ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • দিনান্তবেলা 

    Anjan Banerjee লেখকের গ্রাহক হোন
    ১৯ মার্চ ২০২২ | ১৮৬ বার পঠিত
  • কাবুল টয়লেটে ঢুকেছে রাত দশটা নাগাদ । এগারোটা বেজে গেল, তবু কোন সাড়াশব্দ না পাওয়ায় মহীন্দর দরজা ঠেলে ভিতরে উঁকি মারল। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ কাবুল শৌচাগারে ঢুকলে দরজা ভিতর থেকে লক করত না ।  মহীন্দরের দেহে আপাদমস্তক  বিদ্যুৎপ্রবাহের ঝটকা খেলে গেল । পিছন দিকে মাথা হেলিয়ে কমোডের ওপর নিষ্পন্দ নগ্ন পড়ে আছে কাবুলের দেহ । 
    লাউহাটি থেকে ডাক্তারবাবু এলেন পরদিন সকাল ছটা নাগাদ । ডেথ সার্টিফিকেট লিখতে লিখতে ডক্টর সাহা বললেন, ' মোস্ট প্রোব্যাবলি কমোডে বসার সঙ্গে সঙ্গেই ম্যাসিভ হার্ট অ্যটাক হয়েছে। তাতেই কোল্যাপস করে গেছে ..... ' ।  মৃত্যুর কারণ লিখলেন ....... কার্ডিও ভাসকুলার ফেলিওর।  
    নিপা আর রেহেনা ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগল। মহীন্দর উদভ্রান্ত মুখে কাঁপন ধরা বুক নিয়ে একবার ঘর , একবার বার করতে লাগল। 
        ড. শ্রীকুমার চট্টোপাধ্যায় অ্যলঝাইমার্স রোগে কাবু হয়ে প্রায় জড়বুদ্ধিত্ব প্রাপ্ত হয়েছেন। ঘটমান বর্তমানের প্রবহমানতা তার ধারণা ও অনুভব বৃত্তের বাইরে। তিনি পাশের ঘরে বিবশ ঘোরে আচ্ছন্ন হয়ে নিদ্রাগত। তার কলজের টুকরো কাবুল যে চেনা দেশ ছেড়ে কোন  অজানা দেশে চলে গেছে তা তিনি জানতে পারলেন না।  
    কাবুলের মা মঞ্জুশ্রীদেবী জীবনভর বিরূপ পরিস্থিতির আগুনে পুড়তে পুড়তে দুর্ভেদ্য পাথরে পরিণত হয়েছেন। তাকে এই পরিস্থিতির বিবেচনায় যথেষ্ট স্বাভাবিক দেখাচ্ছে। 
    লোকজন বলতে পাশের ফ্ল্যাটের দুঘর 
    আর শ্রীকুমারবাবুর তিন ভাইপো এবং  মঞ্জুদেবীর বাপের বাড়ির দিকের একজন।  একমাত্র পঁচাশি বছরের  বড় দাদা ছাড়া  মঞ্জুদেবীর ওদিকের প্রায় কেউই নেই। এমনকি তার চেয়ে অনেক ছোট তিন ভাই এবং এক বোনও মারা গেছে। 
    নিপা সর্দার নামেই আয়া । সে এ সংসারে টাকাপয়সার যাবতীয় হিসেব রাখা থেকে শুরু করে ব্যাঙ্ক পোস্ট অফিস ইনসিওরেন্স কোম্পানির কাগজপত্র সামলানো,  সব দায়িত্ব 
    নিপুনভাবে সামলে যাচ্ছে গত প্রায় তিন বছর ধরে। আর, অসুস্থ  শ্রীকুমারবাবুর সেবা শুশ্রূষা করা তো আছেই। হিসেব নিকেশ এবং টাকাপয়সা সামলানোর ব্যাপারে মঞ্জুশ্রী চিরকালই আনাড়ি। সে যাই হোক, বাকি সব 
    কাজকর্ম যেমন চিকিৎসা সংক্রান্ত সব দায়িত্ব এবং বৈষয়িক কাজকর্মগুলো সব নরিন্দরকে বইতে হয় । রেহেনা এখানে রান্নাবান্না করে। 
    হু হু করে নিপার চোখ থেকে জল গড়িয়ে  পড়ছিল দুগালে বেয়ে অবারিত ধারায়। 
    নিপা বলছিল, ' পেচ্ছাপের রঙ ছিল একেবারে লাল ..... রক্তের মতো .... দাদাবাবু কোন কেয়ার করত না .... বলল, ও কিছু না ..... কিছু হবে না আমার ....  চিন্তা করিস না .... পরশুদিন বেহুঁশ হয়ে গিয়েছিল ...... প্রায় পাঁচ মিনিট ..... কি ভয় করছিল আমার ..... '

           সকাল সাড়ে ছটা নাগাদ কাবুলের নিষ্প্রাণ শরীর বয়ে পাঁচতলা থেকে নীচে নামান হল , তারপর কাঁচের গাড়িতে চড়ে নিমতলাঘাট শ্মশানের দিকে রওয়ানা দিল। বোধশক্তি মুছে যাওয়া শ্রীকুমারবাবু মৃদু হাসি মাখা মুখে হুইল চেয়ারে বসে তার একমাত্র সন্তানের নিষ্ক্রমণ পথের দিকে ভাবলেশশূন্য চোখে তাকিয়ে রইলেন।   প্রকৃতির কোন গূঢ় উদ্দেশ্যবশত: পুত্রবিয়োগ যন্ত্রণা ভোগের থেকে তিনি  অব্যাহতি পেলেন ।  
    দুদিন বাদে মহীন্দর আর নিপা মিলে টাকা পয়সা সংক্রান্ত সমস্ত কাগজপত্র আলমারি ঘেঁটে বার করতে লাগল। কাবুল আচমকা চলে যাওয়ায় মঞ্জুশ্রীদেবী অগাধ জলে পড়েছেন। তিনি বৈষয়িক ব্যাপারে একেবারেই আনাড়ি। ঠিকমতো টাকা গুনতেও পারেন না । সৌভাগ্যবশত: বাড়ির তিন সাহায্যকারিই পরম বিশ্বস্ত ও সৎ ।
    লাউহাটি এই কমপ্লেক্স থেকে দশ বারো মিনিটের হাঁটা রাস্তা । সিঁথির বাড়ি বিক্রি করে শ্রীকুমারবাবুরা এখানে চলে এসেছিলেন কাবুলের প্রবল ইচ্ছায়।  সাতষট্টি লাখে সিঁথির বাড়ি বিক্রি করে সাঁইত্রিশ লাখে ম্যাগনোলিয়া প্রেস্টিজ কমপ্লেক্সে থ্রি বি এইচ কে ফ্ল্যাট কেনা। সাড়ে আট লাখ টাকা দিয়ে ঢাউস একটা গাড়ি কিনল নিজের শখ এবং প্রয়োজন মেটাবার জন্য । কাবুলের চলাফেরার ক্ষমতা ক্রমশঃ কমে আসছিল । দুরারোগ্য রোগে ধরেছে বছর দশেক আগেই । রাজারহাটে ম্যাগনোলিয়ায় আসার আসার কিছুদিন পর থেকে কাবুল যেন নতুন জীবন পেল । কারণ , নিপা । নিপা সর্দার।
        মনে মনে কাবুল মিশতে লাগল পরতে পরতে নিপার সঙ্গে। নিপার স্বামী এবং দুই সন্তান আছে তা কাবুলের জানা থাকা সত্ত্বেও ।

       নিপার শরীর যেন শ্রাবণের ঘন ঘোর বর্ষার ধারার মতো। সজীব মসৃন কালো শরীর ।
    কাবুলের শরীর মাঝে মাঝে একেবারেই বয় না। মনও বয় না। খাওয়ার সময়  কি জানি কি কারণে শরীর এলিয়ে পড়ে । নিপা কাছে এসে দাঁড়ায় ঘন ঘোর বর্ষার ধারার মতো। মেদুর ছায়ায় ছেয়ে যায় কাবুলের ছেচল্লিশ বছরের উষর তপ্ত নারীসঙ্গহীন দেহ মন।  
    নিপার দিকে কেমন যেন কাতর দৃষ্টিতে চেয়ে থাকে । নিপা পাশে এসে বসে। তার মনে নিজের অজান্তেই ঝুরঝুর করে এলোমেলো বাসন্তী হাওয়া বইতে থাকে। এমনটা যে হতে পারে কখনও চিন্তাতেও আসেনি কোনদিন নিপা সর্দারের। কোথায় এরা আর কোথায় তারা ! সর্বনাশ ... সর্বনাশ ...।
    নিপা চামচ দিয়ে ভাত তুলে দিতে থাকে কাবুলের মুখে। একবার আঁচল দিয়ে কাবুলের ঠোঁট  মুছে দেয় । আবেশ লাগতে থাকে কাবুলের রোগে পোড়া দেহে মনে ।   রক্তের কণাগুলো ব্যস্ত ছোটাছুটি শুরু করে ।
    মঞ্জুশ্রী আচমকা এসে পড়ে  ও ঘরে। দৃশ্য দেখে একেবারে থ ।   
    ' ....... কি রে .... তুই কি ঠুঁটো নাকি !  নিজে খেতে পারিস না .... জানতাম না তো এসব ..... ভীষণ বাড়াবাড়ি শুরু করেছিস কিন্তু .... এবারে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাব কিন্তু ..... '  মঞ্জুশ্রীর কথায় ফুটন্ত ঝাঁঝ ।  
    এর জবাবে কাবুলের প্রতিক্রিয়া হল একেবারে চাঁচাছোলা এবং বেপরোয়া ।
    ---- ' যাও যাও ....... তাই যাও.…... যেখানে খুশি যাও । গেলে বাঁচব আমি ..... ও: ' 
    ছেলের কথাবার্তা শুনে তাক লেগে যায়। মুখ দিয়ে কথা সরে না । অবাক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে ওখানে। 
    হঠাৎ নিপার দিকে তাকিয়ে চেঁচিয়ে ওঠে , ' যা বলছি এখান থেকে ..... এক্ষুণি যা ..... কি ভাবছিস নিজেকে ..... ধরা কে সরা জ্ঞান করছিস নাকি ...... খুব সাবধান  কিন্তু .....'
    নিপা কোন কথা না বলে দ্রুত পায়ে পাশের ঘরে চলে যায়। কাবুল প্রবল মানসিক শ্রান্তিতে পিছনে হেলান দিয়ে চোখ বুজে বসে থাকে। ভর দুপুরে জানলার পাল্লায় একটা কাক বসে তারস্বরে চেঁচাতে থাকে ।
    শ্রাদ্ধশান্তি সব ভালভাবে মিটে গেল। মুখাগ্নি করেছিল মঞ্জুশ্রীর ভাসুরের, মানে, শ্রীকুমার বাবুর দাদার  নাতি । শ্রাদ্ধের কাজেও সেই বসল।  আর কেউ ছিল না ওসব করার মতো। 

        চারতলা ফ্ল্যাটের দক্ষিণদিকের জানলা খুললে নীচে প্রায় তিরিশ ফুট দূরে ছোটখাটো সুইমিং পুল। তিনটে উনিশ কুড়ি বছরের ছেলে সাঁতার কেটে এদিক ওদিক করছে । বিকেল পাঁচটা বাজল। মহীন্দর পুলের ধারে একটা সিমেন্টের বেঞ্চে বসেছিল। একদৃষ্টে জলের দিকে তাকিয়ে কি সব ভাবছিল। বিহারের বাসিন্দা হলেও সে কিন্তু আসলে গুজরাটি । তার পরিবার থাকে মজফফরপুরের কোন গ্রামে । এখান থেকে যা রোজগার করে তার বেশিরভাগটাই পাঠিয়ে দেয় গাঁয়ের বাড়িতে। তার বৌ মৈথিলির খাঁটিখুটি গড়ন। সারাদিন কাজ করে যায়। কোন ক্লান্তি নেই।
    কত কাজ যে করে সারাদিন । ক্ষেতের কাজ , জমির কাজ, ঘরের কাজ।  মহীন্দর এখন ভাল টাকাই পাঠাচ্ছে । মৈথিলি কিন্তু  শুয়ে বসে আয়েস করে কাটাতে পারে না । কাজ ছাড়া সে জল থেকে তোলা মাছের মতো হাঁসফাঁস করে। 
    ছেলে মেয়ে দুটোর 'পড়া লিখা' র দিকেও তার খুব 'ধ্যান '।  পয়সা বাঁচিয়ে বাঁচিয়ে বাচ্চাদের পড়াবার জন্য একটা মাস্টার রেখেছে। তাকে সে রোজ চা আর বিস্কুট দেয়। রাকেশ ত্রিবেদী প্রাইমারি ইস্কুলের মাস্টার। এই পঁচিশ ছাব্বিশ বছর বয়েস হবে। বড় ভাল লোক। বড্ড লাজুক স্বভাব। মৈথিলি নিজে আনপড় লোক হলেও ঠিক খেয়াল করে যে, মাস্টারজী তার বাচ্চাদুটোকে খুব যত্ন করে পড়ায়। তার মনের ঘরে খুশির আলো খেলা করে বেড়ায়। দিওয়ালির সময় মহীন্দরের আসার কথা। প্রতি বছর ওই সময় গাঁয়ে আসে সে। তার কদিন পর  থেকে রাত্তিরবেলা বাতাস থেকে হিম ঝরতে থাকে। মৈথিলি গরম গরম চাপাটি আর ভাজি বানায়।  খাওয়া সেরে রাত নটা নাগাদ শুয়ে পড়ে। ভোর পাঁচটায় মোরগের ডাক কানে যাওয়া মাত্র উঠে পড়ে মৈথিলি। বাকি তিনজন 
    ওঠে আরও ঘন্টাখানেক পরে ।
    একদৃষ্টে জলের দিকে তাকিয়ে আনমনে কি সব ভেবে যাচ্ছিল মহীন্দর। দেওয়ালির এখন ঢের দেরি। সবে চৈত্র মাস পড়ল। সেই সেবারে যখন গাঁও গেল পাশের জঙ্গল থেকে একটা ভাল্লুক ঢুকে পড়েছিল তাদের দেহাতে। একেবারে টাটকা বুনো ভাল্লুক। খপ্পরে পড়লে কোনরকমে যদি একবার আঁচড় টেনে দিতে পারে শরীরের কোথাও, মাংসের আধ ইঞ্চি ভেতর তক কেটে 
    ফালা ফালা হয়ে যাবে। কোন হাসপাতালে কোন ডাক্তার সেলাই করে মাংস জোড়া দিতে পারবে না। মহল্লার লোকেদের অনেক কসরত করতে হয়েছিল ভাল্লুকটাকে জঙ্গলে ফেরত পাঠাতে। মহীন্দরও বিস্তর ছুট দৌড় করেছিল। মেয়েটার তখন আড়াই বছর বয়স। ছেলেটা তখনও আসেনি।  
    নিপা সেদিন বলল, ' মহীন্দর তুমি যে এত টাকা নিয়ে আসছ ...... কাকীমাকে দিয়ে লিখিয়ে  নিচ্ছ তো ? '
    মঞ্জুশ্রী এ টি এম থেকে টাকা তুলতে পারে না। মহীন্দরের অবস্থাও তথৈবচ। মঞ্জুশ্রীর ভাসুরের এক ছেলে প্রতি মাসে পেনশানের টাকা তুলে দেয়। 
    ------ ' কি আর লেখাব ...... আমি বললেই কি উনি সহি করবেন ? আর সহি করলেও উনি টাকাটা পাবার কথা পরে নাও মানতে পারেন। কাজেই ওসব বাদ দাও নিপাদি। যা হবে পরে দেখা যাবে। ' মহীন্দর বলে।
    নিপা যদিও মহীন্দরের থেকে বয়সে ছোট তবু মহীন্দর নিপাকে নিপাদি বলে। নিপা এ সংসারের যাবতীয় বৈষয়িক কাগজপত্র এবং টাকাপয়সার হিসেব সামলায় । শ্রীকুমারবাবুর সেবা তো আছেই । সামলাবার মতো আর কেই বা আছে। মঞ্জুশ্রী আনাড়ি,  শ্রীকুমারবাবু  ইদানীং বোধশক্তিহীন , কাবুল দুরারোগ্য ব্যাধি আক্রান্ত এবং প্রায়ই মেজাজ হারিয়ে ফেলে। রেহেনা এসব সাতে পাঁচে নেই। মহীন্দর টাকাপয়সার 'রিক্স' - এর মধ্যে যেতে চায় না। অগত্যা নিপাই ভরসা। কাবুল বোধহয় কোন ইঙ্গিত পাচ্ছিল মনে মনে । অনেকেই বোধহয় পায় .... সূর্য ডোবার ইঙ্গিত পায়। তাই নিপা আর মহীন্দরকে ততটা পারে বুঝিয়ে সুঝিয়ে রাখে । কখনও কোন দুর্বিপাক ঘটলে যাতে কেউ অগাধ জলে না পড়ে। এমনকি তিনটে এ টি এম কার্ডের পিনকোডও জানিয়ে রেখেছে ওদের।  
    তিনটে ছেলে তিরিশ ফুট লম্বা সুইমিং পুলে ফ্রি স্টাইল টানছে এদিক থেকে ওদিক। বার পাঁচেক ডবল মারবার পর দম খতম। পাড়ের খাঁজ ধরে দোল খেতে লাগল। দেখে হাসি পেয়ে যায় মহীন্দরের। তরতাজা জোয়ান সব। এর মধ্যেই কলিজার এই অবস্থা। সে এখনও গঙ্গার এপার ওপার করতে পারে বাজি ধরে।
    হঠাৎ নজরে পড়ল পশ্চিমদিকের আকাশ লাল করে সূর্য অস্ত যাচ্ছে। মহীন্দর সে দিকে তাকিয়ে রইল। তাকিয়ে থাকতে থাকতে কেমন ঘোর লেগে গেল। ধীরে ধীরে লালচে আকাশের গায়ে আবছা আঁধারের মতো ভেসে উঠতে লাগল একটা মুখ। ঠিক যেন নিপার মুখের মতো। ওদিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে মহীন্দরের দুচোখ কেন কে জানে জলে ভরে উঠল। বুকের ভিতর কেমন একটা মেঘলা হাওয়া ছুটে বেড়াতে লাগল। ছেলে তিনটে সুইমিং পুল থেকে উঠে চেঞ্জরুমের দিকে যাচ্ছে। 

     কাবুলের সঙ্গীসাথী আর কেউই নেই অনেকদিন ধরেই। কেই বা আর শুকিয়ে যাওয়া গায়ে হেলান দিয়ে বসে। মাটিতে মিশে যাওয়ার আগে পর্যন্ত সে একলাই দাঁড়িয়ে থাকে। কাবুলেরও কারও সঙ্গে আর মেলামেশা করতে ইচ্ছে করে না। সোফায় হেলান দিয়ে উদাস দৃষ্টিতে জানলা দিয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে ছিল। একটু ওপাশে  চারতলার ব্যালকনির এক কোণে একটা ঢাউস আকারের মৌচাক জমাট বেঁধেছে। নিঝুম বিকেলে শান্ত গুঞ্জনের মতো স্থির হয়ে আছে।  
    একটু পরে সন্ধে নেমে এল। মৌচাকটা আঁধারের ছায়ায় ঢাকা পড়ল। দরজায় কলিং বেল বেজে উঠল। এই আওয়াজটার জন্য উন্মুখ হয়ে বসে ছিল কাবুল। কাবুল  উঠে গিয়ে 
    দরজা খুলে দিল। নিপা এসে ঢুকল । শ্রীকুমারবাবুর চেতনা ভেসে বেড়াচ্ছে চেনা জগতের বাইরে। সেই বেলা বারোটা থেকে চিৎ হয়ে শুয়ে হাঁ করে ঘুমিয়ে যাচ্ছেন । হাঁ করা প্রায় ফোকলা মুখ এই দু:খ ও মনস্তাপ ভরা দুনিয়ার 
    সীমানার বাইরের কোন ব্যোমতল থেকে প্রগাঢ় প্রশ্বাস নিয়ে চলেছেন তিনি ।
    নিপা শ্রীকুমারবাবুর খাটের পাশে গিয়ে দাঁড়াল। মায়াভরা দৃষ্টিতে  তাকিয়ে রইল এ জগৎ সংসার থেকে আপাতবিচ্ছিন্ন নিরালম্ব শুন্যে বিহারমান শ্রীকুমার বাবুর দিকে। গায়ের চাদর সরিয়ে নিপা ডায়াপার এবং কোমরের তলা পরীক্ষা করল । নি:সাড়ে হয়ে যায় যে  শ্রীকুমারের। নিপা দেখল , না .... এখন কিছু নেই। শুকনোই আছে। নিপা রান্নাঘর থেকে একবার ঘুরে বাইরের ঘরে গেল। রেহেনা চিকেন রান্না করে রেখে গেছে দুপুরে।  সে জানে তাকে আবার কিছু রাঁধতে হবে। ফিলহাল তার হাতের রান্না ছাড়া কোন খাবার মুখে রোচে না কাবুলের। মঞ্জুশ্রীর দিক থেকে চাপা বিরক্তি ও উষ্মার অন্ত নেই। কাবুলের রাগের বিষ্ফোরণ ঘটাতে চায় না বলে চুপচাপ থাকে সে। একে  তো ছেলের শরীর স্বাস্থ্যের এই হাল, তার ওপর উত্তেজনার জ্বালানি চড়ানো ঠিক হবে না বলে ভাবে সে। দুই ছেলে মেয়ের মা নিপার মনে মাঝে মাঝে কেমন একটা খুশির দোলনা দুলে ওঠে। কোন জটিল পাকে সে জড়িয়ে পড়ছে কে জানে। ঘরে তার স্বামী নানাবিধ রোগে ভোগা বারোমেসে রুগী। 
    নিপা বাইরের ঘরে এসে দেখল সোফায় হেলান দিয়ে বসে আছে কাবুল। নিপা জিগ্যেস করল, ' রাত্তিরে কি খাবেন ? ' 
    সামনে দাঁড়িয়ে লাবন্যময় চিকন কালো নিটোল শরীরের দেহাতি আমগাছের মতো নিপা। 
    কাবুল তাকিয়ে থাকে । কি জানি কি সব ভেবে মরে। 
    বলে , ' ও...ই চিকেন স্যুপ .... '
    ------ ' চিকেন তো রেহেনা বানিয়ে রেখে গেছে .... '
    ------- ' আরে দূর ..... ও আবার স্যুপ বানাতে পারে নাকি ! তুই বানালে খাব , নাহলে আজ আর কিছু খাব না .... এ বাড়িতে তুই ছাড়া আর কেউ কিছু বানাতে পারে নাকি ! দ্যুৎ ..... '
    কথা অবশ্য আর  বেশি দূর গড়ায় না। হঠাৎ সেখানে এসে হাজির হয় মঞ্জুশ্রী। নিপা কিচেনের দিকে চলে যায়। মঞ্জুশ্রী কাবুলের দিকে গনগনে চোখে তাকিয়ে ঠান্ডা গলায় বলে, 
    ' বড্ড বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে কিন্তু কাবুল .... ইহকাল পরকাল সব তো জলাঞ্জলি দিয়েছ .... এইবার এ সব .... আর কোথায় নিয়ে গিয়ে ফেলবে আমাদের বলতে পার ....'
    কাবুল সটান সোজা হয়ে বসে মারাত্মক বেপরোয়া কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল বোধহয়। এই সময়ে কলিং বেল বেজে উঠল দরজায়। 
    মহীন্দর এসে ঢুকল। সঙ্গে একজন বছর চল্লিশের লোক। 
    মহীন্দর বলল, ' হ্যা ..... এই যে পরেশ ... এস এস । স্যার .... কাকীমা এ হচ্ছে পরেশ পাল । ওই যে সি সি ক্যামেরা বসাবার কথা বলছিলেন ...... সেই জন্য .... এ একেবারে এক্সপার্ট মেকানিক । হাড়োয়ায় থাকে ...... দেখুন কোথায় কি বসাবেন। '
    কাবুল বলল, ' ও আচ্ছা ..... বসুন আপনি পরেশবাবু ।'
     মঞ্জুশ্রী ছেলেকে বললেন, ' আমি এসব  বুঝিনা .... যা কথাবার্তা বলার তোমরা বলে নাও ।' বলে তিনি ভিতরে চলে গেলেন। নিপা প্রসঙ্গ আপাতত চাপা পড়ে গেল।

    দুপুর দুটো । কমপ্লেক্সের পাঁচিলের ঠিক বাইরে তিনটে নারকেল গাছ ।  গাছের মাথায় পাতার ঝালরে রোদ পড়ে ঝিলমিল করছে। কমপ্লেক্সের গেটের পাশে কিয়স্কে একজন  সিকিউরিটি গার্ড বসে মোবাইলে কি দেখছে। আর একজন বাইরে বেঞ্চে বসে হাতের তেলোয় খইনি ডলছে। মহীন্দর তার পাশে বসে একটা 
    হিন্দি দৈনিকে চোখ বোলাচ্ছিল। 
    গেটের বাইরে একটা গাড়ি এসে দাঁড়াল। প্রবীর ঘোষ হাতের খইনি তাড়াতাড়ি ঠোঁটের ফাঁকে ঢেলে দিয়ে তাড়াতাড়ি উঠে গিয়ে গেট খুলে দিল। ডাক্তার অমিতাভ সাহার গাড়ি ভিতরে ঢুকল। সেই শ্যামবাজার থেকে অনেক সাধ্য   সাধনা করে  তাকে আনা হয় শ্রীকুমারবাবুকে  মাঝে মাঝে একটু পরীক্ষা করে যাওয়ার জন্য।
    গাড়িভাড়া বাদে দু হাজার টাকা যায় প্রতিবার। কিছু করার নেই। অনেক দিনের পরিচিত গৃহ চিকিৎসক তাই .... অন্য কেউ হলে এত দূরে রুগী দেখতে আসতই না। স্বাভাবিক বোধবুদ্ধি হারা শ্রীকুমারবাবু এই অতি পরিচিত ডাক্তারবাবুটিকে চিনতেই পারলেন না। 'কেমন আছেন ? ' জিজ্ঞাসা করাতে ' নমস্কার গুরুদেব' বলে  মুখে মৃদু হাসি ফুটিয়ে নির্বিকারভাবে পাশ ফিরে শুলেন। ডাক্তারবাবু লক্ষ্য করলেন পিঠের একপাশে বেডসোরের চিহ্ন ফুটে উঠেছে।
    ড. সাহা  প্রেসক্রিপশান লিখে পেশাদারি ভঙ্গীতে ওষুধ বুঝিয়ে দিয়ে চলে গেলেন। তার চেম্বার করার তাড়া আছে। তার অভিজ্ঞতা তাকে জানিয়ে দিল, শ্রীকুমারবাবুর জীবন প্রায় গুটিয়ে এসেছে ।
     নিপা কাবুলকে একবার বলল, ' আপনিও একবার দেখিয়ে নিলে পারতেন। আমার খুব চিন্তা হয় ...... আমি কোথায় যাব .... '
    শুনে কাবুলের একটা হার্টবিট মিস হল । কোনরকমে বলল, ' না: .... থাক এখন ..... সহজে মরছি না ...... '
    কথাগুলো ভাগ্যিস মঞ্জুশ্রীর কানে গেল না। তবে 
    মহীন্দরের কানে গেল এবং নিজের অজান্তেই মহীন্দরের বুকে কেমন একটা সিরসিরে  কাঁপন 
    লাগল। কেউ দেখতে পেল না , কয়েক সেকেন্ডের জন্য তার চোখের  তারায় কেমন যেন ভর সন্ধের  ম্লান ছায়া নেমে এল।
         কাবুল মহীন্দরের হাতে প্রেসক্রিপশানটা দিয়ে বলল, ' ওষুধগুলো নিয়ে এস ...... নিপার কাছে টাকা আছে। '
    মহীন্দর নিপার কাছ থেকে টাকাটা নিয়ে বলল , ' কাবুল স্যারের ওষুধও তো লাগবে ..... '
    ------- ' হ্যা .... তা তো লাগবেই .... কিন্তু আমাকে না বললে আমি কি করে ..... শরীরের যা হাল হয়েছে ...... সেদিন নাকি লাল রঙের পেচ্ছাপ বেরিয়েছে ..... এত চিন্তা হচ্ছে আমার ..... '
    ------- ' হুমম্ .... তাই তো .... চিন্তারই ব্যাপার । ওনার কিছু হয়ে গেলে আমাদের যে কি হবে ! কিন্তু আমরা আর কি করতে পারি .... নিজের ভাল যদি নিজে না বোঝে ..... '
    ------- ' সে..ই ... ' বলে নিপা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ।
    এ দীর্ঘশ্বাসের মানে বার করতে গিয়ে রীতিমতো ধাঁধায় পড়ে মহীন্দর। ঘরের জানলা দিয়ে চৈত্রের হাওয়া ঢুকছে হু হু করে । 
          কমপ্লেক্সের ঠিক উল্টোদিকে সাহাবুদ্দিন ফার্মেসি। মাসকাবারি ব্যবস্থায় ওষুধ যায়  এখান থেকে। কাউন্টারে বসে থাকা আরবাজ প্রেসক্রিপশান  দেখে বলল,  ' কি ব্যাপার, কাবুলবাবুর মেডিসিন যাচ্ছে না অনেক দিন ধরে ..... উনি কেমন আছে এখন ? 
    মহীন্দর একটু চুপ করে রইল। তারপর তার মুখ দিয়ে আচমকা বেরিয়ে গেল, ' হাঁ .... এখন ভালই আছে ..... মোটামুটি ..... কিছু লাগবে না এখন ...... ' 
    বলে মহীন্দর নিজের কথার আওয়াজেই কেমন চমকে উঠল।  নিপার কথা মনে পড়ে গেল ,  কমোডে দেখেছে পেচ্ছাপের রঙ লাল। একদিন বেহুঁশ হয়ে গিয়েছিল কাবুল স্যার । দোকানের পাশে পাশাপাশি দুটো কৃষ্ণচূড়া গাছ দাঁড়িয়ে আছে।  লাল আবীর ঝেঁপে নেমেছে কৃষ্ণচূড়া দুটোর শরীরে জুড়ে । 
     ...................       ..............    ...................
        শুভায়ন সমিতির কাঁচের গাড়ি বেরিয়ে গেল ম্যাগনোলিয়া প্রেস্টিজের গেট দিয়ে নিমতলাঘাট শ্মশানের দিকে । সিকিউরিটি পৃথ্বী দাস গেট খুলে দিয়ে একপাশে দাঁড়িয়ে রইল । 
    সাহাবুদ্দিন ফার্মেসির আরবাজ হোসেন  দোকানের বাইরে এসে দাঁড়াল। কাবুলবাবুর 
     কোন প্রেসক্রিপশান নিয়ে আর কোনদিনও কেউ আসবে না তার দোকানে। ওই শববাহক  গাড়িটার পিছনে আরও চারজনের সঙ্গে  মহীন্দর শ্রীকুমারবাবুর ভাইপোর গাড়িতে উঠে বসল। একবার চারতলার ফ্ল্যাটের ব্যালকনিতে চোখ পড়ল। দেখল, মুখে আঁচল চাপা দিয়ে বৃষ্টি ধোয়া কেতকীর মতো চোখে নিষ্পলকে 
    ক্রমশ  দূরে চলে যাওয়া শুভায়ন সমিতির গাড়িটার দিকে তাকিয়ে আছে নিপা সর্দার ।
    বিহারের দূর দেহাতে মহীন্দরের বৌ এখন চড়া রোদ্দুরে দাঁড়িয়ে ভিন্ডি ক্ষেতের একপাশের বেড়া মেরামত করছে তাতে বুনো ভাম ঢুকে ক্ষেতির ফসল বরবাদ করতে না পারে। ছেলেমেয়ে দুটো ইস্কুলের গেছে পড়ালিখা করতে।  
    মহীন্দরের চোখে আবার ম্লান ছায়া নামে । সে তাকিয়ে থাকে চারতলার ব্যালকনির দিকে। 

        মহীন্দররা শ্মশান থেকে ফিরল বিকেল চারটে নাগাদ ।  নিমপাতা, আগুনের তাপ, লোহার টুকরো, রসগোল্লা সব আচারই হল। নিপাই  সব ব্যবস্থা করে রেখেছিল। 
    শ্রীকুমারবাবু নিজের ঘরে শুয়ে শুয়ে হঠাৎ ' কাবুল কোথায় গেলি ...... কাবুল ..... শোন একবার ..... দরকার আছে ..... শীগ্গির আয় .... শীগ্গির আয় .... শুনে যা ..... কাবুল .... কাবুল '
         মঞ্জুশ্রীদেবী স্থানু হয়ে বসে আছেন এক জায়গায় । নিপা আর মহীন্দর তড়িঘড়ি হাজির হল শ্রীকুমারের ঘরে । তিনি চিৎ হয়ে শুয়ে আছেন তার নীচু রেলিং দিয়ে ঘেরা খাটে ।  সিলিং-এর দিকে তাকিয়ে তিনি বার বার কাবুলকে ডাকতে লাগলেন।  বোধহয় কোন টেলিপ্যাথিক সংযোগের ফল । 
    নিপা আর মহীন্দর মুখ চাওয়াচাওয়ি করতে লাগল। নিপা বলে উঠল, ' কাবুল স্যার এক জায়গায় বেড়াতে গেছে ...... '
    মহীন্দর বলল, ' দেরি হবে ফিরতে । ততদিন আমি আর নিপাদি আপনাকে দেখব। ' বলে নিপার দিকে তাকাল । শ্রীকুমার আবার ঘুমিয়ে পড়লেন।
    মহীন্দর দেখল,  নিপা বৃষ্টি ভেজা কেতকীর  মতো দুচোখ মেলে তাকিয়ে আছে মৃদু নাসিকাগর্জনরত ঘুমন্ত শ্রীকুমারবাবুর দিকে। 
     আর সে তাকিয়ে রইল নিপা সর্দারের দিকে ।
    ----- ' আমরা আমাদের কাঁধে চাপিয়ে টেনে নিয়ে যাব এদের ..... নিপা দি .... '
    নিপা ধীরে ধীরে মহীন্দরের দিকে মুখ ঘুরিয়ে তাকাল ।  বলল , ' একদম তাই ..... মহীনদা ...... যতক্ষণ জান আছে ..... ' 

         ওদিকে মজফফরপুরের এক দেহাতে দিনান্তবেলায় মৈথিলি ঘরে ফিরছে সারাদিন ধরে ক্ষেতির কাজ করে । কাল সকালে পাশের জঙ্গল থেকে একটা ভাল্লু আবার আবার ঢুকে পড়েছিল তার বাড়ির উঠোনে । 
     ...............     ............    ............   ............
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • বিপ্লব রহমান | ২০ মার্চ ২০২২ ০৪:২১505050
  • একটু পানসে মনে হলো। কেমন যেন দৈনিক ইত্তেফাকের আটপৌরে নিউজ। পাঞ্চ নাই, বিস্ময় নাই, তীব্র অনুভূতি নাই, থ্রিল তো না-ই। 
     
    একেই উপজীব্য করে আরেকটি থ্রিলার বা রহস্য গল্প লিখতে পারেন? তাহলে আবারও পড়বো। 
     
    আরও লিখুন। শুভ 
  • Anjan Banerjee | ২০ মার্চ ২০২২ ০৭:৪৪505055
  • দেখছি ..... 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভ্যাবাচ্যাকা না খেয়ে মতামত দিন