এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • শঙ্খ ঘোষ

    সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায় লেখকের গ্রাহক হোন
    ২৩ জানুয়ারি ২০২৩ | ৫৪৭ বার পঠিত
  • শঙ্খ ঘোষ নেই, বিশ্বাস হয়না। ঠিক যেমন বিশ্বাস হয়না, রবীন্দ্রনাথ নেই, বা ভারতচন্দ্র নেই। কারণ না থাকাটা অসম্ভব। এপিজেনেটিক্সই বলুন, আর মিউটেশন, মোদ্দা কথা হল, এঁরা বাঙালির হাড়-মজ্জা ছাড়িয়ে ডিএনএ তে ঢুকে গেছেন। আর বার করা সম্ভব না। এখনও কারো অপ্রাপ্তির আফশোষ দেখলে, আমরা তাকে রবীন্দ্রপংক্তি দিয়ে সান্ত্বনা দিই - নদীর এপার কহে... ইত্যাদি, কারও ঢক্কানিনাদ দেখলে বলি, মনে রেখো এক ফোঁটা দিলেম শিশির। আমাদের সন্তানের জন্য "যেন থাকে দুধে-ভাতে", আর "আমার সন্ততি স্বপ্নে থাক" বলে প্রার্থনা মিলে-মিশে যায়। আমাদের শহরের মুখ আজও ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে। আমরা আজও তোমাকে ভীষণ বকি আড়ালে, আর মাঝে মাঝে আফশোষ করি, তুমি আর নেই সে তুমি।
    কিন্তু এ তো আমজনতার জিন এর গপ্পো। কবিরা কী ভাবেন? যাঁদের নিজেদের লেখার পংক্তিও আমজনতার উচ্চারণে মিশে আছে, তাঁদের উচ্চারণে কীভাবে থেকে যান পুরোনো কবিরা? কীভাবে রক্ত, মজ্জা এবং নতুন কবিতার সংশ্লেষে থেকে যান পুরোনো কবিরা, কবিদের ধারণাজগতে কীভাবে থেকে যান শঙ্খ ঘোষ, তাঁর নরম এবং দৃঢ়চেতা, সুমিষ্ট কিন্তু প্রত্যয়িত উচ্চারণ সহ? জানা অসম্ভব না একেবারেই, কারণ, এই নিয়েই গুরুচণ্ডা৯ প্রকাশ করছে দুটি বই।
    প্রথম বইটি লিখছেন জয় গোস্বামী, যাঁর পরিচয় দেওয়া অর্থহীন। তাঁর বইয়ের নামঃ "শঙখ ঘোষের কবিতাঃ চতুর্মুখী গতিপথ"। এই বইয়ে নতুন করে আরেকবার আবিষ্কার করছেন জয়ের শঙ্খ কে।
    দ্বিতীয় বইটি একটি সংকলন। "আট পাঠে এক কবি - অন্য ভারতীয় ভাষার লেখকের চোখে শঙ্খ ঘোষের কবিতা"। শুধু শঙ্খ ঘোষকে নিয়ে নয়, রবীন্দ্রনাথের পর কোনো বাঙালি কবিকে নিয়েই বাংলা ভাষায় এ ধরণের সংকলন হয়েছে বলে আমরা জানিনা। আমরা বাংলায় লেখা কবিতা, তার বাংলা পাঠ, এবং প্রতিক্রিয়া, এই প্রক্রিয়ায় অভ্যস্ত। এই লেখার শুরুতেও কেবল বাঙালি ডিএনএর কথাই বলা হয়েছে। কিন্তু কবিতা ছড়ায় তার চেয়ে অনেক বেশি দূরেও। বোম্বের উচ্চকিত ছবি সর্বত্রগামী, এ এক অমোঘ সত্য, আমরা জানি। কিন্তু বাংলা কবিতা, তার নীরব উচ্চারণও যে, সারা ভারতের কবিচিত্তে আলোড়ন তোলে, সে খবর আমাদের, কেন কে জানে, অজানাই থেকে যায়। এই সংকলন, সেই আলোড়নেরই প্রতিবেদন। লিখছেন, ভারতের নানা ভাষার প্রতিষ্ঠিত কবিরা। লিখছেন, শঙ্খ ঘোষের কবিতা পড়ে, তাঁদের নিজস্ব অনুভূতির কথা। কেউ কেউ আঁকছেন ছবি। আর সেসবই ধরা থাকছে, এই সংকলনের দু মলাটের মধ্যে। এই লেখাগুলি যখন গুরুতে আসে, প্রাথমিক সম্পাদনা করেছিলেন নীলাঞ্জন হাজরা। আর বইটির সম্পাদনা করেছেন অভীক মজুমদার।
    শঙ্খ ঘোষ সশরীরে আর নেই। আমরাও সবাই নশ্বর, কিছুদিন পরে আর থাকবনা। কিন্তু বাংলা ভাষা থাকবে। আর থাকবে ডিএনএ, যেখানে ঢুকে বসে থাকবে বাংলা কবিতার অমোঘ পংক্তিগুলি। এই দুটি বই সেই বহমান বংশগতিরই অংশ হয়ে থেকে যাবে নিশ্চয়ই।
    যাঁরা গুরুর এই বইপ্রকাশের পদ্ধতিটা জানেন, তাঁরা এ-ও নিশ্চয়ই জানেন যে, গুরুর বই বেরোয় সমবায় পদ্ধতিতে। যাঁরা কোনো বই পছন্দ করেন, চান যে বইটি প্রকাশিত হোক—তাঁরা বইয়ের আংশিক অথবা সম্পূর্ণ অর্থভার গ্রহণ করেন। আমরা যাকে বলি দত্তক। এই বইটি যদি কেউ দত্তক নিতে চান, আংশিক বা সম্পূর্ণ, জানাবেন [email protected] এ মেল করে।
    বইঃ
    ১। শঙখ ঘোষের কবিতাঃ চতুর্মুখী গতিপথ - জয় গোস্বামী
    ২। আট পাঠে এক কবি - অন্য ভারতীয় ভাষার লেখকের চোখে শঙ্খ ঘোষের কবিতা। লিখেছেন, অন্যান্য ভাষার কবিরা। সম্পাদনা অভীক মজুমদার।

    প্রকাশ— বইমেলা, ২০২৩
    প্রাপ্তিস্থান— বইমেলায় গুরু-র ৫০৭ নং স্টলে

    পুঃ
    ১। এখানে যে ছবিটি দেওয়া হয়েছে, সেটি কোনো বইয়েরই প্রচ্ছদ না। প্রচ্ছদ এখনও তৈরি হচ্ছে।
    ২। বংশগতি, ডিএনএ - এসবকে কেউ বৈজ্ঞানিক আখ্যান হিসেবে নেবেননা। ওগুলি আলঙ্কারিক প্রয়োগ।

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ঠিক অথবা ভুল মতামত দিন