সকাল আটটা নাগাদ টয়লেট থেকে বেরিয়ে একেবারে তৈরি হয়ে ব্রেকফাস্ট করতে বসল। রাধাদি দারুন ফ্রেঞ্চটোস্ট বানিয়েছে। সঙ্গে গরম কফি। খেতে খেতে আবেশে চোখ বুজে আসছিল কলতানের। কুলচা কাল বাড়ি চলে গেছে। যাবার সময়ে বলে গেল, ' কেসে তেমন টুইস্ট এলে খবর দিও কিন্তু বস ..... এখন আসছি .... বা..য় ... '। বৈশাখী মজুমদারের মোবাইল নম্বরটা সাইবার সেলের ... ...
চব্বিশ তারিখে রাত দশটা নাগাদ বৈশাখীর মোবাইলে একটা কল এল। মোবাইল তুলে বৈশাখী দেখল --- কলতান গুপ্তর নাম। ------ ' হ্যা .... বলুন মিস্টার গুপ্ত ..... আমি এক্ষুণি আপনাকে ফোন করতে যাচ্ছিলাম। ভালই হল .... আমরা তাহলে কবে ..... '------ ' কাল সকাল দশটা থেকে বারোটার মধ্যে আমার বাড়িতে আসতে পারেন। যদি সম্ভব হয় দুজনেই একসঙ্গে আসবেন। '------ ' হ্যা ..... আমি আমার বন্ধুর সঙ্গে কথা বলে দেখি। ওর প্রবলেমটাই বেশি গ্রিম। ... ...
সুনন্দ মলের ভিতর ঘুরে বেড়াচ্ছিল একা। সে আগাগোড়াই একা। তার মতো লোকের কোন সঙ্গীসাথী থাকা মুশ্কিল। ক্লাস টেন পর্যন্ত পড়েছিল। তারপরে আর টানতে পারেনি। মা এবং বাবা কেউই আর নেই। তারা অনেক চেষ্টা করেছিলেন ছেলেকে ঠিকমতো মানুষ করার। হল না। আত্মীয়স্বজন কে কোথায় আছে সুনন্দ জানে না। জানবার কোন আগ্রহও নেই। বত্রিশ বছর বয়স হয়ে গেল। একা একাই থাকে। ... ...
নীলেশ একছুটে ঘরে ফিরে এল। দেখল তার মা কি একটা সব্জী রান্না করছে। তার আগে নিশ্চয়ই চাপাটি বানানো হয়ে গেছে। সব্জী পাকানো হয়ে গেলে মাম্মি তাকে খেতে দেবে। জোর ভুখ লেগেছে। এই সময়টা নীলেশের খুব ভুখ লাগে। সেই রাত্তিরে খেয়েছে। ভুখ লাগলেও নীলেশ কিছু বলে না। বেলা সাড়ে দশটা বাজে। পাপা সকাল নটার মধ্যে কাজে বেরিয়ে যায়। এখন পাপা নেই। ... ...
ঈশানলাল একটা সিগারেট ধরাল। মুখ দিয়ে বকবক করে মদের গন্ধ আসছে। সারাদিন হাড়ভাঙ্গা খাটুনি গেছে। ঠিকাদার তো আর বসিয়ে খাওয়াবে না। ঘুমে চোখ জড়িয়ে আসছে প্রকাশের। কিন্তু মালিককে তো খুশ রাখতেই হবে। কাজ চলে গেলে নতুন কাজ পাওয়া মুশকিল হয়ে যাবে। ... ...
প্রণবেশ ওপরে উঠে কিচেনে ব্যাগ নামাবার আগেই সোলাঙ্কি তড়িঘড়ি জিজ্ঞাসা করল, ' এত দেরি হল যে ! ' প্রণবেশ থলে নামিয়ে ঘাম মুছতে মুছতে বলল, ' ওই ..... পাশের ঘরের ভদ্রলোক .... সপ্তাখানেক হল এসেছে এখানে ..... ' ------ ' তো ... কি হল ? ' ------ ' না কিছু না ... আলাপ করছিল আর কি........ অমায়িক লোক ... ও : কি গরম .... ' ... ...
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতোকোত্তর ডিগ্রী আছে সোলাঙ্কির। আধুনিক ইতিহাসে এম এ। চাকরি বাকরি করার ঝোঁক কোনদিনই ছিল না তার। চেষ্টাও বিশেষ করেনি। সোলাঙ্কিকে ঠিক ঘরকুনো বলা যায় না। বরং ঘর সংসারে জড়িয়ে থাকতে ভালবাসে সে। অবশ্য সে মোটেই ঘরে বসে থাকার মেয়ে নয়। গান গাওয়া, ছবির আঁকা, গ্রুপ থিয়েটার করা এইসব নানা কাজে বা অকাজে রাত্রে ঘুমোবার সময়টুকু বাদ দিয়ে বাকি সময়ে সদাব্যস্ত থাকে সে। ... ...
এলোমেলো ঘুরতে ঘুরতে ঘন জঙ্গল পেরিয়ে ছোট্ট পাহাড়টার নীচে গিয়ে দাঁড়াল। মাথা ঘুরিয়ে চারপাশ দেখতে লাগল নীরব প্রত্যাশায়। কেউ নেই। কাউকে দেখতে পেল না সুসি। ওর নাম তো জানি না। তাই ধরে নেওয়া গেল ওর নাম সুসি। প্রবল প্রকান্ড স্থিতধী দাঁতাল। আপনমনে, বোধহয় নি:সঙ্গতার হতাশায় বাতাসে শুঁড় দোলাতে লাগল একনাগাড়ে। কি জানি কি ভেবে মাথা নাড়ালো বেশ কয়েকবার। তারপর টিলার ওপরে উঠতে লাগল। ... ...
কাবুল টয়লেটে ঢুকেছে রাত দশটা নাগাদ। এগারোটা বেজে গেল, তবু কোন সাড়াশব্দ না পাওয়ায় মহীন্দর দরজা ঠেলে ভিতরে উঁকি মারল। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ কাবুল শৌচাগারে ঢুকলে দরজা ভিতর থেকে লক করত না। মহীন্দরের দেহে আপাদমস্তক বিদ্যুৎপ্রবাহের ঝটকা খেলে গেল। পিছন দিকে মাথা হেলিয়ে কমোডের ওপর নিষ্পন্দ নগ্ন পড়ে আছে কাবুলের দেহ। লাউহাটি থেকে ডাক্তারবাবু এলেন পরদিন সকাল ছটা নাগাদ। ডেথ সার্টিফিকেট লিখতে লিখতে ডক্টর সাহা বললেন, ' মোস্ট প্রোব্যাবলি কমোডে বসার সঙ্গে সঙ্গেই ... ...
একজন ছিপছিপে ঢ্যাঙা ডগ ট্রেনার ক্যাম্পাসে পাক মারছে ট্রাকশ্যুট আর স্নিকার শ্যু পরে। পেছনে দৌড়চ্ছে ছ ছটা নানান কিসিমের কুকুর। ল্যাব্রাডর আছে, রিট্রিভার আছে, টেরিয়ার আছে .... আছে আরও অনেক পেডিগ্রী সারমেয়। ট্রেনারের পিছন পিছন ছুটে চলেছে একঝাঁক খেলোয়াড়ের মতো। সি ব্লকের রাকেশ মিত্তলের পোষ্য সবকটা। ট্রেনার কাম ফিজিওর মাসিক পারিশ্রমিক ত্রিশ হাজার টাকা। ... ...