এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • মুসলিম নারী শিক্ষা: একটি সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন

    Eman Bhasha লেখকের গ্রাহক হোন
    ০৮ মার্চ ২০২৩ | ৬৬৩ বার পঠিত | রেটিং ৪.৩ (৪ জন)
  • মুসলিম মহিলা বিষয়ে কিছু কথা
    ইমানুল হক

                ধর্মের সম্পর্কে কেউ বাড়াবাড়ি করবে না। এই বাড়াবাড়ির জন্য বহু জাতি ধ্বংস হয়ে গেছে।
                হজরত মহম্মদ।। ৬৩২ খ্রিস্টাব্দের ১৭ মার্চ আরাফত ময়দানে শেষ ভাষণে
    ১.
    ‘ইসলাম’ শব্দের অর্থ ‘শান্তি’। ‘মসজিদ’ শব্দের অর্থ ‘একজনের জন্য আনত হওয়ার স্থান’। প্রথম যিনি ইসলাম ধর্মগ্রহণ করেন, তিনি একজন, মহিলা। হজরত খাদিজা (৫৫৫ খ্রি - ২২ নভেম্বর ৬১৯ খ্রি)। ২৫ বছর বয়সে হজরত মহম্মদের সঙ্গে মহিয়সী খাদিজার বিবাহ হয়। খাদিজা ছিলেন ধনী বিধবা। তার বয়স মহম্মদের থেকে ১৫ বছর বেশি ছিল। খাদিজাও ছিলেন কোরেশ বংশীয়। আশাদ বংশের খুয়াইলিদ-এর কন্যা খাদিজা। তিনি ছিলেন রূপবতী ও ধনবতী বিধবা। খাদিজার এটি তৃতীয় বিবাহ। 
    খাদিজা যতদিন বেঁচেছিলেন মহম্মদ আর দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণ করেননি। মহম্মদের বয়স যখন ৫২ আর তখন খাদিজার মৃত্যু ঘটে। খাদিজা আকৃষ্ট হয়েছিলেন যুবক মহম্মদের সততা, নিষ্ঠ, কতর্ব্যপরায়ণতা আর সত্যবাদিতা দেখে। বিয়ের পর অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি দেখা দিল মহম্মদের জীবনে। অবসর পেলেন ধর্মানুরাগ অনুশীলনের। তিনি নির্জনে ধ্যান করতেন। চলে যেতেন হীরা পর্বতের গুহায়। এর মধ্যে ৫৯৫ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হল একটি সংঘ---‘হিলফুল ফুজুল’।
    ‘হিলফুল ফুজুল' জুরহুম বংশীয়দের মধ্যে প্রচলিত একটি পুরোনো সংগঠনের নাম। পুনর্গঠিত এই সংগঠনের উদ্দেশ্য ছিল---মক্কায় বাসরত ও আগত মানুষদের জোরজবরদস্তি ও অন্যায় জুলুম এবং রাহাজানির হাত থেকে রক্ষা করা। আব্দুল মুত্তালিবের মৃত্যুর পর যে ১০ জন শরিফ-এর হাতে মক্কার শাসনভার বিভক্ত হয়েছিল তাদের মধ্যে উপযুক্ত সমন্বয় ছিল না। ফলে খানিকটা মাৎস্যন্যায় চলত। মক্কাবাসীরা হয়তো আত্মীয়তা ও রক্ত সম্পর্কের জোরে বাঁচত কিন্তু অতিথি বা আগন্তুকরা পড়তেন বিপদে। একজন অতিথি কবি হানজালা (আবু তামাহান নামে সুপরিচিত) প্রকাশ্যে লুণ্ঠিত হন। বহু আগন্তুকেরই এই অভিজ্ঞতা ঘটে। স্ত্রী-কন্যা পর্যন্ত লুণ্ঠিত হতে শুরু করে। এর প্রতিকার কল্পে ২৫ বছরের তরুণ যুবক মহম্মদ সংগঠিত প্রচার শুরু করলেন। তার নেতৃত্বে হাশিম ও মুত্তালিব পরিবারের উত্তরাধিকারী এবং জুহরা ও তায়াম পরিবারের প্রধান সদস্যগণ প্রতিষ্ঠা করলেন ‘হিলফুল ফুজুল’। শপথ নেওয়া হল,
    ‘মক্কাবাসী বা আগন্তুক, নাগরিক বা দাস, মক্কার যে-কোনো এলাকায় তাঁর প্রতি অন্যায় অবিচার, অত্যাচার জুলুম হলে সংঘ তার প্রতিবিধান করবে এবং জুলুমকারীকে শাস্তি দেবে।’
    এই সংঘ মহম্মদকে জনপ্রিয় করে মক্কা এবং মক্কার বাইরে।

    হজরত মহম্মদ প্রবর্তিত ইসলাম ধর্ম জনপ্রিয়তা অর্জন করে কতকগুলি বিশেষ কারণে, এর মধ্যে নারীসমাজের অধিকার একটি বড় বিষয় :
    ক।। ক্রীতদাসদের মুক্তি দান। একজন ক্রীতদাসও ইসলামে শাসক হতে পারেন। 
    খ।। বেগার প্রথার অবসান, সূর্যাস্তের পূর্বে মজুরি দেওয়ার বিধান
    গ।। পরধর্ম সহিষ্ণুতা ও পরমত সহিষ্ণুতা
    ঘ।। সুদহীন অর্থনীতি
    ঙ।। গরিব ও বড়লোকের সমান সম্মান। এক থালায় খাওয়া, এক আসনে বসার অধিকার।বংশমর্যাদা কৌলিন্য, পদবী--এই সব সামন্ততান্ত্রিক প্রথার অবসান। 
    চ।। স্বেচ্ছায় জাকাত ও ফেতরা তথা নিজের  রোজগারের অর্ত দান
    ছ।। মানুষের অলৌকিক ক্ষমতা নেই—একথা বলা
    জ।। কেউ কোন মানুষের পায়ে হাত দেবে না। আলিঙ্গন করবে বা করমর্দন
    ঝ।। ধর্মাচরণের জন্য কোন পুরোহিত বা পাদ্রির প্রয়োজনহীনতা। যে কেউ ইমামতি করতে পারেন
    ঞ।। ধর্মীয় আচরণের জন্য কোন অর্থ প্রদান না করা
    ট।। কেউ ধর্মের নামে ব্যবসা করতে পারবে না
    ঠ।। শিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া
    ড।। শাসক বা ধর্মীয় প্রধান যিনিই হোন ন্তাঁকে রোজগার করে খেতে হবে। রাষ্ট্র বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান কোন অর্থ দেবে না
    ঢ।। শিক্ষাবিস্তারকে গুরুত্ব দেওয়া
    ণ।। কোন ব্যক্তির মূর্তি বা ছবি পূজা বা আরধনা নয়। নিরীশ্বর তত্ত্বের কথা বলা।
    ত।। সমাজের অর্ধেক আকাশ যে নারী সমজ তাঁদের সুরক্ষার ব্যবস্থা করা।
    থ।। কন্যাভ্রূণ হত্যা নিষিদ্ধ করা
    দ।। নারীদের সম্পত্তির অধিকার দান
    ধ।। নারীদের তালাক পাওয়ার ও তালাক  দেওয়ার অধিকার দান। যার নাম ‘খোলা’
    ন।। প্রেমজ বিবাহকে স্বীকৃতি দেওয়া
    প। বিবাহযোগ্য কোন নারী শ্রেয়? কোরান বলছে—স্বাধীনা নারী।
    ফ।। পুরুষের বিবাহের সর্বোচ্চ সংখ্যা বেঁধে দেওয়া। সর্বোচ্চ ৪টি।কোরানে আছে – মসনা অ সোলেসা অ রাবেয়া অ। এক একটি দুইটি তিন তিনটি চার চারটি। প্রথমা স্ত্রীর সম্মতি ছাড়া বিবাহ অসিদ্ধ একথাও বলা হয়েছে কোরানে। 
    ব।। মেয়েদের দেনমোহর বা অর্থপ্রদান করা
    ভ।। বিয়ের রেজিস্ট্রিকরণ। মুসলিম বিয়ে মানেই রেজিস্ট্রি বিয়ে। যার নাম ‘কাবিননামা’ স্বাক্ষর।
    বিয়ের রেজিস্ট্রির আগে কনের তিনবার অনুমতি বা সম্মতি নেওয়ার আইন প্রচলন। কবুল বলা।
    অর্থাৎ পরিবার যদি মেয়েকে না জানিয়ে বা জোর করে বিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করে একেবারে বরের বাড়ি কনের বাড়ি এবং বিয়ের মজলিস বা আসরের তিনজন প্রতিনিধির সামনে কনেকে না বলার অধিকার দেওয়া। বরপক্ষ কনেপক্ষ এবং সভার তি্ন প্রতিনিধি কনেকে গিয়ে তিনবার বরের বংশবিবরণ কন্যার বংশবিবরণ এবং দেনমোহরে টাকার অংক তিন বার করে জানিয়ে কনের সম্মতি এনে সভাকে জানালে তবে মুসলিম বিয়ে হয়। বলবেন , নিয়ম আছে, মানা হয় কি? হয়।  আমার নিজের মা জাহানারা হক ৬৪ বছর আগে, ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে বরযাত্রী নিয়ে বিয়ে করতে আসা বরকে ‘শাদি কবুল’ না বলে  বিয়ের আসর থেকে বর ফিরিয়ে  দিয়ে নিজের পছন্দের পাত্র আমার বাবা এনামুল হককে বিয়ে করেছিলেন। 
    ম।। বিবাহবিচ্ছিন্না ও বিধবাদের বিয়ের অধিকার। হজরত মহম্মদ বিধবা এবং বিবাহবিচ্ছিন্নাকে বিয়ে করেন।
    য।। বিবাহিত মেয়েদের কোন বিবাহচিহ্ন না থাকা
    র।। প্রকাশ্যে ধর্মাচারণের অধিকার, ইমামতির অধিকার। আগ্রাতে শাহজাহানের আমলে তৈরি মোতি মসজিদ আছে। ঢাকায় মুসলিম মহিলাদের মসজিদ আছে।  


    এখানে বৃহত্তর সমাজে প্রচলিত ধারণার সঙ্গে অনেকেই মিল পাচ্ছেন না। মুসলিম নারী মানেই বোরখা, পর্দা, কুসংস্কারে ডুবে থাকা বোঝেন। কিন্তু কথাটি সত্য নয়। এস. ওয়াজেদ আলি তাঁর লেখায় বলেছেন। হজরত মহম্মদের সময় পর্দা তথা অবরোধপ্রথা  ছিল না। হজরত মহম্মদ ও তাঁর  শিষ্যদের মৃত্যুর অনেক পরে আমদানি করা হয়েছে।   ইরানি প্রভাবে পরে ঢোকে। (এস ওয়াজেদ আলী, তুর্কি হানুম, এস ওয়াজেদ আলি রচনাবলী, ১ম খণ্ড, পৃ ৯০, উদ্ধৃত, আনোয়ার হোসেন,  স্বাধীনতা সংগ্রামে বাংলার মুসলিম নারী, পৃ. ৫৩)।
    হজরত মহম্মদের তরুণী পত্নী আয়েষা একাধিক যুদ্ধে অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেন। পুরুষের সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধ। বোরখা পরে যুদ্ধ করা কি সম্ভব? হজরত মহম্মদের কন্যা ফতেমার স্বামী হজরত আলীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে হজরত আয়েষা নেতৃত্ব দেন। হজরত আয়েষা লেখাপড়া জানতেন। প্রকাশ্যে পুরুষের সঙ্গে বিতর্ক করতেন। হজরত মহম্মদের মৃত্যুর পর তিনদিন তাঁর দেহ কবর দেওয়া হয় নি। খলিফা পদ নিয়ে বিতর্কে হজরত আয়েষা  নির্ণায়ক ভূমিকা নেন, তাঁর পিতার পক্ষে সওয়াল করে। 


    খ্রিস্টান স্ত্রী মরিয়মের গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন হজরত মহম্মদের পুত্র ইব্রাহিম। হজরত মহম্মদের সব কন্যা। পুত্র নেই। তাই তাঁকে বিরোধীরা বাঁজা বলে ব্যঙ্গ করতো। হজরত মহম্মদের পুত্র ইব্রাহিম শিশু অবস্থাতেই মারা যান । ৬৩২ খ্রিস্টাব্দের ২৭ জানুয়ারি। ওই দিন সুর্যগ্রহণ হয়। মহম্মদ কুসংস্কারে বিশ্বাসী ছিলেন না। তাই সঙ্গী মুসলমানদের বলেন, ‘এর সঙ্গে আমার পুত্রের মৃত্যুর কোনো সম্পর্ক নেই’।
    রায়হানা বিনতে জায়দ ছিলেন হজরত মহম্মদের আরেক স্ত্রী। তিনি জন্মসূত্রে ছিলেন ইহুদি। দাসী হিসেবে আনীত হন। পবিত্র মহম্মদ তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। প্রথমে রায়হানা রাজি হন না। আলাদা থাকার প্রস্তাব দেন। পবিত্র মহম্মদ তাতে সম্মতি জানান। পরে রায়হানা তাঁকে বিয়ে করেন। 
    এ বিষয়ে দুটি মত প্রচলিত।
    এক,  রায়হানা মুসলমান হয়েই ছিলেন।
    দুই, রায়হানা স্বেচ্ছায় ‘খোলা’ প্রথা ব্যবহার করে বিচ্ছেদ নিয়ে ইহুদি সম্প্রদায়ে ফিরে যান। উনিশ শতকের প্রখ্যাত মুসলিম গবেষক শিবলি নোমান এই দ্বিতীয় মতের সমর্থক। 
    অনেকে তালাক নিয়ে না জেনেই সমালোচনা করেন। তালাকের জন্ম হয়েছিল, কারণ বহু পুরুষ স্ত্রী্কে বিচ্ছেদ না করেই ত্যাগ করতেন। তাঁকে স্ত্রীর অধিকার, সম্মান কিছুই দিতেন না। মহিলা বিয়েও করতে পারতেন না। কিছুই করতে পারতেন না। এই অত্যাচার থেকে বাঁচতে তালাক প্রথার জন্ম। যদিও তালাকের অপব্যবহার নিয়ে সতর্ক ছিলেন হজরত মহম্মদ। একসঙ্গে তিন তালান নিষিদ্ধ কোরানে। তিন মাসে তিন ঋতুকালে বলতে হয়। সাক্ষী রেখে। রাগের মাথায় বলা তালাক বেআইনি।


    হজরত আয়েষা বিদুষী নারী। রণনিপুণা। সম্মুখসমরে অংশ নেওয়া কুশলী যোদ্ধা।  হজরত মহম্মদের কন্যা ফতেমা দানশীলা।  হজরত মহম্মদের প্রপৌত্রী হজরত আলীর নাতনি  ওরফে সুকাইনা প্রথম নারী যিনি প্রকাশ্যে কবিতার আসর বসান। তাঁর বন্দনা করে কবিরা পাগল হতেন।  নারীর বিচ্ছেদের অধিকার  ‘খোলা’ প্রয়োগ করে একাধিকবার স্বামী ত্যাগ করেন। ‘আরব জাতির ইতিহাস’ লেখক ফিলিপ কে হিট্টি লিখছেন—দু হাতের আঙ্গুলে ধরত না সে সংখ্যা (ফিলিপ কে হিট্টি, আরব জাতির ইতিহাস, পৃ ২২৬)। বিবাহের আগেই পূর্ণ সম্পর্ক্সথাপনের স্বাধীনতা অপরিহার্য মনে করতেন সুকাইনা (ফিলিপ কে হিট্টি, আরব জাতির ইতিহাস, পৃ ২২৬)। ‘সুকাইনার শিক্ষা দীক্ষা এবং সঙ্গীত-কবিতায় আগ্রহ, তাঁর রুচি তাঁকে খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছে দেয়। দ্রুত তিনি সৌন্দর্য, সাহিত্য এবং ফ্যাশনের একনম্বর স্রষ্টা হয়ে ওঠেন। সুরুচি ও চকিত রসবোধেও তিনি সমান পারদর্শিনী ছিলেন।  মুসলিম সমাজের ইতিহাসকার আগানিকে উদ্ধৃত করে লিখছেন ফিলিপ কে হিট্টি। (আরব জাতির ইতিহাস, পৃ ২২৬)। সুকাইনার এক প্রতিদ্বন্দ্বিনী ছিলেন  আয়িশা বিনতে তালিহা। ইনি বাস করতেন মক্কা-মদিনার গ্রীষ্মকালীন অবকাশকেন্দ্র আল তাইফে। আয়িশার মাসী ছিলেন হজরত মহম্মদের স্ত্রী আয়েষা। আয়েষার বোন খলিফা  আবু বকরের মেয়ে ছিলেন আয়িশার মা। বাবা তালহা ছিলেন হজরত মহম্মদের বিশ্বস্ত অনুগামী। আয়িশার মধ্যে মহান বংশধারা, অসাধারণ সৌন্দর্য এবং প্রবল গর্ব এবং অহঙ্কারের সমাবেশ ঘটে। আয়িশা বিবাহ বিচ্ছেদের অধিকার ‘ খোলা’ প্রয়োগ করে তিনবার বিবাহ করেন। সুকাইনা ( সখিনা) এবং আয়িশার সঙ্গে বিয়ে হয় এক বিয়ে হয় বিখ্যাত তরুণের যুবাইর। দুজনের সঙ্গেই বিয়ে এবং বিচ্ছেদ ঘটে। ১০ দিরহাম করে দেনমোহর বা যৌতুক দেন দুই প্রতিদ্বন্দ্বিনীকে। বোরখায় কেন মুখ ঢাকেননি আয়িশা, কৈফিয়ৎ চান যুবাইর। জবাবটি স্মরণীয়—
    ‘আল্লাহ আশীর্বাদ এবং প্রশংসার প্রতীক। সেই আল্লাহ আমার গায়ে সুন্দরীর ছাপ দিয়েছেন। তাই আমার ইচ্ছা, সৌন্দর্যের ভাগীদার জনগণও। সেই জনগণের প্র্তি আল্লাহর স্বীকৃতি পাক। সেজন্যই আমি আমার মুখ আবৃত করব না। (সূত্র: আগানি, ৩য় খণ্ড, পৃ ১২২,  উদ্ধৃত, ফিলিপ কে হিট্টি, আরব জাতির ইতিহাস, পৃ ২২৬)।


    কবে ইসলাম এল ভারতে? একটু ইতিহাসে মুখ ফেরানো যাক। ভারতে প্রথম মসজিদ স্থাপিত হয় কেরলে। বর্তমান ত্রিশূর জেলার কোদানগাল্লুর তালুকের মেথালায় ৬২৯ খ্রিস্টাব্দে। এ থেকেই বোঝা যায় কেরলে মুসলিমরা ছিলেন। কেরলের এক রাজা প্রথম চেরামন পেরুমল (তাজুদ্দিন) মুসলিম ধর্মগ্রহণ করেন ৬২৮ খ্রিস্টাব্দে। (দ্রষ্টব্য: কে এ নীলকন্ঠ শাস্ত্রী, এ হিস্টরি অফ সাউথ ইণ্ডিয়া)। রাজা প্রথম চেরামন পেরুমল (তাজুদ্দিন) মুসলিম ধর্মগ্রহণ করেন হজরত মহম্মদের কাছে। ফেরার পথে সমুদ্র ঝড়ে মারা যান। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর ছেলেও ইসলাম ধর্মগ্রহণ করে শাসনকার্য চালান। তিনিই গড়েন ভারতের প্রথম মসজিদ মালিক আল দিনারের সহায়তায়। । দিল্লিতে কোন জন্মসূত্রে মুসলিম রাজার শাসনের শুরু ১১৯২ খ্রিস্টাব্দে। মুসলিম শাসকদের ওপর তাঁদের মা বা স্ত্রীর কর্তৃত্বের বহু কাহিনি মেলে। (প্রসঙ্গত, বৌদ্ধ রাজা হর্ষবর্ধনের বোন রাজ্যেশ্বরী স্বামীর মৃত্যুর পর সম্মানজনক স্থান লাভ করেন শাসনকাজে। বৈদিক যুগে অপালা, গার্গী, মৈত্রেয়ীদের নাম মেলে বিদুষীরূপে। শাসনকর্ত্রীরূপে নয়)। দিল্লিতে মহম্মদ ঘুরির শাসনকাজ পরিচালনা করেন কুতুবুদ্দিন আইবক (১২০৬-১২১০)। কুতুবুদ্দিন আইবকের হাতে দাসবংশের পত্তন। তাঁর মৃত্যুর পর আরাম শাহ এক বছর রাজত্ব করেন। এরপর সিংহাসনে বসেন ইলতুৎমিস (১২১১-৩৬)। ইলতুৎমিসের অবর্তমানে ১২২৯ খ্রিস্টাব্দে দিল্লি শাসন করেন রাজিয়া। ১২৩৬ এ ইলতুৎমিসের মৃত্যুর পর ক্ষমতাশালী হয়ে ওঠেন তাঁর স্ত্রী শাহ তুরকান। পুত্র রুকনুদ্দিন ফিরোজকে বসান ক্ষমতায়। রুকনুদ্দিন বিলাসী অযোগ্য শাসক। শাসন পরিচালন করতে থাকেন মা শাহ তুরকান। তাঁর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে বিদ্রোহ হয়। ছয় মাস রাজত্ব করে সপুত্র নিহত হন শাহ তুরকান ১১ নভেম্বর ১২৩৬। কিন্তু বলার কথা এই, এই প্রথম এক নারী এক বিশাল সাম্রাজ্য বকলমায় শাসন করলেন। ( বল্লালসেনের উপপত্নী পদ্মিনীও অবশ্য পেছন থেকে কাজ চালাতেন বলে জনশ্রুতি)। আসলে তুর্কি রাজারা বহন করে এনেছিলেন আব্বাসিয় পরম্পরা যেখানে নারীর উচ্চস্থান ছিল। পারসিক ঐতিহ্য অনুযায়ী, সম্রাটের মায়ের ক্ষমতা স্ত্রীর চেয়ে বেশি।এদের উপাধি হতো মালিকা-ই-জাহান, মখদুমা-ই-জাহান। ( আই এইচ কোরেশি, দিল্লির সুলতানদের শাসন ক্ষমতা, পৃ-৬৫, উদ্ধৃত—রেজাউল করিম, রাজকীয় মোগল মহিলাদের ইতিহাস, পৃ-৫১)।
    সুলতানা রাজিয়ার দিল্লির ক্ষমতালাভ মুসলিম নারী সম্পর্কে ধারণার মূলে একটি কুঠারাঘাত। পিতা তাঁকে উত্তরাধিকারী মনোনয়ন করে যান, পুত্র থাকা সত্ত্বেও। আমির ওমরাহরাদের এক বড় অংশ তাঁকে চান, তার সুদক্ষ শাসন পরিচালনার জন্য। পুরুষের বেশে ঘোরাফেরা করতেন তিনি। যুদ্ধে সক্রিয় অংশ নিতেন। রণনিপুণ যোদ্ধা তিনি। বঙ্কিমচন্দ্রের ‘কপালকুণ্ডলা’ উপন্যাসের মোতিবিবি পুরুষবেশে ঘোরাফেরা করতো। সুলতানা রাজিয়ার প্রভাব পড়েছে । বঙ্কিমের একাধিক উপন্যাসে নারীর পুরুষ বেশ পাবেন। সুলতানা রাজিয়ার প্রভাবে অনেক মহিলাই রাজনীতিতে অংশ নিতে আগ্রহী হন। 

    সুলাতানা রাজিয়ার পর রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা নেই জালালুদ্দিন খিলজির স্ত্রী মালিকা-ই-জাহান। জালাল্লুদ্দিন খিলজির মৃত্যুর পর জ্যেষ্ঠপুত্র আরকালি খানের দাবি অগ্রাহ্য করে নিজের পুত্র রুকনুদ্দিন ইব্রাহিমকে ক্ষমতায় বসাতে সক্রিয় হোন। শেষপর্যন্ত অসফল। সম্রাট হন জামাই আলাউদ্দিন খিলজি। আলাউদ্দিন খিলজিও কয়েকটি ক্ষেত্রে হারেমের মহিলাদের দ্বারা প্রভাবিত হন। ( জিয়াউদ্দিন বরনি,  তারিখ-ই-ফিরুজ শাহি, পৃ-৩৯
    উদ্ধৃত—রেজাউল করিম, রাজকীয় মোগল মহিলাদের ইতিহাস, পৃ-৫১)। মহম্মদ বিন তুঘলক তাঁর মায়ের প্রটি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। রাষ্ট্রীয় ব্যাপারে প্রভাব খাটাতেন তিনি। মহম্মদ বিন তুঘলকের মৃত্যুর পর তাঁর  বোন খুদাভাঞ্জাদা নিজের ছেলে দাওয়ার বখশকে ক্ষমতায় বসাতে চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। ( ঈশ্বরী প্রসাদ, হিস্টরি উরনাহ তুর্কস ইন ইণ্ডিয়া, পৃ ৩১০)। তিনি ফিরুজ শাহকে হত্যার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ। প্রসঙ্গত ফিরিজ শাহ তুঘলকের ম্যা ছিলেন হিন্দু রমণী।  লোদি বংশের নারীরাও রাজনীতিতে ছিলেন সমান সক্রিয়। সিকন্দার লোদির মা অম্বা ছিলেন হিন্দু। এই কারণে  তাঁর ক্ষমতালাভে কাঁটা হন বাহলোল লোদির ভাগ্না। তখন সক্রিয় ভূমিকা নিয়ে অম্বা পুত্র নিজাম খানকে সিংহাসনে বসান। সিংহাসনে বসে নিজাম খান ওরফে সিকন্দার লোদি নিজেকে নিষ্ঠাবান মুসলমান প্রমাণে প্রয়াসী হন। ফিরুজ তুঘলক ও সিকন্দার লোদি নারীদের তীর্থভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার মতো অন্যায় আদেশ জারি করেন। 
    তবে মুঘল সম্রাট বাবরের আগে কেউ কোন মুসলিম নারীকে রাজসভায় সিংহাসনে সমান মর্যাদায় বসান নি। তাঁর স্ত্রী ছিলেন  মাহিম বেগম।  তৈমুর ও চেঙ্গিস পরিবারের মেয়েরা যেতেন যুদ্ধক্ষেত্রে। লড়াইয়ে অংশ নিতেন। বাবরের নানি আইসান দৌলত বেগম  বাবরের হয়ে শাসনকাজ চালান।  বাবরের ম্যা কুতলুঘ নিগার খানম –ও ছিলেন অত্যন্ত সক্রিয় মহিলা। বাবরের মৃত্যুর পর স্ত্রী ছিলেন  মাহিম বেগম আড়াই বছর রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা নেন। বাবরের পুত্র হুমায়ুনের বোন গুলব্দন বেগম ছিলেন অত্যন্ত শিক্ষিতা ও রাজনীতি নিপুণা। আকবরের ম্যা ছিলেন ব্যবসায় যুক্ত। তাঁর জাহাজ বিদেশে বাণিজ্যে যেতো। জাহাঙ্গিরের স্ত্রী নূরজাহানের প্রভাব সর্বজনবিদিত। তাঁর নামে মুদ্রা পর্যন্ত প্রচলিত হয়। নূরজাহান ছিলেন এক সুকবি ও শিল্পী। মমতাজ বেগম শাহজাহানের স্ত্রী । তাঁর পরামর্শেই সৈন্যদের স্বাস্থ্য ফেরাতে বিরিয়ানি রান্নার প্রণালী সম্রাট দরবার থেকে আমজনতার দরবারে আসে। শাজাহানের কন্যা জাহানারার দরবারে ছিল বিশাল প্রতিপত্তি। তাঁর বার্ষিক আয় ছিল ত্রিশ লক্ষ স্বর্ণমুদ্রা। আওরঙ্গজেব ক্ষমতায় আরোহণের পর ব্যয় সংকোচ করলেও জাহানারার প্রভাব ও  প্রতাপের কথা ভেবে তাঁর বার্ষিক ভাতা কমাননি।  দিল্লির চাঁদনিচক বাজারের প্রতিষ্ঠায় জাহানারার অবদান অনস্বীকার্য। 
    আওরঙ্গজেবের কন্যা জীবন্নেসা বঙ্কিমচন্দ্রে কল্যাণে ভুল ভাবে বাঙালি মনে চিত্রিত। তিনি অত্যন্ত সুন্দরী ও বিদুষী। কবয়ী হিসেবে খ্যাতিমান। তাঁর সাহিত্যিক নাম ছিল জাইব। লিখতেন মাকফি নামে। ইরানের সম্রাট শাহ আব্বাসের দ্বিতীয় পুত্রের সঙ্গে তাঁর বিয়ে ঠিক হয়। 
    কিন্তু জীবন্নেসার ব্যক্তিত্ব এতদূর ছিল যে তিনি বিয়ের আগে তাঁকে দেখে পরীক্ষা করে নিতে চান। জানবেন মেধা কেমন।
    ভাষার চাতুরিতে শাহজাদা এক রকমের মিষ্টির জনয অনুরোধ করেন এর অর্থ চুম্বনও হতে পারে। এত বিরক্ত হয়ে বিয়ে করতে অস্বীকার করেঞ জীবন্নেসা। ক্ষমা চেয়েও শাহজাদীর মন পাননি শাহজাদা। (ওয়েস্ট ব্রুক, দেওয়ান জিবন নিসা , পৃ ১০-১১)।
    বাংলার নবাব আলিবর্দি স্ত্রীর পরামর্শে ভাস্কর পণ্ডিতকে হত্যা করে বর্গি সমস্যার কিছুটা সমধান করেন নবাব। আলিবর্দির কন্যা ঘসেটি বেগম রাজনীতিতে অতি সক্রিয়। সিরাজের বিরুদ্ধ জোতে যোগ দেন। মীরজাফরের পুত্র মীরন তার যোগ্য পুরস্কার দেন জলে ডুবিয়ে মেরে। 
    সিরাজ পত্নী লুৎফা বেগমের সাহস ও ত্যাগ তো সর্বজনস্বীকৃত। অযোধ্যার বেগম হজরত মহল সিপাহি বিদ্রোহে সাহসী ভূমিকা নেন। সেই সময় মুসলিম বাইজীরা অস্বীকার করেন গোরা সৈন্যদের পরিচর্যা করতে। 


    একটা ধারণা আছে, মুসলিম নারীরা শিক্ষা লাভ করত না। ভুল ধারণা। প্রথাগত বিয়ে বি এ , এম এ ছিল না, কিন্তু সম্পন্ন পরিবারে কোরান শিক্ষা দেওয়া হতো। পুঁথি পড়তে পারতেন। নিরক্ষর নন। একথা হিন্দু সমাজেও প্রযোজ্য। ‘রামায়ণ’ ‘মহাভারত’ অনেকেই পড়তেন। গ্রামীণ সমাজেও যে পড়তে পারতেন মহিলারা, তার একাধিক প্রমাণ আছে ‘মৈমনসিংহ গীতিকা’য়। মলুয়া চিঠি লিখছেন ভাইদের। চন্দ্রাবতী তো ‘রামায়ণ’ লিখে ফেলছেন। ইংরেজের প্রথাগত বিদ্যালয় শিক্ষার সূচনা মুসলিম নারীদের মধ্যে হয় কলকাতার  শ্যামবাজারে ১৮২২ খ্রিস্টাব্দে। সেই বিদ্যালয়ের ছাত্রী সংখ্যা ছিল সেকালের বিচারে অনেক। ৪৫। প্রথমে ১৮ জন। পরে সংখ্যা বেড়ে ৪৫। একজন মুসলিম মহিলা সেই স্কুল চালু করেন। (দ্র. বিনয় ঘোষ, বিদ্যাসাগর ও বাঙালী সমাজ, পৃ -২১৩)। ১৮৬৮তে নবাব আবদুল লতিফ বেঙ্গল সোসাল সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশনের সভায় বাঙালি মুসলিম নারী সমাজের সমস্যা নিয়ে আলোকপাত করেন। সৈয়দ আমীর আলি ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দে মোহামেডান কনফারেন্সে সভাপতির মেয়েদের শিক্ষা পুরুষের সমান্তরাল হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন। এর আগে ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে এক ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটে। ‘১৮৯৬ সালে কলকাতার প্রভাবশালী ডাক্তার জহিরুদ্দিন আহমেদের কন্যা বেথুন কলেজে ভর্তি হতে পারেন নি। কারণ সেখানে মুসলিম মেয়েদের প্রবেশাধিকার ছিল না। এতে মুসলমান সমাজে প্রচণ্ড আলোড়নের সৃষ্টি হয়। এর প্রায় দেড়মাস পরেই বিশিষ্ট ব্যক্তি ব্যারিস্টার ই.এ. খোন্দকারের বাড়িত এক সভায় মিলিত হন (১০ মে ১৮৯৬)’। উদ্দেশ্য মুসলিম মেয়েদের জণ বড় আকারে বিদ্যালয়। ১৮৯৭ খ্রিস্টাব্দে ১৯ জানুয়ারি বিদ্যালয় হল। উদ্বোধন করেন লেডি ম্যাকেঞ্জি (বামাবোধিনী পত্রিকা, সংখ্যা ৩৮৫, ফেব্রুয়ারি ১৮৯৭, উদ্ধৃত, আনোয়ার হোসেন,  স্বাধীনতা সংগ্রামে বাংলার মুসলিম নারী, পৃ ৫৩)। স্যার সৈয়দ আহমেদ ১৮৭৩ খ্রিস্টাব্দে আলিগড়ে মুসলিম নারীদের শিক্ষার উদ্যাগ নেন। একই বছরে বর্তমান বাংলাদেশের কুমিল্লায় ফয়জুন্নেসা চৌধুরী ইংরেজি উচ্চ বিদ্যালয় স্থাপন করেন নারী শিক্ষার জন্য। শোনা যায়, ১৯০২ পর্যন্ত কোন মুসলিম ছাত্রী জোটেনি। মুসলিম নারীদের শিক্ষায় অগ্রগণ্য ভুমিকা রাখেন রোকেয়া শাখাওয়াত হোসেন। ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে প্রথমে বিহারের ভাগল্পুরে পরে কলকাতায় বিদ্যালয় স্থাপন করেন স্বশিক্ষিতা রোকেয়া। পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম মেয়েদের পড়ার জন্য একটি পৃথক কলেজ পরে খোলা হয় ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দে। বাংলার তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী শেরে বাংলা একে ফজলুল হকের উদ্যোগে ইংরেজ সরকারের পৃষ্ঠশটাব্দ, লেডি ব্রেবোর্ন কলেজ। প্রথমে পার্ক সার্কাসে ভাড়াবাড়িতে ৩৫ জন মুসলিম ছাত্রী নিয়ে কলেজ শুরু। লোকে বলত ‘পর্দা কলেজ’। নিয়ম হয় ৫০%  মুসলিম ছাত্রীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। প্রথম যে ছাত্রীনিবাস হয় তাতে কেবল মুসলিম ছাত্রীরাই থাকতে পারতেন। পরে সঙ্গত কারণেই এই নিয়ম রহিত হয়। 


    কিছু ধারণা মাথায় গেঁথে দেওয়া হয়েছে।
    ● মুসলিম মানেই পিছিয়ে পড়া 
    ● মুসলিম দেখলেই চেনা যায় 
    ● মুসলিমরা মোল্লাদের কথায় চলে
    ● মুসলিম মহিলারা সব বোরখা পরে ।
    পর্দানশিন।

    ●শিক্ষিত মুসলিম মানে বাংলাদেশ। 
    আমাকে অনেকেই বলেন বাংলাদেশ থেকে কবে এলেন? আর এসব তো পুরনো কথা—‘আপনাকে দেখে মুসলমান বলে মনে হয় না’। ব্যতিক্রম আছে। এবং সেটাই বাংলাকে বাঁচাবে।

    পশ্চিমবঙ্গে শিক্ষিত যুক্তিবাদী মুসলমান  নেই। অনেকের ধারণা।
    তাঁদের ভুল প্রমাণ করেছে ১৩  মে ২০১৮ সন্ধ্যায় এক বীর যুবকের দল।  নাখোদা মসজিদ থেকে বরকতিকে তাড়িয়ে। 
    প্রশ্ন, মুসলিম সমাজকে কে কতটুকু চেনেন ।
    মুসলিম মহিলারা স্বামীদের যে ভাষায় গালি গালাজ করে থাকেন সিনেমায় মেয়েদের খিস্তি শুনতে যাঁরা যান-- তাঁদের -- এমনকী নবারুণ ভট্টাচার্যের  আশ্চর্য হওয়ার কারণ থাকতো।
    মুসলিম মহিলারা মাঠে খাটেন। ছাগল গরু চরান। বোরখা দূরে থাক ঘোমটা ছাড়াই।
    ব্লাউজ পরতেও দেখিনি । ছোটবেলায় ।
    বাইরে যাওয়া ছাড়া ।
    হিন্দু মুসলমান সব মহিলারাই গ্রামে ব্লাউজ পড়ার বিলাসিতা দেখাতে পারতেন না।
    ব্রা বিয়েতে দেওয়া শুরু হয় সত্তর দশকে।
    তাও ওই বিয়ের সময় । তারপর কোথায় সেটা থাকতো কে জানে! অনেক সময় হাঁড়ি কড়াইয়ের কালি মোছার কাজে ব্যবহৃত হতো। গ্রামাঞ্চলে নতুন বৌ ছাড়া ১৯৭০ এর দশকে ব্রা পরলে খারাপ মেয়ে ভাবা হতো। হিন্দু মুসলমান সব সম্প্রদায়েই। ম্যাক্সি নাইটি পরা শুরু নব্বই দশকে।
    মেয়েদের সাইকেল চাপা কলকাতা ও শান্তিনিকেতন ছাড়া বাকি পশ্চিমবঙ্গে আটের দশকে শুরু।
    #
    মুসলিম মহিলারা মাঠে ধান কাটেন, ছাগল গোরু চরান-- এটা দেখার জন্য
    কলকাতা থেকে ১০ কিমি দূরে যেতেও হবে না।
    মুসলিম মহিলা মানেই বোরখা?
    পুরুষ মানেই ছাগল দাড়ি আর গলায় তক্তি?
    এসব হাড় কমিউন্যাল কিছু মিডিয়া সাহেব এবং সিনেমাবাবুর প্রচার ।

    আমি কলকাতা বাস করতে না এলে বোরখা দেখতাম না। 
    'নিকাহ' চলচ্চিত্রে বোধহয় বোরখা ছিল। ১৯৮০-র দশকে কলেজের পড়ার সময় ' নিকাহ' দেখি। এবং বোরখাও।
    গ্রাম বাংলায় যে সব যাত্রা হতো তাতে কনদিন মুসলিম মহিলাদের বোরখা পরানো হয় নি। 
    আমার জন্মভূমি মুসলমান প্রধান। সেখানে আজো একজনও বোরখা পড়েন বলে দেখিনি ।
    মায়ের মৃত্যুর পর অন্তত ১৫০০ মানুষ এসেছিলেন।
    অর্ধেকের বেশি মহিলা । বোরখাহীন সবাই ।

    ইদানীং একটু আধটু হিজাব দেখছি। আরবিয়ানা বাড়ছে। বাড়ছে হজে যাওয়াও। 
    তা ছোটবেলায় দেখিনি।
    তালাকপ্রাপ্তা মুসলিম মহিলা আমার গ্রামে আজও নেই।
    বউ পেটানো হিন্দু মুসলিম সবাই পরিবারেই দেখেছি ।
    তবে মুসলমান মহিলাদের বরকে দু ঘা দিতেও দেখেছি ।আর মুসলিম মহিলাদের মুখে শুনেছি বিচিত্র সব গাল। তার মধ্যে প্রধান ছিল স্বামীর মৃত্যুকামনা। এতো লোকে মরে তুই মরিস না কয়েন? 
    সম্বোধন ছিল—চার কাহারে। মানে চার জন স্বামীকে বয়ে নিয়ে কবরে যাবে। 
    পূজারী বামুন কে 'নেংটি বামুন' বলতে শুনেছি গড় হিন্দুকে। 
    মুসলমানদের দেখেছি হাজি, মৌলভীদের নিয়ে ঠাট্টা করতে। বলেছে-- হাজি মানেই...
    মুসলিম মহিলাদের বিকেলে দল বেঁধে পাড়া বেরুতে যাওয়া ছিল সাধারণ ঘটনা।
    আমার গ্রামে গত ১২০বছর ধরে অ্যামেচার যাত্রা হয়।
    তার ৯০% শিল্পী মুসলমান ।
    যাত্রা হয় ওলাইচন্ডী ঠাকুরের পূজা উপলক্ষে।
    টানা সাতদিনও হয়েছে।
    আমার বাবা দাদা ভাই বোন দিদি সবাই যাত্রা নাটক করেছেন।
    আমার বাবা রামের চরিত্রে অভিনয় করেছেন।
    ছিলেন যাত্রার মাস্টার।
    বহু গ্রাম যেগুলো হিন্দু অধ্যুষিত নিয়ে যেত বাবাকে যাত্রার প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য।
    বাবা সেসব বাড়িতে থাকতেন । খেতেন।
    কোন বিভেদ দেখিনি ।
    বাবার এক ধর্ম মেয়ে ছিলেন ।
    লক্ষ্মী প্রতিমার মত চেহারা ।
    জন্মসূত্রে হিন্দু ।
    আমার মেজদিকে মেরে ফেলা  হয়েছিল  শ্বশুরবাড়িতে। মেজদি পড়তে ভালোবাসতেন। শাশুড়ির সেটি অপছন্দ। আজ চেহারা পাল্টেছে। ঘরে ঘরে শিক্ষিত মেয়ে। মেজদি মারা যাওয়ার পর বাবার ধর্ম মেয়ে হন দিদি।
    ওই দিদিকে আমরা নিজের দিদি বলেই জানতাম। কোন তফাৎ করত না দিদি।
    বাজারে গেলে দিদির বাড়ি খেয়ে না এলে খুব মুশকিল ছিল।
    সই পাতানো ছিল হিন্দু মুসলিম মেয়েতে। শুধু ভোটের জন্য মানুষ মারার মিথ্যা প্রচারের অভিযান নয়।
    মুসলিম সমাজে যান।
    মিশুন।
    বুঝবেন বরকতি-প্রহার এমনি একদিনের ফসল নয়।
    মুসলমানরাও মানুষ । এবং অনেক মিডিয়া বাবুর চেয়ে প্রগতিশীল ।
    টীকা

    ১। ছেলে মেয়ে সংসার করার উদ্দেশে উভয়ের সম্মতিতে যে চুক্তিতে আবদ্ধ হয় সেই চুক্তিকে বিবাহ রেজিস্ট্রি বা কাবিননামা বা নিকাহনামা বলে। এটা ঐ দম্পতির বৈধ দলিল। বিবাহ চুক্তি একটি দেওয়ানি চুক্তি যা দলিল দ্বারা সম্পাদিত।  তাই বিবাহ করার আগে ভালোভাবে খোঁজখবর নিয়ে বিবাহ রেজিস্ট্রি করতে হয়।
    বিবাহ রেজিস্ট্রি করার পূর্বে  দেনমোহর নির্ধারণ-এ সতর্ক থাকেন।  
    কারণ - এমন অংক দেনমোহর নির্ধারণ করেন না যা স্বামীর পক্ষে পরিশোধ করা কঠিন বা ভয়াবহ পরিস্হিতি হয়। 

    সূত্র
    1.এস ওয়াজেদ আলী, তুর্কি হানুম, এস ওয়াজেদ আলি রচনাবলী, ১ম খণ্ড, পৃ ৯০, উদ্ধৃত, আনোয়ার হোসেন,  স্বাধীনতা সংগ্রামে বাংলার মুসলিম নারী, পৃ ৫৩)।
    2. ফিলিপ কে হিট্টি, আরব জাতির ইতিহাস, পৃ ২২৬
    3. আই এইচ কোরেশি, দিল্লির সুলতানদের শাসন ক্ষমতা, পৃ-৬৫, উদ্ধৃত—রেজাউল করিম, রাজকীয় মোগল মহিলাদের ইতি
    হাস, পৃ-৫১
    4. জিয়াউদ্দিন বরনি,  তারিখ-ই-ফিরুজ শাহি, পৃ-৩৯
    5. ওয়েস্ট ব্রুক, দেওয়ান জিবন নিসা , পৃ ১০-১১
    6. ঈশ্বরী প্রসাদ, হিস্টরি অফ তুর্কস ইন ইণ্ডিয়া, পৃ ৩১০
    7. বিনয় ঘোষ, বিদ্যাসাগর ও বাঙালী সমাজ, পৃ -২১৩) 
    লেখাটি লেডি ব্রেবোর্ন কলেজের শতবার্ষিকীতে বের হয়।
     


    (ড. ইমানুল হক। প্রথম পেশা ছিল সাংবাদিকতা। প্রেসিডেন্সি কলেজ, কৃষ্ণনগর সরকারি কলেজে পড়িয়েছেন। আজকাল, আনন্দবাজার, প্রতিদিনসহ নানা পত্রপত্রিকায় কলম লেখেন। মানিকতলা খালপাড়ে ২৩১ সুবিধাবঞ্চিত শিশু নিয়ে ভাষা ও চেতনা পাঠশালা চালান। ভারতের প্রথম ফুটপাথের বইঘর স্থাপন করেছেন। বাংলাভাষা আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী)।
     

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Amit | 121.200.237.26 | ০৯ মার্চ ২০২৩ ০৪:৫৫517163
  • খুব ভালো লাগলো লেখাটা। কোনো সন্দেহ নেই সেই সময়ের আর সমাজের প্রেক্ষিতে মোহাম্মদ এবং ইসলাম অনেক অ্যাহেড অফ টাইম ছিলেন। ইসলাম একটা বড়ো অংশের কাছে তখন পার্শিয়ান এম্পায়ার এর দাসত্ব থেকে মুক্তির উপায় হয়ে এসেছিলো। আর একটা বিরাট অংশের প্রবল বিশ্বাস আর ডেডিকেশন না থাকলে এরাবিয়ান পেনিনসুলার দু  পাশে দুটো মেজর এম্পায়ার এর সাথে এতো লড়াই করে ইসলাম সারভাইভ করতে পারতোনা হয়তো। শুধু সারভাইভ ই করেনি , ছড়িয়ে পড়েছে চারদিকে-পার্শিয়ান এম্পায়ার ই বরং সারভাইভ করেনি। 
     
    কেরলের ইতিহাসটা কয়েকজন মালায়ালী বন্ধুর থেকে শুনেছি। তখন চেরা বা চোলা ডিন্যাসটির হিন্দূ রাজারাও নাকি কোস্টাল এরিয়া তে লোকজনকে ইসলাম গ্রহণে উৎসাহ দিতেন যাতে আরব দেশগুলোর সাথে বাণিজ্যে সুবিধা হয়। কেরলে খৃস্টানিটি র ​​​​​​​ইতিহাসও ​​​​​​​অতি প্রাচীন। 
     
    সমস্যা মনে হয় শুরু হয় কয়েকশো বছর পরে পরে যখন হাদিস ইত্যাদি দিয়ে লোকজনকে আষ্টেপৃষ্টে বেঁধে ফেলার চেষ্টা শুরু হয়। মেক্কা মেদিনা দুটো হোলি সাইট ই সৌদিতে থাকার সুবাদে এক্সট্রিম ওয়াহাবি ইসলাম স্প্রেড করতে শুরু করে। আর হালের শতকে তেলের ডিসকভারি পুরো গ্লোবাল ইকোনমিক ব্যালান্স শিফট করে দেয়। যখন মেল্ ফিমেল ইকুয়ালিটি কনসেপ্ট আরো এগিয়ে গেলো পশ্চিমি দুনিয়ায় মাস ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশন এর জন্যে তখন ধর্ম্মের আগের নিয়ম নীতি আঁকড়ে থাকতে গিয়ে উল্টো ফল হচ্ছে। অবশ্য এই সমস্যা ইসলামের একার নয়। হিন্দু বা অন্য ধর্মেও একই হাল। বিশেষ করে ইনহেরিটেন্স আইন  ইত্যাদি নিয়ে এসব ঝামেলা চলতেই থাকবে কারণ অনেক ভেস্টেড ইন্টারেস্ট জড়িয়ে থাকে। অর্থ থাকলেই অনর্থ। 
     
    একটা প্রশ্ন আছে আপনাকে। একটা বইতে পড়লাম ("The book of roads & kingdoms" by Richard Fider) শুরুতে ইসলামের কেন্দ্র জেরুসালেম এ ছিল। অ্যারাউন্ড ৬২৪ সালে মহম্মদ সেটা মক্কায় শিফট করেন। এই বিষয়ে কিছু ডিটেলস আছে ? বইটা ঠিক ইতিহাস বই নয়। অনেকটা ফিকশনাল স্টাইলে লেখা। তাই পুরোপুরি ট্রাস্ট করতে পারছিনা। উইকি ইত্যাদি ও ডুবিয়াস ইনফো দেয় মাঝে মধ্যে। 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। দ্বিধা না করে মতামত দিন