• টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। যে কোনো নতুন আলোচনা শুরু করার আগে পুরোনো লিস্টি ধরে একবার একই বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গেছে কিনা দেখে নিলে ভালো হয়। পড়ুন, আর নতুন আলোচনা শুরু করার জন্য "নতুন আলোচনা" বোতামে ক্লিক করুন। দেখবেন বাংলা লেখার মতো নিজের মতামতকে জগৎসভায় ছড়িয়ে দেওয়াও জলের মতো সোজা।
  • আমাদের থাইল্যান্ড ভ্রমণ

    dc
    বিভাগ : অন্যান্য | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | ৪৮ বার পঠিত
আরও পড়ুন
N-Deal-Freedom,CPIM-CONG - DC
  • আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1
  • dc | 181.49.164.67 | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ১১:৫২371518
  • আমরা প্রত্যেক বছর হপ্তা দুয়েকের জন্য একটু দূরে কোথাও ঘুরতে যাই, আর সেটা মোটামুটি সেপ্টেম্বরের শেষে হয় কারন এই সময়ে আমার মেয়ে আর স্ত্রী দুজনেরই স্কুলে ছুটি থাকে (একজনের পড়া আরেকজনের পড়ানোর হাত থেকে মুক্তি)। আর এই সময়ে আমারও কাজের চাপ কম থাকে। তো আগের বছর গোড়ার দিকে ভাবছি এবার কোথায় যাওয়া যায়। আমার একটা ভাই থাকে নিউজিল্যান্ডে, সে অনেকদিন থেকেই বলছে আমার এখানে ঘুরতে এসো, শুধু প্লেন ভাড়া দিতে হবে, থাকা খাওয়ার সমস্যা নেই। ওমা, ব্যাটাকে মেল করলাম, হতভাগা বলে সেপ্টেমবরে আমার কনফারেন্স আছে। সেটা ক্যান্সেল হলো। আর ঠিক সেই সময়েই শালাবাবু ফোন করে বললো চলো, এবার আমরা সবাই মিলে কোথাও ঘুরতে যাই। সবাই মানে তিনটে ফ্যামিলি - শালাবাবু, আমরা, আর আমার স্ত্রীর বড়দিদি। কিন্তু মুশকিল হলো বড়ো দিদি থাকে আম্রিকায়, আর বড়ো জামাইবাবুর নাকি কাজের চাপে প্রান ওষ্ঠাগত। তা তিনটে ফ্যামিলির টানাপোড়্ন চললো মাসখানেক, তারপর দেখা গেল বড়ো জন বাদ, মেজ আর ছোট মিলে ঘুরতে যাওয়া হবে। এর মধ্যে কোথায় যাওয়া হবে সেসব নিয়েও কথা চলছিল, তো শালাবাবুর ইচ্ছে ফুকেট যাবে। আমরা আগে একবার পাটায়া গেছিলাম বলে ভাবছিলাম অন্য কোথাও যাই, কিন্তু শালাবাবু গ্যারান্টি দিয়ে বললো ফুকেট নাকি খুব ভালো জায়গা, তাছাড়া ওখানের থাই ম্যাসাজও নাকি খুব ভালো। তারপর খুঁজে দেখলাম থাইল্যান্ডে কয়েকটা ভালো ন্যাশনাল পার্কও আছে, তার একটাতেও যাওয়া যায়। ঠিক হলো প্রথমে ফুকেট যাবো, সেখান থেকে ব্যাংকক ফেরত, তার উত্তর দিকে Khao Yai ন্যাশনাল পার্কে থাকবো, আবার ব্যাংকক ফিরে তারপর রিটার্ন।

    এবার হোটেল খোঁজার পালা। ফুকেটে হোটেলের কোন অভাব নেই, বেশীর ভাগই সমুদ্রের ধারে, আর কয়েকটার আবার প্রাইভেট বিচও আছে। তো ট্রিপঅ্যাডভাইসরে আর গুগলে অনেক খোঁজাখুঁজি করে দেখলাম সবচাইতে ভালো লোকেশান ম্যারিয়্ট হোটেলের। এটা পাটং এর কাছে (পাটং ওখানকার প্রধান টুরিস্ট সেন্টার), আবার হোটেলটার সামনেই একটা ছোট্ট পাহাড় আর জঙ্গল মতো জায়গা আছে। কাজেই বুক করে ফেল্লাম। ব্যাংককে বুক করলাম পুলম্যান হোটেল জি, কারন ওদের বিফ স্টেক নাকি বিখ্যাত। তাছাড়া ওদের এক্সিকিউটিভ স্যুইট বুক করলে নাকি সন্ধেবেলার ড্রিংকস ফ্রি, কাজেই আর কোন দ্বিধা নেই। আর Khao Yai ন্যাশনাল পার্কে বুক করলাম Phukhunghom Resort। ছদিন ফুকেটে থাকবো, সেখান থেকে ব্যাংকক হয়ে ন্যাশনাল পার্ক, তিনদিন সেখানে থেকে আবার ব্যাংকক ফেরত, দুদিন থেকে রিটার্ন।

    কিন্তু ফুকেটের আসল মজা, যা বুঝলাম, ওখানকার বিভিন্ন ছোটবড়ো দ্বীপগুলো আর প্রচুর গাইডেড টুর। প্রচুর ঘেঁটেঘুঁটে একটা কোম্পানি পছন্দ হলো, Easyday Phuket। ওদের মেল করলাম, বল্লাম তোমাদের কয়েকটা টুরের সম্বন্ধে বলো আর দাম জানাও। তা এই কোম্পানির মালিক ইমেলে প্রচুর খুঁটিনাটি হিসেব দিলো, ভদ্রলোেকের নাম ফ্রান্সেসকো ফেরারি, ইটালিয়ান। অনেক মেল চালাচালির পর বেশ ভালো একটা ছদিনের প্ল্যান বানিয়ে দিলেন, কথা হলো এয়ারপোর্ট থেকে হোটেল পিকাপ আর ড্রপও ওরাই করে দেবেন ফ্রিতে।

    তারপর আর কি, প্লেনের টিকিট কাটা হলো, হোটেল বুক করা হলো, মাস দুয়েক আগে ভিসাও হয়ে গেল (থাইল্যান্ডে অন অ্যারাইভাল ভিসাও পাওয়া যায়, কিন্তু সাথে কাচ্চাবাচ্চা থাকবে বলে আর চান্স নিলাম না)। সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে শালাবাবু, তার স্ত্রী আর সাত বছরের ছোট ছেলে ব্যাঙ্গালোর থেকে চেন্নাই চলে এলো। রাত্তিরটা আমাদের বাড়ি কাটিয়ে পরদিন রাত সাড়ে দশটার ফ্লাইট ধরা হবে।
  • dc | 181.49.164.67 | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ১২:০৮371529
  • পরদিন রাত সাড়ে দশটায় এয়ার এশিয়ার ফ্লাইটে চেন্নাই থেকে ব্যাংকক ডন মুয়াং এয়ারপোর্টে নামলাম ভোর সাড়ে তিনটে। সেখান থেকেই কানেক্টিং ফ্লাইট ফুকেট অবধি, সকাল সাড়ে আটটায়, কাজেই ঘন্টা চারেক অপেক্ষা করতে হবে। এর মধ্যে আমার মেয়ে ভারি উত্তেজিত কারন এই প্রথম ভাই এর সাথে কোথাও ঘুরতে যাচ্ছে। তো দুজনে মিলে ভোর সাড়ে চারটে থেকে আটটা বদমায়েশি করলো, সিকিউরিটির ধমক খেল, একটা কফি শপ থেকে ফ্রিতে ডোনাট খেয়ে এলো। আমরা চারজন বড়ো গল্পগুজব করে আর হাই তুলে সময়টা কাটিয়ে দিলাম। কিন্তু ফ্লাইট এক ঘন্টা ডিলেড, কাজেই সকাল সাড়ে নটার বদলে পৌঁছলাম সাড়ে দশটায়। ফুকেট এয়ারপোর্ট ছোট্ট কিন্তু ভারি সুন্দর, আর একেবারে সমুদ্রের গায়ে, ঠিক গোয়ার এয়ারপোর্টের মতো। ব্যাগ বাচ্চা সব কালেক্ট করে বাইরে বেরোতে বেরোতে সাড়ে এগারোটা বেজে গেল, তবে ইজি ডের ভ্যান অপেক্ষা করছিল, সেটায় করে ওদের অফিস গেলাম। টুরের দাম টাম মিটিয়ে ফ্রান্সেসকোকে বল্লাম একটা ভালো রেস্টুরেন্ট সাজেস্ট করো, সেখানে লাঞ্চ করে তারপর হোটেল যাবো। কিন্তু ইটালিয়ান হলে চলবে না, অথেন্টিক থাই। ফ্রান্সেসকো ড্রাইভারকে বলে দিলো, তারপর দেখি একটা ছোট্ট পাহাড়ের ওপর একটা রেস্টুরেন্টে নিয়ে হাজির করেছে, সেটার থেকে পুরো পাটং এর ভিউ পাওয়া যায়। ড্রাইভার ভদ্রলোককেও নিয়ে নিলাম, সাতজন বড়ো আর দুটো ছোট মিলে পেট ভর্তি করে খেলাম অক্টোপাস সুপ, কাজু চিকেন, পর্ক ফ্রাই, নুডল, ফ্রায়েড রাইস, মাছের কারি, আরো কতো কি। এই রেস্টুরেন্টটার যেমন অসাধারন লোকেশান তেমনি খাবারের টেস্ট, ফ্রান্সেসকোকে এটার জন্য আজীবন মনে রাখব।

    সেখান থেকে বেরিয়ে দেড়টা নাগাদ হোটেলে চেক ইন করলাম। বিকেলবেলা আমি আর শালাবাবু একটা করে বিয়ারের ক্যান নিয়ে বিচে গিয়ে বসলাম, পাশেই ওদের একটা গ্রিল ছিল, মদ আর মাংসের কোন অভাব নেই।
  • S | 194.167.2.96 | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ১২:১২371540
  • ডিসিদা, ব্যাংকক থেকে ফুকেটের প্লেনের যাত্রাটা সত্যিই খুব সুন্দর। নীচে সবুজ জল, আর তার মধ্যে নীল ছোটও ছোটো দ্বীপ। মনে হয় যেন কোনও স্বর্গে নিয়ে চলেছে। লিখতে থাকুন।
  • dc | 181.49.164.67 | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ১২:১৪371544
  • রেস্টুরেন্ট থেকে সামনের ভিউ।

    https://ibb.co/fFE1B6

    https://ibb.co/ebnPym
  • dc | 181.49.164.67 | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ১২:১৭371545
  • এই যাঃ ইমেজ এমবেড করবো কি করে?
  • dc | 181.49.164.67 | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ১২:১৮371546
  • এটা হয় কিনা দেখি

    https://imgur.com/jLqLG1n
  • | 116.210.230.163 | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ১২:২১371547
  • শাটারফ্লাই বা পিকাসা কোথাও তুলে jpg লিণ্গ্ক পেস্ট করুন
  • | 116.210.230.163 | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ১২:২২371548
  • আপনার ছবিটাই নিলাম। রইট ক্লিক করে copy image address করে নিন।

  • dc | 181.49.164.67 | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ১২:২৮371549
  • এবার দেখি

  • dc | 181.49.164.67 | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ১২:২৯371519
  • হয়েছে, দ কে অনেক ধন্যবাদ। আর হ্যাঁ, ফুকেট এয়ারপোর্টের অ্যাপ্রোচটাও অসাধারন, সমুদ্রের মধ্যে অসংখ্য দ্বীপ পরপর দেখা যায়।
  • dc | 181.49.164.67 | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ১২:৪২371520
  • পরদিন আমাদের প্রথম প্যাকেজ টুর। এটা কিন্তু ফ্রান্সেসকোর নিজের কোম্পানির না, এটা চালায় John Gray নামে এক বুড়ো, যিনি অনেকদিন ধরে ইকো টুরিজম, কনসার্ভেশান প্রোজেক্ট ইত্যাদির সাথে যুক্ত আছেন। টুরটার নাম Hong by Starlight। হং হলো থাই ভাষায় গুহা, আর স্টারলাইট নামটা খুব ইন্টারেস্টিং। ফুকেটের আশেপাশে আন্দামান সি তে যে অসংখ্য ছোট দ্বীপ আছে তার অনেকগুলোর একেবারে সমুদ্রের ধারে অনেক গুহা আছে। হাই টাইডে গুহাগুলো জলের তলায় চলে যায়, কিন্তু লো টাইডে আবার বেরিয়ে আসে, তখন ছোট ছোট ক্যানো করে ভেতরে ঢুকে এক্সপ্লোর করা যায়। তো এই ভদ্রলোকের কোম্পানিই নাকি পনেরো বছর আগে প্রথম এই এক্সপ্লোরেশান শুরু করেছিলেন ফুকেটের একদম উত্তরে Phang Nga Bay তে। আর স্টারলাইট কেন? কারন সন্ধেবেলা এই গুহাগুলোর কাছে গিয়ে প্রত্যেকটা ক্যানো থেকে একটা করে ছোট্ট ফুল আর পাতার বোট ভাসিয়ে দেওয়া হয়, তার মধ্যে মোমবাতি থাকে, আর সেই আলোয় প্রচুর ফসফরেসেন্ট প্ল্যাংকটন জলের উপরিভাগে উঠে আসে আর পুরো জায়গাটা তারার আলোর মতো চিকমিক করতে থাকে। এনারা দুপুর বারোটা নাগাদ সব টুরিস্টদের বিভিন্ন হোটেল থেকে পিক আপ করেন, ফুকেটের পুর্ব উপকূলে একটা জেটিতে সবাইকে নিয়ে যান, ১৫-২০ জনের গ্রুপে ভাগ করে একেকটা লঞ্চে চড়ান, তারপর ফাং নার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। এক ঘন্টা লাগে পৌঁছতে, সেখানে একেকটা ক্যানোতে দুজন করে লঞ্চ থেকে নেমে গুহাগুলো দেখে আবার ফিরে আসে। দুপুরের খাওয়া লঞ্চে, তারপর আরেকটা আইল্যান্ডে গিয়ে আবার গুহা দেখতে যাওয়া, লঙ্চে ফিরে এসে সবাই মিলে ফুল দিয়ে বোটগুলো বানায়, সন্ধেবেলা গুহার কাছে গিয়ে স্টারলাইট দেখা, তারপর আবার ফুকেটে ফেরত।
  • dc | 181.49.164.67 | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ১২:৫৬371521
  • তো পরদিন সকালবেলা ব্রেকফাস্ট করে সাড়ে এগারোটা নাগাদ জন গ্রের পাঠানোর ভ্যানে উঠে পড়লাম, আধ ঘন্টা পর পৌঁছে গেলাম Ao Po জেটিতে। সেখানে আরো অনেক টুরিস্টের সাথে আলাপ হলো, সবাই এসেছেন স্টারলাইট দেখার লোভে। আগে বলা হয়নি, সেপ্টেম্বেরের শেষে ফুকেটে মনসুন সিজন চলে, যখন তখন বৃষ্টি হয়। তবে বেশিক্ষন হয়না, ঝমঝম করে কয়েক পশলা হয়েই আবার রোদ উঠে যায়। আমরা যখন লঞ্চে উঠে সমুদ্রে কিছুটা এগিয়েছি, তখন আধ ঘন্টার জোর এক রাউন্ড হয়ে গেল, আমিও লঞ্চের সামনে গিয়ে একটা দড়ি দিয়ে নিজেকে বেঁধে নিয়ে মনের সুখে ভিজলাম। ঘ্ন্টাখানেক পর লঞ্চ পৌঁছল প্রথম ডেস্টিনেশানে, যেখানে সবগুলো ক্যানো জলে নামানো হবে। ঠিক হলো আমি আর আমার মেয়ে একটা ক্যানোতে থাকবো, আর পেছনে যিনি ক্যানোটা রো করবেন। তখন সদ্য বৃষ্টি থেমেছে আর উত্তাল সমুদ্র, কাজেই যথেষ্ট কসরত করে আমরা দুজন একটা ক্যানোতে বসে পড়লাম - আসলে বসে না, আধ্শোয়া মতো থাকতে হয়। তারপর ক্যানোর সারি চললো কাছে একটা গুহার মধ্যে। গুহাগুলোর মধ্যে আসলে ম্যাংগ্রোভ ফরেস্টের সারি, ছোটবড়ো অনেক গুহা একটা আরেকটার সাথে কানেক্টেড, আর ভেতরের একটা করে শান্ত লেগুম। বোটম্যানরা ক্যানো চালাতে চালাতেই সেখানকার জিওগ্রাফি, রক ফর্মেশান ইত্যাদি নানান কিছু নিয়ে বলছেন আর আমরা শক্ত করে ক্যানোর দুপাশ ধরে শুনছি। খানিক পর লঞ্চে ফেরত এলাম, অনেক টুরিস্ট সমুদ্রে লাফ দিয়ে দিব্যি সাঁতার কাটলেন, আরও খানিক পর খাওয়ার ডাক পড়লো।
  • dc | 181.49.164.67 | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ১৩:০৫371522
  • আও পো পিয়ের, যেখান থেকে টুর শুরুঃ



    মাঝপথে আকাশ কালো করে বৃষ্টি নামলো



    ভেতরের লেগুন। এই লেগুনগুলো সমুদ্রের সাথে কানেক্টেড, কিন্তু চতুর্দিকে উঁচু পাহাড়ে ঘেরা বলে জলটা একদম শান্ত থাকে



    মাঝখানে আমার মেয়ে আমাদের বোটম্যানকে হাত করে ক্যানো চালানোরও ট্রেনিং নিয়েছে

  • dc | 181.49.164.67 | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ১৩:২৯371523
  • লাঞ্চের লঞ্চটাও অতি উপাদেয় হয়েছিল। ভেজ আর নন-ভেজ দুরকমই ছিল, তবে প্রায় সব্বাই নন-ভেজ। একজন চীনেম্যানের সাথে আলাপ হয়েছিল, ছেলেটা যা সাঁটাল ওরকম কম লোককে খেতে দেখেছি। একবার করে ভেতরে গিয়ে প্লেট ভর্তি করে খাবার নিয়ে আসে, লঞ্চের বাইরে ডেকে এসে আমাদের সাথে গল্প করে, আবার ভেতরে যায়। অন্তত ছ সাতবার যাওয়া আসা করলো, এদিকে রোগা টিঙটিঙে। যাই হোক, ছেলেটা তার বৌকে নিয়ে হানিমুনে এসেছে, দুজনে আবার এক্সপার্ট রোয়ার। পরের বার যখন ক্যানো করে আরেকটা কেভ সিস্টেম দেখতে গেলাম তখন নিজেরাই ক্যানো চালানো দেখলাম। বার দুয়েক ক্যানো চড়ে বেরিয়ে এসে সবাই লঞ্চের ডেকে জড়ো হলো, এবার ফুল আর পাতা দিয়ে বোট বানাতে হবে। থাই ভাষায় এগুলোকে বলে Krathong। প্রত্যেকটা ফ্যামিলি একটা করে বানালো, এগুলো নাকি সন্ধেবেলা নদীতে বা জলে ভাসালে পরিবারের ভালো হয়। ততক্ষনে সন্ধ্যে হয়ে এসেছিলো, শেষবারের মতো ক্যানোয় চড়ে চললাম ক্রাথং ভাসাতে। ক্যানোম্যানরা সবাই একটা বড়ো অন্ধকার গুহায় ক্যানোগুলো নিয়ে গেলেন, আলতো করে বোটগুলো ভাসিয়ে মোমবাতি জ্বালিয়ে দিলেন, দাঁড় দিয়ে কয়েকবার আলতো করে জলে চাপড় দিলেন। আর আস্তে আস্তে পুরো জলটা চিকমিক করতে শুরু করলো, সে এক অসাধারন দৃশ্য। কিন্তু ক্যামেরায় ওঠে না। আরও খানিক পর গুহার থেকে বেরিয়ে এসে একে একে লঞ্চে উঠে পড়লাম, জেটিতে ফিরে এলাম, গাড়ি হোটেলে ড্রপ করে দিয়ে গেল। সেদিন অনেক রাত্তির অবধি হোটেলের পুলে বসে সেই স্টারলাইট এর কথা আলোচনা করেছিলাম।

    আমাদের ক্রাথং



    ভেলা ভাসানোর মুহূর্ত

  • শঙ্খ | 126.206.220.114 | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ১৬:১০371525
  • বাহ ভারি ভালো লাগলো।
  • Ekak | 11.39.177.95 | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ২০:৪৬371526
  • বাহ এই ভেলা টুর টা ভারী ভাল্লাগ্লো!
  • dc | 132.164.66.178 | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ২০:৫৮371527
  • পরের দিন কোন টুর ছিলনা, সেদিন সারা সকাল আর দুপুর হোটেলেই কাটালাম আর পাশের পাহাড় মতো জায়গাটায় হাঁটতে গেলাম। সেটার শেষে আরেকটা ছোট্ট বিচ, তারপর পূর্ব দিকে আন্দামান সি একেবারে শ্রীলংকা অবধি। আর হ্যাঁ, হোটেলের প্রাইভেট বিচে স্নর্কেলিং করতে গিয়ে স্বাই মিলে ছড়িয়ে ছত্তিরিশ করলাম। বিকেলবেলা গেলাম পাটং ঘুরতে, সেখানে বাংলা রোড বলে একটা বিখ্যাত রাস্তা আছে। ঘোরাঘুরি করে Churrasco Steakhouse নামের একটা রেস্তোরাঁয় বেশ ভালো বিফ স্টেক খেলাম, সাথে অনেক কিছু সাইড ডিশ দিয়েছিল। ফেরার পথে ঝমঝমিয়ে এক পশলা বৃষ্টি হয়ে গেল।

    পরের দিন ফ্রান্সেসকো পুরো দিনের পাটং প্রাইভেট টুরের ব্যাবস্থা করেছিল। হোটেলে যেহেতু ব্রেকফাস্ট ফ্রি, তাই সবাই মিলে ঠেসে ব্রেকফাস্ট খেয়ে দশটায় পড়লাম। প্রথমে দেখতে গেলাম সারাসিন ব্রিজ, যেটা ফুকেটের সাথে মেনল্যান্ডের একমাত্র সংযোগ। তারপর একটা ছোট্টমতো ঝর্না, কাথু বলে একটা জায়গায় একটা নীচু পাহাড়ের থেকে সেটা বেরিয়েছে। তারপর গেলাম ওল্ড ফুকেট, যেটা ওদের রেসিডেন্সিয়াল আর কমার্শিয়াল এলাকা। এখানটা খুব ভাল্লাগলো - অনেক পুরনো পুরনো সব বাড়ি কি সুন্দর মেন্টেন করেছে, নানান রকমের আর্কিটেকচারের মিশেল আর পুরো জায়গাটা একেবারে ঝকঝকে পরিষ্কার। তারপর একটা রেস্তোরাঁয় লাঞ্চ করে দেখতে গেলাম Wat Chalong, যেটা ফুকেটের সবচেয়ে বড়ো বৌদ্ধ মন্দির। এই মন্দিরে একটা মজার ব্যাপার আছে। যাঁরা মানত টানত করেন তাঁরা বিরাট লম্বা একটা কালিপটকর তাড়া কেনেন, তারপর একটা ছোট গোলমতো ঘরের ভেতর সেটা ফাটান। ঘরটার একটাই দরজা আর ওপরে খুপরি খুপরি করা। আমাদের লাক ভালো, আমরা যখন গিয়ে পৌঁচেছি তখন শুনি কালিপটকা ফাটানো হবে। ব্যাস, সবাই মিলে গিয়ে জড়ো হলাম ঘরটার সামনে। একটু পরেই তাড়াটা ঘরের মধ্যে বিছিয়ে আগুন দিয়ে দিল। পরের প্রায় পাঁচ মিনিট বিকট, বিভত্স আর কানে তালা ধরানো আওয়াজ আর ধোঁয়ায় পুরো চত্বর ছেয়ে গেল। আমাদের গ্রুপের ছোট দুটোর মজা দেখে কে! তারপর মন্দিরগুলোয় একে একে ঢুকলাম, অসাধারন সব আর্কিটেকচার আর সারি সারি বুদ্ধমূর্তি। একটা মন্দিরের সবচে উঁচুতে দেখলাম মার্বেলে বুদ্ধমন্ত্র খোদায় করা আছে, ইংরেজি আর হিন্দির কাছকাছি একটা স্ক্রিপ্টে। আমাদের ভ্যান গাড়ির চালক আমাদের গাইডও ছিলেন, ওনার সাথে এসব নিয়ে অনেক কথা হলো।

    তারপর একটা ছোট পাহাড়ের ওপর পৌঁছলাম বিগ বুদ্ধ দেখতে, এটা থাইল্যান্ডের সবচেয়ে বড়ো বুদ্ধ মূর্তি। তবে রাস্তায় একটা দোকানে নামতে ভুললাম না, এটার খোঁজ আমি মাসখানেক আগে গুগলে পেয়েছিলাম। এখানেই নাকি ফুকেটের সবচাইতে সেরা Pad Thai খাওয়া যায়। সবাই মিলে পেট ভর্তি করে নুডল আর সুপ খেলাম, তারপর চললাম নির্বানের খোঁজে। ততক্ষনে বিকেল হয়ে এসেছে, বুদ্ধমূর্তির তলায় পুরো মন্দিরটা, সেখানে ভারি সুন্দর বুদ্ধমন্ত্র পড়া শুরু হয়েছে। সানসেটটাও ওখানেই দেখলাম, তারপর ফিরে এলাম হোটেলে।
  • dc | 132.164.66.178 | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ২১:২০371528
  • Wat Chalong এর একটা মন্দির



    ভেতরের আর্কিটেকচার



    বিগ বুদ্ধা



    এবং বুদ্ধমন্দিরের ঠিক বাইরে নির্বানলাভের প্রায় কাছাকাছি

  • শঙ্খ | 126.206.220.114 | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ২২:০০371530
  • এই বেড়ালটাকে পুষ্যি নিলুম
  • সিংগল k | 212.142.114.223 | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ০৯:২৬371531
  • সেই এক বচ্ছোর আগে ডিসিদা আমাকে গাইড করেছিলেন। তারপর নিজে এতদিন পরে তাইল্যান্ড গেলেন? আর এত দেরীতে লিখলেন? আপনার লেখা পড়ে আমার তো ফের তাইল্যান্ড যাওয়ার ইচ্ছে পেয়ে গেল।
  • k | 212.142.114.223 | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ০৯:৩১371532
  • তবে আমার আক্ষেপ করার কিছু নেই, পরের হপ্তায় আন্ডামান যাওয়ার কথা আছে। তাইল্যান্ডের ইচ্ছেটা কিছুটা অন্তত পুরিয়ে নোবো।
  • dc | 120.227.246.250 | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ১২:৪৬371533
  • পরের দিন কোন টুর ছিলনা, তাই এগারোআ নাগাদ আমাদের হোটেলের বিচ থেকে একটা লং বোট ভাড়া করে পাশের সমুদ্রে পাড়ি দিলাম। সেই বোটটা খানিক পর পাশের একটা বিচে নিয়ে গেল, সেটার নাম ফ্রীডম বিচ। এই বিচটার একধারে রক ফর্মেশান আর অন্য ধারে কয়েকটা শ্যাকে অসাধারন সিফুড পাওয়া যায় - লবস্টার, ক্র্যাব, জাম্বো প্রন, আরো কত কি! বেশীর ভাগই গ্রিল করা, আর দাম মোটে তিরিশ থেকে পঞ্চাশ ভাট। ফেরার পথে বোটম্যান আমাদের বললো কাছেই Simon Cabaret আছে, তোমরা দেখবে নাকি? আমি আর শালাবাবু তক্ষুনি রাজি, কথা হলো সেই বোটম্যানই একটা অটো ঠিক করে দেবে, সেটা আমাদের নিয়ে যাবে। সন্ধেবেলা আমরা দুজন দেখতে গেলাম আর যেহেতু বাচ্চাদের নিয়ে যাওয়া যাবেনা, তাই বৌরা দুজন গজগজ করতে করতে হোটেলে থেকে গেল। তবে শোটা সেরকম ভাল্লাগেনি, বড্ডো অ্যামেচারিশ। এর থেকে ব্যাংককে একটা শো দেখেছিলাম পরে, Siam Niramit, সেটা একটু বেটার ছিল।

    তার পরের দিন ফ্রান্সেসকোর অ্যারেন্জ করা আরেকটা টুর, Kapong Jungle Safari। সকাল আটটা নাগাদ হোটেলে ওদের ভ্যান এলো, আমাদের আর অন্য একটা ফ্যামিলিকে নিয়ে রওনা হলো ফুকেটের পূর্বে কাপং ডিস্ট্রিক্টের দিকে। আগের দিনের দেখা সারাসিন ব্রিজ পেরিয়ে মেনল্যান্ডে পৌঁছে সমুদ্রের ধার ঘেঁষে একটা রাস্তা দিয়ে ভ্যান চললো, অপূর্ব দুপাশের সিনারি। মাঝপথে একটা জায়গায় ব্রেকফাস্টের জন্য থামার কথা, কিন্তু আমরা তিনটে ফ্যামিলিই ঠেসে ব্রেকফাস্ট করে নিয়েছিলাম বলে অল্প একটু থেমেই আবার রওনা দিল (দেখা গেল ফ্রিতে হোটেলের ব্রেকফাস্ট পেলে কেউ ছাড়ে না)। এগারোটা নাগাদ পৌঁছলাম Khao Lak ন্যাশনাল পার্কে। প্রথমে গেলাম একটা এলিফ্যান্ট সাফারিতে, প্রত্যেক অ্যাডাল্ট (বা একজন অ্যাডাল্ট আর একটা চাইল্ড) একটা করে হাতির পিঠে। সার দিয়ে হাতিগুলো আমাদের নিয়ে চললো জঙ্গল আর পাহাড়ী পথে, মাঝে এক পশলা বৃষ্টিও হয়ে গেল। আধ ঘন্টা পর সবাই ফেরত এলাম, তারপর একটা বড়ো পুকুর মতো জায়গায় হাতিগুলো জলে নেমে গেল, এবার প্রত্যেক সওয়ারি তার হাতির গা ধোয়াবে। সে এক বিকট ব্যাপার, বেশীর ভাগ সওয়ারিকে হাতিগুলোই শুঁড়ে করে জল ছিটিয়ে চান করিয়ে দিল। পুকুর থেকে উঠে গা মুছে আমরা চললাম রিভার টিউবিং এর উদ্দেশ্যে।

    কাছেই একটা পাহাড় আছে, সেটা থেকে একটা সরু খরস্রোতা পাহাড়ী নদী নেমে এসেছে, সেটাতে টিউবিং হবে। কিন্তু যাত্রার শুরুতেই আমাদের গাইড জানিয়ে দিল গত কয়েকদিন জোর বৃষ্টি হয়েছে বলে এখন নদীতে খুব স্রোত, তাই একদম ছোট বাচ্চারা টিউবিং করতে পারবে না, ওরা গাইডদের সাথেই থাকবে। আমার শালার ছেলে আর অন্য ফ্যামিলিটাতেও একটা বাচ্চা ছেলে, সে দুটো মহা চ্যাঁচামেচি জুড়ে দিল, কিন্তু কি করা যাবে। এবার আমরা সবাই মিলে পাহাড়ি পথ দিয়ে উঠতে থাকলাম, পাশ দিয়ে নদীটা বইছে। কিছুটা এগিয়ে টিউবিং এর এন্ড স্টেশান, মানে যেখানে শেষ হয়, সেখানে দেখি আরেকদল সদ্য নদী থেকে উঠে এসেছে আর উত্তেজনায় ফুটছে। আমাদের দেখেই বলতে শুরু করলো ওফ কি মজা হলো, তোমাদের গ্রুপে কজন আছে, দশজন তো? আমাদের গ্রুপেও ওরকমই ছিল, এখন দেখছি দুচারটে কম পড়ছে, বাট উই আর গুড। আরও এগোলাম, তারপর এক জায়গায় একটা সরু কাঠের ব্রিজ পেরিয়ে পৌঁছলাম শুরুর স্টেশানে। সেখানে সবাইকে লাইফ জ্যাকেট, হেলেমেট আর নি গার্ড পরানো হলো, গাইডরা বোঝালো কিভাবে টিউবগুলো কন্ট্রোল করতে হবে, উল্টে গেলে কি করতে হবে ইত্যাদি। বেসিকালি কিছুই না, একটা করে বড়ো টায়ারের মাঝখানে একেকজন বসবে আর তাকে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হবে। তবে যেহেতু নদীটা শ্যালো আর পাথরে ভর্তি আর খুব স্রোত, তাই হাত পা গুটিয়ে টিউবের ওপরে রাখতে হবে, নাহলে পাথরে ধাক্কা খেলে লাগতে পারে। তো একজন একজন করে টিউবে পুরে ভাসিয়ে দেওয়া হলো। আমাকেও বসিয়ে ছেড়ে দিল, আর ওমনি তীরবেগে নদীর স্রোত ভাসিয়ে নিয়ে চললো। সাথে সাথে ওদের গাইডরাও দৌড়চ্ছে, কেউ কোন পাথরে আটকে গেলে তাকে লম্বা বাঁশ দিয়ে ধাক্কা মেরে আবার এগিয়ে দিচ্ছে। মাঝপথে নামলো ঝমঝম করে বৃষ্টি। চতুর্দিকে ফেনা, জল আর বৃষ্টি, এরকম মজা আর কখনো হয়নি। আরেকটু অগিয়ে দেখি শালাবাবু উল্টে গেছে, একজন গাইড ধরে আবার টিউবে বসিয়ে দিয়ে ঠেলে দিচ্ছে। আমিও দুতিনবার পাথরে ধাক্কা খেয়ে প্রায় উল্টোতে যাচ্ছিলাম, কিন্তু টিউবের দড়ি কন্ট্রোল করে কোনমতে বেঁচে গেলাম। আরেকটা জায়গায় জলের নীচে একটা পাথরে জোর ধাক্কা খেলাম, পাছায় ব্যাথা হয়ে গেল। হৈ হৈ করতে করতে সবাই মিলে নদী বেয়ে এগোতে থাকলাম, অবশেষে বোধায় মিনিট কুড়ি পর সেই এন্ড স্টেশানে পৌঁছলাম, সেখানে একটা জায়হায় জাল মতো দেওয়া ছিল, সেখান থেকে একেক করে গাইডরা আমাদের ডাঙায় তুলে নিলো। যার যেখানে লেগেছিল সেখানে স্প্রে করলো, দুয়েকজনের অল্প কেটে গেছিল, সেগুলোতে ডেটল লাগিয়ে দিল। এই টিউবিং করার আগেই ওরা বলে রেখেছিল এসব হবে, আর প্রত্যেককে রিলিজ ফর্মে সইও করতে হয়েছিল।

    সব শেষে সাড়ে তিনটে কি চারটে নাগাদ পাহাড় বেয়ে নীচে নেমে এলাম, সেখানে ওদের দেওয়া লাঞ্চ করে আবার ভ্যানে করে হোটেলে ফিরে এলাম। আসার পথে সবাই মিলে আফশোষ করতে করতে এলাম যে এই টিউবিং টুরটা যদি আরেকবার করতে পারতাম!
  • dc | 120.227.246.250 | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ১৩:০২371534
  • দে হাতির গা ধুইয়ে! ছোটদের জন্য ছোট হাতি



    টিউবিং এর জন্য পাহারে ওঠার মাঝপথে একটা জায়গা ছিল যেখানে টুরিস্টরা চাইলে নদীতে লাফাতে পারে



    টিউবিং এর শেষে

  • dc | 120.227.246.250 | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ১৩:২৮371535
  • পরের দিনটাও ফুকেটে কাটালাম, এদিক ওদিক ঘুরলাম, স্পা করলাম। তার পরদিন সকালবেলা আবার এয়ার এশিয়ার ফ্লাইট ধরে ব্যাংকক পৌঁছলাম। একটা ভ্যান বুক করে রেখেছিলাম, সেটা ডন মুয়াং থেকে আমাদের নিয়ে পৌঁছে দিল ফুখুমহং রিসর্টে। ঘন্টা চারেকের রাস্তা, ব্যাংককের বাইরে বেরিয়ে অসাধারন ন্যাচারাল বিউটি এই রিসর্টটা একটু পাহাড়ি মতো জায়গায়, Khao Yai ন্যশনাল পার্কের গা ঘেঁষে। ওদের সাথে আগে কথা বলে রেখেছিলাম, ওরা একটা ফুল ডে আর একটা হাফ ডের সাফারির ব্যাবস্থা করে রেখেছিল।
  • aranya | 83.197.98.233 | ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ০১:৫৯371536
  • দিব্য হচ্ছে। হাতি-র গা ধোয়ানো দেখে নেপালের চিৎওয়ানের কথা মনে পড়ল।
    টিউবিং কখনো ট্রাই করতে হবেক, সুযোগ পেলে
  • dc | 132.164.24.216 | ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ০৮:৩৬371537
  • পরের দিন ভোরবেলা উঠে পড়লাম, দেখি অল্প বৃষ্টি হচ্ছে আর অল্প ঠান্ডা। তার মধ্যেই হোটেল থেকে গরম গরম কফি দিয়ে গেল, ওরা নাকি প্রত্যেক কটেজে ভোরবেলা কফি আর চা পাঠিয়ে দেয়। এই রিসর্টের সার্ভিস সত্যি খুব ভালো ছিল। ব্রেকফাস্ট করে নটার সময়ে সবাই মিলে বেরোলাম জংগল সাফারিতে। Khao Yai তে ঢোকার দুটো পয়েন্ট আছে, একটা নর্থে আরেকটা সাউথে। এই রিসর্টটা নর্থের এন্ট্রি পয়েন্টের একদম কাছে - এন্ট্রি পয়েন্টের নাম পাক চং। ভেতরে গাড়ি আর বাইক দুটোয় করেই যাওয়া যায়, তবে আমরা দুটো ফ্যামিলি একসাথে বলে গাড়ির ব্যাবস্থা করেছিল। আমরা একটা ভুল করেছিলাম, এরকম টুরে নাকি নাইট সাফারিরও ব্যাবস্থা থাকে, আমরাও জানতাম না আর ওরাও বলেনি, কাজেই আমাদের টুরটা হয়েছিল শুধু দিনের বেলা। নাইট সাফারি করতে চাইলে আগে থাকতে জঙ্গলের ভেতর একটা বাংলো বুক করে রাখতে হতো। এছাড়া ভেতরে হাইকিং ট্রেলও আছে, কিন্তু আমাদের সাথে বাচ্চা ছিল বলে হাইকিং করা হয়নি। চেকপোস্টের পর বেশ কিছুটা গিয়ে একটা ফুড কোর্ট মতো জায়গা, তারপর আরও কিছু দূর গিয়ে আস্তে আস্তে পাহাড়ি এলাকা শুরু হয়েছে। এই ন্যাশনাল পার্কটায় বেশ কয়েকটা ঝর্না আর ওয়াটারফল আছে, তার কয়েকটা রাস্তাতেই পড়ে, আর সবচেয়ে উঁচুটা হলো Haew Narok Waterfall। তবে সেরকম নারকীয় কিছু না, বেশ শান্তশিষ্টই মনে হলো, এর চাইতে ভারতে বেশ কয়েকটা বেটার ওয়াটারফল দেখেছি। দেখে টেখে দুপুরবেলা একটা ক্যাম্পসাইটে পৌঁছলাম, হোটেল থেকে লাঞ্চ প্যাক করে দিয়েছিল, জব্বর পিকনিক হলো। তারপর আরও ঘুর্লাম, হাতির পাল, হরিন, বাঁদর, পাখি ইত্যাদি প্রত্যেকেই যথাযথ ভাবে দেখা দিলেন। আমাদের গাইডকে দুয়েকবার জিগ্যেস করলাম এই পাখিটা কেমন খেতে বা ওই হরিনটাকে পচিয়ে খাওয়া যায় নাকি, তা তিনি বেশ উত্তেজিত হয়ে বললেন এখানে শিকার একদম নট অ্যালাউড, যদি একবার ধরা পড়েছ তো থাই পুলিশ পেঁদিয়ে বাপের নাম ভুলিয়ে দেবে। তারপর থেকে গাইড ভদ্রলোক আমাকে একটু এড়িয়েই চললেন। সন্ধে ছটা নাগাদ চেক পয়েন্ট থেকে বেরিয়ে এলাম, সন্ধেবেলাটা হোটেলে।

    একটা ছোট্ট ঝর্নার ঠিক নীচে। এখানে আবার দুয়েকটা পাথরের টেবিল কাটা আছে, সেগুলোতে বসে জলের শব্দ শুনতে ভারি ভাল্লাগে

  • dc | 132.164.24.216 | ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ১১:৩০371538
  • পরের দিন একটা হাফ ডে টুর করার ক্থা, কিন্তু সকালে উঠে দেখা গেল শালাবাবুর ছেলের হাল্কা গা গরম হয়েছে। বেচারা আগেরদিন বেশ কয়েকবার ঝর্নার জলে ভিজেছে আর সারাদিন হুটোপাটি করেছে, ধকল নিতে পারেনি। সেদিন ব্যাংককেও ফেরার পালা, তাই সেদিনের টুর ক্যান্সেল করা হলো, আমরা হোটেলেই আয়েস করে বসে চা খেলাম, আশেপাশে ঘোরাঘুরি করলাম। তাছাড়া একটা লাভও হলো। রিসর্টটার কাছেই একটা ওয়াইনারি আছে, Alcidini Winery, আমি আর শালাবাবু রিসর্টের এক কর্মচারীর মোপেড হাতিয়ে সেটায় পৌঁছে গেলাম। পরের এক ঘন্টা নানান ওয়াইন চেখে খুব ভালো সময় কাটলো, ম্যানেজারবাবুর সাথে আলাপ হলো, তিনি আবার পাশেই ওদের কাল্টিভেশান এরিয়াতেও নিয়ে গেলেন। সেদিন আর কেউ ছিল না বলেই বোধায়, ওয়াইন টেস্টিং এর ফিও নিলেন না। শেষে দু বোতল সিরাজ কিনে সবাইকে খাপুন খ্রাপ বলে হোটেলে ফিরে এলাম।

    দুপুরবেলা মধ্যাহ্নভোজন সেরে রওনা দিলাম, বিকেল পাঁচটা নাগাদ ব্যাংকক পৌঁছে গেলাম। তারপর হোটেলে পৌঁছে চেকিন। এই হোটেলটায় একটা এক্সিকিউটিভ লাউঞ্জ আছে ২৭ তলায়, সেখানে বিকেলবেলার স্ন্যাক্স আর ড্রিংকস ফ্রি। তা সেদিন সবার এতো ধকল গেছিল আর এতো টায়ার্ড হয়ে পড়েছিল যে চেকিন করেই জামাকাপড় ছেড়ে সবাই মিলে একবারে লাউঞ্জেই পৌঁছে গেলাম। বাচ্চাদুটোকে ফ্রুটজুস দিয়ে বসিয়ে দেওয়া হলো, আর বড়োরা নানারকম পানীয়র সাথে চিজ, ক্যানাপে ইত্যাদি যা পাওয়া যায় সব দিয়ে ক্লান্তি দূর করার চেষ্টায় লেগে গেল। পরের দুদিন ব্যাংককের ঘোরাঘুরির একটা প্ল্যানও ছকে নেওয়া গেল। আমরা আগেরবার এসে রাজপ্রাসাদ দেখে গেছিলাম, তাই ঠিক করলাম এবার আর যাব না। বারবার রাজাকে বিরক্ত করা ঠিক হবে না। তার চেয়ে নানান বুদ্ধ মন্দির, ফ্লোটিং মার্কেট ইত্যাদি দেখতে যাব। ব্যাংককের কাছাকাছি কাছাকাছি সেই সুবিখ্যাত ব্রিজ ওন দ্য রিভার কোয়াই আছে, ভাবলাম সেখানে গেলে কেমন হয়। কিন্তু লাউঞ্জের ম্যানেজারকে ডেকে নিয়ে প্ল্যান করতে গেলে উনি বললেন সেখান থেকে ফিরতে ফিরতে বিকেল হয়ে যাবে। তাছাড়া অন্তত একদিকে ট্রেনজার্নি, ছোটদুটো হয়ত অতো ধকল নিতে পারবে না। তখন ম্যানেজার ভদ্রমহিলা সিটির মধ্যেই কয়েকটা ঘুরতে যাবার যায়গার সাজেশান দিলেন, কয়েকটা ভালো রেস্টুরেন্টের নামও বলে দিলেন। তখন কথা উঠলো যে আমরা এই হোটেলে এসেছি তোমাদের বিখ্যাত বিফ স্টেকের জন্য, তো সেটা কোথায় পাবো? ম্যানেজারনি বললেন সেটা আমাদের রুফটপ রেস্তোরাঁতে পাওয়া যায়, সেটার নাম Scarlett। কিন্তু তার জন্য তো আগে থেকে টেবিল বুক করতে হয়! তখন তিনি গেলেন টেবিল খালি আছে কিনা জানতে, ফিরে এসে বললেন আগামী তিন চার দিন টেবিল খালি নেই। পাশ থেকে আমার শালাবাবু বলে উঠল, কিন্তু কাল তো আমাদের ম্যারেজ অ্যানিভার্সারি, আমরা তো ভেবেছিলাম কাল এখানেই সেলিব্রেট করবো! আমরা তো টুরিস্ট, আগে থেকে কিভাবে বুক করার কথা জানবো? তখন ম্যানেজারনি বললেন আচ্ছা এই ব্যাপার? দাঁড়াও দেখি, বলে আবার চলে গেলেন। অনেকক্ষন পর এসে বললেন বুক হয়ে গেছে। কিন্তু চপ্পল পরে ঢুকতে যেও না, আটকে দেবে। বেশ।

    পরদিন ভোরবেলা উঠে দেখতে গেলাম Wat Arun, নদীর অন্য পারে। হোটেলের কাছেই স্কাইরেল এর স্টেশান, সেখানে ট্রেনে চেপে এসে নামলাম Sathorn Pier এর কাছে। সেখানে একটা স্টিমারে চড়লাম, নামলাম রাজার প্রাসাদের কাছে, আরেকটা স্টিমারে চেপে নদী পেরিয়ে পৌঁছলাম ওয়াট অরুনে। সকালবেলা মন্দিরটা ভারি সুন্দর দেখতে লাগে। কিন্তু ওদের প্রধান গম্বুজে কাজ চলছিল বলে অনেকটা হাইট অবধি লোহার রড দিয়ে ঘিরে রেখেছিল। সেখানে ঘন্টা দুয়েক কাটিয়ে আবার স্টিমারে করে এপারে ফিরে এলাম, তারপর একটা ছোট্ট দোকানে চমত্কার রোস্ট ডাক আর থাই ফ্রায়েড রাইস খেয়ে হোটেলে ফিরে এলাম।
  • de | 24.139.119.174 | ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ১৫:১০371539
  • ডিসিকন্যার ছবিগুলো ভারী মিষ্টি, ছবিই দেখলাম এখন - পড়ছি ধীরে ধীরে -
  • dc | 120.227.247.142 | ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ১৬:১২371541
  • হোটেলে খানিকক্ষন গড়িয়ে নিয়ে খুব ভয়ে ভয়ে বিকেলবেলায় বেরোলাম শপিং করতে। আমাদের বেটার হাফেরা নাকি সেই কবে থেকে ব্যাংককে শপিং করার প্ল্যান করে রেখেছে, এমনকি কয়েকটা মলও গুগল ম্যাপে দেখে রেখেছে। হোটেল থেকে হাঁটা দূরত্বে Chong Nonsi স্টেশান, সেখানে স্কাই ট্রেনে উঠে নামলাম Siam স্টেশানে। ব্যাংককে এই স্কাইট্রেন সিস্টেমটা খুব ভালো প্ল্যান করে বানিয়েছে। অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ জায়গা কানেক্ট করেছে, বেশ কয়েকটা স্টেশানে মেট্রোর সাথে লিংক করা, আর এমনিতে খুব ওয়েল মেন্টেন্ড আর পরিষ্কার স্টেশানগুলো। সিয়াম হলো ব্যাংককের শপিং ডিসট্রিক্ট, চতুর্দিকে পেল্লায় সাইজের সব মল। সেসবে ঢুকে আর বেরিয়ে আর ভেতরে আর বাইরে হেঁটে হেঁটে পা ব্যথা করে ফেল্লাম। তবে ব্যাংকক আর কল্কাতার এক জায়্গায় ভীষন মিল, সেটা হলো স্ট্রিট ফুড। অনন্ত স্ট্রিট ফুডের স্টল, খাবারের শেষ নেই, আর সবাই মিলে অবিশ্রাম খেয়েও চলেছে। শপিং করছে আর খাচ্ছে, খাচ্ছে আর শপিং করছে। মুখ, হাত আর পায়ের কোন বিরাম নেই। তা আমরাও কয়েকটা খাবার চেখে দেখলাম, কিছু ভালো খেতে লাগলো, কিছু মন্দ। তবে স্টলগুলো কলকাতার দোকানগুলোর থেকে একটু বেশী পরিষ্কার মনে হলো।

    আটটা নাগাদ হোটেলে ফিরে এলাম, খানিক পরে রুমে ফোন এলো স্কার্লেটে বুক করা আছে, কখন যাব। দশটা নাগাদ লিফটে করে ওপরে উঠে এলাম, এটা ওদের রুফটপ রেস্তোরাঁ, ৩৭ তলায়। ডেস্কে নাম বলতেই একজন হ্যাপি অ্যানিভার্সারি বলে উঠলেন, আমার মেয়ে ছড়িয়ে লাট করে মামাকে জিগ্যেস করলো কার অ্যানিভার্সারি? তাও ভাগ্যিস বাংলায় জানতে চেয়েছিল! যাই হোক, টেবিলে নিয়ে গেল। এদের স্পেশালিটি হলো wagyu বিফ ড্রাই এজিং করে অন্তত এক দু মাস অবধি, ফলে নাকি ব্যাপক ভালো খেতে হয়। আমাদের সাজেস্ট করলো বিফ টার্টার খেতে, সেটা আবার টেবিলের পাশে এনে বানায়। সেসব খেলাম, সাথে চিজ ইত্যাদিও খাওয়া হলো। আমাদের টেবিলটা দিয়েছিল একটা ওপেন টু স্কাই মতো জায়্গায় যেখান থেকে পুরো ব্যাংককের স্কাইলাইন দেখতে পাওয়া যায়, কাজেই খাওয়ার পর বেশ খানিকক্ষন বসে বসে আড্ডা মারলাম।
  • dc | 120.227.247.142 | ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ১৬:৪৪371542
  • পরদিন দুটো জায়গায় যাবার ছিল, Ocean World আর Siam Niramit Show। প্রথমটা দুপুরে আর পরেরটা বিকেলে। দুটো জায়গাতেই অনলাইন টিকিট বুক করে রেখেছিলাম। ওশান ওয়ার্ল্ড হলো এশিয়ার সবচেয়ে বড়ো অ্যাকোরিয়াম। আগের দিনের মতোই স্কাইট্রেনে করে এসে সিয়ামে নামলাম, ঠিক উল্টোদিকে আরেকটা মলের গ্রাউন্ড ফ্লোরে এই ওশান ওয়ার্ল্ড। প্রায় ঘন্টা তিনেক ধরে ঘুরে ঘুরে দেখলাম, প্রচুর মাছ, টার্টল, পেঙ্গুইন, মেরিন ফ্লোরা ইত্যাদি দিয়ে সাজানো। তার মধ্যে কিছু কিছু অ্যাকোয়ারিয়াম দেওয়ালজোড়া, মাঝে একটা গ্লাস বটম বোটে করে বেড়ানোর জায়গা, বাচ্চাদের জন্যও নানান অ্যাট্রাকশান আছে।

    বিকেলবেলা গেলাম সিয়াম নিরামিট দেখতে। এটা আশি মিনিটের একটা পারফরম্যান্স শো, থাইল্যান্ডের ইতিহাস, কালচার, মিথলজি ইত্যাদি নানান কিছু দেখায়। ব্যাংককেও উবের চলে, তাই ফোনে দিব্যি উবের ট্যাক্সি বুক করে পৌঁছে গেলাম। দুরকম টিকিট হয়, একটা এমনি আশি মিনিটের, আরেকটা উইথ ডিনার। আমরা এমনিটা কেটেছিলাম, কাজেই সোজা অডিটোরিয়ামের দিকে চলে গেলাম। আটটা নাগাদ শো শুরু হলো। ফুকেটে যেটা দেখেছিলাম সেটার থেকে এদের স্টেজ ডিজাইন আর পারফর্ম্যান্স বেটার মনে হলো, আরেকটা যেটা ভল্লাগলো সেটা হলো বেশ কয়েকটা সিকোয়েন্স দর্শকদের মাঝখানে এসেও করলো। মানে শুধু স্টেজে না, পুরো হল জুড়ে শো হলো। ভালোই লাগলো। সাড়ে নটা নাগাদ শো শেষ হলো, বেরিয়ে দেখি কাছেই একটা মেট্রো স্টেশান, খোঁজ নিয়ে জানা গেলো সেটা দিয়ে স্কাইট্রেনেও কানেক্ট করা যাবে। ট্রেনে ট্রেনে হোটেলের কাছে চলে এলাম, রেস্টুরেন্টে খেয়ে হোটেলে ঢুকে পড়লাম।

    পরদিন বাড়ি ফেরার পালা। বিকেলবেলা ফ্লাইট, কিন্তু ব্যাগ ট্যাগ গুছিয়ে হোটেলের বিল মিটিয়ে আর বাইরে বেরনোর সুযোগ পেলাম না। সন্ধে সাড়ে সাতটায় ফ্লাইট, চেন্নাইতে পৌঁছ্লাম সাড়ে নটায়, এয়ারপোর্টের বাইরে বেরিয়েই সম্বর আর বড়ার চেনা গন্ধে মন ভালো হয়ে গেল। শালাবাবুরাও আমাদের সাথেই এলো, পরদিন দিন ওদের ব্যাঙ্গালোরের ফ্লাইট, পরদিন সকালবেলা এয়ারপোর্টে পৌঁছে দিয়ে এলাম।
  • শঙ্খ | 126.206.220.114 | ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ২৩:১৯371543
  • যাঃ শেষ হয়ে গেল! বেশ চলছিলো। ঃ(
  • করোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1
  • গুরুর মোবাইল অ্যাপ চান? খুব সহজ, অ্যাপ ডাউনলোড/ইনস্টল কিস্যু করার দরকার নেই । ফোনের ব্রাউজারে সাইট খুলুন, Add to Home Screen করুন, ইন্সট্রাকশন ফলো করুন, অ্যাপ-এর আইকন তৈরী হবে । খেয়াল রাখবেন, গুরুর মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করতে হলে গুরুতে লগইন করা বাঞ্ছনীয়।
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত