কলতান বলল, ' স্বস্তিক তোমাকে আর বেশিক্ষণ আটকাব না ...... আর পাঁচ সাত মিনিট ..... এতটা রাস্তা যেতে হবে তোমাকে ....'তারপর বলল, ' আমাকে বল তো, তোমাদের কখন মনে হল যে দুর্ঘটনাটা ঘটে গেছে ? ' ------ ' সকাল ছটা নাগাদ আমরা তিনজন সী বিচে যাব বলে তৈরি হচ্ছিলাম। আমরা তিনজনই বিছানা ছেড়ে পড়েছিলাম খানিকক্ষণ আগে। কিন্তু সৌপ্তিক ঘুমিয়েই যাচ্ছিল ... ...
সলিল হালদার মশাই কলতানকে একটা কুড়ি হাজার টাকার চেক দিয়ে গেছেন আগাম। কিছু খরচ খরচা হয়ত লাগতে পারে কাজটা শুরু করলে। বাকি 'পেমেন্ট' পরে করে দেবেন বলে জানালেন। সঙ্গত কারণেই কলতান কোন আপত্তি করেনি। ... ...
দম্পতি এসে বসে আছেন বেশ কিছুক্ষণ ধরে। কলতান চান করতে ঢুকেছিল। একটু দেরি হয়ে গেল। বাইরের ঘরে এসে বলল, ' সরি ...সরি আপনাদের অনেকক্ষণ বসতে হল। চা দিয়েছে আপনাদের ? ' ভদ্রলোকের বয়স বাহান্ন তিপ্পান্ন হবে। ... ...
( শেষ পর্ব ) কলতান সস্নেহে নীলেশের কাঁধে হাত দিয়ে বলল, ' আচ্ছা বাবু .... আখরি বার কব অ্যয়সা হুয়া থা ..... মতলব উও ঈশান বাবু আখরিবার কব উতনা আঁধারেমে আয়া থা ? 'নীলেশ একটু ভেবে তার শিশুসুলভ সারল্যে বলে দিল, ' যিস রাতকো উনকো কাতিল হুয়া থা .... বহুৎ সতানে লাগা ..... ও : ' । কলতান লক্ষ্য করল নীলেশের মুখে আবার ট্রমার ছায়া পড়তে যাচ্ছে। সে নীলেশের সঙ্গে তার আলাপচারিতা আর দীর্ঘায়িত করতে ... ...
রাত পৌনে নটা বাজে। কলতান সোলাঙ্কি প্রণবেশের ফ্ল্যাটের দরজার সামনে গিয়ে দাঁড়াল। প্রণবেশ দরজা খুলে কলতানকে দেখে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল। কলতান হেসে বলল, ' সময় কাটছে না একা একা ..... তাই একটু এলাম। ওই মার্ডার কেসটার ব্যাপারে আমি মাঝে মাঝে এখানে আসি। আজকে রাতটা এখানেই থাকব। '----- ' ও আচ্ছা আচ্ছা ..... আসুন আসুন। আপনি তো কলতান গুপ্ত, না ? আপনার নাম শুনেছি ... ...
সাত দিন পরে, আট দিনের মাথায় পোস্ট মর্টেম রিপোর্ট পাওয়া গেল। বেলা বারোটা নাগাদ সমীরণ ঘোষ ফোন করে জানালেন ----' কলতানবাবু পি এম রিপোর্ট এসেছে। থানায় কপি পাঠিয়েছে মেল করে। এতে যা লিখছে ..... 'কলতান কথাটা চাপা দিয়ে দিল। বলল, ' থাক .... ফোনে কিছু বলতে হবে না মিস্টার ঘোষ ..... প্রবলেম হতে পারে। বিকেলে থানায় যাব। ওখানে গিয়ে দেখব। বডি রিলিজ করে দিয়েছেন ফর ক্রিমেশান ? '----- ' হ্যা হ্যা ..... আমার কনসেন্ট আমি ফরোয়ার্ড করে দিয়েছি ... ...
কলতান পায়ে পায়ে ডোবাটার দিকে এগিয়ে গেল। বডি পড়ে থাকার জায়গাটা ঘেরা রয়েছে ইঁট দিয়ে। স্পটের পনের মিটার দূরে পৌঁছে কলতানের অ্যড্রিনালিন ক্ষরণ বেড়ে গেল। বৃষ্টি ভেজা নরম মাটিতে স্পষ্ট জুতোর ছাপ। তার মানে কাল রাতে এসেছিল ..... সে এসেছিল। সনাতন অপরাধী মানস ওকে টেনে এনেছিল ঘটনার জায়গায়। কলতান নতুন কেনা জুতোটা হাতে নিয়ে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে জরিপ করতে লাগল উজ্জ্বল চোখে। ডলফিন স্নিকার.... পায়ের মাপ আট নম্বর ... ...
রেলব্রীজের নীচে সারি সারি ঝোপড়া। দুধারে ফাঁকা জমি। মালিকানার ঠিক নেই। রাতের বেলায় শুনশান, নীরব আঁধার। জমির দখল নিয়ে দুটো দলে মারামারি, বোমাবাজি চলে যখন তখন। বিশেষ করে রাতের বেলায়। গুলিও চলে মাঝেমাঝেই। এসব নিয়েই ঘর করে ঝোপড়ার লোকগুলো। এসব গা সওয়া হয়ে গেছে ওদের। এসব অনেক বছর আগের কথা। সুনন্দ তখন ছোট ছেলে। একদিন গুলি খেয়ে এক দলের একজন মারা গেল। পুলিশ এসে ঝোপড়ার সব পুরুষদের ঝেঁটিয়ে তুলে নিয়ে গেল পরদিন সকালবেলায় এসে। মেয়েদের এবং বাচ্চাগুলোকে বাদ দিয়ে। কল্পনা, মিনতি, শাকিলারা কাঁদতে লাগল। বলতে লাগল, ... ...
রাত্রে বাড়ি ফিরে কলতান অনেকক্ষণ বিশ্রাম নিল। একটানা অনেকক্ষণ চিৎ হয়ে চোখ বুজে শুয়ে রইল মাথা সম্পূর্ণ খালি করে। চিন্তাভাবনাগুলো মাথা থেকে উড়িয়ে দিয়ে। এ পদ্ধতিটা কলতান অনেক বছর ধরে অনুসরণ করছে। ফাঁকা মস্তিষ্কে নতুন নতুন তাজা চিন্তাভাবনার অঙ্কুরোদগম হয়। সমস্যা সমাধানের কোন নতুন রাস্তা দৃশ্যমান হয়ে ওঠে।এ একরকম ধ্যান পদ্ধতি বলা যায় ... ...
উমা আর নীলেশের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে কলতানের মনে হল ওরা কোন কারণে খুব আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। ওদের চোখমুখ দেখে তাই মনে হচ্ছে। সেটা অবশ্য খুব অস্বাভাবিক কিছু নয়। আবাসনের চৌহদ্দির মধ্যে কোন দুর্ঘটনা ঘটলে সাধারণতঃ এইসব প্রান্তিক মানুষদের নিয়ে টানাহ্যাচড়া চলে। ফলে কোন কিছু ঘটলে ভয়ে সিঁটিয়ে থাকে এরা। কলতানের মনে হল ওরা কমপ্লেক্সের মধ্যেই কোথাও থাকে ... ...