• টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। যে কোনো নতুন আলোচনা শুরু করার আগে পুরোনো লিস্টি ধরে একবার একই বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গেছে কিনা দেখে নিলে ভালো হয়। পড়ুন, আর নতুন আলোচনা শুরু করার জন্য "নতুন আলোচনা" বোতামে ক্লিক করুন। দেখবেন বাংলা লেখার মতো নিজের মতামতকে জগৎসভায় ছড়িয়ে দেওয়াও জলের মতো সোজা।
  • করোনা ভাইরাস কোনো ল্যাবে তৈরী করা ভাইরাস নয়

    Subhayu Bhattacharya
    বিভাগ : অন্যান্য | ০৩ এপ্রিল ২০২০ | ১৪৪ বার পঠিত
  • Social media তে কয়েকদিন ধরেই একটা ভুয়ো খবর চালাচালি হচ্ছে যে চীন তাদের ল্যাবে করোনা ভাইরাস তৈরী করে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক চীন বিরোধী লবি উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে এই ভুয়ো খবর ছড়িয়েছে। ভারতের চীন বিরোধী লবিও সমান ভাবে সক্রিয়। এরা নিজেদের বক্তব্যের সমর্থনে নেচার পত্রিকায় প্রকাশিত ২০১৫ সালের একটি প্রবন্ধের লিঙ্ক শেয়ার করছে।লিঙ্কটি নিচে দেওয়া হল-

    https://www.nature.com/news/engineered-bat-virus-stirs-debate-over-risky-research-1.১৮৭৮৭

    অথচ সেই প্রবন্ধটির শুরুতেই Editor’s note এ বলা রয়েছে যে, যে নভেল করোনা ভাইরাস COVID-19 এর জন্যে দায়ী সেটা কোনো ল্যাবে তৈরী হয়েছে এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় নিই বরং বৈজ্ঞানিকদের ধারণা যে এই ভাইরাস কোনো প্রাণীর শরীরে প্রাকৃতিকভাবে তৈরী হয়েছে। মূল প্রবন্ধটিতে যা লেখা আছে তার সারবত্ত্বা হল এই যে আমেরিকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে, চীনের হর্সশু ব্যাটে প্রাপ্ত SHC14 ভাইরাস ও একটি SARS ভাইরাসের মধ্যে সংমিশ্রণ ঘটিয়ে একটি সংকর জাতীয় কাইমিয়েরা ভাইরাস তৈরী করা হয়েছিল যা মানুষের দেহকোষকে সংক্রমিত করতে সক্ষম এবং অনুমান করা হচ্ছিল যে তা হয়তো কোনো অতিমারী ঘটাতেও সক্ষম। এই নিয়ে নানা তর্ক বিতর্ক শুরু হয়েছিল যে এই রকম কোনো গবেষণা যার ফলে অতিমারী সৃষ্টি হতে পারে তা সরকারের পক্ষে অনুমোদন করা উচিৎ্‌ কি না। ২০১৪ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ হেল্‌থ (NIH), SARS, MERS বা ইনফ্লুয়েঞ্জা ঘটাতে পারে এমন ভাইরাস নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষার উপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারী করে। কিন্তু NIH সিদ্ধান্ত নেয় যে উপরোক্ত গবেষণাটি বিপজ্জনক নয় এবং তাই উপরোক্ত গবেষণাটিকে নিষেধাজ্ঞার হাত থেকে ছাড় দেওয়া হয়। সেই সময়ে বিশেষজ্ঞরা বন্য বাদুড়ে প্রাপ্ত ভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্স ব্যাখ্যা করে দেখান যে এই ভাইরাস মানুষের শরীরকে তেমনভাবে সংক্রমিত করতে পারে না এবং মানুষের তেমন কোনো ক্ষতি করার ক্ষমতা অর্জন করতে গেলে এই ভাইরাসকে আরও বিবর্তিত হতে হবে যার সম্ভাবনা ক্ষীণ।
    এর পর ২০২০ সালের মার্চ মাসে নেচার পত্রিকায় আর একটি প্রবন্ধ ছাপা হয় যাতে পরিস্কার করে বলা হয় যে ল্যাবে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং-য়ের মাধ্যমে SARS-CoV-2 ভাইরাস তৈরী করা অসম্ভব। প্রবন্ধটির লিঙ্কটি নিচে দেওয়া হল-

    https://www.nature.com/articles/s41591-020-0820-৯

    প্রবন্ধটি একটু টেকনিক্যাল এবং জটিল। Livescience.com এ এর একটা সরলীকৃত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। তার লিঙ্কটি নিচে দেওয়া হল-

    https://www.livescience.com/coronavirus-not-human-made-in-lab.হত্ম্য

    স্ক্রিপ্‌স রিসার্চ এর প্রফেসর ক্রিশটিয়ান অ্যান্ডারসন ও তাঁর সহকর্মীরা SARS-CoV-2 ভাইরাসের দেহতল থেকে যে স্পাইকগুলি বেরিয়ে থাকে তার প্রোটিন নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করেছেন। এই স্পাইক গুলির মাধ্যমে এই ভাইরাস তার হোস্টের দেহকোষের প্রাচীর কে আঁকড়ে ধরে এবং তারপর সেই দেহকোষে প্রবেশ করে। এই স্পাইক প্রোটিনের দুটি অংশ রয়েছে, একটি হল রিসেপ্টর বাইন্ডিং ডোমেইন (RBD), আর একটি হল ক্লিভেজ সাইট। RBD হল হুক বা আংটার মত যা দিয়ে এই ভাইরাস তার হোস্টের দেহকোষের প্রাচীর কে আঁকড়ে ধরে। মানুষের দেহকোষের প্রাচীরে একটি রিসেপ্টর এঞ্জাইম আছে যার নাম ACE2। পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে RBD এই ACE2 কে আক্রমণ করে। এই RBD এতটাই বিবর্তিত যে তা মানুষের দেহকোষের প্রাচীরে অত্যন্ত সুদক্ষ ভাবে আটকে যায়। এত সুদক্ষ RBD কোনো ল্যাবে তৈরী করা সম্ভব নয়, শুধু প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমেই তা সম্ভব।

    আজ থেকে ২০ বছর আগে যে SARS ঘটিত অতিমারী হয়েছিল তার জন্যে দায়ী ছিল SARS-CoV ভাইরাস। সেই SARS-CoV ভাইরাস এবং বর্তমান SARS-CoV-2 ভাইরাসের মধ্যে অনেক মিল থাকলেও জেনেটিক কোডে কিছু পরিবর্তন রয়েছে। কিন্তু কম্পিউটার সাইমালেশনে SARS-CoV-2 ভাইরাসের এমন কোনো মিউটেশন দেখা যায় নি যার ফলে এই ভাইরাস মানুষের দেহকোষের সঙ্গে সফলভাবে আটকে যেতে পারে।কম্পিউটার সাইমালেশনে যদি এমন কোনো মিউটেশন না দেখা যায় তাহলে বৈজ্ঞানিকদের পক্ষেও ল্যাবে এমন কোনো কৃত্রিম মিউটেশন করা বা জেনেটিক কোড তৈরী করা সম্ভব নয় কারণ বৈজ্ঞানিকরা একমাত্র কম্পিউটার সাইমালেশনের ভিত্তিতেই ল্যাবে কৃত্রিম মিউটেশন করতে পারেন। এর থেকে বোঝা যায় যে এই মিউটেশন প্রাকৃতিকভাবেই হয়েছে।

    আরও বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে SARS-CoV-2 ভাইরাসের আণবিক গঠণ (molecular structure) অন্যান্য বিপজ্জনক করোনা ভাইরাসের থেকে পৃথক। বরং এই ভাইরাসের আণবিক গঠণের সঙ্গে বাদুড়ে প্রাপ্ত অন্যান্য কম ক্ষতিকারক ভাইরাসের আণবিক গঠণের মিল রয়েছে। বৈজ্ঞানিকরা যদি ল্যাবে প্যাথোজেন (রোগ উৎপাদনকারী শক্তি) হিসেবে কৃত্রিম ভাবে এই ভাইরাসটি তৈরী করতেন তাহলে তাঁরা ক্ষতিকারক কোনো ভাইরাসের molecular structure থেকেই তৈরী করতেন।

    এর থেকে পরিস্কারভাবে বোঝা যাচ্ছে যে SARS-CoV-2 ল্যাবে তৈরী কোনো কৃত্রিম প্যাথোজেন নয়।

    গবেষকরা আরও জানিয়েছেন যে সম্ভবতঃ SARS-CoV-2 এর উৎপত্তি হয়েছে বাদুড় থেকে এবং বাদুড় থেকে সম্ভবতঃ এই ভাইরাস গেছে প্যাঙ্গোলিনের শরীরে এবং প্যাঙ্গোলিন থেকে তা মানুষের শরীরে সংক্রমিত হয়েছে। যদি মানুষের শরীরে সংক্রমণের আগেই প্যাঙ্গোলিনের শরীরে এটা প্যাথোজেনের আকার নিয়ে থাকে এবং প্যাথোজেন হিসেবেই এটা মানুষের শরীরে এসে থাকে তবে ভবিষ্যতেও করোনা সংক্রমণ হতে পারে। তবে যদি মানুষের শরীরে আসার পর এটি প্যাথোজেনের আকার নেয় তবে ভবিষ্যত সংক্রমণের সম্ভাবনা কমে যায়।
  • আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা ভাইরাস

  • করোনা ভাইরাস

  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত