এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • কন্টেন্ট ক্যাচাল

    Sumit Mandal লেখকের গ্রাহক হোন
    ২৮ ডিসেম্বর ২০২৪ | ৯১০ বার পঠিত | রেটিং ৫ (২ জন)
  •  
    এক বন্ধু প্রচণ্ড উত্তেজিত হয়ে বললো, "ঐ সিনেমাটা দেখিস নি, বেঁচে আছিস কেন?"
    আরেক বন্ধু বললো, "এই ওয়েব সিরিজটা দেখ ভাই, জীবন পাল্টে যাবে।"
    পাড়ার দিদি বললো, "এই বইটা এখনো পড়িস নি? নাবালক হয়ে আছিস তো! ছ্যাঃ!"
    পাশের ফ্ল্যাটের বোন বললো, "এই র‍্যাপটা শোনো, দাদা। যা দিয়েছে না—উফফ্!"
    এক ভাই বললো, "এই গেমটা খেলো নি এখনো, এ বাবা!"
     
    এরসাথে পড়ে আছে হাজারটা বন্ধুর ইউটিউব চ্যানেলের কন্টেন্ট, তার সাথে নাটক করা বন্ধুদের শোয়ের বিজ্ঞাপন—কারো লেখা গল্প, কবিতা, বই, ছবি ইত্যাদি। এই চক্করে কত গান ভালোভাবে শোনা হয় নি, খেলার মাঠে নামা হয় নি, নাচটা তোলা হয় নি, দুর্দান্ত গল্পের কনসেপ্টটা নিয়ে লেখা শুরু করা হয় নি—আরো কত কিছু।
     
    এমন এক অদ্ভুত সময়ে বাস করছি আমরা, যখন বিনোদন আর ইচ্ছেমত নয়, বাধ্যতামূলক হয়ে গিয়েছে। চারিপাশে এত হাজার হাজার সৃষ্টিশীল মানুষ। তারা সবাই লক্ষ লক্ষ কন্টেন্ট ক্রিয়েট করে চলেছে—আর সেগুলো কনজিউম করানোর জন্য কোটি কোটি বিজ্ঞাপন আর প্রচেষ্টা।
     
    এক সময়ে কাজ না থাকলে মানুষ বোর হয়ে উঠতো। সেই পড়ে পাওয়া সময় কাটানোর জন্য কিছু মানুষ কিছু শিল্প সৃষ্টি করতো, আর কিছু মানুষ তা উপভোগ করতো। বিনোদনের সেতু ধরে এক বিশেষ উপায় তৈরি হতো, যার প্রধান প্রয়োজন ছিল সময় কাটানো এবং কমিউনিকেশন।
     
    তারপর গঙ্গা দিয়ে অনেক জল বয়ে গেছে। বিনোদন হয়েছে ব্যবসা, শিল্প হয়েছে পণ্য, আর শিল্পী হয়েছে কেরানি। কিন্তু, যথেষ্ট উৎকৃষ্ট পরিমাণ শিল্প উপভোগ করতে হবে, নয়তো জীবন বৃথা—এই বিপুল সামাজিক চাপ বোধহয় সইতে হয় নি আগের প্রজন্মকে।
     
    একটা বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা প্রয়োজন। আমার সময় আমি কিভাবে কাটাবো, তা আমি-ই বেছে নেবো। আমার উদ্বৃত্ত সময়ে আমি ফাঁকা দেওয়ালের দিকে তাকিয়ে টিকটিকিটার পোকা শিকার দেখবো, নাকি চোখ বন্ধ করে আবোল তাবোল ভাববো, নাকি কিছুই করবো না—জাস্ট ল্যাদ খাবো। এগুলো আমার মন বেছে নেবে।
     
    ফাঁকা সময় হলেই মোবাইল ঘেঁটে অ্যালগরিদম বা মানুষের রেকমেন্ড করা কন্টেন্ট গিলে যেতেই হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তন্ময় ভাট থেকে ট্যারান্টিনো হয়ে তারিণী খুড়ো—কারোরই গল্প আমার নিজের জীবনের গল্পের থেকে প্রয়োজনীয়, আকর্ষক, উৎকৃষ্ট নয়। আমি ও আমার মন—সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন, ব্যস!

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • অভিজিৎ সাঁই | ২৮ ডিসেম্বর ২০২৪ ২২:০০540338
  • একদম ঠিক। মনের কথাটি বলেছেন।
  • Dr Amrita Chakraborty | ২৮ ডিসেম্বর ২০২৪ ২২:২৪540341
  • এই ক্যাচাল এর জন্য আমি অনেক লোকের সাথে কথা বলতে পারিনা কারণ তাদের পছন্দের কন্টেন্ট আমি দেখিনা তাই তারা আমাকে অন্য গ্রহের প্রাণী ভাবে, মিশতে চায়না।
  • স্বপন সেনগুপ্ত | ২৮ ডিসেম্বর ২০২৪ ২৩:৩১540344
  • বেশ ভালো লাগল।
    সত্যি বলতে কি এখন চারদিকে সৃষ্টির কাজকর্মে আমার তো মনে হচ্ছে পিছিয়ে পড়ছি, এমনিতেই কিছু জানিনা, তার উপর ......
    উফ্
  • Hironmoy | ২৯ ডিসেম্বর ২০২৪ ২০:০৩540349
  • Point আছে
  • একক | ২৯ ডিসেম্বর ২০২৪ ২২:১৯540350
  • আগে কী আর আলাদা ছিলো। ছোটবেলা থেকে দেকে আসচে গন্ডায় গন্ডায় ছোট পত্রিকা শহর গ্রাম গঞ্জ জিলা সব মিলে সন্সকিতির সাড়ে বত্রিশ ভাজা এক্কেরে। কলেজ লাইপে কফি হাউস ঢুকে দেখলুম ওই আবাল্যা পত্রিকাগুলোকেই আদর করে লিল্ ম্যাগ বলে শহরের লোকজন। তার বেশিরভাগই বালের। কিন্তু কী সব অম্বা তার! ঢাকের চোটে গগন ফাটে।
     
    তো, বাজে কোয়ালিটির মাল্পত্তর হৈ হৈ করে চলচে, কবি মাঞ্চুরিয়ান আর প্রাবন্ধিক পটল চচ্চড়িতে দিকবিদিক আক্রান্ত, এটাই বাংলার অইতিহ্য।
     
    নিজেকে, প্রচণ্ড অশিক্ষিত বা বিকট আঁতেল কোন একটা এক্সট্রিম ভাবমূর্তিতে মুড়ে না রাকলে, আগেও কবি বন্ধু হাতে পত্রিকা গুঁজে দিত জোর করে, এখন মেয়ের নাচের ভিডো পাঠায় ; এদের খপ্পরে পড়তে হবে।
     
    আর নিজেরই ভ্যালিডেশনের রোগ থাকলে অন্যদের দোষ দিয়ে লাভ নেই।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লড়াকু প্রতিক্রিয়া দিন