• বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়।
    বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে।
  • কামনা - রাজনীতি - আমি

    সুমিতা
    বিভাগ : বুলবুলভাজা | ১১ মার্চ ২০১২ | ২২০ বার পঠিত
  • যখন বলি, আমার মানুষ-পরিচয়ের মধ্যেই গাঁথা আছে আমার যৌনতার পরিচয়, তখন আসলে কী ভাবি? একথা ভাবি কি যে আমি একজন যৌন মানুষ, আমার যৌনতা আমার পরিচয়ের অন্যতম অংশ; নাকি আমার যৌন পরিচয়টাই বাদবাকি সব পরিচয়কে ছাপিয়ে ওঠে! অথবা উল্টো করে দেখলে আমার যৌন পরিচয় লিঙ্গ পরিচয়ের মতই অমোঘ এবং একমাষন - এতই যে তাকে নিয়ে আলাদা করে মাথা ঘামাবার কিছু অবশিষ্টই থাকে না। নিজেকে কবে থেকে যৌন মানুষ হিসেবে উপলব্ধি করতে পেরেছি, আমি জানিনা। কবে কোন খেলার ছলে আঙুলে আত্মরতি উঠে এসেছে, তাও আজ আর মনে নেই। কেবল এটা জানতাম যে কাজ করছি তা অন্যায়। কেননা তা এমন একটা অঙ্গকে ঘিরে ঘটছে, যা আমার হয়েও আসলে আমার নয়। যেন সে গরীব আত্মীয়, অথবা পথে বসা পাগল, কিংবা ফেল করা একদা সহপাঠী! অসময়ে বা সময়ের আনেক আগে রজোদর্শন ঘটার ফলে ভয়, আতঙ্ক, অপরাধবোধ, আনন্দ - শরীরের সঙ্গে এইসব অনুষঙ্গ জড়িয়ে গেছিল অজান্তেই। সেই যে শরীর, মন যার সাথে পাল্লা দিতে গিয়ে মাথার মধ্যে তৈরী করছে জানা-নাজানা বিচিষন সব মর্ষকামী ছবি, সে লিঙ্গ চিহ্ন অনুযায়ী নারী এতটুকু জানতাম। কিন্তু সে কেবল নিজেকেই কামনা করেছিল, কামনা কাকে বলে, যৌনতা কাকে বলে, না জেনেই। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে সেই যে অপরূপ অপরকে দেখা, সে আমিও আমিই। কী তীব্র ছিল সেই কামেচ্ছা যে ভবানীপুরের পুরনো বাড়ির প্রায়ান্ধকার কলতলার আদ্দিকালের চৌবাচ্চায় নগ্ন শরীর দেখতে চেয়েছি নিজের, প্রাণপণে!

    এ আমার জন্ম-সমকামিতার আখ্যান!
    এই আমার একমাষন যৌন পরিচয়!

    তারপর যথাকালে সানাই, লুচি-বেগুনভাজা, পোলাও-মাংস, দই-মিষ্টি, রজনীগন্ধার গুলিয়ে ওঠা গন্ধ সহযোগে পুরুষ যখন স্পর্শ করল নিয়মমত, আমি ভয়, বিতৃষ্ণা, ঔৎসুক্য আর যন্ত্রণায় কাঁপতে কাঁপতে নিজেকেই আবার আবিষ্কার করলাম, আবার কামনা করলাম, অনুভব করলাম, অনুভব করলাম সেই আঙুলের ডগায় ঝল্‌সে ওঠা রতি নিবৃত্তির ফুলকি। কে কাকে চাইল তবে? আমি সেই ফুলে মোড়া বিছানায় শুয়ে বারবার আবার আবারো চাইলাম শাড়ী-গয়না-মুকুট-রাংতা মোড়া রাজেন্দ্রাণীর মত আমাকে - বারবার আবার আবারো চাইলাম ধুলোয় লুটিয়ে আকুল হয়ে কেঁদে চলা, ভাঙা স্বপ্নের টুকরোয় ক্ষতবিক্ষত, নগ্ন অসহায় আমাকে। অর্থাৎ রমণসঙ্গী যিনিই হয়ে থাকুন না কেন, চাইলাম আমিই আমাকে। নারী হয়ে আরেক নারী শরীরকে চাইলাম, কিন্তু সেই চাওয়ার অর্থ বুঝলাম না। পুরুষ শরীর দেখে মনে মনে উত্তেজিত হলাম এই ভেবে যে ঐ শরীর আমাকে আনন্দ দেবে - আমিই "সে' হয়ে উঠলাম - সেই পুরুষ হয়ে উঠলাম।

    সত্যি কথা বলতে কী, এত কিছু ভাবিনি। কেউ ভাবে না, কখনও আবেগের তাড়নায়, কখনও শরীরের তাড়নায়, কখনও বা সমাজের তাড়নায় সামনে যা পায় তাকেই গ্রহণ করে। অথচ সেই গ্রহণ করা যে আসলে গ্রহণ করানো, চাওয়া যে আসলে নিষ্কলুষ মনের স্বত:স্ফূর্ত অভিব্যক্তি নয়, তাকে যে সাজানো হয়েছে মায়া দিয়ে, ভান দিয়ে, ভ্রম দিয়ে - ভেবে কি দেখি কখনও?

    "যা দেবী সর্বভূতেষু ভ্রান্তিরূপেণ সংস্থিতা' - তাকেও নমো নম:!

    কামনার রাজনীতি, কেমন আশ্চর্য শোনায় কানে, ইংরেজীতে ‘politics of desire’ বলব কি? সে যাই হোক, আমার জীবনে কামনায় রাজনীতিকরণ ঘটেছে দু'ভাবে। একদিকে আমি বুঝেছি আমার কামনা একটা বৃহত্তর ক্ষমতার রাজনীতির দাবার ছকের বোড়ে মাষন। অন্যদিকে এও দেখেছি, আমার কামনা কেবল ব্যক্তি আমিতে সীমাবদ্ধ নয়। তার একটা বিস্তৃত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট আছে। তা না হলে যৌন আমি কেবলমাষন এক ব্যক্তির বিছানা থেকে অন্য ব্যক্তির বিছানায় বহু ব্যবহৃত পাশবালিশের মত যাতায়াত করতাম। কিন্তু বাস্তবে তা ঘটে না, ঘটাতে চাই-ও না।

    যেদিন অন্য নারীর চোখে আমার নিজের দৃষ্টি দেখেছিলাম, তার জিভে আমার নিজের স্বাদ পেয়েছিলাম, সেদিন মনে হয়েছিল এটাই কামনার চূড়ান্ত রূপ। কামনা এক এবং অদ্বিতীয়, "লীলার্থে' বহু হয়ে দেখা দেয়। কিন্তু সেই যে নারী, সে শরীরে নারী, মনেও নারীই, তবু সে অন্য নারী। তার চোখ দিয়ে নিজেকে দেখি, তার হাত হয়ে নিজেকে ছুঁই, কিন্তু তার উপলব্ধি আমার উপলব্ধি নয়। সে আর আমি, নারী আর পুরুষ হলেও এক নই, সে আর আমি, নারী আর নারী হলেও এক নই।

    আমার কামনার রাজনৈতিক পাদপীঠ একটি সংগঠন, "স্যাফো ফর ইক্যুয়ালিটি'। কামনা যদি রাজনৈতিক আন্দোলনের বিষয় হয়, বিশেষত যৌন নারীর কামনা, তবে তাকে মতাদর্শের মেরুদণ্ডের চারপাশে সংহত, দৃঢ়, সদর্থক রূপ দিয়ে ভদ্রলোকের পাতে দেবার যোগ্য করে তুলতে হয়।

    সচরাচরের অধিকার আন্দোলনের রাজনীতি কামনাকে বিষয়বস্তু হিসেবে গ্রহণ করতেই চায়না। আমার মনে হয়, আমি হয় একজন নারী-মানুষ নই, নয় একজন যৌন-নারী-মানুষ নই, কিংবা একজন যৌন-নারী-সমকামী মানুষ নই, অথবা যৌন-নারী-সমকামী-একনিষ্ঠ মানুষ নই। কারণ ব্রাত্য হওয়া শুরু হয়েছিল নারী বলে, তারপর যৌন নারী বলে, তারপর সমকামী যৌনতাবোধসম্পন্না নারী বলে, শেষপর্যন্ত বহুগামী নারী বলে। প্রান্তিকরণের রাজনীতি কামনাকে ইন্ধন হিসেবে ব্যবহার করে। আমাকে ক্রমাগত রাজ্যপাট ছেড়ে বনে যেতে হয়, বন থেকে বনান্তরালে, চষা ক্ষেত ছেড়ে নোনা লাগা মাটি পেরিয়ে সমুদ্রের মাঝে কোন এক দ্বীপেও আশ্রয় মেলে না। "স্যাফো ফর ইক্যুয়ালিটি'তে বন্ধু পেতে আসিনি। সমমনস্ক, সমরাজনীতিতে বিশ্বাসী সহকর্মী চেয়েছিলাম। যাদের পেলাম তারা সহকর্মী, সহমর্মী বন্ধুও বটে। আমার কামনার ইতিহাস বা ভূগোল তাদের সবার মত নয়, কিন্তু প্রান্তিকরণের বিরুদ্ধে আমার রাজনীতি তাদের সঙ্গে আমাকে একসূষেন গেঁথেছে। ভিন্নতার উৎসবে আমরা সবাই শরিক। আমি, নারী, যৌন-মানুষ,সমকামী, বহুগামী, প্রান্তিক, কিম্ভুত - আমি।
  • বিভাগ : বুলবুলভাজা | ১১ মার্চ ২০১২ | ২২০ বার পঠিত
  • আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1
  • Rajkumar Raychaudhuri | 172.69.134.188 | ২৬ মার্চ ২০২০ ১৫:২৮91779
  • কিম্ভুতকিমাকার সবাই, কেউ প্রকাশ করে আর কেউ করে না। যৌন আত্ম তৃপ্তি  যৌনতার মূল দর্শন  তা নিজেকে দিয়েই হোক বা কারো সাহায্যেই হোক।     

  • করোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত