এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  আলোচনা   সমাজ

  • ধর্ম, ঠাকুর দেবতা, নিরাকার ঈশ্বরের বুড়ো আঙুল

    খাতাঞ্চী
    আলোচনা | সমাজ | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ৩৮২ বার পঠিত | রেটিং ৪ (১ জন)
  • নানান ধর্মের শুরু নিয়ে কথা হচ্ছিল অন্যত্র। কিছু ধর্ম ঢিলেঢালা, কিছু ধর্ম মারকুটে, কোন ঈশ্বর নিরাকার কারো বেশ নোয়াপাতি ভুঁড়ি। কোন ধর্ম শষ্য শ্যামলা উর্বর প্রান্তরে তৈরি, কোনটা আবার দিগন্তে বিলীন বিশাল মরুতে।
    এই নিয়ে নানান কথা নানা লোকে বলেছেন, হারারি সাহেব বলেছেন, কিশোরবাবু বলেছেন। আমাদের কী মনে হয়, কেন মনে হয়, সেসব নিয়ে মিনিময়ের জন্য এই টই খোলা হল।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • দেবাশিস্ ভট্টাচার্য | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২১:০৬746830
  • যে জাতির পেশি ঢিলেঢালা, তাদের দেবতা ধ্যানী। আর যাদের মাংসপেশি টানটান, তাদের দেবতা যুদ্ধপ্রিয়, বীর। তাই, বার্ট্রান্ড রাসেল একবার ধর্মতত্ত্বের ওপরে মাংসপেশির প্রভাব নিয়ে একটি বই লিখতে চেয়েছিলেন!
  • হেঁয়ালি | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২২:০০746831
  • উপপাদ্য ১ - মরুভূমিপ্রায় জায়গায় সব ধর্মের জন্ম, সব খেয়োখেয়ি! শস্য শ্যামলা হলে সেখানে ধর্মের জন্ম হত না।কঠিন জীবন বলে মারকুটে ধর্ম আর সহজ হলে তুলনায় ইনক্লুসিভ? আবার তুলনায় ইনক্লুসিভ পাঁকে পরলে গোলমেলে, আবার কঠিন জীবন সহজ হলে একটু ঢিলেঢালা… সুফি টুফি বা প্রোটেস্টান্ট থেকে জিহোভাস উইটনেস?
     
    সম্পাদ্য ১ - শস্য শ্যামলা মানে সাকার। যার নিজের বাড়ি মাঠ পুকুর আছে, সে সাকারের উপাসক। তাকে জিহোভা বললেও সে যিশুর মূর্তি বানাবে। আল্লাহ দিলেও মাজারে চাদর চড়াবে। এই মায়া যার নেই, সেই নিরাকার হতে পারে।
     
    উপপাদ্য ২ - আর্যধর্মও ভারতে আমদানি করা। কাস্পিয়ান সাগর ইরানও মরুভূমিই ছিল। বৌদ্ধ জৈন শিখ আসলে আর্যধর্মের প্রতিক্রিয়া, নিজে থেকে আসেনি। ভারতের বা আমেরিকার আদি ধর্ম টোটেমের। ইসলাম খ্রিস্ট ধর্মের পরিবর্তিত রূপ। খ্রিস্ট ধর্মকেও কিছুটা রোমান প্যাগান ধর্মের প্রতিক্রিয়া বলা যায়। সবই আসলে ইহুদি ধর্ম। রসিকতার মতোই প্রাচীন। আব্রাহামিক ধর্ম আবার মিশরীয় প্যাগান ধর্মের প্রতিক্রিয়া। মিশরেও বহুত্ববাদ এবং একেশ্বরবাদ নিয়ে নানা টানাপোড়েন হয়েছে। একই টানাপোড়েন ব্যাবিলন, আসিরিয়, সিন্ধু সভ্যতাতেও থাকার কথা।
     
    সম্পাদ্য ২ - ধর্ম ও ঈশ্বরের আলোচনায় আরেকটা জিনিস ধরতে হবে, আকাশ ও নক্ষত্রলোক। প্রাচীনকালে মানুষ কী পরিমাণ আকাশ নির্ভর ছিল আজকে ভাবাও সম্ভব না। তার স্লাইড রুল ছিল আকাশ, তার ইনফো ব্যাংক ছিল আকাশ, আবার তার বিনোদনও ছিল আকাশ। বেশিরভাগ ঐশী ঘটনাকে সে মহাজাগতিক অবজার্ভেশনের সঙ্গে লিংক করত তাই।
     
    কোশ্নো:
    মোঙ্গোলদের কী ধর্ম ছিল?
  • r2h | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২২:০২746832
  • বাহ বাহ এইটা ভালো হয়েছে, থ্যাংকিউ! (@হেঁয়ালি)
  • kk | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২২:০৭746833
  • হেঁয়ালির পোস্টটা আমার খুবই ইন্টারেস্টিং লাগলো। আলোচনা চলুক।
  • &/ | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২২:০৮746834
  • ক্যালেন্ডার আর ঘড়িও ছিল আকাশ। চাষবাস থেকে ভাগ্যচক্র পর্যন্ত সবকিছুর জন্যই আকাশের গ্রহনক্ষত্র ভরসা ছিল।
  • dc | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২২:১১746835
  • আমি তো জানতাম সব ধর্মই মারকুটে, তাই না? হিন্দু, খৃশ্চান, ইসলাম, সব ধর্মের লোকই তো সুযোগসুবিধা মতো অন্যদের কচুকাটা করেছে। তার কারন মানুষ নিজেই মারকুটে, তো তার বানানো ধর্মও মারকুটে হবার কথা।
  • dc | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২২:১৪746836
  • "ধর্ম ও ঈশ্বরের আলোচনায় আরেকটা জিনিস ধরতে হবে, আকাশ ও নক্ষত্রলোক। প্রাচীনকালে মানুষ কী পরিমাণ আকাশ নির্ভর ছিল আজকে ভাবাও সম্ভব না"
     
    আহা, এইটা একটা ভারি ইন্টারেস্টিং লাইন। আকাশ আর সমুদ্রের স্রোত, এই দুয়ের সাহায্যে এন্শেন্ট মেরিনাররা হাজার হাজার মাইল খোলা সমুদ্রে পাড়ি দিতেন। এ নিয়ে আর্থার সি ক্লার্কেরও বক্তব্য আছে, অনেক বইও লেখা হয়েছে :-)
  • প্যালারাম | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২২:১৯746837
  • ধর্ম মারকুটে হতেও পারে, নাও পারে। কিন্তু লম্বা সময় ধরে পালন করলে অনুগামীরা মারকুটে হবেই। কারণ, ওই যে বললেন, মানুষ মারকুটে। তারপর আসবে মারদাঙ্গাকে ঠিক প্রমাণ করা, অ্যামেন্ডমেন্ট, ‘না না, আসলে শাস্ত্রে/বইয়ে বলেচে অন্য কতা, বোজোনি...’, এইসব।
    নইলে বৌদ্ধ সন্নিসি রোহিঙ্গা মারে?
     
    তবে, সাকার-নিরাকার আর ভূগোলের সম্পর্কের কোশ্নে এইটে রেখে গেনু:
  • r2h | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২২:২২746838
  • তা কেন, ধরুন বাউলদের ব্যাপারটা যদি একটা ধর্ম হয়, বা ধর্মের একটা ধারা তো বটে, সে কি আর মারকুটে? বা ধরুন কবীর, বা শিরদির প্রাচীন সাঁইবাবা, বা আকবরের দ্বীন ইলাহি। এমনকি যিশু খ্রিষ্টের খ্রিষ্টধর্মও তো খুবই চমৎকার ছিল, পরে চার্চের হাতে পড়ে। সুদব্যবসায়ীদের সঙ্গে খ্রিস্টের বিরোধ ও ক্রমে ক্রুশকাঠ পর্যন্ত গড়ানোর ব্যাপারটা হীরেনবাবু খুব ভালো বলতে পারবেন।
    আবার গৌতম বুদ্ধ, শত্তুরেও বলবে না তিনি বা তাঁর ধর্ম মারকুটে ছিল, কিন্তু তাঁর অনুসারীদের মায়ানমারে এত গোলমাল।
    আমাদের এদিকে বাঙালী বৈষ্ণবরা - কোন মারপিট নেই, মানে থাকার কথা না।

    প্রাচীন ধর্মগুলি, নর্স বা গ্রিকদের, সেসবেও ধর্ম নিয়ে মারপিট খুব ছিল কি? মানে তারা নানান জনপদ আক্রমন করেছে, মারপিট ও লুটতরাজ করেছে, কিন্তু সে সব জাগতিক জিনিসপত্র নিয়েই তো?
  • r2h | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২২:২৩746839
  • হ্যাঁ - এতে একমত
     
    • প্যালারাম | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২২:১৯
    • ... লম্বা সময় ধরে পালন করলে অনুগামীরা মারকুটে হবেই। কারণ, ওই যে বললেন, মানুষ মারকুটে। তারপর আসবে মারদাঙ্গাকে ঠিক প্রমাণ করা, অ্যামেন্ডমেন্ট, ‘না না, আসলে শাস্ত্রে/বইয়ে বলেচে অন্য কতা, বোজোনি...’, এইসব।
       
  • dc | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২২:২৮746840
  • হুঁ প্যালারামবাবুর কোয়ালিফায়ারের সাথে একমত।
  • হেঁয়ালি | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২৩:৩৮746841
  • যতদিন সিঙ্গল যাযাবর গোষ্ঠীতে গবাদি পশু চরাতো ততদিন একেশ্বরবাদ। ঈশ্বর সেই সবুজ জমির স্বপ্ন মেষপালকদের দলপতিকে দেখাবেন যেখানে গেলে পশুদের এবং তাদের থেকে মানুষদের খাবার অভাব হবে না।
     
    একটি গোষ্ঠী ভেঙে তিনটি গোষ্ঠী খাবারের খোঁজে তিনদিকে চলে গেলে তিনজন ঈশ্বর।
     
    নদীর ধারে বা সমুদ্রের ধারে এক এক শহরের এককেজন আরাধ্য দেবতা। আথেন্সের আথেনা, ট্রয়ের এপোলো। গোষ্ঠী যত ভাঙে বহুত্ববাদ বাড়ে।
  • Ranjan Roy | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০২:০০746842
  • চমৎকার সব অবজার্ভেশন! আমি আপ্লুত।
     
    খাজাঞ্চি, হেঁয়ালি--সবাইকে ধন্যবাদ।
     
    ময়দানে নেমে পড়েছেন প্যালারাম ও ডিসি--যাঁরা এর আগেও এই মায়াপাতায় তাঁদের দর্শন চর্চার সাক্ষর রেখেছেন,
     
    চলুক! চলুক!
     
     
    আশা করি এরপর হীরেনদা, শিবাংশু ও কিশোর মাঠে নামবেন।
  • Ranjan Roy | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০২:০১746843
  • সরি! খাজাঞ্চি নয় খাতাঞ্চী।
  • বুড়ো আঙ্গুল   | ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৫:৩৭746902
  • আচ্ছা, এই টইটা "ঈশ্বরের ইতিহাস" নিয়ে আলোচনা নাকি "আমার ঈশ্বর" ঘটিত ব্যক্তিগত যুক্তিতক্কোগপ্পো?
     
    এখনও পর্যন্ত ধারা দেখে মনে হচ্ছে ঈশ্বরের ইতিহাস! সমষ্ঠিগত!
  • রমিত চট্টোপাধ্যায় | ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:৩৯746904
  • আমারও মনে হয় ঈশ্বরের ইতিহাস নিয়েই এই আলোচনাটা। সাথে ধর্মের বিবর্তনও বলা যায়।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। খেলতে খেলতে মতামত দিন