• হরিদাস পাল
  • খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে... (হরিদাস পাল কী?)
  • প্রাণে প্রাণ মেলাবোই...

    বিপ্লব রহমান
    বিভাগ : ব্লগ | ০১ জানুয়ারি ২০১৭ | ৪৫ বার পঠিত
  • কর্ণফুলীর কান্না, মধুপুরে মিশে গেছে, চলেশ রিছিলের তাজা রক্তে….’-

    এমনই শাণিত কথামালা আর সুর-ঝংকার নিয়ে সারাদেশে পাহাড় থেকে সমতলে ছুটে বেড়াচ্ছে আদিবাসীর গানের দল ‘মাদল’। যেখানেই আদিবাসীর ওপর জুলুম চলে, সেখানেই সংগ্রামী গণসংগীত নিয়ে হাজির হয় এই গানের দল। ‘জেগে উঠুক মানবতার জয়োগান’ — এই হচ্ছে তাদের ‘মাদলের’ আহ্বান।

    এই লেখকের সঙ্গে আলাপচারিতায় ‘মাদলের’ তরুণেরা বলেন, গানই আমাদের সংগ্রামের হাতিয়ার। আর আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীকে আমরা দেখাতে চাই নতুন দিনের স্বপ্ন।

    ‘মাদলের’ একাধিক কনসার্টের ফাঁকে ফাঁকে টুকরো কথায় জানা গেল, অভিনব এ গানের দলে রয়েছেন ভিন্ন ভাষাভাষী চাকমা, গারো, মারমা, বম ও সিং জাতিগোষ্ঠীর শিল্পীরা। বাংলা ভাষার পাশাপাশি তাঁরা নিজস্ব জাতিগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী গানও পরিবেশন করেন।

    ‘মাদলের’ শিল্পীরা এখন উদ্যোগ নিয়েছেন হারিয়ে যেতে বসা আদিম সুরের গানগুলো সংগ্রহের। পরে তাঁরা এগুলো আধুনিক বাদ্যযন্ত্রে নতুন করে পরিবেশন করবেন। বলা ভালো, দেশে এ ধরনের গানের দল এটিই প্রথম। তবে বিভিন্ন আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর রয়েছে নিজ নিজ ভাষার অসংখ্য গানের দল।

    বৃহত্তর উত্তরবঙ্গের ১৬টি জেলায় রয়েছে সাঁওতাল, ওঁরাও, মুণ্ডা, সিং, কোল, মাহতো, কড়াসহ প্রায় ৩৮টি আদিবাসীর প্রায় ১৬ লাখ মানুষের বসবাস। তাদের বেশির ভাগেরই রয়েছে ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র ‘মাদল’ নামের এক ধরনের ঢোল। সেখান থেকেই এ গানের দলের নামকরণ। উত্তরবঙ্গ ছাড়াও পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের নানা প্রান্তে বাস করে ৫৪টিরও বেশি আদিবাসীর প্রায় ৪০ লাখ মানুষ।

    পাহাড়ের আদিবাসীর বর্ষবরণ ও বর্ষবিদায়ের ঐতিহ্যবাহী উৎসব বিজু (চাকমা), বৈসুক (ত্রিপুরা), সাংগ্রাই (মারমা), বিষু (তঞ্চঙ্গ্যা) অথবা গারোদের নবান্ন উৎসব ‘ওয়ানগালা’তেও এরই মধ্যে গান গেয়ে সাড়া ফেলেছেন ‘মাদলের’ শিল্পীরা। মে দিবস, একুশে ফেব্রুয়ারি, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবসসহ নানা জাতীয় দিবসেও গণসংগীত পরিবেশন করেন তাঁরা।

    ২০১৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চে মাদল হাজির ছিল গান নিয়ে। আবার ২০১৪ সালে একজন ওঁরাও নেত্রী গণধর্ষণের শিকার হওয়ার প্রতিবাদে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ক্ষুদ্রজাতির ৬৫ কিলোমিটার পদযাত্রায় গানে গানে প্রেরণা জুগিয়েছে মাদল। বছর সাতেক ধরে এভাবেই তারা অংশ নিয়েছে শতাধিক অনুষ্ঠান ও কর্মসূচিতে।

    ইউটিউব, ফেসবুক, টুইটারসহ সামাজিক যোগাযোগের নানা মাধ্যমেও সাড়া ফেলেছে মাদলের গান। বেশির ভাগ গানই তাদের নিজেদের লেখা। সুরারোপ করাটাও একান্তই নিজের।

    ‘মাদলের’ যাত্রা সম্পর্কে এর প্রধান কণ্ঠশিল্পী শ্যাম সাগর মানখিন এই লেখকের সঙ্গে আলাপচারিতায় বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে আমরা কয়েকজন আদিবাসী সংগীত শিল্পী ‘উদীচী’ সাংস্কৃতিক দলে যোগ দিই। ‘সমগীত’ নামে আরেকটি গণসংগীত দলের সঙ্গেও ছিল আমাদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ। সেটি ২০০৯ সালের নভেম্বরের কথা। সেখান থেকেই আমরা ভিন্ন ভাষাভাষী ক্ষুদ্রজাতির ছাত্ররা জড়ো হয়ে ‘মাদল’ সংগঠনটি গড়ে তুলি। আদিবাসী ছাত্র পরিষদ, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, ছাত্র ফেডারেশন, গারো সংগঠন চানচিয়াসহ (চিন্তা) বিভিন্ন সংগঠনের সূত্রে ক্রমেই আমরা ছড়িয়ে পড়ি ক্যাম্পাসের বাইরেও। প্রথমে বৃহত্তর রাজশাহীতে, পরে বৃহত্তর উত্তরবঙ্গ, ঢাকা, পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সারা দেশে আমরা গান পরিবেশন করতে থাকি।…

    ‘মাদলের’ আরেক প্রতিষ্ঠাতা হরেন্দ্রনাথ সিং এই লেখককে বলেন, প্রথম দিকে রিটন চাকমা, পিন্টু ম্রং, মানিক সরেন প্রমুখ যুক্ত হন আমাদের সঙ্গে। আদিবাসী গবেষক পাভেল পার্থ আমাদের প্রেরণা দেন। এমনও দিন গেছে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আমাদের গানের অনুশীলনের জন্য বসার জায়গা ছিল না। ধীরে ধীরে আমাদের অবস্থান তৈরি করতে হচ্ছে। এখনো রাজশাহী, ঢাকা ও পার্বত্য চট্টগ্রামে আমাদের শিল্পীরা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বাস করেন বলে কোনো একটি অনুষ্ঠানের আগে সবাই ঢাকায় জড়ো হলেও অনুশীলনের যথেষ্ট সময় পান না। স্থানাভাবও আছে।…

    মাদলের ড্রাম ও কাজন বাদক আন্তনী রেমাও জানালেন একসঙ্গে অনুশীলনে প্রতিবন্ধকতার কথা।

    মাদল সম্পর্কে শ্যাম সাগর আরো বলেন, আদিবাসীর শোষণ-বঞ্চনার প্রতিবাদ করাই আমাদের লক্ষ্য। আর গানই আমাদের সংগ্রামের হাতিয়ার। আদর্শিক সংগ্রামটিকে আমরা এই ব্যান্ডের মাধ্যমে এগিয়ে নিতে চাই। পাশাপাশি মাদলকে টিকিয়ে রাখতে আমরা চাই বিকল্প কর্মসংস্থানের পথ তৈরি করতে।

    এদিকে আদিবাসী নেতারাও মাদল সম্পর্কে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন। জাতীয় আদিবাসী পরিষদের রবীন্দ্রনাথ সরেন বলেন, মাদলের গানগুলো শোষিত আদিবাসীকে বাঁচার স্বপ্ন দেখায়। গান গেয়ে তারা সৃষ্টি করেছে জগরণের এক নতুন ধারা।…

    একনজরে ‘মাদল’ কর্মীরা : শ্যাম সাগর মানখিন (প্রধান কণ্ঠশিল্পী), হরেন্দ্রনাথ সিং (মাদল), রিটন চাকমা (গিটার), জেনসন আমলাই (লিড গিটার), অন্তুর স্কু (বেস গিটার), সায়ন মাংসাং (আড়বাঁশি), আন্তনী রেমা (ড্রাম, কাজন ও বঙ্গো) এবং যোয়েল চাকমা (ফটোগ্রাফি)।
    ---
    *লেখার শিরোনামটি গণসংগীত শিল্পী কফিল আহমেদের গানের একটি লাইন থেকে নেওয়া।
  • বিভাগ : ব্লগ | ০১ জানুয়ারি ২০১৭ | ৪৫ বার পঠিত
  • আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1
  • pi | 233.176.55.220 (*) | ০৮ জানুয়ারি ২০১৭ ০৩:২৯61200
  • আরে বাহ।
    বেশ কিছু গানও ইউটিউবে খুঁজে শুনে ফেললাম ! বেশ ভাল লাগল।
    এমনিতে বাংলাদেশে গণসঙ্গীতের চল কীরকম ছিল, এর আগে ?
    আদিবাসীদের নিজেদের ব্যাণ্ড এদেশে কত কী আছে জানিনা। মিজোরামে আছে জানি।
    এনাদের সব গানই নিজেদের লেখা ? আদিবাসীদের নিজেদের গান কিছু করেন না ?



  • বিপ্লব রহমান | 53.243.207.145 (*) | ১১ জানুয়ারি ২০১৭ ০৯:১৪61201
  • পাই,

    আপনার বিনীত পাঠ ও মন্তব্যে জন্য ধন্যবাদ। ইউটিউবের লিংকগুলো এই লেখাটিকে সমৃদ্ধ করেছে।

    এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় গণ সংগীতের ধারা খুব শক্তিশালী ছিল। আন্দোলনের ধারায় এটি আবারো শক্তিশালী হয়ে উঠবে নিশ্চয়ই।

    "মাদল" শিল্পী গোষ্ঠির সব গান নিজেদেরই লেখা। আর তারা শুধু বাংলায় নয়, বিভিন্ন আদিবাসীর ভাষাতেই গান করেন। প্রাচীণ আদিবাসী লোক সংগীতের গানও তুলে নিয়ে এসেছেন তারা।

    এপারে বড় জনগোষ্ঠি আদিবাসীদের প্রত্যেকেরই নিজস্ব গানের দল রয়েছে, যেমন, চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, সাঁওতাল, গারোদের রয়েছে বেশ কিছু গানের দল। এসব গান ইউটিউবে তো বটেই ছড়িছে পড়েছে কনসার্ট ও বিভিন্ন গানের অ্যালবামে। ...তবে সবই গণসংগীত নয়। প্রকৃতি-প্রেম-বিরহ-উৎসব, সবই আছে এসব গানে। আছে প্রাচীন আদিবাসী লোক সংগীতও।
  • করোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত