এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • নরকে বকুলের গন্ধ

    Sobuj Chatterjee লেখকের গ্রাহক হোন
    ১৩ মে ২০২৩ | ২৫১ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • প্রথমেই বলে রাখা ভালো যে এই লেখাকে ভুলেও চলচ্চিত্র রিভিউ বলে ধরে নেবেন না। কারণ আমি মোটেই চলচ্চিত্র বোদ্ধা নই। বরং আমি দর্শক হিসেবে অনেকটাই আবেগতাড়িত। তাই বুদ্ধির গোড়ার ধোঁয়া, প্রথমেই টিয়ার গ্যাসের কাজ করে। যেমন :
    দূর্গার মৃত্যু খবরে সুতীব্র তারসানাই বেজে ওঠা, নীতার - 'দাদা আমি বাঁচতে চাই' বলে হাহাকার এবং 'সদগতি' তে দুখীর লাশ টেনে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখে আমি ভেসে যাই। 
    আসলে যে দু-এক কথা বলতে চাই এবং যে কথা না বললে ভেতরটা ভার হয়ে আছে, তা হলো শেষমেশ ওটিটি তে ইশান ঘোষের 'ঝিল্লি' দেখেই ফেললাম এই সপ্তাহে। দেখে প্রায় হাড়হিম হয়ে যাবার যোগাড়! ভাগ্যিস হাতে রিমোট ছিল তাই মাঝে মাঝে ব্রিদিং টাইম পেয়েছি!

    উদবর্তনের এমন এক ভয়ঙ্কর উলঙ্গ চিত্র যে, - না গেলা যায় না ওগরানো যায়। 
    তিলোত্তমার যত বর্জ্য ধাপার মাঠে জমতে জমতে পাহাড় হয়। আর সেই পাহাড়ের কাঠিন্যে হেলাফেলা আর অবান্তর হয়ে ফুটে আছে বকুল। 
    বকুল চরিত্রটা এই নরকের হাড় গোড় এবং ধ্বংস স্তুপ থেকে তার টিঁকে থাকাটাকে জিইয়ে রাখে। ধাপার কাছেই তো হয় হাড়ের কারখানা।
    গনেশ হলো আরও এক চরিত্র, একটু বেশি উদ্যমী, সে মাঝে মাঝেই উধাও হয়ে যায়;  গুড্ডুর সঙ্গে শেয়ারে শহরের ফুটপাতে সেকেন্ড হ্যান্ড জিনিস পত্র বিক্রি করে একটু বেশি রোজগার করে, লড়াইটা  জারি রাখে। রইলো বাকি হতাশাগ্ৰস্ত শম্ভু এবং ট্রান্সজেন্ডার চম্পা। 
    এই নরক থেকে এদের মুক্তির উপায় ... ??? 

    বিমান বন্দর কাছেই। মাথার ওপর ধূসর আকাশে ঘন ঘন প্লেনের যাতায়াত। বকুলের সেই দিকে তাকিয়ে থাকা এবং গুলি করার শ্যাডো প্র্যাকটিস দেখে বুকের ভেতরটা টনটন করে ওঠে। বকুল এই নরকে প্রায় একা থাকতে থাকতে এবং ক্ষিদের জ্বালায় মানসিক ভারসাম্য হারায়। ঐ অবস্থায় গণেশ তাকে আবিষ্কার করে নিজেও ভেঙে পড়ে। ... 
    মুক্তি নেই! মুক্তি নেই! 
    এই ছবি দেখার পর আমারও মুক্তি নেই। অনেক বছর পর এই ছায়া ছবি আমাকে হন্ট করছে। মনে হচ্ছিল ইশান ঘোষ ল্যাপারোস্কপিক অপারেশনের জন্য ক্যামেরা নামিয়ে দিয়েছে আমার মনের ভেতরে। যেখানে শুধুই আত্মকেন্দ্রিক নিষ্ঠুরতা এবং দেখেও না দেখার ভান করা সমস্ত বর্বরতাকে বের করে এনে ধাপার মাঠে ডাম্প করছে। একেবারে উলঙ্গ করে দিয়েছে  তিলোত্তমার এলিট সম্প্রদায় কে। ভয় হয় বকুলেরা এই অস্বাভাবিক জীবনে ড্রাগের শিকার হয়ে ভারসাম্য হারাবে যেদিন, সেদিন যদি তারা এলিট দের জীবন নরক করে তোলে, তখন? সেদিন হিচককের  পাখিরা হঠাৎ ভয়ঙ্কর হয়ে উঠবে না তো!! 

    এই ছবির সম্পদ ক্যামেরার কাজ। অসাধারণ বললেও তাতে টান পড়ে যায়। চরিত্র গুলি দারুণ বিহেভ করেছে। ক্যামেরাই এই ছবির অ্যাম্বিয়েন্স তৈরী করে দিয়েছে। আলাদা করে  মিউজিকের দরকার ছিল কি!? 

    পরিশেষে বলি এই ছবি ডকুমেন্টারি এবং ফিচারের সীমারেখা কে প্রায় মুছে দিয়েছে। এই ছবির নতুন এক  দিশা আধুনিক চলচ্চিত্রকে সম্পদশালী করেছে। 
    আরো অনেক কিছুই হয়তো বলার বাকি রয়ে গেল।  সেসব থাক তোলা। যারা দেখেছেন তাদেরকে তো কিছু বলার নেই। যারা দেখেন নি তাদের অনুরোধ করবো ধৈর্য ধরে দেখুন। তবে এই ছবিটি কোনো রকম পরা বাস্তবতাকে প্রশ্রয় না দিয়ে অতি বাস্তবতার নিমরসকে নিরলস ভাবে  ভয়ঙ্কর  সৌন্দর্যের উৎকর্ষতায় মুড়ে দিয়েছে! 
    যারা এই সমাজ ব্যবস্থায় প্রান্তিক হয়ে রয়ে গেছে, তাদের কথা বাতাস পৌঁছে দেয় আকাশ কে; আমরা শুনেও শুনি না!! Hats off to Ishan Ghosh & Team including two dogs, তাহাদের কথা বলার জন্য।।
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভালবেসে প্রতিক্রিয়া দিন