• খেরোর খাতা

  • কামিনী ফুলের সুরভি - একটা গল্প

    Anjan Banerjee লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | বিবিধ | ০১ মে ২০২০ | ৩১৬ বার পঠিত
  • জমিয়ে রাখুন পুনঃসম্প্রচার
  • বৈশাখ মাস । আজ বুদ্ধ পূর্ণিমা। সন্ধের মুখে রাস্তাঘাটে বৈশাখি হাওয়া।হাওয়ায় হাওয়ায় যেন ডাক দিচ্ছে।হাওয়ায় যেন উৎসবের লুটোপুটি। ভালবাসার গান। পাড়ার শীতলা মন্দিরে কাঁসর ঘন্টা বাজছে। দুধ কলা সন্দেশ মাখা সিন্নির সুরভি। পূর্ণিমার চাঁদ ভরাট লাবণ্যে সেজেগুজে আনমনে বসে আছে আকাশের বারান্দায়। স্নিগ্ধ কোমল আলো ঝরছে— আসছে হলুদ ঝর্ণার মতো নেমে।
    মন্দিরের জানলা দিয়ে চরণামৃত দিচ্ছে দিতি। জানলার সামনে এসে যে হাত পাতছে কুশিতে তুলে তালুতে ঢেলে দিচ্ছে দিতি। এই মন্দিরের যে কোন পুজোয় এই কাজটা সে খুব আগ্রহের সঙ্গে করে। সিন্নি বা চরণামৃত বিতরণে বসে যায়। বাইশ বছর বয়েস । শ্যামলা দোহারা গড়ন । মসৃন চুল নেমেছে কাঁধ ছাড়িয়ে। দাঁতের ওপরের পাটিতে একটা সুনিপুণ গজদন্ত। হাসলে মিষ্টি আলো ছড়িয়ে পড়ে বেশ খানিক জায়গা জুড়ে। মেরুন রঙের কুর্তি পরে আছে এখন ।
    সবার দেখাদেখি হিমাংশুও হাত পাতল জানলার ধারে গিয়ে। দিতি কুশি তুলে চরণামৃত ঢালে। হিমাংশুর একহাতে মোবাইল, কাঁধে একটা ব্যাগ। হিমাংশুর পাতা হাত নড়ে যায়। দিতি তাড়াতাড়ি একহাত বাড়িয়ে হিমাংশুর হাতের নীচে হাতটা দিয়ে সোজা করে ধরে রাখে। তারপর চরণামৃত ঢেলে দেয় তালুতে। হিমাংশুর সারা শরীর প্রশান্তিতে অবশ হয়ে গেল।
    হিমাংশু পবিত্র জল মুখে দিয়ে, মাথায় ঠেকিয়ে সরে যায় জানলা থেকে। আনমনে হাঁটতে থাকে বাস স্টপের দিকে। যাবে এলগিন রোডে সুশান্ত দাসের অফিসে। রমেন তপাদারের একটা খাম পৌঁছে দেবার জন্য। হিমাংশুর মনের কোষগুচ্ছ আপনা আপনি একটা মালা গেঁথে যেতে লাগল । নানা ফুলে সাজানো মালা— মেরুন কুর্তি, মসৃন ঝর্ণা চুল, ওপরের পাটিতে গজদন্ত, হিমাংশুকে ছুঁয়ে থাকা পবিত্র হাত— এইসব ফুলে মালা গাঁথা হতে থাকল অনাবিল আকাশে বাতাসে। মালার দুটো প্রান্ত মিলছে না কিছুতেই। ছিঁড়ে খুঁড়ে মিলিয়ে গেল হাওয়ায়। হিমাংশু নিজের অজান্তেই আবার ফুলগুলো জড়ো করে। মেরুন কুর্তি, ঝর্না চুল, গজদন্ত, ছুঁয়ে থাকা পবিত্র হাত— ঠি ক এইরকম সাইক্লিক অর্ডারে মালা গেঁথে যেতে লাগল।
    স্নিগ্ধ কোমল আলো ঝরছে— আসছে হলুদ ঝর্ণার মতো নেমে।
    কন্ডাকটার খিঁচিয়ে ওঠে— ‘ আরে আজিব লোক তো... গেট জ্যাম করে দাঁড়িয়ে আছে... জলদি উঠুন... ভেতরে ডানদিকে যান...’
    হিমাংশু তাড়াতাড়ি বাসের মধ্যে ঢুকে পড়ে ।

    রফিকুল বহুৎ বাওয়াল করছে ক’ সপ্তা ধরে। তার নামে রমেন তপাদারের কাছে গিয়ে চুকলি কাটছে যখন তখন। হিমাংশু ভাবে, রফিক কি তাকে ধুর্ ভাবছে নাকি। আসলে মাধবপুর স্টেশান ধারের দোকানগুলোর ওপর পুরো কন্ট্রোল চাইছে। পার ডে কমসে কম দশহাজার টাকা কামাই আছে। মামারবাড়ির আব্দার নাকি—রফিক একাই হিস্যা খাবে ? হিমাংশুর খুব ইচ্ছে, একদিন কোন ফেক এনকাউন্টারে জড়িয়ে আড়াল থেকে খুপরিতে দুটো দানা ভরে দিতে। আর রমেনটাও সা.. ল্লা ব্যাপক হারামি। তাদের দুজনকেই লেজে খেলাচ্ছে। গত মাসের মিটিং-এ উত্তর চব্বিশ পরগণা থেকে লোক আনার জন্য রমেনবাবু দুজনকেই লেলিয়ে দিয়েছিল। কার কোটার এরিয়া থেকে কত লোক এল তার ওপর তাদের ইনসেন্টিভ দাঁড়িয়ে। রফিক তার নিজের এরিয়া ছাড়িয়ে হিমাংশুর এরিয়াতেও খাবলা মারতে গিয়েছিল। পরে হিমাংশু জানতে পেরেছে যে, এতে রমেনবাবুর মদত ছিল। রমেন সালা কি তাকে ছেঁটে ফেলতে চাইছে। রমেনের শৈল্পিক ছোঁয়ায় সাজানো পরিশীলিত ড্রয়িংরুমে এই সেদিন দুই পোষা গ্রেহাউন্ডের নগ্ন রেষারেষিতে অশ্লীল গালাগালির বন্যা বয়ে গেল রমেনের সামনেই । রমেন তপাদার শুধু ‘ ....অ্যা..ই কি হচ্ছে....কি হচ্ছে কি.... থাম বলছি, এক্ষুণি থাম। এসব চলবে না এখানে....বাঁদরামি ঘুচিয়ে দেব একেবারে....’ বলে উত্তেজিতভাবে চেঁচাতে লাগল। হিমাংশু
    ভালমতোই লক্ষ্য করল রমেন তপাদার শেষের কথা কটা বলল, তার দিকে তাকিয়ে। সে বুঝতে পারছিল তার অন্য ঘাটে নোঙর ফেলার সময় হয়ে এসেছে। কিন্তু মনে মনে ঠি ক করে ফেলে আখরি ফয়সালা না করে সে এক ইঞ্চিও সরবে না। বাবারও বাবা আছে....
    ়়়়়় ়়়়় ়়়়

    হিমাংশুর হাতে যে চরণামৃত ঢেলে দিয়েছিল সেই মেয়েটার নাম দিতি। সত্যজিৎ এবং অদিতি সান্যালের মেয়ে দিতি সান্যাল।

    এখন জোয়ারের সময় । দিতির আপাদমস্তকে জোয়ারের টান। আর সত্যজিৎবাবুর নাও তো পড়েই গেছে ভাটার মুখে। ছায়ায় ছায়ায় বেলা গড়িয়ে যায়। সত্যজিৎবাবুর বুকের ভেতর বুদ্বুদ ওঠে— শুধু লড়াইয়ে লড়াইয়ে তার জীবনবেলায় ছায়া ঘনিয়ে আসার সময় হয়ে গেল। শুধু দহনে দহনে খেলা ফুরিয়ে আসার সময় হল। সামনে দাঁড়িয়ে তার আত্মজা দিতি। খয়েরি ঢোলাঢালা সালোয়ার কুর্তিতে ঢাকা। মুখে মৃদু প্রসাধন। ঠোঁটে হাল্কা রঙের ছোঁয়া।চুল ঝামরে কাঁধের নীচে পড়েছে। ঝালরের মতো চুল নীচে আধখানা চাঁদের মতো ছাঁটা। রূপসী নয় মোটেই। কিন্তু ওকে দেখলে ঝুমঝুমি বাজবেই যে কোন পুরুষের বুকে।
    দিতি ঘরে ঢুকে বলল, ‘ বাপি আমি আসছি’
    — ‘ হ্যাঁ এস মা, সাবধানে যেও।’
    এটা সদভ্যাসই হোক আর বদভ্যাসই হোক, বেরোবার সময় সত্যজিৎবাবু কখনও মেয়েকে জিজ্ঞাসা করেন না যে সে কোথায় যাচ্ছে।

    ফুটপাথ ঘেঁসে বাইক দাঁড়িয়ে।চালকের এক পা ফুটপাথে ঠেকা দেওয়া। বছর পঁচিশ বয়স। ক্লিন শেভড গাল। চুইংগামের মতো কি চিবোচ্ছে। পায়ে নাইকের স্নিকার। দুবার ঘড়ি দেখল। দিতি পনের গজ দূরে থাকতেই স্টার্টারে আওয়াজ তুলল। দিতি এসে গেল। হাল্কা লিপস্টিক মাখা ঠোঁট চিরে ঝিলিক দিয়ে উঠল হাসি। ছড়িয়ে যায় গজদাঁতি মধুরিমা। পিলিয়নে বসে চালকের দু’ কাঁধে হাত রাখল এবং বাইক গতিময় হল। দশ বারো কিলোমিটার মসৃন গতিতে চলল স্কুটার।লেভেল ক্রসিং ঝাঁপর ঝাঁপর করে পেরিয়ে গেল। দিতির দু’হাত ততক্ষণে পেছন থেকে দ্বিধাহীন আবেষ্টনে জড়িয়ে ধরেছে সঙ্গীর দেহ। পিঠে নাক রেখে শ্বাস নিল বুঝি দু একবার।শহরতলীতে পড়ল বাইক।
    এক টালির ছাদওয়ালা দু কামরার বাড়ির পাশে এসে থামল। সামনে একটু জমি। প্রচুর অযত্নলালিত ঝুপসি ঘাসে ভরা। বেশ কিছু গাঁদা ফুল ফুটে রয়েছে।
    দুজনে হাত ধরাধরি করে ভেতরে ঢুকে গেল।

    মাঠের পাশের রাস্তার দুদিকের দুই মোড়ে— একদিকে ভবতারিণী মিষ্টান্ন ভান্ডার, অন্যদিকে মনোরমা বস্ত্রালয়— এই দুদিকের মোড়ে হঠাৎ মাটি ফুঁড়ে দুটো দল ভেসে উঠল। চোখের পলক ফেলতে না ফেলতে শুরু হল মুড়ি মুড়কির মতো বোমাবাজি। ধোঁয়ায় চারদিক ঢেকে গেল। রাস্তার ধারের দোকানগুলো ঝটাঝট শাটার নামিয়ে দিতে লাগল। ছুটোছুটি পড়ে গেল এপাশে ওপাশে। কে একজন বলল, মানব মন্ডলের ছেলেরা খুব ক্ষেপে আছে। ছাড়বে না একদম। মেটিরিয়াল সাপ্লাইয়ের বখরা কি রমেনবাবু একাই খাবে নাকি। এখন তো আর জায়গাটা বিশ বছর আগের মতো নেই। গোটা এলাকা জুড়ে বিশ্বকর্মার চ্যালাদের বিশাল কর্মকান্ড। রিয়্যালটি কারবারের ব্যাপক রমরমা। সেই নিয়েই যত ধ্বস্তাধ্বস্তি। শুধু ওই পুবদিকের রঙ কারখানার পাঁচিল ঘেঁসে যে প্রায় বারো বিঘে জমি ।ওটায় এখনও কেউ থাবা মারেনি কেন সেটা একটা রহস্য। বোধহয় মালিকানা সংক্রান্ত গূঢ় রহস্যজাল আছে কিছু , যা বোঝা আপনার আমার মতো ছেলেপুলেদের কম্ম নয়। ওই জমির ঠি ক মাঝখানেই ছিল একটা অনাথ আশ্রম বা ‘হোম’ যা এখন পরিত্যক্ত কুটির। অনিল হাজরার দখলে। দিব্যি ভাড়া খাটাচ্ছে উঠতি বয়সের ছেলেমেয়ে ঢুকিয়ে দুপুর একটা থেকে সন্ধে ছটা পর্যন্ত।
    এদিকে প্রায় পঁচিশ মিনিট ধরে অবিরাম পেটো পড়তে লাগল। অাওয়াজ শুনে মনে হল কিছু ওয়ান শর্টার গুলিবর্ষণও হল এলোপাথাড়ি । নিখিলেশ এবং সুমন্তবাবু তাদের ফ্ল্যাটবাডির দশতলার ছাদে উঠে লাইভ অ্যাকশান দেখছিলেন এবং এইরকম নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছিলেন। দুজনেই এ ব্যাপারে একমত হলেন যে, প্রাক্তন অনাথ আশ্রমের বাড়িটা সহ ওই বারো বিঘে জমিটা দখল করাই এই সংঘর্ষের মূল অ্যাজেন্ডা। ভূতপূর্ব লোকাল কাউন্সিলার বুদ্ধদেব সাহা ওই দুরাচারভারাক্রান্ত, অনাচারগ্রস্ত হোম বন্ধ করতে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন তা এলাকার সবাই জানে। কিন্তু কারা তাকে ভোররাতে তার বাড়ির বাগানে বুলেটে ঝাঁঝরা করেছিল সে ব্যাপারে সাধারণ মানুষ আজও অন্ধকারে।
    পুলিশ এসে পৌঁছল যথারীতি লড়াই থেমে যাওয়ার পর। বাতাসে এখনও ভাসছে পোড়া পোড়া গন্ধ।
    পরিস্থিতি মোটামুটি শীতল হবার পর বারো বিঘে জমি মধ্যস্থ পলেস্তারা খসা তিন কামরার কুটির থেকে দরজা ফাঁক করে বাইরে উঁকি মারতে লাগল ভয়ার্ত, হতচকিত কটি নবীন চোখ।
    সৌভাগ্যক্রমে বাইরে ফেলে রাখা কটি মোটর বাইক সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থাতেই দাঁড়িয়ে আছে তাদের সওয়ারিদের প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায়। তারই একটাতে কম্পিত বক্ষে, উদ্বেগে থরথর শরীরে চেপে বসল দিতি আর তার সঙ্গী। মাত্রাতিরিক্ত অ্যাডভেঞ্চার প্রবণতা প্রায়শই এমন জটিল পরিস্থিতিতে নিক্ষেপ করে

    পরাগ সেনের বাইক দিতিকে যেখান থেকে তুলেছিল সেখানেই নামিয়ে দিল। প্রায় পঞ্চাশ মিটার রাস্তা দিতিকে হেঁটে যেতে হবে। মাথা নীচু করে অবসন্ন চিত্তে সে বাড়ির দিকে যেতে লাগল দ্রুতবেগে। মাথায় একরাশ চিন্তার বোলতা ভোঁ ভোঁ করছে।
    হিমাংশু শোভাবাজার মেট্রো স্টেশনের পাশে একটা চায়ের দোকানে বসেছিল। আনমনে সিগারেট টানছিল। দোকানদার কার্তিক দাস খদ্দের সামলাতে সামলাতে বিগলিতস্বরে হিমাংশুকে বলল— ‘দাদা , এই সময়ে এখানে বসে ? আজ বুঝি অফ ডে ? ‘ হিমাংশু কি একটা বলতে যাচ্ছিল , হঠাৎ দেখল দিতি মাথা নীচু করে আনমনে কি চিন্তা করতে করতে বিডন
    স্ট্রি টের দিক থেকে আসছে। কি জানি কেন, রফিকুল, রমেন তপাদার, মানব মন্ডল সবকিছু মাথা থেকে মুছে গেল।
    দিতি ঠিক সামনা সামনি আসতে হিমাংশুর মনে অকারণেই এক আশ্চর্য ছলাৎ ছলাৎ তরঙ্গ ঘা মারতে লাগল।
    আরও অবাক কান্ড ঘটল এবার। দিতি চলতে চলতেই গজদন্ত মাধুরীকীর্ণ রশ্মি ছড়িয়ে সম্পূর্ণ
    অপ্রত্যাশিতভাবে হিমাংশুর দিকে তাকিয়ে বলল, ‘ এখানে বসে ... !’
    হিমাংশুর হৃদপিন্ডে দশ রিখটার স্কেল মাত্রায় সাড়ে চার সেকেন্ডের এক ভয়াল ভূকম্প হয়ে গেল। কম্পন থিতু হবার পর হিমাংশু দেখল দিতি বেশ দূরে চলে গেছে।
    খয়েরি কুর্তা, চিকন ঝর্ণা চুল, ওপরের পাটির গজদাঁত, দুহাতে মেহেন্দি রঙ— এইসব নানা ফুলে মালা গাঁথা হতে থাকল বাতাসে। মালার দু প্রান্ত বাঁধা যাচ্ছে না কিছুতেই। ফুল পাপড়ি সব ছিঁড়ে খুঁড়ে উড়ে যাচ্ছে। ফুলদল আবার সংগ্রহ করে নতুন করে ফের মালা সাজাতে বসে হিমাংশু। আবার উড়ে যায়, আবার গাঁথে ....
    সন্ধ্যা নেমে এসেছে নিবিড় মায়ায় রাস্তাঘাটে, অলিতে গলিতে।

    লালি বলল, ‘ একটু চুপচাপ বস না । এত ছটফট করছ কেন ? ‘
    হিমাংশু বেশ আনমনা হয়ে আছে। কদিন ধরে তার পুরণো অনেক কথা মনে পড়ছে। তার মা বাবা, ভাই বোন, হোমের সেই ঘৃণ্য পশু বদ্রুবাবু, নোংরা করালি কাবাসি, সুচিত্রার মা, কত কথা মনে পড়ছে। মনে পড়ছে কাউন্সিলার বুদ্ধদেব সাহার কথা।
    গৌরীমাতা আশ্রমের ভান্ডারী বাবার কথা। তক্তাপোষের ওপর বসেছিলেন । তার পিঠে একবার স্নেহের হাত রাখলেন। মনে হল ছোঁয়াটা বুকের গভীর পর্যন্ত নেমে গিয়ে মাখামাখি হয়ে গেল। প্রশাসনের সাহায্য নিয়ে বুদ্ধদেববাবু উদ্যোগী না হলে ওই বিষাক্ত আশ্রম কোনদিন উঠত না। বুদ্ধদেববাবুকে কারা মারল তার খোঁজ আজও চলছে বলে শোনা যায়। বদলার শঙ্খচূড়, ফনা তুলে খাড়া হয়ে আছে হিমাংশুর মনে। কে মুজরিম যদি একবার জানতে পারে .... ।বুদ্ধবাবু আর দুচার বছর বেঁচে থাকলে তাকে রমেনবাবুদের খপ্পরে পড়তে হত না। তার ভাই বোন দুটোকেও পেট চালাবার জন্য দুবাই চলে যেতে হত না। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ আছে ঠি কই, কিন্তু কতদিন দেখেনি তাদের। মাঝে মাঝে বড্ড মন কেমন করে।
    — ‘ আরে কি ভাবছ অত ? এত ভেব না। কি গরম পড়েছে। দেমাকটা তো ঠান্ডা রাখ.... সব সময় কি অ্যাকশান...মারপিটের কথা ভাববে নাকি ? ‘
    — ‘ আমি কোন অ্যাকশানের কথা ভাবছি না। তুই চুপ কর।’
    — ‘ ও বাবা চুপ করব মানে ? কি গুম মেরে বসে আছ তখন থেকে। ভাল লাগে না একদম ... এস একটু ভাল তো বাস... এরকম করলে ভাল লাগে ! ‘
    লালি হামলে পড়ে হিমাংশুর কোলের ওপর ।

    দিতি ‘টি চ ফর ইন্ডিয়া’ নামে একটা এন জি ও-তে ফেলোশিপ করছে। সংস্হাটি ইউনিসেফ-এর সঙ্গে সংযুক্ত। দিতি মাসকম এবং জার্নালিজম-এ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এম এ।সামনের সপ্তাহেই একটা প্রোজেক্ট জমা দিতে হবে। ভীষণ ব্যস্ত তাই নিয়ে। ডুবে ছিল একটা জার্নালে। এই সময়ে টেবিলে রাখা মোবাইলে একটা মেসেজ ঢুকল হোয়াটস অ্যাপ-এ। পরাগ পাঠিয়েছে। কাল সন্ধে ছটার সময় রবীন্দ্র সদনের সামনে দেখা করতে বলেছে। দিতি সঙ্গে সঙ্গেই জবাব দিল আগামী সাত আট দিন ও ভীষণ ব্যস্ত থাকবে প্রোজেক্ট নিয়ে। যাওয়া সম্ভব নয়। পাল্টা উত্তর এল মুহুর্তের মধ্যেই— যে করেই হোক যেতেই হবে। এটা নাকি তার প্রেস্টিজকি সওয়াল। দিতি জানতে চায় প্রেস্টিজকি সওয়াল কেন ? কি ব্যাপার ? জবাব আসে তুরন্ত — ওসব এখন ডিসক্লোজ করা যাবে না। আসার পরে সব জানাবে। দিতি মেসেজ করল, না এখনই জানাও। তাছাড়া কোন অবস্থাতেই সে এখন যেতে পারবে না। প্রোজেক্টটা জমা দেবার পর তাকে যেতে হবে মহারাষ্ট্রে। মুম্বাইয়ের কাছাকাছি একটা গ্রামে। ওখানে মাইনরিটি কমিউনিটির শিশুদের স্বাস্হ্য ও শিক্ষা বিষয়ক একটা ওয়ার্কশপ আছে। তারপর দুদিনের সেমিনারে যোগ দিতে যেতে হবে পুনেতে। গ্রুপের সঙ্গে যাবে অবশ্য। সব মিলিয়ে আজ থেকে ধরলে আট দশ দিনের ব্যাপার।
    কিন্তু পরাগ নাছোড়বান্দা । তার নাকি দিতিকে নিয়ে কোন জিগরি দোস্ত-এর সঙ্গে কি একটা বাজি হয়েছে। সেটা এখন বলা যাবে না।
    যাই হোক, এই নিয়ে হোয়াটস অ্যাপ মেসেজে বাদানুবাদ চলল। শেষ পর্যন্ত মেজাজ হারিয়ে আচমকা উন্মত্ত হয়ে গিয়ে পরাগ একটা অশ্লীল কথা উচ্চারণ করল। দিতি হতবাক হয়ে গেল। চোখমুখ লাল হয়ে গেল তার।
    চুপচাপ বসে রইল সে। অনুমান করছিল এবার ফোন কল আসবে পরাগের । সে মোবাইল সুইচড অফ করে দিল।
    ়়়়়়়়়়়়়়়়়
    ়়়়়়়়়়
    হিমাংশু পুরুষ মানুষ।ফ্রি স্কুল স্ট্রীটবাসী লালির সুনিপুণ কলাকৌশলের তাপে সে একসময়ে বিগলিত হয়ে গেল। চিরকালীন আদিম খেলায় রত হল দুজনে। অকপট রতিক্রিয়ার আবেশে উথাল পাথাল শরীর। লালির অভ্যস্ত ( নাকি আরও অন্য কিছু ছিল !) মদীরতা ও উন্মাদনায় হিমাংশু প্রজ্বলিত হয়ে উন্মোচিত ও প্রবিষ্ট হতে লাগল ওর বাঙ্ময় শরীরে।
    লালির শরীরে কোন অপার্থিব সুবাস নেই । সবই ফরমায়েশি ছাঁদের।
    কিন্তু হিমাংশুর দেহ মন ভরে যেতে লাগল কামিনী ফুলের গন্ধে। পুবে হাওয়ায় যেন কামিনী ফুলের মনোরমা আকুলতা। শরীরে শরীর নয়, এ যেন নির্জন গহীন নদীতে এক নীরব সাম্পানে ভেসে যাওয়া। রতিকালীন মায়া আবেশে হিমাংশু স্বপ্নিল গজদন্ত, ঝর্ণাধারা চুল, দুহাতে খয়েরি মেহেন্দি, উজ্জ্বল সালোয়ার কুর্তি, চোখের বসন্তী ঝিলিক— এইসব নানা ফুলে মালা গাঁথতে থাকল। মালার দুটো ধার কিছুতেই বাঁধা যায় না। ফুলগুলো সব ছিঁড়েখুঁড়ে মিলিয়ে যেতে লাগল কোথায়.... হিমাংশু ছোটাছুটি করে ঘুরে মরে ফুলগুলোকে আবার জড়ো করে আনার জন্য। ধরা যায় না। লালি মাতাল উন্মাদনার ঝাপটে ক্রমাগত তলিয়ে যেতে থাকে এক অনাস্বাদিতপূর্ব রোমাঞ্চের গহ্বরে। বাতাসে কেমন কামিনী ফুলের বাস।

    রাত আড়াইটে নাগাদ ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাক হল সত্যজিৎবাবুর।হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার সময় পাওয়া গেল না। দিতি এবং তার মা অদিতিকে নিশুত রাতে ঘোর আঁধারে রেখে সত্যজিৎবাবু অচিনপুরে পাড়ি দিলেন বিনা নোটিসে।

    জনা কয়েক স্বজন বান্ধব প্রতিবেশী জড় হয়ে সকালবেলায় কাছের নার্সিংহোম থেকে ‘ব্রট ডেড’ সার্টিফিকেট যোগাড় করার ব্যবস্থা করল। পরাগের ফোন ঘুমিয়ে আছে। অনেকবার ডায়াল করেও দিতি তাকে জাগাতে পারল না। সত্যজিৎবাবুর আত্মীয়স্বজন বিশেষ কেউ নেই। দিতির মামারবাড়ি মধ্যপ্রদেশের রায়পুরে। ওখানেও খবর গেছে। তাদের এসে পৌঁছন অনিশ্চিত ।সত্যজিৎবাবুর অফিসের লোকজনও খবর পেয়েছে বলে মনে হয় না। কেউ তো এল না এখনও। কেই বা খবর দেবে। অদিতি নি:সাড়ে অশ্রুপাত করে চলেছে। আচমকা আঘাতে রুদ্ধ হয়ে গেছে কথা। দিতির চোখে অপার শূন্যতা। জমাট মেঘের বিপুল ভারে শরীর মন দুইই অসাড় বিকল। এমন কেউ কি নেই যে এ মেঘ উড়িয়ে দিতে পারে নিবিড় ভরসার বাতাসে ।
    শ্মশানে দিতির সঙ্গে যাওয়ার জন্য মাত্র তিনজনকে পাওয়া গেল। তার মধ্যে একজনের দাহকার্য সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা সম্ভব হল না।তার নাকি কি একটা ভীষণ জরুরী একটা কাজ পড়ে গেছে। রইল বাকী দুই ....
    আকাশ বিষাদে ভরাই ছিল। ক্ষণিক বিদ্যুচ্চমকের পর মুষলধারায় বৃষ্টি নামল।সত্যজিৎবাবুর দেহ অপেক্ষমান ছিল চুল্লীতে প্রবিষ্ট হবার অপেক্ষায়। শ্মশানগৃহের ছাদের তলায় অতি বিপন্নভাবে দাঁড়িয়ে রইল দিতি। সঙ্গে দুজন অনভিজ্ঞ
    (যদিও আপাতআন্তরিক) লোক। প্রাকদাহ ক্রিয়াকর্মের আগামাথা তাদের জানা আছে কিনা সন্দেহ।
    তুমুল বর্ষা হচ্ছে।দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে।দিতির সঙ্গের দুজন সেই কখন গেছে আচারের জিনিসপত্র যোগাড় করতে। ফেরবার নাম নেই। তারা আবার মানে মানে সরে পড়ল না তো ! না না তা কেন হবে। তেমন হলে তো তারা তার সঙ্গে আসতই না, দিতি ভাবল। গুচ্ছ গুচ্ছ নারী পুরুষের মধ্যে অসহায় বিড়ম্বিত দিতি বাবার মৃতদেহ আগলে বসে রইল। ভীষণ কান্না পেতে লাগল তার। উদ্বেগে উৎকন্ঠায় আকুল হয়ে বৃষ্টিতে ঝাপসা হয়ে যাওয়া রাস্তা এবং রেললাইনের দিকে তাকিয়ে রইল সে।পরাগের কথা মনে হল হঠাৎ। এ সময়ে সে যদি একটু কাছে থাকত। কি যে হল ওর হঠাৎ ....। চোখ ফেটে জল আসছে দিতির। চোখের জলে বৃষ্টির জলে ঝাপসা সবকিছু।
    কে একটা এসে বলল— ‘কই আনা হয়েছে সবকিছু..... আর একটার পরেই আপনারটা ঢুকবে।রেডি থাকুন... ‘ বলে ঝড়ের বেগে পেছন দিকে কোথায় চলে গেল। দিতি বিপন্নতার তরঙ্গে হাবুডুবু খেতে লাগল। জলে ভেজা চোখে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইল। আবছা আবছা চারিধার। আবছা দৃষ্টি মেলে তাকিয়ে রইল বাইরের দিকে। আবছা রাস্তা, নিমতলাঘাটের সামনে আবছা রেললাইন পেরিয়ে বৃষ্টিতে চান করতে করতে এদিকে এগিয়ে আসছে একটা আবছা মানুষ। ভেতরে এসে ঢুকল সে। প্রায় পঞ্চাশ মিটার দূরে একটা শনি না শীতলা কি একটা পুজো হচ্ছে। সাউন্ড বক্স -এ তারস্বরে একটা চটুল হিন্দী গান বাজছে এই প্রবল বারিধারার মধ্যেই। এই ছাদের তলায় নানা শোরগোল , নানাবিধ হাঁকডাক এবং পুরোহিতের শেষযাত্রার যন্ত্রবৎ মন্ত্র আওড়ানো। সব চলছে অবিরাম।
    সেই লোকটা কোথায় রাউন্ড মেরে আবার ফিরে এল। ‘কই হল ....জিনিসগুলো এসেছে ? এর পরেই আপনাদের নম্বর.... আর লোকজন কই ? তাড়াতাড়ি করুন... তাড়াতাড়ি করুন...’ বলে দাঁড়িয়ে রইল সেখানে। দিতির কেমন ভয় করতে লাগল। তরঙ্গসঙ্কুল সমুদ্রে একটা পলকা ভেলায় বসে আছে মনে হল। কি বলবে ভেবে না পেয়ে বৃষ্টিধোয়া রাস্তার দিকে তাকিয়ে রইল।

    সত্যজিৎবাবুর মৃতদেহের মাথার কাছে এসে দাঁড়াল বৃষ্টিতে ঝুপ্পুস ভেজা এক পেটানো চেহারার মানুষ। উৎকন্ঠা আকুল দিতি সজল বাষ্প আচ্ছন্ন চোখ মেলে অবাক হয়ে হিমাংশুর দিকে তাকিয়ে রইল।
    — ‘ ম্যাডাম , আমার নাম হিমাংশু... হিমাংশু রায়। আপনাদের পাড়াতেই থাকি। দু একবার বোধহয় দেখেছেন...একটু আগেই শুনলাম সব.... তাই এলাম...একটু দেরি হয়ে গেল....মানে, খবরটা এই একটু আগেই পেলাম তাই.... মানে... খুব দেরি হয়ে গেল....’
    দিতি ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইল।
    — ‘ ম্যাডাম , আপনার কি দরকার আমাকে বলতে পারেন।আমাকে আপনি বিশ্বাস করতে পারেন... আপনি কোন চিন্তা করবেন না.... মানে, এটা আমার এলাকা... আপনি যা চাইবেন....এখন বা এর পরে... কোন দরকার হলে....মানে, আমাকে বিশ্বাস করতে পারেন.....’
    রুক্ষ, শুষ্ক, দাপুটে হিমাংশুর মুখ থেকে জলভেজা কেতকীর মতো সিক্ত এবং চৈত্রের ঝরা পাতার মতো অবিন্যস্ত নানা কথা এলোমেলো নিবেদনে ঝরে পড়তে লাগল। পাথুরে হিমাংশু একতাল কাদার নমনীয়তা নিয়ে সত্যজিৎবাবুর মৃতদেহের মাথার কাছে দাঁড়িয়ে রইল।
    বাষ্পাচ্ছন্ন চোখে একদৃষ্টে হিমাংশুর মুখের দিকে তাকিয়ে আছে দিতি ।
    বুকের নিভৃত গহন থেকে একান্ত নিশ্বাসের মতো অস্ফুটে বেরিয়ে এল দুটি শব্দ —‘বিশ্বাস...করি....’
    দশ রিখটার স্কেল মাত্রায় ফের একবার প্রবল ভূকম্প হল হিমাংশুর বুকের বাঁ পাশে।
    বৃষ্টিতে সাদা বাতাস।সেখানে আবার লেগেছে কেমন যেন মন কেমন করা কামিনী ফুলের সুরভি।
  • বিভাগ : আলোচনা | ০১ মে ২০২০ | ৩১৬ বার পঠিত
আরও পড়ুন
ফিরে এসো - Skd Nath
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • ঝর্না বিশ্বাস | ০২ মে ২০২০ ১০:০০92905
  • কি লিখেছেন। দূর্দান্ত গল্প। সহস্র ক্ল্যাপস এ লেখনীকে। 

    অসম্ভব ভালো লাগলো। 

  • Anjan Banerjee | ০২ মে ২০২০ ১১:২৬92910
  • অজস্র ধন্যবাদ আপনাকে

আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লড়াকু প্রতিক্রিয়া দিন