• হরিদাস পাল  আলোচনা  বিবিধ

    Share
  • কলেরার দিনগুলিতে সন্দীপন

    Anamitra Roy লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | বিবিধ | ২৬ অক্টোবর ২০১৯ | ৩১৯ বার পঠিত | জমিয়ে রাখুন পুনঃসম্প্রচার


  • সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়ের অস্তিত্বকে ড্রয়িংরুমসাহিত্য-প্রিয় বাঙালি তাঁর জীবৎকালে বিশেষ মেনে নিতে পারেনি। সন্দীপনের ভাষা এবং বিষয়বস্তু দুটোই এর জন্য সমানভাবে দায়ী। সুনীলসাহিত্যের পাঠক সন্দীপন পড়তে গিয়ে যতিচিহ্ন থেকে যতিচিহ্নে হোঁচট খেত, রসভঙ্গ হয়ে যেত তাদের। কাউকে কাউকে বলতেও শুনেছি, "সন্দীপন আমি কেনই বা পড়ব! সহজ করে লিখতে পারাটাও সাহিত্যিকের একটা গুণ এবং সুনীল সেইদিক থেকে অনেক মহান লেখক!" সন্দীপনের মৃত্যুর পর এদিকে, তাঁর সেই ভাষা নিয়েই একচোট হইচই হয়েছিল বটে! আহাহা, সোনালী ডানার ঈগল, আহা, ডাবলবেডে একা; কিন্তু বিষয়বস্তুর বিষয়টিকে সচেতনভাবে এড়িয়ে যাওয়া হয়। সন্দীপনের ভাষা আমার কোনোদিনই কঠিন লাগেনি, তবে বিষয় হজম করতে গেলে মনে হয় অনেককেই নিজেদের অনেক মহান চারিত্রিক গুণের কথা স্বীকার করে নিতে হতো! তারচেয়ে এই ভালো, ওসব সন্দীপন করে, আমরা করি না। সন্দীপন একাই চরিত্রহীন, আমরা নিরীহ সাহিত্যপয়দাকর্মের সঙ্গে যুক্ত 'বা-লে'।

    যাই হোক, আজ যে সন্দীপনের জন্মদিন সেটা নিতান্তই কাকতালীয়। এই লেখাটা এমনিতেও লিখতেই হতো খুব শিগগীরই। কারণ বেঁচে থাকার সময় মধ্যবিত্ত রক্ষণশীল পাঠকের ছিছিক্কারের লক্ষ্যবস্তু সন্দীপন চট্টোপাধ্যায় এবার একাধারে নারীবাদ এবং অপরদিকে চাড্ডি আক্রমণের শিকার। মজার ব্যাপার এই যে, নারীবাদী এবং চাড্ডি উভয়পক্ষেরই মূল বক্তব্য একই; সন্দীপন সেক্সিস্ট, মিসোজিনিস্ট এবং চরিত্রহীন। এই গোটা আখ্যানটাই তৈরী করা হচ্ছে মূলত একটি চিঠির ভিত্তিতে। চিঠিটি "চাইবাসা চাইবাসা" নামক গল্প থেকে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের লেখা (তারিখ ১৩ই জানুয়ারি, ১৯৬০) বলে জানা যাচ্ছে। এখন যদিও গল্পটি পড়লে সেখানে সত্যিকারের চিঠিপত্রই তুলে ধরা হয়েছে বলে মনে হবে কিন্তু চিঠিটির প্রকৃতই অস্তিত্ব ছিল নাকি তা সন্দীপনের মস্তিস্কপ্রসূত তার কোনো প্রমাণ নেই। চিঠিটির আরেকটি মজার দিক হচ্ছে সেখানে সন্দীপন ট্রেনে কি করেছিলেন তার বিশদ বিবরণ পাওয়া যায় এবং সুনীলও যে বাসে অনুরূপ কিছু করেছিলেন তার উল্লেখ আছে, শুধু সুনীল এক্স্যাক্টলি কি করেছিলেন সেটা বোঝার কোনো উপায় নেই। এটা টিপিক্যাল সন্দীপনীয় খচরামো। বাসে কি হয়েছিল সেটা চিঠিগুলোর পর যেখানে লেখক নিজস্ব নোটগুলি রেখেছেন সেখানে উল্লেখ করাই যেত। কিন্তু কে না জানে যে সুনীল ভদ্রলোক। সন্দীপন নিজেকে নগ্ন করলেন, কিন্তু বন্ধুর ইমেজে আঁচটুকুও লাগতে দিলেন না। এই চিঠিটা লেখাতে নাই থাকতে পারতো, সেক্ষেত্রে সন্দীপনকে গালাগাল করার অবকাশও থাকতো না। সন্দীপন কিন্তু চিঠিটাকে বিনা দ্বিধায় টেক্সট-এর অন্তর্গত করলেন। সন্দীপন এইজন্যই সন্দীপন। ধারণাটুকুও আসার বহু আগেই সন্দীপন #IDidItToo করে ফেলেছেন। সন্দীপন বাংলাসাহিত্যের প্রথম #IDidItToo -কারী লেখক।

    তবে কিনা এই গোটাটাই কথার কথা। কারণ গোটাটিই সুনীল দেখেছেন। সুনীল যা দেখেছেন সন্দীপন কি তাই-ই করছিলেন? এ বিষয়ে গোটা গল্পটায় হ্যাঁ অথবা না কোনোকিছুই বলা নেই। "ভুল হয়েছে" থেকে "বেশ করেছি" অথবা এমনকি "হ্যাঁ হয়েছিল" বা "সুনীলের ধারণা"; কোনোকিচ্ছু না !

    "এয়ারপোর্টে প্লেন নামার আগে মেঘের মধ্যে দিয়ে স্ট্যাচু অফ লিবার্টিকেও অবিকল অনুরূপ আদিবাসিনী দেখিয়েছিল। মশালে আগুন, আমেরিকার স্বাধীন জেনানাকে ঘিরে ঘুরছিল অতলান্তিকের সমুদ্র-জল, ২৭-২৮ বছর আগে দেখা, রাজাখার্শোয়াং-এর কুয়াশা-কাটা রমণী-মূর্তির কথা প্লেনে বেল্ট বাঁধতে বাঁধতে হঠাৎই মনে পড়েছিল।"

    কি লেখা হলো সেটা যারা পড়তে জানেন পড়লে বুঝবেন নিশ্চয়ই। উপরের লাইনগুলি "জঙ্গলের দিনরাত্রি" থেকে নেওয়া, যে উপন্যাস (অথবা নয়, তর্ক চলতে পারে)-টিকে এক ব্যক্তি দেখলাম সেক্সুয়াল প্রিডেটরদের ডায়রি বলে উল্লেখ করেছেন। বলাবাহুল্য, লেখাটি তিনি পড়ার প্রয়োজন মনে হয় না বোধ করেছেন বলে। কারণ "জঙ্গলের দিনরাত্রি" মূলত একটি "অযৌন হানিমুন"-এর গল্প, যে হানিমুনটি ঘটেছিলো সন্দীপন এবং শক্তি নামক দুই চাটুজ্যের ভিতর। সেখানে নারী এবং যৌনতা সংক্রান্ত প্রচুর কথা রয়েছে, যেমন সন্দীপনের প্রায় সব লেখাতেই থাকে। লেখক এও জানিয়েছেন যে তিনি নারী-কাতর। কিন্তু কোথাও যৌন-আগ্রাসনমূলক কোনো ঘটনার বিবরণ নেই। কোনো এক রহস্যময় হাটে এক রহস্যময়ী আদিবাসী নারীর সাথে পয়সার বিনিময়ে রমণের একটা অনুল্লিখিত গল্প আছে, কিন্তু সেখানেও এমনকি যৌনক্রিয়ার কোনো বিবরণ নেই। ছোট্ট অংশ, গোটাটাই ম্যাজিক রিয়্যাল, এমনকি হাটটাও পরে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়া আরেকটি অংশে ফুলমণি নামক এক পঞ্চাশোর্ধ মেথরানির কথা রয়েছে। খাবারের বিনিময়ে যৌনতা দিয়ে তাকে খুশি করেন সন্দীপন। এখানেও যৌনক্রিয়ার কোনও বিবরণ নেই, যা রয়েছে তা হলো ঘটনার বিভিন্ন পর্যায়ে সন্দীপনের বিভিন্ন আশঙ্কার বিবরণ। বলাবাহুল্য, এই স্মৃতি সন্দীপনের কাছে সুখদায়ক নয়। তার মোটেই ইচ্ছে ছিল না, শুধুমাত্র কৃতজ্ঞতার বশে সে ওই প্রৌঢ়ার প্রস্তাবে সম্মত হয়েছিল। অর্থাৎ খাবারের বিনিময়ে বেশ্যাবৃত্তি করতে বাধ্য হয়েছিল প্রিন্স অফ লিটিল ম্যাগাজিন সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়। এই ঘটনায় কে প্রিডেটর? --- এবার যিনি এই লেখাটিকে সেক্সুয়াল প্রিডেটর-এর ডায়রি বললেন তিনি কি ভেবে বললেন আমার সত্যিই জানা নেই। পাহাড়ি ঝর্ণার সঙ্গে ওঁরাও রমণীর পিঠের ওপর লুটিয়ে থাকা বেণীর তুলনাকে যৌন আগ্রাসন বলে না, কাব্যসৌন্দর্য্য বলে, যেটা সন্দীপনের গদ্যে বহুজায়গায় নানাভাবে খুঁজে পাওয়া যেতে পারে।

    হ্যাঁ, সন্দীপন সেক্সিস্ট ছিলেন। নিঃসন্দেহে ছিলেন। কিন্তু মাথায় রাখা প্রয়োজন যে তিনি সেই দৃষ্টিভঙ্গি লুকোতে যাননি কোনোদিন, বরং ডকুমেন্ট করেছেন, ক্রুডভাবে ডকুমেন্ট করেছেন নিজের প্রতি সহানুভূতি না দেখিয়েই। যৌনতাকে স্বাভাবিক ভেবে স্বাভাবিক ভাবেই অ্যাপ্রোচ করেছেন নিজের নিরহংকার নোংরামি (ফাল্গুনী-র থেকে ধার নিলাম) সহকারে। সুনীলের মত পদতলে বসে কৃপাপ্রার্থী হতে চাননি। এটাও মাথায় রাখা প্রয়োজন যে বাকিরা এই কাজটা করেননি; হাংরিরা যেমন পুরুষ ও প্রকৃতির বাইনারি টেনেছেন এটা সম্পূর্ণ ভুলে গিয়েই যে পুরুষ এবং তার "শক্তি"-ও আসলে প্রকৃতি থেকেই সৃষ্ট। আরও অনেক কথাই বলা যায়, অনেক বড় করা যায় লেখাটাকে। কিন্তু ইচ্ছা করছে না। বরং সন্দীপনকে কোট করেই শেষ করি, আবারও "জঙ্গলের দিনরাত্রি" ---

    "এলিয়টের মৃত্যুর পর প্রকাশিত এক বিশাল কমমেমোরিয়াল ভলিউমে সবাই দিস্তে দিস্তে লিখলো! শুধু এজরা পাউন্ড লিখেছিলেন পাঁচ লাইন। যথা: কে আর লন্ডনের অলি-গলি দিয়ে হাঁটার সময় অমন শুখা হিউমার করবে! আর ওর কবিতা নিয়ে কি আবার বলব। শুধু বলতে পারি: রিড হিম।"

    পি এস: আপনি ঠিক সেটাই দেখবেন যা আপনি দেখতে চান, কারণ সম্ভবত, সিদ্ধান্ত আপনার আগেই নেওয়া হয়ে গেছে।



    বাংলাসাহিত্যে একটা উপন্যাস আছে যার প্রথম পরিচ্ছেদে জানা যায় উপন্যাসটির মূল চরিত্রের যে প্রেমিকা তার আরেকটি প্রেমিক রয়েছে, কিন্তু সে এখনও প্রপোজ করে উঠতে পারেনি। আমাদের মূল চরিত্র, অবিনাশ, চায় তার প্রেমিকা, মমতা, ওই দ্বিতীয় প্রেমিকটিকে বেশি গুরুত্ব দিক; একই দিনে দুজনের সঙ্গে দেখা করার থাকলে মমতা যেন সঞ্জয়ের কাছেই যায়, তার কথা ভাবার দরকার নেই। সে একঘন্টা অপেক্ষা করে ফিরে যাবে। অথচ ঘটনা শুরু যেদিন, সেইদিন মমতা এসেছিল দু'ঘন্টা দশ মিনিট দেরি করে। আসার কথা তার ছিল না, মূল চরিত্রেরও কথা ছিল না অপেক্ষা করার, তবু তাদের দেখা হয়। এর একমাস বাদে তাদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায় পার্ক সার্কাস সেমেটারির সামনে। দশ বছরের সম্পর্ক ছিল তার আগে তাদের মধ্যে। আরও জানা যায়, সঞ্জয়, তথা মমতার অপর প্রেমিকের পার্টির রঙ গেরুয়া।

    এছাড়া রয়েছে মান্তু, একজন রেপ সারভাইভার, অবিনাশের বোন। সে অবিনাশের সঙ্গেই থাকে। তার বর তাকে ত্যাগ করেনি, সে নিজেই থাকতে পারেনি আর। মান্তু ফ্ল্যাটের বাইরে যায়না, এটাই তার অসুখ। পরিবারের সম্মানের খাতিরে তার ধর্ষণের ঘটনা শ্বশুর পুলিশে রিপোর্ট করেননি। রণেন, তার বর, তাকে ভালোবাসে। মান্তু ঘৃণা করে রণেনকে। চঞ্চল আর রণেন, মার্ক্সবাদী পার্টির সদস্য। অবিনাশ একটু ফ্রয়েড ঘেঁষা। মান্তুর রেপের ঘটনাটা চঞ্চলকে নাড়া দিয়েছিল। চঞ্চল রেপ সিরিজের আটটা ছবি আঁকে তারপর। প্রকাশ কর্মকারের সেই ছবিগুলো পছন্দ হয়েছিল।

    চঞ্চলের এ পর্যন্ত শয্যাসঙ্গিনীর সংখ্যা আট।

    সঞ্জয়কে মমতা বিয়ে করবে, সম্ভবত।

    মমতা মরাল ওম্যান হিসেবে মরতে চায়, অথচ অবিনাশের সঙ্গে সম্পর্কও রেখে যেতে চায়, এমনকি বিয়ের পরেও।

    অবিনাশ ভাবে, "তাহলে তো আমি আগাগোড়া যেভাবে দেখছি সেটাই ঠিক। আমার হারাবার কিছু নেই। মাঝে মাঝে একে ধর্ষণ করে ছেড়ে দেওয়া ছাড়া করার কিছু নেই।"

    এর আগে একটা গোটা অংশ জুড়ে অবিনাশের দেওয়া বিবরণ রয়েছে মমতার সঙ্গে কবে কোথায় কতটা সেক্স করা গেছে সেই নিয়ে। মূলত ঘরের অভাবেই তাদের সম্পর্কটা বেশিরভাগ সময়ই ঠোঁট আর বুকের মাংসে সীমাবদ্ধ থেকে গেছে। কারণ, মমতা বারেবারেই জানিয়েছে যে ঘর পাওয়া গেলে তার কোনও আপত্তিই নেই। অবিনাশকে সে শরীরীভাবে চায়, কিন্তু বিছানা দরকার, জিএসআই এর গোপন অন্ধকার ঘরে পৃথিবীর মানচিত্রের ওপর শুয়ে করার জিনিস নয় ওসব।

    লেখক সন্দীপন জানেন, মেয়ে, পাগল এবং ক্রীতদাসদের শরীর-অধিকার কোনও দিনই তাদের নিজেদের নয়।

    বলে দিলে গোটাটাই বলে দেওয়া যায়, যেমন রয়েছেন অপর্ণাদি, যিনি মমতার বাবা সুখময়ের থেকে ১৫ বছরের ছোট।

    উপন্যাস শেষ হওয়ার কিছুটা আগে মান্তু সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে গিয়ে আত্মহত্যা করে। যার ফলস্বরূপ, অবিনাশ মমতাকে বলে, "একটা ঘর খালি হয়েছে মমতা। আমরা একটা ঘর পেয়েছি।"
    সন্দীপন লেখেন, "বলতে বলতে আমি বুঝলাম এই সেই অনির্বচনীয় কিন্নরকণ্ঠ যে-স্বরে চিরকাল প্রেমিকরা 'আমি তোমায় ভালোবাসি, মেয়ে' বলে এসেছে।"

    ছবির অংশটি মমতা সেনগুপ্ত-র চিঠি থেকে নেওয়া। লেখকের রাজনৈতিক অবস্থান লক্ষনীয় যে, উপন্যাসটি শেষ হয় এই চিঠি দিয়ে। মমতা জানায় সঞ্জয়কেও সে ছেড়ে যাচ্ছে তবে তার কারণ সে অবিনাশ কে বলবে না।

    চিঠির শেষ লাইন, "আমি তৃতীয় পুরুষের খোঁজে আছি।"
    একটি পুনশ্চ রয়েছে। তাতে জানা যাচ্ছে বাবা আর অপর্ণাদির বিয়েতে মমতা সম্মতি জানিয়েছে।

    এই উপন্যাসটিতে পুরুষের যৌনতা ও তৎসংক্রান্ত ধারণা, পুরুষের ভালোবাসা এবং হিপোক্রেসি ইত্যাদি বিষয়কে যেভাবে নগ্ন করা হয়েছে তা আর কোনো পুরুষসৃষ্ট উপন্যাসে ঘটেছে বলে আমার জানা নেই। আর কোনো পুরুষরচিত উপন্যাস লিঙ্গরাজনীতির ভিত্তিতে নারীপুরুষের সম্পর্ক নিয়ে এভাবে সোচ্চার কিনা আমি জানিনা সত্যিই।

    'কলেরার দিনগুলিতে প্রেম' - এই নামের সঙ্গে মার্কেজের কোনও সম্পর্ক নেই।

    এরপর যখন একটি ছোটগল্পে উদ্ধৃত সুনীল গাঙ্গুলির একটি চিঠি (যার প্রকৃত অস্তিত্ব রয়েছে নাকি কল্পনাপ্রসূত জানা যায় না)-তে উল্লিখিত একটি ঘটনা (যা ঘটার সময় সুনীলের বাঙ্ক থেকে সন্দীপনের বাঙ্কের দূরত্ব, রাত্রের ট্রেনে আলোর পরিমান, সুনীল কোনো নেশা করে ছিলেন কিনা কোনকিছুই জানা যায় না)-র ভিত্তিতে নারীবাদীরা এই লেখককে অভিযুক্ত করেন, বলেন ওয়াক থু --- মনে হয় না কোথাও একটা ভীষণরকম অবিচার হয়ে যাচ্ছে? সেই অবিচার সন্দীপনের প্রতি নাকি নারীবাদের প্রতি দীক্ষিত পাঠকই তার বিচার করবেন!

  • বিভাগ : আলোচনা | ২৬ অক্টোবর ২০১৯ | ৩১৯ বার পঠিত | | জমিয়ে রাখুন পুনঃসম্প্রচার
    Share
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • পাতা :
  • concised | 236712.158.786712.59 (*) | ৩০ অক্টোবর ২০১৯ ০৪:৫৩51242
  • শতাব্দী দাসের লেখায় কমেন্টগুলো -- তো, এগুলোই অনমিত্রকে দিয়ে সন্দীপন প্রশস্তি লেখায়, এবং এগুলোই আজকের আলোচনার প্রাসংগিকতা বোঝায়। আপনি "গোদা প্রশ্ন", যেদিকে আলোচনাটাকে ঠেলতে চাইছেন - সেক্সিস্ট, মিসোজিনিস্ট অ্যঙ্গেলকে সাহিত্যের কনটেন্ট হিসেবে ফর্ম দ্বারা নর্মালাইজ করার বিরোধীতা, দেখা যাচ্ছে নারীবাদীরা আদৌ করছেন না। তাঁরা ব্যক্তি সুনীল ও সন্দীপনকেই মিসোজিনিস্ট, মোলেস্টার ও সেক্সুয়াল প্রিডেটর হিসেবে আক্রমণ করছেন।
    ==================================================

    Akash Chatterjee পড়লাম। ইঁট পেতে যাই। সন্দীপন সম্পর্কে অনেকগুলো কথা বলা যায়। এই পিতৃতন্ত্র নিয়েই। যাক গে, বাকিরা কী বলে শুনি।
    Satabdi Das সন্দীপনকে শুধু পিতৃতান্ত্রিক বলা যায়না। ভয়ানক মিসোজিনিস্ট ও সেক্সিস্ট।
    Akash Chatterjee ঠিক। এটা যেমন সত্যি, তেমন এর একটা উল্টোপিঠ আছে। মীরাবাঈ, আলমারি এবং আরো বেশ কয়েকটি লেখায়। অনেকগুলো লেখাতেই। যেখানে সন্দীপন আদপে বিদ্রুপ করেছেন-- নিজেকে, এবং বাঙালি পৌরুষের বিপন্নতা শিভালরি সমস্ত কিছুকেই। এই পৌরুষের আবার সার্টেন ক্লাস আইডেনটিটির জায়গা রয়েছে- তা মধ্যবিত্ত। ধরি মাছ না ছুঁই পানি। এই মানসিকতা, সমস্তকিছুই( যা আদপে সন্দীপনেরও) তা বিদ্রুপের বা উপহাসের মুখোমুখি হয়েছে।
    Satabdi Das কিন্তু তাতে মিসোজিনি একই থাকে। নিজেই নিজেকে বিদ্রুপ করেন, নিজেই নিজেকে নিয়ে সঙ্কটে। অন্য লিঙ্গের প্রতি মনোভাব তাতে বদলায় না।
    Aeonian Anirban 'আত্মবমন' নামের গল্প টি পড়ুন, যদি আগে না পড়ে থাকেন।
    Abhijnan Sarkar জঙ্গলের দিনরাত্রি বলে আজকাল থেকে বেরানো আর একটি বই আছে সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়ের। প্রতিপাদ্য হচ্ছে, অরণ্যর দিনরাত্রি ছবিটি সেই সময়ের স্টার কৃত্তিবাসীদের নিয়ে কত মডারেট আখ্যান, সেটার সমালোচনা।তাদের চাইবাসা ও আদিবাসী অঞ্চলে অভিযান কত বড় যৌন অ্যাডভেঞ্চার ছিল তার বর্ণনা রয়েছে এই বইতে। মোটামুটি সেক্সুয়াল প্রিডেটরদের ডাইরি।
    Satabdi Das ওটা পড়েছি। উপন্যাস সমগ্রর পার্ট হিসেবেই আছে।
    Tripti Santra গদ্যটায় অন্য খাজ....তা বাদে খেকুরে, পারভারট
    Suvendu Debnath সন্দীপন পড়তে গেলে যে উইটটা পাঠকের থাকা দরকার তা বহু পাঠকেরই নেই
    Satabdi Das খুবই উইটি মলেস্টেশন।
    Satabdi Das এনিওয়ে, এই এক্সকিউজটাও বহুশ্রুত।
    Suvendu Debnath উহু এক্সকিউজ নয়, এটা একদম বাস্তব সত্যি, আমরা যারা সন্দীপনকে সামনে দেখেছি তারা খানিকটা এই ব্যাপারটার সঙ্গে হ্যাবিচুয়েট। ওই তিলে খচরামিটা বোধহয় একমাত্র সন্দীপনকেই মানায়। লোকে পড়ে হয়ত বলবে এমা কি ঘিনে ঘিনে সেক্স নিয়ে লিখেছে পার্ভাট, তারাই আবার স্মরণজিত পড়ে আহা উহু করবেন। সন্দীপন পড়তে গেলে অনেকটা সজনীকান্ত বুঝতে হবে। ওই লেভেলের প্যারডি সেই সময় দাঁড়িয়ে সজনীকান্ত লিখেছিলেন। ভাবতে পারেন সজনীকান্ত প্রিয় বন্ধু মনোজ বসুকে একজায়গায় বর্ননা করছেন বনজ মোষ বলে। এই উইটটা সকলে নিতে পারেন না। যেভাবে রবীন্দ্রনাথকে মাগীবাজ এবং শরৎচন্দ্রকে মাতাল আখ্যা দেওয়া হয় কিংবা জীবনানন্দকে অশ্লীল কবি, অনেকটা সেভাবেই এরা সন্দীপনকেও দাগিয়ে দেন
    Satabdi Das আপনার সমস্যাটা কী? যে বইটির পাতা তুলে দেওয়া হয়েছে, সেটিতে চিঠিটি সুনীলের লেখা, সন্দীপনের না। তা ফিকশন নয়। বাস্তব ঘটনা। এবং তা মলেস্টেশন। এতে আপনি উইট খুঁজছেন?
    এই 'আমরা যারা তাকে চিনি-ওরা যারা স্মরণজিত পড়ে' ইত্যাদি ইলিটিস্ট বিভাজন এই পোস্টে অবান্তর। আমরা যারা স্মরণজিত পড়িনা তারা এই ঘটনা ও তা নিয়ে সন্দীপন ও সুনীল উভয়েরই মনোভাব অত্যন্ত বিবমিষা উদ্রেককারী মনে করি।ধন্যবাদ।
    Simantini Ghosh Suvendu Debnath , Molestation ebong Meyeder shorir ke mangshopindo kore tola, ei duto r modhye wit kothay , eta bujhiye bolle badhito hoi.
    Ami abashyo Smaranjit porini. Sandipan kichu porechi, ebong tar (fiction) lekhar modhye awsombhob misogyny ebong existential crisis, dutoi prokot bole mone hoyeche. Seta onek bikhyato lekhoker lekha tei paowa jae, karon somajmanoser urddhe khub kom manush e jete paren. Fiction hole tar interpretation niye debate er obokash thake aboshyo.
    Kintu eta to mongoRa golpo noy, eta ekti chithi, jate ekta shotyi ghotonar bornona dewa ache. eta kon interpretation e witty seta janar agroho roilo.
    Suvendu Debnath নাহ আমি এই বইটিতে উইট খুঁজি নি সমস্যাও নেই আমার, কারণ লেখকের ব্যক্তিগতজীবন কখনই আমার কাছে উপজীব্য হয়ে ওঠেনি, আমি শিল্পীর শিল্প নিয়েই আলোচনা করতে ভালবাসি, ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নয়। কারণ শিল্পীর ব্যক্তিগত জীবন তা সে যে কোনও আর্ট ফর্মের শিল্পীই হোননা কেন ঘাঁটতে গেলে যে পাঁক উঠে আসবে, তা অনেকেই সহ্য করতে পারবেন না। বাংলাসহ বিশ্ব সাহিত্যে এর ভুরি ভুরি উদাহরণ আছে। আমি আপনার এক্সকিউজটি বহুশ্রুত বলার পরিপ্রেক্ষিতে সন্দীপনকে জানার কথা বলেছি, এই বইটির বা পাতাটির লেখা প্রসঙ্গে নয়।
    অন্বেষা সেনগুপ্ত সন্দীপনের সঙ্গে স্মরণজিতের তুলনা অাসছে কোথ্থেকে?
    Suvendu Debnath Simantini Ghosh আপনি একটু বুঝতে ভুল করেছেন ম্যাডাম, আমার বক্তব্যটা এই লেখাটির পরিপ্রেক্ষিতে ছিল না। তাহলে তো চিঠি বা লেখাটির উল্লেখ করতাম যে এর মধ্যেও উইট আছে। আমি বলেছি লেখক সন্দীপনের সাহিত্যকর্ম নিয়ে
    Raya Debnath সন্দীপনের লেখা , লেখার প্রতিপাদ্য নিয়ে বিরক্ত প্রকাশ করতে গেলে সন্দীপনকে ‘চিনতে ‘হবে? মলেস্টেশন উইট? আপনার কাছে উপজীব্য হয়নি কারণ মলেস্টেশনে আপনি উইট খুঁজে পান। আমাদের রাস্তাঘাটে মলেস্টেড হতে হয়তো তাই এই ভয়ানক অপরাধে আমরা উইট খুঁজে পাই না।
    এটা একটা ঘেন্না পাওয়া চিঠি। “ব্যক্তিজীবন” দেখেন না মানে? অবশ্য আপনার “দেখা”বা “না দেখায়” আদিবাসী মেয়েটির যৌন হেনস্থা হওয়া আটকায় না। মেয়েরাই খুব একটা মানুষ নয়, তো এ আবার আদিবাসী মেয়ে, তাই না?
    Suvendu Debnath @শতাব্দী এর উত্তরে সন্দীপন কি লিখেছিল সেটা কি ওই বইটিতে দেওয়া আছে? কারণ সুনীলের চিঠি পড়ে, সন্দীপনের জবাব জানতে আগ্রহ বোধ হচ্ছে।
    Simantini Ghosh Tahole seta ekhane khub e oprasongik. Karon lekha ti r mul protipadyo Sandipan er sahityo kormer somalochona noy, otyonto gorhito achoron er somalochona.
    ar ei bohu shilpi byektijibon e pervert tai shilpi r shilpo tar byektijbon er theke alada, eta o bohusruto ojuhaat. Kar bhababeg ahoto hobe, starting from Klaus Kinski to Woody Allen to Harvey Weinstein to Dipesh Chaudhuri, ta niye amar kono mathabyatha nei.
    This is exactly what perpetuates the permissive environment in which a rape culture thrives.
    Orom bhababeg ahoto howai bhalo. At least ekta dialogue o jodi toiri hoy, tahole oneke khub ashojhyo bodh korleo bodhoy samgrik bhabe kono khoti nei.
    Dhonyobad.
    Suvendu Debnath Raya Debnath Raya Debnath এই তো আমি পুরোটা না পড়েই বলতে শুরু করে দিলেন? আমি কিন্তু আগেই বলে নিচ্ছি আমি সন্দীপনের ফ্যান নই। এবার বলি আমি এই লেখাটির প্রসঙ্গে মন্তব্য করি নি। মলেস্টেশনে উইট আমি খুঁজে পাই সেটা আমার কমেন্ট দেখে বুঝে গেলেন? যাহ বাবা, এ তো আচ্ছা হল দেখছি, ফেসবুকে আজকাল কোনও বিষয়ে কমেন্ট করা দায় হয়ে পড়ছে। আগে শুনুন কি জানুন কি বলতে চাইলাম। তবে না আমার প্রতিবাদ করবেন বা আমাকে বকাবকি করবেন।বাকি রইল আদিবাসী রা মেয়ে কিনা সেটা আমি মর্মে মর্মে বুঝি ম্যাডাম কারণ জীবনে অনেকটা দীর্ঘ সময়ে তাদের মধ্যে কাটিয়ে বুঝেছি, কি পরিমাণ লড়াই তাদের করতে হয় এবং তাদের হয়ে লড়তে গিয়ে চাকরিটি খুইয়েছি।
    Suvendu Debnath Simantini Ghosh হ্যাঁ আপনার এই কথাটা খুব জায়েজ এবং যুক্তি সংগত এটা মেনে নিতে কোনও বাধা নেই যে আমার কমেন্টটা অপ্রাসঙ্গিক। আমি শতাব্দীর এই পোষ্টের পুরোটা পড়ে জাস্ট প্রথম লাইনটির পরিপ্রেক্ষিতেই কথা বলেছি অর্থাৎ ওই চন্দ্রিল কি বলেছেন সন্দীপন সম্পর্কে। বাকি সুনীল এবং সন্দীপনের মধ্যে রেষারেষিটা সকলেই জানেন। যদি সন্দীপন এটা করে থাকেন তাহলে সেটা অবশ্যই অপরাধ, কিন্তু করেছেন কতটা সেটা একটু সন্দেহ আছে, তাই Satabdi Das র কাছেই প্রশ্ন করেছি দেখুন যে ওই বইটিতে সন্দীপনের উত্তরের চিঠিটা আছে কিনা, কারণ দেখাটা সুনীলের কি না তাই।
    Raya Debnath আপনি, ভেবে দেখছেন ঠিক কী কী বলছেন? আপনি এসে জ্ঞান দিচ্ছেন কী ভাবে সন্দীপন ‘পড়তে’ হয়, সজনীকান্ত বুঝে সন্দীপন পড়তে বলছেন। বলছেন সবাই নাকি সন্দীপনের “উইট” টা বোঝে না। কোথায় বলছেন কথাগুলো? না, যেখানে স্পষ্টত সন্দীপনের একটি অপরাধমূলক আচরণ নিয়ে কথা হচ্ছে। সেখানে এসে লিখছেন “তিলে খচরামি”টা সবাই করতে পারে না, আবার গলাবাজি করছেন?
    আপনি শিল্পির ব্যক্তিজীবন নিয়ে বদারড নন জোর গলায় বলেছেন, এমনকি আপনাকে বিষয়টি আরোও একবার মনে করিয়ে দেওয়ার পরেও। এই সমস্ত কিছুই করতে পেরেছেন কারণ মলেস্টেশন অপরাধটি আপনাকে সরাসরি এফেক্ট করে না এবং আপনি সেটা ছাড়া বিষয়টি বোঝার মত ন্যূনতম সংবেদনশীল নন।
    একটা লেখার প্রথম লাইন পড়ে লাফিয়ে এসে গুচ্ছ প্রবলেমেটিক বক্তব্য রেখে অন্যকে নিজের সেই প্রবলেমেটিক মন্তব্য রিরিড করতে বলে এখন বলছেন লেখাটা আপনি পড়েননি?
    আপনিতো অসাধারণ
    Satabdi Das Suvendu Debnath, আপনি ওঁর কাছের লোক হিসেবে পরিচিতি দিচ্ছেন অথচ এসব কমবেশি সকলেরই জানা।এখানে কোনো 'উত্তর'নেই।আত্মপক্ষ সমর্থন থাকবে কেন?সন্দীপন একে অপরাধ ভাবছেন না। শুধু একজন নারীকে কীভাবে পেতে হয়, সে নিয়ে দুজনের দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা। লক্ষ্য একই। কীভাবে তিনি লেখাটি শেষ করেছেন, তা আমার লেখায় বলা আছে।পড়ে নিন।
    Suvendu Debnath Raya Debnath অপনি দেখছি আলোচনার মাঝ খান টুকু এসে পড়ে ব্যক্তিকে বিচার করেন। আমি শতাব্দীর বহুশ্রুত কথাটির পরিপ্রেক্ষীতে বলেছি। যাই হোক আপনার সঙ্গে তর্ক করা বৃথা ম্যাডাম। অথচ এই পোষ্টে একই জিনিস প্রতিবাদ করছেন Simantini Ghosh। ওনার আলোচনার কথা এবং যুক্তি কিন্তু মন্দ লাগছে কারণ যুক্তি সহকারে বলছেন এবং ভুলটি ধরিয়ে দিচ্ছেন। অন্যদিকে আপনার বক্তব্যটা বড্ড অফেনসিফ হয়ে উঠছে। ভাষাটিও শুধু মাত্র আক্রমণ করার জন্যই মনে হচ্ছে। কারণ আমি একবারও বলিনি লেখাটা পড়িনি বলেছি কি কোথাও? পরিস্কার বলেছি পুরো লেখাটি পড়ে চন্দ্রিলের মন্তব্যটার প্রসঙ্গে আমি বলেছি। আপনি না বুঝলে আমার দায় নয়। আগে বুঝতে শিখুন কি বলতে চেয়েছি ভাল করে পড়ুন। আর এই প্রসঙ্গে এই চিঠিটি প্রসঙ্গে একটু সন্দীপনের উত্তরটা যদি খুঁজে দিতেন। ভালো লাগত
    Suvendu Debnath Satabdi Das নাহ নাহ মোটেও কাছের লোক বলে পরিচিয় দিই নি শতাব্দী, আমি বলেছি আমরা যারা সন্দীপনকে চাক্ষুষ দেখেছি, তার মানে কিন্তু কাছের লোক নয়। বাকি রইলো সুনীলের বক্তব্য এই চিঠিতে, সেটা নিয়ে বলি, সন্দীপন এবং সুনীলের মধ্যে এই ধরণের দোষারোপ পালটা দোষারোপ চিরকাল চলেছে। যখন সন্দীপনকে চিঠিটা লেখা হয়েছে তখন তার তো একটা বক্তব্য থাকবেই তাই না? সুনীল ট্রেনের ওই আবছায়া আলোয় যা দেখেছেন সেটা তো তার ধারণা, কারণ ট্রেনের একদম টপ বাঙ্ক থেকে তিনি দেখছেন নীচের সিটে একজন আদিবাসী মেয়ে সন্দীপনের পায়ের কাছে বসে আছে, সন্দীপন তার শরীর ছোঁয়ার চেষ্টা করছেন, অর্থাৎ ওই আধো অন্ধকারে সুনীল মেয়েটির মায়ের মুখ মেয়েটির চোখের ক্রোধ দেখতে পাচ্ছেন। সুনীলের বহু লেখায় এভাবে সন্দীপনকে হ্যাঁটা করা হয়েছে, যা পরবর্তী কালে জানা গিয়েছে সন্দীপনের প্রতি রাগ বশতই করা হয়েছে। তাই এখানে সন্দীপনের চিঠির জবাবটিখুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভাববেন না আমি সন্দীপনের ফ্যান বা সন্দীপনকে ডিফেন্ড করার চেষ্টা করছি। আমি একটা ঘটনার যুক্তি দেওয়ার চেষ্টা করছি মাত্র, যে এক পক্ষ শুনেই কারও দিকে আঙুল তোলা উচিত নয়, যখন এই রকম একটা সিরিয়াস অ্যালিগেশনের ব্যাপার। সুনীল এবং সন্দীপনের একে অপরের প্রতি বিদ্বেষটা এবং বন্ধু মহলে একে অপরের প্রতি মনোভাবটা সকলেরই জানা প্রায়। তাই আমি আগ্রহী সন্দীপনের জবাবটা জানার ব্যাপারে
    Ipsita Sengupta "আমরা যারা সন্দীপনকে সামনে দেখেছি তারা খানিকটা এই ব্যাপারটার সঙ্গে হ্যাবিচুয়েট। ওই তিলে খচরামিটা বোধহয় একমাত্র সন্দীপনকেই মানায়। লোকে পড়ে হয়ত বলবে এমা স্মরণজিত পড়ে আহা উহু করবেন। সন্দীপন পড়তে গেলে অনেকটা সজনীকান্ত বুঝতে হবে। " শতাব্দীর পোস্টটা পড়ার পর আপনি সেই প্রেক্ষিতে এটা লিখলেন Suvendu Debnath বাবু?
    Raya Debnath অফেনসিভ? আপনি একটা লেখা আপনার কথা অনুযায়ী “না পড়ে” সন্দীপনের উইট বোঝাতে আসছেন ? যেখানে একটি মেয়ের যৌন হেনস্থা হয়েছে সেই নিয়ে স্পষ্ট কথা হচ্ছে সেখানে “এক লাইন পড়ে” উইট বোঝাতে এসেছেন আর আপনি অফেনসিভ হওয়ার কথা বলছেন? আপনার বোধ আছে , আপনি কী বলছেন? আমি আপনার প্রত্যেকেই কমেন্ট পড়েছি। অত্যন্ত জঘন্য দিয়ে শুরুই করেছেন আবার এখন নিজের কথা জাস্টিনটাই করছেন?
    Suvendu Debnath Ipsita Sengupta হ্যা লিখলাম, কারণ সুনীলের এই চিঠিখানি নিয়ে আমার বহু অংশে সন্দেহ রয়েছে। আপনি হয়ত সুনীল সন্দীপনের রেষারেষিটা জানেন। তাই কারণ যেখানে চিঠির বর্নানা দেওয়া হয়েছে। আবারও বলছি, যে সন্দীপন যদি এমন কাজ করে থাকেন তা ক্ষমার অযোগ্য, কিন্তু আদৌ করেছেন কি না সেটার জন্যই সন্দীপনের উত্তরটা জানার কথা বলছি
    Suvendu Debnath Raya Debnath "না পড়ে" ? এই রে এদিকে আপনি বলছেন আমার সব কমেন্ট পড়েছেন আবার বলছেন আমি লিখেছি "না পড়ে" তাও না পড়ে টা কোট করে।
    Raya Debnath
  • ? | 237812.69.563412.15 (*) | ০৬ নভেম্বর ২০১৯ ১২:৪৪51244
  • এখানে সুনীল চরিত্রটার নাম সুনীল পাল ছিল না?
    এখানে উদ্ধৃত চিঠিগুলির পরেই যে বর্ণনা তাতেই মূল গল্পটা কাঠামো নেয়। এখানে বর্ণিত চিঠি তাই পত্রসাহিত্যে ব্যবহৃত টুল না হয়ে বাস্তব ঘটনার প্রমাণ হিসেবে কেন মর্যাদা পাবে সেটাও ভাবনার।
    আর, তারপরেও, সুনীল চরিত্রটার লেখা চিঠির মূল সুর মনে হয় এটাই ছিল যে, সে কনসেন্টকে এতটাই গুরুত্ব দেয়, যে সন্দীপন চরিত্রটি যদিও পয়সার বিনিময়ে পাওয়া নারীটির থেকে যতটুকু সম্ভব উসুল করে নেবে, কিন্তু সুনীল চরিত্রটি বরং মেয়েটির কনসেন্টের জন্য তখনও তার পদপ্রান্তে বসে থাকবে।
    এহেন চিঠি লিখিয়ের ক্ষেত্রে বাসের অভিজ্ঞতা অবশ্যই পুরোপুরি অপরপক্ষের কনসেন্টের সাথে পাওয়া তৃপ্তি। এখানে ডাউটের কোনো জায়গা নেই। বাসের ঘটনাকে মোলেস্টেশন বা কনসেন্টহীন হ্যারসমেন্ট বলতে হলে চিঠির প্রথমার্ধকে পুরোপুরি ডিনাই করতে হয় বা চরিত্রটিকে পুরোপুরি কনড্রাডিক্টরি বলতে হয়।
    সন্দীপনের চরিত্রটির ট্রেনের কীর্তিকলাপ দেখে প্রাথমিকভাবে মজা পাওয়ার অনুভূতিও সুতরাং অবশ্যই এটা ভেবেই হবে যে গোপন ছোঁয়াছুঁয়ির মধ্যে দিয়ে একটা মিউচুয়াল কনসেন্ট এসট্যাবলিশ হতে চলেছে। কিন্তু যখন সুনীল চরিত্রটি অনুভব করে যে ট্রেনের মেয়েটির কনসেন্ট নেই, এবং প্রথমবার সেই কনসেন্টহীনতা জানান দেওয়ার পরেও সন্দীপন চরিত্রটি দ্বিতীয়বারও অ্যাপ্রোচ করছে, তখনই সে ক্রোধে জ্বলে ওঠে, অসুরের শক্তিতে সন্দীপন চরিত্রটিকে বাথরুমে টেনে নিয়ে গিয়ে তার মাথায় জল ঢেলে দেওয়ার কথা ভাবে এবং এমনকি অপমান সম্ভাবনাতেও বন্ধুত্ব সম্পূর্ণ অস্বীকার করার কথা ভাবে। অর্থাৎ কনসেন্টহীন কাজটিকে নর্মালাইজ তো করা হল না, বরং একজন কনসেন্টপ্রিয় মানুষের চোখ দিয়ে প্রবল ভর্ৎসনাই করা হল।
    কোনো রেপের ঘটনা পোট্রে করে যদি রেপিস্ট চরিত্রটিকে নর্মালাইজ না করে পরিস্কার অ্যাকিউজ করা হয়, তবে কি লেখক/লেখিকার প্রতি এই নর্মালাইজেশনের অভিযোগ ওঠে?
  • দীপাঞ্জন | 237812.68.343412.23 (*) | ১০ নভেম্বর ২০১৯ ১১:০৬51245
  • এই গল্পে দুই সুনীল রয়েছেন - সুনীল পাল ও সুনীল। দ্বিতীয় সুনীল চরিত্রের পদবী গল্পে না থাকলেও সে চরিত্র যে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ছায়া তাতে সন্দেহ নেই। দুই সুনীলই চাইবাসা যান দুটো আলাদা ট্রিপে। ক্রনোলজি-টা এইরকম। সুনীলের বন্ধু ফিসারি ডিপার্টমেন্টের অফিসার সমীর রায়চৌধুরীর সাথে শক্তির পরিচয় হয়। সমীরের কাছে শক্তি চাইবাসার কথা জানতে পারেন। শক্তি আর সন্দীপন চাইবাসা যাবার পরিকল্পনা করেন। যাবার আগের দিন সুনীল পালের সাথে শক্তির পরিচয়। সুনীল পাল, শক্তি, সন্দীপন চাইবাসা যান। সুনীল পাল প্রথম রাত্রে মহুয়া পর্ব দেখে পরের দিনই ফিরে আসেন। সে ঘটনার কথা এ গল্পে না থাকলেও জঙ্গলের দিনরাত্রি উপন্যাসে রয়েছে । কুড়ি দিন থেকে সন্দীপন ফিরে আসেন কলকাতায়। ফিরে আসার পর শোনেন শক্তি নাকি জেলে চাইবাসায়। তখন সুনীল আর শক্তি ফিরে যান চাইবাসায় প্রথম ট্রিপ থেকে সন্দীপন ফেরার দিন সাতেক পরে। গল্পের বাকিটা দ্বিতীয় ট্রিপ নিয়ে যেখানে সন্দীপনের সাথে সুনীল (গঙ্গোপাধ্যায়), আর যে চিঠিটা নিয়ে গল্পের শুরু, সেই চিঠিটা দ্বিতীয় ট্রিপ থেকে ফেরার পথে ট্রেনের ঘটনা নিয়ে। এমন ঘটনা ঘটেছিলো কিনা, কি ঘটেছিলো, চিঠি আদৌ আছে কিনা, থাকলেও সে চিঠির কতটা সন্দীপন ডকুমেন্ট করেছেন আর কতটা আপন মনের মহুয়া, সেসব আজ স্পেকুলেশন। তবে এসবের সাথে সুনীল পাল চরিত্রে কোনো সম্পর্ক নেই। এই সুনীল দ্বিতীয় সুনীল, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। সুনীল পাল প্রথম ট্রিপের প্রথম রাতের পরেই সিন্ থেকে আউট।
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • পাতা :
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত