এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ব্লগ

  • রক্তিম বসন্ত , নববর্ষ ঃ-অধিকার অর্জনের অনমনীয় লড়াই

    Debabrata Chakrabarty লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ২২ মার্চ ২০১৬ | ২৩২৪০ বার পঠিত
  • বসন্ত উৎসব , রঙের উৎসব , ফাগুয়া -হোলী , বাঙ্গালীর দোল উৎসব এসে গেল । অদ্ভুত ভাবে ঠিক একই দিনে বছরের একই সময়ে সেই ঐতিহাসিক সময়ে থেকে কুর্দ জনতা রাষ্ট্রের রক্তচক্ষু এবং গণহত্যা অগ্রাহ্য করে আজকের দিনে (২১সে মার্চ ) রাস্তায় , প্রকাশ্য স্থানে জমা হয় ‘নিউ রোজ ‘ মানাতে । 'নিউ রোজ' হোল কুর্দ নববর্ষ একই সাথে বসন্তের উৎসব । আগের কালে পাহাড়ে পাহাড়ে শীতের ঝরা পাতায় আগুণ লাগানো হত । সারা কুর্দিস্তান , ইরাক , ইরান , তুরস্ক , আর্মেনিয়া , সিরিয়া এমনকি আফগানিস্তানের পাহাড় আগুনে লাল হয়ে যেত আজকের দিনে । কাল থেকে যে বসন্ত । সাত দিন ধরে নাচ ,গান , খানা পিনা, উপহার বিনিময়ের বাঁধন ছাড়া উৎসব । এখনো শহরে গ্রামে প্রত্যেক বাড়ি থেকে কাঠ কুটো জমা করে আগুণ লাগানো হয় । সেই আগুণকে কেন্দ্র করে চলতে থাকে নাচ গান উৎসব । ঠিক কোথায় যেন আমাদের হোলির পূর্বের ন্যাড়াপোড়া অথবা 'হোলিকা দহনের’ সাথে অদ্ভুত একটা মিল আছে । আমাদের দেশেও বেশ কিছুদিন পূর্বে প্রত্যেক বাড়ি থেকে এক টুকরো কাঠ জমা করে ‘ হোলিকা দহনের’ উৎসব পালন হত, উত্তর ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে এখনো হয় । আর ঠিক আমাদের হোলির দিনেই এই অনুষ্ঠান হয় সারা কুর্দিস্তান ,ইরান এমনকি আফগানিস্তান ,আর্মেনিয়াতে ।

    হয়ত’বা আমাদের এই হোলির পরম্পরার ইতিহাস , অদ্ভুত রকমের সাযুজ্য সম্পন্ন প্রথা এমনি হোলী কে ঘিরে যে মিথ তা কুর্দদের প্রাচীন মেসোপটেমিয়া সভ্যতার এই উৎসব থেকেই ইরান আফগানিস্তানের পথ ধরেই এসেছে, কে জানে। কিন্তু চমকে ওঠার মত সাযুজ্য , একেবারে কার্বন কপি , বক রাক্ষসের মিথ এবং ভীমের হাতে তার মৃত্যু পর্যন্ত, প্রায় একই উৎসব একই মিথ ।

    কিন্তু কুর্দদের এই স্বাভাবিক হাজারো বছরের প্রাচীন বসন্ত উৎসব প্রায় ১০০ বছর ধরে আর উৎসব নেই - ক্রমে তা রক্তেরর্ নববর্ষ ,আত্মাভিমান পুনঃউদ্ধার , স্বাধীনতা এবং অত্যাচারীর বিরুদ্ধে অনমনীয় প্রতিরোধের লড়াই এ পর্যবসিত । তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংস্কৃতি ,উগ্র জাতীয়তাবাদের হেজিমনির পাল্টা কাউন্টার হেজিমনি । নিউ রোজ মানেই উৎসবের সাথে সাথে প্রতিরোধের প্রস্তুতি ।

    গত একশো বছরের মতো এই বছরেও তুরস্কের সরকার দেশ জুড়ে কুর্দ নববর্ষ পালনের অনুষ্ঠান নিষিদ্ধ করেছে নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে । গৃহযুদ্ধ চলছে সেই জুলাই থেকে পিকেকে’র সাথে । এই নিষেধাজ্ঞার প্রথম বলি হয়েছেন ইস্তাম্বুল ইউনিভার্সিটি তে দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে কর্মরত এক ব্রিটিশ নাগরিক । কম্পিউটারের এই প্রফেসর কে 'নিউ রোজ' অনুষ্ঠানের নিমত্রন গ্রহণ করার কারনে পত্রপাঠ দেশত্যাগী করা হয়েছে তিনি নাকি সন্ত্রাস বাদীদের সমর্থক ,এক্ষেত্রে তুরস্কের সরকার আমাদের সরকারের বড় দাদা তুল্য । আমাদের দেশে পাকিস্তানে চলে যাও বলে ধমকি দেওয়া হলেও তুরস্ক ওইসব ফাঁকা আওয়াজে বিশ্বাস না করে কেবলমাত্র নিউ রোজের নিমত্রন গ্রহণ করার অপরাধে প্রফেসর কে সিধা প্লেনে তুলে দিয়েছে ।

    এই লেখা টি যখন আমি লিখছি তখন সারা তুরস্ক জুড়ে সাধারণ নাগরিকেদের নববর্ষ পালনের অনুষ্ঠানে কোথাও কাঁদানে গ্যাস ,কোথাও জল কামান ছুঁড়ছে তুরস্কের সামরিক বাহিনী । নিভিয়ে দেওয়া হচ্ছে ‘নিউ রোজ ‘ এর আগুণ । অশ্বারোহী বাহিনী সাধারণ জনতার দঙ্গল ছত্রভঙ্গ করছে । ভাবা যায় আজকে এই একবিংশ শতাব্দীতে পৃথিবীর অন্যতম গণতান্ত্রিক দেশের ২৫% নাগরিক তাঁদের চিরাচরিত 'নববর্ষ’ পালনের এক নির্বিষ অনুষ্ঠান পালন করবেন আর রাষ্ট্র সেই অনুষ্ঠান নিষিদ্ধ করবে , গুলি চালাবে এমনকি গন হত্যা ঘটাবে ? অথচ তুরস্কে ঠিক এমনটাই হয়ে আসছে কেমাল আতাতুর্কের সময় থেকে আর কুর্দরাও সেই সময়ে থেকে প্রতি বৎসর সমস্ত সরকারি নিষেধাজ্ঞা অগ্রাহ্য করে পথে নামছে , অগ্রাহ্য করছে সরকারি নিষেধাজ্ঞা ,তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিচ্ছে সরকারী চোখ রাঙ্গানি , রক্তাক্ত নববর্ষ পালিত হচ্ছে প্রতিটি বৎসর ।

    ঐতিহাসিক সময় থেকে কুর্দরা অটোম্যান সাম্রাজ্যের অন্তর্গত হলেও আমাদের আকবরের মত অটোম্যান শাসক রাও কুর্দদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় আচরণ ,সংস্কৃতির স্বাধীনতা নিয়ে বিশেষ মাথা ঘামান নি । তাই সাংস্কৃতিক আধিপত্য নিয়ে , ভাষার আধিপত্য নিয়ে সংঘাতের ঘটনা ছিল অতীব নগণ্য । ঠিক যেমন দীর্ঘ মুসলমান শাসন কালে ভারতে হিন্দু মুসলমান দাঙ্গার ঘটনা হাতে গোনা যায় । কিন্তু অটোম্যান সাম্রাজ্যের শেষের দিক থেকে ক্রমে ইউরোপের সংস্কৃতি , আধুনিকতার ধারনা ,খ্রিস্টীয় ধর্ম এবং ইউরোপের সাথে সংস্পর্শ তুরস্কের অভিজাত সমাজের মানসিক গঠন বদলাতে থাকে । গ্রীক অর্থোডক্স চার্চ অনুগামীগন এবং আর্মেনীয় খ্রিস্টান তুরস্কের ব্যবসা ,সম্পদ এবং রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করে । কুর্দদের প্রথা , সংস্কৃতি ,ভাষা কেমন যেন ব্যাঙ্গাত্মক দৃষ্টিতে দেখা শুরু হয় । তখন তুরস্কে তুর্কী জাত্যাভিমানের উদয়ের সময় । কুর্দ এবং অন্যান্য জনজাতির সাথে সংঘাতের বীজ বপনের সূত্রপাত ।

    অবস্থা চরমে ওঠে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অবশেষে ছিন্ন বিচ্ছিন্ন তুরস্কে কেমাল আতাতুর্কের নেতৃত্বে জাতীয়তাবাদী পার্টির উত্থানের সাথে সাথে । কেমাল আতাতুর্কের ধর্মের আধিপত্যহীন , আধুনিক , একতাবদ্ধ ,এক জাতী ,এক প্রাণ , এক ভাষা, এক গান এই তথাকথিত প্রগতিশীল সেক্যুলার রাষ্ট্র গঠনের দর্শন বিশ্বে বিশেষত পশ্চিমের দুনিয়ায় প্রভূত প্রশংসা কুড়ালেও স্থাপন করতে থাকে উগ্র তুর্কি জাতীয়তাবাদ । সমস্ত মাদ্রাসা তুলে দেওয়া হয় । ডিক্রী বলে তুর্কী ভাষা ছাড়া সমস্ত ভাষা নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয় । সমস্ত কুর্দ শহরের নাম তুর্কীয় নামে পরিবর্তিত হতে থাকে । প্রকাশ্য স্থানে কুর্দ ভাষায় কথা বলা পর্যন্ত নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয় । কুর্দ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এক লহমায় নিষিদ্ধ ঘোষিত হয় । আইন অমান্যে জেল এবং অত্যাচার নেমে আসে কুর্দ জনজাতির ওপর । জাতীয়তাবাদের নামে সংখ্যাগুরুর বুলডোজার চালানো হতে থাকে সংখ্যালঘু জনজাতির ওপর ।

    ঠিক এমনিটিই হয়ে থাকে আধুনিক সেকুলার 'নেসান স্টেটে’ । আমেরিকায় লিবার্টি সীমাবদ্ধ থাকে কেবল মাত্র শ্বেতাঙ্গদের জন্য । ব্রিটেনে আইরিশ’রা হয়ে পড়ে উৎপাত । ইউরোপে ইহুদী এবং জিপসিদের দেখা হতে থাকে কৃমি কীটের থেকেও অধম হিসাবে । তুরস্কে কুর্দদের এক লহমায় অস্তিত্বই মিটিয়ে দেওয়া হয় । জাতীয়তাবাদী সংখ্যাগুরুর সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিক হেজিমনি ।

    অসংগঠিত এবং সবল রাজনৈতিক পার্টির অনুপস্থিতিতে কুর্দরা নিজেদের মত প্রতিরোধ করতে থাকেন । রক্তাক্ত হতে থাকে প্রতিটি প্রতিরোধ । অবশেষে ১৯৩৮ -১৯৪০ সালের সময় থেকে কুর্দ প্রতিরোধ রাষ্ট্রের প্রবল শক্তির কাছে ক্রমশ হেরে যেতে থাকে । দীর্ঘ কাল প্রবাসে থাকার ফলে আমাদের পরিবারের পরবর্তী প্রজন্ম যেমন নিজেদের ভাষা ,সংস্কৃতি বিস্মৃত হতে থাকে, সম্পৃত হতে থাকে বৃহৎ আগ্রাসী সংস্কৃতির সাথে । গান , নাচ , পোশাক , ভঙ্গিমা যেমন আজকের দিনে বলিউড গ্রাস করে নেয় ঠিক তেমনই পরবর্তী কুর্দ প্রজন্ম ভুলে যেতে থাকে নিজেদের ভাষা , সংস্কৃতি , ঐতিহ্য এবং পরম্পরা । কিন্তু তুর্কী জনজাতি কুর্দদের ঠিক নিজের লোক বলে মানতে পারেনা -ঠিক যেমন আমরা নর্থ ইস্ট বাসিন্দাদের চিঙ্কি অথবা অন্যগ্রহের প্রাণী বলে মনে করি । আবার কুর্দরাও প্রাণপণ তুর্কী বনার প্রয়াসে ক্রমে নিজেদের সংস্কৃতি তুর্কীয় সংস্কৃতির সাথে মেলানোর প্রাণপণ প্রচেষ্টায় বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মত বিশাল তুর্কীয় জাতীয়তাবাদের সমুদ্রে ইতস্তত ভেসে থাকে ।

    ইতিমধ্যে আবদুল্লা অচালান ১৯৭০ এর দশকে কুর্দ স্বাধীনতার সংগ্রাম শুরু করেন ( এ বিষয়ে আমি অন্য পোস্টে বিস্তারিত লিখেছি বলে সেই ইতিহাসের পুনারবৃত্তি আর করছিনা ) অচালান কুর্দ আইডেন্টিটি ,শ্রেণী নির্বিশেষে একতা এবং সংখ্যাগুরুর আইডিওলজিকাল হেজিমনির পাল্টা কাউন্টার হেজিমনির আইডিওলজি গড়ে তুলতে কুর্দ ভাষা ব্যবহার এবং এই হারিয়ে যাওয়া পরম্পরা 'নিও রোজ' প্রকাশ্যে পালন করতে কুর্দ জনতাকে উৎসাহিত করতে থাকেন । ভাষা এবং সংস্কৃতি এমন একটা রাজনৈতিক অস্ত্র যা ধর্ম এবং শ্রেণী নির্বিশেষে এক ছিন্ন বিচ্ছিন ক্ষুদ্র জনজাতিকে একতাবদ্ধ করতে পারে । পিকেকে অগ্রগামী হিসাবে নিজেরা প্রকাশ্যে কুর্দ ভাষা ব্যবহার এবং নিও রোজ পালনের উৎসব পালন করতে শুরু করে । রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসে এতকাল লুকিয়ে লুকিয়ে নিজেদের নববর্ষ পালনের উৎসবে ধীরে ধীরে কুর্দ জনতা অংশগ্রহণ করতে শুরু করে । সাথে সাথে নেমে আসে রাষ্ট্রীয় দমনের ধারাবাহিকতা ।

    আবদুল্লা অচালান কুর্দ জনতার এই পরম্পরাকে 'কাউন্টার হেজিমনির ‘ আইডিওলজিতে পরিনত করতে থাকেন। 'নিউ রোজ' শ্রেণী এবং ধর্ম বিভেদ ভুলে আপামর কুর্দ জনতার রাষ্ট্র বিরোধী জমায়েতে পরিনত হতে থাকে সেই ১৯৮৪ সাল থেকে । ‘ নিও রোজ ‘ কুর্দ জনতার সাংস্কৃতিক এবং জাতীয় ঐক্যবদ্ধতার প্রতীক হিসাবে গড়ে উঠতে থাকে । নিউ রোজ এর পুন;উত্থান এবং এই উৎসব কে কেন্দ্র করে কুর্দ মবিলাইজেসান , তুরস্কের আগ্রাসী জাতীয়তাবাদ বিরোধী আন্দোলনের উল্লেখযোগ্য সফলতা ।এ এক বৃহৎ জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক আধিপত্যের বিরোধী ক্ষুদ্র জনজাতির পাল্টা সাংস্কৃতিক লড়াইয়ের দৃষ্টান্ত ।

    এক দিকে নিউ রোজের উৎসবকে কেন্দ্র করে ,তার সাথে জড়িত মিথ,অল্টারনেটিভ স্টোরি ,সাধারণ জ্ঞান ব্যবহারে কুর্দ সংস্কৃতি ,আইডেন্টিটির এক অভূতপূর্ব একতাবদ্ধতা অন্যদিকে তুরস্কের সরকারের এই একতাবদ্ধতার অনুষ্ঠানে বাধা প্রদানে বলপূর্বক রাষ্ট্রীয় উগ্র জাতীয়তাবাদ এবং সাংস্কৃতিক আধিপত্য বজায় রাখার প্রয়াস । এই 'নিউ রোজের’ সাথে মিথ ,ইতিহাস এবং প্রতিবাদের সূত্র জড়িয়ে আছে - এ কোন সাধারণ নববর্ষ পালনের অনুষ্ঠান নয় - অত্যাচারী রাজার হাত থেকে হাজারো বছর পূর্বে কুর্দ জনজাতির মুক্তির সফলতার এবং বসন্ত আগমনের ইতিহাস বা লোককথা ভিত্তিক মিথ ।

    সেই কোন প্রাগৈতিহাসিক কালে এক আসিরিয়ান অত্যাচারী রাজা ছিল 'যুহাক’ । কোন এক সময়ে যুহাক ইরান এবং বর্তমান কুর্দিস্তান দখল করে । অত্যাচারী শাসন চলতে থাকে ১০০০ বছর ধরে । তার অত্যাচারের ফলে কুর্দিস্তানে বসন্তের আগমনই হতোনা । তার শক্তি বজায় রাখার জন্য প্রত্যেক দিন দুই শক্ত সমর্থ যুবককে বলি দিয়ে তাঁদের ঘিলু এই রাজার কে খাদ্য হিসাবে দিতে হোত । কিন্তু যিনি এই কঠিন কাজের দায়িত্বে ছিলেন তিনি দু জন যুবকের বদলে কেবলমাত্র একজনকে হত্যা করে তার ঘিলুর সাথে ভেড়ার ঘিলু মিশিয়ে রাজা 'যুহাক’ কে দিতেন । বেঁচে যেত একজন যুবক প্রত্যহ । কেমন যেন আমাদের বক রাক্ষসের গল্পের সাথে মিল পাওয়া যাচ্ছেনা ? ধীরে ধীরে জনতার মধ্যে অত্যাচারী রাজা 'যুহাক’ বিরুদ্ধে ক্ষোভ পুঞ্জিভূত হতে শুরু করল । অবশেষে 'কাওয়া’ পেশায় কর্মকার , যার ৬ ছেলে ইতিমধ্যে রাজা 'যুহাক’ এর এই অত্যচারে বলিপ্রদত্ত হয়েছে -বলি থেকে বেঁচে ফিরে আসা কুর্দ যুবকদের নিয়ে এক অকুতভয় সৈন্যবাহিনী গড়ে তোলেন । কোন এক ঐতিহাসিক সময়ে ২০সে মার্চ রাত্তিরের অন্ধকারে সেই সৈন্যবাহিনী রাজা যুহাকের রাজপ্রাসাদ আক্রমণ করে , কাওয়া তার নিজের হাতে তৈরি এক বিশাল হাতুড়ীর ঘায়ে অত্যাচারী রাজা ’ যুহাক’ এর মস্তিষ্ক চূর্ণ করে । কাওয়া ২১সে মার্চ পাহাড়ে আগুণ লাগিয়ে দেন দেশবাসী কে খবর দিতে যে অত্যাচার সমাপ্ত । ঠিক তার পরের দিন থেকে 'বসন্ত' প্রায় হাজার বছরের রাজা 'যুহাক’ এর অত্যাচারী শাসনের অবশেষে ফিরে এলো কুর্দিস্তানে ।

    এই যে শক্তিশালী মিথ । হাতুড়ীর আঘাতে অত্যাচারীর মস্তিষ্ক চূর্ণ করে দেওয়ার প্রতীক । কুর্দ জাতীর স্বাতন্ত্রতা । প্রত্যেক দিন একজন সক্ষম যুবকের বলিদান স্বত্বেও অত্যাচারের বিরুদ্ধে হাজার বছর ধরে লড়াইয়ের ক্ষমতা । লোহা দিয়ে তৈরি জনজাতি । এই শক্তিশালী মিথ এবং তাকে ঘিরে উৎসবের পুন;উত্থান অদ্ভুত বুদ্ধিমত্তার সাথে অচালান প্রোথিত করে দিলেন কুর্দ জনতার হৃদয়ে । এই পরিপ্রেক্ষিতে 'নিও রোজ' তুর্কী জাতীয়তাবাদের চাপে বিচ্ছিন্ন কুর্দ জনতাকে একতাবদ্ধ করে দিল । পুনরায় কুর্দ জনজাতি রাষ্ট্রীয় দমন অগ্রাহ্য করে আতসবাজি পুড়িয়ে ,নেচে , গেয়ে , উপহার বিনিময় করে তাঁদের হাজারো বছরের এক প্রথা নববর্ষ পালনের অনুষ্ঠান পালন করতে শুরু করে । একই সাথে নেমে আসে রাষ্ট্রীয় অত্যাচার ।

    ১৯৯০ সালের 'নিউ রোজ' অনুষ্ঠানে নুসাইবিন শহরে জনতার ওপর পুলিশ গুলি চালালে ৩ জনের মৃত্যু দিয়ে শুরু হয় মৃত্যু মিছিল । ১৯৯১ সালের অনুষ্ঠানে যথারীতি নিষেধাজ্ঞা জারী হয়। ইস্তাম্বুল , আদানা , জিজরে , কুল্প ,হানি এবং দিয়ারবাকির শহরে নববর্ষ পালনের অনুষ্ঠানে তুরস্কের সরকার নির্বিচারে নিরস্ত্র জনতার ওপর গুলি চালালে ৩১ জন লোক প্রাণ হারান । ১৯৯২ সালে ২০শে মার্চ পুনরায় পুলিশের গুলি চালনায় ২ জন নিরস্ত্র ব্যক্তির মৃত্যু হলে মানুষ ক্ষেপে ওঠে ২১ সে মার্চ ৯৪ জন নিরস্ত্র জনতার মৃত্যু ঘটে তুরস্কের বিভিন্ন শহরে । ১৯৯৩ সালেও যথারীতি তুরস্ক সরকারের এই কুর্দ অনুষ্ঠান নিসিদ্ধকরনের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে । কিন্তু ততদিনে কুর্দ প্রভাবিত গ্রামাঞ্চলে পিকেকে যথেষ্ট শক্তিশালী প্রতিপক্ষ তাই এই দমন নেমে আসে শহরাঞ্চলে ।

    ১৯৯৩ সালের নিউ রোজ অনুষ্ঠান ভঙ্গ করার প্রাথমিক টার্গেট ছিল আদানা শহর । তুরস্কের পুলিশ অফিসাররা তার সাথে আক্রমণ নামিয়ে আনে বিভিন্ন শহরে । ১৯৯৩ সালে ২১সে মার্চ বসন্ত উৎসব গুঁড়িয়ে দিতে প্রথম ট্যাঙ্ক ব্যবহৃত হয় । বাড়ি ঘরে নির্বিচারে গোলা বর্ষণ চলতে থাকে । এই আক্রমণে এক ১৬ বছরের কিশোর এক ৬২ বছরের বৃদ্ধ সমেত ৬ জন প্রাণ হারান । তুরস্কের সরকার ২০০২ সাল পর্যন্ত এই আক্রমণের ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন ,কিন্তু অনমনীয় কুর্দ 'রাও এই নিউ রোজ অনুষ্ঠান চালিয়ে যেতে থাকেন । ১৯৯৯ সালে আবদুল্লা অছালান কারাবন্দী হওয়ার পর থেকে প্রত্যেক 'নিও রোজ' নববর্ষেরে সাথে সাথে অচালানের মুক্তির দাবীতে ম্যাসিভ কুর্দ জনতার সমাবেতে পরিবর্তিত হতে থাকে । ২০০০ সালে কমপক্ষে ১০ লাখের অধিক কুর্দ জনতা রাস্তায় নামে নিউ রোজ পালন করতে ।

    প্রত্যেক বছর ক্রমাগত বেড়ে চলা জনতার ঢল এবং বিপুল ঐক্যবদ্ধতার কাছে অবশেষে রাষ্ট্র পিছু হটে । প্রায় একশো বছরের অবশেষে কমপক্ষে ৩০০-৪০০ জনতার বলিদানে 'নিও রোজ' আজ এক সত্যিই দেখবার মত অনুষ্ঠান । পুনরায় এই বছর তুরস্কের সরকার 'নিউ রোজ’ অনুষ্ঠান নিসিদ্ধ করেছে কিন্তু সমুদ্রের উচ্ছ্বাস বালির বাঁধ দিয়ে ঠেকানোর মত উড়ে গেছে সরকারী নিষেধাজ্ঞা । নিউ রোজ ‘ কাওয়ার ‘ বিজয়ের উৎসব , অত্যাচারের অবসানে বসন্ত আগমনের উৎসব ।

    প্রতীক ,মিথ অনেক দেশেই অত্যাচারীর বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সংগঠিত করতে ব্যবহৃত হয়েছে । আমাদের আনন্দমঠ , ভারতমাতার কল্পনা ,পোঙ্গলে বলি রাজার ফিরে আসার মিথ ইত্যাদি কিন্তু এক শক্তিশালী মিথ ব্যবহার করে এক মৃতপ্রায় প্রথাকে জাতী ধর্ম শ্রেণী নির্বিশেষে বিচ্ছিন্ন ক্ষুদ্র জনজাতিকে উগ্র জাতীয়তাবাদের বিরুদ্ধে একতাবদ্ধ করার এত সফল দৃষ্টান্ত আধুনিক বিশ্বে অনুপস্থিত । অচালান সেই কারনেই কুর্দ জনতার হৃদয়ের নেতা । নিউ রোজ এক সত্যিই মনে রাখার মত বুদ্ধিদীপ্ত কাউন্টার হেজিমনি আইডিওলজি -রক্তাক্ত কিন্তু ঐক্যবদ্ধ অসাধারণ বসন্ত উৎসব ।

    সমস্ত কুর্দিস্তান জুড়ে , ইউরোপ জুড়ে এই বসন্তের উৎসব অশুভের পরাজয় এবং শুভর জয় ,পালিত হচ্ছে একই দিনে আমাদের হোলির সাথে সাথে — আপনাদের জন্য থাকলো এই উৎসবের কিছু চিত্র এবং ভিডিও । Here are the YPG & YPG fighters celebrating #Nowruz pic.twitter.com/iOXymhQ8HB
  • ব্লগ | ২২ মার্চ ২০১৬ | ২৩২৪০ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Debabrata Chakrabarty | 212.142.76.253 (*) | ০২ এপ্রিল ২০১৬ ০৩:০৮56864
  • ২০০৮ সাল পর্যন্ত নেসলন ম্যান্ডেলা আমেরিকার টেররিষ্ট লিস্টে ছিলেন , ANC এই বিখ্যাত " ব্রিটিশ ইন্টেলিজেন্স" মতে টেররিস্ট সংস্থা , ব্রিটিশ প্রধান মন্ত্রী থ্যাচার ANCকে টেররিস্ত সংস্থা বলেছেন । ইন্টেলিজেন্স রিপোর্ট এবং তার ওপর ব্রিটিশ সুতরাং কারেক্ট হতেই হবে ! তাই থ্যাচারে ভরসা রেখে গাড়ি নিউট্রালে রাখুন ।" বিপ্লব ক্রমে আসছে"

    এই সব ৯০ এর দশকের কাসুন্দি বিশ্ব ১৫ বছর পূর্বে ঘেঁটে ফেলেছে এবং আমরা বর্তমানের রোজাভা মডেল ২০০৫ এর পরবর্তী পিকেকে নিয়ে আলোচনা করছি এ কথা ইতিমধ্যে বোধ হয় তিরিশ বার এই পর্যন্ত বলে ফেললাম ।

    THE RISE AND FALL OF THE PKK এই হচ্ছে মাইকেল রাদুর থিসিস এর হেডিং - ১৯৯৯ সালে অচালান গ্রেপ্তার হওয়ার পরে ধরেই নিয়েছিলেন পিকেকে সমাপ্ত । এই রকম অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন। মাইকেল রাদু আজকে বেঁচে থাকলে এই থেসিস অন্য হেডিংএ লিখতেন ।

    পিকেকে পৃথিবীর এক মাত্র রাষ্ট্র বিরোধী রাজনৈতিক সংস্থা বিগত ৪৫ বছর ধরে শুধু টিকে আছে তাই নয় যে সমস্ত রাষ্ট্র পিকেকে কে এখনো সন্ত্রাসবাদী হিসাবে দাগিয়ে রেখেছে সেই তারাই নিজেদের রাষ্ট্রে সসন্মানে সেই রোজাভার নেতৃত্বের সঙ্গে হাসিমুখে ক্যামেরার সামনে দাঁড়াচ্ছেন ,নিজেদের দেশে প্রতিনিধি অফিস খুলতে দিচ্ছে এবং হয়ত কালকে প্রধান মন্ত্রী থ্যাচার যে রকম ANC টেররিষ্ট সংস্থার প্রধান নেলসন ম্যান্ডেলার সাথে হাস্যময় মুখে একসাথে দাঁড়িয়েছিলেন ঠিক তেমনই অচালান বা অন্যের সাথে দাঁড়াবেন । (রাজনীতি এইরকমই )

    ও হ্যা নিরপেক্ষ বলে কিছু হয়না ' each Temptation leaves us better or worse ; Nutrality is impossible "
  • lcm | 83.162.22.190 (*) | ০২ এপ্রিল ২০১৬ ০৪:১৭56865
  • যা তেরি!
    হচ্ছিল কথা পিকেকে নিয়ে, কোথা থেকে নেলসন ম্যান্ডেলা, ইরাক যুদ্ধ, চমস্কি, থ্যাচার -- সব হুড়মুড় করে ঢুকে পড়ল। অমল দত্ত এখনও আসে নি অবশ্য।

    পিকেকে
    ১) টেররিজ্‌ম্‌ এর অভিযোগে (সিভিলিয়ান খুন ) অভিযুক্ত
    ২) ক্রিমিনাল মাফিয়ার সঙ্গে যোগসাজস আছে বলে অভিযোগ
    ৩) ড্রাগ ট্রাফিকিং এর দায়ে অভিযুক্ত
    ৪) কুর্দ-দের ভয় দেখিয়ে পিকেকে-তে রিক্রুট করানোর অভিযোগ

    এখন এই সব অভিযোগ কি সত্যি? টার্কি বলছে ১০০% সত্যি, ইউরোপ/আমেরিকা বলছে সাবস্ট্যানশিয়াল এভিডেন্স আছে -- আর দেবব্রতবাবু বলছেন সব্বাই জেলুসিল খাওয়া (মানে বদহজম হয়েছে) গত শতাব্দীর লোক।

    এমন করলে কি করে হবে। সবার কথা তো শুনতে হবে। একটু ঠান্ডা মাথায় শুনতে হবে। "আংকারাতে পিকেকে বম্ব ব্লাস্ট করিয়েছে" - এই খবরটা চোখে পড়েছে সেই কথাটা শুধু বলেছি।
    খবরগুলো চেপে যাবো বলছেন।
  • pi | 24.139.209.3 (*) | ০২ এপ্রিল ২০১৬ ০৪:১৯56866
  • লসাগুদা, পড়লে দেখবেন চমস্কির কথাগুলোও টার্কি আর পিকেকে নিয়েই। তাই কোথা থেকে এল প্রশ্নটাই কোথা থেকে এল জানিনা।
  • lcm | 83.162.22.190 (*) | ০২ এপ্রিল ২০১৬ ০৪:২৮56867
  • আহা, চমস্কি তো মিডিয়া নন। তিনি একজন পন্ডিত বুদ্ধিজীবি এবং সুবক্তা। তার কথা মন দিয়ে অবশ্যই শোনা উচিত।

    কিন্তু, সিএনএন, গার্ডিয়ান, বিবিসি, হুরিয়েত (টার্কিশ মিডিয়া) -- এরা সব মিডিয়া - এদের কথাও শুনতে হবে বই কি।

    সবই শুনতে হবে।

    আমি তো কোথাও বলি নি যে টার্কি অত্যাচার করে না, বা রাষ্ট্রের কোনো দোষ নেই। কিন্তু পিকেকে-র বিরুদ্ধেও অনেক অভিযোগ আছে, সেগুলোও শুনতে হবে। সেগুলোর উল্লেখ করলেই জেলুসিল দাগিয়ে দিলে তো চলবে না।
  • Tim | 108.228.61.183 (*) | ০২ এপ্রিল ২০১৬ ০৪:৩৮56868
  • পাই, টার্কি ধোয়া তুলসিপাতা কেউ বলেছে এখানে?
  • Debabrata Chakrabarty | 212.142.91.163 (*) | ০২ এপ্রিল ২০১৬ ০৪:৫৩56887
  • dc উত্তেজিত হবেন না আপনি আলোচনার কেন্দ্রে এসে গেছেন , আপনার আপত্তি ঐ বিনা ওয়েজ, বিনা টাকার মডেলতা নিয়ে আমি একটু চেষ্টা করি ঃ-

    "Instead of the conservative motto: 'A fair day's wages for a fair day's work!' they ought to inscribe on their banner the revolutionary watchword: 'Abolition of the wages system!'" Wages, Price and Profit by Karl Marx.

    এখন এই বস্তু কি ,কেন , কিভাবে এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর মার্ক্স সাহেব তার বিভিন্ন লেখাপত্তরে বিস্তারিত দিয়ে গেছেন -এখন প্রকৃত অর্থে যেখানে এই তত্ব সর্ব প্রথম প্রয়োগ হওয়ার কথা ছিল সেই সোভিয়েত রাশিয়া ১৯২১ সালের মধ্যে মার্কসবাদ মাথায় তুলে রেখে” স্টেট ক্যাপিটালিস্ট “ পন্থা অবলম্বন করেন। স্পেন বিপ্লবের সময়ে এই পন্থা প্র্যাকটিস করা হয়েছে , রোজাভা তে ৮০% ক্ষেত্রে হচ্ছে । এ কোন নূতন তত্ব নয় ,মার্ক্সের তত্ব। সময় ,পরিবেশ এবং পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে তার সাথে অন্য আরও কিছু ইকনমিক তত্বের মিশেলে এক পরীক্ষা মূলক প্রয়োগ বর্তমানে রোজাভায় চলছে ।

    Abolition of the wages system! এর অর্থ পূর্ণমাত্রায় wages এরও Abolition নয় বা মানি’র ও Abolition নয় ( অনেকেই আছেন এন্তারপ্রেনিওর হতে চান না , কাজ করে অর্থ উপার্জন করতে চান) তবে মানি’র প্রয়োজন এবং সার্কুলেশন যথাসম্ভব কমিয়ে আনা । wages system! ক্যাপিটালিজম এর জন্মদাতা এবং শোষণের ভিত্তি , তাই পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থার পরিবর্তে বিকল্প অর্থনৈতিক ব্যবস্থা স্থাপন করতে হলে 'Abolition of the wages system!'" বাধ্যতামূলক । রাশিয়া করেনি আর রোজাভা সচেতন ভাবেই এই প্রচেষ্টা করছে ।

    ( এই বিষয়ে যারা আগ্রহী মার্ক্সের Wages, Price and Profit পুস্তক টি পরে দেখতে পারেন )

    dc ঠিকই বলেছেন রোজাভায় অতি অল্প হলেও প্রায় সব ধরনের ক্রাইম আছে , মানুষ তো । কিন্তু এক বিকল্প আইন ব্যবস্থা এবং জাস্টিস সিস্টেম বর্তমান । সেই জাস্টিস সিস্টেম আমাদের পরিচিত আইন ব্যবস্থার সম্পূর্ণ বিপরীত । পরে এই বিষয়ে লেখার ইচ্ছা আছে । সাথে সচেতন প্রয়াস আছে কমিউনিটি সেন্স এবং কমিউন সিস্টেম গড়ে তোলার । এই সিস্টেম একে ওপরের সাথে যুক্ত গণতন্ত্র , কমিউন , কো -অপারেটিভ , ইকনমিক মডেল , বিকল্প শিক্ষা, বিকল্প আইন , জেন্ডার ইকুয়ালিটি ,ইকোলজি সমস্ত কিছু মিলিয়ে পুঁজিবাদী আধুনিকতার যে ব্যক্তিকেন্দ্রিকতার ঝোঁক সেই প্রবণতার বিকল্প হিসাবে আত্মনির্ভর কমিউনিটি সেন্স গড়ে তোলার প্রয়াস ।

    রোজাভায় বর্তমানে আর্মি এবং পুলিশ মিলিয়ে প্রায় ৬৫০০০ শক্তি , প্রশাসনিক ব্যবস্থা , আইন , উকিল , শিক্ষক , ডাক্তার ইত্যাদি মিলিয়ে প্রায় হাজার ৫০এক আরও , এনারা কেউই wages system! এর আওতায় নয় । তার মানে পকেট ফুটো তা নয় । মানির সূত্র কোঅপারেটিভ ইনকাম কিন্তু মানি সার্কুলেশন অতি নগণ্য । একটি লেখায় এসব ধরা সম্ভব নয় । আমি চেষ্টা করব এই মডেল একে একে লিখতে ।

    dc বলছেন বিনা Wages মডেল বাস্তব না , আকাশ কুসম , পছন্দও না । dc আরও বলছেন " পার্পিচুয়াল মোশান মেশিন যেমন ফিজিকালি বানানো অসম্ভব, বিনা ওয়েজের ব্যাবস্থা তেমনি সামাজিকভাবে বানানো অসম্ভব " কিন্তু DC পৃথিবীর প্রায় অর্ধেক কাজ এতকাল এবং এখনো বিনা Wages এই হয়ে এসেছে ইহাদের কে ‘ হাউসওয়াইফ ‘ বলে । তারা কোন বেতন পাননা অথচ সারাজীবন শ্রমদান করেন । পৃথিবীর অর্থনীতিই বিনা Wages এ গড়ে উঠেছে দাস এবং ‘ হাউসওয়াইফ
  • pi | 233.231.37.28 (*) | ০২ এপ্রিল ২০১৬ ০৫:০৮56869
  • এতক্ষণ শুনছিলাম স্কলারদের কথাও শুনতে হবে। চমস্কি স্কলার নন, হতেই পারে, তাই ওঁর কথা এখানে দেওয়া ঠিক হয়নি।

    ঠিক আছে। আপনার গার্ডিয়ান ই সই। এখন পিকেকে কী করছে, সিজফায়ার কাদের বম্বিং এ উঠে গেল, টার্কি কতজন সিভিলিয়ানকে মেরেছে, আর কীরকম অপ্রেশন চালাচ্ছে, এমনকি পশ্চিমী দুনিয়ার প্রিয় বাক-স্বাধীনতা নিয়েও, পড়ে দেখুন।

    A Turkish professor is to be put on trial for “terrorist propaganda” over an exam question on a jailed Kurdish rebel chief, the Hurriyet newspaper reported, amid growing concerns for freedom of expression in Turkey.

    At the end of a course on Turkish politics and institutions, Ankara University professor Resat Baris Unlu set his students a question comparing two documents written by the founder of the outlawed Kurdistan Workers’ Party (PKK), who is currently serving life in jail.

    The paper asked students to “compare Abdullah Ocalan’s 1978 manifesto entitled ‘The Path of the Kurdistan Revolution’ and an article he wrote in 2012 called ‘Democratic Modernity as the Construction of Local System in the Middle East’”.

    Ankara prosecutors seized on the question, deciding his intent had been “to legitimise (Ocalan’s) opinions and impress upon (his students) the idea that he was a political leader.”

    Despite efforts to intervene by the dean of the faculty in the name of “academic freedom”, the prosecutor ordered the professor to appear in court, recommending he be sentenced to seven years’ imprisonment.

    The hearing has been set for Wednesday, the paper said.

    Turkish prosecutors opened a criminal probe last month into a popular television talk show on suspicion it had broadcast “terrorist propaganda” when a caller phoned in to raise alarm over the human cost of a military crackdown on Kurdish rebels in the strife-hit southeast.

    Also last month, US Vice President Joe Biden criticised Turkey for failing to set the right “example” on freedom of expression, after the detention of three senior journalists and a major probe into more than 1,200 academics who signed a petition criticising the military offensive.

    The military is currently waging a major campaign against PKK rebels with the stated aim of flushing out militants, but activists say the operation has cost dozens of civilian lives.

    Violence flared last summer between Kurdish rebels and government forces after a deadly bombing in a Kurdish majority town, shattering a 2013 ceasefire reached after secret talks between Ocalan and Ankara.

    Over 40,000 people have been killed since the PKK took up arms in 1984 demanding an independent state for Kurds. Since then the group has narrowed its demands to greater autonomy and cultural rights.

    আর আপনি যে লিংটা দিয়েছিলেন, তাতে দেখলাম ঐ অভিযোগ টার্কি করেছে বলে দ্য গার্ডিয়ানে জানিয়েছে। আবার পরের প্যারাতেই জানিয়েছে পিকেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
    তাই এককথায় পিকেকে টেররিস্ট, এটাই বা মেনে নি কীকরে ? এও তো আরেক এক্স্ট্রিমিস্ট ভিউ মনে হচ্ছে।
  • pi | 233.231.37.28 (*) | ০২ এপ্রিল ২০১৬ ০৫:১০56870
  • যে ধোয়া তুলসীপাতা নয়, বারবার তার কথাই বা কেন ধরতে হবে, তাও তো বুঝছি না। এককথায় পিকেকে কেন টেররিস্ট হয়ে যায়, তাও না।
    টার্কির সমালোচনাও তো বিশেষ দেখিনি ( তোমাকে আলাদা ক'রে তো বলিওনি)।
  • pi | 233.231.37.28 (*) | ০২ এপ্রিল ২০১৬ ০৫:১৪56871
  • স্কলারদের কথা উঠেছে বলেই আকডেমিকসদের কথা আসছে। এঁরা টার্কিশ একাডেমিক্স।

    Turkey has been accused of violating academic freedom by rounding up university teachers who signed a petition denouncing military operations against Kurds in the south-east of the country.

    Police detained 27 academics over alleged “terror propaganda” after they signed a petition together with more than 1,400 others calling for an end to Turkey’s “deliberate massacre and deportation of Kurdish people”. The US ambassador to Turkey condemned the crackdown as “chilling”. Local media reported that all the group were later released.

    President Recep Tayyip Erdoğan, has severely criticised the signatories, including political scientist Noam Chomsky and the Slovenian philosopher Slavoj Žižek, and called on the judiciary to act against their alleged treachery.

    Prosecutors launched an investigation into the academics over possible charges of insulting the state and engaging in terrorist propaganda.

    Noam Chomsky.
    Noam Chomsky. Photograph: Graeme Robertson for the Guardian
    Staff from 90 Turkish universities calling themselves “Academicians for Peace” signed the petition last week calling for an end to the military campaign against the Kurds and accusing the government of breaching international law.

    Entitled “We won’t be a party to this crime”, the petition urged Ankara to “abandon its deliberate massacre and deportation of Kurdish and other peoples in the region”.

    All 1,128 Turkish signatories of the petition are under investigation, according to the Doğan news agency. If convicted, they could face between one and five years in prison.

    Some of the academics who signed the petition have been the subject of a backlash by nationalist students, according to signatories who asked not to be named. One accused Erdoğan of a launching a witch hunt against the group and denied sympathising with terrorists.

    She said: “My door at the university has been marked. Students wrote that they didn’t want terrorists as professors. They have also started a petition calling for me to be fired. At other universities signatories have [also] had their doors marked in red.

    She said she and fellow signatories had been subjected to threats and intimidation, citing a speech by the convicted criminal and extreme nationalist Sedat Peker, who said he wants to “shower in the blood” of the signatories.

    “Students and extreme rightwing groups have been circulating our pictures on social media or pamphlets, accusing us of being PKK terrorist teachers. They have said we won’t let you breathe in this city or this university. So the threats are very direct.” Another said “individuals are becoming the targets”.

    A third said: “It is really dangerous, some people have gone into hiding. I’ve been threatened.”

    এটাও দ্য গার্ডিয়ান থেকে।
  • pi | 233.231.37.28 (*) | ০২ এপ্রিল ২০১৬ ০৫:২০56872
  • এবং এইটি ছিল পিটিশনের বয়ান। পিকেকে কেন টেররিস্ট বলে হাজারটা লিংকের মাঝে আর সেগুলোই পশ্চিমী মিডিয়ার বক্তব্য, টার্কির বক্তব্য পড়ে যাচ্চি। পশ্চিমী মিডিয়ার বা টার্কিরই স্কলার লোকজনের এই বক্তব্যগুলো দেখতে পাইনি। পিকেকে কে টেররিস্ট বললে ( তারা ঐ ঘটনার দায় নিতেও অস্বীকার করেছে, সেই প্রসঙ্গে না গিয়েও বলছি), এগুলো তো রাষ্ট্রের সুপার টেররিস্ট আক্টিভিটি।

    "The Turkish state has effectively condemned its citizens in Sur, Silvan, Nusaybin, Cizre, Silopi, and many other towns and neighborhoods in the Kurdish provinces to hunger through its use of curfews that have been ongoing for weeks. It has attacked these settlements with heavy weapons and equipment that would only be mobilized in wartime. As a result, the right to life, liberty, and security, and in particular the prohibition of torture and ill-treatment protected by the constitution and international conventions have been violated.

    This deliberate and planned massacre is in serious violation of Turkey’s own laws and international treaties to which Turkey is a party. These actions are in serious violation of international law.

    We demand the state to abandon its deliberate massacre and deportation of Kurdish and other peoples in the region. We also demand the state to lift the curfew, punish those who are responsible for human rights violations, and compensate those citizens who have experienced material and psychological damage. For this purpose we demand that independent national and international observers to be given access to the region and that they be allowed to monitor and report on the incidents.

    We demand the government to prepare the conditions for negotiations and create a road map that would lead to a lasting peace which includes the demands of the Kurdish political movement. We demand inclusion of independent observers from broad sections of society in these negotiations. We also declare our willingness to volunteer as observers. We oppose suppression of any kind of the opposition.

    We, as academics and researchers working on and/or in Turkey, declare that we will not be a party to this massacre by remaining silent and demand an immediate end to the violence perpetrated by the state. We will continue advocacy with political parties, the parliament, and international public opinion until our demands are met".
  • aranya | 83.197.98.233 (*) | ০২ এপ্রিল ২০১৬ ০৫:২৩56888
  • মার্ক্স বহুদিন আগে কিছু একটা লিখে গেছেন - সেটা কোন অমোঘ সত্য নয় কিন্তু। সেই সিপিএম-এর 'মার্ক্সবাদ সত্য, কারণ উহা বিজ্ঞান' মনে পড়ছে :-)
    বিভিন্ন সিস্টেম নিয়ে পরীক্ষা চলুক। রোজাভা নিয়ে অনেক জানছি (আগে প্রায় অজ্ঞ ছিলাম), সেটা ভাল। দেবব্রত-কে ধন্যবাদ
  • দ্রি | 11.39.86.26 (*) | ০২ এপ্রিল ২০১৬ ০৫:২৬56889
  • "কিন্তু এক কথায় ওরা আদতে টেররিস্ট, খুনি, স্মাগলার, মাফিয়া , তাই এক কথায় নস্যাৎযোগ্য ও ঐ মডেল আলোচনাযোগ্য নয়, এটাও মনে করি না।"

    না, কথাটা ঠিক তা নয়। রাদার, ঐ মডেল আলোচনায় ওরা স্মাগলার, আর হিউম্যান ট্রাফিকার কিনা সেটা সামনে আসা জরুরী। তাহলে ঐ সিস্টেমের ইকনমিক সাইডটার একটা চিত্র পাওয়া যায়। আমি যদি ঐ মডেল চালু করতে চাই, কিন্তু আমার যদি কোন ড্রাগ ট্রাফিকিং এর সলিড ইনকাম না থাকে, আমি জানতে চাইব এই সিস্টেম আমি চালাতে পারব কিনা। কারণ আমার কোন ট্যাক্স ইনকাম নেই।

    "আচ্ছা, দ্রি কি তাইলে এবার তুর্কী বিষয়ে রাশিয়ার উল্টো অবস্থানে ?"

    কেন রাশিয়াও কি ড্রাগ ট্রাফিকিং করছে নাকি?

    (বায় দা ওয়ে, টার্কির ইন্টেলিজেন্স এজেন্সিও কিন্তু ড্রাগ ট্রাফিকিং যুক্ত। না হয়ে উপায়টাই বা কী? টার্কি হল গেটওয়ে টু ইওরোপ। গোল্ডেন ক্রেসেন্টের ড্রাগ তো টার্কি দিয়েই ইওরোপে ঢোকে। টার্কির ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির চোখ এড়িয়ে সেটা হতে পারে না। আর এসব ক্ষেত্রে লোকে বাধা দেয় না, শুধু একটু কাট মানি রাখে।)
  • pi | 233.231.37.28 (*) | ০২ এপ্রিল ২০১৬ ০৫:২৮56873
  • এবং এও বলে দি, যে এটা হতেই পারে রোজাভার ছবি আদতে অতটা রোজি না বা ভবিষ্যতে আরো অন্যান্য বাস্তবতা এলে অতটা থাকবে না, কিন্তু এক কথায় ওরা আদতে টেররিস্ট, খুনি, স্মাগলার, মাফিয়া , তাই এক কথায় নস্যাৎযোগ্য ও ঐ মডেল আলোচনাযোগ্য নয়, এটাও মনে করি না।
  • Tim | 108.228.61.183 (*) | ০২ এপ্রিল ২০১৬ ০৫:৪০56874
  • পাই,
    এখানে আমি প্রথম থেকেই বলে আসছি যে স্টেট স্পনসর্ড টেররিজমের বিরোধীতা করার অর্থ পিকেকে কে ব্ল্যাঙ্কেট সমর্থন দিতে হবে এটা অন্যায় দাবি।

    রোজাভা মডেল আলোচনার যোগ্য অবশ্যই, আমি নিজেই লিখেছি যে পড়তে চাইছি। কিন্তু আলোচনার প্রেমিস যে ওপেননেস নিয়ে তৈরী হয় তা এই ব্লগে বারবার ব্যহত হচ্ছে। যে মুহূর্তে ঘুণাক্ষরেও ড্রাগ ট্রাফিকিং এইরকম কোন নেগেটিভ ইম্প্যাক্টের খবরের লিংক আসছে সেই মুহূর্তে বলা হচ্ছে এগুলো মিথ্যা অপপ্রচার। একপক্ষ ঠিক, এইটা ধরে নেওয়া আলোচনা নয়, ভার্ডিক্ট।
  • দ্রি | 11.39.86.26 (*) | ০২ এপ্রিল ২০১৬ ০৫:৪৭56890
  • "Instead of the conservative motto: 'A fair day's wages for a fair day's work!' they ought to inscribe on their banner the revolutionary watchword: 'Abolition of the wages system!'" Wages, Price and Profit by Karl Marx.

    ( এই বিষয়ে যারা আগ্রহী মার্ক্সের Wages, Price and Profit পুস্তক টি পরে দেখতে পারেন )"

    যদি আপনি পড়ে থাকেন তাহলে দুচার লাইন লিখতে পারেন। জানতে চাইব মার্ক্সের এই অ্যাসার্শানের বেসিসটা উনি কি দিয়েছেন।

    "পৃথিবীর প্রায় অর্ধেক কাজ এতকাল এবং এখনো বিনা Wages এই হয়ে এসেছে ইহাদের কে ‘ হাউসওয়াইফ ‘ বলে । তারা কোন বেতন পাননা অথচ সারাজীবন শ্রমদান করেন । পৃথিবীর অর্থনীতিই বিনা Wages এ গড়ে উঠেছে দাস এবং ‘ হাউসওয়াইফ"

    এক্‌জ্যাক্টলি এইটাই আমার পয়েন্ট। মজুরী হটিয়ে দেওয়া পৃথিবীসুদ্ধ সবাইকে দাস করে রাখার একটা ব্লুপ্রিন্ট নয় তো?
  • Debabrata Chakrabarty | 212.142.91.163 (*) | ০২ এপ্রিল ২০১৬ ০৫:৫৪56891
  • দ্রি ঃ- আমি ঠিক এই প্রশ্নটিই আসা করছিলাম " মজুরী হটিয়ে দেওয়া পৃথিবীসুদ্ধ সবাইকে দাস করে রাখার একটা ব্লুপ্রিন্ট নয় তো?"
  • anirban | 172.238.29.100 (*) | ০২ এপ্রিল ২০১৬ ০৬:০৯56875
  • এইটা খানিকটা পাই আগে বলেছে। এই ভিডিওতে চমস্কির রিসেন্ট বক্তব্য পাবেন। এছাড়াও জ্যাকোবিন পত্রিকার একটা লেখা এবং সেখানে চমস্কির একটা ইন্টারভিউয়ের লিন্ক ও পাবেন।


    <https://www.jacobinmag.com/2015/09/turkey-pkk-kurds-erdogan-obama-chomsky-hdp/
  • Debabrata Chakrabarty | 212.142.91.163 (*) | ০২ এপ্রিল ২০১৬ ০৬:১৮56892
  • অরণ্য ঃ- ' মার্ক্স বহুদিন আগে কিছু একটা লিখে গেছেন - সেটা কোন অমোঘ সত্য নয়; নিশ্চয়ই নয় এই কমেন্ট টা বা মার্ক্সের উধৃতি DCএর উদ্দ্যশে যে এই রকম একটা কনসেপ্ট মার্ক্স তার বিখ্যাত অর্থনৈতিক তত্বে ভেবেছিলেন সুতরাং নূতন কিছু কনসেপ্ট নয় । আর ডিসি বলেন " পার্পিচুয়াল মোশান মেশিন যেমন ফিজিকালি বানানো অসম্ভব, বিনা ওয়েজের ব্যাবস্থা তেমনি সামাজিকভাবে বানানো অসম্ভব " তার উত্তরে দাস ব্যবস্থা এবং ‘ হাউসওয়াইফ এর উদাহরণ । সেই ৬০০০ বছর ধরে পৃথিবীর অর্থনীতিই বিনা ওয়েজে গড়ে উঠল এমনকি, বিনা ওয়েজের সম্পদে সুমেরিয়ান পুরোহিত তন্ত্র , রোম এমনকি ইউরোপ আমেরিকা'র সম্পদ -তা পার্পিচুয়াল মোশান মেশিন কি করে হয় ?
  • dc | 181.49.195.10 (*) | ০২ এপ্রিল ২০১৬ ০৭:৩৩56877
  • আমার অ্যাকচুয়ালি ড্রাগ ট্রাফিকিং বা মাফিয়া সংযোগ নিয়ে কোন আপত্তি নেই (বা বক্তব্য নেই)। একদল মিলিশিয়া রোজাভায় ক্ষমতা দখল কেরেছে, এটা স্বাভাবিক যে তাদের সাথে ট্রাফিকারদের লিংক থাকবেই। দেবব্রতদা যে উন্নততর মানুষের কথা বলছেন সেটা মানতে হলে মেনে নিতে হয় যে রোজাভার লোকেরা মঙ্গলগ্রহ থেকে এসেছে। সাধারন মানুষের মধ্যে লোভ, পেটি করাপশন, ক্ষমতা জাহির করা এসব থাকবেই, ধরেই নিচ্ছি রোজাভাতেও এসব আছে। ওখানেও নিশ্চয়ই চুরি চামারি হয়, দুকিলো চালের বদলে পৌনে দুকিল চাল দেওয়া হয়। অগুলো অস্বীকার করতে গেলে এতো বেশী জেলুসিল লাগবে যে তখন প্রশ্ন উঠবে রোজাভায় জেলুসিলের কারখানা আছে কিনা।

    আমার আপত্তি ঐ বিনা ওয়েজ, বিনা টাকার মডেলতা নিয়ে। এসব মডেল পার্পিচুয়াল মোশান মেশিনের সামাজিক ভার্সান। পার্পিচুয়াল মোশান মেশিন যেমন ফিজিকালি বানানো অসম্ভব, বিনা ওয়েজের ব্যাবস্থা তেমনি সামাজিকভাবে বানানো অসম্ভব কারন ওটা হিউম্যান নেচারের বিরুদ্ধে। টেম্পোরারিলি কোথাও বানানোর চেষ্টা হলেও পাঁচ-দশ বছরের মধ্যে সেই সিস্টেমে ডিফর্মেশন আসবেই।
  • কল্লোল | 71.0.110.27 (*) | ০২ এপ্রিল ২০১৬ ০৭:৩৭56878
  • "হিউম্যান নেচার" বস্তুটি কি? উহা কি স্থান-কাল-পাত্র নির্বিশেষে একই?
  • dc | 181.49.195.10 (*) | ০২ এপ্রিল ২০১৬ ০৭:৫৫56879
  • "হিউম্যান নেচার" বস্তুটি হইল অনেকগুলি মানুষ একত্রে বাস করিলে যেসব কর্মকান্ড দেখা যায় তাহার সমষ্টি। ইহা দেখা গিয়াছে যে অনেক ইতর প্রকার লোক টাকা বিনে কাজ করতে চাহেনা। উহারা বিশেষ পরোপকারীও হয়না। উহাদের নেচার স্থান-কাল-পাত্র নির্বিশেষে একই কিনা বলিতে পারিনা, তবে সভ্যতার আদি হইতেই উহারা সমস্ত সমাজে সমস্ত দেশে সমস্ত কালে বিদ্যমান। আগামি দিনেও উহারা উবিয়া গিয়া উন্নততর মানুষে দেশ ছেয়ে চাইবে বলিয়া মনে হয়না।
  • lcm | 83.162.22.190 (*) | ০২ এপ্রিল ২০১৬ ০৮:১৪56880
  • সে তোমরা যাই বলো, আমি সব শুনতে চাই।
    রোজাভার মডেলের প্রশংসা শুনতে চাই, অভিযোগও শুনতে চাই। যারা রোজাভা সমর্থন করেন, বা, যারা বিরোধিতা করেন সব তরফে শুনতে চাই।
    বার্নি শুনতে চাই, ট্রাম্পও শুনতে চাই, বুদ্ধদেব শুনতে চাই, মমতাও শুনতে চাই।
    হোয়াই নট?
  • কল্লোল | 111.59.228.76 (*) | ০২ এপ্রিল ২০১৬ ০৮:২৮56881
  • "সভ্যতার আদি হইতেই উহারা সমস্ত সমাজে সমস্ত দেশে সমস্ত কালে বিদ্যমান"

    ইহারা উপরোক্ত সময় হইতেই বিদ্যমান!! কিভাবে জানা গেলো?
    "অনেক ইতর প্রকার লোক টাকা বিনে কাজ করতে চাহেনা। উহারা বিশেষ পরোপকারীও হয়না।"

    শুনিতে পাই গান্ধিজির অসহযোগ আন্দোলনে বহু মানুষ (সংখ্যা হয়তো হাজার হাজার) যোগ দেন, কারাবরণ করেন, পুলিশের লাঠি খান। ইহারা তার বদলে টাকা পাইতেন তা এক যুগান্তকারী আবিষ্কার।

    শুনিয়াছি বন্যা খরায় প্রচুর মানুষ নানা ভাবে পীড়িত মানুষদের সাহায্য করিয়া থাকেন। ইহারাও টাকার বিনিময়ে সে কাজ করেন - এটা আরএকটি যুগান্তকারী আবিষ্কার।

    এই যে উড়ালপুলটি ভাঙ্গিয়া পড়িয়াছে, তাহতে ঐ এলাকার বহু মানুষ সাহায্যের হাত বাড়াইয়া দিয়াছেন। উহারা টাকার বিনিময়ে ঐ কাজ করিলেন। ইহা নবতম আবিষ্কার।
    এই আর কি।
  • lcm | 83.162.22.190 (*) | ০২ এপ্রিল ২০১৬ ০৮:৩৩56882
  • ক্রাইসিসের সময় তো হয় - এই যেমন, ব্রিটিশের বিরুদ্ধে আন্দোলন, বন্যা/খরা, উড়ালপুল ভেঙ্গে পড়লে - কিন্তু যখন এসব নেই, সুসময় চলে যখন , তখনই আসল পরীক্ষা।
  • dc | 181.49.195.10 (*) | ০২ এপ্রিল ২০১৬ ০৮:৪২56883
  • গান্ধিজির অসহযোগ আন্দোলনে যে বহু হাজার মানুষ যোগ দিয়েছিলেন তাহারাই যে সেই উন্নততর মানুষ ছিলেন ইহা সত্যই এক্ষুনি আবিষ্কার করিলাম। এই হাজার হাজার মানুষেরা আন্দোলনের আগে আর পরে দৈনন্দিন জীবনে যে বিনা ওয়েজে কাজ করিতেন তাহাও এক্ষুনি আবিষ্কার করিলাম। আন্দোলনের পরে কি উহারা মঙ্গলগ্রহে ফিরিয়া গিয়াছেন? কারন পরবর্তি ইতিহাসে দৈনন্দিন জীবনে বিনা ওয়েজে কাজ করিতেছে, এরকম উল্লেখ পাইনা।

    যাহারা বন্যা খরায় প্রচুর মানুষ নানা ভাবে পীড়িত মানুষদের সাহায্য করিয়া থাকেন তাহারা দৈনন্দিন জীবনে বিনা ওয়েজে কাজ করেন, ইহা সত্যই এক্ষুনি আবিষ্কার করিলাম। এই সাহায্যকার্য্য সম্পন্ন হইবার পরে কি উহারা মঙ্গলগ্রহে ফিরিয়া যান? কারন সমসাময়িক দৈনন্দিন জীবনে বিনা ওয়েজে হাজার হাজার কাজ করিতেছে, এরকম উল্লেখ পাইনা।

    উড়ালপুলটি ভাঙ্গিবার পর ঐ এলাকার বহু মানুষ যাহার সাহায্যের হাত বাড়াইয়া দিয়াছেন, তাহারা দৈনন্দিন জীবনে বিনা ওয়েজে কাজ করেন ইহা সত্যই এক্ষুনি আবিষ্কার করিলাম। এই সাহায্যকার্য্য সম্পন্ন হইবার পরে কি উহারা মঙ্গলগ্রহে ফিরিয়া যাইবেন? কারন কলকাতার ঐ এলাকার মানুষ দৈনন্দিন জীবনে বিনা ওয়েজে কাজ করিতেছে এরকম উল্লেখ খবরে আসিবে বলিয়া মনে হয়না।
  • কল্লোল | 127.207.92.38 (*) | ০২ এপ্রিল ২০১৬ ০৯:০০56884
  • ওহো। আমি বোধহয় "দৈনন্দিন" শব্দটি দেখিতে পাই নাই। তবে আপুনি লিখিয়াছিলেন - অনেক ইতর প্রকার লোক টাকা বিনে কাজ করতে চাহেনা। উহারা বিশেষ পরোপকারীও হয়না।

    এখন বুঝিলাম ঐ সব মানুষেরা দৈনন্দিন কাজে ইতর হন, অন্য কাজে মহান ও পরোপকারী।

    চমৎকার আবিষ্কার।
  • dc | 181.49.195.10 (*) | ০২ এপ্রিল ২০১৬ ০৯:৩২56885
  • অনেক পরোপকারী মানুষও থাকে আবার অনেক ইতর প্রকারের মানুষও থাকে, আর এই দুই প্রকার মনুষ্য যে একই সমাজে একই সাথে থাকে, ইহা যে আপুনি এক্ষনে আবিষ্কার করিলেন ইহা সত্যই চমৎকৃত হইবার মতো তথ্য।

    আর যাহারা ব্রিজ ভাঙ্গিলে সাহায্যার্থে ছুটিয়া যান বা বন্যাত্রানে ছুটিয়া যান বা সাহায্যার্থে কিছু দান করেন, বা যাহারা অসহযোগ আন্দোলনে অংশগ্রহন করিয়াছিলেন তাহারা যে সর্বদা সর্ব সময়ে কেবল পরের উপকারই করিয়া বেড়ান, তাহাদের মধ্যে কেউ কেউ কখনো কখনো যে একটুকুও লোভ করেন না বা নিজের জন্য কিছুমাত্র উপার্জন করিতে চাহেন না, ইহা যে আপুনি এক্ষনে আবিষ্কার করিলেন ইহা সত্যই চমৎকৃত হইবার মতো তথ্য।
  • dc | 181.49.195.10 (*) | ০২ এপ্রিল ২০১৬ ০৯:৩৫56886
  • আর রোজাভা মডেল (বিনা ওয়েজ মডেল) যে দৈনন্দিন জীবনে চালাইবার কথা বলা হইতেছে, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নহে বা দুর্ঘটনার সময়ে নহে বা এক দুইদিনের জন্য নহে, ইহাও যে আপুনি এক্ষনে আবিষ্কার করিলেন ইহা অতি অবশ্যই চমৎকৃত হইবার মতো তথ্য।
  • dc | 15.2.64.121 (*) | ০৩ এপ্রিল ২০১৬ ০২:০৪56893
  • আপনি যে উদাহরনগুলো দিলেন, সুমেরিয়া, রোম আর ইউরোপ-আমেরিকার সম্পদ, সেগুলো তো আপনার মডেলকেই কন্ট্রাডিক্ট করছে। এই সব সভ্যতায় "বিনা ওয়েজ", অর্থাত দাস ব্যাবস্থার মাধ্যমে সম্পদ তৈরি হয়েছিল। তার মানে মানুষ নিজের ইচ্ছেয় এগুলো করেনি, জোর করে বিনা ওয়েজে খাটিয়ে নিয়েছে। ওদের যদি স্বাধীনতা থাকত তো কাজের বিনিময়ে ওয়েজ দাবী করতো। আশা করি রোজাভাতেও এই দাবী করার স্বাধীনতা আছে (আছে কি? এখনো অবধি যা পড়েছি সবই সেই সোবিয়েত দেশ এর মতো গোলগাল প্রোপাগান্ডা মনে হয়েছে)

    হাউসওয়াইফ সংক্রান্ত আরেকটা টই আছে, সেখানে এই নিয়ে যথেষ্ট বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে, তাই এখানে আর লিখলাম না।

    মার্ক্স কি বলে গেছেন সেটা নিয়ে ধরে বসে থাকায় আমার কোন আগ্রহ নেই। মার্ক্স একশো বছর আগে কিছু একটা বলেছেন, ওনার থিওরি পৃথিবীর কোন দেশে বাস্তবায়িত করা যায়নি, আর এখনকার গ্লোবাল ইকনমিক এনভায়রনমেন্ট ওনার সময়ের থেকে অনেকটাই আলাদা। কাজেই মার্ক্স ওয়েজ সিস্টেম অ্যাবোলিশ করার ডাক দিয়েছিলেন এটা বড়জোর বিংশ শতাব্দীর ইতিহাসে একটা ফুটনোট হতে পারে, তার বেশী কিছু নয়।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। বুদ্ধি করে মতামত দিন