( ২৮ ) মেঘলা দিন। সকাল থেকেই নিবিড় ছায়ায় ঢাকা। অনুমিতের মনটা যেন গাছতলায় পড়ে থাকা শুকনো পাতার মতো এলোমেলো উড়ে বেড়াচ্ছে। পবন, সিরাজ, শৌর্যরা নিশ্চয়ই এমন ছায়া মাখা দিনে মস্তি নিতে বসে গেছে কোন একটা ঠেকে বোতল খুলে। অনুমিত ভাবল ওদের কাউকে একটা ফোন করে। কিন্তু তেমন চাড় বোধ করল না। মনটা কেমন মেঘলা মেঘলা লাগছে। বাবাও অনেকদিন কাজ টাজের ব্যাপারে কিছু বলছে না। বোধহয় নতুন গভর্নমেন্টকে বুঝে নিতে চাইছে একটু। পলিটিক্সের ছানবিন করতে ব্যস্ত। বাড়িতে থাকতে ভাল লাগছে না। কারও একজনের সঙ্গে কথা ... ...
( ২৭ ) স্বরাজ গোস্বামী সাতানব্বইয়ে পড়লেন। বয়সের তুলনায় শরীরের যন্ত্রপাতি বেশ ভালই আছে। একটাও অসংলগ্ন কথা বলেন না। কানে একটু কম শোনেন এখন, এইটুকুই। এটা ছাড়া তিনি যথেষ্ট সক্ষম আছেন। অতি বৃদ্ধদের মতো আবোল তাবোল বকা তার ধাতে নেই। তিনি তারকবাবুর বাবা। গড়ন ধরন, ধ্যান ধারণা, বিশ্বাস মূল্যবোধ সবদিক দিয়েই বাবা আর ছেলেতে আকাশ পাতাল ফারাক। স্বরাজবাবু কমিউনিস্ট টমিউনিস্ট নন, স্বাধীনতা আন্দোলনও করেননি। কিন্তু তিনি সাম্যবাদে বিশ্বাস করেন, যদিও তিনি জানেন সাম্যবাদ ধারণাটা বেশ ঘোলাটে। এ বিশ্বপ্রকৃতিতে সাম্যবাদ বলে কোন বস্তুর ... ...
( ২৬ )বাগবাজারে শচীন মিত্র লেনে এক পরিবারে ছ'জনের মধ্যে পাঁচজনেরই মন খারাপ। গগনবাবুর বয়স আটষট্টি। দেড়হাজার টাকা করে বার্দ্ধক্যভাতা পেলে মন্দ হয় না। কিন্তু সে ব্যাপারে পরিষ্কার কোন খবর নেই। অফলাইন আর অনলাইন এই দুটো শব্দ লোকের মুখে মুখে। এই দুই লাইনের চক্করে ঘুরে মরছে গিন্নী থেকে কর্তা, ছুঁড়ি থেকে বুড়ি গাদা গাদা লোক। সে যাই হোক, এদের মনোবেদনার কারণ হল, গগনবাবু কবে কিভাবে অফ না অন কোন লাইনে ভাতা পেতে পারেন কিছুই খবর জোগাড় করতে পারছেন না। তাই তিনি দুশ্চিন্তার মধ্যে আছেন। তার ছেলের বউ এবং গিন্নীর উৎকন্ঠা অন্নপূর্ণাভান্ডার নিয়ে। এখনও ঢোকেনি। মানে অ্যাকাউন্টে টাকা ... ...
কত স্নেহময় মানুষের কাছে গল্প শুনেছিলামযখন আমি চারা গাছ এখন আমি একটু একটু গল্প বলতে চেষ্টা করি নিজের বসত বাড়ির, গল্পের শেষটা খুঁজে বেড়াই মেলাতে পারি না কারণ আমি নিজের বসত খুঁজে পাই না। আজ আর চাঁদের বুড়ি চরকা কাটে না ব্যাঙ্গমা ব্যাঙ্গমী আঁধার নিশার পাগল হাওয়ায় বৃক্ষ শাখায় বসে যোজন দূরের পাহাড় চূড়ার আগুন আর ধোঁয়া দেখে না। এখন কোন গল্প নেই শুধু স্মৃতির মেঘ আছে মনের আকাশে ভাসে জলের কণা বর্ষা হয় বারো মাস অপরূপ কান্নার মতো। কান্না আছে কানায় কানায়, বেদনার একটা সমুদ্র আছে মায়ের জন্য একটা অনন্ত নির্জন চরাচর রেখেছি বাবার জন্য একটা অমেয় পর্বত আছে বুকের মাঝ বরাবর। বাবা একদিন ইছামতির ধারে নিয়ে গিয়েছিল মার সাথে দেখেছিলাম পথের পাঁচালি। আমি কোনদিন বাবাকে ... ...
এ পাড়ায় শিমূল গাছের তলায় মেঘের ছায়া গড়াগড়ি খায় বেলাভরবিষাদের ছাঁচমাখা আলসে আঁধারেদূর থেকে ভেসে আসছে মনোরমা বৃষ্টির গুঁড়ো বাসি দিনের ভুতুড়ে ভালবাসার মতো। অনেক দিনের অনেক কথা মনে পড়ে,সেই দাঁড়িহাটে ঘাসের বুকে বৃষ্টি পড়ার কথা মনে পড়ে। এ পাড়ায় ও পাড়ায় ইতি উতি দাঁড়ানো সংসারী বাড়ি, উঠোনে আড্ডায় ব'সে পাতি আর দাঁড় কাক মাঝে মাঝে চাল ঘেঁসা গাছ থেকে ঝরে পড়েচালতার ফুল। নীচের দরজায় কড়া নাড়ছে অধুনা বিরল প্রজাতি কোন এক পোস্টম্যান। দরকারি লেফাফা হাতে সরকারি লোকদরজার বাইরে দাঁড়িয়ে পান চিবোয় মেঘের ছায়ার তলায়। অনেক দিনের অনেক কথা মনে পড়েবুকের মাদার বনে একটা বিষণ্ণ ডাহুক ডেকে যায়কি জানি কী চেয়ে। আকাশ তো সেই একই আকাশসেই গৌড় বা মগধের প্রাচীন আকাশের ... ...
প্রথম গল্প --- মেলা ঘ্যান ঘ্যান করবেন না খরচ পছন্দ করেন করে দিয়েছি এ কথা তো বলিনি কিভাবে খরচা হবে বিকেল না হয় সন্ধে হল না না রাতদুপুর... জমার পরে খরচ এটাই তো ছিল কথা, বাকি কথা ফালতু মেনেছি ঠিক ঠিক দস্তুর। দ্বিতীয় গল্প ----ঘুটঘুটে অন্ধকার, জল কাদার মাঠ,ঝিরঝিরে বৃষ্টি বন্দুক কেড়ে নিয়ে পালাচ্ছিল এত বড় ওস্তাদ, পিছন থেকে গুলি তাই নিকষ নিশায় নিখুঁত দিশায় নির্বাক বুলেট ঘুম ভাঙায়নি কারও, জঙ্গুলে পাড়ায় ও গেরামে টোটা দুটো শরীরে নেই কেন ছোঁড়া হল কতটা কাছ থেকে জানা খুব জরুরী কি ? হাঃ হাঃ... ঘোর আঁধারেও নিখুঁত টিপ ! তৃতীয় গল্প ---- রাজাবাবু... কে সেটা ? গ্রামের মেয়েগুলো যায় কোথায় যায় তো যায় আর পাওয়া যায় না রাজাবাবু ... ...
আকাশে শশধর ও তারকাপুঞ্জ হয়ত ছিলঢাকা পড়েছে শেষ আষাঢ়ের গাম্ভারি নিশি মেঘে। নিশুত রাতে ছ্যাতরানো জল কাদা জঙ্গল ধরেঠেলা মেরে নিয়ে যায় লগবগে মাথার কোননেশাখোর আসামীকে হাফ ডজন শান্তির রক্ষী।কালো রাতের কম্বলে ঢাকা জল কাদার বাদায়যে বলেছিল গতদিন খানিকটা গল্প। আজ সে নাকি এঁকেবুঁকে ছবি লিখে তুলে দেবেসেদিনের নরকের নক্সা এই ঝুমকো আঁধারে। জানা গেল, ছবি আঁকা হয়নিকথা কেউ কয়নি,ঝুঁঝকো আঁধারে আচমকা সে নিজেই হয়ে গেছে ছ্যাতরানো ছবি আর রোমাঞ্চ গল্প। বেচারি প্রহরীরা ভয় পেয়ে বড্ড... গুলি মেরে ধরিয়ে দিয়েছে কর্দম ভরা ভূমিলগবগে লোকটাকে। তারপর ক'জনায় মিলেজুলে চুপিচুপি লেখা হল গভীর রাতের গল্প,না না না... প্রভাসের পেন্সিলে নয়, রাষ্ট্রের হীরের কলমে। আকাশে শশধর ও তারকাপুঞ্জ হয়ত ... ...
( ২৫ ) সাজিদা চ্যাটার্জী বাড়ি কাজ করতে এল। আজ মুখে কেন কথা নেই। বাসন মাজা, কাপড় কাচা শেষ হলে বালতির জলে ফিনাইল ফেলে ঘর মুছতে লাগল। মুখে কোন কথা নেই। অন্যদিন অনেক বকবক করে। এর বাড়ির, ওর বাড়ির নানাজনের কূটকচালি শোনায়। আজ একদম চুপচাপ। কী যেন চিন্তা করতে করতে ঘরের মেঝেতে ন্যাতা টেনে চলেছে। ঘরের গিন্নী দেবশ্রী বললেন, ' কিরে সাজিদা... আজ এত চুপচাপ ? বরের সঙ্গে ঝগড়া হয়েছে নাকি ? 'সাজিদা একটু সময় নিল, তারপর মাথা নীচু করে ঘর মুছতে মুছতে বলল, ' আলি কাল ... ...
( ২৪ ) অনিন্দ্যবাবু বললেন, ' হ্যাঁ এস... ' গৌরীবাবু ঘরে ঢুকলেন। শিশিরবিন্দুবাবুর দিকে তাকিয়ে হাতজোড় করে বললেন, ' নমস্কার স্যার ... আমাকে চিনতে পারছেন ? 'শিশিরবাবু বললেন, ' কেন চিনতে পারব না, এখানেই তো দেখা হয়েছে অন্তত দুবার। কেমন আছেন ? '----- ' ভালই আছি স্যার আপনাদের আশীর্বাদে। আপনারা আছেন বলেই আমরা আছি... 'গৌরীশঙ্করবাবু দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন। শিশিরবিন্দুবাবু বললেন, ' বসুন না বসুন না... '----- ' হ্যাঁ এই ইয়ে.... ', বলে গৌরীবাবু একটা চেয়ারে বসে পড়লেন। ----- ' আসলে... আপনারা কথাবার্তা বলছেন তাই... ' গৌরীবাবু ... ...
( ২৩ ) ভোটের খেলায় শুধু দুটো দলেই টক্কর চলছিল। বাকিরা আছে শুধু ভোট কাটাকুটির খেলায়। সেটাও বেলা এগারোটা পর্যন্ত। তারপর দেবাশিসের কথামতো হাওয়ায় টান লাগল সড়সড় করে। ঘূর্ণি পাকিয়ে উঠতে লাগল আচমকা। হাওয়া ঘুরে যেতে লাগল অস্থির দ্রুততায়। তারপর ভর দুপুরে, বেলা দুটো নাগাদ জনমতের প্রবল সাইক্লোন ধেয়ে এসে চুরমার করে ভাসিয়ে নিয়ে গেল রাজ্য শাসন করা দলের সাধের ইমারত আর সাজানো বাগান। টিভি চ্যানেলের ... ...