• টইপত্তর  অন্যান্য

  • রহস্য গল্প: আবার ফিরে আসা

    shrabani
    অন্যান্য | ০২ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ | ১৩০৩ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • ranjan roy | 122.168.68.78 | ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ ২২:৩১408428
  • রঞ্জন থতমত খেয়ে আমতা-আমতা করে বল্লো--- এমন একটা ব্যাপার, আমাকে একটু জানানোর প্রয়োজনও বোধ করলে না।
    --- কেন করবো না! বেশ কয়েক বার চেষ্টা করলাম। তোমার মোবাইল আউট অফ কভারেজ এরিয়ায় ছিল। তুমি বোধহয় খুব ইন্টেরিয়র ব্রাঞ্চে অডিট করছিলে। তাই আর--।
    পরদিন সকাল সাড়ে আটটায় ট্রেন।
    ভোর পাঁচটা থেকে বাঁধাছাঁদা করে তৈরি হওয়া। এজেন্সির গাড়ি বুক করা আছে। একটা ক্যাব স্টেশনে পৌঁছে দেবে। প্রায় আটটা বাজে। গেটের সামনে গাড়ি থামার শব্দ।
    ---এল বোধহয়। গ্যাসটা চেক করে নাও। রুম গুলো লক্‌ হয়েছে কি না দেখে নাও।
    দরজা খুলে একটু অবাক হল। ক্যাব তো নয়, রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে দুটো গাড়ি। একটা কালো গাড়ি, পুলিসের। তার থেকে নেমেছে জনা চারেক সেপাই, জনা দুই মেয়েপুলিশ।আর সাদা জিপ্‌সি থেকে নেমে এগিয়ে আসছেন জনা তিনেক মাঝবয়েসি ভদ্রপুরুষ, কেতাদুরস্ত পোশাক।
    চশমা পরা মাঝবয়েসি বল্লেন-- ভেতরে আসতে পারি কি?
    উত্তরের অপেক্ষা না করেই ওরা তিনজন ভেতরে ঢুকে পড়লেন। মেয়ে পুলিসরা দরজায় দাঁড়িয়ে ইতিউতি চাইতে লাগলো আর কনস্টেবলরা বারান্দায় নির্বিকার ভঙ্গীতে দাঁড়িয়ে রইলো।
  • ranjan roy | 122.168.68.78 | ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ ২৩:২৩408429
  • রঞ্জনের গলায় স্বাভাবিক ""আপনারা?'' প্রশ্নটা গলার থেকে ঠোঁটে এসে আটকে রইলো। তাই দেখে দয়াপরবশ হয়ে
    টাকমাথা ভদ্রলোক বললেন--- আমি শ্রীবাস্তব, ইন্স্‌পেক্টর ক্রাইম ব্রাঞ্চ, ইনি শিরপুরকর, ডিএসপি, কোরবা। আর চশমাপরা ভদ্রলোকের পরিচয় কেউ দিলেন না।
    রঞ্জন কিছু জিগ্যেস করার আগেই চশমাধারী বাকিদের বল্লেন---- ঠিক খবরই পেয়েছিলাম।একটু দেরি করলেই ""চিড়িয়া ভাগলবা'' হয়েছিল।
    কথাটার মধ্যে নিহিত অভব্য ইঙ্গিতে ওর ব্রহ্মতালু জ্বলে যায়।
    --- আপনারা কি সব বলছেন? ব্যাপারটা কি?
    --- সব জানতে পারবেন, ধীরে বন্ধু ধীরে।
    -- আমাদের দেরি হয়ে যাচ্ছে, পাঁচমিনিটের মধ্যে না বেরুলে রাজধানী মিস্‌ করব।
    --- তাড়া কিসের? দরকার হলে আমার গাড়িতে পৌঁছে দেব। জলদ্‌বাজি শয়তান কা কাম হ্যায়, মিস্টার রায়। অউর আপতো জেন্টেলম্যান হ্যায়।
    আর রাগ লুকনো গেল না।
    --- হেঁয়ালি ছাড়ুন, ঝেড়ে কাসুন তো!
    টাকমাথা এগিয়ে আসেন।-- বেশ, আপনার যখন এতই তাড়া। আপনারা যাচ্ছেন কোথায়?
    --- বল্লাম তো, দিল্লিতে। আর
    ""আপনারা'' নয়, শুধু ""উনি''।
    -- বটেই তো, বটেই তো, আমারি ভুল । শুধু উনি। তা উনি আজ দিল্লি যাচ্ছেন কেন?
    --- কি জ্বালাতন! দিল্লিতে আমার একমাত্র মেয়ে অসুস্থ, তাই মা' যাচ্ছে নার্সিং করতে। তাতে আপনাদের কিসের মাথাব্যথা?
    -- আহাহা, রাগেন কেন মি: রায়?
    বেশ, তা ওনার দিল্লি যাওয়ার টিকিটটা দেখেছেন কি?
    বিমূঢ় রঞ্জন আস্তে আস্তে মাথা নাড়ে।
    --জানতাম, দেখেন নি। আপনি যে ভদ্রলোক। তা এবার দেখেই ফেলুন।
    ও বৌয়ের দিকে তাকাতেই পার্সের থেকে টিকিট বিনা বাক্যব্যয়ে রঞ্জনের হাতে তুলে দেয়।
    ও নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারে না। টিকিটে লেখা বিলাসপুর থেকে ভোপাল।
    --মিসেস রায়, কিছু বলবেন?
    --- ভোপাল আমার বাপের বাড়ি। একদিন বাবামাকে দেখে পরের দিন শতাব্দীতে দিল্লি যাব, মেয়ের কাছে-- এতে অবাক হওয়ার কি আছে?
    --না না, কিচ্ছু না। তা মেয়ে আপনার দিল্লিতে কি করছে? মানে আজকে কি করছে?
    এবার রঞ্জন এগিয়ে আসে।
    অহংকারী গলায় বলে,--- অফিসার, ও অ্যান্ড্রু অ্যান্ড ইয়ুং বলে একটি নামকরা
    সিএ ফার্মে কাজ করে।
    --- একদম ঠিক বলেছেন। এবার আমার হাতের এই কাগজটা দেখুন তো। এই ফ্যাক্সটি মাত্র একঘন্টা আগে এসেছে। ঐ ফার্মের এইচ আর ডি থেকে। ওরা বলছে মিস্‌ রায় একমাস ধরে সিক লিভ্‌ নিয়ে আছেন। এখনও কোন ডিউটি জয়েন করেন নি।
    আর অফিস ওকে একমাস ধরে কোন কনট্যাক্ট করছে না।
    রঞ্জনের মাথাটা হটাৎ ঘুরে ওঠে। অপেক্ষাকৃত কমবয়েসি অফিসারটি লাফিয়ে এসে ওকে ধরে সোফায় আধশোয়া করে বসান। ইশারায় সিপাহী কে জল আনতে বলেন। একজন মেয়ে পুলিস রান্নাঘরের দিকে দৌড়ে গিয়ে একগ্লাস জল নিয়ে আসে।
    জল খেয়ে ও বলে--- আমি যে কিচ্ছু বুঝতে পারছি না।
    -- পারবেন, পারবেন। এখানে নয়, আমাদের সদর কোতয়ালি থানায় গিয়ে।
    আপনাদের দুজনকেই একটু আসতে হবে যে!
    -- আমি কি করেছি?
    চশমাওলা বলে-- কিস্যু করেন নি। সেটাই আপনার অপরাধ।সময় থাকতে কিছু করার ছিল।
    -- আর ও?
    -- মিসেস রায়কে আমরা এখনও ফর্মালি গ্রেফতার করিনি। থানায় কথাবার্তা বলার পর দেখা যাবে। সেক্ষেত্রে উনি কাল এগারটার পরে ওনার উকিলের সঙ্গে কথাবার্তা বলতে পারবেন।
    --অপরাধ?
    ----অপরাধ গুরুতর। হত্যার ষড়যন্ত্র, সাক্ষ্যলোপাট করা, এভিডেন্সের সাথে ছেড়ছাড় করা --আপাতত: এই।
    রঞ্জন কষ্ট করে বৌয়ের দিকে তাকায়।ওর চোখের মণি দেখতে পায় না। চেহারায় এক কাঠিন্য। দেয়ালের দিকে তাকিয়ে বলে---- রজ্জুভাইয়াকে খবর দাও। আর বিজয়কে। জামিনের জন্যে চেষ্টা করতে বল।
    টাকমাথা হাসেন।
    --উঁহু, আপনার নাগরিক অধিকার- হেবিয়াস কর্পাসের রিট-- সব আগামী চব্বিশ ঘন্টার জন্যে মূলতুবী থাকবে। আগে আমরা ভাল করে জিগ্যেস-টিগ্যেস করেনি, তারপর কাল আপনার উকিল রজ্জুভাইয়া বা রাজেশ বর্মার সঙ্গে কথা বলতে পারবেন।
    ( চলবে)

  • ranjan roy | 122.168.68.78 | ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ ২৩:৩৮408430
  • রোকেয়া, ব্ল্যাংকি ও আর্যকে:
    ------------------------
    এইবার কমার্শিয়াল ব্রেক। শেষটা মানে রহস্যমোচন পর্ব কাল।
    কিন্তু তোমরা অনায়াসে সত্যি কথাটা বলতে পারো--- দাদা, শ্যাষকালে এই? পর্বতের মুষিকপ্রসব! এই আপনার গায়ে কাঁটা দেয়া রহস্যগল্প? ধূর!
    তাহলে আমি কিছু মনে করবো না। ঐশ্বর্য্যা রায়কে বিয়ে করা সবার কম্মো না মেনে নিয়ে অন্য কাজে হাত দেব।
    রোকেয়াকে:
    নিজেকে নিজে শালা বলা নিয়ে।
    কেন যাবে না? যেমন নিজের জমি নিজেকে বিক্কিরি করা যায়। ট্রান্সফার অফ প্রপার্টি অ্যাক্টের ধারা ৫ অনুযায়ী যে জমি পুরুষানুক্রমে ভোগদখল করা হচ্ছে, কিন্তু তার কোন টাইটেল ডীড নেই, তখন সেটা তৈরি করতে যা যা অপশন আছে তার একটা হোল নিজের জমি নিজেকে বিক্রি করে আইনি সেলডীড তৈরি করা। ( ১৯২৯ এর সংশোধন)।
    তালে নিজেকে নিজে শালা বলা যাবে না কেন?
  • shyamal | 72.24.214.129 | ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ ০০:১০408431
  • রঞ্জন দা,
    গুরুর বাংলা এডিটরে লিখুন। তবে আপনার ডিস্কে লেখাটা থাকবে। তারপরে কপি করে গুরুচন্ডালির বাংলা লেখার নতুন কলে পেস্ট করুন। তারপরে একটু আধটু বদলাতে হবে। যেমন চ (c to ch) , ছ (ch to chh)।

  • Arpan | 122.252.231.12 | ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ ০০:১৩408432
  • রঞ্জনদা, লাস্ট তিনটে পোস্টে তো ২০-২০ খেললেন। পুরো মনোরমা সিক্স ফিট আন্ডারের মত শেষ যত এগিয়ে আসে বাইকের গতিপথ পাল্টে পাল্টে যায় অপ্রত্যাশিতের গন্তব্যে।

    শেষটায় নভেম্বরের সেই শিকড় ভিজিয়ে দেওয়া বৃষ্টি নামবে তো? :)
  • arjo | 168.26.215.13 | ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ ০০:১৫408433
  • এখানেও বলে যাই।

    রঞ্জন দা, বাকীটা লিখেই ফেলুন না। কমার্শিয়াল ব্রেক একদম সফল, টিআরপি হু হু করে বেড়েছে। নিতান্তই না লেখেন কাল, তালে কাল আবার উইকএন্ড বলে বাদ দিবেন নি যেন।
  • ranjan roy | 122.168.68.78 | ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ ০০:২৭408434
  • অর্পণ,
    ভয় পাচ্ছি, সত্যি সত্যি ভয় পাচ্ছি। সামলাতে পারবো তো? দেখি।
    "" মনোরমা'' ফিলিমটা এখনও দেখিনি। কাজেই লাস্ট লাইনের ইঙ্গিতটা ঠিক ধরতে পারিনি। তবে মেয়ে ফেব্রুয়ারিশেষে বাড়িতে নিয়ে আসবে বলছে।
  • Blank | 59.93.246.15 | ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ ০০:৪৬408435
  • রঞ্জন দা, পুরো কেসটা ঘেঁটে ঘুগনি বানালে। এতুক্ষন বলিউডি মুভি ছিল। তাকে টুইস্ট দিয়ে সুরিয়াল পেরিয়ে পোমো গোয়েন্দা গপ্প হয়ে গেলো। শিগ্গির বাকি টা চাই
  • Blank | 59.93.246.15 | ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ ০০:৪৮408436
  • নিজেকে নিজে কতদিন ধরে শালা বলছেন? আদালতে তা প্রমান হবেই বা কি করে?
  • Arpan | 122.252.231.12 | ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ ০০:৫৪408323
  • না না ভয় পাবেন না, ঐশ্বর্যা তো "রায়' হয়েই গেছেন! :)
  • ranjan roy | 122.168.68.78 | ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ ০১:৩৯408324
  • বিলাসপুর সদর থানা দোতলা, একতলায় পাশের একটা উইংয়ে মহিলাথানা। জিপসি ও কালো ডগ্গা ওদিকের প্রাঙ্গণেই পার্ক করলো। বেলা এগারট। মহিলা থানা ইন্‌চার্জ দয়া পান্ডে আজ বেশ ফর্মে আছেন। ওনার টেবিলের সামনে এক মোটা মত মহিলাকে দুপাশ থেকে ধরে রেখেছে দুই মহিলা পুলিশ। আর তার মুখ থেকে ঝরে পড়ছে অশ্রাব্য গালাগাল। সুশ্রী একহারা চেহারার দয়া পান্ডের বয়েস চল্লিশ ছোঁয়- ছোঁয়। কিন্তু এই মুহুর্তে উনি চেয়ারে বসে তীব্র দৃষ্টিতে দেখছেন
    ঐ স্থুলাঙ্গী কালোকোলো তেলকুচকুচে প্রৌঢ়ার গালাগালির বহর। যেন কোন মনোযোগী ছাত্র বোর্ডের ওপর কষা কোন ইকোয়েশন বোঝার চেষ্টা করছে।
    হঠাৎ তিড়িং করে লাফিয়ে উঠে উনি তারসপ্তকে গলা ছাড়লেন---আবে মালতী, নালায়েক! ই মোটল্লি ক্যা তোর দাঈ লাগতী হ্যায়? ইয়ে ক্যা শরাফতসে বাজ আয়েগী? ডাল দে, ডাল দে ডান্ডা হারামজাদী কী চুতর্‌ মেঁ!
    আর মুখের কথা না খসতেই ঘরের কোণায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি মেয়ে পুলিস পেছন থেকে মারলো ওর পাছায় বাড়ি!
    মোটা মহিলা আগে থেকে দেখতে পায়নি। ওর চিলচিৎকারে ঘরের ছাদ ফেটে গেল।
    --- ইয়ে সব ক্যা হো রহা হ্যায়?
    এবার ম্যাডাম পান্ডের নজর ফিরলো সদ্য ঘরে ঢোকা আগন্তুক দলটির দিকে।
    চশমা পরা প্রৌঢ়ের দিকে চোখ পড়তেই পান্ডে সোজা দাঁড়িয়ে স্যালুট মারলেন।
    --- স্যার, আপ কব সে? পহলে কৈ খবর নহী আয়া?
    এঁরা পান্ডেকে সসম্মানে রিজার্ভ বেঞ্চে বসিয়ে দিয়ে ওর টেবল দখল করলেন। গোটা কয়েক চেয়ারও এসে গেল। রঞ্জন জানতে পারলো চশমা পরা ভদ্রলোক শহরের নতুন সি এস পি ,দীনেশ পরিহার। অর্থাৎ, সিটি সুপারিন্টেন্ডেন্ট অফ পুলিস।
    দয়া শর্মা এগিয়ে এসে বৌকে কুরিয়ে কুরিয়ে দেখলো। তারপর বল্লো-- এহি হ্যায় ও হত্যারিন? স্যার, ইসকো মেরে পাস ছোড় দিজিয়ে। ইসসে কবুলানা ? ইঁয়ু, এক চুটকি সে।
    রঞ্জন কেঁপে উঠলো। তবে কি ওরা বৌকে থার্ড ডিগ্রি দেবে? পুলিসকে বিশ্বেস নেই।
    পরিহার যেন থট রীডিং জানেন--- না না, মি: রায়, অযথা ভয় পাবেন না। আমরা শুধু ওনাকে কিছু কথা জিগ্যেস করবো, আপনার সামনে। উত্তর দেয়া না দেয়া ওনার ইচ্ছে।
    আমরা সবই জানি। শুধু ওনার সহযোগিতা পেলে লিংক গুলো জুড়তে সুবিধে হবে। আ
    মাদেরও দিনদুইয়ের অতিরিক্ত পরিশ্রম বাঁচবে। ফলে আমরা ভারতীয় দন্ডবিধির ধারা ৩০২, ৩০৪ এর জায়গায় অনেক নরম ধারা লাগাব। এই আর অকি?
    ইতিমধ্যে আগের মোটা মহিলাকে থানার মহিলা লক আপে পুরে দেয়া হয়ে গেছে। টাকমাথা অফিসারের চোখের ইশারায় দয়া পান্ডে অন্য কামরায় চলে গেছেন।
    টাকমাথা বল্লেন--স্যার, এবার আমরা শুরু করতে পারি।
    ইতিমধ্যে সবার জন্যে ছোট কাপে দোকানের চা এসে গেছে। রঞ্জন এক ঢোঁক খেয়ে নামিয়ে রাখল। ওর বৌ চা ছুঁল না। রঞ্জন দেখলো ওর মুখের চেহারা যেন আস্তে আস্তে ত্রি-মাত্রিক জ্যামিতির ছবি হয়ে যাচ্ছে।
    চশমাওলা এবার গলা খাঁকরে বল্লেন-- মিসেস রায়, আপনার কতখানি কো অপারেশন আশা করতে পারি?
    বৌ চুপ। রঞ্জন উসখুস করে।
    --- মিসেস রায়, বলুন, হমলোগ ইন্তেজার মেঁ।
    --- আমি আমার পারিবারিক অ্যাডভোকেট রাজেশ বর্মার প্রেজেন্স ছড়া কোন স্টেটমেন্ট দেব না।
    সবাই চুপ। একটা ফোন বেজে ওঠে টাকমাথা উঠে যান। ফোন ধরে শ্রীবাস্তবকে নিয়ে ঘরের কোণায় গিয়ে কিসব গুজগুজ করেন। তারপর ফিরে এসে পরিহারের দিকে তাকিয়ে প্রায় অলক্ষ্যে আস্তে করে মাথা নাড়েন।
    এবার পরিহার রঞ্জনের দিকে তাকিয়ে বল্লেন- মি: রায়, আপনি একজন ল-অ্যাবাইডিং সিটিজেন। আপনি চাইলে আমাদের অনেক হেল্প করতে পারেন।
    --- বলুন, আমাকে কি করতে হবে?
    -- কিছু না, শুধু যা যা
    প্রশ্ন করবো তার ঠিক ঠিক উত্তর দেবেন, মনে নিজে যতটুকু জানেন।
    এবার টাকমাথা একজন সেপাইকে বল্লেন--- লে আও।
    সেপাই মালখানা থেকে হাজির করলো একটি বড়সড় প্যাকিং বাক্স। তার্থেকে বেরুলো পলিথিনের র‌্যাপার দিয়ে মোড়া এক প্যাকেট-তার গায়ে একটা কার্ড লাগিয়ে এগজিবিট নম্বর লেখা।
    --- দেখুন, রায়বাবু, ভাল করে দেখুন।

    ইতিমধ্যে কনস্টেবলের গ্লাভস পরা হাত দক্ষতার সঙ্গে প্যাকেট থেকে বের করেছে একটি তোরঙ্গ।
    হ্যাঁ, রঞ্জন চেনে বৈকি! এত সেই লিংক একসপ্রেসের কোচ নং ৬ এর বেঞ্চের নীচে রাখা রঙ করা বাক্সটি, যার কোণায় আঁকা ফুল।
    ---না মি: রায়, আপনি ঠিকই বলেছেন কিন্তু এই বাক্সটি আপনি আরও আগে দেখেছেন। আপনাদের বাড়ির লফটে রাখা ছিল।
    তবে রঙটা নতুন করা হয়েছে। অনেক ভেবে, এবং মিসেস রায়ের নিজের হাতে।
    কি, ঠিক বল্লাম তো?
    ( কাল সত্যিই শেষ হবে।)
  • Hukomukho | 69.250.188.49 | ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ ০৭:৩৭408325
  • জ্জিও রঞ্জনদা মোক্ষম জায়গায় ছেড়েছেন। কি আছে বাক্সে?? কার লাশ ?? তবে ইয়ে একটা কথা বৌদি গপ্প পড়ে রেগে যাবেন না তো ?
  • Binary | 70.64.8.206 | ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ ০৭:৪৮408326
  • রঞ্জনদা সত্যি সত্যি সিরিয়াল প্রযোজনা করলে, ব্যপক সফল হবেন......
  • rokeyaa | 203.110.246.230 | ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ ০৮:৪৫408327
  • সে আর বলতে! নাম যখন "কোচ' দিয়ে শুরু!
  • PB | 59.177.161.176 | ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ ১৪:৫৬408328
  • ইয়ে তো লাগতা হ্যায় 'সুপার ডুপার হিট' হোগা। কিয়্যা সাসপেন্স .......
  • ranjan roy | 122.168.23.46 | ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ ২২:০১408329
  • কোচ নং ৬
    -------------
    রঞ্জন স্ত্রীর দিকে তাকায়। মহিলাকে কেমন অচেনা লাগছে। এর সঙ্গে প্রায় তিরিশ বছর ঘর করেছে? নাকি সে ছিল অন্য কেউ?
    মহিলাটি জানলা দিয়ে তাকিয়ে আছেন বাইরে--- সেখানে দুটো জীপ, বাজেয়াপ্ত করা দুটো ট্রাক, কিছু মোটরবাইক।গাছের তলায় ক'জন দেহাতি মানুষের জটলা। দুটো গরু কখন মনের আনন্দে ঢুকে পড়ে প্রাঙ্গণের টুকরোটাকরা সবুজকে চেটেপুটে নিচ্ছে।
    ও কি এইসবই দেখছে মন দিয়ে? এইসব নিত্যনৈমিত্তিক তুচ্ছ জিনিস?
    আসলে ও বোধহয় কিছুই দেখছে না।
    বেলা সাড়ে দশটা, কিন্তু রঞ্জনের কেমন শীত-শীত করতে লাগলো।
    ইতিমধ্যে পাশের বিল্ডিংয়ের অর্থাৎ, মূল সদরথানা থেকে একজন ওয়ান- স্টার সেপাই এসে একটা ফ্যাক্স টাকমাথা অফিসারের হাতে ধরিয়ে দিল। উনি চোখ বুলিয়েই এগিয়ে দিলেন সি এস পি পরিহারের দিকে। এরপর তিনজনের চোখে চোখে কিছু কথা হল।
    পরিহার চেয়ার ঘুরিয়ে মুখোমুখি হলেন মিসেস রায়ের দিকে। ওনার চোখ চক্‌চক্‌ করছে। উত্তেজনা লুকোতে গিয়ে গলার
    স্বর এক পর্দা চড়ানো।
    --- মিসেস রায়, আপনার সহায়তা হয়তো আর আমাদের খুব একটা দরকার হবে না।
    এইসমস্যার চাবিকাঠি প্রায় আমাদের হাতের মুঠোয়।
    এরপর শুধু বলতে হবে "" খুল যা সিম্‌ সিম্‌''।
    তবে একটা কথা বলি-- আপনার ভোপালের টিকেটটা খামোকা নষ্ট হল। আপনার মেয়ে আর ভোপলে নেই। মামাবাড়ি থেকে ও শেলটার বদলেছে গত পরশুই। ছিলো এক বন্ধুর বাড়িতে।
    আধঘন্টা আগে আমাদের লোক ভোপাল পুলিশের হেল্প নিয়ে সেখানে রেইড্‌ করে।
    মাত্র একঘন্টা আগে ঐ বাড়ি থেকে দুটো গাড়ি বেরিয়েছে।একটা গেছে জবলপুরের দিকে , আর একটা নাগপুর। এরই কোন একটায় আপনার কন্যারত্নটি সওয়ার হয়েছে।
    তবে কি জানেন? কোথায় যাবে? ওর সম্ভায় শেল্টারগুলোর লিস্ট আমরা বানিয়ে ফেলেছি। সব জায়গায় লোক লাগানো হয়েছে। জাল ছড়ানো হয়েছে। এখন শুধু খেলিয়ে গুটিয়ে তোলা । ওর ধরা পরা এখন শুধু ম্যাটার অব ডেজ্‌, ইফ নট আওয়ার্স।
    এবার রঞ্জনের চেঁচানোর পালা।
    -- আপনারা এসব কি শুরু করেছেন? কেন আমার পরিবারের পেছনে লেগেছেন? প্রথমে আমার স্ত্রী, তারপর আমার মেয়ে? আমি আপনাদের কাছে হাতজোড় করছি, ও বাচ্চা, অত্যন্ত অসুস্থ। এ'কদিন আমার ঘরেই ছিলো। আপনারা গাইনির সার্টিফিকেট দেখতে পারেন।
    প্লীজ ওকে রেহাই দিন।
    -- কি করে রেহাই দেব মি: রায়? আরে, ওই তো বাক্সরহস্যের মিসিং লিংক।
    --- কি যা তা বলছেন? কেন আমাকে নিয়ে ইঁদুর-বেড়াল খেলছেন। কেন বলছেন না ও কী করেছে?
    আমি জানি আমার মামণি কোন বেআইনি কাজ করতে পারে না।আমি ওকে ভালো করে জানি।
    এবার মুখ খুলেছেন শ্রীবস্তব।
    --- আপনি কিছুই জানেন না মি: রায়। নিজের স্ত্রীকেও না, নিজের মেয়েকেও না। গাইনির রিপোর্ট দেখাচ্ছিলেন? নিজে একবারও দেখেছেন সেটা?
    -- না, দেখিনি, তবে আমার স্ত্রী---।
    --- কেন দেখেন নি? কেমন বাবা আপনি?
    প্রায় গর্জে উঠেছেন পরিহার।
    --- সময় পান নি? অফিস নিয়ে খুব ব্যস্ত ছিলেন?
    হঠাৎ যেন লজ্জা পেয়ে গলা নামিয়ে বললেন।
    -- সরি! আমরা সবাই তাই।
    আফিস-চাকর--প্রমোশন- গসিপ- ভোট-বাজারদর এইসব নিয়ে ব্যস্ত থাকি। খেয়াল রাখি না আমার ঘরের লোকজন কি করছে, কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে।
    যদি আপনি নিজে গাইনির সঙ্গে দেখা করতেন বা মন দিয়ে ওর মেডিক্যাল রিপোর্ট পড়তেন তাহলে জানতে পারতেন আপনার মামণিটি এবার অ্যাডভান্‌স্‌ড্‌ প্রেগনান্সি নিয়ে আপনার বাড়িতে এসেছিল।
    কয়েক সপ্তাহ আগে সে আপনার স্ত্রীর বান্ধবীর চেনা নার্সিং হোমে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেয়।
    ঠিক দু'দিন পরে কোরবাগামী লিংক একস্‌প্রেসের কোচ নং ৬ য়ের মধ্যে একটি বার্থের নীচে রাকা বাক্সে ঐ শিশুটির নিÖপ্রাণ বডি পাওয়া যায়। পোস্ট মর্টেম ঋপোর্ট থেকে মনে হচ্ছে বাচ্চাটাকে সম্ভবট: বালিশ দিয়ে চেপে ধরা হয়েছিলো।

    আর বাক্সটি আপনার লফট থেকে নামানো।সদ্য সদ্য রঙ করা।
    এর পর বাকি শুধু মেয়েকে এনে মার সামনে দাঁড় করানো। তারপর দেখি মিসেস রায় কি বলেন!
    ওর গালের চামড়ায় কি একটু কাঁপন দেখা গেল?
    রঞ্জন মেসমেরাইজড্‌ হয়ে নিজের বৌকে দেখতে লাগলো।
    সেই চেনা চির পরিচিত বড় প্রিয় মুখ, মুখের ডোল, রোমন নাক, দৃঋহ চিবুক। মুখটা পাশ ফেরানো। কলেজে পড়ার সময় একবার মিস ক্যাম্পাস, সেকন্ড রানার্স আপ হয়েছিল।
    আহা! এবার একটু পাশ ফিরুক, ফিরে তাকাক। বৌ পাশ ফিরছে।
    কিন্তু কোথায় বৌ? এ কে? এযেন র‌্যামসে ব্রাদার্স এর হরর ফিল্ম! একটা চোখ বন্ধ, আর একটা চোখ ঠিকরে বেরিয়ে আসা, তাত্থেকে রক্ত ঝরছে।
    রঞ্জন চোখ বুঁজলো।

  • ranjan roy | 122.168.70.97 | ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ ০০:২৭408330
  • কোচ নং ৬
    --------------( শেষ কিস্তি)

    না:, আবার সব স্পষ্ট হয়ে গেছে। সব ঠিক ঠাক ফোকাস হচ্ছে। সদর কোতয়ালির লাগোয়া মহিলা থানার একটি কামরা। তিন প্রৌঢ় অফিসার। তাঁতের শাড়িপরা ওর বৌ। দেয়ালে টিকটিকি। ঘড়ির টিকটক, টিকটক।সব।
    হ্যাঁ, পরিহার কিছু বলছিলেন। বলছিলেন--- একটা কথা বুঝতে পারছি না।সকাল আটটা থেকে মিসেস রায় আমাদের কাস্টডিতে। ওনার মোবাইল ব্যবহারের কোন সুযোগ নেই। তাহলে ভোপালে ওর শেল্টার রেড্‌ হওয়ার সামান্য আগে ও কেন বাড়ি ছাড়লো?
    -- কে ওকে এই খবরটা দিল, মিসেস রায়? হতে পারে আপনার এমন কোন বন্ধু যে আপনার পাড়াতেই থাকে, সকালে পুলিশের কালো গাড়ি দেখে আপনার মেয়েকে মোবাইলে খবর পাঠিয়ে দিয়েছে।
    --- একটু কঠিন স্যার। মেয়েটি ওর পুরনো মোবাইল ব্যবহার করছে না। সম্ভবত: কোন বন্ধুর মোবাইল ইউজ করছে। সেক্ষেত্রে ধরে নিতে হবে মিসেস রায়ের ওয়েলউইশার ওনার মেয়ের নতুন নম্বরটা জানে। এটা একটু বাড়াবাড়ি হয়ে যাবে।
    --- আরেকটা সম্ভাবনা আছে স্যার। মিসেস রায় মেয়েকে বিলাসপুর থেকে হাপিস করার আগে নিজেদের মধ্যে প্ল্যান এ, প্ল্যান বি, তৈরি করে রেখেছেন। ধরুন যে শেলটারগুলোর খবর আমরা পেয়েছি তাতে প্রায়োরিটির অর্ডারে এ, বি, সি ট্যাগিং করা আছে। আর মনিটরিং এর জন্যে নিজেদের মধ্যে কোন কোড করা আছে। ধরুন, রোজ সকাল আটটায় মা মেয়েকে নির্দিষ্ট নাম্বারে ফোন করে। আজ সেই ফোন যায় নি। মানেই রেড অ্যালার্ট! শেলটার পাল্টাও।
    -- ভেরি ইন্টারেস্টিং পসিবিলিটি শ্রীবাস্তব।আই মাস্ট অ্যাড্‌মিট।
    -- থ্যাংক য়ু স্যার!
    ---- একটা থার্ড পসিবিলিটি ও আছে, অফিসার। সেটা ভেবে দেখেছেন কি?
    -- ইয়েস্‌ মিসেস রায়! বলুন, বলুন।
    -- সেটা হল আপনাদের কোন একটা শহরে রেইড করা আর সেখান থেকে কারো মেয়ের অল্প আগে বেরিয়ে যওয়ার মধ্যে কোন কার্যকারণ সম্পর্ক নেই। নেহাৎ কাকতালীয় ব্যাপার।
    রঞ্জন অবাক হয়ে দেখল বৌয়ের মুখে একচিলতে হাসি।
    পরিহারের মুখে কি একটা ছায়া খেলে গেল?
    --- থ্যাংকু মিসেস রায়। এইতো কোঅপারেশন শুরু করেছেন।ব্যস, আর কটা প্রশ্নের উত্তর দিন।
    এক, লিংক একসপ্রেসের কোচ নম্বর ৬কেই বাক্স রাখার জন্যে কেন বেছে নিলেন?
    দুই, মি: রায়কে আপনি যাই বলুন, মেয়েকে তো প্লেনে দিল্লি পাঠান নি। প্রথমে কোথায় পাঠালেন?
    তিন, আপনার বন্ধু ঐ ক্রিশ্চান সিস্টারকে গোপন রেখে ডেলিভারি করার ব্যবস্থার জন্যে কত টাকা দিয়েছেন?
    চার, আপনার মেয়ের এই অবস্থার জন্যে দায়ী যে ছেলেটি তার নাম-ঠিকানা?
  • ranjan roy | 122.168.70.97 | ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ ০০:৫৬408331
  • -- বল্লাম তো, আমি আমার উকিলের প্রেজেন্স ছাড়া কোন স্টেটমেন্ট দেব না।
    --মিসেস রায় , আপনার মেয়ে সামনে এসে দাঁড়ালেও কি আপনি একই কথা বলবেন? ভেবে দেখুন।
    আমাদের হাতে আরও অপ্‌শন আছে যে!
    মার্ডার কেস, ফলে আপনারা কেউই কেস ডায়েরি জমা না হওয়া পর্যন্ত জামানত পাবেন না। আর আমি সে চেষ্টাও কোরবো না। তে'রাত্তির আপনার মামণি জেল কাস্টডিতে থাকবে। আর আমরা সে ব্যাপারে কোর্ট অর্ডারের জেরক্স কপি ওর চাকরির জায়গায় পাঠিয়ে দেব। ফলে ও প্রথমে সাসপেন্ড হবে, তারপরে চাকরিটি খোয়াবে। তারপর ?
    --- তারপর আমরা আদালতে প্রমাণ করবো যে আপনাদের যা অ্যালিগেশন তা একটি মনগড়া থিওরি মাত্র। আর এসব আপনি আউট অফ ম্যালিস করেছেন। ফলে চাকরি ও ক্ষতিপূর্তি দুইই আদালতের আদেশে ফেরৎ পাওয়া যাবে।
  • ranjan roy | 122.168.21.38 | ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ ০৯:৩২408332
  • --সো শিওর! আপনি পুলিসকে কতটুকু জানেন?
    হটাৎ ঘরের তাপমান বেড়ে গেছে। সবার চেহারাতে তার আঁচ লেগেছে।
    -- না পুলিসকে বেশি জানিনা। জানবার ইচ্ছেও নেই। কিন্তু আইনের ব্যাপারটা একটু একটু জানি। বিয়ের আগে ল' গ্র্যাজুয়েট হয়ে কোর্টে ক্লার্কের জব করেছিলাম।
    আপনারা কেসের কিনারা না করতে পারলে নিজেদের অসফলতাকে ঢাকতে হরদম মূর্গা খোঁজেন। এটিও তার একটি।
    কি নিয়ে কোর্টে দাঁড়াবেন?
    ঐ একটা নেহাৎ গাঁজাখুরি গল্প নিয়ে? যার আদ্দেকটা কিছু কাকতালীয় ঘটনা আর বাকিটা আনসাবস্ট্যানশিয়েটেড সারকামস্ট্যানশিয়াল এভিডেন্স?
    আমার অ্যাড্‌ভোকেট রাজেশ বর্মা আপনাদের ঐ থিওরিকে ফালাফালা করে কাটবে।
    যেমন, ঐ রকম সবুজরঙা তিনটে বাক্স কোর্টে আমার স্বামীকে দেখানো হবে। আর সাক্ষীর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে উনি বলবেন, মানে বলতে বাধ্য হবেন যে সবগুলিই প্রায় একই রকম দেখতে। এর যে কোন একটাই সেই বাক্স হতে পারে।
    আর মেয়ের মেডিক্যাল রিপোর্ট?
    সেটা আপনিও ভাল করে পড়েন নি অফিসার। কারণ আপনি প্রেজুডিসড্‌।
    আমার মেয়ের অপারেশন হয়েছিল ডি এন সি। ও ভুগছিলো অনিয়মিত মাসিক স্রাবের কষ্টে। ডিসমেনোরিয়া ও মেনোরজৈয়া--- দুটৈ।
    যদি কোন ট্রেনে কোন একদিন কোন একটি কামরায় একটি বাক্সে একটি শিশুর শব পাওয়া গিয়ে থাকে তার সঙ্গে আমাদের মা-মেয়ের কি সম্পর্ক?
    আপনারা শিক্ষিত ভদ্রলোক। কিন্তু বোধহয় মেয়ের বাবা ন'ন। তাহলে বুঝতেন। মেয়েদের সম্মান নিয়ে এত সহজে খেলা করতেন না।
    এত কথা বলে বৌ হাঁফাতে থাকে। একটু যেন গলাটা ধরা। রঞ্জন বলে--একটু জল খাবে কি?
    ও মাথা নাড়ে। মেয়ে পুলিস গ্লাস এগিয়ে দেয়। চোঁ-চোঁ করে সবটা শেষ করে ও শিরপুরকরকে জিগ্যেস করে লেডিজ টয়লেট কোন দিকে?
    দুজন মহিলা পুলিস ওকে ধরে নিয়ে যায়।
    সিএসপি পরিহার খানিকক্ষণ জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে রইলেন। তারপর রঞ্জনের দিকে ফিরলেন।
    -- মি: রায়, আমি মিসেস রায়কে বুঝতে পারছি। কারণ আমিও মেয়ের বাবা। একটিই মেয়ে ছিল।
    -- ছিল মানে? কি হয়েছিলো ওর?
    --- না, বেঁচে আছে, কিন্তু আমাদের সঙ্গে কোন সম্পর্ক নেই। আমার চোখে ও ডেড্‌।
    জানলার কাঁচে একটা বোলতা বারবার আছড়ে পড়ছে।
    পরিহার যেন অন্য কারও গল্প বলছেন।
    আমার মেয়েকে যত্ন করে প্রাইম ইনি্‌স্‌টউটে পড়িয়েছিলাম। চোখের মণির মত আগলে রাখতাম।
    দিল্লিতে জে এন উ তে মাস্টার্স করছিলো। সেটাই কাল হল। ওখানের পরিবেশ আমাদের দেশের হিসেবে টূ লিবারেল। যখন ওর বিয়ের কথাবার্তা চলছে তখন হটাৎ মেয়ে ফোন করে ওর মাকে জানাল যে ওর এক সহপাঠির সঙ্গে রেজিস্ট্রি করে ফেলেছে। এখন বাবা-মায়ের আশীর্বাদ চায়। আমার অনুমতি পেলে জোড়ে আসবে বিলাসপুরের বাড়িতে।
    সে অনুমতি আমি দিতে পারিনি। ছেলেটি মুসলমান। আমরা আলোয়ারের খানদানী রাজপুত। আমার কাছে বংশমর্য্যাদা সবচেয়ে বড়।
    আপনি ত্রী যা করেছেন তা হল কিলিং ফর অনার। ওনার ভাবনাকে বোধহয় আমি আপনার চাইতেও ভাল বুঝতে পারছি। কিন্তু মেয়ের সম্মান বাঁচাতে একটি নিষ্পাপ শিশুর প্রাণ নেয়া? না, মানতে পারছি না।
    আজ ১৪ই ফেব্রুয়ারি, ভ্যালেন্টাইন ডে। কয় শতাব্দী আগে ভালোবাসার অধিকারকে প্রতিষ্ঠা করতে উনি প্রাণ দিলেন, শহীদ হয়ে সন্তের সম্মান পেলেন। কিন্তু কখনও কি ভেবে দেখেছেন রায়, যে এতে শুধু প্রেমিক-প্রেমিকা নয় অন্যেরাও মরে। কেন মরবে?
    এখানে ওই শিশুটি কি অপরাধ করেছিলো?
  • ranjan roy | 122.168.74.90 | ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ ১১:১৮408334
  • ইতিমধ্যে বৌ কখন ফিরে এসে চুপচাপ দাঁড়িয়েছিলো। বললো-- আপনি কি আইপিএস হওয়ার আগে কলেজে লেকচারার ছিলেন?
    পরিহার জবাব দিলেন না। বল্লেন--বসুন, মিসেস রায়। আমি আর বেশিক্ষণ আপনার সময় নেব না। খালি এইটুকু বলবো---পুলিশের বুদ্ধির ওপর আরো একটু ভরসা করলে ভাল করতেন।
    মি: রায়, আপনার স্ত্রী যাই বলুন আমরা এতটা কাঁচা নই। আটঘাট না বেঁধে আপনার বাড়ি যাইনি।
    হাতে তুরুপের টেক্কা না থাকলে কি এভাবে খেলি? মিসেস রায় আমাকে শো' করতে বাধ্য করলেন যে!
    --- লে আও।
    পাশের মূল কোতয়ালির লক্‌ আপ থেকে দু'জন সিপাহী হাতকড়া পরানো যে লোকটাকে নিয়ে হলের মাঝখানে দাঁড় করালো তাকে দেখে বৌ চমকে উঠলো। পায়জামা আর ময়লা শার্ট পরা বছর তিরিশের লোকটার গালে সাতদিনের না-কামানো দাড়ি, উস্কোখুস্কো চুল। ভ্যাবাচাকা খেয়ে সে হাতকড়াবাঁধা হাত তুলেই চারদিকে সবাইকে একবার নমস্তে করে চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলো।
    -- কি, একে চিনতে পারছেন? মি: রায়, আপনি একে চিনবেন না।কিন্তু আপনার স্ত্রী একে ভাল করে চেনেন। সমস্ত রহস্যের চাবিকাঠি হল এই লোকটি, আপনার মেয়ে নয়। মেয়েটি তো ভিকটিম।ভালবাসায় প্রতারিত হয়েছে, পেটের সন্তানকে মারতে চায়নি, জন্ম দিয়েছে। সারা দুনিয়া থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।
    কিন্তু মিসেস রায় এতটা রোমান্টিক ন'ন। তিনি আপনার রোজকার ডেইলি প্যাসেঞ্জারির খাট্টা-মিঠা গল্প শুনে জেনেছিলেন যে লিংক একসপ্রেসের কোচ নং-৬ হল বিলাসপুর কোটা। ফলে অধিকাংশ লংজার্নি করা যাত্রী বিলাসপুরে নেমে যায়। এর পর কোন রিজার্ভেশন নেই। ওঠে শুধু ক'জন আপনাদের মত শর্ট ডিস্ট্যান্সের কম্যুটার। ফলে অনায়াসে কোন লাগেজ রেখে নেমে যাওয়া যায়।
    এই লোকটি হল ওনার বান্ধবী সিস্টার ফিলোমেনার মালী-কাম-সার্ভেন্ট।সম্পতলাল সাহু। কুলির বদলে ওই মাথায় করে বাক্সটি নিয়ে ৬নং কোচে রেখে আসে।
    এখন সিস্টার ফিলোমেনা মাঝেমাঝেই গাঁয়ের দিকের মেয়েদের কিছু অবৈধ গর্ভপাত করান। তাতেই ওনার বাড়ি-গাড়ি। আমরা খবর রাখি, কিন্তু এগুলোতে খুব কিছু করতে পারিনে। সাহু কেস আনার ব্যাপারে টাউটের কাজ করে। সব জানে।
    কিন্তু এবার গড়বড় হয়ে গেল। আপনার মামণি অ্যাবরশন করাতে রাজি হল না। অ্যাডভানস্‌ড স্টেজ, লাইফ রিস্ক, তাই মা ও মেয়ের কথায় সায় দিল।
    সাহু রং কিনে আনল, মাথায় করে বাক্স বয়ে কামরায় সীটের নীচে রেখে এলো। কিন্তু টাকার লোভ মাথা চাড়া দিয়েছে, ও জমি কিনতে চায়। শহরের বাইরে রাস্তার ওপর দো-ফসলী জমি। অনেক টাকা দরকার। কাজেই ভাগের কমিশন ছাড়া বোনাস। তাও পেল সিস্টারের কাছে। লোভ বাড়ল, সাহস বাড়ল।
    আপনার বাড়ি গিয়ে মিসেস রায় কে ব্ল্যাকমেল করার চেষ্টা করল। উনি হাঁকিয়ে দিলেন। বান্ধবী সিস্টারের কাছে কমপ্লেন করলেন। সিস্টার সাহুকে তাড়িয়ে দিলেন, কিছু টাকা দিয়ে বল্লেন-- গাঁয়ে গিয়ে চাষবাস কর, আর এ'মুখো হয়ো না।
    সাহু গাঁয়ে ফিরবে কেন? ও ভাবলো
    --হম ডুবেঙ্গে তো তুমকো ভী লে ডুবেঙ্গে সনম্‌।
    এরপরের ঘটনা অনুমান করতেই পারছেন। কিরে সাহু, ঠিক বলছি তো?
    সাহুর মাথা সামনে ঝুকে পড়ে।
    আসলে কি জানেন মি: রায়, পুলিসের কাছে কোন জাদুদন্ড নেই। আমাদের সম্বল কিছু সিস্টেম্যাটিক ইন্‌ভেস্টিগেশন। তারও লিমিট আছে। ফলে অনেক ফাইল আনসলভড্‌ থেকে যায়।অনেক ক্ষেত্রেই ভেতর থেকেখবর পেয়ে তবে পুলিস সফল হয়। শার্লক হোমস্‌ বা পোয়ারোর দল বইয়ের পাতাতেই বেঁচে থাকেন। যত নামকরা সংবাদিকের স্কূপ পড়েন সব জানবেন ভেতর থেকে লিক করা। ওদের সম্বল শুধু ভালো কনট্যাক্‌ট্‌স্‌।
    কোরবা পুলিস কিছু অজ্ঞাতপরিচয় যাত্রীদের ফোন থেকে সন্দেহজনক বাক্স পড়ে থাকার খবরটা পায়।
    ( রঞ্জন বিষম খেল।)
    ট্রেনে কোন টিটি ছিল না। ওরা চাঁপা তেই নেমে গেছল। ফলে বাক্সটা উদ্ধার করতে সময় লেগে যায়। তারপর তালা ভেঙ্গে দেখে এই কান্ড। কিন্তু বাসের ডালায় ছিল বক্সমেকার বিলাসপুরের তালাপাড়ার হাবিবুরের নাম। সত্যিই অমনি বাক্স গন্ডায় গন্ডায় পাওয়া যায়। তবে পুলিস বোঝে ঘটনার জড় বিলাসপুরেই। খোঁজ চলতে থাকে বাক্সবিক্রেতার দোকানে, প্রাইভেট নার্সিং হোমে কিন্তু কোন সূত্র পাওয়া যায়নি।
    এমনসময় এলো ফোন। সম্পতলাল সাহুর। ও নিজের নাম আড়াল করে শুধু বদলা নিতে চেয়েছিল। কিন্তু গেঁয়ো মানুষ। মোবাইলটা ছিল ফিলোমেনা
    সিস্টারের দেয়া। ফোন করার পর সাহু ওটা ফেলে দেয়। কিন্তু নম্বর ধরে ট্রেস করে ফিলোমেনা সিস্টারের কাছে পৌঁছই, তার থেকে সাহুর গাঁয়ে পৌঁছিয়ে ওকে গ্রেফতার করা, যাকে বলে এলিমেন্টারি।
    আমাদের কাছে সিস্টার ফিলোমেনা ও সাহুর কনফেসন আছে। ওনাকে কাল রাতেই নাইট ডিউটির সময় গ্রেফতার করা হয়েছে, তাই আপনারা জানেন না। খালি একটা ব্যাপার নিয়ে একটু ফাঁক রয়ে গেছে; ডার্টি কাজটা আসলে কে করেছিল? সাহু? সিস্টার না অন্য কেউ? সে পরে দেখে নেয়া যাবে।
    কি, মিসেস রায়? এবারও কি বলবেন যে পুলিসের থিওরিকে আপনার উকিল কোর্টে কাঁটাছেড়া করতে পারবে? প্ল্যানটা ভালই করেছিলেন, কিন্তু কি জানেন, পারফেক্ট ক্রাইম বলে কিছু হয় না।
    রঞ্জন এবার বৌয়ের দিকে তাকায়।
    ও বসেছে পিছন ফিরে, বাঁকাপিঠ কান্নার দমকে কেঁপে কেঁপে উঠছে।
    এক ঝলক ঠান্ডা হাওয়ায় রঞ্জনের শরীর জুড়িয়ে যায়।
    এইতো সেই চেনা মেয়েটা!তিরিশ বছর আগে ভোপাল থেকে বিয়ে করে নিয়ে আসার সময় যে কিছুতেই ট্রেনে উঠতে চাইছিল না, মায়ের শাড়ির খুঁট চেপে ধরে এমনি করে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলো। ওর বড়ো ইচ্ছে হল কাছে গিয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়, রুমাল দিয়ে চোখ মুছিয়ে দেয়। কিন্তু পারলো না। সেবারেও পারেনি, এখনও না।
    --- আমি স্টেটমেন্ট সাইন করে দেব। কিন্তু আপনাদের কাছে একটা অনুরোধ ছিল।
    -- বলুন, মিসেস রায়।
    --আপনারা তো জেনে গেছেন মামণি পুরোপুরি নির্দোষ। দেখবেন যেন ও বেইল পায়, মুচলেকা দিয়ে ওর কাজের জগতে ফিরে যেতে পারে। সব দোষ আমার। কিন্তু আমি কি করতে পারতাম? আপনি মেয়ের বাবা, মা ন'ন। আমাদের মেয়ে সেলিব্রিটি নয়, নীনা গুপ্তা হতে পারে না।
    ওর আজ নয় কাল চাকরি যাবে, নতুন চাকরি খুঁজতে হবে। এই ঘটনার জন্যে দায়ী যে সে ওর অফিসেরই প্রভাবশালী লোক। সে দেখবে যাতে চাকরিটা কোন বাহানায় চলে যায়। কোন বাড়িওয়ালা আন-ওয়েড মাদারকে ভাড়া দেবেনা। আর চারদিক থেকে এগিয়ে আসবে লোভের হাত,নানা অছিলায়।
    আপনারা পুরুষেরা আমাদের জন্যে আর কোন অপ্‌শন খোলা রাখেন নি।
    প্রেমের স্বাধীনতার জন্যে ভ্যালেন্টাইন শহীদ হয়েছিলেন। কয়েক শতাব্দী আগে?মনে করুন ওই বাচ্চাটিই আজকের ভ্যালেন্টাইন।
    (সমাপ্ত)
  • rawbanz | 98.240.222.16 | ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ ২৩:২৯408335
  • spellbound
  • Blank | 203.99.212.224 | ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ ১১:০৫408336
  • ব্যাপক রঞ্জন দা। গোয়েন্দা গল্পের ব্যপারটা পুরো পাল্টে দিলে।
  • Du | 65.124.26.7 | ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ ০২:৪৮408337
  • রঞ্জনদা, নিজের নাম দিয়ে কেউ এসব অলুক্ষুণে গল্প লেখে? আপনাকে যে কি বলবো!
    খতর্নাক হয়েছে গল্পটা। খালি রঞ্জনকে প্রকাশ জাতীয় কিছু করে দিন।
  • ranjan roy | 122.168.68.251 | ২২ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ ০০:২৭408338
  • দু,
    চিন্তা করবেন না। আসলে কি জানেন? মায়েরা যেমন বাচ্চার কপালের এক কোণে কাজলের টিপ লাগিয়ে দেয়-- যাতে কারো নজর না লাগে, তেমনি আমি বৌ-বাচ্চাকে নিয়ে ""অলুক্ষুণে'' গল্প লিখে টিকা লাগিয়ে দিলাম। একরকম ব্ল্যাক ম্যাজিক।:))) ওদের কোণ ক্ষতি হবে না।

    আমার কৈফিয়ৎ( কে শুনতে চাইছে, তুমি শালা নিজেকে কি ভাব,অ্যাঁ?):
    বুঝতে পারছি অনেককেই হতাশ করেছি। কেউ হয়তো পুরো লেখাটা ব্যাড টেস্টে ভাবছেন।
    সত্যি কথা, একটা টাইট "" হু-ডান্‌-ইট?'' লিখতে চাইছিলাম, পারিনি, ছড়িয়েছি।
    অর্পণ আগেই সতর্ক করেছিলো---- ফিনিশিং এ ধ্যাড়াবে। তাই হল।
    আসল;এ আমি যা এক্স্‌প্লোর করতে চাইছিলাম-- সমস্ত মানুষের মধ্যেই যে ভায়োলেন্সের বীজ সুপ্ত থাকে, কিন্তু ক্যাটালিস্টের ছোঁয়ায় মাটি ফাটিয়ে বিস্ফোরণের মত জেগে ওঠে-- সেই সম্বাবনা কে।
    আমি ঊনিশশতকীয় বিশুদ্ধ মানবাতাবাদে আস্থা হরিয়ে ফেলছি।
  • Arpan | 122.252.231.12 | ২২ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ ০১:১১408339
  • ধ্যাৎ, রঞ্জনদা, মোটেও তা বলিনি এবং আপনি কোনভাবেই ধ্যাড়াননি।

    আমার, আমার কেবল একটা খটকা আছে। সেটা এখনই জিগ্যেস করে ছড়াবার আগে আরেকবার পুরো গল্পটা পড়তে হবে। তাই ফিরে আসব ব্রেকের পরে। :)
  • um | 115.113.42.99 | ০১ সেপ্টেম্বর ২০১০ ১৫:১৩408340
  • উপরে তুলে দিলাব।
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
    • কি, কেন, ইত্যাদি
    • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
    • আমাদের কথা
    • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
    • বুলবুলভাজা
    • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
    • হরিদাস পালেরা
    • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
    • টইপত্তর
    • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
    • ভাটিয়া৯
    • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
    যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
    মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


    পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। মন শক্ত করে মতামত দিন