• টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। যে কোনো নতুন আলোচনা শুরু করার আগে পুরোনো লিস্টি ধরে একবার একই বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গেছে কিনা দেখে নিলে ভালো হয়। পড়ুন, আর নতুন আলোচনা শুরু করার জন্য "নতুন আলোচনা" বোতামে ক্লিক করুন। দেখবেন বাংলা লেখার মতো নিজের মতামতকে জগৎসভায় ছড়িয়ে দেওয়াও জলের মতো সোজা।
  • জল নিয়ে

    pi
    বিভাগ : অন্যান্য | ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮ | ৭৫ বার পঠিত
আরও পড়ুন
করোনা - pi
  • আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1
  • pi | 7845.29.123412.12 | ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮ ০৮:২২380999
  • লেখাটা খুব দরকারি মনে হল, তাই পুরোটাই দিলাম। তথ্য নিয়ে তর্ক থাকলেও আসুক। জল নিয়ে কথা হোক।

    একটি অত্যন্ত জরুরি প্রতিবেদন

    এত চিৎকার করার পরেও যত্রতত্র জলের কলের মুখ ভাঙা। অঝোরে জল গড়িয়ে যাচ্ছে। মিষ্টি জলের স্রোত নর্দমায়। জলদুর্ভিক্ষ আসন্ন। এই ভয়ংকর লেখাটি পড়ুন।
    বর্তমান পত্রিকার বিশেষ নিবন্ধে প্রকাশিত ,
    প্রখ্যাত সাংবাদিক Samriddha Dutta

    ওয়াটার মার্কেট
    :সমৃদ্ধ দত্ত

    বিহারের গয়া জেলার কাপাসিয়া ব্লকের গুলাড়িয়া চক গ্রামের গনৌরি কুমার আর মুসাফির মাঝি পার্লামেন্ট স্ট্রিটে দাঁড়িয়ে এক পুলিস কর্মীকে বললেন, তোমাদের এখানে যমুনা নদীটা দেখতে যাব কীভাবে? কেন? না, মানে, কেমন জল আছে একবার দেখতাম! আবার কবে আসা হবে তা তো জানি না। এরপর যখন আসব যদি শুকিয়ে যায়! পুলিস কর্মী হাসলেন। বলে দিলেন কীভাবে যেতে হবে। গনৌরি আর মুসাফির মাঝি গ্রাম ছেড়ে এখানে কেন? এসেছিলেন এই সেদিন হয়ে যাওয়া কৃষক বিক্ষোভে। দিল্লির কেন্দ্রস্থলে ছিল জমায়েত। নিজের বাড়ি আছে? জমি আছে? জানতে চাওয়ায় মুসাফির মাঝি বললেন, এই যে শরীরটা দেখছো শুধু এটাই আছে। আর কিছু নেই। ২০ বছর আগে যে জমিতে বসেছিলাম আজও তার পাট্টা দেয়নি। থাকার বলতে ছিল মোহানা নদী। গ্রামের পাশ থেকেই গিয়েছে। সেই নদীর জল বাড়িতে নিয়ে এসে কাজ সারতাম। কিন্তু কয়েক বছর ধরে সেই নদীর জল আর থাকে না। গরমে তো নয়ই। বর্ষাতেও না। নদীর জল যায় কোথায়?
    ১৮ বছরের দুর্গম কল্যাণী দেখত তার বাবা লাগাতার কাঁদছেন। ধান আর তুলো চাষ করলেও সেগুলি রাখা যাচ্ছে না। কারণ সেচের জল নেই। বোরওয়েলের জল শুকিয়ে গিয়েছে। ট্যাঙ্কারের জলের যা রেট তা দেওয়া অসম্ভব বাবা বেঙ্কা‌ইয়ার পক্ষে। তেলেঙ্গানার জয়শঙ্কর ভূপালাপল্লির বেঙ্কাইয়া গত অক্টোবরে স্রেফ ফসলের খেতে জল না পেয়ে ফসল রক্ষা করতে না পারায় দেনার দায়ে ডুবে গিয়ে কীটনাশক খেয়ে আত্মহত্যা করেন। গত বৃহস্পতিবার পার্লামেন্ট স্ট্রিটে গোটা দেশ থেকে আসা কৃষকদের মধ্যে ছিল এই কল্যাণী। তার গলায় বাবার ছবি ঝোলানো ছিল। সে বলছিল, জল না পেলে আমরা সবা‌ই মরে যাব। ঋণ মকুব নয়, মিনিমাম সাপোর্ট প্রাইস নয়, ভর্তুকি নয়। জল চাইছে চাষিরা।
    নালগোন্ডা জেলার উরসু কবিতা স্বামীকে খাবার দিতে গিয়ে গত ২৩ সেপ্টেম্বর দেখেছিলেন তার আগেই স্বামী খেয়ে নিয়েছেন। পেস্টিসাইড। এখন উরসু কবিতা তাঁর স্বামীর ঋণ শোধ করতে সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ফসলের খেতে মজুরি করেন। তারপর বাড়ি ফেরেন না। গ্রামের বাইরে একটা সেলাই ইউনিটে গিয়ে তিন ঘণ্টার একটা শিফট করেন। কবিতার শ্বশুর ঠিক একইভাবে ৮ বছর আগে আত্মহত্যা করেছিলেন। কারণ কী? যথেষ্ট ফসল ফলানোর জন্য জল নেই। ফসলের দামও নেই। কারণ জলের দাম প্রচুর দিতে হয়। খরা নয়, অনাবৃষ্টি নয়। ভারতের কৃষকদের সবথেকে সঙ্কট হল গ্রামের জল অবাধে ট্রান্সফার হয়ে যাচ্ছে শহরে। বারাণসী, জয়পুর, কেরল, তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশে লাগাতার যে আন্দোলনটি হয়ে চলেছে গ্রামে গ্রামে সেটি হল বিশ্বের সবথেকে নামজাদা দুটি আমেরিকান সফট ড্রিংকস কোম্পানি ভারতের রাজ্যে রাজ্যে অবাধে মাটির ভেতর থেকে জল নিয়ে নিচ্ছে নিজেদের প্রোডাকশন ইউনিটে। সবথেকে বিস্ময়কর কথা হল ক্যালিফোর্নিয়া সহ বহু প্রদেশে এই কোম্পানিগুলিকে মাটি খুঁড়ে জল নিতে দেওয়া হয় না। নিষিদ্ধ। তাই ওইসব কোম্পানির সবথেকে বেশি সংখ্যক প্রোডাকশন ইউনিট ভারতে। কয়েকবছর আগে থানে জেলায় আদিবাসীদের গ্রামগুলি থেকে এর প্রতিবাদে আন্দোলন করে আদিবাসীরা। মহারাষ্ট্র সরকার সেই সময় দুর্দান্ত মজা করেছিল। ওই সংস্থাগুলিকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ভারতের মাটির জল নিতে দেওয়া যাবে না বলে হুমকি দিয়ে ২৫ পয়সা লিটার প্রতি চার্জ করেছিল! আর চন্দ্রবাবু নাইডু অন্ধ্রপ্রদেশে আরও ইন্টারেস্টিং কাজ করেছেন। তিনি নিজেই সরকারি উদ্যোগে গোটা রাজ্যজুড়ে মাটি থেকে জল সংগ্রহ করে সরকারি খরচে ট্রিটমেন্ট করে ২৫ পয়সা লিটারে ওইসব সংস্থার কাছে জল বিক্রি করেছিলেন। যা তারা বাজারে বিক্রি করত ২০ টাকা লিটার।
    ভারতে একদিকে চাষের জন্য জল কমছে। পানীয় জল কিংবা বাড়িতে ব্যবহারের জন্য জল কমছে। কিন্তু একইসঙ্গে কোন ইন্ডাস্ট্রি সবথেকে দ্রুতহারে বাড়ছে? বটলট ওয়াটার ইন্ডাস্ট্রি। অর্থাৎ মিনারেল ওয়াটারের বোতলের ব্যবসা। প্রতি বছর যেখানে মোবাইল থেকে সফটঅয়্যার, অটোমোবাইল থেকে ইলেকট্রনিক্স সমস্ত সেক্টর চরম লোকসান করছে, সেখানে ভারতে প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে বটলড ওয়াটার শিল্প। অফিসিয়ালি অর্থাৎ লাই঩সেন্সপ্রাপ্ত বটলড মিনারেল ওয়াটার কোম্পানি ভারতে কত? ৫৭৩৫ লাইসেন্সড ব্র্যান্ড। আর লাইসেন্সহীন? শুধু দিল্লি, গুরগাঁও, নয়ডাতেই সাড়ে ৩ হাজার লাইসেন্সহীন পানীয় জলের বোতল কোম্পানি। তার মানে বোঝাই যাচ্ছে গোটা দেশে কত! যেখানে সর্বত্র জলের জন্য হাহাকার সেখানে এই বটলড ওয়াটার ইন্ডাস্ট্রি এত জল পাচ্ছে কীভাবে? এটা সরকারগুলির জবাব দেওয়া উচিত নয়? এই যে জলের জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কখনও নাসিক থেকে মুম্বই, কখনও দিল্লিতে না খেয়ে না থেমে পদযাত্রা করছেন কৃষকরা তাঁদের ভালো ভালো কথা শুনিয়ে আর কতদিন ফাঁকি দেওয়া হবে? এখন রাস্তায়, হোটেলে আমরা খুব বেশি কোম্পানির নাম ফলো করি না যে কোন কোম্পানির বোতলের জল দেওয়া হল। আমরা ২০ টাকা দিয়ে বোতলটা নিয়ে নিই। ইউরোমনিটর সংস্থার সমীক্ষা জানাচ্ছে, গত বছর এই সেক্টর ১৩ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা করেছে। সফট ড্রিংকসের তুলনায় দ্বিগুণ ব্যবসা এখন বটলড ওয়াটারের। তাই সফট ড্রিংকস সংস্থাগুলি বেশি বেশি ইনভেস্ট করছে বটলড ওয়াটারে। ভারতের গ্রামগঞ্জের মাটি খুঁড়ে জলস্তর ধ্বংস করে জল চুরি করে নিয়ে আবার সেই ভারতবাসীর কাছেই সেই জল বোতলে বিক্রি করা হচ্ছে চড়াদামে। লো ইনভেস্ট হাই প্রফিট! তাই বছরে গড়ে ২০ শতাংশ করে বাড়ছে এই ইন্ডাস্ট্রি। এক লিটার বোতলভর্তি জল তৈরি করতে যে জল তোলা হয়, তার ৬৬ শতাংশ মাত্র ব্যবহার করা যায়। বাকিটা প্রসেসিংয়ের সময় নষ্ট হয়। আমাদের প্রতিটি সরকার যদি বিশুদ্ধ পানীয় জল দেওয়ার ব্যবস্থা করত তাহলে কী এইসব ইন্ডাস্ট্রি এত রমরম করে বেড়ে যেত?
    ভারতজুড়ে জলের ক্রাইসিস ঘটিয়ে তিনটি প্রধান ইন্ডাস্ট্রি তথা ব্যবসাক্ষেত্রে প্রবেশ করেছে গোটা দেশবিদেশের রাজনীতি, কর্পোরেট আর মাফিয়া গোষ্ঠী। সেটি হল বোরওয়েল ইন্ডাস্ট্রি , ওয়াটার ট্যাঙ্কার আর ক্যাশ ক্রপ ইন্ডাস্ট্রি। জোয়ার, বজরা গম ছেড়ে আজকাল সর্বত্র বাদাম কিংবা আখের চাষ করার জন্য চাষিদের বেশি বেশি প্ররোচনা ও লোন দেওয়া হয়। এক একরে আখের চাষে দরকার বছরে ১৮০ লক্ষ লিটার জল। সেখানে খাদ্যশস্য ফলনে দরকার মাত্র ১৮ লক্ষ লিটার জল। আখে লাভ বেশি কর্পোরেটের। কারণ চিনি শুধু নয়, বিয়ার তৈরিতে কাজে লাগে আখ। তাই ধানগমের থেকে আখ, বাদাম ভালো।
    তামিলনাড়ুর নালাক্কাল জেলার তিরুচেনগোড় শহরের প্রায় সকলেই একটি ব্যবসায় যুক্ত। বোরওয়েল। বোরওয়েল খননের জন্য যে রিগস ট্রাক তৈরি কিংবা মেরামতি হয় সেটা গোটা দেশের মধ্যে সবথেকে বেশি এই শহরে। ঝাড়খণ্ড থেকে অন্ধ্রপ্রদেশ। জম্মু থেকে মিজোরাম। তিরুচেনগোড় থেকে হাজার হাজার বোরওয়েল খননের রিগস ট্রাক যাচ্ছে। আর তাই এখন গোটা দেশের লেবার ফোর্সের একটি বড় অংশ যায় ওই শহরে। ২০০ টাকা প্রতি দিনের মজুরি। তিনবার খাওয়া। এটাই স্ট্যান্ডার্ড। মাটি খোঁড়ার কাজ বাড়ছে। গোটা দেশ থেকে লেবার বাড়ছে। কারণ একমাত্র এই সেক্টরে সারা বছর কাজ পাওয়া যাচ্ছে। তাই মজুরিও কমছে। এবং ট্যাঙ্কার। প্রতিটি শহরে হাজার হাজার ট্যাঙ্কার। শহরের বাইরে গিয়ে সরকারি দপ্তরকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বোরওয়েল বসিয়ে মাটির জল তুলে নিচ্ছে। এই ট্যাঙ্কার ইন্ডাস্ট্রি সম্পূর্ণ পরিচালনা করে মাফিয়া গোষ্ঠী। আর সেইসব জলের সিংহভাগ সাপ্লাই হচ্ছে সবথেকে বেশি দেশজুড়ে নির্মীয়মান কনস্ট্রাকশন শিল্পে। অর্থাৎ রিয়াল এস্টেট। গ্রামের জল যাচ্ছে শহরে। বোরওয়েল বসছে যত্রতত্র। এখানে একটি সুন্দর চক্র কাজ করছে। গ্রামে জল নেই। তাই চাষ নেই। তাই খেতমজুরির কাজ নেই। তাই গ্রামবাসীরা দলে দলে এসে ঠিক সেইসব বটলড ওয়াটার সেক্টরে, সেইসব সফট ড্রিংকস সেক্টরে, সেইসব সুইমিং পুল সহ হাউজিং কমপ্লেক্সগুলির কনস্ট্রাকশন সেক্টরে চলে যাচ্ছে কাজ করতে।
    বস্তুত আমাদের আড়ালে ভারতে তৈরি হয়েছে নতুন এক ইকনমি। ওয়াটার ইকনমি। মাটির থেকে সব জল দিনেদুপুরে রোজ ডাকাতি হয়ে যাচ্ছে। চাষ জল পাচ্ছে না। গ্রাম জল পাচ্ছে না। বস্তি জল পাচ্ছে না। মধ্যবিত্ত জল পাচ্ছে না। নীতি আয়োগ সম্প্রতি একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে বলেছে, আসছে জলদুর্ভিক্ষ! আগামীদিনে পর্যাপ্ত জল পাবে শুধু ধনী সমাজ।
    আইপিএল ক্রিকেট ম্যাচে ফিল্ড ওয়েট করা, টয়লেট, মেনটেন্যান্সে সব মিলিয়ে কত জল দরকার? বম্বে হাইকোর্টে বিসিসিআই তথ্য জমা দিয়ে জানিয়েছে, সাড়ে তিন লক্ষ লিটার জল খরচ হয়! শুধু একটিমাত্র আইপিএল ম্যাচে!
    07th December, 2018
  • dd | 90045.207.90045.3 | ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮ ০৮:৩৬381001
  • এই নিয়ে করণাটকেও কাগজে বেশ লেখালেখি হয়। প্রায়ই। মানে প্র্যাকটিকালি রোজই।

    এককালে যেমন ইউক্যালিপটাস বিরোধী একটা আন্দোলন শুরু হয়েছিলো , সেরকম এখন আখ নিয়েও হচ্ছে। কাগজে লিখেছে যে এতো শষ্যের চাষ নয়, জলের চাষ।

    তবে আখের অতিফলনে কর্ণাটক টালমাটাল। চিনিকল মালিকেরা - এবং, এরা অনেকেই শাসক দলের নেতা ও মিনিস্টার -আখ চাষীদের পাওনা মেটায় নি। চিবির দাম ভয়ানক কমে যাওয়ায় চিনিকলের মালিকেরা আর চাষীদের পাওনা মেটাতে পারছে না। মিনিমাম সাপোর্ট প্রাইস তো দূরের কথা।

    লিং দিচ্ছি না, খুঁজতে হবে।
  • dd | 90045.207.90045.3 | ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮ ০৮:৪৪381002
  • ট্র্যাডিশনাল কারনে এই চিনি কলের কুলাকেরা প্রায় সবাই কংরেস আর JD(S)'র নেতা। যেমতি মাইনিংএর ডাকাতেরা মেইনলি বিজেপির দলে।

    চাষীদের কোটি কোটি টাকা বাকী। কে দেবে?এতো চাষীদের ঋণ মকুব নয়, চিনিকলের কাছ থেকে হকের পাওনা।

    আত্মহত্যা হয়। প্রায়ই মিছিল হয়।বিরাট সমাবেশ। শহর অবরোধ, বিধানসৌধ ঘেরাও। গর্মাগরম বক্তৃতা। প্রতিবাদী মিছিলের নেতৃত্বে কিন্তু সেই বিজেপি ।

    মা তোর কতো রংগ দেখবো ..... ইঃ ইঃ।
  • | 238912.66.0156.142 | ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮ ০৯:৫৭381003
  • কাল এইটা জয়ার দেয়ালে বলেছিলাম কপি মেরে দিই
    ------+-

    একটা গল্প বলি শোন। আমাদের অফিস তখন প্রপার পুনে সিটি থেকে বেশ অনেকটা বাইরে। তো সে এলাকা আইটি হাব হচ্ছে, হু হা করে ফ্ল্যাটবাড়ি গজাচ্ছে, লোকে রিয়েল এস্টেটের বাজার ভাল এবং ইটি একটি হ্যাপ অঞ্চল হতে চলেছে বিধায় ইনভেস্ট করে চলেছে সেসব ফ্ল্যাটে, দুই একটা অমুক-সিটি তমুক-এনক্লেভের চাবি হ্যান্ডওভারও হয়ে গেছে। এদিকে ইন্ফ্রস্ট্রাকচার বলতে কিছুই নেই। একেবারে কিস্যু না। তো লোকের দাবীতে এবারে প্রথমে রাস্তা ও পরে মিউনিসিপালিটির জলের লাইন পাতার কাজ শুরু হল। আগে যতবরই এই চেষ্টা হয়েছে কে বা কাহারা এসে সেসব ভেঙ্গে বা উড়িয়ে দিয়ে গেছে। এবারে আইটি কোম্পানি একজোট হয়ে চাপ দিয়েছে, তাদের আইটি কুলিরা এখানে থাকতে চাইছে না। অতএব সরকার থেকে পুলিশ প্রহরায় লাইন বসানোর কাজ শুরু হল।

    তো, আমরা দুপুরে ঝুপড়িতে খেতে বেরিয়েছি, সেট দোসা না রুটি চিকেন কোলাপুরি সেই নিয়ে আলাপ আলোচনা চলছে, এমন সময়ে হঠাৎ দেখি ধাঁ ধাঁ করে দুটো টয়োটা ইনোভা ঢুকল, একটু পেছনে একটা পাজেরো। আর চারিদিকে সন্ত্রস্ত ভাব। দোকানদার অনুনয় করে বলল আমাদের দোকানের সামনে না দাঁড়িয়ে ভেতরে ঢুকে বসতে। প্রায় ঠেলেই ঢুকিয়ে দিল। অন্য দোকানগুলোতেও একই হাল সবাই সামনে টা খালি করছে। কী ব্যপার রে ভাই! পাজেরোটা শোঁ করে এসে পাশের দাবেলি দহিবড়ার ঝুপড়িটার সামনে দাঁড়াল, কাচ অর্ধেক নামল এক কমলা তিলক পরা মুন্ডু জিগ্যেস করল পুলিশ ইনস্পেকটার কোথায়? দোকানদার তো হাত্জোড় করে দেখিয়ে দিল, যেখানে পাইপলাইনের পাশে সান্গ্লাস পরা ইনস্পেকটার-সাব চেয়ারে বসেছিলেন। তো পাজেরো ঐ এবড়ো খেবড়ো জায়গায় গেল না, একটু এগিয়ে দাঁড়াল, কেউ একজন গিয়ে ইন্সপেকটারকে কিছু একটা বলল, তিনি প্রায় দৌড়ে গাড়ির দিকে এলেন।

    অতঃপর কি কথা হল কে জানে ইন্স্পেক্টার সব দলবল ডেকে নিয়ে গাড়ি চেপে পগারপার। ইতিমধ্যে পাজেরোর পেছনের সিটের আরোহী নেমে এসে একটি দোকানে ছাস নিয়েছে, গলায় তাল তাল সোনার একটা বিদিকিচ্ছিরি দেখতে চ্যাপটা মত মালা ভুঁড়ির উপর দুলছে। মোস্ট আনকাউথ প্রেজেন্স যাকে বলে। ধীরেসুস্থে ছাস খাওয়া শেষ করে সে মক্কেল এবার আঙুল নেড়ে পাইপ লাইনের কর্মীদের ডাকল, তাদের ঠিকাদার দৌড়ে আসতে তাকে বলল যাহ বাড়ি চলে যা, এখানে আর কাজ হবে না। ঠিকাদার কিছু একটা বলতে চেষ্টা করায় তাকে বলে আমার সাথে অমুক বাড়িতে এসে তমুকদিনে দেখা করিস। সে আর কথা না বাড়িয়ে চলে গেল। ব্যস্স সেখানে পাইপ লাইন বসানোর সেখানেই ইতি।

    মিনিট পনেরো পরে সব চলেটলে যাবার পরে শুনলাম এ হল এলাকার বেশ বড়সড় 'কর্পোরেটার' (মাফিয়ার ইংরিজি নাম)। এর ব্যবসা হল জলের ট্যাঙ্কারের। যত নতুন ফ্ল্যাট হচ্ছে সবেতে যাবতীয় জলের যোগান এই দেয় ট্যাঙ্কার দ্বারা। কোথায় যেন এর মস্ত মস্ত বোরওয়েল আছে ২০ না ২৫ টা, তাই দিয়েই এলাকার যাবতীয় জলের যোগান দেয়। ঐ ঠিকাদারকে সম্ভবতঃ পুষিয়ে দেবে মিউনিসিপালিটির কাজ করে যা পেত তার বদলে। আর যারা দৈনিক মজুরীতে কাজ করছিল তারা? ও তো গরীব আদমী সব চলে যাবে অন্য কোথাও।

    লেকের জল, শরদ পাওয়ার আর বারামতির গল্প আরেকদিন বলবোখনে।
  • debu | 017812.213.90012.230 | ০৪ জানুয়ারি ২০১৯ ০৫:১০381004
  • Water Tanker এর ব্যব্সা লুরু তেও , সরকারি লাইসেন্স আছে ৮০০ tanker এর কিন্তু চলে ১০০০০ tanker।
    এক Tanker এর দাম লুরু তে যারা থাকে তারাই বলুন।
    নেতা রা কি জানেনা?
  • dd | 90045.207.0156.34 | ০৪ জানুয়ারি ২০১৯ ০৮:৪৬381005
  • পুরো লুরুর খবর রাখি না। পাড়া আর আশপাশের খবর রাখি।

    পর পর কয়েকবছর ধরে বৃষ্টি কম হওয়ায় গ্রাউন্ড ওয়াটার লেভেল ভয়ানক কমে গেছিলো। ফলে বছরে চার পাঁচ মাস ট্যাংকারের উপর ১০০% ডিপেন্ড করতে হোতো। অন্য মাসগুলোতেও কম বেশী।

    তিন বছর আগে আমাদের (নর্থ ইস্ট) লুরুতে কাবেরী ওয়াটারের কনেকশন এসে যেতেই জল সংকট নিমেষে ধাঁ। তায় এই বছরে করণাটকে বৃষ্টি কম হলেও লুরুতে প্রচুর হয়েছে। গ্রাউন্ড ওয়াটার লেভেলও হু হু করে বেড়েছে । মাস খানেক আগে এই নিয়ে একটা রিপোর্টও পড়েছিলাম। আমাদের পাড়াতে বা অঞ্চলেই আর একটাও ট্যাংকার চোখে পড়ে না এদানী।

    অন্যতম কারন হচ্ছে এখানে সিটিজেন গ্রুপ খুবি তৎপর। শহর জুড়ে মজে যাওয়া লেক্গুলো রিভাইভ করছে। একেবারে ম্যাজিকের মতন ঘটনা ঘটছে। কুরি পঁচিশ বছর ধরে একেবারে শুকনো নদীতেও জল চলে এসেছে এবার।

    বাকী অঞ্চলের খবর জানি না।
  • aranya | 3478.160.342312.238 | ০৪ জানুয়ারি ২০১৯ ০৮:৫২381007
  • 'অন্যতম কারন হচ্ছে এখানে সিটিজেন গ্রুপ খুবি তৎপর। শহর জুড়ে মজে যাওয়া লেক্গুলো রিভাইভ করছে'
    -ব্যাঙ এরকম একটা গ্রুপের সাথে যুক্ত ছিল, একটা লেক বাঁচানোর কথা লিখেছিল। আশার কথা
  • কল্লোল | 342323.191.3412.81 | ০৪ জানুয়ারি ২০১৯ ০৯:১৪381008
  • ব্যাঙ্গালোরে লেক বাঁচানোর নাগরিক প্রচেষ্টার নাম কেরে হাব্বা। কেরে হব্বা মানে লেক মেলা। এরা খুব ভালো কাজ করে।
  • aranya | 3478.160.342312.238 | ০৪ জানুয়ারি ২০১৯ ০৯:১৯381000
  • কলকাতা আর পার্শবর্তী অঞ্চলে এরকম কোন গ্রুপ আছে? ধ্রুবজ্যোতি যেমন কাজ করতেন পূর্ব কলকাতা-র জলাভূমি বাঁচানোর জন্য
  • করোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1
  • গুরুর মোবাইল অ্যাপ চান? খুব সহজ, অ্যাপ ডাউনলোড/ইনস্টল কিস্যু করার দরকার নেই । ফোনের ব্রাউজারে সাইট খুলুন, Add to Home Screen করুন, ইন্সট্রাকশন ফলো করুন, অ্যাপ-এর আইকন তৈরী হবে । খেয়াল রাখবেন, গুরুর মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করতে হলে গুরুতে লগইন করা বাঞ্ছনীয়।
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত