• হরিদাস পাল  ব্লগ

  • হিন্দী আগ্রাসনের প্রেক্ষিতঃ দেশ, রাষ্ট্র ও ভাষা

    Samrat Amin লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ০২ জুন ২০১৯ | ৭১৩৬ বার পঠিত
  • ফেব্রুয়ারী মাস প্রেমের মাস, ভাষারও মাস । শুধুই প্রেমের কুহুতান নয়, "অমর একুশে" ডাক দেয় এ মাসেই । আমার ভায়ের রক্তে রেঙে লাল হয়েছে ঢাকার রাজপথ, অমর একুশেই । হোক না পদ্মার ওপারের গল্প, তবুও বরকতরা তো আমারই ভাই, আমারই রক্ত । যে ভাষার জন্য তাদের আন্দোলন সেটা আমারই মায়ের ভাষা, যে সংস্কৃতির জন্য তাদের লড়াই সেটা আমারই সংস্কৃতি । অনেক লম্বা সে প্রেক্ষাপট । স্বাধীনতা-উত্তর দূর্বল রাষ্ট্রীয় কাঠামো নিয়ে গঠিত পাকিস্তান রাষ্ট্র (পশ্চিম পাকিস্তান) চেয়েছিল "পূর্ব পাকিস্তানের" উপর সাংস্কৃতিক আধিপত্য বজায় রাখতে । উর্দু ভাষা ও উর্দু কেন্দ্রিক সংস্কৃতি বাংলা ও বাঙালী সমাজজীবনে চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল ক্ষমতালোলুপ পাকিস্তান রাষ্ট্র । রাষ্ট্রভাষা হিসাবে উর্দুকে মেনে নেয় নি বরকত রফিকের মতো স্বাধীনচেতা নির্ভিক আত্মমর্যাদাসম্পন্ন তরতাজা যুককেরা । সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে রক্ত দিয়ে । সেদিনের প্রতিরোধ যদি ঢাল হয়ে রুখে না দাঁড়াত তাহলে উর্দু ভাষা ও সাংস্কৃতির খোলসে রাষ্ট্রীয় থাবা বাংলাদেশকে পিষে দিত ।

    রাষ্ট্রের (State) সঙ্গে দেশের (Nation) এ লড়াই চিরন্তন । এমন হাজারো লড়াইয়ের সাক্ষ্য বহন করে ইতিহাস । আন্তর্জাতিক রাজনীতির ইতিহাস ভূগোল ঘাঁটলে ছত্রে ছত্রে পাবেন দৃষ্টান্ত । এমনকি মানচিত্র থেকে আমাদের ভারত নামক রাষ্ট্রও বাদ নেই । যখন বলা হয় "বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্য", তখন ভারতবর্ষের মধ্যেই অজস্র খন্ড ভারতের জাতিগত ও সাংস্কৃতিক অস্তিত্ব স্বীকার করে নেওয়া হয় । বহু ভাষাভাষীর মিলনমেলা এই ভারতবর্ষ, যা কোনভাবেই একমাত্রিক বা একস্তরীয় নয় । যেমন বাংলা, তামিল, মারাঠী বা অন্য জাতি রাষ্ট্রীয় অখন্ডতার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে ঐকান্তিকভাবে নিজ নিজ জাতিগত ও সাংস্কৃতিক পরিচিতি নিয়ে আত্মনিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবে, ভারতবর্ষের নীতিগত দর্শন এটাই । কিন্তু বহুমাত্রিক ভারতবর্ষকে যদি একটি বিশেষ ভাষা ও সংস্কৃতির ছাঁচে ঢেলে একবগগা দেশ হিসাবে গড়ে তুলতে চাই ক্ষমতাবান রাষ্ট্র, তখনই নেমে আসে বিপদ, জাতির অস্তিত্বের সংকট ।

    বাঙালী হিসাবে আমরা এই বিপদের সম্মুখীন । আর বিপদের অভিসম্পাত যদি রাষ্ট্রীয় মদতে নেমে আসে তবে আরও চিন্তার বিষয় । তাই সময়ের দাবি রাষ্ট্রীয় মদতপুষ্ট হিন্দি আগ্রাসন রুখে দেওয়ার । আপনি যখন দেখছেন যে আপনার এলাকার রাস্তার মাইলষ্টোনের লেখা গুলো হঠাৎ বাংলা থেকে হিন্দিতে বদলে যাচ্ছে, যখন দেখছেন নোটবন্দীর পর ৫০০ টাকার নোটে হঠাৎ দেবনাগরি হরফের ব্যবহার শুর হচ্ছে, যখন দেখছেন আপনার এলাকার কেন্দ্রীয় সরকারী দপ্তর বা ব্যাঙ্কিং সেক্টরে হিন্দীভাষীদের দাপাদাপি শুরু হচ্ছে, যখন দেখছেন "জয় মা কালী"র থেকে "জয় শ্রীরাম" বেশি বার উচ্চারিত হচ্ছে, যখন দেখছেন শাক্তদেবির আরাধনার বদলে "রাম নবমী" নিয়ে বেশি হইচই হচ্ছে, যখন দেখছেন সুফীবাদের উদার আধ্যাত্মিকতা পিষে যাচ্ছে ওয়াহাবি-সালাফি কট্টরপন্থায়, যখন দেখছেন কেন্দ্রীয় সরকারী চাকরির পরীক্ষায় ইংরেজীর সঙ্গে হিন্দি ভাষায় প্রশ্নপত্র প্রদানের রীতি শুরু হচ্ছে, যখন দেখছেন বাংলার শহর কোলকাতা বা আসানসোলে হিন্দি ভাষায় কথোপকথনের একমাত্র মাধ্যম হয়ে উঠছে, যখন দেখছেন আপনার এলাকার কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ে হিন্দি আছে কিন্তু আপনার ভাষা বাংলা নেই, তখন বুঝে নিতে অসুবিধা হয় না অন্য একটি ভাষাকেন্দ্রিক সংস্কৃতি মানে হিন্দি বাংলার ঘাড়ের উপর নিঃশ্বাস ফেলছে ।

    চোখ কান খোলা থাকলে হিন্দি আগ্রাসনের পদচিহ্ন ঠাওর করা যায় । অনেকে ভাবতে পারেন, হিন্দি তো ভারতের "রাষ্ট্রভাষা" তাই এগুলো নিয়ে আপত্তি তোলার কিছু নেই । এই ভুল ভাবনাটা একটা বড় অংশের বাঙালীর মাথায় আছে । হিন্দি কোনকালেই ভারতের রাষ্ট্রভাষা ছিল না, আজও নেই। তাহলে এই ভাষাটিকে আমরা "রাষ্ট্রভাষা" জ্ঞান করতে লাগলাম কবে থেকে ? হ্যাঁ, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট অবশ্যই আছে । স্বাধীনতার পূর্বে হিন্দিভাষী নেতানেতৃরা হিন্দিকে রাষ্ট্রভাষা বানানোর জন্য উঠেপড়ে লেগেছিলেন, পারেন নি । কারন এর বিপরীতে যুযুধান ছিল উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা বানানোর ভাষ্য । প্রসঙ্গত উল্লেখ্য হিন্দি হিন্দুদের ভাষা ও উর্দু মুসলিমদের ভাষা এই বিভেদবোধ ইংরেজরাই তৈরি করেছিল । ফোর্ট উইলিয়ম কলেজে হিন্দু ছাত্রদের দেবনাগরী হরফে হিন্দি ভাষায় আর মুসলিম ছাত্রদের ফারসী হরফে উর্দু ভাষায় রিডিং মেটেরিয়ালস দেওয়া হত । কারনটা খুবই স্পষ্ট, বিভেদের প্রাচীর তৈরি করা । যাই হোক, দ্বন্দ নিস্পত্তির জন্য কিছু ধর্মনিরপেক্ষ জাতীয়তাবাদী নেতা এই দুই ভাষার মিশ্রণে "হিন্দুস্তানী" নামক এক ভাষাকে "রাষ্টভাষা" হিসাবে প্রমোট করার চেষ্টা করেন । এই ভাষায় বোম্বে ফিল্ম ইন্ডাষ্ট্রিতে দু-তিনটে সিনেমাও রয়েছে বলে শোনা যায় । কিন্তু বলিউডকে ব্যবহার করেও ভাষাটি কল্কে পায় নি । এর অন্য একটি কারন হল দেশ ভাগের পর উর্দুকে পাকিস্তান রাষ্ট্র হাইজ্যাক করে নিয়ে চলে গেল, হিন্দীর জন্য পড়ে রইল ফাঁকা মাঠ । অপ্রাসঙ্গিক হয়ে গেল হিন্দুস্তানী ।
    ভারত স্বাধীন হওয়ার পর হিন্দিভাষী নেতানেতৃরা ভেবেছিলেন অনায়াসেই হিন্দিকে অহিন্দিভাষীদের উপর চাপিয়ে দিতে পারবেন । দেশের সংবিধান রচিত হওয়ার পর হিন্দিকে রাষ্ট্রভাষা বানানোর তোড়জোড় শুরু হল । কিন্তু কয়েকটা মাত্র রাজ্যের প্রাদেশিক ভাষাকে "রাষ্ট্রভাষা" বানাতে গেলে গোটা দেশের নিরিখে সমাজ ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে ব্যবহৃত ভাষা হতে হবে, কিন্তু উত্তর ভারত ছাড়া হিন্দির ব্যবহার ছিল না । তাছাড়া দক্ষিন ভারতের দ্রাবিড়ীয় ভাষাগোষ্ঠীর মানুষদের প্রতিবাদের ভাষ্য ছিল যথেষ্ট কড়া । তাঁরা নিজস্ব ভাষার পাশাপাশি ইংরাজিতে সড়গড় ছিল, কিন্তু হিন্দি তাদের অপছন্দের ভাষা । এমতাবস্থায় দরকার ছিল ভারতের বিভিন্ন জাতি ভাষা পরিচিতির মানুষদের সমাজ ও ব্যবহারিক জীবনে হিন্দিকে ছড়িয়ে দেওয়া। অলিখিতভাবে হিন্দিকে ভারতের "লিঙ্গুয়া ফ্রাঙ্কা" বানানোর উদ্যোগ নেওয়া হল, তার জন্য নির্ধারিত হল ১৫ বছর সময়।

  • পাকিস্তান রাষ্ট্র বলপূর্বক বাংলাদেশের উপর উর্দু চাপানোর চেষ্টা করেছিল, কিন্ত ভারত রাষ্ট্র সেই একই কাজ শুরু করেছিল জনসাধারনের অনুমতিক্রমে এবং এই অনুমুতি ছিল আইডিওলজিক্যাল এবং ম্যানিপুলেটেড । মানে চয়েস দেওয়া হয়েছে ঠিকই, কিন্তু অপশন একটাই, এরকম একটা ব্যপার । রাষ্ট্র জানত যে জোরপূর্বক অহিন্দিভাষীদের হিন্দি গেলানো যাবে না, আদর করে মাথায় হাত বুলিয়ে গেলাতে হবে । পপুলার মিডিয়া হিসাবে বোম্বে ফিল্ম বিনোদন জগতকে তোল্লায় দেওয়ার কাজ শুরু হল। ১৯৪০ থেকে ১৯৬০ এই সময়টা বোম্বে ফিল্ম জগতের স্বর্ণযুগ । মারাঠাদের রাজ্যে মারাঠাদের শহর বোম্বেতে একটি হিন্দিভাষাকেন্দ্রিক বিনোদন জগৎ এভাবে ফুলেফেঁপে উঠল কাদের পৃষ্ঠপোষকতায় এটা আমাদের অনেক আগেই ভাবা উচিৎ ছিল । এটা ঠিক যে এসম্পর্কীয় কোন প্রমানস্বরুপ তথ্য নেই কিন্তু ব্যক ক্যালকুলেশন করলে অঙ্কটা খাপে খাপ মিলে যায় ।

    অল ইন্ডিয়া রেডিওতে হিন্দি ভাষায় সম্প্রচার, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির হিন্দিতে দেওয়া বয়ান, কেবল হিন্দিতে লেখা দেশাত্মবোধক গানগুলো জাতীয় ক্ষেত্রে প্রমোট করা, হিন্দিতে জাতীয় ধ্বনী, বাংলায় লেখা জাতীয় সঙ্গীতের হিন্দিকরন সবই হিন্দিকে "লিঙ্গুয়া ফ্রাঙ্কা" বানানোর যে রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা তারই অঙ্গ । "কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় সংগঠন" গঠনের প্রসঙ্গটাও আনা যায় । এখন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হাজারের উপর কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়, মাধ্যম ইংরাজি, এবং দ্বিতীয় ভাষা হিসাবে কেবল হিন্দি, অন্য ভাষার জায়গা নেই । মানে কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়টা আপনার নিজের এলাকায় হলেও বাংলা ভাষা চর্চা সেখানে নাজায়েজ । কিন্তু এতসব কিছু করেও রাষ্ট্র সংবিধান প্রণয়নের ১৫ বছর হতে চললেও অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে পারে নি । তড়িঘড়ি ১৯৬৩ তে সংসদে "অফিসিয়াল ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যাক্ট" পাস হয় । হিন্দি এবং ইংরাজীকে দাপ্তরিক ভাষার স্বীকৃতি দেওয়া হয় এবং সরকারিভাবে নীতি গৃহিত হয় যে বিদেশী ভাষা ইংরেজির ব্যবহার ধীরে ধীরে কমিয়ে পুরোপুরিভাবে হিন্দি কায়েম করা হবে । এই দাপ্তরিক ভাষা হিসাবে হিন্দির স্বীকৃতিটাই আমাদের ভ্রান্ত ধারনায় জারিত হয়ে "রাষ্ট্রভাষা" হয়ে গেছে । ১৯৬৫ তে এই আইন লাগু হলে উদ্বিগ্ন হয়ে প্রতিবাদে ফেটে পড়ে তামিল নাড়ুর কলেজপড়ুয়ারা, অনেকে আত্মাহুতি দেন । হিন্দির দালালি তারা মেনে নেয় নি। এমন নাছোড়বান্দা আন্দোলন তাদের ভাষিক জাতীয়তাবাদী চেতনার বহিঃপ্রকাশ ।

    এহেন প্রতিবাদের জেরে কিছুটা পিছু হটে রাষ্ট্র । তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী লালবাহাদুর শাস্ত্রী ঘোষনা দেন যে ভারতের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগন যতদিন চাইবে ততদিন ইংরাজি দাপ্তরিক ভাষা হিসাবে টিকে থাকবে । কিন্তু আদতে পর্দার আড়ালে অহিন্দিভাষীদের উপর হিন্দি চাপানোর নীতি থেকে সরেনি রাষ্ট্র । তার জলন্ত প্রমান ১৯৬৮ সালের "ত্রিভাষা সুত্র" নীতি । এই নীতি অনুযায়ী বিদ্যালয় পরিসরে আঞ্চলিক ক্ষেত্রে নিজ ভাষা, জাতীয় ক্ষেত্রে হিন্দি এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ইংরাজি ভাষা, সর্বমোট তিনটি ভাষা শেখা বাধ্যতামূলক । এই নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদস্বরুপ ব্যঙ্গ করে তামিল নাড়ুর তৎকালীন মূখ্যমন্ত্রী সিএন আন্নাদুরাই বললেন --- " জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে দুটি আলাদা আলাদা ভাষার জন্য তদবির করার অর্থ হল দেওয়ালে বেড়াল বার করার জন্য একটা বড় ফুটো রাখা আছে, তবুও আবার ইঁদুরের জন্য আর একটা ছোট ফুটো করা হল, কিন্তু বেড়ালের জন্য রাখা বড় ফুটোতেই তো দুটো কাজ হয়, তাহলে আবার ছোট ফুটো করা কেন ?" ত্রিভাষা সুত্রকে এভাবেই তামিল ও তেলেগু মানুষজন ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়েছিল ।

    অনেকে প্রশ্ন করতে পারেন দেশীয় ভাষা হিন্দির থেকেও কি বিদেশী ভাষা ইংরাজী আপন যে তার জন্য ওকালতি করতে হবে ? কিন্তু প্রশ্নটা "আপন-পর" এর নয়, যৌক্তিক বুদ্ধির । কেউ মানুক আর না মানুক, ইংরাজি এখন গ্লোবাল ল্যাঙ্গুয়েজ, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বিরুদ্ধশূন্য অপ্রতিদ্বন্দ্বী "লিঙ্গুয়া ফ্রাঙ্কা" । এটা বিগত দুই শতকের প্রায় বিশ্বজোড়া ঔপোনিবেশিক ইংরেজ শাসনের ফসল । তাই বাস্তববোধ বলে ভারতের কোন ভাষাকেই এই পর্যায়ে উন্নীত করা প্রায় অসম্ভব । ইংরাজী ভাষা ও সাহিত্য বহগুনে সমৃদ্ধ, বিশ্বজোড়া কদর । কম্পিউটার ইন্টারনেটের যুগে ভাষাটি না শিখতে চাওয়া মানে প্রভূত সাহিত্যরস এবং বিজ্ঞানভিত্তিক ও সমাজতাত্ত্বিক বৃহৎ জ্ঞানভান্ডার থেকে নিজেকে বঞ্চিত রাখা । কিন্তু হিন্দির সেই লেভেলের ষ্টেটাস নেই, তুলনায় বাংলা ভাষার মাধূর্য এবং শব্দনির্মান ক্ষমতা ও গঠন কাঠামো হিন্দির থেকে উন্নত । বাংলা সাহিত্যেও হিন্দি সাহিত্যের থেকে কয়েক যোজন এগিয়ে । আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ইংরাজি শেখাটা যখন আবশ্যিকতা, তখন জাতীয় স্তরে ভাষাটি থেকে গেলে অতিরিক্ত একটি অপ্রয়োজনীয় ভাষা শিক্ষার চাপ থাকে না। অন্যদিকে জাতির জাতীয় ও সাংস্কৃতিক সত্ত্বাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য তার নিজের মায়ের ভাষা তো থাকছেই ।

    পরিশেষে একটা কথা বলার । কোন ব্যাক্তিবিশেষ হিন্দিভাষীর বিরুদ্ধে বিষোদ্গারের জায়গা থেকে নয়, বরং হিন্দি আগ্রাসন সম্পর্কিত বাঙালী জাতির সচেতনতা ও সেটাকে শুধু ঠেকানোর কথা বলেছি । হিন্দিও একটা জনগোষ্ঠীর মায়ের ভাষা, হিন্দিকে ঘিরেও একটা অংশের মানুষের আবেগ জড়িয়ে আছে । এই জায়গাতে ভাষার চরিত্রটি নিরীহ । কিন্তু সাংস্কৃতিক আধিপত্য কায়েমের জন্য রাজনৈতিকভাবে ব্যবহৃত হলে সেই নিরীহ ভাষাটিই হিংস্র হয়ে যায় । যাকে তাত্ত্বিকরা "ভাষাসন্ত্রাস" বলেন । ভাষা নদীর মতো । সময়ের সাথে সাথে নিজের চলার পথে অনেক কিছুকে নিজের করে নেয় । কিন্তু জোর করে সে নদীর গতিপথ পরিবর্তন করতে চাইলে ফল মারাত্মক । তেমনি ভাষা একটি জাতির সংস্কৃতির আধার । ভাষার উপর কোপ পড়লে সাংস্কৃতিক শোষনের পথ প্রশস্থ হয় । শোষিত হতে হতে একসময় দেখা যাবে বাংলা ও বাঙালীয়ানার অস্তিত্বই বিলীন হয়ে যাবে । বিশ্ব-সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলে বাংলার কোন জায়গায় থাকবে না । বহির্দেশের মানুষ "ভারত" বলতে শুধু বুঝবে হিন্দি ভাষা, হিন্দি সাহিত্যে আর গো-বলয়ী চালচলন । বাংলা আর বাংলার সংস্কৃতি এভাবে খাবি খাবে, আর আমরা চোখের সামনে দেখব ? মেনে নেব ? এটা মেনে নেওয়া যায় ?
  • বিভাগ : ব্লগ | ০২ জুন ২০১৯ | ৭১৩৬ বার পঠিত
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • T | 561212.112.4578.134 (*) | ০৬ জুন ২০১৯ ০৯:০৮49078
  • উরেবাবা। বারো ঘন্টার মধ্যেই হাসতে হত নাকি। বলি লোকের কাজকম্মও তো আছে! ঃ))) খিকজ।
    আচ্ছা, এই যে নাহয়,
    হ্যা হ্যা হ্যা...

    নির্মল নির্মল।
  • রঞ্জন | 238912.68.2334.207 (*) | ০৬ জুন ২০১৯ ০৯:৩৮49079
  • @ঈশান ও এলেবেলে,
    আমার একটা কোশ্ন, মানে আমি জানতে চাইছি, কোন তক্কো করতে নয় ঃ
    সুনীতিবাবু নদে জেলা লিখেছেন, ঠিক আছে। কিন্তু আজকের বাস্তবে বিশুদ্ধ/পরিশীলিত বাংলা কোনটা ধরব?
    আমার পক্ষপাত গঙ্গার দু'পাড়ে মানে নৈহাটি-ভাটপাড়া-চুঁচড়ো-হুগলীর ব্যবহৃত বাংলা নিয়ে ।
    আমি বংকিম- শরৎ-দীনবন্ধু-- শ্রীজীব ন্যায়তীর্থ--সমরেশ ঐতিহ্যের কথা ধরে বলছি ।
  • Ishan | 2312.106.9002323.218 (*) | ০৭ জুন ২০১৯ ০২:১৩49127
  • আরে আপনি রেগে যাচ্ছেন কেন। বক্তব্যটা তো বুঝতেই চাইলাম।

    আপনি যা বলছেনঃ
    বাংলা বা ইংরিজি মাধ্যম ইশকুলের ছাত্র না হলে এ রাজ্যে বাংলা পড়ার ব্যবস্থা নেই। কারো প্রথম ভাষা নেপালি, সাঁওতালি, তামিল,অসমিয়া, গুজরাটি ইত্যাদি নানা হতেই পারে, কিন্তু পড়লে সে কিছুতেই বাংলা পড়বেনা।
    অন্যত্র এর কী প্রভাব জানিনা, কিন্তু হিন্দি প্রথম ভাষা হতেই পারে, এবং হলে যে বাংলা পড়াই যাবেনা -- এর ফলাফল ভয়াবহ হওয়াই উচিত। "পড়াই যাবেনা"র ঠিক উল্টো দিকে "পড়তেই হবে" টাই আমি যুক্তিযুক্ত মনে করি।

    যদি ঠিক বুঝে থাকি তো আপনার কথাটা যুক্তিযুক্ত এবং এতে আমি সম্পূর্ণ একমতই হচ্ছি। আগে বুঝলে আগেই হতাম। :-)
  • dd | 90045.207.0156.183 (*) | ০৭ জুন ২০১৯ ০৩:১৫49128
  • আরে, আমিও রাগি নি।
  • এলেবেলে | 230123.142.9001212.70 (*) | ০৭ জুন ২০১৯ ০৪:০৯49129
  • ঈশান

    মূল লেখাটা যাঁর সেই সম্রাট আমার বন্ধু, পেশায় শিক্ষক। ও দিব্যি ইদের আনন্দ করছে আর আমি খটখট! আমি একবিন্দু রাগিনি। '"পড়াই যাবেনা"র ঠিক উল্টো দিকে "পড়তেই হবে" টাই আমি যুক্তিযুক্ত মনে করি'। আমিও মনে করি। কিন্তু সমাধানের পথ নেই। ত্রি-ভাষা সূত্র নেই। ভবিষ্যতে হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। শিক্ষাব্যবস্থা এখন আড়াআড়ি ভাগে বিভক্ত। ৮ শতাংশ বড়লোক বনাম ৯২ শতাংশ ছোটলোক। কাজেই চারিদিকে অন্ধকার।
  • এলেবেলে | 230123.142.0189.221 (*) | ০৭ জুন ২০১৯ ০৭:২২49111
  • এবারে একেবারে বিশদে বোঝানোর চেষ্টা করছি (এই নিয়ে কতবার?)।

    পশ্চিমবঙ্গে পর্ষদের অধীনে ছাত্রছাত্রীদের বাংলা-হিন্দি-উর্দু-নেপালি-সাঁওতালি এবং ইংরেজি মাধ্যমে পড়ার সুযোগ আছে। কেবল ইংরেজি মাধ্যমে পড়া ছেলেমেয়েদের দ্বিতীয় ভাষা হতে পারে বাংলা অথবা নেপালি। বাকি সমস্ত মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে ইংরেজি নেওয়া বাধ্যতামূলক। এটা শুধু মাধ্যমের আগ্রাসন। যেখানে ছেলেমেয়েরা ইচ্ছে থাকলেও সরকারি নিয়মেই বাংলা পড়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত এবং এদের সংখ্যাটা খুব কম নয়। এটা আগ্রাসনের প্রথম ধাপ।

    এবার আগ্রাসনের দ্বিতীয় ধাপ। পশ্চিমবঙ্গে পর্ষদের অধীনে ছাত্রছাত্রীদের প্রথম ভাষা হিসেবে বেছে নেওয়ার সুযোগ আছে অসমিয়া-বাংলা-ইংরেজি-গুজরাটি-হিন্দি-মালয়ালম-মারাঠি-লুসাই-আধুনিক তিব্বতি-নেপালি-ওড়িয়া-গুরুমুখী-সাঁওতালি-সাদানি-তেলুগু-তামিল এবং উর্দু সহ মোট ১৭টি ভাষার মধ্যে একটিকে। অস্যার্থ, যে সব পড়ুয়া বাংলা বা ইংরেজিকে প্রথম ভাষা হিসেবে বাছবে না, তাদের আর বাংলা ভাষা পড়ার সুযোগ নেই। এই সুযোগ তাদের থেকে কেড়ে নিয়েছে সরকার, তাঁদের অভিভাবকরা নন।

    নিজের রাজ্যের রাজধানীকে দিল্লি-মুম্বই-চেন্নাই ছাড়া আর কারও সঙ্গে বসাতেই পারব না অথচ এ রাজ্যে প্রথম ভাষা হিসেবে কেন এতগুলো ভাষা থাকবে তা জেনে চোখ কপালে তুলব? বাঃ! শুধু অজ্ঞতাই নয়, চরম উদাসীনতা এই আগ্রাসন নিয়ে। ধিক এই এলিট মানসিকতাকে।

    ছাত্রসংখ্যা কমছে সরকারি স্কুলে। সারা রাজ্যে তার সংখ্যা কত? মেরেকেটে ৫০টা। আর যে অসংখ্য সরকার-পোষিত স্কুলগুলোতে ছাত্র উপচে পড়ছে, এগারো-বারোতে বাংলা-ইংরেজির ক্লাস হচ্ছে বিশালতম ঘরটিতে মাইকের সাহায্য নিয়ে তাদের খবর কে রাখে?
  • S | 458912.167.34.76 (*) | ০৭ জুন ২০১৯ ০৭:২৬49112
  • আমাদের ঐ ছোট্ট এলাকাতেই বেশ অনেক্গুলো স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে। সেই হিসাবে শুধু কোলকাতাতেই ৫০এর উপরে স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়া উচিত। অবশ্য কোনও পরিসংখ্যান নেই।
  • এলেবেলে | 230123.142.0189.221 (*) | ০৭ জুন ২০১৯ ০৭:৩৪49113
  • সরকারি স্কুল মানে পিএসসি দিয়ে ঢুকতে হয়। সংখ্যা মেরেকেটে ৫০। সরকার-পোষিত মানে এসএসসি দিয়ে ঢুকতে হয়। সংখ্যা ৫০ বাদে সব। সারা রাজ্যে।
  • S | 458912.167.34.76 (*) | ০৭ জুন ২০১৯ ০৭:৪৪49114
  • এতো সবাই জানে। সরকারি স্কুল বলতে সরকার-পোষিত স্কুলও বোঝানো হয়েছে।
  • lcm | 900900.0.0189.158 (*) | ০৭ জুন ২০১৯ ০৯:০৯49115
  • আমি জানি না, জানতে চাই। আচ্ছা, ঐ ৫০ টা স্কুল কারা ? বালীগঞ্জ গভর্নমেন্ট হাইস্কুল? যেসব স্কুলের নামের মধ্যে 'গভর্নমেন্ট' শব্দটা আছে - সেগুলো?
  • এলেবেলে | 230123.142.0189.221 (*) | ০৭ জুন ২০১৯ ০৯:১৮49116
  • এলসিএম, একদম ঠিক। হিন্দু, হেয়ার, বালিগঞ্জ গভ, টাকি, বিধাননগর, বেথুন ইত্যাদি। জেলায় স্কুলগুলোর পরে সাধারণত জেলা স্কুল লেখা থাকে। কৃষ্ণনগরে কলেজিয়েট, কোচবিহারে জেনকিন্স ইত্যাদি। গড়ে জেলাপিছু দু'টো - একটা বয়েজ, অন্যটা গার্লস।
  • রঞ্জন | 238912.68.7834.156 (*) | ০৭ জুন ২০১৯ ০৯:৩৩49117
  • এলেবেলে,
    একটু শান্ত হয়ে বলুন না ! এক্কেবারে ক্রুসেডের মত লাগছে, অথবা
    ধরে নিচ্ছি এ'পাড়ায় আপনি বাদে সবাই এলিট মানসিকতায় ভুগছে। কিন্তু আপনি তো এইসব কাফিরদের বোঝাতে চাইছেন। দীক্ষিতদের মধ্যে বলছেন না ।
    ১ সরকারি স্কুল বন্ধ হচ্ছে অথচ সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুল হচ্ছে না ? সেখানে ছাত্র উপচে পড়ছে?
    ২ গুপ্তিপাড়ার কাছে একটি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলে আমার ভাইঝি এস এস সি পাশ করে পড়াচ্ছে। ও বলছে বন্ধ হয়নি বটে, কিন্তু নতুন খোলা অর্ধপক্ক ইংরেজি মিডিয়ামের দৌলতে এদের ছাত্র সংখ্যা ক্রমাগত কমছে। কারণ গার্জেনরা চান ইংরেজি মাধ্যমে পড়াতে। আগে তারকেশ্বর থেকে আট কিমি দূরে একটি স্কুলে পড়াত, সেখানেও একই ছবি। তবে যত বেশি শহরের কাছে, তত দ্রুত কমছে।
    ৩ আপনার পয়েন্ট বুঝতে পারছি। সরকার চাইছে ইংরেজি পড়াতে হবে। তাই প্রথম বা দ্বিতীয় , কোন একটা ভাষা ইংরেজি হতেই হবে। ফলে যাদের মাতৃভাষা বাংলা নয় বা ইংরেজি প্রথম ভাষা নয় , তারা বাংলা পড়ার সুযোগ পাচ্ছে না ।----- কিন্তু এখানেই প্রশ্ন। ইংরেজি না পড়তে পেলে বাপ-মা সেই স্কুলে পড়াবে না । যার মাতৃভাষা বাংলা নয় , সে দ্বিতীয় ভাষা বাংলা কেন নেবে, ইংরেজিই নেবে।
    সেটায় আপনার আপত্তি। আপনার সমাধান?
    আমার সমাধান ত্রিভাষা ফর্মূলা মেনে বাংলাকে থার্ড ল্যাঙ্গুয়েজ হিসেবে পড়ার ব্যবস্থা ।
  • lcm | 900900.0.0189.158 (*) | ০৭ জুন ২০১৯ ০৯:৩৪49118
  • পশ্চিমবঙ্গে সরকারি স্কুল, মানে সরকার-পোষিত স্কুল, তার সংখ্যা অনেক এবং সংখ্যাটা জনসংখ্যার অনুপাতে বেড়েছে।

    ১৯৫১ -- ১,২৭০টি স্কুল
    ১৯৬৩ -- ২,৩১২ স্কুল
    ১৯৭৫ -- ৮,০০০ এর ওপর
    ২০১৮ - ১০,০০০ এর ওপর

    এর বেশির ভাগই বাংলা মিডিয়াম স্কুল
  • S | 458912.167.34.76 (*) | ০৭ জুন ২০১৯ ০৯:৩৭49119
  • পপুলেশান ১৯৭৫ থেকে ২০১৮ অবধি ২গুন হয়েছে।
  • রঞ্জন | 238912.68.7834.156 (*) | ০৭ জুন ২০১৯ ১০:০০49121
  • এবং সাক্ষরতার দরও বেড়েছে, বিশেষতঃ মহিলাদের মধ্যে।
  • lcm | 900900.0.0189.158 (*) | ০৭ জুন ২০১৯ ১০:০৭49122
  • বড় শহর, শহরতলী, মফঃস্বল শহরে প্রাইভেট ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের সংখ্যা বেড়েছে, এবং বাড়ছে, এর প্রভাব স্থানীয় সরকারি বাংলা মিডিয়াম স্কুলে কিছুটা পড়বেই। পশ্চিমবঙ্গে আইসিএসই এবং সিবিএসই বোর্ড মিলিয়ে প্রায় ৬০০ স্কুল এখন, প্রচুর বেড়েছে।
  • এলেবেলে | 230123.142.0189.221 (*) | ০৭ জুন ২০১৯ ১০:২০49123
  • রঞ্জনবাবু

    ধ্যাত! রাগ কোথায় করলাম? দুঃখ পাচ্ছি বরং। আমার ভাষাশিক্ষার ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা ২৯ বছরের। একটি মফস্‌সলের বাংলা মাধ্যম স্কুল যেখানে ছাত্রসংখ্যা গড়ে প্রতি বছরে ১২৫০-১৩৫০। সেখানে এগারো-বারোর ভাষার ক্লাসগুলোতে বিশাল হলঘরে মাইকের সাহায্য নিয়ে পড়াতে হয়। এবং তা শহরের অন্য স্কুল থেকে মোটেই ব্যতিক্রম নয়।

    এইবারে আসি আপনার প্রশ্নে।
    ১) 'সরকারি স্কুল বন্ধ হচ্ছে অথচ সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুল হচ্ছে না ? সেখানে ছাত্র উপচে পড়ছে?'

    হ্যাঁ, দু'টো কারণে এটা ঘটছে। প্রথম কারণ ভৌগোলিক সুবিধা। সরকারি স্কুলগুলো প্রায় সবক'টাই জেলা সদরে অবস্থিত। সেখানে বর্তমানে ইংরেজি মাধ্যমে পড়ার সু্যোগও বেশি। তাই যে অভিভাবক হয়তো নিজে ওই সরকারি স্কুলটায় পড়েছেন, সেই তিনিই তাঁর সন্তানকে ভর্তি করছেন ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে। দ্বিতীয় কারণ হল ভর্তি ক্ষেত্রে লটারি। আগে অ্যাডমিশন টেস্ট ছিল বলে সরকারি স্কুলগুলোর রেজাল্ট বেশ ভালো হত। কিন্তু এই লটারির কারণে একেবারে প্রথম থেকেই বেশ কিছু 'কাঁচা' পড়ুয়া সেখানে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। অষ্টম শ্রেণি অবধি পাশ-ফেল না থাকায় তারা নাইনে উঠে যাচ্ছে টপাটপ। 'বাবু'-র ছেলেদের সঙ্গে এই 'ছোটলোক'-দের ছেলেপুলেদের অবাধ পাঠের ব্যবস্থা স্বাভাবিকভাবেই বাবুদের সরকারি স্কুলবিমুখ করছে।
    কিন্তু যারা এই ভৌগোলিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত সেই অজস্র মফস্‌সল শহরগুলোতে পড়ার আর বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় সেখানে ছাত্রস্ফীতি ঘটছে অস্বাভাবিক হারে। সঙ্গে গোদের ওপর বিষফোঁড়া শিক্ষকস্বল্পতা। সব মিলিয়ে সরকারি স্কুলের সার্বিক চিত্র খুব আশাপ্রদ হতে পারছে না।

    ২) আপনার প্রথম প্রশ্নের উত্তরেই লুকিয়ে আছে এর উত্তরটাও।

    ৩) ইংরেজি কেন নেবে না? নিতেই হবে। লেভেল-প্লেয়িং ফিল্ডের জন্য। মূল সমস্যা এখানে দু'টো। প্রথম সমস্যা মাধ্যমগত। বাংলা-ইংরেজি ছাড়াও হিন্দি-উর্দু-নেপালি-সাঁওতালি স্কুল যা চট করে তুলে দেওয়া সম্ভব নয়। দ্বিতীয় সমস্যা প্রথম ভাষা হিসেবে বেছে নেওয়ার জন্য ১৭টি ভাষার উপস্থিতি। সেটাও চট করে বন্ধ করা সম্ভব নয়।

    না, এখনও অবধি ত্রি-ভাষা সূত্র চালু আছে কেবল সেভেন-এইটে। ১৯৮১ সাল থেকে।

    এবং এবং এবং এই দু'টো সমস্যার একটাও তিনো আমলে তৈরি নয়!!!
  • S | 458912.167.34.76 (*) | ০৭ জুন ২০১৯ ১০:২০49124
  • আমি প্রাইমারিতে যে প্রাইভেট স্কুলে পড়েছি, আমাদের বাড়িতে যে মেয়েটি রান্না করে তার ছেলে-মেয়ে দুটিও সেখানেই পড়ে/পড়েছে। স্কুলের ফিজ তো বেড়েছে, সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আনুষঙ্গিক এতোকিছু খরচ যুক্ত হয়েছে যে কি বলবো। এটি অবশ্যি বাংলা মাধ্যম।
  • S | 458912.167.34.76 (*) | ০৭ জুন ২০১৯ ১০:২২49125
  • আমিও যে স্কুলে পড়েছিলাম সেখানে ছাত্র সংখ্যা ছিলো ১২০০ মতন। কোনোদিনও মাইক ব্যবহার হয়নি। এক একটি সেক্শনে ৫০-৬০ জন থাকতো। সেকশানের সংখ্যা কমেছে? শিক্ষকও কমেছে, তার মানে।
  • রঞ্জন | 238912.68.7834.156 (*) | ০৭ জুন ২০১৯ ১০:৪২49126
  • আমি ষাটের দশকে বরানগর মিশনের বাংলা স্কুলে পড়েছি।
    তখন সিক্স থেকে এইট (কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে) অব্দি হিন্দি ও সংস্কৃত পড়তে হত । সংস্কৃতে ক্লাস এইটে ৭৫% পেলে কোন একটা বৃত্তি পাওয়া যেত।
    তখন নাইন-টেন-ইলেভেনে আলাদা স্ট্রিম হয়ে একসংগে হায়র সেকন্ডারি পরীক্ষা দিতে হত । প্রত্যেক পেপারে ৫০ নম্বর নাইন+টেন কোর্স থেকে , বাকি পঞ্চাশ ইলেভেনের কোর্স থেকে । আমাদের হাড় ভাজা ভাজা হয়ে গেছল। শত্তুরেরও যেন অমন পড়া না পড়তে হয়।
  • পরশুরাম | 7834.139.89.104 (*) | ০৯ জুন ২০১৯ ০৪:২৭49130
  • বাংলাদেশ পরদেশীতে ভরিয়া গিয়াছে। তাহাদের এক দল এদেশের কুলী মজুর ধোবা নাপিত কামার কুমার মাঝী মিস্ত্রীকে স্থানচ্যুত করিতেছে, আর এক দল দেশী বণিকের হাত হইতে ছোট বড় সকল ব্যবসায় কাড়িয়া লইতেছে এবং নূতন ব্যবসায়ের পত্তন করিতেছে। শিক্ষিত বাঙালী লোলুপ নেত্রে এই শেষোক্ত দলের কীর্তি দেখিতেছে কিন্তু তাহাদের পদ্ধতিতে দন্তস্ফুট করিতে পারিতেছে না। এইসকল পরদেশী ইংরেজী বিদ্যা জানে না, economics বোঝে না, ইহাদের হিসাবের প্রণালীও আধুনিক book-keeping হইতে অনেক নিকৃষ্ট, অথচ বাণিজ্যলক্ষ্মী ইহাদের ঘরেই বাসা লইয়াছেন। ইহারা বিজ্ঞানের খবর রাখে না, নূতন শিল্প প্রতিষ্ঠা করিতেও খুব ব্যস্ত নয়, কারণ ইহারা মনে করে পণ্য উৎপাদন অপেক্ষা পণ্য লইয়া কেনাবেচা করাই বেশী সহজ এবং তাহাতে লাভের নিশ্চয়তাও অধিক। ইহারা নির্বিচারে দেশী বিলাতী প্রয়োজনীয় অপ্রয়োজনীয় উপকারী অপকারী সকল পণ্যের উপরেই ব্যবসায়ের জাল ফেলিয়াছে। উৎপাদকের ভাণ্ডার হইতে ভোক্তার গৃহ পর্যন্ত বিস্তৃত ঋজুকুটিল নানা পথের প্রত্যেক ঘাটিতে দাঁড়াইয়া ইহারা পণ্য হইতে লাভ আদায় করিয়া লইতেছে।

    শিক্ষিত বাঙালী কতক ঈর্ষার বশে কত অজ্ঞতার জন্য এইসকল পরদেশীর কার্যপ্রণালী হেয় প্রতিপন্ন করিতে চেষ্টা করেন। ইহারা বর্বর অশিক্ষিত দুর্নীতিপরায়ণ, টাকার জন্য দেশের সর্বনাশ করিতেছে। ইহারা লোটাকম্বল সম্বল করিয়া এদেশে আসে; যা-তা খাইয়া যেখানে সেখানে বাস করিয়া অশেষ কষ্ট স্বীকার করিয়া কৃপণের তুল্য অর্থসঞ্চয় করে। ধনী হইলেও ইহারা মানসিক সম্পদে নিঃস্ব। ভদ্র বাঙালী অত হীনভাবে জীবিকানির্বাহ আরম্ভ করিতে পারে না, তাহার ভব্যতার একটা সীমা আছে যাহার কমে তাহার চলে না। অতএব দখোদরের জন্য সে খোট্টার শিষ্য হইবে না।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

কুমুদি পুরস্কার   গুরুভারআমার গুরুবন্ধুদের জানান


  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লাজুক না হয়ে প্রতিক্রিয়া দিন