• টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। যে কোনো নতুন আলোচনা শুরু করার আগে পুরোনো লিস্টি ধরে একবার একই বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গেছে কিনা দেখে নিলে ভালো হয়। পড়ুন, আর নতুন আলোচনা শুরু করার জন্য "নতুন আলোচনা" বোতামে ক্লিক করুন। দেখবেন বাংলা লেখার মতো নিজের মতামতকে জগৎসভায় ছড়িয়ে দেওয়াও জলের মতো সোজা।
  • ৪৩এর মন্বন্তর: চার্চিলের বন্ধুত্ব

    জয়দীপ রাউত (জয়)
    অন্যান্য | ০৬ মার্চ ২০২০ | ৬৭৪ বার পঠিত

  • ইতিহাস বেশীর ভাগ সময়েই ক্ষমতাবানের লেখা। তাই সত্যিকারের সত্যিটা জানা মুস্কিল। ম্যালকম গ্ল্যাডওয়েলের পডকাস্ট ‘রিভশনিস্ট হিস্ট্রি’ শুনছি। ইতিহাসকে ফিরে দেখা। অসাধারন। দ্বিতীয় সিজনের এই এপিসোডে মধুশ্রী মুখার্জির বই ‘চার্চিলস সিক্রেট ওয়ার’ বইএর ভিত্তি করে। চার্চিলের বন্ধু লর্ড চেরওয়েলের ভূমিকা কি ছিল বাংলার ৪৩এর ম্যানমেড মন্বন্তরে।
  • আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা

  • পাতা : 1
  • জ্ঞানপিপাসু | 162.158.182.201 | ০৬ মার্চ ২০২০ ১৪:৪২729843
  • একটু ডিটেলে লিখুন না। 

  • জয় | 162.158.34.211 | ০৬ মার্চ ২০২০ ১৮:৫১729845
  • পডকাস্ট শুরু হচ্ছে ম্যালকম আর মধুশ্রীর কথোপকথন দিয়ে।
    ম্যালকম: আপনি তো বেঙ্গল থেকে? তা আপনি মন্বন্তর নিয়ে আপনার মায়ের অভিজ্ঞতার কথা বলছিলেন।
    মধুশ্রী: ঠিক। মার তখন বয়স বারো হবে। শহরে বাস। শয়ে শয়ে হাজারে হাজারে মানুষ চলে আসছে শহরে, গ্রাম গন্জ (বানান ভুল লিখলাম, ইঅঁ পেলাম না) করে। ক্ষুধার্ত, বুভুক্ষু মানুষ উপচে পড়ছে শহরের ফুটপাথে। গাঁগুলো সব খাঁ খাঁ করছে, কিচ্ছুটি নেই। সবার প্রশ্ন কেউ কোন রিলিফের ব্যবস্থা করছে না কেন?
  • জয় | 162.158.34.165 | ০৭ মার্চ ২০২০ ০২:১৫729858
  • এরপর ম্যালকমের অনুরোধে মধুশ্রী পড়তে শুরু করেন তাঁর বইএর প্রথম প্যারা।
    সাপুরাপোতা গ্রাম পাঁশকুড়া থানার ১৭ নং ইউনিয়ন।সেই গ্রামের এক মুসলমান তাঁতী, পরিবার প্রতিপালন না করতে পেরে, ক্ষিধের তাড়না সহ্য করতে না পেরে পাগলপারা হয়ে কোথায় যেন হারিয়ে যায়।লোকে বলে সে নাকি কাঁসাই নদীতে ঝাঁপ দিয়েছে। তার বউটিরও তাই বিশ্বাস। ক’দিন হল দুটো ছোট বাচ্চার জন্য কোন খাবার জোগাড় করতে পারেনি। এ আর সহ্য হয় না।একেবারে ছোট, কোলের ছেলেটা, তার নয়নের মনি, মা দিল ছুঁড়ে সে কাঁসাইএর স্রোতে।
  • জয় | 162.158.34.165 | ০৭ মার্চ ২০২০ ০২:৪৩729859
  • এরপর ম্যালকম বলতে থাকেন: সাধারণত দুর্ভিক্ষের কারন প্রাকৃতিক- ক্ষরা বা ফসল না হলে। কিন্তু এরও পিছনে মানুষ থাকে। থাকবেই। হয় যুদ্ধ না হয় ভ্রান্ত নীতি।
    যেমন ধরুন ভেনেজুয়েলা। এই পডকাস্ট রেকর্ডের সময় (২০১৭) ওখানে চরম খাদ্যাভাব চলছে। খনিজ তেলে সমৃদ্ধ এই দেশ পৃথিবীর উর্বরতম প্রান্ত।সেখানে খাবারের অভাব?! মানুষের সৃষ্টি। প্রকৃতির নয়।
    ১৯৪৩এর বাংলার দুর্ভিক্ষের কারনও মানুষ। কারন হল এক বন্ধুত্ব। পৃথিবীর অন্যপাশে এই কাহিনীর শুরু।
  • জয় | 162.158.158.20 | ০৭ মার্চ ২০২০ ১৮:৫১729867
  • এরপরের অংশে ম্যালকম গ্ল্যাডওয়েল শ্রোতাদের সামনে লর্ড চেরওয়েলকে ইন্ট্রোডিউস করছেন। প্রথমে স্যার চার্লস পি (সি পি) স্নোর এক বক্তৃতা। স্থান: স্যান্ডার্স থিয়েটার, হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি। সন: ১৯৬০।সি পি স্নো যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ের এক বিখ্যাত ব্রিটিশ বুদ্ধিজীবী, ঔপন্যাসিক। ফিজিসিস্ট (খেয়াল করবেন থিমটা ফিরে ফিরে আসছে)। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ গভর্নমেন্টের উচ্চপদস্থ বিজ্ঞানী। সেই সময়ে নাৎসীরা একরকম নিশ্চিত ছিল যে তারা যুদ্ধে জিতেছেই। তারা ২৮০০ জনের একটা লিস্টি বানিয়েছিল- ইংল্যান্ড দখল করলেই যাদের গেস্টাপোর হাতে তুলে দেওয়া হবে। স্নো সেই লিস্টিতে স্থান করে নিয়েছিলেন। সেই স্নো এসেছেন হার্ভার্ডে গডকিন বক্তৃতা দিতে। স্যান্ডার্স থিয়েটারে তিল ধারনের জায়গা নেই। এত বড় বক্তৃতা, তিন দিন ধরে চলবে। টেলিতে লাইভ দেখানো হবে। স্নো কিন্তু এক অভাবিত কাজ করলেন। বক্তৃতার অর্ধেক জুড়ে বলে গেলেন একজনকে নিয়ে, আমেরিকানরা সেভাবে পরিচিত নয়।তখনও। ফ্রেডরিক এ লিন্ডেম্যান। জন্ম- ১৫ই এপ্রিল, ১৮৮৬। মৃত্যু- ৩রা জুলাই, ১৯৫৭। ইনিই আমাদের লর্ড চেরওয়েল।
  • জয় | 162.158.158.116 | ০৭ মার্চ ২০২০ ২৩:৩৮729873
  • লিন্ডেম্যান এক অদ্ধুত চরিত্র। অ-ব্রিটিশসুলভ। মনে হয় কোন মধ্যযুগীয় ইউরোপীয়ান ব্যবসায়ী, দেখতে পাবেন কোন দামী ইটালিয়ান হোটেলের লবিতে। জার্মান বলে ভালোই, অন্তত ইংরেজীটার মত। ইংরেজী বলে জার্মান টানে। অবশ্য কেউ যদি তার কোন কথা বোঝে। যা চিবিয়ে চিবিয়ে কথা বলে। টিপটপ কিন্তু কেমন ফ্যাকাসে। অস্থিরতা আর অসাস্থ্যের এক কুয়াশা যেন তাকে ঘিরে। কর্কশ, কটুভাষী, পাষান হৃদয়।
  • জয় | 162.158.159.49 | ০৮ মার্চ ২০২০ ০০:০৩729877
  • লিন্ডেম্যানের জন্ম জার্মানীতে। ফিজিসিস্ট। পি এইচ ডি, বার্লিন। যেকোন বিষয়ে অগাধ জ্ঞান। তার থেকেও বড় কথা যে কোন বিষয়ে সবাইকে ধুইয়ে দেওয়ার অভ্যেস। তার কথাই শেষ কথা। যেন জার্মান শয়তান মেফিস্টোফিলিস। মনুষ্যসুলভ সহানুভূতির কোন অস্তিত্বই ছিলনা তার কুচুটে প্রানে। তবু স্নো কেন তার বক্তৃতার দেড়দিন লিন্ডেম্যানের পিছনে ব্যয় করলেন? তার বন্ধুর জন্য। লিন্ডেম্যানের বন্ধু ছিল উইনস্টন চার্চিল।
  • জয় | 162.158.159.77 | ০৮ মার্চ ২০২০ ০০:১৫729878
  • লিন্ডেম্যানকে একসময়ে কেউ জিজ্ঞেস করেছিল নৈতিকতা কি? তার জবাব "One that brings advantage to my friends "
    চার্চিলকে হিরো ভাবেন যাঁরা, যে চার্চিল হিটলারের বিরুদ্ধে লড়াইকে সাহসের সংগে নেতৃত্ব দিয়েছিল, চার্চিলের বন্ধুকে জানলে, চার্চিলকে আর সেই চোখে দেখবেন না।
  • জয় | 141.101.98.93 | ০৮ মার্চ ২০২০ ০০:২৪729879
  • তা এই কর্কশ, কটুভাষী, পাষান হৃদয় লিন্ডেম্যান কিভাবে চার্চিলের বন্ধু হল। ১৯২১ সালে ওদের আলাপ। পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা তাদের কাছে আনে। লিন্ডেম্যান ভাবত এই গ্রহে দুজন তার থেকে বেশী বুদ্ধিমান, আইনস্টাইন আর চার্চিল। আর চার্চিলের চিঠি পড়লে বোঝা যায় চার্চিল কি চোখে লিন্ডেম্যানকে দেখে- সে প্রায় পূজাপর্যায়।
  • জয় | 162.158.158.180 | ০৮ মার্চ ২০২০ ০১:০২729880
  • মনস্তাত্ত্বিক ড্যানিয়েল ওয়াগনারের একটা খুব সুন্দর তত্ত্ব আছে। "Transactive memory." আমরা কোন তথ্য আমাদের মনেই শুধু জমা করিনা, আমাদের কাছের লোকজন, যাদের আমরা ভালোবাসি তাদের মনেও জমাই। যেমন ধরুন, আমার মেয়ের স্কুল সম্পর্কিত বিষয় আমাকে প্রায় মনে রাখতে হয়না, কারন আমার বউ করে। আমার জানার দরকার পড়েনা কিভাবে রিমোট কাজ কর, কারন আমার মেয়ে জানে। আমাদের অস্তিত্বের এক টুকড়ো বাস করে অন্যের মনে। সেই অন্য মারা গেলে বা দূরে চলে গেলে, আমাদের অস্তিত্বের সেই আমিটাও মারা যায়।

    চার্চিলের সংগে লিনডেম্যানের সম্পর্কটা ছিল ট্র্যান্সঅ্যাক্টিভ।
  • জয় | 141.101.99.184 | ০৮ মার্চ ২০২০ ০৪:৩৬729881
  • চার্চিল হল ম্যান অফ বিগ পিকচার, দূরদর্শী। মানুষের মনস্তত্ত্ব এবং ইতিহাস সম্পর্কে তার অগাধ জ্ঞান ছিল। তবে চার্চিলকে হতাশার সাথে লড়াই করতে হয়েছে সারা জীবন।তার মেজাজের ওপরনীচ হত ঘনঘন।সহজেই প্ররোচিত হত।আক্ষরিক জুয়াড়ি, নির্বোধ বিনিয়োগে বিপুল পরিমাণ অর্থ হারিয়েছে। অংকটা একেবারেই আসত না চার্চিলের। সংখ্যার জগতে একেবারে অন্ধ। ১৯৩৫ সালে, চার্চিল এক বছরে এখনকার হিসেবে ৬২০০০ ডলার শুধু শ্যাম্পেনে ব্যয় করেছিল। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার এক মাসের মধ্যেই চার্চিল আর্থিক ভাবে দেউলিয়া হয়ে পড়ে। এখন আমাদের এই অস্থির মেজাজের একজন মানুষ যার জীবনে শৃঙ্খলা আনার আর কোন উপায় নেই, তবে সে কার সাথে সেরা বন্ধুত্ব পাতাবে? অবশ্যই ফ্রেডরিক লিন্ডেম্যান। যার শৃঙ্খলাবোধ, প্রায় ধর্মান্ধতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যে প্রতিদিন প্রতিবার খাবারে একই তিনটি জিনিস খেত - দিনের পর দিন। বছরের পর বছর। যে কিনা সংখ্যার জগতে এতটাই স্বাভাবিকভাবে বাস করত যে ছোটবেলায় খবরের কাগজ পড়ত আর ফিরে স্মৃতি থেকে পরিসংখ্যানগুলো বলত। দিস্তে পর দিস্তে।
  • জয় | 162.158.159.77 | ০৮ মার্চ ২০২০ ০৫:০৯729882
  • ১৯৪০ সালে যখন চার্চিল প্রধানমন্ত্রী হয়, যুদ্ধ শুরু হওয়ার ঠিক পর পর, লিন্ডেম্যানকে সাথে নিয়ে যায়। প্রথমে বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা হিসাবে, তারপরে তিনি পেমাস্টার জেনারেলের পদে তাকে যুদ্ধ-মন্ত্রিসভায় চাকরি দিয়ে।এবং লিন্ডেম্যান চার্চিলের মনের দরজার এক ধরণের দারোয়ান হয়ে ওঠে। যুদ্ধ চলাকালীন সে চার্চিলকে ২,০০০ টি মেমো লিখেছিল। গড়ে প্রতিদিন একটা মেমো, একপৃষ্ঠা বা দু'এর বেশি নয়, বড় হরফে, ডবল স্পেস দিয়ে। যেকোন জটিল প্রশ্নকে সরল করে ছোট করে লিখে। লিন্ডেম্যান চার্চিলের সাথে দেশে বিদেশে ভ্রমণ করে, তারা একসাথে খাবার খায়। লিন্ডেম্যান কখনই মদ্য পান করত না, মাঝে মধ্যে, যদিনা সে চার্চিলের সাথে না খেয়ে থাকে, আর চার্চিলতো মস্ত বড় পিয়াক্কর ছিল। সাপ্তাহিক ছুটিতে চার্চিলের গ্রামের বাড়িতে যেত দুটিতে। লোকেরা দুই মূর্তিকে ভোর ৩:00 টের সময়ও ফায়ার প্লেসের আগুনের সামনে বসে সংবাদপত্র পড়তে দেখেছে। সংসদে এক সময়, আরেক এমপি লিন্ডেম্যানের সমালোচনা যখন করেন, চার্চিল একেবারে পাগল হয়ে যায়। বলে, “আমাকে যদি ভালোবাসো, আমার কুকুরকে ভালবাসো। আর যদি আমার কুকুরকে ভালো না বাস, তবে তুমি আমাকেও ভালবাস না।”
  • জয় | 162.158.159.89 | ০৮ মার্চ ২০২০ ০৭:৪১729883
  • ১৯৪২সালে কৌশলগত বোমা হামলা বা স্ট্র্যাটেজিক বম্বিং নিয়ে বিস্তর তর্ক বিতর্ক হয়েছিল।
    স্নো-এর বক্তৃতার মূল বক্তব্য ছিল এই বিতর্ক। এমন ব্রিটিশ সরকারের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছে গেছিল এই বিতর্ক। প্রশ্ন ছিল জার্মানদের বিরুদ্ধে রয়াল এয়ার ফোর্সকে সবচাইতে ভালো কিভাবে ব্যবহার করা যায়।

    একদল বলে, “আমাদের বোমারু বিমানগুলি সামরিক ক্রিয়াকলাপ সাহায্য করতে ব্যবহার করি, জার্মান ইউ-বোটের বিরুদ্ধে জাহাজ রক্ষা করতে, জার্মান কারখানাগুলিকে ধ্বংস করার জন্য।" অন্যদল যুক্তি দেয় যে বোমা ফাটাতে একটি বৃহত্তর, কৌশলগত উদ্দেশ্যে কাজ করা উচিত। অন্য কথায়, "জার্মান জনগণের ইচ্ছাশক্তিকে ভাঙতে বোমা হামলা ব্যবহার করি, তাদের জীবনকে এতটাই দু: খিত করে তুলি যে তারা হাল ছেড়ে দেয়।"
    ইউকের সামরিক নেতৃত্ব কৌশলগত বোমা হামলার গুণাবলী সম্পর্কে নিশ্চিত ছিল। কিন্তু চার্চিল অতটা নিশ্চিত ছিল না। তাহলে চার্চিল কী করল? ঠিক ধরেছেন, অবশ্যই লিন্ডেম্যান। লিন্ডেম্যানকে কৌশলগত বোমা ফেলার কার্যকারিতা সম্পর্কে একটা ডসিয়ার বানাতে বলল। এই ধরনের প্রশ্নের জন্য চার্চিল সর্ব সময় তার প্রিয় বন্ধুর সরণাপন্ন হত। এবং লিন্ডেম্যান বলছে, "আসুন আমরা হাল এবং বার্মিংহামের মত ইংলিশ শহরগুলি দেখি, যেখানে জার্মানরা ভারী বোমা মেরেছিল।" তারপরে সে ডেটা বিশ্লেষণ করে চার্চিলকে তাঁর বিখ্যাত একটি মেমো লিখল।লিন্ডেম্যানের মেমো থেকে উদ্ধৃতি, “তদন্তে দেখা যাচ্ছে যে একটির ঘর ভেঙে দেওয়া মনোবলের পক্ষে সবচেয়ে বিপজ্জনক। লোকেরা তাদের বন্ধুবান্ধব এমনকি আত্মীয়স্বজনকে হত্যা করার চেয়েও এটিকে বেশি ক্ষতিকারক মনে করে। হালে, চাপের লক্ষণগুলি স্পষ্ট ছিল যদিও কেবলমাত্র দশ ভাগের এক ভাগ বাড়িঘর ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। উপরের পরিসংখ্যানগুলিতে, আমরা ৫৮টি মূল জার্মান শহরগুলির প্রত্যেকটির যতটা ক্ষতি করতে পারি। এতে জার্মান জনগণের মনোভাব ভেঙে যাবে তার সন্দেহ নেই।”
    কৌশলগত বোমা হামলা হ'ল জার্মান বেসামরিক মানুষের বাড়িতে হামলা চালানো; সৈন্যবাহিনীর ওপর নয়, নিরীহ মানুষের ওপর।
    কিন্তু ডেটা কি সত্যি এটা বলে? না, ডেটা বলে না। কৌশলগত বোমা হামলা বা স্ট্র্যাটেজিক বম্বিং আদৌ কাজের নয়।
    বার্মিংহাম-হাল স্টাডি করে লিন্ডেম্যান ঠিক সেই বিপরীত সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিল। বলেছিল, এবং আমি উদ্ধৃত করছি, "উভয়ই শহরে একাধিক অভিযান বা একক আক্রমণ থেকে আতঙ্কের কোনও প্রমাণ পাওয়া যায় নি।"
    ব্রিটিশরা কতটা জার্মান বাড়ি ধ্বংস করতে পারে সে সম্পর্কেও লিন্ডেম্যান ভুল অনুমান করে। সরকারের অন্যান্য বিশেষজ্ঞরা, কৌশলগত বোমা হামলার সমালোচকদের যা হিসেব, লিন্ডম্যানের সংখ্যা হাস্যকর, পাঁচ বা ছয়গুণ বেশি। কিছু যায় আসে না। মনে রাখবেন লিন্ডেমনের এক বন্ধু কি বলেছিল? "এমন যুক্তি ব্যবহার করা থেকে তিনি সঙ্কোচ করবেন না যা তিনি জানতেন যে ভুল হতে পারে, যদি তা করে তিনি তার একজন পেশাদার প্রতিপক্ষকে বেঁধে রাখতে পারেন।" লিন্ডেমন কৌশলগত বোমা হামলা চেয়েছিল, তাই চার্চিল এগিয়ে গিয়ে জার্মান শহরগুলিতে বোমা হামলার নির্দেশ দিয়েছিল।
    বেশিরভাগ ইতিহাসবিদ একমত যে কৌশলগত বোমা হামলা একটি বিপর্যয় ছিল। এই বোমাবাজি অভিযানে ১৬০,০০০ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইংরেজ বিমানবাহিনীর এবং কয়েক লক্ষাধিক জার্মান বেসামরিক মানুষ মারা গিয়েছিল। ইউরোপের বেশিরভাগ সুন্দর শহর ধ্বংস হয়ে গেছে এবং জার্মান মনোবল ভাঙ্গল না; জার্মানরা তীব্র লড়াই করেছিল। যুদ্ধের পরে নোবেল পুরষ্কার প্রাপ্ত পদার্থবিজ্ঞানী প্যাট্রিক ব্ল্যাককেট একটি বিধ্বংসী প্রবন্ধ লিখেছিলেন যেখানে তিনি বলেছিলেন যে, ব্রিটিশরা যদি তাদের বোমাবাজদের আরও বুদ্ধিমানভাবে ব্যবহার করত তবে ছয় মাস বা এক বছর আগেও যুদ্ধটি জিততে পারত।
    ব্রিটিশ যুদ্ধের মন্ত্রিসভায় কৌশলগত বোমা হামলা সম্পর্কে যথাযথ বিতর্ক হওয়া উচিত ছিল, ডেটা আরো অনুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করা উচিত ছিল, কঠোর প্রশ্ন করা উচিত ছিল।
    তবে আপনি কী চার্চিলের সেরা বন্ধুটির বিরুদ্ধে সত্যিকারের বিতর্ক করতে পারেন? বন্ধুত্ব সবার আগে আসে। এটাই সেই জিনিস যা বন্ধুত্বকে এত শক্তিশালী এবং সুন্দর করে তোলে, কেবলমাত্র যখন আপনার বন্ধু আপনাকে মিথ্যাবাদী করে তোলে এবং তার প্রতি আপনার আনুগত্যের অর্থ আপনি সেগুলি দেখতে পাচ্ছেন না।
  • জয় | 141.101.99.184 | ০৮ মার্চ ২০২০ ০৮:০২729884
  • ম্যালকম গ্ল্যাডওয়েল লিন্ডম্যানিয়ায় অনেক পড়াশোনা করেছেন। মধুশ্রী মুখার্জির বই “Churchill’s Secret War” শেষ কিন্তু সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ। স্নোর বক্তৃতা যদি চার্চিল-লিন্ডেম্যান লাভ অ্যাফেয়ারের প্রথম চ্যাপ্টার, মধুশ্রীর বই সেই ব্রোমান্সের ট্রাজিক শেষ অধ্যায়।
    ১৯৪১ সালে চার্চিল লিন্ডেম্যানকে পীয়ারেজ দেয়- লর্ড চেরওয়েল। মধুশ্রী তাঁর বইতে ফ্রেডেরিক লিন্ডেম্যানকে চেরওয়েল বলে উল্লেখ করেছেন।
  • জয় | 162.158.159.77 | ০৮ মার্চ ২০২০ ১১:২৭729885
  • মধুশ্রী: যুদ্ধের সময় ভারত তখনও ব্রিটিশ উপনিবেশ ছিল। ইংল্যান্ড থেকে পাঠানো ভাইসরয় শাসন করত। আর সমস্ত ব্রিটিশ উপনিবেশের মতো, ভারতও যুদ্ধে অন্যতম প্রধান ভূমিকা নিয়েছিল। অন্যান্য কলোনীগুলোর তুলনায় অনেকটা বেশীই। ভারত নিজে অভুক্ত থেকে মিত্রশক্তিকে খাদ্য রফতানি করেছিল।কয়েক লক্ষ ভারতীয় সৈন্য জার্মানদের সাথে লড়াই করার জন্য গেছিল।
    এবং পুরো শিল্প উৎপাদন, পুরো কাপড় উৎপাদন, উল, সিল্ক, কাঠ, আপনি যা বলবেন; সব যুদ্ধের খাতে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
  • জয় | 141.101.99.94 | ০৮ মার্চ ২০২০ ১১:৫৯729886
  • যখন যুদ্ধ চলে, অংশগ্রহনকারী যেকোন দেশের অর্থনীতিই একরকম কিনারায় এসে দাঁড়ায়। ১৯৪২ সালের শেষদিকে, ভারতের উত্তর-পূর্ব সীমান্তে এক ধরণের নিখুঁত ঝড় বয়ে যায় যা এই অঞ্চলটিকে কিনারা থেকে খাদে ঠেলে দেয়। প্রথমত, জাপানিরা বার্মা দখল করে, যা ভারতের উত্তর-পূর্ব সীমান্তে। ভারত বার্মা থেকে চাল আমদানি করত; এখন তারা পারবেনা।
    ব্রিটিশরা আতঙ্কিত পড়ে যে জাপান অবিলম্বে ভারত আক্রমণ করবে। তাই তারা উত্তর-পূর্ব সীমানা এবং উপকূল জুড়ে “scorched earth” নীতি আদেশ করে। তার মানে চাল, নৌকো, সাইকেল, যা কিছু, মনে করে যেগুলি জাপানিরা আক্রমণ করলে তাদের সাহায্য করতে পারে তা ধ্বংস করে দাও।
    এর ওপর এখানে এক সাইক্লোন আছড়ে পড়ে। ২০ ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাস। মুহূর্তের মধ্যে ৩০,০০০ লোক মারা যায়।
    নতুন ধান ক্ষেতেই পচে যায়। সরকার আতঙ্কে। তারা জানে না কীভাবে তারা তাদের সৈন্যদের খাবার দেবে। তাই তারা সমস্ত শহরে ঢুকেই ধান কেনা শুরু করে। ধানের দাম আকাশ ছোঁয়। কালোবাজারীরা এবার মাঠে নেমে পড়ে। রাতারাতি সব খাবার উধাও। এভাবেই দুর্ভিক্ষ শুরু হয়।
  • r2h | 172.69.135.135 | ০৮ মার্চ ২০২০ ১২:০৩729887
  • এটা ইন্টারেস্টিং টই হচ্ছে।
    কিন্তু ছোট ছোট টুকরো পোস্ট, মাঝে মন্তব্য করলে ফ্লো ঘেঁটে না যায়।
  • জয় | 162.158.154.222 | ০৮ মার্চ ২০২০ ১২:৫০729888
  • মধুশ্রী: ১৯৪২ সালের শেষের দিক থেকেই, ভারতের ভাইসরয় লন্ডনে যুদ্ধ মন্ত্রিসভাকে গম আমদানির জন্য আবেদন জানাতে শুরু করেন।
    আবেদনগুলি চেরওয়েলের কাছে যায়।সে যুদ্ধ মন্ত্রিসভায় পেমাস্টার জেনারেল, যার অর্থ সে মূলত সরকারের লজিস্টিক ম্যান, ইংল্যান্ড এবং এর সহযোগীদের জন্য পর্যাপ্ত খাবার এবং সরবরাহ রয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করার জন্য দায়বদ্ধ। চেরওয়েল বলে , "না। আমরা একটি যুদ্ধের মাঝামাঝি মধ্যে আছি, আমরা একটু খাবারও ছাড়তে পারি না। এবং যদি আমরা পারতাম তবেও ভারতে খাবার আনার কোনও উপায় নেই। আমরা একেবারে ঝাড়া হাত পা।”
    ১৯৪৩ সালের সমস্ত বসন্তকাল জুড়ে ভাইসরয় বলছেন, "আমাদের নেহাতই দরকার, আমাদের অবশ্যই এই খাবারের প্রয়োজন।" এবং চেরওয়েল বলছেন, "আমরা জাহাজগুলিকে বাঁচাতে পারি না, আমরা জাহাজগুলিও ছাড়তে পারি না।"
    মধুশ্রী যুদ্ধের সমকালীন দলিল দস্তাবেজ ঘেঁটে সত্যিটা কি উদ্ধারের চেস্টা করেছেন। চেরওয়েল কি আবারও এক মিথ্যা বলছিল? মধুশ্রী (উনিও ফিজিসিস্ট, ক্যালটেকের পোস্টডক) এমন কোনও কাজ করলেন যা কোনও ইতিহাসবিদ এর আগে কখনও করেনি - তিনি যুদ্ধকালীন ব্রিটিশ শিপিংয়ের সংরক্ষণাগারটিতে খোঁজেন, যা সবেমাত্র ডিক্লাসিফায়েড ঘোষিত হয়েছিল, গত ৬০ বছরে আক্ষরিক অর্থে খোলা হয়নি এমন ফাইলগুলি, এবং মধুশ্রী জানতে পারেন যে ১৯৪৩ সালে ব্রিটিশদের প্রচুর খাদ্যের বিশাল মজুদ ছিল। এত বেশি ছিল যে আমেরিকানরা, যারা সেই প্রচুর খাবারের উৎস ছিল, সন্দেহ করছিল যে ব্রিটিশরা যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরে উদ্বৃত্ত গম বিক্রি করার জন্য জোগাড় করে রাখছে।

    এবং ইউকের জাহাজ ঘাটতি সম্পর্কে চেরওয়েল যা ভাইসরয়কে জানিয়েছিল তার কতটা সত্যি? মধুশ্রী বলেছেন, "১৯৪৩ সালের শুরুতে ঘাটতি ছিল ঠিকই, যখন জার্মান সাবমেরিনগুলি আটলান্টিকের তখনও ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছিল, তবে বছরের শেষ দিকে নয়।"
    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এত বেশি জাহাজ পাঠাতে শুরু করে যে ১৯৪৩ সালের শেষদিকে, যখন বাংলায় দুর্ভিক্ষ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে, তখন জোটশক্তির কাছে আসলে জাহাজের উদ্বৃত্ত রয়েছে। ঘটনা হল, ১৯৪৩ সালে, ব্রিটিশ জাহাজগুলো ভারত মহাসাগর দিয়ে অস্ট্রেলিয়া থেকে গম পাঠানো শুরু করে, শুধু ভারতকে নয়।
    ১৯৪৩ এর সেপ্টেম্বর এবং অক্টোবর মাসে গম এবং গমের আটা বোঝাই করে ১৮টি জাহাজের উল্লেখ পাওয়া যাচ্ছে, এবং তাদের কেউই ভারতে যাচ্ছিল না। মধ্য প্রাচ্যে মুক্তিযুদ্ধের পরে ইউরোপকে খাওয়ানোর জন্য তৈরি করা হচ্ছিল এই মজুদ।
    শস্যপূর্ণ ব্রিটিশ জাহাজগুলি যাওয়ার পথে ঠিক ভারতকে ছুঁয়ে যাচ্ছিল। এমনকি তারা হয়ত মুম্বাইতে জ্বালানী ভরতেও দাঁড়িয়েছিল, তবে এক বস্তা গমও জাহাজ ছেড়ে যায়নি।
  • জয় | 162.158.158.114 | ০৮ মার্চ ২০২০ ১৬:২০729890
  • এমন একটা পরিস্থিতি, ভারত অনাহারে ধুঁকছে, কলকাতার রাস্তায় মৃতদেহ উপচে পড়ছে।

    তাহলে কেন চেরওয়েল সাহায্য করতে অস্বীকার করছেন? কয়েক শ’ হাজার ভারতীয় সেনা ব্রিটেনের হয়ে মধ্য প্রাচ্য এবং আফ্রিকায় জার্মানদের সাথে লড়াই করছে। কানাডা এবং আমেরিকার মতো অন্যান্য দেশ যখন ভারতে খাবার পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছিল, ব্রিটিশরা বলে, "আমরা চাই না।" তারা সাহায্য প্রত্যাখ্যান করে।
    দুর্ভিক্ষের মাঝামাঝি সময়ে চেরওয়েল লিখছে, "আমার দৃষ্টিতে, ভারতীয়রা তাদের নিজস্ব দোষের ফলে বিপর্যস্ত।” তাদের নিজস্ব দোষ। আরও বলছে, "খাদ্যের এই ঘাটতি সম্ভবত সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যেখানে কেবল খালি জনসংখ্যা প্রতি নিয়ত বেড়ে চলছে।”

    মনে রাখবেন, চেরওয়েল একজন ফিজিসিস্ট। চৌরাস্তা পার হত শফার চালিত লিমোজিনে চড়ে এবং পুরো পোশাকে টেনিস খেলত। সে মনে হয়না যুদ্ধের আগে জীবনে একবারও ভারত সম্পর্কে চিন্তা করেছিল।তা সত্ত্বেও, ব্রিটেনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু ভারতবর্ষ সম্পর্কে সম্পূর্ণ তৈরী তার আইডিওলজি। এটিকে তার অন্যান্য সংস্কারের তুলনা করা যাক। সে ইহুদিদের তেমন পছন্দ করেনি এবং কৃষ্ণাঙ্গ মানুষদের, এক বন্ধুর মতে, অনিয়ন্ত্রিত শারীরিক বিদ্রূপ করত।
    তবে আমি নিশ্চিত নই যে আমরা এখানে শুধু চেরওয়েলকে দেখছি; আমরা বন্ধুবর চার্চিলকেও দেখছি।
    ভারত সম্পর্কে চার্চিলের তীব্র ইস্যু ছিল। যুদ্ধের বছরগুলিতে, গান্ধী ভারতের মধ্যে তাঁর স্বাধীনতা আন্দোলন গড়ে তুলছেন এবং চার্চিল গান্ধীকে ঘৃণা করত। ব্রিটিশকে ভারত থেকে কাঁচামাল কিনতে হবে, এই বিষয়ে চার্চিল ক্ষিপ্ত ছিল, ওর কাছে এর অর্থ হ'ল মনিব তার ভৃত্যের কাছ থেকে দয়া দাক্ষিন্য নিচ্ছে।
    লন্ডনে ব্রিটিশ মন্ত্রিসভার মন্ত্রী যিনি ভারতের পক্ষে দায়বদ্ধ তিনি হলেন লিওপল্ড আমেরি নামের এক ব্যক্তি। তিনিই ভারতের জন্য রিলিফের জন্য তদ্বির করছিলেন। আমেরি চার্চিলের সাথে তাঁর আলাপচারিতার একটি ডায়েরি রাখতেন। এক পর্যায়ে, তিনি বলেছিলেন, "চার্চিল ভারতীয় ও ভারত সম্পর্কে সারাক্ষন বিদ্রুপ করেন," এবং আমেরি তাকে বলে, "তোমায় হিটলারের মতো শোনাচ্ছে।" অন্য এক পর্যায়ে, তিনি চার্চিলকে লিখেছেন, "আমি কোনওভাবেই নিশ্চিত নই যে, ভারতের এই বিষয়ে তুমি আসলেই যথেষ্ট বুদ্ধিমান কিনা।"
    তাহলে কেন চেরওয়েল এতটা অনড় ছিল যে ইংল্যান্ড ভারতকে সাহায্য করতে পারেনি? কারণ চার্চিল অনড় ছিল। কারণ চেরওয়েল এক অনুগত বন্ধু।

    চেরওয়েল যে মেমোগুলো চার্চিলকে পাঠাত, সেগুলে ১০ লাইনের বেশী বড় হত না। শুধুমাত্র কি কাজ করতে হবে তার পরামর্শ থাকত। এই মেমোগুলো বানাবার সময় চেরওয়েল প্রচুর গুরুত্বপূর্ন তথ্য বাদ দিয়ে দিত।যেমন- কি খারাপ জিনিস ঘটতে পারে যদি আপনি এমন এবং এই জাতীয় কিছু করে থাকেন। উদাহরণস্বরূপ, জাহাজ না ছাড়ার জন্য যুদ্ধ-পরিবহন মন্ত্রক হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যে ভারত মহাসাগর অঞ্চলের অর্থনীতিতে হিংস্র বিপর্যয় দেখা দেবে। এই উদ্বেগগুলির কোনওটিই এটিকে চেরওয়েল মেমোতে পরিণত করে নি। সে এবং চার্চিল যা কিছু করতে চেয়েছিলেন তা করার জন্য যা যুক্তি সাজানোর দরকার তাই মেমোতে যেত।
  • জয় | 162.158.159.89 | ০৮ মার্চ ২০২০ ১৬:৫৭729896
  • আমরা কেন রাজনীতিবিদদের বন্ধুবান্ধব নিয়ে ভাবতে বেশি সময় ব্যয় করি না? আমরা দীর্ঘ নির্বাচনী মরসুমের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি যেখানে আমরা সরকারী দফতরের জন্য দৌড়ে থাকা সমস্ত লোকের অবিরাম পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছি। আমরা প্রার্থীদের, তাদের বিশ্বাস, তাদের ব্যাকগ্রাউন্ড, তারা যে পোশাক পরে থাকি সেদিকে নজর রাখি। তবে, নির্বাচন শেষ হওয়ার পরে, আমরা বুঝতে পারি যে আমরা কেবলমাত্র সেই প্রার্থীকেই নির্বাচিত করি নি কারণ কেউই একা শাসন করে না।
    অবশেষে, সব নেতারাই ওভারহোয়েল্মড হয়। কোন না সময়ে, তারা তাদের নিকটতম বন্ধুকে ভোর ২:00 টায় ফোন করবে এবং বলবে, "আমি কি করব?" সুতরাং আপনি যখন কারও পক্ষে ভোট দিচ্ছেন, আপনি সেই বন্ধুটির পক্ষেও ভোট দিচ্ছেন যাকে ভোর ২:00 টায় ফোন করা হয়। নির্বাচন সম্পর্কে এটিই আজব; বন্ধুদেরও যাচাই করা উচিত?

    তাঁর বক্তৃতায় সিপি স্নো এটিকে “কোর্ট পলিটিক্স বা রাজসভার রাজনীতি” বলে অভিহিত করেছেন। লিন্ডেম্যান-চার্চিল বন্ধুত্ব হল কোর্ট পলিটিক্সের সবচেয়ে আকর্ষণীয় উদাহরণ।
    লোকে লিন্ডেম্যানকে “দ্য প্রফেসর” বলে ডাকত, কখনও তা অনুরাগ থেকে, বেশীর ভাগ সময়ে এক বিহ্বলতা থেকে।
    স্নো বলছেন- “আমি লন্ডনের এক যুদ্ধকালীন রাতে আমার এক বন্ধুকে, যিনি সাধারণত খুব শক্ত এবং খুব বুদ্ধিমান, বলতে শুনেছি, "প্রধানমন্ত্রী ও প্রফ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমরা তাদের না বলার জন্য কে? ”
    ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষে কতজন মারা গিয়েছিল তার সেরা অনুমান, তিন মিলিয়ন মানুষ। ত্রিশ লাখ। যুদ্ধের পরে, ব্রিটিশ সরকার কী ঘটেছিল সে সম্পর্কে একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত করেছিল, তবে তদন্তটি বিবেচনা করা নিষিদ্ধ ছিল এবং আমি উদ্ধৃত করছি, "আমদানি পরিবহণের বিষয়ে তাঁর মহামান্য সরকারের সিদ্ধান্ত।" অন্য কথায়, তাদের দুর্ভিক্ষের কারণ অনুসন্ধান না করে দুর্ভিক্ষের কারণ অনুসন্ধান করতে বলা হয়েছিল।

    চার্চিলের তার যুদ্ধের ছয়টি খণ্ডের ইতিহাসে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ইতিহাসবিদদের জন্য এই দুর্ভিক্ষের কথা তিনি উল্লেখ করে নি; এটি কেবল একটি পরিশিষ্টে একটি উল্লেখ পেয়েছে।
    ছয় খণ্ডের বইতে তিন মিলিয়ন মৃত্যুর দুর্ভিক্ষ শুধু পরিশিষ্টে একটি উল্লেখ রয়েছে।
    বরং চার্চিলের বড় গলা “ভারত আমাদের ছোট দ্বীপরাষ্ট্রের কাঁধে ভর দিয়ে নিজেদের লড়াই লড়েছে।”

    লন্ডনের কেউই আসলে কী ঘটেছে তার গল্পটি বলতে আগ্রহী ছিল না। চার্চিল এবং লিন্ডেম্যান তো নয়ই। তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এসবই বন্ধুদের মধ্যেই রাখবে।
  • কোটের মানে? | 162.158.50.254 | ১২ মে ২০২০ ২০:০০731362
  • লেখাটির জন্য ধন্যবাদ।

    অন্য কথায়, তাদের দুর্ভিক্ষের কারণ অনুসন্ধান না করে দুর্ভিক্ষের কারণ অনুসন্ধান করতে বলা হয়েছিল।

    এটার মূল কোটটি পাওয়া যাবে?

    আর এই লাইনের মানে কী?
    ত্রিশ লাখ। যুদ্ধের পরে, ব্রিটিশ সরকার কী ঘটেছিল সে সম্পর্কে একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত করেছিল, তবে তদন্তটি বিবেচনা করা নিষিদ্ধ ছিল এবং আমি উদ্ধৃত করছি, "আমদানি পরিবহণের বিষয়ে তাঁর মহামান্য সরকারের সিদ্ধান্ত
  • জয় | 141.101.98.93 | ১৪ মে ২০২০ ১০:২৩731387
  • সরি, এখানে বক্তব্য সত্যি পরিস্কার হয়নি। মধুশ্রী মনে করেন ৪৩-এর মন্বন্তরের মূল কারণ চার্চিল সরকারের ভ্রান্ত আমদানী-রপ্তানী এবং জাহাজ পরিবহন সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত। কিন্তু সরকারী তদন্তের সময় এই সরকারী সিদ্ধান্তকে প্রশ্ন করা হয়নি। ম্যালকম বলছেন যুদ্ধকালীন সরকারী সিদ্ধান্তকে প্রশ্ন করা নিষিদ্ধ ছিল। তাই ম্যালকমের বক্তব্য: দুর্ভিক্ষের মূল কারণকে তদন্ত আওতায় না এনে তদন্ত করা হয়েছিল।

    জয়

  • জয় | 162.158.155.37 | ১৫ মে ২০২০ ১২:৪২731396
  • এইটা ইন্টারেস্টিং। বছর খানেক আগে গার্ডিয়ানে বেরিয়েছিল। ভারত ও আমেরিকার কিছু গবেষক ভারতীয় উপমহাদেশে ১৮৭৩ থেকে ১৯৪৩সালের মধ্যে ছয়টি বড় দুর্ভিক্ষের উপর রিসার্চ করেছেন। তাঁরা ঐ সময়ের মাটিতে আর্দ্রতার পরিমাণ ক্যালকুলেট করেছেন। কম বৃষ্টি আর উচ্চতাপমাত্রা মাটির আর্দ্রতার ঘাটতি ঘটায়; যা কিনা খরার মূল সূচক হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

    ঐ সত্তর বছরের মধ্যে ঘটা ছ’টা দুর্ভিক্ষের মধ্যে পাঁচটিতে উল্লেখযোগ্যভাবে মাটির আর্দ্রতার ঘাটতি পাওয়া গেছে।যেমন ধরুন, ১৮৯৬-৯৭ সালেউত্তর ভারতের বেশিরভাগ অংশে ১১% ঘাটতি পরিমাপ করা হয়েছিল। যার ফলে সারা দেশে খাদ্য সংকট দেখা দেয়, প্রায় ৫ মিলিয়ন লোক মারাযায়।

    তবে গবেষকরা বলছেন, বাংলায় ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষ, যার ফলে ৩ মিলিয়ন মানুষ মারা গিয়েছিল, তা অন্যরকম ছিল। জিওফিজিকাল রিসার্চলেটারস জার্নালে গতবছর ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত এই সমীক্ষা বলছে ১৯৪৩ এর শেষদিকে (জুন থেকে সেপ্টেম্বর), দুর্ভিক্ষ যখন সবচেয়ে ভয়াবহতখন বৃষ্টির মাত্রা গড়ের চেয়ে উপরে ছিল!

    গবেষকদলের প্রধান, গন্ধিনগরের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির সহযোগী অধ্যাপক বিমল মিশ্রের মতে

    "এটি একটি অনন্য দুর্ভিক্ষ, কোনও বর্ষার ঘাটতির জন্য নয়,  বরং সরকারী নীতির ব্যর্থতার ফলে ঘটেছিল।”

  • করোনা

  • পাতা : 1
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত