এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  টুকরো খাবার

  • এক বামন হিমলিঙ্গের প্রেক্ষাপট

    সমরেশ মুখার্জী লেখকের গ্রাহক হোন
    টুকরো খাবার | ১১ নভেম্বর ২০২৩ | ৪৩৯ বার পঠিত | রেটিং ৪ (১ জন)


  • ১৯৯১ এর নভেম্বরে জয়েন করেছি Larsen & Toubro কোম্পানি‌তে। পোষ্টিং হয়েছে মধ‍্যপ্রদেশে টাটা স্টিলের নির্মিয়মান সিমেন্ট প্ল‍্যান্ট প্রোজেক্টে। সে প্রকল্পের উদ্দেশ্য জামশেদপুর লৌহ কারখানা থেকে নির্গত বিপুল পরিমাণ ব্লাস্ট ফারনেস স্ল‍্যাগের অর্থকরী রূপান্তর। তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ফ্লাই এ্যাশের মতো স্ল‍্যাগ‌ ইস্পাত কারখানার বর্জ্য পদার্থ। তার হ‍্যান্ডলিং‌ বেশ সমস্যা‌জনক। অনেক জমির প্রয়োজন। ঐ সিমেন্ট প্ল‍্যান্ট তৈরী হলে চূণাপাথরের সাথে স্ল‍্যাগ মিশিয়ে  তৈরী হবে ক্ষয়নিরোধক স্ল‍্যাগ সিমেন্ট।
     
    হাওড়া বম্বে মেন লাইনে বিলাসপুর ও রায়পুরে‌র মধ‍্যবর্তী এক অকুলীন স্টেশন ভাটাপাড়া। তবে সে স্টেশনের গুরুত্ব তখন ঐ প্রকল্পের কারণে একটু বেড়েছে। ঐ এলাকা খনিজ লাইমস্টোনের ভাণ্ডার। তাই আগেই তৈরী হয়েছে মোদি সিমেন্ট ফ‍্যাক্টরি। পরে হয়েছে রেমন্ড ও L&T সিমেন্ট কারখানা। ফলে তখন এক্সপ্রেস ট্রেন‌ও দাঁড়ায়, তবে টাইমটেবিলে ভাটাপাড়া‌র কপালে বরাদ্দ মাত্র দু মিনিট স্টপেজ।
     
    ভাটাপাড়া  থেকে কসডৌলমুখী রাস্তায় ২৫ কিমি দুরে বলোদাবাজার নামক এক মামূলী গঞ্জ‌‌ই ঐ প্রকল্পের নিকটবর্তী জনপদ। প্রেমেনদার শৈলী‌তে লিখলে - 'করুণ আত্মছলনায়' যাকে শহর‌ও বলা যেতে পারে।  পয়লা নভেম্বর ২০০০ সালে ভূমিষ্ঠ ছত্তিশগড় তখন ভ্রুণাবস্থায়। বলোদাবাজার তাই তখন‌ ভারতের হৃদয় মধ‍্যপ্রদেশে‌র অন্তর্ভুক্ত। 
     
    মহানদীর পশ্চিম অববাহিকায় চূণা পাথরে সমৃদ্ধ সামান্য অরণ‍্য‌ময় বিস্তৃত জনবিরল অঞ্চলে প্রকল্প এলাকা সোনাডি বলোদাবাজার থেকে আরো ১৬ কিমি দুরে। প্রকল্পের প্রয়োজনে‌ টাটা কোম্পানি নিজ উদ্যোগে একটা মাটির রাস্তা বানিয়ে‌ছে। L&T ও Tata কোম্পানির স্টাফ বাস, জীপ এবং প্রকল্পের জন‍্য মালপত্র‌ হাইওয়ে থেকে ঐ লাল ধূলিধূসরিত  ১৬ কিমি রাস্তাতেই ট্রাকে করে আসে। বত্রিশ বছর পর এখন গুগল ম‍্যাপে দেখছি সে এলাকা মোটামুটি জমজমাট। বস্তুতান্ত্রিক উন্নতি‌র আবশ‍্যিক পরিণতি।
     
    ৯০ এর জানুয়ারিতে বিয়ে হয়েছে আমাদের। ৯১এর নভেম্বরে‌ও ঝাড়া হাত পা। চ‍্যাঁ ভ‍্যাঁয়ের সম্ভাবনা তখন‌ আমাদের ভাবনার দিকচক্রবালেও নেই। বিয়ের পর কিছুদিন মুক্তকচ্ছ হয়ে থাকার বাসনা ছিল আমাদের দুজনের‌ই। তাছাড়া বিয়ের আড়াই মাসের মাথায় আমার পেশাগত জীবনে নেমে এসেছিল দুর্ভাগ্য। বিগত বছর চারেকের ঠিকাদারী ব‍্যবসার ইতি হয়ে গেল। আমার কষ্টার্জিত ন‍্যায‍্য পাওনা - আজকের হিসেবে যা প্রায় পনেরো লাখ - সংস্থা‌র মিষ্টভাষী বাঙালি চিফ ইঞ্জিনিয়ারের কুমন্ত্রণা‌য় মারোয়াড়ী মালিক দিলেন না। আমি নামলাম আবার পথে - ভাগ্যান্বেষণে। 
     
    রাখে কেষ্ট মারে কে ফর্মুলা‌য় বাঁচালো আর এক মারোয়াড়ী। কাজে এলো যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক‍্যালিগ্ৰাফি করা মোটা কাগজটা। Loser shouldn't be chooser আপ্তবাক‍্য অনুযায়ী কলকাতার সেই মারোয়াড়ী কোম্পানির মালিকের বদান্যতায় পাওয়া খড়কুটোর মতো চাকরিটা আঁকড়ে‌ই একা চলে গেলাম দুর্গাপুর স্টিল প্ল‍্যান্ট মর্ডানাইজেশন প্রকল্পে। নতুন বৌ র‌ইলো শিবপুরে বাপের বাড়িতে। 
     
    জ‍্যোতি বসু তখন নিদান হেঁকেছেন - বহুদিন বাদে ৩৫০০ কোটি টাকার বড় উন্নয়ন প্রকল্পে বিনিয়োগ এসেছে পশ্চিমবঙ্গে - এ প্রকল্প এক প্রেস্টিজ ইস‍্যূ, তাই ইউনিয়নের দাদাগিরি‌তে একদিনের জন‍্য‌ও যেন প্রকল্পের কাজ বন্ধ না হয়। তখন‌ও ফ্র‍্যান্কেনস্টাইনের গলায় সাময়িক বকলশ পরানোর মতো হিম্মৎ এবং ক‍্যারিশমা হয়তো তাঁর ছিল। তাই আলিমুদ্দিন স্ট্রীটের সে‌ই নির্দেশ জমিতে‌ও যথাযথ পালিত হ‌ওয়ার বাস্তব অভিজ্ঞতা আমার হয়েছে।
     
    তখন আমি প্রায় তিরিশ। দুর্গাপুরে বেনাচিতির কাছে শালবাগান রোডের এক ভাড়া বাড়িতে বানানো কোম্পানির ব‍্যাচেলর মেসে কয়েকটি তরুণের সাথে মিলেমিশে ছিলাম। আবার হৈহৈ করে মেতে উঠলাম সাইটের কাজে। সন্ধ‍্যায় মেসে ফিরে আড্ডা। কখনো রবিবার সকালে জমাটি তাসের আসর বা বিকেলে দলবেঁধে সিনেমা যাওয়া। তখনই দেখেছি‌লাম - সুপারহিট 'আশিকি'। 
     
    আসলে এসব যৌবনধর্ম। না হলে মুখ থুবড়ে পথেই পড়ে থাকতে হয়। আমার‌ নাকে কান্না আসে না। ঠিকাদারীতে হোঁচট খেয়ে কিছু পরিচিতজনের দিকে সাহায‍্যের আশায় বাড়ানো হাত এড়াতে দেখে মন‌ আরো শক্ত হয়ে গেছিল। পরেও আরো কয়েকবার হোঁচট খেয়েছি। এভাবে প্রতিবার 'যো হোগা দেখা যায়েগা' মোডে হোঁচট খেয়ে, ঘুরে দাঁড়িয়ে, লড়খড়িয়ে দিব‍্যি কেটে গেল জীবনের ছটা দশক। কখনো পাকাপাকি ভূমিশয‍্যা নিতে হয়নি এই রক্ষে।
     
    তখন ল‍্যান্ডলাইন, মোবাইল, হোয়াটস‌এ্যাপ ছিল না। তাই ঠিক ছিল এক সপ্তাহ ছেড়ে দুর্গাপুর থেকে শনিবার রাতে চলে আসবো শিবপুরে। বৌ থাকতো দোতলায় গভীর প্রত‍্যাশায় মুখিয়ে,  বাস্তবিক‌ই। তাই আমি এলে‌ মা, বাপী, শ‍্যালিকা - কেউই কিছুক্ষণ তেতলা থেকে নামতো না। আবার সোমবার ভোরে হাওড়া থেকে ব্ল‍্যাক ডায়মন্ড এক্সপ্রেস ধরতে জায়মান প্রত‍্যূষে ঘর ছাড়া‌র সময় বৌয়ের মুখ হয়ে যেতো থমথমে। কী বুঝতো কে জানে তবে ওদের পোষ‍্য বিশালদেহী এ্যালশেসিয়ান মিশা‌ও এসে মুখ ঘষতো আমার হাঁটু‌তে। বাপী ছাড়তে যেতেন বাস স্টপে। তখন একটু মন খারাপ লাগতো। এখন পরিণত  ভাবনায় মনে হয় সেই সব পরিমিত বিরহ‌ই দাম্পত্য আকর্ষণের সঞ্জীবনী সালসা - ঠিকমতো ঢাকনা এঁটে সম্পর্কে‌র মাধূর্য দীর্ঘদিন ধরে রাখতে না জানলে নিত‍্য সহবাসে তা হয়ে যেতে পারে মিয়োনো মুড়ির মতো‌ই বিস্বাদ।
     
    সেই কোম্পানির মারোয়াড়ী মালিক আমায় কথা দিয়েছিলেন বছরখানেকের মধ‍্যেই দিল্লিতে তাঁদের DDAএর রোহিণী হাউসিং প্রকল্পে আমায় বদলি করবেন। তিনি তাঁর কথা রাখলেন না। দুর্গাপুর থেকে আমায় বদলি করলেন দ্বিতীয় হুগলী সেতুর কোনা এক্সপ্রেস‌ওয়ে কনেক্টর প্রকল্পে। শিবপুর থেকে দুরে নয়। বুলেটে যাতায়াত করতাম। কর্মক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা। বিয়ের পর ঘরজামাই হয়ে শ্বশুর‌বাড়ি‌তে থাকতে আমার পুরুষাকারে বাঁধতো না। মা, বাপী‌র আদর, ব‍্যবহারে সেরকম কিছু মনে‌ই হয়নি কখনো। যেমন হয়নি জ্ঞানদানন্দিনীর স্নেহচ্ছায়ায় প্রমথ চৌধুরীর ঠাকুরবাড়ির জমিদারীর দুশো টাকা বেতনের ম‍্যানেজারির চাকরি করতে। তবে বৌ হাঁফিয়ে উঠলো।  তাই আর এক মারোয়াড়ী কোম্পানির বদান্যতায়  ছেড়ে দিলাম সে চাকরি।
     
    জীবনে আমি মারোয়াড়ী ব‍্যবসায়ী সম্প্রদায়ের বদান্যতা‌র নমুনা বেশ কয়েকবার পেয়েছি। ধাক্কা খেয়েছি মোটে একবার, তাও এক বঙ্গজনের সৌজন্যে। তবে সেই যুবক মারোয়াড়ী মালিক‌‌ও তাঁর অভিজ্ঞ পিতার মতের বিরুদ্ধে গিয়ে আমার ক্ষমতার তুলনায় যথেষ্ট বড় কাজ দিয়েছিলেন। ঘটনাচক্রে আমি তাঁর ভরসার মর্যাদা রাখতে পারিনি  বলে বরং আমার মনেই ক্ষেদ রয়ে গেছে। তাই তাঁর ওপর আমার কোনো ক্ষোভ তৈরী হয়নি। হয়েছিল শিবপুরের ডিগ্ৰি‌ধারী মিছরির ছুরি সেই বাঙালি ইঞ্জিনিয়ারের ওপর। সেদিন তিনি ওনাকে প্রকৃত অবস্থা গুছিয়ে জানালে আমায় সে কাজ মাঝপথে ছাড়তে হোতো না। তাহলে ক্ষতি তো দুর, ভালো লাভ করে, সুষ্ঠু পরিকল্পনা করে, ঠিকাদারী জীবনের ইতি টানতে পারতাম। ৯০ সালের মার্চে বর্ণময় হোলির দিনটা‌‌ও সাময়িক হতাশায় লাগতো না ধূসর। তবে কথায় বলে Man proposes, God disposes.
     
    এবার চাকরি পেলাম জামশেদপুরের অদুরে তুরামদিহিতে ইউরেনিয়াম কর্পোরেশনের প্রোজেক্টে একটা মেটেরিয়াল রোপ‌ওয়ে প্রকল্পে। সেই চাকরির জন‍্য যে বাঙালি জেনারেল ম‍্যানেজারটি‌ আমার ইন্টারভিউ নিয়েছিলেন তিনি ছিলেন অতি সজ্জন। তাই আমার আগের তিক্ত অভিজ্ঞতার সম্পূর্ণ বিপরীত অভিজ্ঞতা হোলো সেবার।

    জামশেদপুরে পোষ্টিং‌য়ের দৌলতে বিয়ের দেড় বছর পর সেই প্রথম কলকাতার বাইরে চলে গেলাম সস্ত্রীক। বৌয়ের প্রাণে তখন, 'আহা কী আনন্দ আকাশে বাতাসে' ভাব। আমার অবস্থা অপুর সংসারের অপূর্ব সদৃশ। পর্দা হিসেবে জানলায় পুরোনো ধুতি না টাঙাতে হলেও আমার সাইট ইনচার্জের সময় হয়নি বলে তখনো খাট, চেয়ার, টেবিল পাইনি। বেডরুমের মেঝেয় মাদুরে তোষক পেতেই শুয়েছি কিছুদিন। তাতে অবশ‍্য জীবনানন্দের ছন্দে কোনো তাল কাটেনি। যে কোনো অবস্থায় আনন্দ খুঁজে নিতে জানতাম।
     
    শিবপুরে থাকতে বৌ বলতো, যতো সামান্য আয়োজন‌ই হোক, আমাদের নিজস্ব সংসারে আমরা আমাদের মতো থাকবো। বিয়ের পর মেয়েদের বাপের বাড়িতে বেশীদিন থাকা উচিত নয়। স্বামীগৃহ‌ই হ‌ওয়া উচিত তার কাঙ্ক্ষিত ক্ষেত্র। শুনলে মনে হবে আগতপ্রায় একুশ শতকের মেয়ের মুখে শরৎচন্দ্রীয় সংলাপ। তবে ও ওরকম‌ই। 
     
    তখন গ‍্যাস ও টেলিফোন পাওয়া ছিল লটারিতে প্রাইজ পাওয়ার সামিল। অবশ‍্য ব‍্যবসায় থাপ্পড় খেয়ে সঞ্চয়‌ বিশেষ নেই। সে চাকরি‌তে মাইনে‌ও আহামরি নয়। তাই সত‍্যজিতের আর্ট ফিল্মে অপর্ণা‌র মতো তোলা উনুনে হাতপাখার বাতাস না করতে হলেও তখন‌ও সদ‍্যবিগত বিয়ের গন্ধমাখা নতুন বৌ 'নূতন' জনতা স্টোভে রান্না করে। বাফার হিসেবে আছে ইলেকট্রিক হিটার। ইলেক্ট্রিসিটি ফ্রী। সপ্তাহে একবার জনতা স্টোভের সলতে ছেঁটে সব শিখা সমান ভাবে নীল করার দায়িত্ব আমার।
     
    এক রবিবার বুলেট ছুটি‌য়ে বিষ্টুপুর বাজার থেকে নিয়ে এলাম একটা ৫ লিটারের প্রেশার কুকার। তাতেই বৌয়ের মুখে আনন্দ ধরে না। বলেই ফ‍্যালে, যাক বাবা, এবার ছোলার ডাল, মাংস একটু তাড়াতাড়ি হবে। কতে অল্পে খুশি! বছর তিনেক আগে চল্লিশ হাজারি LG Dishwasher কিনেও সে‌ই প্রথম কুকার কেনার আনন্দের স্বাদ পাই নি। ওখানে মাসছয়েক পিকনিক মুডে কাটানোর মাঝে‌ই এসে গেল L&Tর চাকরির অফার। সামান্য মালপত্র নিয়ে মিঞা-বিবি নাচতে নাচতে চলে গেলাম বলোদাবাজার। 
     
    ১৯৯২ সালের এপ্রিল মাস। বলোদাবাজারে গরম পড়ে খুব। বৌ বলে এবার একটা ফ্রীজ হলে ভালো হয়। গুণে গেঁথে দেখি হাজার পাঁচেক রয়েছে। তাই নিয়েই এক বিকেলে বুলেটে বৌ বসিয়ে গেলাম সেখানকার একমাত্র ইলেকট্রনিক্স আইটেমের দোকান - রাজেশ টাইম সেন্টার। ১৬৫ লিটার গোদরেজ ক্ল‍্যাসিক ফ্রীজে‌র দাম সাড়ে সাত। বৌ ফিসফিসিয়ে বলে, তাহলে এখন কেনা হবেনা, বলো? 

    বঙ্গললনার করুণ মুখ দেখে হয়তো মায়া হয় মারোয়াড়ী ব‍্যবসায়ী রাজেশ ভাইয়ের। বলেন, ও নিয়ে ভাববেন না ভাবী, ফ্রীজ পাঠিয়ে দিচ্ছি। ভাইসাব, আপনি তিন কিস্তিতে বাকিটা দিয়ে দিলে‌ই হবে। কোনো এক্সট্রা লাগবে না। বৌয়ের মুখ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা‌বোধে। বলেছিলাম না, জীবনে কিছু মারোয়াড়ী সজ্জন‌ও দেখেছি আমি।
     
    তো সেই ৯২এর এপ্রিলে কেনা গোদরেজ ফ্রীজ  তখন থেকে তেরোবার বাসাবদল সত্ত্বেও ৩১ বছর বাদে দিব‍্যি চলছে। না বদলাতে হয়েছে কম্প্রেসর, না ভরতে হয়েছে গ‍্যাস, না উঠেছে এপক্সি পাউডার কোটেড রঙের চকলা। গরমেও নর্মাল মোডে‌ই ভালো ঠান্ডা হয়। তবে এখনকার মতো তুষারমুক্ত টেকনোলজি নয়। তাই মাঝেমধ্যে ডিফ্রস্ট করতে হয়। 
     
    সেই ফ্রীজের ফ্রীজে‌রই ফ্রীজার কম্পার্টমেন্টে মাঝেমধ্যে তৈরী হতে দেখেছি এই বামনাকার হিমলিঙ্গ। কীভাবে হয় জানি না। তবে দেখে বেশ লাগে। ঠিক যেন অমরনাথ গুহায় সৃষ্টি পূতঃ তুষারলিঙ্গর মিনিয়েচার রেপ্লিকা। ফ্রীজারে আবির্ভূত এই বনসাই হিমলিঙ্গটিকে মৃত্যুঞ্জয়নাথের পবিত্র তুষারলিঙ্গ বলে ইউটিউবে পোষ্ট করলে গনেশের দুগ্ধ‌পানের মতো পাবলিক খেতেও পারে। যে দেশে অহরহ দেখা যায় বিশ্বাসে মিলায় বস্তুর নমুনা - যে দেশে "গো করোনা, গো" ভজন গেয়ে মন্ত্রী নাচেন ধৈ ধৈ করে, সে দেশে এই সামান্য ঘটনা‌ও এক অলৌকিক চমৎকার হিসেবে বিবেচিত হতে‌ই পারে।
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • টুকরো খাবার | ১১ নভেম্বর ২০২৩ | ৪৩৯ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ঝপাঝপ মতামত দিন