এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  অন্যান্য

  • বাঙালী পরিচিতিকে সামনে এনে বাঙালীর হিন্দু মুসলমান পরিচিতি মুছে দিতে হবে

    bip
    অন্যান্য | ০৬ জুলাই ২০১৭ | ১৩৩৬ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • বিপ | ০৬ জুলাই ২০১৭ ০৭:৫৩368135
  • (২) ধর্ম একটি ব্যক্তিগত যাত্রা- রিলিজিওন ইজ আ পারসোনাল জার্নিঃ

    ধন্যবাদ আনিস খানকে। কালকেই লিখেছিলাম বাংলায় সাম্প্রদায়িকতার বিষবাস্পে জল ঢালতে বাঙালী পরিচয় বা বাঙালী আইডেন্টিটি সামনে আনা জরুরী। এটা দেখে ভাল লাগল, তার মতন একজন শিল্পদ্যোগী, বাঙালী আইডেন্টিটি সামনে আনার দ্বায়িত্ব নিজের পরিসরে পালন করছেন। ঘরে বাইরের নিখিলেশের কথা মনে এল।

    হিন্দু বা মুসলমান কোন পরিচয় হতে পারে না। প্রাচীন ভারত, গ্রীস, রোম-কোথাও ধর্মীয় পরিচিতি বলে কিছু ছিল না। মানুষের ধর্মাচরন ছিল, আধ্যাত্মিক জিজ্ঞাসা ছিল। সবটাই ব্যক্তিগত।

    মুসলমানরা যখন ভারতে প্রথম আসে-তারা ভারতীয়দের জিজ্ঞাসা করত তোমাদের ধর্ম কি? আসলেই ত কোন ধর্ম ছিল না ভারতে-প্রত্যেকের নিজস্ব উপাসনা, নিজের মতন করে সত্যকে খোঁজা। এটাই ভারতীয় দর্শনের শাস্বত বানী। উত্তর না পেয়ে, মুসলমানরা বললো-ওকে-তাহলে এটা হচ্ছে হিন্দু ধর্ম। কারন পার্শী শব্দে হিন্দু মানে সিন্দুনদের ওপারে যারা থাকে। হিন্দু শব্দটা কোন হিন্দু গ্রন্থে নেই-কারন ওই শব্দটা মুসলমানদের দান। মুসলমানদের দেওয়া সেই হিন্দু আইডেন্টিটি নিয়ে-আজ তাদের সাথেই লড়াই!

    রোম সম্রাট কনস্টানটাইন প্রথম খ্রীষ্টান ধর্মের জনপ্রিয়তা এবং পরিচিতিকে কাজে লাগান উত্তরের উপজাতিগুলোকে রোমান সাম্রাজ্যের বশবর্তী করতে। খ্রীষ্ঠান সাম্রাজ্যবাদের সেই মডেলটাই আরো উন্নতাকারে নিয়ে আসে সপ্তম শতাব্দির আরবের বাসিন্দারা। খৃষ্টান এবং মুসলমান -এই দুই পরিচিতির যুদ্ধ আরো তীব্র হয় তিনটে ক্রশেডের মধ্যে দিয়ে। যেহেতু গত এক হাজার বছর এই দুটো ধর্মই গোটা পৃথিবী দখল করতে চেয়েছে -রাজনীতি, রাষ্ট্রনীতিতে ধর্মীয় পরিচয় আস্তে আস্তে অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ন হয়েছে। ইউরোপে রেনেসাস এবং শিল্প বিপ্লবের ফলে রাষ্ট্র থেকে ধর্মকে হঠানো গেছে ঠিকই-কিন্ত ৫৬ টা মুসলমান দেশ এবং ভারতে ধর্ম আষ্টেপৃষ্টে বেঁধেছে রাজনীতিকে।

    বাঙালী একটা লোকের পরিচিতি বা আইডেন্টি হতে পারে-কিন্তু হিন্দু বা মুসলমান কি করে একটা লোকের পরিচিতি হয় -তা আমার বোধগম্য না। সেটা রাজনৈতিক চক্রান্ত ছাড়া কিছু না। আমরা বাংলা ভাষায় কথা বলি, বাংলা খাবার খাই-তাই আমরা বাঙালী। আমি মন্দিরে যাই-তাই হিন্দু-বা মসজিদে যাই, ইসলামিক অনুশাসন মেনে চলি, তাই মুসলিম-এগুলো অবোধের নির্বোধ বুদ্ধি। বা জোর করে ব্রেইন ওয়াশ করে শিশু বয়স থেকে শেখানো হয় ধর্ম গ্রন্থের মাধ্যমে, রাষ্ট্রের সহযোগিতায়। হ্যা-এই ব্রেইন ওয়াশ বন্ধ না হলে, এই যে কোটি কোটি ধর্মান্ধ তৈরী হচ্ছে, তাদের সামাল দিতে পারবে না কোন পুলিশ, কোন মিলিটারি।
    কেন হিন্দু, মুসলমান পরিচিতিটা ফেক? ইল্যুউশন?

    কারন আমি যে বাঙালী পোস্ত খাই, ইলিশ খাই-সেটা সত্য। খাবারের অস্তিত্ব আছে। হিন্দু-মুসলমানরা যেসব জিনিস মানে ধর্মের নামে-তার সবটাই রূপকথা। অতীতের রাজনীতির কারনে সাজানো রূপকথা। এইসব গল্পে বিশ্বাস করে পরিচিতি? এর মানে স্পাইডারম্যানের গল্পে বিশ্বাস করে স্পাইডারম্যান ফ্যান ক্লাবের সদস্য হয়ে ঘোষনা করা- ওটাই আমার পরিচয়! এইসব গাঁজাখুরি গল্প যদি মানুষের পরিচিতির ভিত্তি হয়, একবিংশ শতাব্দিতে, তাহলে গোড়ায় গলদ। সরি, কোন মিলিটারি, কোন বিজেপি আপনাদের বাঁচাতে পারবে না। আরেকবার দেশভাগের মতন দাঙ্গা বাঁধবে। কারন যে পরিচিতির ভিত্তিটাই মানুষের মাথায় টুপি পড়িয়ে, ছোটবেলা থেকে ব্রেইন ওয়াশ করিয়ে তৈরী হয়েছে-তার মিথ্যাচার, মিথটাকে টিকিয়ে রাখতে দাঙ্গা বাধাবেই। আজ না হলে কাল। কাঠকয়লার আগুন-ধিকি ধিকি করে জ্বলে। খড় পরলেই ঘরবাড়ি ব্যাবসা জ্বালিয়ে সাফ করে দেবে।

    ধর্ম বিশ্বাস, আধ্যাত্মিকতা বা নিজের সন্ধান সবার মধ্যেই ওই সুরসুড়ি আছে। নাস্তিকের ও আছে। আমার ও আছে। আমার বিশ্বাস সততায়, বুদ্ধিতে পরিশ্রমে। ওইটুকুতে বিশ্বাস করেই, বাকী জীবনটা কাটানো সম্ভব। উপনিষদ পড়তে আমার ভাল লাগে-কিন্ত তার জন্যে নিজেকে হিন্দু বলে পরিচিতি দেব কেন? কারন ইমানুয়েল কান্টের ক্রিটিক অব পিউর রিজন, আমার একই রকম ভাল লাগে। এটাত নিজের জানার জন্য ব্যক্তিগত যাত্রা। প্রতিটা মানুষের ধর্ম, সে হিন্দুই হৌক বা মুসলমান হোক, তার ব্যক্তিগত যাত্রা- পারসোনাল জার্নি। সেই জন্যেই ১৬০০ কোটি মুসলমানের ১৬০০ কোটি ইসলাম। কোন দুজন মুসলমান পাবেন না-যার ইসলাম হুবহু এক। কোন দুজন হিন্দু পাবেন না-যাদের হিন্দু ধর্ম হুবহু এক। কারন ধর্ম একটা ব্যক্তিগত জার্নি-তা কখনোই পরিচিতি বা আইডেন্টিটি হতে পারে না।

    কিন্তু দুজন বাঙালী পাবেন -আনিশ খান এবং আশীষ রায়-যারা সর্ষে ইলিশ খেয়ে ঢেঁকুর তুলবে। গাইবে- আমি বাংলায় গান গাই। কারন ইলিশ এবং গান-দুটোই বাস্তব।
  • বিপ | ০৬ জুলাই ২০১৭ ০৭:৫৩368124
  • প্রেক্ষাপট ঃ বাদুরিয়ার দাঙ্গা

    (১) বাঙালীর ধর্ম বনাম হিন্দু-মুসলমান
    ********************************
    সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করুন-ইত্যাদি উপাদেয় উপদেশ ভাল-কিন্ত কথাটির মধ্যেই র‍য়ে গেছে-স্ববিরোধিতার বীজ। পৃথক ধর্মীয় সম্প্রদায় থাকতে পারে-এটারই যদি বৈধতা থাকে, সাম্প্রদায়িক বৈরিতাও বৈধতা পায়। কারন প্রথম প্রশ্নই উঠবে, বাঙালীদের মধ্যে হিন্দু-মুসলমান দুটো আলাদা সম্প্রদায় কেন? এদের খাওয়া দাওয়া ভাষা কবি নগর শহর-সব এক। তাহলে বাঙালীদের হিন্দু মুসলমানে ভাগ করাটা বৈধ হয় কি যুক্তিতে?

    যুক্তি খুব সরল। অধিকাংশ বাঙালী, তার বাঙালী পরিচিতির চেয়েও, তার নিজেদের ধর্মীয় পরিচিতিতে বেশী গুরুত্ব দেয়। অধিকাংশ বাঙালীর নিজের অস্তিত্বে যতনা বাঙালীয়ানা, তার থেকেও বেশী তারা নিজেদের মুসলমান বা হিন্দু ভাবে। বাঙালীর যে নিজস্ব আধ্যাত্মিক চিন্তা আছে- যা সহজিয়া, আউল বাউল হয়ে লালন রবীন্দ্রনাথে পূর্নতা পেয়েছে -সেই মাটির ধর্ম সম্মন্ধেই অধিকাংশ বাঙালী বিস্মৃত।

    বাঙালীর শুধু ভাষা না-তার নিজস্ব ধর্ম আছে-যা হিন্দুত্ব বা ইসলামের থেকে আলাদা-এটাইত অধিকাংশ বাঙালী জানে না!!
    যে বাঙালীর রবীন্দ্রনাথ লালন আছে- সে কেন আরব সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদে ( ইসলাম ) বুঁদ হয়ে থাকে? বা ইসলামের আগ্রাসন ঠেকানোর জন্য কেনই বা তাকে উত্তর ভারতের গোবলয়ের গোচনা সেবন করতে হয়?

    আমরা রবীন্দ্রনজরুল বলে অনেক লম্ফ ঝম্ফ দিই বটে-কিন্ত বাস্তবে যখন দেখা যায় এক দুষ্টু বালকের সামান্য ফেসবুক পোষ্টের জন্য বাদুরিয়ার মুসলমানরা দম দেওয়া কলের পুতুলের মতন দাঙ্গা করতে পঙ্গপালের মতন দোকান পাট বাড়ি ঘরদোর ধ্বংস করছে-তখন এটা পরিস্কার, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল বা এমন কি লালন –শুধুই শিক্ষিত বাঙালীর ড্রইংরুমে। বাঙালী এলিট লিব্যারাল এবং সাধারন মানুষ-দুই ভিন্ন বাংলার বাসিন্দা।

    দেগঙ্গা থেকে বাদুরিয়া-বাংলার যে বলকানাইজেশন চলছে, তা ঠেকাতে মমতা ব্যার্নার্জির সামনে একটাই পথ। বাঙালী সংস্কৃতি দিয়েই হিন্দু মুসলমান বলে যে পৃথক আইডেন্টিটি তৈরী করা হয়েছে, সেটাকে আগে ফিকে করতে হবে। উনি সেটা করেন নি। মুসলমান ভোট ব্যঙ্কে ধরে রাখার জন্য, বাঙালী মুসলমানকে মুসলমান করে রেখেছে সব পার্টিই- কংগ্রেস, সিপিএম, তৃনমূল, বিজেপি।

    শরৎচন্দ্রের সেই বাঙালী বনাম মুসলমানের ফুটবল খেলার মতন আজো সমান কনফিউশন-এরা বাঙালী না মুসলমান!! লালন, নজরুল-কেউ সেই আইডেন্টিটি ক্রাইসিস ঘোচাতে পারেন নি। কারন সরকারি টাকায় মাদ্রাসা, আলেম, হুজুরদের পোষা হচ্ছে-লালন সাঁইকে পৌছে দেওয়া হচ্ছে না। আলেম হুজুররা নিজেদের ধর্ম ব্যবসা টেকাতে-একজন মুসলমানের মুসলমান পরিচিতিই পোক্ত করবে-ফলে বাদুরিয়াতে যখন এই সব ধর্মোন্মাদরা পঙ্গপালের মতন লাঠি নিয়ে তাড়া করে- সেটা প্রশাসনের নীতির ভুল। কারন আলেমদের টাকা না দিয়ে যদি গ্রামে গ্রামে লালন সাই এর শিষ্যদের, বাউল কালচার ছড়িয়ে দেওয়া যেত- তাহলে বাংলা মুখরিত হত, বাঙালীর চিন্তনে!
    ‘এমন সমাজ কবে গো সৃজন হবে।
    যেদিন হিন্দু মুসলমান বৌদ্ধ খ্রিস্টান
    জাতি গোত্র নাহি রবে।।

    সরকার থেকে এসব উদ্যোগ নেওয়া হয় নি। ফলে মুসলমানকে আরো বেশী মুসলমান বানানো হয়েছে-আর তার প্রতিক্রিয়াতে হিন্দুরা আরো বেশী হিন্দু হচ্ছে।

    মধ্যে খান থেকে বাঙালীদের স্পেসটা আরো আরো অনেক ছোট হচ্ছে। অথচ এরা নাকি বাংলার মসনদে।
    যে জাতি নিজের সংস্কৃতি, নিজের ঐতিহ্যশালী লোকায়িত সহজিয়া ধর্মকে চেনে না-তাদের মাটির দখল আরব আর উত্তর ভারতের দালালদের দখলে যাবে-সেটাই স্বাভাবিক।

    কিন্ত এখনো সময় আছে। সংস্কৃতি প্রিয় মুখ্যমন্ত্রী-গ্রামে গ্রামে বাংলার সহজিয়া ঐতিহ্য ছড়িয়ে দিন। ছড়িয়ে দিন রবীন্দ্রনাথ নজরুলের জীবন দর্শন। যাতে সবাই নিজেদের বাঙালী ভাবতে শেখে আগে। তাদের মুসলমান বা হিন্দু পরিচিতি যেন গৌন হয়। তার বদলে উনি যদি দুধ কলা দিয়ে “ইসলামিক পরিচিতির” বিষ ছড়ানো কালসাপদের পোষেন মাসোহারা দিয়ে, তার ফল হবে বাউরিয়া-এবং সম্ভবত উনিও ক্ষমতা হারাবেন।

    কেউ হিন্দু মুসলমান হয়ে জণ্মায় না। রাজনীতি, রাষ্ট্র, সমাজ তাকে হিন্দু মুসলমান বানায়। আমার বক্তব্য একটাই- সরকারি খরচে কেন তাহলে তাকে বাঙালী বানানোর চেষ্টা হচ্ছে না ?
  • কল্লোল | ০৬ জুলাই ২০১৭ ২২:২৯368136
  • ইয়ে, হিন্দু শব্দটি গ্রীকেদের আমদানী, তখ্ন দুনিয়ায় মুসলমান নামে কিছু ছিলো না।
    কিন্তু বাদুড়িয়ায় যা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে তা তো ধর্মীয় সম্প্রীতিরই পরিচয়।

    কিছু বহিরাগত মুসলমান পরিচয়ের মানুষ সঊভিকের বাড়ি আক্রমন করে। তারাই শৌভিকের বাড়ি ভাঙ্গচুর করে ও আগুন লাগায়।খবর পেয়ে ওখানকার মুসলমান-হিন্দু সকলেই প্রতিরোধ করেন ও পুলিশ ডাকেন। তাতে বহিরাগতরা পালিয়েও যায়।
  • sm | ০৬ জুলাই ২০১৭ ২৩:১৪368137
  • বিপের লেখা কেউ গুরুত্ব দেয়? বিপ লিখলো ১৬০০ কোটি মুসলমানের কথা আর পৃথিবীর মোট জনসংখ্যাই ৭৫০ কোটি!
    নিন এবার কি হিসেবে কষবেন কষুন।
  • Atoz | ০৭ জুলাই ২০১৭ ০০:১৩368138
  • ওটা আল্ফা সেন্টরির গ্রহগুলোর লোকজনকে গুনতিতে ধরে মনে হয়। ঃ-)
  • PP | ০৭ জুলাই ২০১৭ ০২:৩৪368139
  • বিপ পৃথিবীর শুরু থেকে মানে ইসলামের শুরু থেকে কাউন্ট করেছে বোধহয়। যা হোক উইকএন্ড সমাগত কাজেই
  • bip | ০৭ জুলাই ২০১৭ ০৭:২০368140
  • আমি হিন্দু নই, তুমিও মুসলমান না!
    এই মহাবিশ্বের বয়স?

    তা চোদ্দশ কোটি বছর হবে।

    আকার, আয়তন, পরিধি ?

    জানা নেই। আমরা পৃথিবীর বাসিন্দা। সৌর জগতের মধ্যে একটা ছোট্ট পৃথিবী - ইডেন উদ্যানে পিংপং বল।

    আর ওমন কোটি কোটি সৌর জগত আমাদের মিল্কি ওয়ে গ্যালাক্সিতে। হাবল টেলিস্কোপের চোখ যদ্দুর যায় - এই দৃশ্যমান মহাবিশ্বে কোটি কোটি মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি আবিস্কার করেছে মানুষ নিজেই! আর দৃশ্যমান মহাবিশ্ব, আসল মহাবিশ্বের কতটুকু? জানা নেই।

    তাহলে আমি কে? আয়ু একশো বছর। পৃথিবীর পাঁচশোকোটি লোকের একজন! এই মহাবিশ্বের বয়স যদি হয় একশো বছর, তাহলে আমার জীবনকাল এক সেকেন্ডের চেয়েও ক্ষুদ্র!

    ভাবুন - স্থান এবং কালে- এই মহাবিশ্বের চেতনায়, আমি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অস্তিত্ব। আমার জীবনটা মহাজাগতিক কালে-জাস্ট একটা বুদবুদ। রাতের আকাশের দিকে তাকান-আর নিজেকে ভাবুন-আপনি কে? মহাসমুদ্রের ধারে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র জোনাকিরা আমার ক্ষুদ্রতা দেখে হাঁসবে!

    অথচ আমাদের "আমি" ভাবনা থামে না- আমি হিন্দু, আমি মুসলমান, আমি ধনী, আমার এই নেই, আমার বড় বাড়ি আছে-আমার ছেলে এই-আমার বংশ এই! আমার এই ডিগ্রী-আমি এই করেছি-"আমি" র লিস্ট মালগাড়ির বগির মতন!

    মানুষের জীবন এতই ক্ষুদ্র-মানুষ সততই ভোলে মৃত্যুর নিমন্ত্রনপত্র নিয়েই সে জন্মেছে। মোমের মতন গলে সেই অহং, যখন একদিন মৃত্যুর সামনে দাঁড়াতে হয়।

    কি আশ্চর্য্য-পৃথিবীর সব ধর্মগ্রন্থেই মানুষকে তাই বার বার সাবধান করা হচ্ছে- ওহে তোমার জীবনকাল বড়ই ক্ষুদ্র- বৃথা নষ্ট করো না ঝগড়াঝাঁটি ঈর্ষা খুনোখুনি করে!

    কোরানে মৃত্যু চেতনা আছে প্রায় ৭৩ টি আয়াতে- আল ইমারান (৩/১৮৫ ) এ নাজিল " পৃথিবীর বুকে এই নশ্বর জীবন আসলেই অহংঙ্কারপূর্ন অস্তিত্ব, (কারন সে মৃত্যুর কথা মনে রাখে না)"।

    উপনিষদের জীবন দর্শনের প্রায় সবটাই মৃত্যুচেতনা থেকে উঠে আসা। কঠোপনিষদকে এডউইন আর্নাল্ড কবিতায় রূপ দিয়ে লিখেছেন " মৃত্যুর গোপন কথা"।

    কঠোপনিষদে নচিকেতা যমের সম্মুখে --

    যম বল্লেন বর চাও নচিকেতা?

    - হ্যা, প্রভু-যদি আপনি আমার ওপরে প্রফুল্ল, তাহলে দয়া করে বলুন মৃত্যুর ওপারে কি রয়েছে রহস্য?

    - নচিকেতা, মৃত্যু নিয়ে আমায় বিব্রত করো না। অন্য বর চাও। মৃত্যুর রহস্য তোমায় দিতে পারব না।

    - প্রভু দিতে হলে আমাকে এটিই দিন। বলুন মানুষের মৃত্যু রহস্য। কারন আমি জানি, আপনিই কেবল জানেন এই মৃত্যুর রহস্য!

    - নচিকেতা তোমার কি চাই? হাজার বছর আয়ু? কত হাতি, কত সোনা, কত স্ত্রী, কত পুত্র, কত জমি চায় তোমার? সব দিচ্ছি। কিন্ত আমার কাছে মৃত্যু রহস্য জানতে চেও না। ছেড়ে দাও বাপু-মৃত্যু রহস্য জানার ইচ্ছা!

    নচিকেতা নাছোড়বান্দা।

    -প্রভু এই নশ্বর রাজত্ব, নারী, সম্পদ-সবই ত ক্ষনস্থায়ী, যতক্ষন শ্বাস, ততক্ষন। কোনকিছুই নিত্য না-তাহলে কিসের মোহে মৃত্যুরহস্যের পিছু ছেড়ে এই ক্ষনস্থায়ী ভোগবিলাসে মজি প্রভু?

    যম দেখল, ভবি ভোলার না। নচিকেতা মৃত্যুরহস্য জেনেই ফিরবে!

    মৃত্যুর সামনে মানুষের যে ক্ষুদ্র নশ্বর অস্তিত্ব-এবং তাতেই কুয়োর ব্যঙের মতন আমাদের অহং এর লাফালাফি -প্রতিটা ধর্মই তা বারংবার মনে করিয়ে দিয়েছে। এই পর্যন্ত ধর্মদর্শনটুকু আমার ভালোই লাগে। কারন অহঙ্কার জ্ঞানের তাপে মোমের মতন গলে।

    ধর্মের সাথে আমার গোল বাধে এর পরের ধাপে। হ্যা, এটা মানি, জীবন ক্ষনস্থায়ী-এটা মাথায় রাখলে নিজেকে মোটিভেট করাই মুশকিল। ফলে একটা বুষ্টিং বর্নভিটা দরকার। জৈন, বৌদ্ধ এবং হিন্দু দর্শনে সেটা পরের জন্ম। পুনঃজন্ম। ইসলাম, খ্রীষ্ঠ ধর্মে স্বর্গের সুরাসরের ধারনা।

    সমস্যা এটাই- যখন সন্ত্রাসবাদিরা এই নশ্বর জীবনকে সত্যি সত্যিই সম্পূর্ন তুচ্ছ ভেবে, স্বর্গের মোহে আত্মঘাতি ভেস্ট বুকে নিয়ে সুইসাইড বোম্বার হয়। মৃত্যুচিন্তা পর্যন্ত সব ধর্মই ঠিক। কিন্ত মৃত্যুপরবর্তী চিন্তাটা সব ধর্মেই রূপকথার মোহজাল এবং তা সুস্থ সমাজের পক্ষে অনেক ক্ষেত্রেই ভয়ংকর সন্ত্রাসবাদীর জন্ম দিতে সক্ষম। তাদের ছোটভাই মৌলবাদিরাও সেই পরকালের মদে বুঁদ।

    সুতরাং যতই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র হৌক, হোক যতই অকিঞ্চিৎকর-এই ক্ষুদ্রজীবন, তার চাওয়া, পাওয়া ওঠা নামাগুলোকে ভাল লাগা দরকার। জীবনকে যেন প্রতিটা শিশু ভালবাসতে শেখে। নচেৎ তাদের সন্ত্রাসী হওয়া সময়ের অপেক্ষা।

    যারা বলেন, ইসলাম এখন সব থেকে বেশী সন্ত্রাসবাদের জন্ম দিচ্ছে-কারন মাদ্রাসা নশ্বর জীবনের মুন্ডপাত করে --বেহস্তে বাহাত্তর হুরের স্বপ্নে তারা বিভোড় -আমি তাদের মনে করিয়ে দিতে চাই- এই ইসলামেই জন্মে ছিলেন সুফীগুরু জালালুদ্দিন রুমি। জীবনকে যে এত তীব্রভাবে ভালোবাসা যেতে পারে, সেটা আমরা অনেকে তার কবিতা থেকেই শিখেছি --

    ( কবিতার ভাষাটি আমার নিজের অনুবাদ, রুমির ভালোবাসার তীব্রতা প্রকাশ করার মতন বাংলা আমি শিখি নি-তাই ক্ষমা মার্জনা চাইছি )

    মানবসত্ত্বা!
    সেত আমার অতিথিগৃহ—
    রোজ সকালে নিত্যনতুন অতিথির আনাগোনা।
    এক টুকরো সুখ / একখন্ড হতাশা/ একরাশ ক্ষুদ্রতা,
    অপ্রত্যাশিত অতিথির তালিকাটি দীর্ঘ/ ক্ষনিকের অতিথি তারা, এসেছে দুয়ারদ্বারে।
    স্বাগত সবাই/ আমি পা ধুইয়ে দিই তাদের সবাইকে
    —যদি তা দুর্বার দুঃখও হয়
    যা ওলোট পালট করে ছুড়ে ফেলে দেয় সাজানো গৃহের সাজানো আসবার
    এরপরেও
    আন্তরচিত্তে গ্রহণ কর সবাইকে—
    হয়তো সে তোমাকে পুরস্কৃত করছে জেনো,
    নতুন কিছু আনন্দআগমন উপলক্ষে।
    অন্ধকার আশংকা, অপমান, আক্রোশ, ঘৃণা— সবকিছু,
    হাসিমুখে এগিয়ে এসো সামনের দরজায়!
    জালালুদ্দিন রুমি এগুলো লিখেছেন ত্রয়োদশ শতাব্দিতে, ইরানে। ইসলামের ইতিহাস তখন রক্তাত্ব-এখনকার মতই। উনি ইসলামের সৌর্ন্দয্যকে রাজনীতি থেকে বার করে কবিতায় রূপ দিলেন-কারন সুফীরা তখন ইসলামের রক্তাত্ব রাজনৈতিক ব্যবহারে বিরক্ত। ঠিক যেমন ভাবে এখনকার সাধারন মুসলমানরা বিরক্ত হোন যখন রাজনীতিবিদরা ইসলামকে ব্যবহার করেন ভোটের জন্য।

    জালালুদ্দিন রুমি না পড়লে বোঝা যায় না ইসলামিক সংস্কৃতিতেও একদা মানুষ খুঁজেছে চিরন্তন সৌর্ন্দর্য্য। ওমর খৈয়াম, হাফিজ শিরাজি, খলিল জিব্রান-কার কথা ছেড়ে কার কথা বলি ?

    যেমন উপনিষদ না পড়লে বোঝা অসম্ভব প্রাচীন ভারতের চিন্তার সৌন্দর্য্য-আত্মার মুক্তি। গোরোক্ষা কমিটির হিন্দুএর দেখলে শুধুই মনে হবে হিন্দু ধর্ম আচার-বিচার-জাতফাতের ফিতেই আটকানো পা ভাঙা গরু-শুধু ন্যাদায় গোচনা! কে বলবে এই ধর্মের সর্বোচ্চ উপলদ্ধি উপনিষদের বাণী- যা রবীন্দ্রভাষ্যে

    ‘হে মহাপথিক/অবারিত তব দশদিক/তোমার মন্দির নাই, নাই স্বর্গধাম/নাইকো চরম পরিণাম/। তীর্থ তব পদে পদে/চলিয়া তোমার পদে মুক্তি পাই চলার সম্পদে’

    তাহলে ক্ষীরটা কি খাইলাম?

    জীবনকে ভালবাসতে হবে- জীবনকে ঘৃণা করা শুরু করলে- ছেলেটা মৌলবাদি নইলে সন্ত্রাসবাদি হবেই।

    জীবনকে ভালবাসিবে কিরূপে? নাচে গানে খাদ্যে সৌর্ন্দয্যে কবিতার ছন্দে? এখানেই ধর্ম দর্শনের সাথে সংঘাত। কঠোপনিষদ, কোরান-এরা সবাই আমাদের নশ্বর জীবনের আনন্দকে ক্ষনস্থায়ী বলে বাতিল করে দিল!

    ঠিক এই কারনেই এই জন্মে আর আমার ধার্মিক হয়ে ওঠা হল না! চলার পথেই যে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জেতা হারা-তাই থেকেই যে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র খুদের মতন ছোট ছোট আনন্দ দুঃখের বারিধারা- তার সিঞ্চনেই আমি খুশী। এটা জেনেই এসবের কোন মানে নেই-জীবনের পরম উদ্দেশ্যও নেই।

    বেহস্ত, পরের জন্ম, কমিনিউস্ট রাষ্ট্র-ইত্যাদি বড় বড় লক্ষ্যের পেছনে দৌড়ানোর ঝামেলাটা এই-তাতে জীবনের এই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পাওয়াগুলো হাওয়া হয়ে উড়ে যায়-আর নৈরাশ্যের নেশায় জেগে ওঠে মৌলবাদি দৈত্য।

    বরং এই গ্লাসে গলায় থাকুক এক টুকরো গালিব

    হামকো মালুম হ্যায় জান্নাত কি হক্বিকৎ লেকিন

    দিল কে খুশ রাখনে কো গালিব ইয়ে খ্যয়াল আচ্ছা হ্যায়।
  • বিপ | ০৭ জুলাই ২০১৭ ০৭:২২368141
  • ওটা ১৬০ কোটি হবে, সেটা টাইপো মানুষে বোঝে, তৃনভোজি হলে বোঝার কথা না।
  • সিকি | ০৭ জুলাই ২০১৭ ০৭:৪২368142
  • উইকেন্ড, উইকেন্ড :)
  • কল্লোল | ০৭ জুলাই ২০১৭ ০৮:০৫368125
  • রুমী, ওমর খৈয়াম, হফিজ - এঁরা আরবি/ফার্সি নামের মানুষ। এঁরা নিজেদের মুসলমান ভাবতেন। কিন্তু মুসলমানেদের অকর্তব্য অনেক কিছুই করতেন। এরা আসলে সুফি। সুফিদের মুসলমান ধর্মগুরুরা মুসলমান বলেই মানে না।
  • PT | ০৭ জুলাই ২০১৭ ০৯:২৫368126
  • এমন সরলমতি প্রত্যাশা আজকাল খুব কমই দেখা যায়।
    "বাঙালী পরিচিতিকে সামনে এনে বাঙালীর হিন্দু মুসলমান পরিচিতি মুছে দিতে" হলে মুসলমানদের ভোট এককাট্টা হবে কি করে? আর এই ভোট এককাট্টা না হলে যাদের গান্ধী নাই, নেতাজী নাই, শ্যামাপ্রসাদ নাই, চারুবাবু নাই, মার্কস নাই, লেনিন নাই, সমাজবাদ নাই, ধনতন্ত্র নাই এমনকি শিবদাস ঘোষও নাই, আছে শুধু হাওয়াই চপ্পল তারা কি নিয়ে ভোটের ময়দানে নামবে?
    অন্যদিকে যাদের দলে শুধুই গরু, ব্রহ্মচারী ময়ূর, প্লাস্টিক সার্জারি হওয়া গজানন অথবা নম্বা ন্যাজোয়ালা হনুমান তারাই বা কি দেখিয়ে বাঙালী হিন্দুর ভোট এককাট্টা করবে?
    তবে আশায় বাঁচে চাষা.........!!
  • রোবু | ০৭ জুলাই ২০১৭ ০৯:৩৬368127
  • বলকানাইজেশন? ব ল কা না ই জে শ ন!!
  • bip | ০৭ জুলাই ২০১৭ ১৪:৫১368128
  • কিন্তু মুসলমানেদের অকর্তব্য অনেক কিছুই করতেন।
    >>
    ইসলামের কি একটাই ভার্সন?
  • aranya | ০৯ জুলাই ২০১৭ ০৭:৩৬368129
  • বিপ্লবের লেখাগুলো পছন্দ হল। বাঙালী পরিচিতিকে ধর্মীয় পরিচিতির আগে রাখতে পারলে ভাল, মানুষ পরিচিতিটাকেই আঁকড়ে থাকতে পারলে আরও ভাল
  • Rabaahuta | ০৯ জুলাই ২০১৭ ১৩:৩৪368130
  • 'মানুষ পরিচিতিটাকেই আঁকড়ে থাকতে পারলে আরও ভাল ' - সেটাই।
  • kaktarua | ১০ জুলাই ২০১৭ ০৬:২২368131
  • লেখাটা ভালো লাগলো।
  • S | ১০ জুলাই ২০১৭ ১১:৪৬368132
  • "বাঙালী পরিচিতিকে ধর্মীয় পরিচিতির আগে রাখতে পারলে ভাল"

    ঠিক যেমন হয়ে হয়েছিলো বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে???
  • সর্বহারা | ১০ জুলাই ২০১৭ ১২:৫৮368133
  • বলছি কি, এই গরীব বড়লোক ফারাকটুকু থাকবেতো? এই একদল বেশ এসি গাড়ি চেপে এসি আপিসে কাজে যাবেন আর আরেক দল গরমে পচবেন। এই প্রেমের বাণী আর সহ্য করা যায়না।

    দুনিয়ার মজদুর এক হও আর সব নকল প্রেমিকদের টেনে নামাও।
  • সাইদ | ১১ জুলাই ২০১৭ ১১:৩০368134
  • পড়ে ভাল লাগল।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। না ঘাবড়ে মতামত দিন