত বাংলাদেশে কালীপুজোর চল শুরু হয়, অসংখ্য কালী বা শক্তি মন্দির স্থাপিত হয়, এবং প্রতিটি শক্তি মন্দিরের সঙ্গে একটি শিবমন্দির ও স্থাপিত হয়। তন্ত্রচূড়ামণি মতে শক্তিমন্দিরের সঙ্গে ভৈরব মন্দির নির্মাণ হতে থাকে। ঐতিহাসিকরা মনে করেন, বৌদ্ধধর্ম শূণ্য অধিকাংশ বৌদ্ধ মঠ ও স্তুপ শক্তি ও শৈব মন্দিরে রূপান্তরিত হয়। উত্তরবঙ্গের জল্পেশ্বর, বাণেশ্বর বা মেদিনীপুরের বর্গভীমা মন্দিরের গঠনশৈলী দেখলে বৌদ্ধকীর্তির ছাপ দেখতে পাওয়া যায়।
    কিন্তু কালীঘাটের মন্দির আজকে একান্নপীঠের এক পীঠ হলেও এর ইতিহাস বা গঠনশৈলী সেই সাক্ষ্য দেয় না। কোনো পুরাণে কালীঘাটের উল্লেখ নেই। কেবলমাত্র ভবিষ্য উপপুরাণের ব্রহ্মখন্ডে উল্লিখিত আছে - "গোবিন্দপুর প্রান্তে চ কালী সুরধুনী তটে"। কোনো প্রাচীন তন্ত্রেও কালীঘাটের উল্লেখ নেই, কেবলমাত্র মহানীলতন্ত্রে উল্লেখ আছে "কালীঘাটে গুহ্য কালী"। পঞ্চদশ শতকের পর রচিত আচার নির্ণয়তন্ত্র, মহালিঙ্গ রচন তন্ত্র, চুড়ামণিতন্ত্র বইগুলি তে একমাত্র কালীঘাটের কালীর উল্লেখ পাই। দেবী ভগবত উপপুরাণে যে সতীপীঠের বর্ণনা আছে সেখানেও কালীঘাটের কোন উল্লেখ নেই। সুতরাং কালীঘাটের মন্দির ও কালীমাতা কি করে একান্নপীঠে জায়গা করে নিলো এ এক মহা আশ্চর্যের বিষয়।

    কিংবদন্তি বলে, ভবানীদাস চক্রবর্তী নামে এক ব্রাহ্মণ শাঁখা বিক্রি করে সংসার চালাতেন। তিনি গঙ্গার ধারে গভীর জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন, এমন সময় এক সধবা মহিলা তাঁর কাছে শাঁখা পরতে চায়। ভবানীদাস তাকে শাঁখা পরিয়ে দাম চাইলে, মহিলা অন্তর্হিত হয়, এবং গঙ্গা থেকে একটি শাঁখা পরা হাত উঠে এসে ভবানীদাসকে আশীর্বাদ করে। এই সময় ভবানীদাস দৈববাণী শুনতে পান, - তিনিই আদ্যাশক্তি মহামায়া, যিনি আত্মগোপন করে আছেন সতীদেহের খন্ডিত কনিষ্ঠাতে। প্রস্তরীভূত খন্ডিত কনিষ্ঠা আছে জঙ্গলের ভেতর। ভবানীদাস যেন তাঁকে গঙ্গা তীরে প্রতিষ্ঠা করে পূজা শুরু করে।
    এর বেশ কিছু বছর পর দশনামী শৈব সন্ন্যাসী চৌরঙ্গি গিরি, গঙ্গাসাগর তীর্থে যাওয়ার সময় একটি গোলাকার পাথর কুড়িয়ে পান। রাতেণ স্বপ্নাদেশ পান - ঐ পাথর আর কেউ নয় স্বয়ং কালীকার ভৈরব নকুলেশ্বর। কালীকা সাধক ভবানীদাসের প্রতিষ্ঠিত শিলার পাশে নকুলেশ্বরকেও প্রতিষ্ঠা করার আদেশ পান চৌরঙ্গি গিরি। স্বপ্নাদেশ অনুযায়ী চৌরঙ্গি গিরি গঙ্গা তীরে ভবানীদাসের সাক্ষাৎ পান, এবং নকুলেশ্বর শিবলিঙ্গ টি তাঁকে দেন প্রতিষ্ঠা ও পুজো করার জন্য। সেই দিনই দুজনে গঙ্গা জলে হাত ধুতে গিয়ে পান একটি ত্রিকোণ পাথর, এবং দুজনে আবার দৈববাণী শুনতে পান- যে ঐ পাথর দিয়েই তৈরি হবে দেবী কালীকার মুখমন্ডল।
    এরপর নির্মিত হয় কালীকা র বিগ্রহ, যে বিগ্রহের দেহস্থ একটি গোপন কুঠুরিতে রাখা থাকবে সতীদেহের ছিন্ন অঙ্গুলিটি। আনুমানিক ১৬০০ খৃষ্টাব্দে ভবানীদাস মুর্তি নির্মাণ করে মন্দির প্রতিষ্ঠা করলে ডিহি গোবিন্দপুরের জমিদার রাজা বসন্ত রায় ভবানীদাসের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। রাজা বসন্ত রায়ের অর্থানুকূল্যে গঙ্গা তীরে নির্মিত হয় দেবী কালীকার মন্দির এবং তার সংলগ্ন ঘাট। কালীকার ঘাট। পরবর্তী কালে লোকমুখে নাম হয় কালীঘাট।

    যখনকার কথা বলছি তখন গোবিন্দপুরে গঙ্গা সংলগ্ন এলাকা ছিলো ঘন জঙ্গলাকীর্ণ, তার সঙ্গে বন্য পশু ও ডাকাতের ভয়। সুতরাং কালীঘাট তখন তীর্থক্ষেত্র হিসেবে কিছুটা প্রসিদ্ধি লাভ করলেও যাতায়াতের জন্য যথেষ্ট দুর্গম ছিলো। যশোরের রাজা প্রতাপাদিত্য ছিলেন শাক্ত। তিনি বাংলার সমস্ত শাক্ত তীর্থ ক্ষেত্র দর্শণ করার উদ্দেশ্যে ভ্রমণ শুরু করে একসময় কালীকার ঘাটে ডিঙি ভেড়ান। প্রতাপাদিত্যের আগমনে কালীকার ঘাট সংলগ্ন এলাকার জঙ্গল পরিস্কার করা হয়, বসতি স্থাপন হয়, ভবানীদাসের পুত্র পৌত্ররা মন্দির সংলগ্ন এলাকায় নিজেদের কুটির নির্মাণ করেন এবং হালদার পদবি প্রাপ্ত হন। এরপরেই তীর্থক্ষেত্র ও সতীপীঠ হিসেবে কালীঘাটের নাম ছড়িয়ে পড়ে। মনে করা হয়, ভবানীদাসের ভদ্রাসন যেখানে ছিলো, সেটাই এখন ভবানীপুর হিসেবে পরিচিত হয়েছে। রাজা বসন্ত রায় কালীঘাটের মন্দির ও তার সংলগ্ন ছশো বিঘা জমি দেবোত্তর সম্পত্তি দান করেছিলেন। সেখানে পরবর্তী কালে ভবানীপুর, কালীঘাট ও হালদারপাড়ার নকুলেশ্বর মন্দির নির্মাণ করা হয়েছে। এর পর রাজা বসন্ত রায়ের কুটুম্ব ও সাবর্ণ রায়চৌধুরী র বংশধর কেশব রায় চৌধুরী বর্তমান কালী মন্দির ও বিগ্রহ র প্রতিষ্ঠা করেন। মন্দির টি আট কাঠা জমির ওপর নির্মিত,। ষাট হাত উঁচু। গর্ভগৃহ দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে পঞ্চাশ হাত। এবং ১৮০০ সালে তৈরি করতে খরচ হয়েছিল প্রায় ত্রিশ হাজার টাকা।

    তথ্যসূত্র:

    কলিকাতার ইতিবৃত্ত: প্রাণকৃষ্ণ দত্ত (দ্বিতীয় পর্ব পৃ:৮-২৪)
    অষ্টাদশ পুরাণ ও উপপুরাণ- অশোক উপাধ্যায়
    সুতা ও নটির ইতিকথা- বিনয় ঘোষ
  • আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা

  • পাতা : 1
  • বিপ্লব রহমান | 37.111.201.117 | ১৬ মে ২০২০ ১৭:৪৩731398
  • নতুন করে আবারও জানলাম।  সরেজমিনে কালীঘাট দর্শনের বাসনা রাখি       

  • Subhabrata | 42.110.143.211 | ১৬ মে ২০২০ ১৯:০৩731399
  • বিপ্লব রহমান- লকডাউনের পর অবশ্যই,  আমার বাড়িও কালীঘাট। নেমন্তন্ন রইল

  • করোনা

  • পাতা : 1
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত