• হরিদাস পাল
  • খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে... (হরিদাস পাল কী?)
  • ইন্তিজার হুসেনের লেখাকে ঘিরে - ৩

    সিএস
    বিভাগ : বইপত্তর | ০৭ মে ২০২০ | ৩৩৫ বার পঠিত
  • ১.
    উপন্যাসটির প্রায় মাঝামাঝি জায়গায়, পঞ্চম পরিচ্ছেদের শেষে দু'পাতা জোড়া অংশটিতে জাকির নিজেকে হারিয়ে ফেলে। মনে হয় এই অংশটি মুংখের আঁকা এক্স্প্রেসনিস্ট ছবিও হতে পারত। একটু আগে সিরাজ থেকে বেরিয়ে এসেছে সে - চায়ের আড্ডায় যেখানে বন্ধুদের সাথে মিলিত হয়, বেরোবার আগে দোকানের মালিক তাকে প্রশ্ন করেছিল যে যুদ্ধ কি সত্যি বাঁধবে, চারিদিকে যেমন মিলিটারির মুভমেন্ট চলছে, কিন্তু কিছু উত্তর না দিয়ে উৎসাহ না দেখিয়েই চলে এসেছে সে - বেরিয়ে এসে রাস্তার ধার দিয়ে হাঁটতে থাকে। সন্ধ্যের অন্ধকারে, রাস্তার আলোগুলো দূরে দূরে, পথচারীদের মুখগুলো ভালো করে ঠাহর হয়না, অন্ধকারে জ্বলে ওঠে একটি কালো বেড়ালের চোখ, মানুষের মুখ থেকে তাদের পায়ের দিকে চোখ যায়, তাদের হাঁটা লক্ষ্য করে সে, হাঁটা দিয়েই মানুষের ব্যক্তিত্ব প্রমাণিত হয়, আমার কি সেরকম হাঁটার ধরন আছে, এসব ভেবে নিয়ে হাটার ধরণটিকে ঠিক করে নিতে চায় সে কিন্তু তাও সেটি আরো খারাপ হতে থাকে, নিজের হাঁটাকে অ-মানুষিক মনে হয়, আমিই কি এখানে হাঁটছি, হ্যাঁ এই তো আমার পদশব্দ কিন্তু একটু পরেই মনে হয় কই আমার পায়ের শব্দ তো এখানে নেই যেন আমি হাঁটছি এখানে আর পায়ের আওয়াজ হচ্ছে দূরে কোথায়, আমি কোথায় হাঁটছি, সবকিছু তো চুপ হয়ে গেছে আর থেমে গেছে, দেশলাই বাক্স খালি হয়ে যাওয়ার মত করে শহরটা যেন খালি হয়ে গেছে, তার সকল বাড়ী আর সরাইখানা আর সব জায়গাগুলি, শুধু যেন ইঁদুরের কিছু কুরে খাওয়ার শব্দ; সামনে রাস্তাটি বন্ধ দেখতে পায়, একটা বড় বাড়ীর গেটের সামনে এসে দাঁড়ায়, কেউ কি আছে এখানে বলে চেঁচিয়ে ওঠে যা যেন ছড়িয়ে পড়ে সারা শহরময়, যেন অনন্তকাল ধরে ঐ দরজার সামনে সে দাঁড়িয়ে আছে আর সেই কালো বেড়ালটি তার পেছনের দু পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে দরজা খুলে দেয়, জাকিরের দিকে খুব ভালো করে দেখে তারপর দরজাটি বন্ধ করে দেয়। ট্রাফিক লাইটের লাল সবুজ হয়, হ্যালুশিনেশন ভেঙ্গে যায়, রাস্তায় পা রেখেও পা তুলে নেয় সে, বাঁধভাঙ্গা নদীর জলের মত জাকিরের পাশ দিয়ে বেড়িয়ে যায় গাড়ী, স্কুটারট্যাক্সি আর মোটরবাইক। জাকির বর্তমানে ফিরে আসে, যে বর্তমান নদীর সুপ্রচুর জলের মত তাকে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে।

    ২.
    বাস্তী উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৭৯ সালে। ইন্তিজার হুসেনের কথামতো লেখাটি শুরু হয়েছিল ১৯৭১ সালে যখন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ঘটনাবলী ঘটতে থাকে আর নিজের মধ্যে বিভিন্ন প্রশ্ন তৈরী হতে থাকে। ইন্তিজার ভেবেছিলেন যে ফেলে আসা ওনার যে অতীত, যা ১৯৪৭-র সময়ে, যা নস্টালজিকও, সেইসব তিনি কাটিয়ে উঠতে পেরেছেন । কিন্তু পূর্ব পাকিস্তানের ঘটনা সেই সকল স্মৃতি ফিরিয়ে আনতে থাকে, মনে হতে থাকে ১৯৪৭ র রক্তাক্ত দিনগুলি যেন আবার ফিরে আসছে। উপন্যাস লেখার কোনরকম চিন্তা না করেই তিনি লেখাটি লিখতে আরম্ভ করেন, বেশ কিছুদিন লেখার পরে লেখাটি থামান, ওদিক থেকে খবর আসতে থাকে, ঢাকার পতন ঘটে। এর পরেও লিখতে থাকেন, ক্রমশঃ নভেলের রূপ দেন, বেশ কয়েক বছর পরে লেখাটি শেষ হয়। পূর্ব পাকিস্তানের ঘটনা ইন্তিজার হুসেনের মধ্যে কিছু প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছিল, যে প্রশ্নগুলি পাকিস্তান রাষ্ট্রটি তৈরী হওয়া সংক্রান্তই, যে ভারতীয় উপমহাদেশে পাকিস্তান যদি মুসলমানদের নিজস্ব বাসভূমি হয় আর দেখান থেকে দেশের এক অংশের মানুষ যদি বেরিয়ে যেতে চায়, তাহলে কি তারা মুসলমান নয়, তারা কি পাকিস্তানি নয়, তারা কি আলাদা, এই সব প্রশ্ন পাকিস্তানের ইতিহাসকেই সন্দেহর মধ্যে ফেলে আর এই সব সন্দেহই এই উপন্যাসটি লেখার প্রেরণা দেয়। উপন্যাসটির সমালোচনা ছিল দুই দিক থেকেই, পাকিস্তানের সমালোচকদের কাছে জাকির চরিত্রটি ছিল এমন এক্জন যার কিছু করে ওঠার কোন জোর নেই, সে শুধু দেখে যায়, অবস্থা বদলাবার কোন চেষ্টা করে না। অন্য অভিযোগটি এসেছিল বাংলাদেশের দিক থেকে, উপন্যাসটিতে 'ঢাকার পতন' এই দৃষ্টিটিকে কেন্দ্র করে। বাংলাদেশের ঊর্দুভাষার গল্পকার গোলাম মহম্মদ, যিনি ইন্তিজার হুসেনের লেখার প্রসংশক ছিলেন তাঁর অভিযোগ ছিল, বাংলাদেশ তো এক স্বাধীন রাস্ট্রের জন্য লড়াই করেছে, তাহলে ইন্তিজার হুসেনের দুঃখ আর শোক কেন ?

    ৩.
    উপন্যাসটির নামে একটা অনির্দিষ্টতা আছে। বাস্তী শব্দের অর্থ তো জনপদ বা শহর। অর্থাৎ যখন উপন্যাসটি পড়ব তখন মনে হবে যে এই লেখাটি কোন পরিচিত শহরের কথা বলবে না, খুব ভেতর থেকে জানা শহর না হলেও অন্তত নাম জানা কোন শহরের কথাও যেন থাকবে না, কারণ বিশেষ কোন শহরের ইঙ্গিত নামটির মধ্যে নেই । কিন্তু যেহেতু উপন্যাসের নামটি অনির্দিষ্ট অতএব, উপন্যসটি হয়ত যে কোন এক শহরের কথা বলবে এরকমও ভেবে নিতে পারি আর সেরকম হলে উপন্যাসটিকে নিজের জ্ঞানের পরিধিতে জায়গা দেওয়া যায় পারেন কারণ এই মরপৃথিবীতে প্রতিটি শহরের চরিত্র আলাদা হলেও, তার অধিবাসীরা আলাদা হলেও সেই ভেদের মধ্যে মিলও আছে,অন্তত সব সময়ে স্পষ্ট না হলেও বিশেষ পরিস্থিতিতে স্পষ্ট হয়, অর্থাৎ উপন্যাসটি পড়লে হয়ত উপন্যাসের গল্পটি খুব অচেনা মনে হবে না। আবার উপন্যাসে যে শহরটি বর্ণিত সেই শহরের নাম উহ্য থাকে, কিন্তু পাকিস্তান দেশটি তো উল্লিখিত, অতএব বোঝাই যায় যে শহরটি পাকিস্তানেরই কোন শহর, অপিচ স্থাননামগুলি পড়লে, যেমন ম্যাল রোড অথবা জিন্না গার্ডেন, বোঝা যায় যে লাহোর শহরের কথাই বলা হচ্ছে। যা দাঁড়ায়, লাহোরের কথা না বলেও ঐ শহরের কথাই বলা, উপন্যাসের নামকে আবার লাহোর কেন্দ্রিক বা পাকিস্তান কেন্দ্রিক না করে তুলে অর্নিদিষ্ট রেখে দিয়েও মানুষের সাধারণ অভিজ্ঞতার দিকেই নির্দেশ করা, উপন্যাসটি একই সাথে নির্দিষ্টতা ও অনির্দিষ্টতা তার শরীরে ধারন করতে পারে। দূরবীনের দুই দিকই ব্যবহার করলে যেভাবে একই দৃশ্য ক্রমাগত কাছে আসে বা দূরে যায়, সেইরকম ভাবে উপন্যাসের নামের এই অনির্দিষ্টতা গল্পের বাস্তবাটিকে কাছে আনে বা দূরে ঠেলে। যুগপৎ এরকম নির্দিষ্টতা ও অনির্দিষ্টতা রাখতে পারার কারণেই উপন্যাসটি ভবিষ্যতের পাঠকদের জন্যও তার পাতাগুলি উন্মুক্ত রাখতে পারে, যে কোন বিশেষ শহরের পাঠক, ভবিষ্যতের যে সময়ে সে আছে তার কাছেও যেন উপন্যাসটি গ্রাহ্য হয়ে ঊঠতে পারে।

    ৪.
    ইন্তিজার হুসেনের লেখায় বার বার ফিরে আসে শহর বা জনপদের কথা। রূপনগর বা ব্যাসপুরের মত কল্পিত জনপদ, মীরাটের মত বাস্তব জনপদ, সিপাহী বিদ্রোহের দিল্লী, আরব পৃথিবীর পুরোন শহর, মহাত্মা বুদ্ধের লুম্বিনী, মহাভারতের দ্বারকা, দেশ বা রাষ্ট্রের বদলে এই সব শহরগুলিতে যেন তিনি সভ্যতার চিহ্নগুলি দেখেছিলেন। এই উপন্যাসটি একটা বড় অংশ জুড়ে এইসব শহর থাকে, অতীতের কথা বলার সময়ে কিংবা সেটাই শুধু নয় বরং বলা যায় যে বর্তমান আর অতীতকে যুক্ত করার জন্যই। ফলে উপন্যাসের নামের এই যে কোন শহর হয়ে ওঠার দিকটি কোন বাধাই হয়না একদিকে ভবিষ্যতের কোন শহরের পাঠকের কাছে সত্য হয়ে ওঠার জন্য, অন্যদিকে উপন্যাসের বিষয়টি পৃথিবীর পুরাতন শহর এবং সভ্যতার সাথে যুক্ত হতে।

    ৫.
    এই উপন্যাসটিকে আমি শেষ পর্যন্ত বিশ শতকীয় মর্ডানিস্ট ফিক্শনের পর্যায়ভুক্ত রাখি। উপন্যাসের মধ্যে ন্যারেটিভ টাইমকে স্ট্রেচ করা, সমসময়ের চাপে ব্যক্তির আত্মসংকটের অবস্থা তৈরী হওয়া আর হ্যালুসিনেশন, সময়ের ভেতরে থেকেও কখনও সময়ের বাইরে বেরিয়ে যাওয়া, লেখার মধ্যে সিধে ন্যারেটিভ, অতীতচারণ, ডায়েরী এন্ট্রি, চরিত্রের অন্তর্মনকে ছোঁয়ার জন্য এক্সপ্রেশনিস্ট রাইটিং, ইতিহাস আর পুরাণকে খোঁড়া, ছিঁড়ে যাওয়া ছড়িয়ে যাওয়া চেতনার ইতিবৃত্ত মিশিয়ে দেওয়া, প্রধান চরিত্রের 'নায়ক' না হয়ে কখনও প্রতিনায়ক বা কখনও নিস্পৃহ হয়ে ওঠা অথবা মুসিলের লেখা উপন্যাসের 'দ্য ম্যান উইডাউট কোয়ালিটিজ' -এর মত; শহরের দৃশ্য, তার মধ্যে স্থাপিত উপন্যাসের চরিত্র আর তার শহর আর নাগরিকদের মুখ দেখে যাওয়া, এইসব নিয়ে গল্প তৈরী হওয়া বিংশ শতাব্দীর উপন্যাসকে উনিশ শতকের উপন্যাসের থেকে আলাদা করে, যা এই উপন্যাসটিতে রয়েছে। ট্রোপ হিসেবে থাকে জাকির নামটি যার অর্থ 'যে মনে রাখে' আর সে ছিল ইতিহাসের অধ্যপক, ফলে মানুষের অতীতের কথা, ইতিহাসের কথা, পুরাণ আর গল্পের কথাও তার মনে থাকে। উপন্যাসটির এগারোটি পরিচ্ছেদে পকিস্তানের বর্তমান, জাকিরের দৈনন্দিন আর জাকিরের অতীত মিশে থাকে আর ন্যারেটিভ টাইমকে অনেকখানি বিস্তৃত করা হয়। বাস্তব তারিখের বিচারে হয়ত কিছু দিন বা কয়েক সপ্তাহের ঘটনা উপন্যাসের বিষয় যা ঘটছে বাংলাদেশ যুদ্ধের সময়ের দিনগুলিতে, জাকিরের অতীতচারণের মধ্যে দিয়ে ন্যারেটিভটি বিস্তৃতি পাচ্ছে পেছনদিকে আরো অনেক বছরের জন্য, পার্টিশনেরও আগে অবধি আর জাকিরের চেতনা বর্তমানের চাপে খন্ডিত হয়ে ছড়িয়ে গেলে সেই চেতনা সিপাহী বিদ্রোহের দিল্লী থেকে প্রাক ইতিহাসের দ্বারকায় পৌছে যায়।

    উপন্যাসটির শুরু হয় জাকিরের অতীতকল্পনার মধ্যে দিয়ে, রূপনগর আর ব্যাসপুরের মিথিক্যাল পাস্ট যেন, আর এক থেকে চার নম্বর পরিচ্ছেদ জুড়ে বর্তমান আর অতীত পাশাপাশি থাকে। দুই নম্বর পরিচ্ছেদে রূপনগরে ছেড়ে আসা সাবিরাহর কথা জাকিরের মনে পড়ে, চার নম্বর পরিচ্ছেদে ছিল পাকিস্তানের আসার পরবর্তী দিনগুলোর কথা যখন কষ্ট থাকলেও স্বপ্ন আর আশা ছিল। কিন্তু এর মধ্যে তিন নম্বর পরিচ্ছেদে সে ভেবেছিল ইতিহাসের কথা, ইতিহাস পড়ানো কী ক্লান্তিকর, মুঘল রাজবংশে ভাইদের লড়াইকে সে লক্ষ্য করেছিল, বাবা বেঁচে থাকতেই তারা যাতে জড়িয়ে পড়ত, আরো পিছিয়ে গিয়ে আবেল আর কেন - এর কথাও। নিজেকে সে বলেছিল এসকেপিস্ট, বাস্তব আর বর্তমানের চাপে সে অতীতে আশ্রয় নিচ্ছে, তার নিজের ইতিহাসের অবস্থা কীরকম সেও ভেবেছিল সে রাতের অন্ধকারে। চতুর্থ পরিচ্ছেদের শেষ থেকেই ন্যারেটিভটি জাকিরের অতীতকে বর্তমানের মধ্যে আত্মসাৎ করে, ডুবিয়ে দিতে থাকে, এর পর থেকে ন্যারেটিভটি বর্তমানকেই ধারণ করে থাকে। পাঁচ নম্বর পরিচ্ছেদের শেষাংশে আসে জাকিরের অন্তর্মনের কথা - পুর্ব পাকিস্তানের যুদ্ধ পরিস্থিতি আর পশ্চিম পাকিস্তানের বিক্ষুব্ধ পরিস্থিতি মধ্যে জাকিরের উপস্থিতি - তখন জাকির হ্যালুসিনেট করে। বাঁধভাঙা জলের যে ইমেজ সে যেন জমে থাকা বর্তমানকেই নির্দেশ করে, পাশ দিয়ে চলে যাওয়া গাড়ীর গতি বর্তমানেরই গতি যা জাকিরকে ভাসিয়ে নেবে, অতীতকে আর সে আশ্রয় করে উঠতে পারবে না। ছয় নম্বর পরিচ্ছেদে সে তার যুবাবয়সের বন্ধু সুরেন্দরের চিঠি পায় দিল্লী থেকে। সেই চিঠিতে বলা ছিল যে সেই রূপনগর আর নেই, সুরেন্দর সেখানে গেছিল, চিঠিটিতে সাবিরাহর কথাও সুরেন্দর লিখেছিল যার সাথে সুরেন্দরের দেখা হয়েছে। জাকির ভেবেছিল সে ভারতে আসবে সাবিরাহর জন্য, বন্ধু ইরফানের সাথে সেই নিয়ে কথা বলতে বলতে বাড়ীর বাইরে এসে দেখে চারিদিক অন্ধকার, রাস্তায় ভলান্টিয়ার, যুদ্ধ ঘোষণা হয়েছে, দূরে বিশ্ফোরণের প্রবল শব্দ হয়, তারা চুপ করে যায় । পাঁচ নম্বর পরিচ্ছেদে যা বলে রাখা হয়েছিল যে বর্তমান জাকিরকে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে, ছয় নম্বর পরিচ্ছেদের শেষে এসে সেটি সম্পূর্ন হয়ে ওঠে, জাকিরের সামনে ফেরার পথ থাকেনা, রূপনগরও শেষ হয়ে গেছে, যুদ্ধও শুরু হল । সাত নম্বর পরিচ্ছেদে জাকির চারিদিকের যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে পালাতে নিজের বাড়ীতে যেন গুহায় ঢুকে যায়, সে ডায়েরী লিখতে শুরু করে আর সেই ডায়েরীর পাতায় অথবা জাকিরের মস্তিষ্কে ন্যারেটিভটি উড়াল দেয় অনেক অতীতের দিকে, পুরাণে, গল্পে আর ইতিহাসে যেখানে জাকির যেন তার চারপাশের বর্তমানকে দেখতে পায়। বর্তমান থেকে রাস্তা তৈরী হয় অতীতে, অতীত ছায়া ফেলে বর্তমানে, জাকিরের অস্তিত্বই যেন হারিয়ে যায়, ডায়েরীর পাতায় বা উপন্যাসের পাতায় যে থাকে সে শুধু 'আমি' যে জনশূন্য শহরে ঘুরে বেড়ায়, গজ-্কচ্ছপের লড়াই দেখে, এক ফকিরের দেখা পায় যে বলে এই দুটি প্রাণী লড়াই করছে তাদের পিতার সম্পত্তির জন্য, ভ্রাতৃঘাতী লড়াইয়ের বিষয়টি ফিরে আসে, আরব্য রজনীর শহরে সেই আমিটি আবুল হাসান হয়ে ঘুরে বেড়ায়, যেদিকে তাকায় সেদিকে দেখে মানুষ আছে কিন্তু তাদের মাথা নেই, জঙ্গলে দেখা পায় মহাদেব-্শিবের, কেউ যেন আমিকে বলে যে এই অস্তিত্ব সাগরে সে শান্তি পাবে কোথায়, ১৮৫৭-র দিনগুলিতে দেখে দিল্লীর লোকেরা আশা করছে যে পারস্য থেকে সৈন্য এসে তাদের ইংরেজদের হাত থেকে বাঁচাবে, ইংরেজের দিল্লী দখলের দিনটি দেখা দেয় আমি-র চেতনায়। অষ্টম পরিচ্ছেদে ঢাকার পতন প্রধাণ ঘটনা, যুদ্ধে পাকিস্তানের অবস্থা খারাপ হতে থাকলে শহরের লোকজন মূহ্যমান হয়ে পড়ে, রাস্তায় বেড়িয়ে জাকির দেখে পোস্টারগুলো তখনও আছে কিন্তু লোকজনের মুখগুলি যেন শক্তিশূন্য, পাকিস্তানের হারের দিনগুলো চলে আসে, জাকির এক ফুলের বাগানে ঘুরে বেড়ায়, দেখা হয় তার আর এক বন্ধু অফজলের সাথে যে আগে বলেছিল দু'জন মানুষ পেলে সে যুদ্ধ থামিয়ে দিতে পারে, এখন বলে নতুন পাকিস্তানে সে ফুল ফোটাবার ব্যব্স্থা করবে। নয় নম্বর পরিচ্ছেদে জাকির দেখে যে তার বন্ধুরা অনেকেই তাদের আগের মনোভাব থেকে সরে আসছে, বিপ্লবী কথা থেকে সরে এসে তারা মাথায় টুপি তুলে নেয়, কেউ বিদেশ চলে যাওয়া মনস্থ করে। দশ নম্বর পরিচ্ছেদে জাকিরের বাবার মৃত্যু ঘটে যিনি ছিলেন ধর্মপ্রান, স্থিতধী ও কোরান নির্ভর, পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি সন্দিহান, দুঃখিত ও চিন্তিত। সেই আরব পৃথিবীতে উমাইদ রাজবংশের উথানের পর থেকেই যে খারাপ দিন শুরু হয়েছে, চলছে, বর্তমান যেন তারই প্রতিচ্ছবি। এই পরিচ্ছেদের শেষে সপ্তম পরিচ্ছেদের 'আমি'টি ফিরে আসে, সে মহাভারতের যুগে চলে গেছে, দ্বারকায়, যেখানে বলরামের মুখের ভেতর দিয়ে বেরিয়ে আসছে একটি সাপ যার মাথাটি প্রসারিত হয়েছে দূরের সাগর অবধি, যাদব বংশের ধ্বংসের দিন আসন্ন, মিশে যায় কুরুক্ষেত্রে ভীষ্ম আর যুধিস্ঠিরের কথোপকথন, জল থেকেই সৃষ্টির শুরু সেখানেই সব আবার মিলিয়ে যাবে। জাকির তার নিজস্ব গুহা থেকে বেরিয়ে আসতে চায় কিন্তু পারেনা, বাইরে যেন ঝোড়ো হাওয়া বইছে, আবার সেই গুহায় ঢুকে যায়, বড় হাই ওঠে। একাদশ অর্থাৎ শেষ পরিচ্ছেদে বাবার কবরটি ঠিক করার জন্য কবরখানার দিকে যায় জাকির, রাস্তায় তখন আগুন, আগুন নেবানোর গাড়ী, মিছিল ও গুলি। কোনক্রমে প্রায় চেতনারহিত হয়ে কবরখানার সামনে পৌছলে ন্যারেটিভটি জাকিরের ধ্বস্ত চেতনাকে আশ্রয় করে বা জাকিরের চেতনাই সিপাহী বিদ্রোহের দিল্লী, হোসেন আলির সময়ের কুফা, কারবালা, মহাভারতের দ্বারকা, এই সব শহরে ঘুরে বেড়ায় যেখানে মৃত্যুশব্দ, রক্তশব্দ, ভীতিশব্দ আর শ্মশানশব্দ। সংবিৎ ফিরে এলে সে সঙ্গী পায় ইরফান আর আফজলকে,তিনজনে অন্ধকারে বসে থাকে, জাকির ইরফানকে বলে সে সাবিরাহকে চিঠি লিখবে, ইরফান অবাক হয়, জাকির ভাবে যে সব কিছু অন্তিমে পৌঁছনোর আগে, চিঠিটি লিখে ফেলার এই সেই সময় আর তখন আফজল দু'জনকেই চুপ করতে বলে, সে বলে এইরকম সময়েই পৃথিবীতে কিছু একটা নেমে আসে, কোন ইঙ্গিত বা চিহ্ন দেখা দেয় , কিছু একটা যেন ঘটবে।

    উপন্যাসটি শেষ হয় যখন চারিদিক অন্ধকার আর তারা তিনজনে কবরখানায়, কোন কিছুর অপেক্ষায়।

    ৬.
    উপন্যাসটি নিয়ে যে অভিযোগগুলি তার নিরসন হয় কি ? ইন্তিজার হুসেন প্রথম সমালোচনাটিকে খুব একটা গুরুত্ব দেননি বলে মনে হয়, প্রোগ্রেসিভ সাহিত্যকেন্দ্রিক সমালোচনায় খুব একটা ভরসা ওনার ছিল না, হয়ত তর্ক হয়েছিল যা বিশদে আমি জানিনা এবং বেশী আর কথা না বাড়িয়ে চুপও করে গেছেন। নিজের লেখাটা লিখে যাওয়াই একজন লেখকের কাজ এরকম একটা বক্তব্য ছিল। আর আমি যেহেতু এই উপন্যাসটিকে মডার্নিস্ট উপন্যাসের মধ্যে রাখছি, তার চরিত্রবৈশিষ্ট্যর জন্যই মনে করি সেইসব উপন্যাস উদ্যমী 'নায়ক' - দের ধারণ করতে পারেনা, কারন এইসব উপন্যাসগুলি প্রশ্নসঙ্কুল, বর্তমান, সমাজ আর ইতিহাস নিয়ে, ফলে চরিত্রগুলির শুধু কথা ভেবেই হৃদয় শুকায়।

    দ্বিতীয় প্রশ্নটির মুখোমুখি হয়ে এরকম বলা যায় যে উপন্যাসটি লেখা হচ্ছে জাতীয় চেতনার খুব ভেতর থেকে। মডার্নিস্ট ফিক্শনের মধ্যেও অনেক ক্ষেত্রেই এই ব্যপারটি ছিল, উপরন্তু গত তিরিশ চল্লিশ বছরের বা তার বেশী সময়ের তৃতীয় বিশ্বের উপন্যাসও লেখা হয়েছে এই চেতনা থেকেই। ফলে এরকম হয় যে একজোন পাকিস্তানি লেখক যখন উপন্যাস লিখছেন যেটি লেখা হচ্ছে কারন সেই লেখকের সমাজ - রাষ্ট্রে কিছু প্রশ্ন উঠে এসেছে, রাষ্ট্রটির ইতিহাস নিয়েই প্রশ্ন উঠছে তখন সেই প্রশ্নগুলোকে তিনি ন্যাশনাল কনশাসনেসের ভেতর থেকেই দেখছেন। কিন্তু এর মানে এই নয় যে উল্টোদিকের মতটি অগ্রাহ্য হচ্ছে, গুলাম মহম্মদের অভিযোগটির উত্তরে লেখকের বক্তব্য ছিল যে বাংলাদেশের মানুষ ঐ অভিযোগটি করতেই পারেন কারণ তারা অনেক সংগ্রাম আর মুভমেন্টের মধ্যে দিয়ে গেছেন; কিন্তু আমি তো লিখছি একজন পাকিস্তানি লেখক হিসেবে। এরকম বোধ করি যে খুব ভেতর থেকে প্রশ্নগুলোর মুখোমুখি হলে যে অনুভূতিগুলো উঠে আসে তার মধ্যে শোক ও দুঃখও রয়ে যাবে। এই উপন্যাসে সেটি হয়েছে, ভবিষ্যতেও অন্য দেশের অন্য কোন উপন্যাসেও হতে পারে। তাহলে একটি উপন্যাস এরকম তর্কের জন্ম দিতে পারে যেহেতু লেখকের চেতনা থেকে যে উপন্যাস তৈরি হচ্ছে, সেটি যখন স্বরাট একটি বস্তু হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়, যার মধ্যে ধরা থাকে সমসাময়িক ইতিহাস আর চরিত্রদের অন্তর্মন, তখন সেই বস্তুটি অন্য দিক থেকে আর এক দল পাঠকের মধ্যে অন্য মত বা তর্কের জন্ম দিতে পারে। কোন কোন উপন্যাস তর্কের এরকম আধারস্থল হয়ে উঠতে পারে ! এও লক্ষ্য করি, যে এই উপন্যাসটির মধ্যেও একটি সাব টেক্স্ট হিসেবে তর্ক ব্যাপরটি ছিল। সিরাজের চায়ের আড্ডাটি ছিল জাকির, তার বন্ধুদের আর নাম না জানা আরো কিছু চরিত্রদের মনোভাব প্রকাশের জায়্গা। জাকিরের বন্ধু সলামত ছিল বামপন্থী, জাকিরদের সে সাম্রাজ্যবাদীদের এজেন্ট বলত, এও শুধু নয় সে তার আগের প্রজন্ম, তার পিতাদেরও সমালোচনা করত প্রচুর। বোঝা যায় যে এসবই তদানীন্তন পাকিস্তানের বাস্তবের প্রতিচ্ছবি, যেখানে তর্ক আর প্রজন্মের সংঘাত থাকছে। সেই সলামত যুদ্ধের পরে তার বাবা খ্বাজা আব্বাসকে বলেছিল যে বাঙালীরা স্বাধীনতা পেয়েছে, খ্বাজা সাহেব রেগে ওঠেন সেই কথায় এবং তার পর সলামত আমেরিআয় চলে যায়। এই দৃশ্যটির বিবরণ উপন্যাসে সরাসরি দেওয়া হয়নি, খ্বাজা সাহেবের কথার মধ্যে দিয়ে এটি পাঠক জানতে পারে। কিন্তু উপন্যাসের ইন্টার্নাল লজিক এখানেও কাজ করে, প্রজন্মের যে সংঘাত বন্ধুদের আড্ডায় প্রকাশ পেত, সেটি পরিণতি পায় এইভাবে যখন রাষ্ট্রের পরিবর্তনটি সমর্থন পাচ্ছে পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে। উপন্যাসের মধ্যে হয়ত এটি একটি মাইনর দৃশ্য, কিন্তু এই কথাকটি রাখা মানেই ঔপন্যাসিক সচেতনভাবেই উপন্যাসের মধ্যেই তর্কের জায়গাটি খুলে রাখছেন।

    (** বাস্তী শব্দটি সচেতনভাবেই ব্যবহার করা হয়েছে, উর্দু উচ্চারণের যতখানি কাছে রাখা যায় সেই চেষ্টায়।)

    * আমার পড়া বাস্তী উপন্যাসটির প্রকাশক অক্সফোর্ড ইউনিভারসিটি প্রেস, ২০০৭। গত কয়েক বছরের মধ্যে, NYRB ক্লাসিক্স হিসেবেও বইটি ছাপা হয়েছে।
    * প্রসঙ্গত, 'আগে সমুন্দর হ্যায়' উপন্যাসটি ইংরেজী অনুবাদে ছাপা হয়েছে 'দ্য সী লাইজ অ্যাহেড' নামে, প্রকাশন হার্পার পেরেনিয়াল, ২০১৫।

    আগের পর্ব: https://www.guruchandali.com/comment.php?topic=17522

  • বিভাগ : বইপত্তর | ০৭ মে ২০২০ | ৩৩৫ বার পঠিত
  • আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1
  • b | 162.158.166.134 | ০৮ মে ২০২০ ০০:০১93102
  • সি এস খুবই পপুলার লেখক। শুধু ৩ লিখেছেন, অথচ এরই মধ্যে ৮৩ বার পঠিত।
  • Atoz | 162.158.187.194 | ০৮ মে ২০২০ ০৭:৪৫93107
  • ঃ-)
  • o | 173.245.52.164 | ০৮ মে ২০২০ ০৮:০২93108
  • এইটে এক্কেবারে পোস্টপোস্টমডার্ন স্টাইলে। চমৎকার লেখা। ;-)

  • | 162.158.50.241 | ০৮ মে ২০২০ ০৯:৪৯93111
  • ছেলেপুলেরা সাদাখাতা জমা দিলে টাকা পিন করে দিত।
    তা এই ৩ মানে কি ৩০০/- টাকা? :-))
  • একলহমা | 162.158.187.70 | ০৮ মে ২০২০ ২৩:১০93124
  • জবাব নেই :))))

  • সিএস | 162.158.23.22 | ০৯ মে ২০২০ ১৬:২৮93149
  • আপনার যারা সঙ্গে থেকে অনুপ্রেরণা দিয়েছেন, তাঁদের নমস্কার।
  • | 162.158.50.241 | ০৯ মে ২০২০ ১৬:৪৪93150
  • হা হা হা হা এইত্তো লেখা এসে গেছে।
    দাঁড়াও পড়ি
  • d | 162.158.207.135 | ১২ মে ২০২০ ২৩:৫০93249
  • এই বাজারে মাত্র ৩০০ টাকা! ছিঃ 

  • করোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত