একটা পুরোণ অ্যাম্বাসাডার গাড়িতে রতন আর সমর সওয়ার হল অশেষের পিছু করার জন্য। সমর গাড়ির স্টিয়ারিং ধরল। এ কাজটা তারা আগেও অনেকবার করেছে। মারুতি সুজুকি নিউ আলিপুর দিয়ে বেরিয়ে ডায়মন্ড হারবার রোড ধরে চলতে লাগল। বেহালা তারাতলা পেরিয়ে এক জায়গায় এসে একটা বহুতল বাড়ির সামনে এসে পৌঁছল। গাড়িটা খানিকটা আগে নিয়ে গিয়ে দাঁড় করাল। অশেষ তারপর পিছনে একটু হেঁটে এসে বিল্ডিংয়ের ভিতর ঢুকে সিকিউরিটি গার্ডদের ছোট টেবিলটার সামনে দাঁড়াল। দুজন সিকিউরিটি গার্ড বসে আছে সেখানে। এখানে বোধহয় অশেষের নিয়মিত যাতায়াত আছে। সিকিউরিটিদের সঙ্গে তাকে একটু হাসিঠাট্টা করতে দেখা গেল। নিয়মিত যাতায়াতের সূত্রে ... ...
আশ্চর্যের ব্যাপার অশেষও দিব্যি আয়েস করে ঠান্ডা পানীয় পান করল। তার বিশেষ কোন তাপ উত্তাপ দেখা গেল না। দু ধরণের অপরাধীর এরকম হতে পারে। এক, সম্পূর্ণ অনুভূতিহীন, মানে ভয় পাবার অনুভূতিটাই নেই। আর দুই, সে নিশ্চিন্ত থাকে যে তার গডফাদার তাকে ঠিক বাঁচিয়ে নেবে। এর মধ্যে বোধহয় দ্বিতীয়টাই তার ক্ষেত্রে সত্যি। অবশ্য অশেষ যে অপরাধী এখনই তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। অশেষ ঠান্ডা পানীয়ের বোতল শেষ করে একটা ঢেকুর তুলল। বোতলটা নামিয়ে রাখল চেয়ারের পাশে। ওসি গৌতম রক্ষিত চেয়ারে বসে বসে একটা হাই তুললেন। তারপর উঠে বাইরের দিকে গেলেন। বোধহয় ... ...
অশেষ তেরচা চোখে ভদ্রলোকের মুখের দিকে তাকিয়ে রইল এতটুকু টাল না খেয়ে। ভদ্রলোকের সঙ্গী বছর চল্লিশের পেটানো চেহারার আর একজন বললেন, ' কি হল ? বার করুন ... বার করুন .... 'অশেষ পালিত চোখ না সরিয়েই অগ্রাহ্যের সুরে বলল, ' কেন বলুন তো ? কোথা থেকে আসছেন ? '----- ' বালীগঞ্জ থানা ... ' প্রথমজন পকেট থেকে আই কার্ড বার করে অশেষের চোখের সামনে ধরল। অশেষ তাতেও টসকাল না। বলল, ' লাইসেন্স কাছে নেই। দাঁড়ান ফোন করছি.....'----- ' কাকে ফোন করবেন ? '----- ' গাড়ির মালিককে .... '----- ' গাড়ির মালিক পরে হচ্ছে ..... আগে বলুন ড্রাইভিং ... ...
অশেষ পালিতের ডেবোনেয়ারে অনেকদিনের যাতায়াত। অশেষ একজন দক্ষ এ সি মেকানিক। ডেবোনেয়ারের সেন্ট্রাল এ সি সিস্টেম বেশ কিছুদিন ধরে বিকল হয়ে পড়ে আছে। অশেষ এসেছে যন্ত্র মেরামত করতে। শীতাতপ যন্ত্র চালু হলে সুগত সেনের ঘরের জানলাগুলো বন্ধ হয়ে যাবে। পিছনের জানলা দিয়ে আর চিউয়িং গামের প্যাকেট ফেলা যাবে না। অশেষ সুগত সেনের চেম্বারের পর্দা সরিয়ে, কাঁচের দরজা একটু ফাঁক করে তার মুখটা দেখাল। মিস্টার সেন মুখ তুলতে অশেষ একগাল হেসে বলল, ' ভাল আছেন স্যার ? '------ ' আরে অশেষ যে .... ভেতরে এস, ভিতরে এস .... 'অশেষ ভিতরে ঢুকল। ------ ' বস ... ...
আজ আকাশ মেঘলা। প্রায় সারাক্ষণ টিপটিপ করে বৃষ্টি হচ্ছে। দূরে কোথাও জোরালো বর্ষা হচ্ছে। জোলো হাওয়া ভেসে আসছে থেকে থেকে। কলতান ডেবোনেয়ারে ঢুকল বেলা ঠিক একটার সময়। সাড়ে বারোটায় সুগত সেনকে ফোন করে নিয়েছিল। নীচের কাউন্টারে স্লিপ জমা দিয়ে বসে রইল। একজন মাঝবয়সী অ্যাংলো ইন্ডিয়ান মহিলা বসে আছেন রিসেপশান কাউন্টারে। ডোবোনেয়ার একসময়ে পুরোদস্তুর ব্রিটিশ কোম্পানি ছিল। কলতানের ডাক এল মিনিট পাঁচেকের মধ্যে। রিসেপশনিস্ট ভদ্রমহিলা ইন্টারকম কানে দিয়ে কিছু শুনে নিয়ে 'ওকে স্যার' বলে নামিয়ে রাখলেন। ভদ্রমহিলা উল্টোদিকে বসা কলতানের দিকে তাকিয়ে বললেন, ' ইউ প্লিজ গো আপস্টেয়ার .... সেকেন্ড রুম অন দা লেফট ... ...
শনিবার সকালেই সন্দীপের ফোন এল। ---- ' হ্যাঁ সন্দীপ, বল কি খবর। তোমার ফোনের জন্যই ওয়েট করছিলাম। বল ... '----- ' জীবনকৃষ্ণ সরকারের নামে যে সিমটা ছিল সেটা ইনঅ্যাকটিভ হয়ে আছে এই মুহূর্তে। হতে পারে সিমটা খুলে ফেলা হয়েছে সেট থেকে। তবে সিমটা নেওয়া হয়েছিল সাউথ ক্যালকাটার কোন আউটলেট থেকে। ট্র্যাকিং লোকেটরে ধরা পড়েছে। '------ ' সাউথ ক্যালকাটার কোন জায়গা থেকে সেটা ট্র্যাক করা গেল না ? '----- ' না ... তবে সার্ভিস প্রোভাইডারের নাম জানা গেছে ... ' সন্দীপ কোম্পানির নামটা বলল। ----- ' হুমম্ ...। লাস্ট কলটা কোথা থেকে এবং কবে হয়েছিল ডিটেক্ট ... ...
টেবিলের ওদিকে সুগত সেন আর প্রিয়নাথ রায় ছাড়া টেকনিক্যাল এক্জিকিউটিভ অদ্রিজা বাসুও বসেছেন। সি ভি-র ফাইল উল্টে পাল্টে দেখে সুগত সেন বললেন, ' হুমম্ ... ভেরি গুড। ইংলিশে মাস্টার্স করেছেন ... ' তিনি ফাইলটা পি এন আর -এর দিকে এগিয়ে দিলেন। তিনি একটু দেখে নিয়ে কোন কথা না বলে ফাইলটা অদ্রিজা বাসুর হাতে দিলেন। সুগতবাবু বললেন, ' আপনার পক্ষে তো টিচিং প্রফেশান মোস্ট সুটেবল ছিল। আপনি ওটা ছেড়ে আমাদের লাইনে আসতে চাইছেন কেন ? জানেন তো ... অ্যাড রিলেটেড জব খুব কমপ্লিকেটেড এবং হাইলি ডিমানডিং। তাছাড়া বায়োডাটায় যা দেখছি অ্যাড জবে আপনার কোন পাস্ট ... ...
ডেবোনেয়ারের অফিস জায়গা বদলে ব্রড স্ট্রিটেউঠে গেল। আজ বুধবার। বেলা বারোটা বাজে। কলতান সন্দীপের কাছ থেকে কিছু খবর আসার অপেক্ষা করে আছে। ভাবছে, সে নিজেই একটা ফোন করবে কিনা। মোবাইলটা হাতে নিয়ে নাড়াচাড়া করছিল। ঠিক এই সময়ে সন্দীপ ঘোষের ফোন এল। ------ ' হ্যাঁ ... বল সন্দীপ, কোন খবর হল ? '----- ' না ... সরি, কলতানদা আরও দু তিন দিন লাগবে। শনিবারের মধ্যে হয়ে যাবে আশা করি। একটু টেকনিক্যাল প্রবলেম হচ্ছে। সে জন্য ...। একটু টাইম দিন .... কাজ হয়ে যাবে। প্লিজ ... '----- ' না ... ...
প্রিয়নাথ আর চিরশ্রী বেরিয়ে যাবার পরই কলতান প্রাইভেট সাইবার এবং ডিজিটাল এক্সপার্ট সন্দীপ ঘোষকে ফোনে ধরল। খুব দক্ষতাসম্পন্ন ছেলে। বত্রিশ তেত্রিশ বছর বয়স। নিজের প্রাইভেট সাইবার সেল খুলেছে। হাতে প্রচুর কাজ। ----- ' হ্যাঁ কলতানদা বলুন। প্রায় ছ মাস পর ... '----- ' হ্যাঁ ভাই ... মিথ্যে কথা বলব না, দরকার না থাকলে টনক নড়ে না। কি করব বল ... আমাদের প্রফেশানটাই এরকম। তারপর, কি খবর বল ... কাজকর্ম ঠিকঠাক চলছে তো ? '----- ' এ..ই আপনাদের আশীর্বাদে থেমে নেই এটুকু বলতে পারি ... '------ ' না ... তোমার যা কোয়ালিটি, তুমি ... ...
----- ' ঠিক আছে স্যার .... আমি বিল্ডিং-এর বাইরে গিয়ে ওনার সঙ্গে কন্ট্যাক্ট করছি। এখান থেকে এসব কথা বলাটা ঠিক হবে না। অনেকে এসে গেছে অফিসে। আপনি রেস্টলেস হবেন না। নর্মাল থাকুন। আমি আসছি একটু পরে ... 'কোন দায়িত্বশীল নার্সের মতো রোগীকে তার করণীয় ব্যাপারে উপদেশ দিয়ে চিরশ্রী সেখান থেকে বেরিয়ে গেল। ঠিক তিনবার রিং হবার পর চিরশ্রীর মোবাইলে পুরুষ কন্ঠে উত্তর এল, ' হ্যাঁ ... '----- ' মিস্টার কলতান গুপ্ত বলছেন ? '----- ' হ্যাঁ বলছি ... খুব আর্জেন্ট নাকি ? রাস্তায় নেমে আসতে হল ... '----- ' হ্যাঁ স্যার একটু আর্জেন্ট আছে ... ...