• খেরোর খাতা

  • শোনা কথা - একটু হাসুন

    Anjan Banerjee লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | বিবিধ | ২৭ এপ্রিল ২০২০ | ৪৬৪ বার পঠিত
  • জমিয়ে রাখুন পুনঃসম্প্রচার
  • ঠনঠনের মুক্তারামবাবু স্ট্রীটের মেসে ‘মুক্ত আরাম’- এ থাকতেন শিবরাম চক্রবর্তী মহাশয়। অর্থসঙ্কট ছিল তার সারা জীবনের সঙ্গী। একদিন মেসের ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন রাত্তিরবেলা। গভীর রাতে ঘরের মধ্যে খুটখাট শব্দ শুনে হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেল। তিনি এতটুকু না ঘাবড়ে গম্ভীর স্বরে হাঁক দিলেন— কে.. এ ...এ...
    ওপাশ থেকে উত্তর এল, ‘ অা..মি, আমি চোর স্যার....’
    — ‘ অ , চোর ! তা এখানে কি করছ ? ‘
    — ‘ পয়সা খুঁজছি স্যার ....’
    — ‘ অ: , তা বেশ । দাঁড়াও আলোটা জ্বালি, তারপরে দুজনে মিলে খুঁজব !! ‘

    অনেক দিন আগে আকাশবানীর রেডিও স্টেশান থেকে রেকর্ডেড অনুষ্ঠান প্রচারের ব্যবস্থা ছিল না।যা হত সবই লাইভ। তাতে একদিকে প্রোগ্রাম ম্যানেজার, আর এক দিকে শিল্পী বা বক্তা, দুপক্ষেরই হ্যাপা ছিল অনেক। মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়িয়ে বা বসে থাকা পারফর্মারকে কাঁচের দেয়ালের আড়াল থেকে অনুষ্ঠান শুরু বা শেষের সঠিক মুহুর্তের ব্যাপারে হাত নেড়ে নেড়ে নানারকম সিগন্যাল দিতে হত ম্যানেজারকে ।সবই সরাসরি প্রচারিত হচ্ছে। কোন কথা বললে শ্রোতারা শুনতে পাবে।
    সে যাই হোক, একদিন তখনকার বিখ্যাত সাহিত্যিক শ্রী জলধর সেনের গল্পপাঠের একটা প্রোগ্রাম ছিল আকাশবাণীতে। অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপক তো তাকে কাঁচের আড়াল থেকে আকারে ইঙ্গিতে নানা নির্দেশ দিতে লাগলেন।সম্পূর্ণ অনভ্যস্ত জলধরবাবুর প্রাণ এসব নির্দেশ অনুসরণ করতে করতে প্রায় ওষ্ঠাগত। যাই হোক, একসময়ে গল্প পড়া শুরু হল। গল্পটা শেষ হওয়া মাত্র জলধরবাবু হাঁফ ছেড়ে বললেন— ও: ... গভ্ভযন্তন্না শেষ হল !!
    প্রোগ্রাম ম্যানেজার তখনও ট্রান্সমিশন সুইচ অফ করেননি !!

    রবীন্দ্রনাথ শান্তিনিকেতনে বিচিত্রা ভবনের বাইরের জায়গাটায় মাঝে মাঝে একটা আরাম কেদারায় বসতেন।সেই সময়ে অনেকে তাকে দর্শন করতে আসত। ওরকমভাবে কবিগুরু একদিন চেয়ারে বসে আছেন। সেইসময়ে একজন দর্শনার্থীর আগমন ঘটল। তিনি গুরুদেবের সামনে এসে দেখলেন, তিনি চেয়ারে হেলান দিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছেন। তার পায়ের সামনে পাদুকাজোড়া খোলা আছে। দর্শনার্থী মানুষটি আর কি করেন। ঘুমন্ত রবীন্দ্রনাথের পায়ে প্রণাম করে ফিরে যাওয়া মনস্থ করলেন। অতি সন্তর্পনে প্রণাম করে পিছন ফিরতেই শুনতে পেলেন গুরুদেবের কন্ঠস্বর — ফিরে যাচ্ছ কেন , বস একটু ।
    ভদ্রলোক অত্যন্ত বিস্মিত হয়ে বললেন— একি গুরুদেব , আপনি জেগে আছেন !
    বিশ্বকবি সহাস্যে বললেন— প্রণাম করিতে এলে, আঁখি দুটি রাখি মেলে, জুতাজোড়া পাছে যায় চুরি ।

    জোড়াসাঁকোয় রবীন্দ্রনাথের পৌরোহিত্যে প্রায়ই সাহিত্য আসর বসত। প্রচুর স্বনামধন্য কবি সাহিত্যিক সেখানে উপস্থিত হতেন। ঘরের বাইরে জুতোর পাহাড় জমত এবং প্রায়ই দু এক জোড়া জুতো অদৃশ্য হয়ে যেত।ওই আসরে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ও নিয়মিত যেতেন। তিনি তাঁর জুতো জোড়ার ব্যাপারে অত্যন্ত সতর্ক থাকতেন। পাছে চুরি যায় তাই জুতোজোড়া একটা কাগজে মুড়ে নিজের কাছে নিয়ে বসতেন। একদিন ওই সাহিত্য অাসরে কাগজে মোড়া বস্তুটি রবীন্দ্রনাথের চোখে পড়ল। তিনি বললেন, ‘ শরৎ তোমার কাছে ওটি কি ?’ শরৎচন্দ্র একটু অপ্রস্তুত হয়ে গিয়ে বললেন, ‘ ও কিছু না.... একটা পুরাণ আছে ‘।
    কবিগুরু কৌতুকভরা স্মিত হাসি হেসে বললেন, ‘ তাই ? পাদুকাপুরাণ নাকি ! ‘

    ওয়েস্ট ইন্ডিজের থ্রি ডব্লিউ ওরেল, উইকস, ওয়ালকটের মতো ইংল্যান্ডের ক্রিকেট কিংবদন্তী থ্রি এইচ ছিলেন (জ্যাক) হবস, (লেন) হাটন এবং (ওয়্যালি) হ্যামন্ড।
    তা, হ্যামন্ড একদিন ট্রেনে করে স্থানীয় কোন জায়গায় যাচ্ছিলেন। ট্রেনে বসে প্যাকেট খুলে একটা সসেজ খেলেন। তারপর প্যাকেটটা বাইরে ফেলবার জন্য মুড়ে গোল করে ছুঁড়লেন জানলার দিকে । ওটা বাইরে গেল না।জানলার রডে গিয়ে লাগল। তা দেখে তার পাশে বসা এক ভদ্রলোক বললেন, ‘ স্যারের বোধহয় একেবারেই ক্রিকেট খেলা অভ্যেস নেই !’

    ইংল্যান্ডের পুরনো দিনের কিংবদন্তী ক্রিকেটার ডব্লিউ জি গ্রেস পেশায় ছিলেন ডাক্তার।একদিন একটা কাউন্টি ম্যাচে তার মাঠে এসে পৌঁছতে অনেক দেরী হতে লাগল। বেশ খানিকক্ষণ অপেক্ষা করার পর তিনি হন্তদন্ত হয়ে মাঠে এসে পৌঁছলেন। সকলে তাকে দেরী হওয়ার কারণ জিজ্ঞাসা করাতে তিনি বললেন, ‘ও: ... খুব দু:খিত । একটা ডেলিভারি কেস ছিল। অপারেশানটা সেরেই সঙ্গে সঙ্গে আসছি ‘। একজন খোঁজ নিলেন, ‘ তা অপারেশান সাকসেসফুল তো ? ‘ ডক্টর গ্রেস জবাব দিলেন, ‘ হ্যাঁ , তা সাকসেসফুল বলতে পারেন। মাদার এবং বেবি এক্সপায়ার করে গেছে, তবে বাবাটাকে বাঁচিয়ে দিয়েছি .... ‘
  • বিভাগ : আলোচনা | ২৭ এপ্রিল ২০২০ | ৪৬৪ বার পঠিত
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Jharna Biswas | ২৭ এপ্রিল ২০২০ ১৩:০৯92736
  • প্রত্যেকটা ঘটনা দারুন মজার... খুব ভালোলাগল পড়ে...

    কিন্তু "গভ্ভযন্তন্না" র মানেটা কি! 

  • Jharna Biswas | ২৭ এপ্রিল ২০২০ ১৩:০৯92735
  • প্রত্যেকটা ঘটনা দারুন মজার... খুব ভালোলাগল পড়ে...

    কিন্তু "গভ্ভযন্তন্না" র মানেটা কি! 

  • Anjan Banerjee | ২৭ এপ্রিল ২০২০ ২২:২৯92753
  • গর্ভযন্ত্রনা - labour pain

আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। হাত মক্সো করতে প্রতিক্রিয়া দিন