এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  অন্যান্য  মোচ্ছব

  • নারীবাংলার শ্রমগানের এক অনন্য দলিল : চন্দ্রা মুখোপাধ্যায় লিখিত 'নারীর গান শ্রমের গান'

    Suchetana Mukhopadhyay লেখকের গ্রাহক হোন
    অন্যান্য | মোচ্ছব | ১১ মার্চ ২০২৩ | ৪৮১ বার পঠিত
  • সে এক অন্যরকম সময়। সত্তরের শেষ থেকে আশির দশক। ঘরে-বাইরের সব কাজ সামলে সুরে সুরে বলা শ্রমজীবী মেয়েদের কথা-কথকতা খুঁজতে বেরোলেন এক দিদিমণি। নাম তাঁর চন্দ্রা মুখোপাধ্যায়। সফরের গোড়াতে, সেসময় তাঁকে পথ দেখাচ্ছেন সংগীত শিক্ষক মৃণাল বড়ুয়া অপার বাংলার নারীগান সংগ্রহের পথিকৃৎ গৌরীপুরের রাজকন্যা নীহার বড়ুয়া, দিকপাল নাট্যব্যক্তিত্ব খালেদ চৌধুরী আর আরো নানা গুণীজন।

    নিজের সমগ্র অস্তিত্ব জুড়ে নারীবাংলার হারাতে বসা শ্রমগানকে সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করার জেদী স্বপ্ন আর হাতের খাতাকলমকে সম্বল করে এরপর দিদিমণি পেরিয়ে যেতে থাকলেন একের পর এক নদী-পাহাড়-জঙ্গল। বাংলার দক্ষিণ বা পশ্চিমের, পূব বা উত্তরের অজস্র ক্ষেতখামার-আলপথ-বিলমাঠ পেরিয়ে আসা দিদিমণির পথে নদী পুকুর খাল পড়ল। যেখানে গান গেয়ে মাছ, গেঁড়ি-গুগলি ধরছেন জেলেনিরা আর গানের জলে ভরা কলস কাঁখ থেকে নামিয়ে পুইনক্যা-হেলেঞ্চা-কলমির শাকঝোঁপে নিজেদের গান গাইছেন বউরা। তাঁর পথে পড়ল পাহাড়ের কোলে বসা ক্ষেত, যেখানে টুসু-ভাদু-জাওয়া-করমের সুরে ধান রুইছেন-কাটছেন কিষানীরা। ক্ষেতের ওপার জুড়ে গাঁ বসত। চন্দ্রা দিদিমণির কাছে সে তো  আদ্যোপান্ত গানের আরেক অপার পৃথিবী! যেখানে অগণিত অনাম্নী খেটে খাওয়া মেয়ে তাঁদের জীবন-জীবিকা-ঘর গেরস্থালির অনন্ত ঝুটঝামেলার মাঝে গানের হাল ধরে বেঁচে চলেছেন সেই কোন অজানা সময় থেকে। 

    শিলচর থেকে পুরুলিয়া। কোচবিহার থেকে ঝাড়গ্রাম। গোয়ালপাড়া থেকে বর্ধমান। প্রথমে খাতায় কলমে, সুরে-স্বরে-স্মৃতিতে তুলে এনে আর নব্বই দশকের শেষ থেকে "সদ্য কেনা ছোট ক্যাসেট রেকর্ডার" সমেত সুদীর্ঘ তিনটি দশক জুড়ে চন্দ্রা মুখোপাধ্যায় পৌঁছে গেছেন গাঁ দেহাতের মাটিলেপা ঘর দালানের বুকে। শ্রীহট্ট, রংপুর,ফরিদপুর কিংবা ঢাকা থেকে চলে আসা ছিন্নমূল মেয়েদের হাত ধরে যে গান ভেসে এসেছে উদ্বাস্তু কলোনির গলিপথে বিষন্ন বাঁকে, যে গান সুদূর অতীতে জন্ম নিয়েছে মালদা, মুর্শিদাবাদ, বাঁকুড়া, নদীয়া, হুগলি, হাওড়া আর দুই চব্বিশ পরগনার গ্রাম-গ্রামান্তরের নারীর জীবনে মননে;  সেই সব-সমস্ত ঠিকানায় অজস্রবার মেয়েদের অফুরান গানকথা খুঁজতে-শুনতে-শিখতে-বুঝতে ও অবশ্যই সংগ্রহ করতে গেছেন তিনি। এবং শহুরে সংস্কৃতি আর দ্রুত বদলাতে থাকা সময়ের গর্তে বাঙালি নারীর শ্রমগানের মহতী ঐশ্বর্য্য চিরতরে তলিয়ে যাওয়ার আগে সেই গান আগামী প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করে রেখেছেন সন্তানসম যত্নে। 

    শ্রমজীবী নারীর রচিত-গীত হাজারো গান সংগ্রহের তাঁর এই প্রায় অসম্ভব উদ্যমে-উদ্যোগে আগাগোড়া নিজেদের গান নিয়ে সামিল হয়েছেন খেটে খাওয়া অনাম্নী গ্রামীণ মেয়ের দল, বয়স্কা উদ্বাস্তু নারীরা, বাংলার নানা প্রান্তের সাংস্কৃতিক কর্মীবৃন্দ, লোকগান সংগ্রাহক, গবেষকরা সহ আরো অনেকে। তারপর একসময় সংগৃহীত গানগুলিকে  একটি বইয়ের অবয়বে গেঁথেছেন চন্দ্রা মুখোপাধ্যায়। বইটির নাম তিনি রেখেছেন, 'নারীর গান - শ্রমের গান', যা প্রকাশিত হয়েছে ২০২২ এর কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলার শেষলগ্নে। 'তবুও প্রয়াস' প্রকাশনা সংস্থা থেকে। 

    বইয়ের প্রতি অধ্যায়ের শুরুতে সাবলীল কলমে লেখিকা নাতিদীর্ঘ কিছু প্রাক-কথন তাঁর সংগৃহিত গানগুলির নিচে উল্লেখ করে দিয়েছেন প্রত্যেক গায়িকার নাম-সাকিন সহ গানটি সংগ্রহের সাল তারিখ.. সমস্ত কিছু। তবে স্বরলিপি লিপিবদ্ধ করলে বইটি বিপুল বপু হয়ে পড়তো বলে তিনি এই বইতে সেগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করেন নি। তবে যদি বইটির এই আলোচনা আর অবশ্যই বইটি পড়ে আগামীর পাঠক আগ্রহী হন, তবে লেখিকার নিজস্ব ইউ টিউব চ্যানেল গীদালিতে (https://youtube.com/@geedali8907) গিয়ে তাঁর নিজ কথা ও কন্ঠে অজস্র নারীশ্রমগান শোনার বিরল অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করতে পারেন। 

    ……..

    শুরুতেই নিজস্ব 'কথামুখ' এবং প্রথম অধ্যায় 'নারী শ্রম সংগীত'-এ লেখিকা পাঠককে দাঁড় করান কিছু মৌলিক প্রশ্নের মুখোমুখি। পুরুষতান্ত্রিক সভ্যতার গোড়া থেকেই ''নারীশ্রমকে দেখেও না দেখার প্রবণতা" চলে এসেছে গোটা দুনিয়াজুড়ে। তাই শ্রমিকদের "শ্রমসংগীত"-এর ধারণাও দীর্ঘদিন দুনিয়া জুড়ে সীমাবদ্ধ থেকেছে পুরুষদের কর্মসংগীতের গন্ডিতেই। স্বাভাবিকভাবেই রান্নাবান্না, সন্তানকে ঘুমপাড়ানো, মুড়িভাজা, ঝাঁটপাট বা রাত জেগে পরের দিনের গেরস্থালি গুছিয়ে রাখার মতো দৈনিক মেয়েলি কাজ ও সে সব সম্পৃক্ত গানকে শ্রমগানের স্বীকৃতি বা সম্মান দেওয়ার কথা মনেও আসেনি শুরুর দিকের কর্মসংগীত গবেষক তথা সংগ্রাহকদেরও। 

    পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় মেয়েদের কাজের যেমন শেষ নেই, তেমনি লেখাজোকা নেই তাঁদের কষ্টেরও। তবু কেউ জানুক না জানুক, দেখুক-বুঝুক বা না বুঝুক, কিচ্ছু পরোয়া না করে অনাদিকাল থেকে গোটা দুনিয়ার মেয়েরা কখনো আত্মকথনের ঢংয়ে-কখনো বা সমবেত স্বরে, কখনো বিষাদে - কখনো আনন্দে বেঁধেছেন-গেয়েছেন তাঁদের জীবনযুদ্ধের গান। 
    বাংলার কর্মজীবী মেয়েরাও এই ধারার এতটুকু ব্যতিক্রম নন। অযুত রকম তাঁদের গানের বিষয়, ভাষা বৈচিত্র্য আর সুরও। জনম থেকে মরণ, বিবাহ থেকে বিরহ, উৎসব থেকে প্রসব, ঘাটের আড্ডা থেকে ঘরোয়া কুটকাচালি, নবান্ন থেকে দারিদ্র-অনাহার; কেবল কাজই নয়, তাঁদের জীবনের সব ঘটনাই ছন্দে-সুরে ধরে এসেছেন গ্রামবাংলার মেয়েরা। ছন্দে-সুরে ধরে এসেছেন ভোরের মাটি লেপন, জ্বালানি সংগ্রহ, কোটা বাছা, কাচা ধোওয়া, কাঁথা সেলাই, ধান ভানা, হাটবাজার বা বিক্রিবাটার মতো তাঁদের উনকোটি ব্যস্ততার ফিরিস্তি।

    ……

    বইটির প্রতি অধ্যায়ে লেখিকা তাঁর সঙ্গে পাঠককে নিয়ে চলেন আশ্চর্য নানা গানসফরে। সে সফর যতখানি নারীগানের, ঠিক ততখানিই নারীজীবনেরও। ''চাষবাস খেতখামার'', ''শস্য থেকে খাদ্য'', "আহার্যের সন্ধান", "জল আনা", "ঘর সামলানো- হেঁসেল সামলানো"; এমন হরেক নামের অধ্যায়ে তিনি বিভাজিত করেছেন ভোর থেকে মাঝরাত্তির পর্যন্ত মেয়েদের হাজারো কাজ, হাজারো বিপত্তি আর হাজারো যাতনার কথা। অনিঃশেষ ব্যস্ততার মাঝে মূলত অনক্ষর সেই মেয়েরা নিজেদের সৃজনের জগতে কতখানি নিমগ্ন থেকেছেন উপরোক্ত অধ্যায়গুলি পড়লে-জানলে এবং পরবর্তীতে ভাবলে সত্যিই বাকরহিত হতে হয়!

    .........

    "মুল্লের বাড়ি ধান বাহিনতে পাও লাইগ্যা যায়
    দেন বাবু টাকা/সিধা দেন বাড়ি চইলহা যাই
    বাড়িতে আছে অচল মানুষ/কাঁচাছেলা
    আসতে পাবো নাই..."
    কাঞ্চন ও ফিরোজা বেওয়া/ সরলপুর/মুর্শিদাবাদ/২৬.১২.১৫

    "আমরা মাঠে মাঠে যাবো রে
    কতই মাছ পাবো।
    কী দিয়ে মাছ রান্দবো রে
    আমায় তেঁতুল এনে দিও..."
    মনোয়ারা ও শেফালি বিবি নলহাটি/বীরভূম/১.১৩.১৪

    "বাপের ঘরে ছিলাম পুষা পাখিটির মতো
    শ্বশুরঘরে পোড়া হাঁড়ি মাজে আমার গা হইল কালো"
    গেনু বাউরি/করকটা/বাঁকুড়া/১৬.৪.২০০৩

    "...হাতে নিলো কুলাডেলি মাথায় নিলো মাছ
    যায় যায় ডুমুনি আমার গৌরীপুরের হাট..।"
    নীহার বড়ুয়া/গোয়ালপাড়া/১৯৮৮

    "সে জমিতে বুনবো আমরা পঞ্চরত্ন ফুল হে
    নয়ন যত্ন ফুল হে
    সেই ফুল তুলে আমরা থানের সেবা করব হে
    গাছের সেবা করবো হে।"
    রূপালি, মাধবী, সুপ্রিয়া ঘোষ/
    ভগবানগোলা/মুর্শিদাবাদ/০২.১০.১৫

    "চলো সাধ খাওয়াতে যাই
    সাধ খাওয়াতে কী কী লাগে রাই…।"
    সরস্বতী, সবেদা মাহাতো/
    সন্দেশখালি/দঃ ২৪পরগনা/১৬.০৪.১৪

    "এ পাড়ার বউ-ঝি তোরা মাছ নিবি নাকি লো
    মাছ তো ধারে দিবো না
    বাড়িতে আছে ছেল্যার বাবা দিবে গঞ্জনা..।"
    হিরণ্ময়ী,তরু, বিরজা দেবনাথ
    নদীয়া/ কুমিল্লা/২০০০

    .......

    পাশ্চাত্যশিক্ষিত শহুরে বলিয়ে-কইয়ে-লিখিয়ে মেয়েদের আধুনিক নারীবাদী ডিসকোর্সের ঢের কাল আগে থেকে বাংলার অগণিত শ্রমজীবী মেয়ের রচিত-গীত এমন আশ্চর্য বৈচিত্রময় হাজারো নারীগানে-গানে থৈ থৈ হয়ে আছে চন্দ্রা মুখোপাধ্যায়ের বইখানি।

    জীবনের নানা ময়দানে নিত্য যুঝতে থাকা আমার মতো শহুরে চাকরিজীবী সংসারী মেয়ের কাছেও ব্যক্তিগতভাবে এই বইটির পাঠ বড় এক আবেগী অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে! বাংলার ডোমনি, কাটুনি, বেদেনি, রাঁধুনি, ছাতপিটানি, পরিচারিকা বা দাইয়ানীদের পেশাগত গান কত সুন্দর হতে পারে, হয়ত প্রথমবার এত বিশদে বোঝায় এই বই। স্বদেশ ভাবনা থেকে পরিবেশ চেতনাকে ছুঁয়ে হরেক উৎসব উদযাপন; কত অজানা ভাব-শব্দ-ছন্দের প্রয়োগে যে গান বাধা সম্ভব তা শেখায় এই বই। গ্রামের পেশাদারি গায়িকা অর্থাৎ 'গীদালি'র দল কিংবা মেয়ে পুরোহিতদের আশ্চর্য সব উপাসনাগীতকে চেনায় এই বই। অতিপরিচিত ষষ্ঠী-মনসা-টুসু-ভাদুগানের জগতে বহুকাল ধরে বসত করা তিস্তাবুড়ি, ঘাটো, ঘান্টুই ব্রতগানের বলিষ্ঠতা দেখে যেমন অবাক হতে হয়, তেমনই অবাক হতে হয় এটি পড়ে যে গাঁয়ের মেয়েরা সেই কবে থেকে মুড়িভাজা-চিঁড়েকোটা-বড়ি দেওয়া তো বটেই,  চা-পরোটা বানানো নিয়েও গান বেঁধেছেন, গান গেয়েছেন।

    …….

    'নারীর গান শ্রমের গান' পড়ে শেষ করার পর এক ঘোর লেগে থাকে। আসলে এ বইটি খেটে খাওয়া বাঙালি নারীর সুরকাহন মাত্র তো নয় বরং গানের এ বই তাঁদের আর্থসামাজিক, সাংস্কৃতিক তথা জাতিতাত্ত্বিক ইতিহাসের এক অনন্য সাক্ষরও বটে। ভিতরে কতখানি আত্মবিশ্বাসী- সংস্কারমুক্ত ও স্পষ্টবাক হলে পরে তবে মেয়েরা গঙ্গাকে রাজহাঁসের ডিম দিয়ে গানে গানে নিমন্ত্রণ করেন বা গান বাঁধেন রজোদর্শন, প্রসব, আঁতুড়ের কষ্ট নিয়ে। আসলে বইতে লিখিত বা গীদালি চ্যানেলে উপস্থাপিত হাজারো গান  ঔপনিবেশিক সংস্কৃতিপুষ্ট শহুরে পাঠকের সীমিত চেতনার সব হিসেব একদম গুলিয়ে দেয় আর শেষতক পাঠক উপলব্ধি করেন, সমস্ত অপ্রাপ্তি আর হাড়ভাঙা নিয়ত খাটনি স্বত্ত্বেও দেশে দেশে খেটে খাওয়া মেয়েরা এমন করে গান বেঁধে-গান গেয়ে এগিয়ে চলার ধক রাখেন বলেই, তাঁদের হাড়-মাংস-রক্তে-ঘামে তৈরি এই সমাজ দেশ আর গোটা দুনিয়াটা সমস্ত অন্ধকার স্বত্ত্বেও কখনো রসাতলে তলিয়ে যাবেনা। 

    …….

    'নারীর গান শ্রমের গান' বইটির মতো এক সর্বার্থে ব্যতিক্রমী গ্রন্থ প্রকাশ করে 'তবুও প্রয়াস' প্রকাশনা সংস্থা নিশ্চিতভাবে এক ধন্যবাদার্হ কাজ করেছেন। বইতে উল্লিখিত নারীগানের সকল রচয়িত্রী, গায়িকা, গবেষক, সংগ্রাহকদের কাছে পাঠকের যেমন ঋণের শেষ নেই, তেমনই গবেষক লেখিকা চন্দ্রা মুখোপাধায়ের কাছেও বাংলার মেয়েদের আর্থসামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসের বিশাল অথচ আবছায়া জগৎ চিরঋণী হয়ে থাকবে। কোনরকম প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা বিনে এতগুলি দশক ধরে এগিয়ে চলা তাঁর নিরবিচ্ছিন্ন প্রয়াসের মূল্যায়ন কোন পুরস্কার-সম্মাননা-ধন্যবাদজ্ঞাপন বা কৃতজ্ঞতা স্বীকারের মাধ্যমেই আমাদের পক্ষে কি করে ওঠা সম্ভব কখনো?

    …….

    বইয়ের শেষ ক'লাইনে এক উদ্বাস্তু পল্লীর ঘরোয়া গান সমাবেশে আগত বর্ষীয়ান মহিলাদের প্রণাম জানিয়ে লেখিকা লেখেন, "নানা উদ্বাস্তু পল্লীর বয়োজ্যেষ্ঠা মহিলারা একে একে নিজেরাই এসে জড়ো হয়েছেন, ফেলে আসা দেশের গানের সুরে সুর মেলাবেন বলে.."। কেবলই কি তাঁরা বা তাঁদের মতো আরো অনেকেই আমাদের প্রনম্যা? তাঁদের গানজীবনের কথা যিনি নিজের গোটাজীবন  দিয়ে আমাদের কাছে এনে দিলেন, সেই মানুষটির কাছে "কতটা প্রণত হলে" তাঁর অতিক্রান্ত পথের "একটু ধুলো মাথায় ছোঁয়াতে" পারা যাবে, সত্যিই জানা নেই আমার! বাঙালি নারীর শ্রমগানের নিমগ্ন গবেষক, 'নারীর গান শ্রমের গান' বইটির স্বপ্নদর্শী রচয়িত্রী, সহজ সুরের সাধিকা চন্দ্রা মুখোপাধ্যায়কে তাঁর তুচ্ছ এক পাঠিকার সশ্রদ্ধ প্রণাম।।

    বই : 'নারীর গান শ্রমের গান'
    লেখক : চন্দ্রা মুখোপাধ্যায়
    প্রকাশক : তবুও প্রয়াস প্রকাশনা সংস্থা
    মূল্য : ভারতীয় ৩৫০ টাকা
    লেখকের নিজস্ব ইউ টিউব চ্যানেল : গীদালি
    লিঙ্ক : https://youtube.com/@geedali8907

     
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • অন্যান্য | ১১ মার্চ ২০২৩ | ৪৮১ বার পঠিত
  • আরও পড়ুন
    আকুতি  - Rashmita Das
    আরও পড়ুন
    ইঁদুর  - Anirban M
    আরও পড়ুন
    ** - sumana sengupta
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লুকিয়ে না থেকে মতামত দিন