এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  অন্যান্য

  • মাতৃত্ব-জৈবিক না নির্মিত?পর্ব ১

    Sulagna Pal
    অন্যান্য | ১৬ নভেম্বর ২০১৭ | ১৬২১ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Sulagna Pal | ১৬ নভেম্বর ২০১৭ ১৫:৪৩370398
  • মাতৃত্ব-জৈবিক না নির্মিত?পর্ব ১:

    সেদিন ওয়াটসএপে একটি মেসেজ পেলাম,স্বামীকে লেখা এক গৃহবধূর আবেদনপত্র।অদ্ভূতভাবে মূল বক্তব্যটা সমস্যাজনক,কিন্তু কথাগুলো একদম সত্যি।সত্যি মানে আমাদের প্রতিটা মেয়ের নিত্যদিনের মুখোমুখি হওয়া সমস্যার।পিতৃতান্ত্রিক সমাজে গৃহশ্রম হলো অদৃশ্য শ্রম,স্বীকৃতিহীন।যে কারণে স্ত্রী বা মা চাকরি না করলে স্বামী বা সন্তানকে বলতে শোনা যায় "আমার স্ত্রী/মা সেরকম কিছু করে না তো!ওই বাড়ীতেই থাকে"।আর আমাদের মতন চাকুরীজীবীদের হাল আরও খারাপ।চাকরির বোঝার পাশাপাশি বাড়ীর শ্রম "taken for granted",সে স্বামীর কাছেই হোক বা সন্তানের কাছে।হ্যঁা গৃহশ্রমিক ভাড়া করা যায় বটে,কিন্তু দায়িত্বের ভাগী কিন্তু মহিলাই,খুব অল্প ক্ষেত্রে পুরুষটি।এর পাশাপাশি আছে পিতৃতান্ত্রিক প্রচার,বিয়ে করার পরের ধাপই মা হওয়া,এবং সঙ্গে সঙ্গে মা র নিজের স্বপ্নের পুরো দয়া গয়া।হ্যঁা এখানেও পিতৃতন্ত্রের জিত।কারণ সেই মা তখন বলতে শুরু করেন মা না হলে আবার নারী কিসের,বাচ্চা ছাড়া জীবন আবার জীবন নাকি,আমার এখন শুধুই গৃহকোণ...চাকুরীজীবী হলেও "ধূর ভালোলাগে না,কখন যে বাড়ী যাবো" "ইচ্ছে করে সারাদিন ওর সাথেই থাকি"...ইত্যাদি ইত্যাদি।নাহ,এর কোনটাতেই আমার ব্যক্তিগত সমস্যা নেই,আছে রাজনৈতিক সমস্যা।অদ্ভূত লাগছে তো শুনতে?হ্যঁা সমস্যা আছে কারণ এই মাতৃত্ব বিষয়টা যত না জৈবিক তার চাইতে বেশী বোধহয় নির্মিত।মানে ওই motherly instinct বিষয়টা।কিভাবে বোঝা যায় এই instinct?সত্যি কি এর কোন বায়োলজিক্যাল বেস আছে?হ্যঁা প্রথম ১ বছর বাচ্চা মায়ের দুধ খায়,তাই মা কে লাগে।কিন্তু সব বাচ্চা তো মায়ের দুধ পায় না,মিল্ক ব্যাংক থেকে দুধ আনা হয় বা কৌটোর দুধ খায় অনেক বাচ্চা।সেখানে তাহলে instinct র ভূমিকা কি?আমার অন্তত জানা নেই।আসলে বিষয়টা হওয়া উচিৎ human instinct।কিন্তু সেটা বললে তো সমস্যা,তাহলে তো দায় বর্তায় বাবার ওপরেও।আবার যদি ধরেও নি যে মা গর্ভেধারণ করছে,প্রসব করছে এবং তার রক্তমাংসে গড়া বাচ্চা,তো বাবাও বাদ থাকে কেন?বাবার ক্রোমোজমও তো বহন করছে শিশুটি,তাই না? দেন ওয়াই নট fatherly instinct?কারণ motherly instict র দোহাই দিয়ে শেকল পড়ানো যায় নারীর পায়ে।মা মা করে মাথায় তোলা যাতে সেই মেয়ে,যে হয়তো ভালো গান করতো,বা ছবি আঁকতো বা ভালো এথলিট ছিল অথবা লেখিকা,তার একমাত্র জগৎ বলে ভাবতে থাকে বাচ্চার ন্যাপি,সেরেল্যাক এবং বাচ্চা বড়ো হলে তার পড়াশুনো,তার শখ আহ্লাদ কে।কিন্তু ক্রমোজোমের অন্যতম দাতা পিতা পুরুষটি কি কি খেসারত দেয় এক শিশুর গলায় বাবা ডাক শুনবে বলে?তার খেলার শখ,বন্ধুদের আড্ডা,পাহাড়ে চড়া,মদ খাওয়া,ছবি আঁকা,বন্ধুদের আড্ডা,তাস খেলা কিছুই হাঁড়িকাঠে চড়ে কি?আর এই সুযোগে বুর্জূয়া নারীবাদ পাতে তার ফাঁদ।প্রচার করে যে মা হলে সব গেল,তাই মা হয়ো না।মুক্ত থাকতে পারবে।(যদিও তার বুর্জুয়া সমাজ 'ভাড়া করা মা'/সারোগেসির প্রভিশান রেখেছে)।কিন্তু মা হয়েও কি মুক্ত থাকা যায় না?অবশ্যই যায়।ছিল তো সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েতের মায়েরা।কারণ সেখানে শিশু ছিল রাষ্ট্রের দায়িত্ব এবং সম্পদ,পরিবারের ব্যক্তিগত দায়িত্ব এবং সম্পত্তির পাহারাদার নয়।তাই শিশুর সান্নিধ্য পেয়েও নারীরা মুক্ত থাকতে পারতেন।সামাজিক স্তরে ছিল ক্রেশের ব্যবস্থা।সোভিয়েত কিন্তু করে দেখিয়েছিল যে মা হয়েও নারীকে শেকল পড়তে হয় না।কিন্তু পিতৃতন্ত্রের তো মুক্ত নারীর প্রয়োজনই নেই।আছে শপিং মলের,বিউটি পার্লারের খরিদ্দার নারীর।তাই সে প্রচার করে মাতৃত্ব জৈবিক,নাড়ীর টান,মা হলো মা,তার বিকল্প নেই,পৃথিবীর সব কিছুর থেকে মায়ের কাছে দামী তার সন্তান ইত্যাদি ইত্যাদি।হ্যঁা জৈবিকতা তো আছেই।সে তো পশুদেরও আছে।ওটা তো আসলে animal instinct.জন্তুজানোয়াররা একটা সময় অবধি কাউকে ঘেঁষতে দেয় না বাচ্চার কাছে,বাচ্চা যতক্ষণ দুধ খায় ততক্ষণ বাচ্চাকে ছেড়ে কোথাও যায় না।এইটা হলো মাতৃত্বের জৈবিক দিক।বাকিটা কিন্তু নির্মিতই,যার শিকড় লুকিয়ে আছে সন্তানকে সম্পত্তি ভাবার মধ্যে।আবার এই বুর্জুয়া নারীবাদ প্রচার করে তার মতন করে "motherhood is a choice"র,(যদিও এই পিতৃতান্ত্রিকতায় সেটা খানিক একটা পাল্টা assertion ও বটে); অদ্ভূতভাবে role-conflict তৈরি করে মায়ের পরিচয় এবং অন্য পরিচয়টির মধ্যে।আর তাই আমরা দেখি এই অদ্ভূত প্রচার "ম্যায় এক মা ভি হুঁ অর এক ডক্টর ভি",মানে মা কে বলে দিতে হচ্ছে ডাক্তারি কোয়ালিফেশনের পাশাপাশি মাতৃত্বও তার 'কোয়ালিফিকেশান'।একটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে একজন মানুষের যোগ্যতা বানানো।কি অদ্ভূত তাই না?আচ্ছা কোন পুরুষ কখনো বলে যে "ম্যায় এক পিতা ভি হুঁ অউর এক ডক্টর ভি?"

    শেষত বলার,যেখান থেকে শুরু করেছিলাম,লেখাটার সমস্যা।সমস্যাটা হলো নারীর নিজেকে অসহায় ভাবা।সে ছুটির আবেদন করছে স্বামী নামক "এমপ্ল্যায়ার" এর কাছে।সে রাষ্ট্রের কাছে,সমাজের কাছে দাবী জানানোর কথা ভাবতেই পারছে না যে তার ছুটি চাই,সাময়িক হলেও মুক্তি চাই পরিবার নামক খঁাচাটি থেকে!!

    বি:দ্র:- শুধু রিয়াক্স্যান নয়,মতামত দিন।
  • দেব | ১৬ নভেম্বর ২০১৭ ১৯:২৭370409
  • স্ত্রী যে শ্রম বাড়িতে দেন, তার বিনিময়ে মাসে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা তার ব্যাঙ্কে স্বামী ফেলে দিন। ওটা স্ত্রীয়ের টাকা ধরে নিন। তার থেকে স্ত্রী খরচা করলে কোন প্রশ্ন করবেন না। কি পরিমাণ দেবেন সেটা স্বামীর নিজের আয়ের অনুপাতে।

    ফর্ম্যাল লেবার এগ্রিমেন্ট করার দরকার নেই। সইসাবুদ লাগবেনা। এমনকি মুখে বলারও দরকার নেই। বিনা বাক্যব্যয়ে করুন সিন ক্রিয়েট না করে।

    'সোভিয়েত' - আপনি যেরকম লিখলেন ঠিক সেরকম না হলেও কমিউনিষ্টিরা সমাজে মেয়েদের অবস্থানে অনেক উন্নতি ঘটিয়েছিল অনস্বীকার্য। কিন্তু সে গেছে। যা গেছে তা আর ফিরে আসবে না।

    "কিন্তু ক্রমোজোমের অন্যতম দাতা পিতা পুরুষটি কি কি খেসারত দেয় এক শিশুর গলায় বাবা ডাক শুনবে বলে?তার খেলার শখ,বন্ধুদের আড্ডা,পাহাড়ে চড়া,মদ খাওয়া,ছবি আঁকা,বন্ধুদের আড্ডা,তাস খেলা কিছুই হাঁড়িকাঠে চড়ে কি?"

    ধ্যাত সেই এক। এই টিভি সিরিয়ালের ক্যারেকটার বাস্তবে হয়? ছোটবেলা থেকে আশপাশে যা দেখেছি বাবারা অফিস সামলিয়েও ছেলেমেয়ের পড়াশোনাটা দেখেন। মাও যদি চাকরি করেন তখন কি হবে এইটার উত্তর অবশ্য জানিনা। মানে দুইজনেই চাকরি করলে বাচ্চা কে দেখবে এটার উত্তর জানা নেই আমার। তবে এই মুহূর্তে চোটটা মেয়েরাই খায়।

    অফ টপিক - দাঁড়ি, প্রশ্নচিহ্ন, এগুলোর পড়ে একটা করে শূন্যস্থান দিন। নইলে পড়তে অসুবিধা হয়।
  • Swati Ray | ১৬ নভেম্বর ২০১৭ ২৩:৩৩370419
  • পথটা মেয়েদেরই খুঁজে বার করতে হবে। তাতে লোকে যদি খারাপ মেয়ে বলে, বলুক না - কি ই বা এসে যায়। সব জায়গায় ভাল মেয়ে হয়ে লাভ কি? ওই ছুটির জন্যে আপ্লাই করে কে কবে স্যাংসন করবে তার ভরসায় না থেকে নিজেই ছুটি টা নিয়ে নিতে হবে। তাতে যা হয় হবে। তখনই ধীরে ধীরে ব্যাপারটা সরগর হবে।
  • একক | ১৭ নভেম্বর ২০১৭ ০২:৫২370420
  • বিয়ের কন্ট্রাক্ট এ "পারপাস" কলাম থাকুক। ভবিষ্যতে ক্যাচ্চাব্যাচ্চার ঝেল নেওয়ার ইচ্ছে থাকলে আগে থেকেই "প্রক্রিয়েটিভ কোহ্যাবিটেশন কন্ট্র্যাকট" এ সই করুন উভয়পক্ষ। এটা বিয়ের পর করলে রেজিস্ট্রেশন ফী দশগুণ রাখা হোক। অনাদায়ে বাচ্চাসংক্রান্ত সাবসিডি হ্রাস। মোদ্দা কথা রিক্রিয়েটিভ কোহ্যাবিটেশন কন্ট্র্যাকট এর নেচার দুমদাম পাল্টে ফেলার মধ্যে যে সামাজিক প্রেসার আছে তাকে চেকস এন্ড ব্যালান্স এর মধ্যে আনা দরকার। বাস জমি আর চাষ জমির রেজিস্ট্রেশন আলাদা হবে এটাই তো স্বাভাবিক না কী ??

    আর, এটা একদম ঠিক যে মেয়েরা তাঁদের মাদারলি ইন্সটিনকট এর শিকার হচ্ছেন। অতএব তাঁরা এই ইন্সটিনকট দমন করুন। দরকারে কাউন্সেলিং করান। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই "মা হওয়া" একটি সামাজিক নির্মান ও হরমোনের যৌথ খেলা ছাড়া কিছুই না। কাজেই সঙ্গী পুরুষের/ নারীর দায়িত্ব এই অপনির্মান নিয়ে মেয়েটিকে বেড়িয়ে আসতে সাহায্য করা।

    আর ...........এইযে পুরুষের নাচ গান মদ্যপান সম্বলিত কবিকবি জলছবিটি উপরিউক্ত সন্দর্ভে আঁকা হয়েচে, এটিকে একশ শতাংশ সত্যি ধরে নিয়েই বলচি....অন্যের আনন্দ কেড়ে নেবেন্না, বরং নিজেই আসুন আনন্দসাগরে ডুব দিন :) ক্যাচ্চাব্যাচ্চার ঝামেলা কাটান। ডারউইন সাহেব আপনাকে স্বপ্নে এসে দায়িত্ব দেননি মানবসমাজকে রক্ষা করার, অতএব সঙ্গীকে ঈর্ষা না করে মিনিবাসের পাছুর মহান উক্তি মেনে আপনিও ফুর্তিতে থাকুন :)
  • একক | ১৭ নভেম্বর ২০১৭ ০৩:০৬370421
  • উপরিউক্ত বক্তব্যের কারণ আরেকটু বিস্তার করি। বেশ কিছুকাল ধরেই দেকচি : সংসারের কাজ ছেলেদের করা উচিত, ক্যাচ্চাব্যাচ্চার দায়িত্ব ছেলেরা নেবেন না কেন ইত্যকার প্রশ্ন উটচে। তো মনে হয় এই নন কোপের্নিকান রাস্তায় হাঁটার চে বিবাহের সিস্টেমটাকেই আঘাত করা বেশি কাজের। নারী পুরুষ উভয়েই ওই সিস্টেমের প্যাসিভ রিসিভিং এন্ডে থেকে যাওয়া কোনো কাজের কথা না। একটা ভুলভাল সিস্টেমকে তাপ্পি দিয়ে রিফু করে কী লাভ, তাতে তো ক্ষমতাকেন্দ্র ই আরও শক্তিশালী হবে। জাস্ট ভেঙে ফেলুন।
  • Atoz | ১৭ নভেম্বর ২০১৭ ০৩:১১370422
  • হ্যাঁ, হ্যাঁ, নতুন সিস্টেম আনুন। লেনিনের ফার্ম ব্যাপারটা আবার চালু করার চেষ্টা করুন। সেখানে প্রফেশনালরা বাচ্চা মানুষ করবেন। কাজের কোয়ালিটি বাড়লে দামও বাড়বে, ক্রমে ওটাও একটা মহার্ঘ্য প্রফেশন হয়ে উঠবে আইটি টাইটির মতন।
  • Du | ১৭ নভেম্বর ২০১৭ ০৩:৩১370423
  • আর বুড়োদের ব্যাপারটা? নিজে হতে চলেছি বলে এখন চিন্তা এসেছে মাথায় ঃ)
  • Atoz | ১৭ নভেম্বর ২০১৭ ০৩:৪৩370424
  • বুড়ো ফার্ম ও চালু করার চেষ্টা করা উচিত।
  • Du | ১৭ নভেম্বর ২০১৭ ০৪:০৪370425
  • কথা হচ্ছে সকলের না হলেও অনেকেরই শিশুকে দেখাশোনা করতে ভালো লাগে। অনেকেরই তেমন কোন সাবজেক্টের প্রতি ভালোবাসা নেই এমনি~ই টাইমপাস পড়ে যায় বা শিশুপালন্টাকে বেশি পছন্দ করে। কাজেই সামাজিক নির্মান হলেও উঠে যাবে না অদুর ভবিষ্যতে। সুতরাং এককের সাজেশন এক্ষেত্রে খুবই অ্যাপ্ট। ধরা ঢাকার থেকে জুতো পরাই সহজ। নিজের জীবন নিজের ইচ্ছেয় কাটান। চার্চেরা দেখি বিয়ের আগে কাউন্সেলিং করে। সেইরকম কিছু করে বুঝে নিন কতটা পোষাবে ব্যাপারটা।
  • pi | ১৭ নভেম্বর ২০১৭ ০৮:৩২370399
  • স্বাতীদি, শুচিস্মিতা, শক্তিমাসিমার লেখাগুলোর লিন্ক ও কেউ দিক এখানে একটু।
  • pi | ১৭ নভেম্বর ২০১৭ ০৯:২৫370400
  • দেব, দুজনেই চাকুরিরত হলে, চাকুরিরতা মায়েদের দুটো লেখা তুললাম, দেখবেন।
  • de | ১৭ নভেম্বর ২০১৭ ১১:০৫370401
  • আহারে - এককের সঙ্গে যদি আমার আগে দেখা হোতো! ঃ))) মানে এসব চাপ ঘাড়ে চাপার আগে এমন বাণী যদি কেউ দিতো! আজকালকার ছেলেমেয়েরা এতো র‌্যাশনাল - আমার দেখে বড় ভালো লাগে -

    মাতৃত্ব অনেকখানিই ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া সামাজিক নির্মাণ - মেয়েরা নিজেরা এই নির্মাণের কবল থেকে বেরোতে চেষ্টা না করলে এর থেকে পরিত্রাণ নেই। এটা সারা পৃথিবী জুড়ে মেয়েদের জন্য সত্যি। মা হয়ে গেলে নিজের সমস্ত ভালোলাগা, প্যাশন, কাজ সরিয়ে রাখতে হবে - এটা মেয়েদের আগে বন্ধ করতে হবে। মানে সংসার-সন্তানকে ফুলটাইম জব মনে করে এগোলে তারপরে ছেলেরা কেন বাচ্চা দেখেনা এই ঘ্যানঘ্যান করে লাভ নেই!
  • de | ১৭ নভেম্বর ২০১৭ ১১:০৭370402
  • প্রফেশনালি সাকসেসফুল হওয়ার চাপটা মেয়েদেরও তো নিতে হবে! তার জন্য সংসার না হলে, হবে না - তাতে আপসোসের কিছু নেই!
  • ichchuk | ১৭ নভেম্বর ২০১৭ ১৯:২০370403
  • এককবাবু জীবনদর্শন বিষয়ক কোনো কোর্স পড়ানোর ব্যবস্থা করলে (অনলাইন হলেও চলবে) একটু জানাবেন প্লিজ। সম্মানদক্ষিনা দিয়েও নাম লেখাতে ইচ্ছুক (মজা করছি না)।
  • aranya | ১৭ নভেম্বর ২০১৭ ২৩:৪৯370404
  • মেয়েদের ওপর প্রচুর চাপ আসে এটা ঠিক।

    তবে 'পুরুষটি কি কি খেসারত দেয় এক শিশুর গলায় বাবা ডাক শুনবে বলে? তার খেলার শখ,বন্ধুদের আড্ডা,পাহাড়ে চড়া,মদ খাওয়া,ছবি আঁকা,বন্ধুদের আড্ডা,তাস খেলা কিছুই হাঁড়িকাঠে চড়ে কি' - এর উত্তরে নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি আমি অনেক কিছুই ছেড়েছি, যেগুলো ননট্রিভিয়াল স্যাক্রিফাইস, জাস্ট আড্ডা,তাস খেলা কাটানোর মত নয়, তার জন্য দুঃখও আছে, বাট ইট ওয়াজ ওয়ার্থ ইট।

    বাচ্চার সাথে সময় কাটানোটা, বিশেষতঃ যখন তার বয়স কম, এতই আনন্দজনক ব্যাপার ছিল, যে কোন কিছুর বিনিময়েই তা হারাতে চাইতাম না।

    অবশ্যই সব বাবার অভিজ্ঞতা একরকম হবে না।
  • Sulagna | ১৮ নভেম্বর ২০১৭ ১২:৪৭370405
  • সব কমেন্টগুলোই পড়লাম।প্রথমত বলি "বাবা" ব্যাপারটাই গোলমেলে। মানে, কে বাবা? মা কে বাবা বলে চেনাবে সেই বাবা। আর আজকাল হয়েছে ডি এন এ টেস্ট। আমি বাবা প্রসঙ্গটি এনেছি শুধুমাত্র বাজারে এখন "বাবা" র ভালো মার্কেট। ফাদার্স ডে থেকে রেমন্ডসের এড। না হলে মাতৃত্ত্বের বিনির্মাণের জন্য বাবার ভূমিকার সক্রিয়তার কোন ভূমিকা আছে বলে অন্তত আমি মনেই করি না। ব্যাপারটা পুরোটাই মা দের জন্যই লেখা, যে এবারে এই "মাতৃত্ত্ব"ই নারীর শ্রেষ্ট "কোয়ালিফিকেশন" এই পিতৃতান্ত্রিক ধারণটিকে ধাক্কা মারতে। এই বিনির্মাণের লড়াইকে মেয়েদেরকেই লড়তে হবে, প্রথমত নিজের পিতৃতান্ত্রিক মনোভাবে সাথে, পরে সামাজিক স্তরে।লেখাটির মূল উদ্দেশ্যই এটা।আর সোভিয়েতের প্রসঙ্গটা আনা এটা বোঝাতে যে শিশুকে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ত্ব হিসেবে দেখাটা সম্ভব। বর্তমানে নেই,সেটা আমরা সবাই জানি। কিন্তু ইট ইস পসিবল। আর গৃহশ্রম যতদিন গৃহেই আবদ্ধ থাকবে, পরিবারের অধীনে ততদিন নারীর মুক্তি নেই, সে তার স্বামী তাকে পারিশ্রমিক দিলেও। আসলে স্বামী মানেই তো নারীরের শরীরের মনের ব্যক্তিগত মালিক। পিতৃতান্ত্রিক সমাজ আর তার বিয়ে-পরিবারের দুষ্টচক্র যতদিন থাকবে ততদিন নারীর মুক্তির জন্য নারীকে প্রতিমূহুর্তে লড়াই করতে হবে।আবার সমাজতান্ত্রিক সমাজেও যে করতে হবে না তার গ্যারান্টিও দিতে পারছি না। :-) :-)
  • sulagna | ১৮ নভেম্বর ২০১৭ ১২:৪৮370406
  • *মা যাকে বাবা বলে চেনাবে সেই বাবা....
  • pi | ১৮ নভেম্বর ২০১৭ ১৪:৩৯370407
  • 'আর গৃহশ্রম যতদিন গৃহেই আবদ্ধ থাকবে, পরিবারের অধীনে ততদিন নারীর মুক্তি নেই, সে তার স্বামী তাকে পারিশ্রমিক দিলেও।'

    বাকি অনেক পয়েন্ট আর অন্যদেরও অনেক পয়েন্টের সাথে।
  • aranya | ১৯ নভেম্বর ২০১৭ ০৮:২৭370408
  • 'আর সোভিয়েতের প্রসঙ্গটা আনা এটা বোঝাতে যে শিশুকে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ত্ব হিসেবে দেখাটা সম্ভব'

    - সোভিয়েত রাশিয়ার এই শিশুদের নিয়ে কোন স্টাডি আছে ?

    তারা নিজেরা কি বলছে জানতে ইচ্ছা হয়, মা বাবা সংক্রান্ত কোন অভাববোধ ছিল কিনা, অথবা তারা যেহেতু ছোটবেলা থেকে অন্য সিস্টেমে বড় হয়েছে, মা বাবা-র সাথে মাঝে মাঝে দেখা হবে, এটাই হয়ত তাদের কাছে স্বাভাবিক ছিল।
  • aranya | ১৯ নভেম্বর ২০১৭ ০৮:৪৫370410
  • দেব লিখেছিলেন - 'স্ত্রী যে শ্রম বাড়িতে দেন, তার বিনিময়ে মাসে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা তার ব্যাঙ্কে স্বামী ফেলে দিন'

    স্বামী-স্ত্রীর টাকাপয়সা সব জয়েন্ট অ্যাকাউন্টে থাকলে হয় না? সব টাকাই দুজনের - এরকম একটা আন্ডারস্ট্যান্ডিং
  • pi | ১৯ নভেম্বর ২০১৭ ১১:৩৩370411
  • এখানেও, মিশনে বা দুন, পান্চগনির মত রেসিডেণ্ট স্কুলগুলোর বাচ্চাদের নিয়ে কোন স্টাডি আছে ?
  • Hmm | ১৯ নভেম্বর ২০১৭ ১২:৫০370412
  • দুন স্কুলে ক্লাস সেভেন থেকে শুরু, এরা ততটা বাচ্চা নয়।

    যাকগে আপনারা এসব আলোচনায় ব্যস্ত থাকুন আর ওদিকে মা ও মাতৃত্বের জয়গান গেয়ে আরও একজন ভারতীয় বিশ্বসুন্দরীর খেতাব জিতল, উল্লেখ্য যে মেয়েটির মা একজন প্রফেশনালি সফল চিকিৎসক :)
  • pi | ১৯ নভেম্বর ২০১৭ ১৩:১০370413
  • আপনার কী বক্তব্য ?
  • de | ১৯ নভেম্বর ২০১৭ ১৪:২২370414
  • এটা খারাপ লাগবে হয়তো শুনতে -

    বাচ্চা হবার পর বোর্ডিংয়ে রেখেই যদি মানুষ করা হয় - তাহলে বাবা-মা হবারই বা কি দরকার? শুধু ভবিষ্যতের ইনভেস্টমেন্ট? বাচ্চার সঙ্গে সময় কাটাতে যাদের ভালো লাগবে এবং বাচ্চা মানুষ করার বিভিন্ন খুঁটিনাটি স্টেপ গুলোর সাথে থাকতে ভালো লাগবে তাঁরাই বাবা-মা হোন। সপ্তাহে ৫ দিনে ৮-৯ ঘন্টা বাচ্চা ক্রেশে থাকলেই যেখানে চলে, সেখানে ফুলটাইম বোর্ডিং স্কুল কেন? আর আমার বাচ্চাকে আমার মতো করেই বড়ো করতে চাই। সেখানে রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ চাই না। রাষ্ট্রই যদি মানুষ করবে, তবে বাপ-মায়ের কি দরকার?
  • de | ১৯ নভেম্বর ২০১৭ ১৪:২৯370415
  • ইন-ফ্যাক্ট এই ৮-৯ ঘন্টাকে ৬ ঘন্টায় নামানো সম্ভব যদি বাবা-মা ভিন্ন শিফটে কাজে যান। বর্তমানে যে দায়িত্বের বেশীর-ভাগটাই মেয়েরা পালন করেছেন/করছেন, সেটা সমান ভাবে শেয়ারড হলেই কিন্তু এতো কথার কোন প্রয়োজনই পড়ে না। মাতৃত্বের মতো পিতৃত্বও একই রকম গুরুত্বপূর্ণ এবং একইরকম দরকারী বাচ্চার জন্য।
  • Hmm | ১৯ নভেম্বর ২০১৭ ১৯:০২370416
  • আম্মর কাছে এগুলো ভাটের আলোচনা ঃ)

    আমার প্রতিবেশী এক যুগলের সদ্য বাচ্চা হয়েছে। মা এখনও অফিস জয়েন করে নি, ফেব থেকে করবে। বাবার অফিস বাড়ীর কাছে, মায়ের গুরুগ্রাম। ওরা ঠিক করেছে মা অফিস যাওয়া শুরু করলে বাবার অফিসের ক্রেশে বাচ্চা থাকবে। এই সিদ্ধান্ত খুব স্বাভাবিক ভাবেই ওরা নিয়েছে, কাউকে কোন আন্দোলন করতে হয়নি।
    আসলে কিছু মানুষ ফাঁকতালে ক্রেডিট পেতে চায় আর তাদের যোগ্য সঙ্গত করে কোনদিন ড্রাইভিং সিটে না বসে গাড়ী চালানোর ব্যাপারে শেষ কথা বলার মানসিকতার লোকজনেরা..... শুধু বাচ্চাকে বড় করানা, জীবনের সব ক্ষেত্রেই এদেরকে দেখা যায়।
  • pi | ১৯ নভেম্বর ২০১৭ ২০:০৬370417
  • এখানে কে ক্রেডিট পেতে চেয়েছে ? একটু স্পষ্ট করে লিখুননা।
  • de | ১৯ নভেম্বর ২০১৭ ২০:০৮370418
  • কোন অবস্থাতেই এটা "ভাটের আলোচনা" নয়। আলোচনায় ভিন্নমত, ভিন্ন ভাবধারা না থাকলে আলোচনা কিসের? গাড়ী চালানোর ব্যাপারে শুধু চালকই মতামত দেন না, পথচারী, ট্রাফিক গার্ড এমনকি পেট্রোল পাম্প বা সার্ভিস স্টেশনের মতও গুরুত্বপূর্ণ। তবেই গাড়ি ঠিকঠাক চলবে। বাচ্চাকে মানুষ করা - ঠিকঠাক ভাবে বড়ো করার চেষ্টা ভবিষ্যতের সুনাগরিক বানানোর প্রচেষ্টার অঙ্গ। এ আলোচনা তাই চলতেই থাকা উচিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। না ঘাবড়ে মতামত দিন