এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • ভাটিয়ালি

  • এ হল কথা চালাচালির পাতা। খোলামেলা আড্ডা দিন। ঝপাঝপ লিখুন। অন্যের পোস্টের টপাটপ উত্তর দিন। এই পাতার কোনো বিষয়বস্তু নেই। যে যা খুশি লেখেন, লিখেই চলেন। ইয়ার্কি মারেন, গম্ভীর কথা বলেন, তর্ক করেন, ফাটিয়ে হাসেন, কেঁদে ভাসান, এমনকি রেগে পাতা ছেড়ে চলেও যান।
    যা খুশি লিখবেন। লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়। এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই। সাজানো বাগান নয়, ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি। এই হল আমাদের অনলাইন কমিউনিটি ঠেক। আপনিও জমে যান। বাংলা লেখা দেখবেন জলের মতো সোজা। আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি।
  • এস-আই-আর গুরুভার আমার গুরু গুরুতে নতুন? বন্ধুদের জানান
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Atoz | ২৬ অক্টোবর ২০১৩ ০৩:৪৮176820
  • থ্যাংকু ছোটাই। তাকে বলবো। অবশ্যই বলবো।
  • i | ২৬ অক্টোবর ২০১৩ ০৩:৪৬176819
  • তা কেন এ টু জেড? সে উপন্যাস লিখবে না কেন? নির্দিষ্ট স্পেসের ব্যাপারটা থাকবেই। এটা মাথায় রেখেই এগোতে হবে তাকে। তবে আগে ভাগে বলে দেয় যদি এই শব্দের মধ্যেই লিখতে হবে, তবে লেখাটা সেভাবে তৈরি করা যায়। লেখক ব্যতীত অন্য কেউ এডিট করলে সেলাইএর দাগ গুলো চোখে পড়ে। ঠিকই বলেছ।

    অশেষ আকাশের ক্ষেত্রে, মূল লেখাটি -ই যেন বই হিসেবে বেরোয় -সে ব্যাপারে কিছু করা যায় কি না তাকে দেখতে বোলো। ভালো থেকো। তাকে আমার শুভেছা দিও। এখন আসি।
  • Atoz | ২৬ অক্টোবর ২০১৩ ০৩:৩৯176818
  • ছোটাই, কোনো ধারণাই ছিল না এইভাবে এত শব্দ বাদ চলে যায় এডিট হয়ে, পুরো প্যাটার্ণটাই কেমন যেন বদলে গেছে ঃ-(। যদিও মূল আখ্যানভাগ একই আছে।
    এ যেন একটা বড়ো কল্কাওয়ালা চাদর থেকে কল্কাগুলোর আবশ্যিক অংশগুলো কেটে কেটে তুলে নিয়ে সেগুলো সেলাই করে জুড়ে দিয়েছে। সেলাইয়ের দাগগুলো পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে! ঃ-(
    কিন্তু ঐ পক্ষের দিক থেকে তাঁরাও বলবেন নির্দিষ্ট স্পেসে ফিট করাতে হবে, তাই নিরুপায়।
    এমনি ছোটোগল্পগুলোর ক্ষেত্রে এ জিনিস কিন্তু দেখিনি, একটা শব্দও কখনো বাদ যায় নি। ভাবছি তাকে বলবো সে ছোটোগল্পই যেন লেখে। ঃ-)
  • riddhi | ২৬ অক্টোবর ২০১৩ ০৩:৩১176817
  • অরিন্দম দাস বলে এক জনতা ফেসবুকে এইটা লিখেছে " Fyatararuder nabarun motei icon rupe dekhanni. Tader gota karjokolap establishmenter ekta baal-o chirte pare na. Nabaruner protagonist-ra sobai seshmesh porajito.Herbert suicide kore ranojoy pagol hoye jay ebong fyatararurao biplob fele rekhe khilli kore...
  • riddhi | ২৬ অক্টোবর ২০১৩ ০৩:২২176816
  • ফিলিয়া অবদি মানছি, কিন্তু বিপজ্জনক টা কেন?! ঃx

    অবশ্য এটা সিমান্টিক্স হতে পারে। আমারা ইন্টেলেকচুয়ালরা "বিপজ্জনক" কথাটা ইউস করতে খুব ভালবাসি। কিছুতেই -বাল ছেড়া-যায়-না জগতে একটু কৃত্তিম উত্তেজনা আনার জন্য।
    লোকাল পার্টি অফিসের রণেশ দা একবার আমাকে এইভাবে বকে দিয়েছিল। আমি কোন এক দাঙ্গার বিবরণ দিতে গিয়ে বলেছিলাম তারপর তো মুসলমানরা তলোয়ার নিয়ে তেড়ে এল। তখন রণেশ দা-" পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তোর এই মূল্যায়ন কিন্তু বিপজ্জনক মোড় নিতে পারে"। তদ্দিন পর্য্ন্ত কালীপুজোয় বাজি ছাড়া বিপজ্জনক কিছু মনে হয়নি।
  • riddhi | ২৬ অক্টোবর ২০১৩ ০৩:১৩176815
  • আর ঈশানের মত পোস্ট মর্ডান গুরুর কাছে নৈতিক ফৈতিক শুনলে বাজে লাগে। দিস নৈতিকতা বেটার বি fuzzy। টিনের তলোয়ারের কাপ্তান বাবু যেমন আঙ্গুর( প্রাক্তন বেশ্যা, দারুন অভিনেত্রী, অর্ধেন্দু মুস্তাফির শিষ্যা) কে বলেছিল,"আঙ্গুর, তোমার মুখে সতীত্বের কথা শুনলে আমার হাসি পাই"
  • π | ২৬ অক্টোবর ২০১৩ ০৩:০৮176814
  • ফ্যাতাড়ু একটা সেফ এবং স্টাইলিশ আউটলেট, সেইজন্যেই কি এই ফ্যাতাড়ুফিলিয়া ও সেইজন্যেই সেটা বিপজ্জনক নয়?
  • riddhi | ২৬ অক্টোবর ২০১৩ ০৩:০২176813
  • নৈতিকতা নিয়ে পরে বলছি, কিন্তু কজন মেন্স্ট্রিম বুদ্ধিজীবী ফ্যাতারুকে লুফে নিয়েছে?? বিপজ্জ্নক হবার জন্যও তো একটা বেস চাই।
    তবে বেশ কিছু আপাত গম্ভীর এবং রিলেটিভলি ওয়েল নোন বুজীরা (ঠিক সাহিত্য জগতের নন) যে পাগলের মত ফ্যাতরু ফ্যান এটা পরে জেনেছি। জেনে খুব অবাক হয়েছি এম আই টি হার্ভার্ডের পাগলাচোদা বুদ্ধিযিবীরা যেমন কেউ পর্ণ ফ্যানাটিক বা ক্কেউ ডেভিল/কাল্ট ওয়ার্শিপার, আমাদের আউটলেট তেমন-ফ্যাতরু।
    এই বুজীদের মধ্যে ফ্যাতারুফিলিয়া একটা ইন্টারেস্টিং সাবজেক্ট। কিছু ইন্টেলেকচুয়াল পার্সুট থাকে যেখানে পুরো ল্যাংটো হয়ে একা একা কিছু একটার পিছনে ছুটতে হয়। সেসবের পরে ঠুনকো সামাজিকতা যেখানে নানরকম মিথ্যার লেয়ার থাকে অসহ্য মনে হয়। তখন সাহিত্য হিসেবে ফ্যাতারু, আর সঙ্গী হিসেবে রেন্ডি ছাড়া কিছু ভাল লাগবে না।
  • i | ২৬ অক্টোবর ২০১৩ ০২:৫৫176812
  • এ টু জেড-কাল রাত পৌনে ৮ এর পোস্টঃ
    আমারও তাই মনে হয়েছিল। এইগুলো বড্ড খারাপ লাগে।
  • π | ২৬ অক্টোবর ২০১৩ ০২:৪৮176811
  • http://ebela.in/details/12356-32040.html
    দুটি কারণে ব্যোমকে গেলাম। এক তো খবরটা পড়ে। রোজের চাল, মাংসের হিসেব আর সম্ভাব্য খরচের কথা ভেবে।
    দুই, এটা খবর হয়েছে বলে।
  • riddhi | ২৬ অক্টোবর ২০১৩ ০২:৪১176810
  • "পরবর্তী স্টপ ফ্যাতরুপনা" এটা একটা বড়সড় রাজনৈতিক দর্শন গোছের। সিরিয়াস ব্যাপার। এটা উপন্যাস ঈ; তে প্রোমোট করতে হলে নিজেকে সেটাতে কিছুটা সাবস্ক্রাইব করতে হয়। অন্য লেখক হলে একটা কথা ছিল। লেখক কে? নবারুন!!

    যার সুস্পস্স্ট রাজনৈতিক এলাইনমেন্ট আছে। যার এইসব ফ্যাতারু মেথড নিয়ে নিজেরি কোন ইলুশান নেই।
    আইকন হিসেবে তুলে ধরছে না ধরা হচ্ছে এই নিয়ে পুরো আলাদা তর্ক হতে পারে। এটা অনেকটা বিজ্ঞাপনে নারী দেহ প্রদর্শন টাইপ ব্যাপার।
  • ঈশান | ২৬ অক্টোবর ২০১৩ ০২:০৪176809
  • নকশালপন্থা শেষ, পরবর্তী স্টপ ফ্যাতাড়ুপনা -- এইটা ফ্ল্যাট। বাকি জায়গায় নানা মোচড় আছে। কলমের জোর তো আছেই।
  • ঈশান | ২৬ অক্টোবর ২০১৩ ০২:০২176808
  • নানা, নবারুণ আইকন হিসেবেই তুলে ধরেছেন তো। সেখানে কলমের জোরও আছে।

    আর বিপজ্জনক মনে হবার কারণটা খানিকটা নৈতিক। যে কারণে র‌্যাম্বো ভাল্লাগেনা। আর বাকিটা শৈল্পিক। একটি আইকন মানেই তার চারপাশের রিয়েলিটির সূক্ষ্মতা হাওয়া হয়ে যাওয়া। ফোকাস শুধু আইকনে।
  • riddhi | ২৬ অক্টোবর ২০১৩ ০২:০১176807
  • আর একদম ফ্ল্যাট বিশ্ববোধ কি? ফ্যাতরু গল্প পুরোটাই গাড় মারামারি এমন তো নয়। বরং এই মারামারির মাঝখানের সময়, লোকে অদ্ভুত অদ্ভুত স্বপ্ন দেখে। বাতেলাবাজদের বার্ফাট্টাই যখন ধরা পড়ে, তারা ভ্যা ভ্যা করে কেঁদেফেলে, (বজরা ঘোষ মনে করুন, যার কোন বই ই ছাপা হয়নি), মাল গাঁজা নুনুকামানের পেছনে এরা শিশুর থেকেও ভালনারেবল। এগুলো ও তো আছে।
  • riddhi | ২৬ অক্টোবর ২০১৩ ০১:৫৩176806
  • ..ঈশান দা, কোন চরিত্রর স্টাইল স্টেটমেন্ট বা আইকন হওয়ায় পাঠকের বড় হাত থাকে। নবারুন লিখলেই আইকন হয়ে যায় না। ফ্যাতারু আইকন কিনা, তার জন্য আমাকে অনেক ফ্যাতারু পাঠকের সাথে কথা বলতে হবে। কিন্তু " মাল খেয়ে খিস্তি মারার মতই সোজা। সেটা ওই তিন নং পয়েন্টে নবারুণ সাপ্লাই করেছেন। যেটা আমি বিপজ্জনক মনে করি।" বিপজ্জনক কেন??
  • riddhi | ২৬ অক্টোবর ২০১৩ ০১:৪৭176805
  • "ধর্মীয় গোঁড়ামিকে এনফোর্স করলে মোটেও জনপ্রিয় হত না কিন্তু মেয়েদের স্টিরিওটিপিকাল ট্রিটমেন্ট, ভদির বেচামণির প্রতি ঐ ডায়লগগুলো বেশ হাততালি উদ্রেককারী রেসপন্স নিয়ে আসছে। কী দিলে গুরু টাইপ।"
    এটা আমিও মানি। কিন্তু ঐ আবার, ধর্ম বা আরো নানা দিকে পলিটিকাল ইনকারেক্টনেস ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। তবে এটা এগ্রি করি, এখানে সবচেয়ে ছাড়ান দেয়া হয়েছে।
  • অভীক | ২৬ অক্টোবর ২০১৩ ০১:৪০176804
  • ভাই রা ঈশান সবটাই বলে দিয়েছে
  • π | ২৬ অক্টোবর ২০১৩ ০১:২৭176803
  • 'নবারুণ বারবার এটাকে প্রোগ্রাম হিসেবে তুলে ধরেন, ফ্যাতাড়ু সিরিজের নানা গপ্পে। বারবার। এবার প্রোগ্রাম যেহেতু, তার কিছু নৈতিকতাও থাকে। সেটা শুধু বর্তমান ব্যবস্থার সমালোচনা নয়। সেটা নতুন একটা নৈতিকতার মডেলও। ফ্যাতাড়ুদের নৈতিকতা, ঘটনাচক্রে শিশুসুলভ। আক্রমণের অংশটুকু বাদ দিলে, বাকিটুকু যা, তা নেহাৎই চালু নৈতিকতা। যেটা ঠিক ক্রিটিসিজম নয়, বরং একটা স্টাইল স্টেটমেন্ট। স্টাইল স্টেটমেন্ট হিসেবে ফ্যাতাড়ুদের নৈতিকতাকে প্রজেক্ট করাটা বিপজ্জনক। কারণ চে যেমন আইকন, ফ্যাতাড়ুরাও এখানে আইকন।'

    এটায় পুরো একমত। বাকি সবকিছুই প্রচলিত নৈতিকতার নামে চলছে, বাস্তব দেখানোর দোহাই পেড়ে, সেখানে পলিটিক্যাল ইন্কারেক্টনেস একটা স্টাইল স্টেটমেন্ট হয়ে দাঁড়াচ্ছে, অথচ আইকন হিসেবে গড়ে তোলার জন্য, প্রোগ্রাম হিসেবে প্রোজেক্ট করার জন্য সচেতনভাবে একটা প্যাকেজিং করা হচ্ছে।
  • ঈশান | ২৬ অক্টোবর ২০১৩ ০১:২৬176802
  • আরও সহজ করেও বলা যায়। ধরুন পাড়ার মোড়ের এক পাগল। জামাকাপড় নেই। কিন্তু অন্যকে সে বলে ন্যাংটো। গায়ে গন্ধ, মুখ ভর্তি দাড়ি। লোকে পাশ দিয়ে গেলে তাকাতে লজ্জা পায়। পাগল তখন তাদের প্যাঁক দেয়। মোটাসোটা থলথলে তেলওয়ালা যায় পাশ দিয়ে। পাগল বলে, কিরে তুই তো পুরো ন্যাংটো। কি থলথলে চর্বি রে প্যান্টের নিচে। রেশনের কত তেল ঝাড়লে এত চর্বি হয়। হ্যা হ্যা।

    এবার এটাকে আপনি তিনভাবে প্রজেক্ট করতে পারেন।
    ১। পাগল আচম্বিতে এমন একটা দৃষ্টিকোণ তুলে ধরছে, যেটা কেউ তুলে ধরেনা। পাগলের দিক থেকে এটা সমালোচনা।
    ২। জামার নিচে যাই চেপে রাখো, হুঁ হুঁ বাওয়া একদিন ফুটে বেরোবেই। কোথা থেকে বেরোবে বলা কঠিন। এখানে যেমন পাগল দুম করে ন্যাংটো করে দিল।
    ৩। লোককে ন্যাংটো বলাটা একটা স্টাইল স্টেটমেন্ট বানিয়ে দেওয়া। এমন একটা ব্যালু সিস্টেম প্রজেক্ট করা, যেখানে লোকে লোককে মাগী আর ন্যাংটো বলে ডাকে। সেটাই স্টাইল।

    নবারুণ এর প্রত্যেকটিই করেন। এবং বুদ্ধিজীবিকূলের কাছে এই তিন নংটির জন্যই বিশেষ জনপ্রিয়। তাঁদের একটা ঘোরপ্যাঁচহীন সোজাসাপ্টা বিপ্লবের অ্যাজেন্ডা দরকার ছিল, যেটা খুব বিপজ্জনকও নয়। মাল খেয়ে খিস্তি মারার মতই সোজা। সেটা ওই তিন নং পয়েন্টে নবারুণ সাপ্লাই করেছেন। যেটা আমি বিপজ্জনক মনে করি। বাকি দুটোর জন্য অজস্র প্রশংসা প্রাপ্য থাকলেও তিন নংটি ও তৎসংলগ্ন অতীব ফ্ল্যাট একটি বিশ্বদৃষ্টিভঙ্গীর জন্য সমালোচনাও প্রাপ্য।
  • ঈশান | ২৬ অক্টোবর ২০১৩ ০১:০৪176801
  • হ্যাঁ, যা বলছিলাম। আগা থেকে গোড়া অব্দি নবারুণের অ্যাজেন্ডা একটাই। খুবই ফ্ল্যাট। বিদ্রোহকে কম্বল চাপা দিয়ে রাখলে সে ফেটে বেরোবেই। ভূতকে বোতলবন্দী করে রাখলে বোতলের পশ্চাদ্দেশ দিয়ে বায়ুনিঃসরণের মতো বেরিয়ে আসবে। সমবেত সুধীজন তখন নাকে হাত দেবেন। নাকে রুমাল চাপা দেবেন, মুখ চাওয়াচাওয়ি করবেন, গাল পাড়াপড়িও করতে পারেন, কিন্তু টেরও পাবেন না, বোতলে যাকে পুরে রেখেছিলেন, সে এই ভাবে প্রতিশোধ নিচ্ছে। হার্বার্ট থেকে কাঙাল মালসাট পর্যন্ত এই হল নবারুণের যাত্রা। দুম করে শ্মশানে ফেটে যায় জমানো ডায়নামাইট, এই জন্যই। কিন্তু তাতে দুর্গন্ধটা তেমন খোলতাই না হওয়ায় ফ্যাতাড়ুদের আগমন। বিপ্লব চেপে রাখা সমাজের অভ্রংলিহ ঢ্যামনামো ভেদ করে ফ্যাতাড়ুরা উড়ে উড়ে নানাস্থানে অন্তর্ঘাত ঘটায়। সভ্য সমাজ হাঁ করে দেখে। কোনো কূল পায়না। যেমন দুনিয়ার তাবৎ লোক একদিন দেখেছিল নাইন এলেভেনে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের ভেঙে পড়া। কিন্তু কূল পায়নি, কোন আক্কেলে, কেন, এইসব কান্ড। প্যাটার্নটা দুই ক্ষেত্রেই হুবহু এক। খালি নবারুণের সঙ্গে আছে শৈল্পিক খিল্লি, আর নয়-এগারো, যারে কয় পৈশাচিক।

    নকশালপন্থার পুনর্জাগরণ যখন বলি, তখন, এই প্রক্রিয়াকেই বলি। এই প্রক্রিয়াটাকে খুব সুস্পষ্টভাবে অনুসরণ করেন নবারুণ। এটা করতে গেলে একটা জিনিস টেকনিকালি করতেই হবে। সেটা হল কার্যকারণ সম্পর্ক ভেঙে দেওয়া। ফ্যাতাড়িরা সবই করছে, কিন্তু কেন করছে? কেউ জানে? ফুর্তিতে করছে ঠিক আছে। কিন্তু ফুর্তি তো ক্যামুফ্ল্যাজ। ইয়ার্কি দিয়ে, ফুর্তি দিয়ে এই কেন টা চেপে রাকহতে হয়। কারণ, ঘোষিত ভাবেই কেন করছে আমরা জানিনা। আসলে চেপে রাখা বিপ্লব, দুর্গন্ধ হয়ে নানা ফুটো দিয়ে বেরোবে, কিন্তু কখন, কোথায় কিভাবে হবে সেটা আমরা জানিনা। এইটাই অ্যাজেন্ডা তো। তাই কার্যকারণ সম্পর্ককে লুকিয়ে রাহতেই হবে।

    এবার এই পর্যন্ত ঠিকই আছে। সমস্যাটা উঠে আসে তখন, যখন দেখি, ফ্যাতাড়ুপনাকে শুধু একটা অন্তর্ঘাতের বিবরণ হিসেবে পড়া হচ্ছে না। যেহেতু বিপ্লবের পুনর্জাগরণ, তাই সে বিপ্লবীয় কিছু ভ্যালু সিস্টেমও সঙ্গে নিয়ে আসছে। তার মধ্যে সবচেয়ে বিপজ্জনক হল ফ্যাতাড়ুপনাকে একটি প্রোগ্রাম, একটি গতির দর্শন হিসেবে দেখা হচ্ছে। চারজন ফ্যাতাড়ু অমুক জায়গায় রেড করল। সেটা কি শুধু অন্তর্ঘাত? গ্যাসমোচন? না। সেটা একটা কার্যক্রম। নবারুণ বারবার এটাকে প্রোগ্রাম হিসেবে তুলে ধরেন, ফ্যাতাড়ু সিরিজের নানা গপ্পে। বারবার।

    এবার প্রোগ্রাম যেহেতু, তার কিছু নৈতিকতাও থাকে। সেটা শুধু বর্তমান ব্যবস্থার সমালোচনা নয়। সেটা নতুন একটা নৈতিকতার মডেলও। ফ্যাতাড়ুদের নৈতিকতা, ঘটনাচক্রে শিশুসুলভ। আক্রমণের অংশটুকু বাদ দিলে, বাকিটুকু যা, তা নেহাৎই চালু নৈতিকতা। যেটা ঠিক ক্রিটিসিজম নয়, বরং একটা স্টাইল স্টেটমেন্ট। স্টাইল স্টেটমেন্ট হিসেবে ফ্যাতাড়ুদের নৈতিকতাকে প্রজেক্ট করাটা বিপজ্জনক। কারণ চে যেমন আইকন, ফ্যাতাড়ুরাও এখানে আইকন।

    এই আইকন হিসেবে ফ্যাতাড়ুদের তুলে ধরা হল নবারুণের সবচেয়ে বড়ো ব্যর্থতা। মাস্টার অ্যান্ড মার্গারিটায় কোনো আইকন নেই, এক প্রভু যীশু ছাড়া, তিনিও মেটাফরিকাল। কিন্তু এখানে ফ্যাতাড়ুরা একটি পজিটিভ শক্তি। যাকে বলে বিপ্লবের অগ্রদূত। সুপারম্যান। হাতে মেশিনগান নেওয়া র‌্যাম্বোর নকশালীয় তুতো ভাই। এই ঘরাণা নকশালীয়। যেখানে বিপ্লবীরা হলেন নায়ক। এই ফ্ল্যাট র‌্যাম্বোসুলভ নায়কদের প্রজেক্ট করার জন্য নবারুণের ততটাই সমালোচনা প্রাপ্য, যতটা প্রাপ্য ম্যানড্রেকের স্রষ্টার।

    এই হল কথা।
  • π | ২৬ অক্টোবর ২০১৩ ০০:৫৫176800
  • ঋদ্ধি, এই বিপ্লব বিপ্লব আমেজ, কিন্তু তার গাঁটামো ও অন্যান্য কিছু জিনিসপত্র নিয়ে খিল্লি, এটাও একটা প্যাকেজ, আর সেই প্যাকেজটার জন্যেই একটা বড় সেকশনের কাছেই জনপ্রিয়। ফেবুকের পোস্ট্গুলোও পড়তে পারিস। 'বিপ্লবী'দের অনেকেই এটাকে মনে করে ক্লাস বেসড ডিস্ক্রিমিনেশন, একটা পাওয়ার স্ট্রাকচরের বিরুদ্ধে যুদ্ধঘোষণা। সেটা শ্রেণীসচেতন হয়ে, পলিটিল্যাল কারেক্টনেসের জায়গা থেকে না হলেও ক্ষতি নেই।
    গরীবের গাঁড় যারা মারে, ফ্যাতাড়ুরা তার ঘাড়ে হাগবে, এই ভাবটাই যথেষ্ট।
    ফ্যাতাড়ুগিরিটাও তো এক প্রকারের মডিফায়েড বিপ্লবীয়ানাই।
    এবার কোন ব্যাপারগুলো নিয়ে বিপ্লব বিপ্লব ব্যাপার আনা হবে, বাওয়াল দেবার জন্য বেছে নেওয়া হবে, কোনটাকে খিল্লি করা হবে আর কোনগুলোকে করা হবে না, বরং উল্টে আরো এনফোর্স করা হবে, সেটারও একটা প্যাটার্ন আছে। খুব সিলেক্টিভ। ইন ফ্যাক্ট এই এনফোর্স করাটাও হয়তো জনপ্রিয়তার একটা কারণ। আর সেটারও একটা দিব্বি প্যাটার্ন আছে। ধর্মীয় গোঁড়ামিকে এনফোর্স করলে মোটেও জনপ্রিয় হত না কিন্তু মেয়েদের স্টিরিওটিপিকাল ট্রিটমেন্ট, ভদির বেচামণির প্রতি ঐ ডায়লগগুলো বেশ হাততালি উদ্রেককারী রেসপন্স নিয়ে আসছে। কী দিলে গুরু টাইপ।
    কিছু জিনিস নিয়ে স্ট্যাটাস কুয়ো মেইন্টেইন করা হচ্ছে, বাস্তব দেখানোর দোহাই দিয়ে (সেই যুক্তি কিন্তু অন্য বাওয়ালগুলোর বেলায় প্রযোজ্য নয়), আর কথা হল, সেটা চোখে তো লাগছেই না, বরং উপভোগ করার উপাদান যোগাচ্ছে।

    এর কারণ কী ? এই টার্গেট সেকশনের মধ্যে ধর্মীয় গোঁড়ামি ইঃ ন্যাচারালি সেভাবে নেই কিন্তু ফিউডাল মানসিকতা, মেয়েদের প্রতি এই মনোভাব ন্যাচারালি দিব্বি গেঁড়ে বসে আছে (সচেতন ভাবে না হলেও) বা সেই নিয়ে বিশেষ কোন হেলদোল নেই, এরকম ভাবে বলা যায় কি ?
  • Atoz | ২৬ অক্টোবর ২০১৩ ০০:৪০176798
  • শব্দের ঘাড়ে আবার অর্থ? ওরে বাবা!!!! না না, খানিকক্ষণ ধুকধুকি মন্ত্র জপ করুন, ওসব কুসংস্কার দূর হয়ে যাবে। ঃ-)
  • aka | ২৬ অক্টোবর ২০১৩ ০০:৪০176799
  • অক্ষ, এখানে দেখতে পারো।

    https://www.squaremouth.com/

    ইনক্লুডিং মেডিকাল এমার্জেন্সি এয়ার ট্রাভেল আপটু মিলিয়ন ডলার খুব বেশি কিছু না। আমরা গেলবার ইন্ডিয়া যাবার সময়ে কেটেছিলাম পুরো পরিবারের জন্য বোধহয় ১৫০ ডলার মতন পড়েছিল।

    ইন্ডিয়া থেকে আম্রিগা এলে মনে হয় আর একটু বেশি হবে তবে ঐ লাখ টাখ হবে না। এতে বেসিক ডাক্তার ভিজিট, ইআর ইনক্লুডেড অবশ্য উইথ সাম ডিডাকটেবল।
  • Debashis Payin | ২৬ অক্টোবর ২০১৩ ০০:১৯176797
  • চমৎকার :-)
    শব্দের অর্থই অনর্থের উৎস!
  • sm | ২৬ অক্টোবর ২০১৩ ০০:০৬176796
  • @DP র ১১।০৫ পোস্ট এর উত্তর।
    দ- হারগোড় ভাঙ্গা
    dd - খালি গেঞ্জি, জাঙ্গিয়া
    ব্ল্যান্ক টা ঈশান বলে দিয়েছে।
  • Atoz | ২৬ অক্টোবর ২০১৩ ০০:০৪176795
  • ঠিক আছে ব, তুমি তাইলে বরদাচরণ বন্দ্যোঘটী। ঃ-)
  • | ২৫ অক্টোবর ২০১৩ ২৩:৪৭176794
  • ও ই তো "বিবি পায়রা পায়রা" ( ইয়ে বেবী নয় ঃ )
  • ঈশান | ২৫ অক্টোবর ২০১৩ ২৩:৪৬176793
  • দুর বি অধি সু
    উৎ পরি প্রতি অভি
    অতি অপি উপ আ।

    তার আগেরটা ঠিকই আছে। কিন্তু আমার গান?
  • | ২৫ অক্টোবর ২০১৩ ২৩:৪৫176792
  • এই সব বগল টগল কী রকম একটা ব্যাপার। আর ভালো নাম নেই? ঃ))
  • | ২৫ অক্টোবর ২০১৩ ২৩:৪৩176791


  • এই গান টাই। কিন্তু সিনেমার টা পেলাম। কেউ একটা গাওয়ার চেষ্টা করেছে
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত