এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • [বাংলা] ছবির ব্যবসা ৮

    দীপাঞ্জন মুখোপাধ্যায় লেখকের গ্রাহক হোন
    ১৭ জানুয়ারি ২০২৩ | ১৬৭ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • পর্ব ১ | পর্ব ২ | পর্ব  ৩ | পর্ব  ৪ |  পর্ব ৫ | পর্ব ৬ | পর্ব ৭ | পর্ব ৯
     
    কিছু ছবি দর্শকদের মনে বছরের পর বছর থেকে যায় , কিছু হল থেকে বেরোনোর পরেই ভুলে যাওয়া যায়। মনস্তত্ব অনুযায়ী এটার ব্যাখ্যা হল ছবির সঙ্গে দর্শকদের নিজস্ব আবেগের সংযোগ [বিজ্ঞাপনের ভাষায় ইমোশনাল কানেক্ট] তৈরী না হলে বেশিরভাগ দর্শকরা সাধারণত সেই ছবি পছন্দ করেন না এবং মনে রাখেন না। আসলে তারা নিজেদের জীবনকেই পর্দায় দেখতে চান কিন্তু একইসঙ্গে এটাও চান যেন তারকারা অতিপ্রাকৃত বা অবাস্তব কিছু একটা করে হলেও শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ লড়াইয়ের পর জিতে যান। ঠিক যেটা অনেকসময় মনে ষোলআনা ইচ্ছে থাকলেও দর্শকরা নিজেদের জীবনে করতে পারেন না। 

    এতে কোনো সন্দেহ নেই আশির আর নব্বইয়ের দশকের মূলধারার বাংলা ছবিগুলো ফিল্ম করা যাত্রা হলেও তাদের দর্শকদের সঙ্গে কানেক্ট করতে পেরেছিল। পাশাপাশি সেসময় 'সেন্ট পার্সেন্ট কোডোপাইরিন মার্কা' হিন্দী ছবিও প্রচুর হত , সেগুলোকেও টেকনিক্যালি 'ছবি' বলতে অসুবিধে হতে পারে। কিন্তু তাও বাঙালি মধ্যবিত্তরা ভাবতেন 'হিন্দিগুলো দেখলে একটু তাও জাতে ওঠা যাবে , কিন্তু বাংলা ছবিগুলো একেবারে পাতে দেবার মত নয়।' একই যাত্রায় পৃথক ফলের এই যুক্তির পিছনে কারণটা ঠিক স্পষ্ট নয়।

    একই সময় পশ্চিমবঙ্গে কারখানাগুলো ধীরে ধীরে লক আউট হচ্ছিল , শ্রমিকরা বাধ্য হয়ে ট্যাক্সিচালক , বাসের কন্ডাক্টর , হাতিবাগান ফুটপাথ বা লোকাল ট্রেনের হকার এরকম পেশায় চলে যাচ্ছিলেন। সমাজের অব্যবস্থার প্রতি তাদের মনের যে চাপা রাগ , তাকেই পর্দায় ফুটিয়ে তুলছিলেন অমিতাভ বা মিঠুনের মত অ্যাংরি ইয়াং ম্যানেরা। এই শ্রেণীর জীবনধারণের সমস্যাগুলো  নিয়ে বহু ইন্ডিপেন্ডেন্ট ছবিও হয়েছে। গৌতম ঘোষের 'পার', উৎপলেন্দু চক্রবর্তীর 'চোখ' , নব্যেন্দু চ্যাটার্জির 'চপার'। হিন্দিতে বানিয়েছেন গোভিন্দ নিহালনি , সৈয়দ আখতার মির্জারা। কিন্তু সেগুলোতে ওই শেষের 'লার্জার দ্যান লাইফ' জিতে যাওয়াটা নেই। নব্বইয়ের দশকের ভারতজোড়া উদারীকরণ আর 'ইন্ডিয়া শাইনিং'র পর নবীন প্রজন্মের মধ্যবিত্তের কাছে অ্যাংরি ইয়াং ম্যানেরা সরে গিয়ে শুরু হয় তুলনায় অনেক নরম স্বভাবের চরিত্রদের অভিনয়ে খানদের যুগ। 
     
    হিন্দি ছবির এক্সরা চিরকালই অনেক বেশি পেশাদার। সেখানকার ফাইনান্সারদের টাকার অভাব নেই। সারা দেশ থেকে নানা সময় পেশাদার টেকনিশিয়ান আর শিল্পীদের নিয়ে গিয়ে তারা কাজে লাগিয়েছেন। ষাট সত্তরের দশকে পরপর পুরোনো বাংলা ছবির রিমেক করে হিন্দি ছবি চলেছে। বিমল রায় , বাসু চ্যাটার্জী , হৃষিকেশ মুখার্জীরা টানা হিন্দি ছবি পরিচালনা করেছেন। শরদিন্দু , নবেন্দু ঘোষ পেশাদার চিত্রনাট্য লেখার কাজ করেছেন। নব্বইয়ের দশকে হিন্দি এক্সরা দক্ষিণ থেকে নিয়ে গেছেন মণিরত্নম , প্রিয়দর্শন , রামগোপাল ভার্মাকে। যারা পুরো টেকনিক্যালি ছবি বানিয়েছেন এবং ব্যবসাও দিয়েছেন। 
     
    কিন্তু টালিগঞ্জে ২০০০ র পর থেকে NFDC র ছাতা থেকে বেরিয়ে ইন্ডিপেন্ডেন্টের নামে অনেক ছবি তৈরী করা শুরু হয় যেগুলো আসলে বড় বাজেটের ছবি এবং এক্সদের কল্যাণেই তৈরি। পরিচালকরা জানতেন এক্স এগুলো থেকে কোনওদিন টাকা ফেরত পাবেন না তা সত্ত্বেও বড় বড় বাজেটের ছবিতে হিন্দি ছবির নায়ক নায়িকাদের আনানো হত । আসল ইন্ডিপেন্ডেন্ট ছবি বানানোর মূল শর্তই হল ছবি পরিচালক এবং বাকি টেকনিশিয়ানদের স্বল্প বাজেটের মধ্যেই কাজ করতে হবে এবং সেটা করতে গিয়েই নতুন নানা টেকনিক উদ্ভাবন করতে থাকা , প্রকৃতপক্ষে যে ধারার ছবি দশবছর বাদে আবার বাংলায় বানানো শুরু হয় কিউ , প্রদীপ্ত ভট্টাচার্য , ইন্দ্রনীল রায়চৌধুরী , আদিত্য বিক্রম সেনগুপ্তদের হাত ধরে। 
     
    এই সব বড় বাজেটের ছবি কেন টাকা তুলতে পারেনি ? সহজ উত্তর - ছবি গুলোর টার্গেট অডিয়েন্স ছবিগুলোর সঙ্গে কানেক্ট করতেই পারেনি। হয়ত ছবিটা অর্ধেক ইংরেজি বাক্যালাপে ভর্তি , একজন শহুরে ইংরেজি মাধ্যমের ছাত্রীর কাছে স্বভাবতই সেটা দেখার থেকে একটা পুরো ইংরেজি ভাষার আমেরিকান ছবি দেখা অনেক অগ্রাধিকার পেয়েছিল । একজন শহরতলির বাংলা মাধ্যমের ছাত্র সেটা দেখতে গেলে হয়ত বিরক্ত হয়ে মাঝপথে উঠে গিয়ে একটা হিন্দি ছবি দেখতে ঢুকে পড়েছিল এবং পরেরবার থেকে সেই পরিচালককে এড়িয়ে চলা শুরু করেছিল । এইসব কান্ড দশবছর চলার পর নতুন যারা মূলধারার ছবি করতে এলেন তারা বুঝলেন এভাবে হবে না , শহরের তিরিশোর্ধ মধ্যবিত্ত দর্শককে হলে ফিরিয়ে আনতে গেলে ফিরে যেতে হবে উত্তমকুমারের মৃত্যুর আগের সেইসব ছবির কাছে। 
     
    এর পর থেকেই টেমপ্লেটের খেলা শুরু, মূলধারায় ছবি বানাতে গেলে পুরনো একটা কিছু ছাঁচ আপনাকে অনুসরণ করতেই হবে। হয় আগে যে ছবিটা ভালো ব্যবসা করেছে , লোকের কাছে পূর্ব পরিচিত সেই জিনিসটাই একটু অদল বদল করে নতুন ছবি বানিয়ে দেওয়া। অথবা শুয়ে পড়া নষ্টালজিয়াকে সুড়সুড়ি দিয়ে জাগানো। সোজা কথায় নতুন বোতলে পুরোনো মদ। এন্টনি ফিরিঙ্গি , সন্ন্যাসী রাজা , চৌরঙ্গীর মত উত্তমকুমারের জনপ্রিয় ছবিগুলোর একটু ওলোট পালট করে ইতিমধ্যেই বানিয়ে ফেলা হয়েছে। বাকিরা পুরোনো পারিবারিক ছবিগুলোর ধাঁচার কাছে ফিরে গেছেন। আজকের যুগোপযোগী সন্ধেবেলার মেগাসিরিয়াল থেকে  'বাড়ি থেকে বেরিয়ে যা হারামজাদা' চিৎকার , হাউমাউ করে কান্নার মত অতিনাটকীয়তা [মেলোড্রামা] কয়েক চামচ তুলে সাবধানে জায়গামতন এইসব নতুন যুগের পারিবারিক ছবিতে মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছে। 
     
    এর পাশাপাশি চালু হয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজি - চেনা চরিত্রদের নিয়ে বারবার নতুন ছবি বানিয়ে যাওয়া। সেটা প্রিকুয়েল , সিকুয়েল হতে পারে বা এমনিই আলাদা একটা ছবি । একটা নতুন চরিত্রদের সেট বানিয়ে সেটা ব্যবসা সফল হলেই আবার তাদের নিয়ে একটা নতুন ছবি বা ওয়েব সিরিজের সিজনের ঘোষণা।
     
    পশ্চিমবঙ্গের আপামর দর্শকের কাছে হলে গিয়ে বাংলা ছবি দেখা এখনো ঐচ্ছিক একটা বিষয়। 'কান্তারা'র মত দক্ষিণী ছবি পশ্চিমবঙ্গ থেকে সুন্দর কুড়ি কোটির ব্যবসা করে চলে যাচ্ছে কিন্তু বাংলা ছবির বাজার আর বাড়ছে না। দক্ষিণ ভারতে নিজেদের ভাষার ছবি প্রতি শুক্রবার যে ভিড় করে দেখতে যাওয়া চোখে পড়ে তা পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতির পাঠ্যবইতে নেই। বা হয়ত অর্থনৈতিক কারণেই বাঙালি দর্শকদের পক্ষে প্রতি শুক্রবার নতুন বাংলা ছবি দেখতে যাওয়া সম্ভব নয় , ইংরেজি হিন্দি আর দক্ষিণী ছবিও তো দেখতে হবে।  নির্মাতাদেরও হাত পা বাঁধা। এক্সরাও ঝুঁকি নিতে ভয় পাচ্ছেন , একটু অন্যরকম ছবি বানালেই দর্শক তো অভিমানে আর হলমুখী হচ্ছেন না। অতএব থোড় বড়ি খাড়া , খাড়া বড়ি থোড়। একটা অন্যরকম ছবি বানিয়েই সেটার ধাক্কা সামলাতে ফেলুদা বা ব্যোমকেশের আড়ালে লুকিয়ে পড়া।

    ২০২২ এ বক্স অফিসে ভালো ব্যবসা করেছে  - কর্ণসুবর্ণের গুপ্তধন , প্রজাপতি , বেলাশুরু , অপরাজিত , বল্লভপুরের রূপকথা , হামি ২  , হত্যাপুরী , ব্যোমকেশ হত্যামঞ্চ  , দ্য একেন , দোস্তজি , কিশমিশ , রাবণ ছবিগুলো । এদের মধ্যে দোস্তজি ছাড়া বাকি সবই ভালো করে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে মূলধারার টেমপ্লেট বা ফ্র্যাঞ্চাইজি নির্ভর ছবি। এত ধাক্কাধাক্কির মধ্যে আসলে ছবিগুলো কেমন বানানো হল সেসব নিয়ে মাথা ঘামানোর সময় কোথায়? না নির্মাতাদের সময় আছে না দর্শকদের। ব্যবসাটা তো চালাতে হবে নাকি? এতগুলো লোকই বা কি খাবে? পণ্য তৈরির কারখানা যেন বন্ধ না হয়। কারণ বাজারের নিরিখে শূণ্যস্থান বলে আসলে তো কিছু হয় না , দরকার হলে সেটা আবর্জনা দিয়ে ভর্তি করা জরুরি । 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা মনে চায় প্রতিক্রিয়া দিন