• মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • অনুরাধা কুন্ডা | 236712.158.566712.9 | ২৫ জুলাই ২০১৯ ১৬:৫০384602
  • মনের মধ্যে মাঝে মাঝে একটা ঝাপসাভাব আসে।কোনো কিছু যেন স্পষ্ট করে দেখা যায় না।নিজের নিয়মে সকাল হয়, দুপুর আসে, সন্ধ্যা নামে।সবকিছুই নিয়মমতো চলে অথচ তার সুর, তাল, লয়, ছন্দ কিছুই ঠিক ধরে ওঠা যায় না।বেসুর কানে আসে।বেতাল হয়ে যায় চলা।ছন্দ উবে যায় কাজের চাপে।মনের চাপে।চিন্তায়।দুর্ভাবনায়।আর কাজগুলো যে বেশির ভাগ অকাজের তা বুঝতে পেরে আরো ছটফট করে মন।কেমন অস্থির লাগে।তখন রবি ঠাকুরের কাছে গিয়ে বসি।ভাবি , যা হবার তা হবে।যে আমারে কাঁদায় সে কি অমনি ছেড়ে রবে!
    অমনি করে "কবির আবাস" বইটির কাছে গিয়ে বসি।বড়ো শান্ত , স্নিগ্ধ তার ছায়া ।যে মানুষ দেশে দেশে তাঁর ঘর খুঁজে নিতে চেয়েছিলেন আর বলেছিলেন, " হেথা নয়, হোথা নয়,অন্য কোথা ,অন্য কোনোখানে" তাঁর মধ্যেও তো কাজ করতো এক সুবিশাল অস্থিরতা , যার তাড়নায় তিনি এক আবাস থেকে অন্য আবাস, জোড়াসাঁকো থেকে শিলাইদহ, শিলাইদহ থেকে বীরভূম স্থানান্তরিত করেছেন নিজেকে।সারা দেশ জুড়ে তাঁর চলাচল ছড়িয়ে গেছে গোটা পৃথিবীতে।আর বাসস্থানের বদল নিয়ে তাঁর যে বৈচিত্রযাপন , তাও কি তাঁর অস্থিরতা না অপরিসীম সৌন্দর্য বোধকে ছড়িয়ে দেয়ার প্রবল প্রতিভা? সামান্য একটি দুটি জায়গায় অত বিশাল বোধ আর ব্যাপ্তিকে ধরে রাখার সঙ্গতি কোথায়!
    সুরঞ্জনা ভট্টাচার্য দুটি খণ্ডে লিখে গেছেন " কবির আবাস।"অতি নিষ্ঠা ও গভীর ভালোবাসা না থাকলে এ বই লেখা সম্ভব নয়।
    কেন বারবার বাসাবদল করতেন কবি?এক জায়গায় থাকা কি তাঁর সৃষ্টি কে ব্যহত করতো?বাঙালির গৃহসজ্জা বোধকে নবরূপ দিয়েছিলেন যে মানুষ, তিনি নিজেও তো গৃহসজ্জা বিষয়ে বিশেষ সচেতন ছিলেন , সে তো বলাবাহুল্য।লেখক রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিবিজড়িত
    আবাসগুলিকে খুঁজে বেরিয়েছেন।যেমন নতুন তথ্য সামনে এনেছেন, তেমনি দূর করে দিয়েছেন মিথ হয়ে যাওয়া ভুল তথ্যাবলি।" রামভবন" সম্পর্কিত প্রবাদ যে ভুল বা একতলার ঘুপচি ঘরে আদৌ রাখা ছিল না কাদম্বরীর মৃতদেহ, এইসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে তাঁর আলোচনাতে।গেছেন শিলাইদহতে।পদ্মা তো বটেই।কী সুন্দর সব নদীর নাম!
    যমুনা, গোরাই,করতোয়া,ফুলঝোর,ইছামতী, আত্রেয়ী ।নাম শুনেই প্রাণ জুড়িয়ে যায়।এইসব নদী দিয়ে বয়ে যেত রবীন্দ্রনাথের পদ্মা বোট।লেখক দু চোখ ভরে দেখেছেন নরম রোদের চাদর বিছানো দ্বীপ,দু একটি চালাঘর,কাশবন।গিয়েছেন সেই চলনবিলে , যেখানে প্রবল ঝড়ের টালমাটাল বোটে বসে কবি লিখেছিলেন প্রেমের গান।যদি বারণ কর তবে গাহিব না আর তুমি সন্ধ্যার মেঘমালা। চোখের সামনে বোটের আবাস ভেসে ওঠে।
    সাজাদপুরের কুঠিবাড়িতে জোর করে একা থেকেছেন সুরঞ্জনা ।দেখেছেন বিশাল প্রাঙ্গণের একদিকে সেই কুঠিবাড়ি,যেখানে বসে লেখা হয়েছিল " ক্ষুধিত পাষাণ ""পোস্ট মাস্টার"," অতিথি", "বিসর্জন ।"
    প্রায় বারো বছর ধরে এই গবেষণার কাজ।শেষ পাঁচ বছর ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করতে করতে কাজ শেষ করেছেন সুরঞ্জনা ।সে যাত্রার শুরু হয়েছিল জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ির গল্প দিয়ে ।প্রবাদপ্রতিম সেই মহীরূহ।তার সামার হাউস।গাছঘর।ফোয়ারা।দোলনা।আদি ভদ্রাসনের অন্দরমহলে " ভিতরবাড়ির বাগান।"রবীন্দ্রনাথের জীবিতাবস্থায় ঠাকুরবাড়ির প্রাঙ্গণে পাঁচটি বাসগৃহের বিবরণ আছে। আদি ভদ্রাসন। বৈঠকখানা বা পাঁচ নম্বর বাড়ি ।বিচিত্রা।বারাণসী ঘোষ লেনের ত্রিতল বাড়ি ।ক্ষিতীন্দ্রনাথ ঠাকুর নামাঙ্কিত মহল।খুঁটিয়ে লিখেছেন।দ্বারকানাথ থেকে শুরু হচ্ছে গৃহের আখ্যান।মহর্ষি ভবন।পাঁচ নম্বর বাড়িতে যে আমোদ প্রমোদ চলতো , তাতে যোগ দেওয়ার অনুমতি ছিল না মহর্ষি ভবনের ছেলেমেয়েদের।সুরঞ্জনা র কাজের গুণ এই যে তিনি শুকনো পাণ্ডিত্য ফলান নি।বাড়ির সঙ্গে সঙ্গে এসেছে বাড়ি র মানুষদের কথা। রবীন্দ্রনাথের নিজের কথা।
    প্রথম খণ্ডে আরো আছে পূর্ববঙ্গের জমিদারিতে কবির বাস।শিলাইদহ।পদ্মাবোট।সাজাদপুর।পতিসর।কুষ্টিয়া ।আর আছে শান্তিনিকেতন পর্ব।
    নতুনবাড়ি।দেহলি।কোণার্ক।শ্যামলী।পুনশ্চ।উদীচী।উদয়ন।আছে জাপানি ল্যান্ডেস্কাপ গার্ডেন।আনন্দ রূপম অমৃতং যেখানে মূলমন্ত্র ।নিরাকার ব্রহ্ম ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই।প্রান্তরলক্ষ্মী শব্দটির মহিমা এখানেই বোধগম্য হয় বুঝি।প্রচুর দুর্মূল্য ছবি সমৃদ্ধ বইখানিতে সুরঞ্জনা সাজিয়ে দিয়েছেন কোন গৃহে কোন লেখার কাজ হয়েছিল , তার তথ্যসমৃদ্ধ বিশদ বিবরণ।
    দ্বিতীয় খণ্ডে আবার জোড়াসাঁকো ।আর বাংলা ছাড়িয়ে বক্রোটা,শাহিবাগ, কারোয়ারে তাঁর আবাস।
    পড়তে পড়তে প্রাণে শান্তি আসে।কোথায় বসে তিনি লিখেছিলেন , তোমার সৃষ্টির পথ রেখেছো আকীর্ণ করি?
    রাণী চন্দ কে বলেছিলেন, এইসব কবিতাগুলি মুখস্থ করে রাখিস।এগুলি মন্ত্রের মতন।
    বই জুড়ে আছে বাড়ির আঙিনা, ছাদ,বারান্দায় ছড়ানো স্নিগ্ধ জ্যোৎস্না।ফুলে বোঝাই দক্ষিণী বারান্দার চাঁপাগাছ।লালবাড়ির লাগোয়া কদমগাছ।আছে সুরেলের সানসেট বাংলো , মংপুতে মৈত্রেয়ী দেবীর আবাস,কালিম্পঙের গৌরীপুর ভবন।
    ভারি মমতা নিয়ে করা এই বিশাল কাজ।দেখলে আশ্চর্য হতে হয় লেখকের গভীর অধ্যাবসায় সম্পর্কে ।কী গভীর অনুসন্ধিত্সা নিয়ে কাজ করে গেছেন প্রতিটি খুঁটিনাটি সহ।সুরেলে বিদ্যুত ছিল না।কবির মনে পড়তো ছেলেবেলার কথা। সন্ধ্যা বেলা ঘরে জ্বালানো হত রেড়ির তেলের বাতি।ছোট অ্যাংলো ইন্ডিয়ান ছেলেদের কবি পড়ে শোনাতেন কবিতা।শেষ হয় " একটি নমস্কারে।" মন ভালো হয়ে যায় ।চোখের সামনে ছবি ভাসে।উচ্চারণ ভাসে।স্নিগ্ধ বাতিটি দেখি।দেখি যেন প্রশান্ত মহলানবিশের আম্রপালি বাড়ি।সেখানে কখনো না গিয়ে ও তিনিই আছেন।যেমন আছেন মনে।
    কোন কোন বই শুধু লেখা হয় না।সযত্নে তার লালন হয়।এই বই বড়ো যতনে আদরে লালিত হয়েছে।দুটি খন্ড ভর্তি মণিরত্ন নয়।শান্তি।একটি সুদৃশ্য জ্যাকেটে দুটি খন্ড।রঙে রুচিতে শোভন।শান্ত।তথ্যে সমৃদ্ধ হওয়া যদি এর সত্য হয়, তবে আরো সত্য হল এর সৌন্দর্য ।খুব কম দিন বেঁচেছিলেন সুরঞ্জনা ।কিন্তু যে কাজটি করে গেছেন তা অনন্যসাধারণ ।আবাস তো শুধু চারদেওয়ালের গাঁথনি নয়।সে হল ইতিহাস।সে হল ঐতিহ্য।তার গায়ে লেগে থাকা শ্যাওলা আর ফাটলে জন্মানো বটগাছটিরও একটি গল্প থাকে।কী আবেগ আর মনন সমৃদ্ধ এই ইতিহাস।মহাজীবনকে স্পর্শ করার অনুভূতি।তিনধরিয়া হোক বা আর্ট কলেজ ভবন, সর্বত্র কবির চিন্তাস্পর্শ।মন সুস্থির হয়।ঝাপসাভাবটুকু কেটে পরিষ্কার দেখতে পাই।একেই তো পাওয়া বলে।

    দুঃখতাপে ব্যথিতচিতে নাই বা দিলে সান্ত্বনা
    দুঃখে যেন করিতে পারি জয়।
  • ন্যাড়া | ২৫ জুলাই ২০১৯ ১৯:৪৫384603
  • প্রকাশক, দাম ইত্যাদি জানানো যায়?
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

কুমুদি পুরস্কার   গুরুভারআমার গুরুবন্ধুদের জানান


  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
    • কি, কেন, ইত্যাদি
    • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
    • আমাদের কথা
    • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
    • বুলবুলভাজা
    • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
    • হরিদাস পালেরা
    • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
    • টইপত্তর
    • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
    • ভাটিয়া৯
    • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
    গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
    মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


    পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। খারাপ-ভাল মতামত দিন