এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  গপ্পো

  • বিদেশী চুইংগাম

    মোহাম্মদ কাজী মামুন লেখকের গ্রাহক হোন
    গপ্পো | ১৪ জানুয়ারি ২০২৩ | ৯০ বার পঠিত
  • ‘মামা, বাদাম লইবেন?’
     
    শুকনো পাতার ঘূর্ণি নৃত্যটা থেমে গেল। মোরসালিন প্রথম কতকটা ভাবলেশহীন তাকিয়ে রইল, পরে ‘না’ শব্দটা উচ্চারণ করতে গিয়ে খেয়াল করল, ছেলেটা সচরাচর যেমন দেখা যায়, শিশু শ্রমিক, তাদের থেকেও ছোট। আর সে অর্থে ঠিক শ্রমিকও নয়, একজন ক্ষুদে স্বাধীন ব্যবসায়ী। তবে কোন দোকান-পাট-গুদাম নেই তার, পুঁজি বলতে শুধু দুটো ১০ ইঞ্চি করে পা – লিকলিকে ও কর্দমাক্ত। আর একটি বাঁধের রাস্তা।
     
    এদিকে মেয়েটি অনেকখানি সামনে চলে গিয়েছিল, আপন মনে বিচরণ করছিল পাড় ভেঙ্গে ভেঙ্গে, হঠাৎ দর্শকদের সাথে একটা দূরত্ব অনুভব করে সে, তাদের মনোযোগ অন্যত্র ধাবিত কিনা বুঝে নিতে পেছন ফিরে তাকায়। গাড়ি থেকে নেমে যখন সে কাঁচা রাস্তার ওয়াক ওয়ে ধরে পা ফেলতে শুরু করেছিল, অবিকল বিদেশী মেমদের মত লাগছিল মোরসালিনের! নদীর পাড়ে বইছিল জোর বাতাস, মাঝে মাঝেই ধুলো উড়ছিল, আর কাছেই পারাপারের নৌকাগুলো হেলে পড়ছিল বারবার! উন্মাতাল হাওয়ার এই উৎসবে যোগ দিতে পাতারাও বেরিয়ে পড়েছিল গাছেদের থেকে, ঢেকে দিচ্ছিল মোরসালিনদের চোখ-মুখ, কেড়ে নিচ্ছিল সামনের চলমান জগত সংসারকে একে একে!
     
    ‘খোলা থাইকা তুইলা আনছি… গরম গরম … একটা খাইয়া দেহেন, মামা’
     
    এবার আরো ভাল করে লক্ষ্য করলো মোরসালিন, দেখল, একটা প্লাস্টিকের গামলা  গোটা পঞ্চাশেক ঠোঙ্গা ধরে রেখেছে, আর ছেলেটি ধরে রেখেছে তার দেহাকৃতির সাথে সঙ্ঘর্ষরত গামলাটিকে, পেটের ঠিক উপরে…. সে তাকিয়ে রয়েছে অর্ধনিমীলিত চোখে…. উপরের অপসৃয়মান সূর্যের আলো তার মুখে আলো-আঁধারের ঢেউ তুলে যাচ্ছিল …
     
    ‘আচ্ছা দে, চার ঠোঙ্গা’… মোরসালিনরা বিকেলবেলাটা কাটাতে এসেছিল পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ সেতুর গোড়ায়, সঙ্গে একজন লোকাল কাজিন, একজন বন্ধু, আর সেই বন্ধুর বোন। সব থেকে কাছের বন্ধুটিকে অনেক দিন ধরে আসতে বলছিল; নিজের এলাকার, তাদের বাড়ির এত কাছের এই মহাকীর্তি বন্ধুকে দেখাবেই। তো সেই বন্ধুর সাথে একটি কাট কাট তরুণী  দেখে মোরসালিন প্রথমটা তো ‘অন্য কিছু’ই ভেবে নিয়েছিল! পরে অবশ্য তাকে জানানো হয়েছিল, সম্পর্কটা চাচাতো বোনের। দূরের না কাছের – যদিও তা উহ্য থেকে গিয়েছিল। বোনটি নাকি সাথে আসার জন্য খুব বায়না ধরেছিল।
     
    ‘বাড়ি কি এখানেই? ‘… টাকাটা বের করতে করতে জিজ্ঞাসা করে মোরসালিন, কিন্তু বিশ টাকার নোট-টা হাতেই ধরা থাকে, ওপাশের হাত কিছুতেই সাড়া দেয় না, এমনকি বাড়ি কোথায় সে উত্তরও নেই।
     
    ‘এক ঠোঙ্গা দশ টাকা কইরা, মামা’- এক সময় নিরাসক্ত গলায় বলে পুঁচকে বনিক।
     
    ‘আগে কস্‌ নাই, ক্যান? এই বয়সেই ধান্দাবাজী শিইখা গেছস্‌?’ - খ্যাঁকারি দিয়ে উঠে লোকাল কাজিন। মোরসালিন ইশারায় তাকে থামার আহবান করে ফের পকেটে হাত দেয়, কিন্তু চল্লিশ টাকার খুচরো খুঁজে পায় না … পাঁচশো টাকার একটি নোট হাতে নিয়ে ভাংতি আছে কিনা জিজ্ঞাসা করতে যেয়েও থেমে যায়। অদূরেই গাড়ি পার্ক করা ছিল, ড্রাইভারকে ফোন করে মোরসালিন, জানে, ওর কাছে খুচরোর এক বড় মজুদ রয়েছে, অনেকবার বিপদ থেকে বাঁচিয়েছে।
     
    ‘কি বললি না, বাড়ি কোথায়?’
     
    ছেলেটা এতক্ষণ মাথা নীচু করে পায়ের নীচের মাটি তার দুর্বল পা দিয়ে খুঁটছিল…আঙ্গুলগুলো মাটিতে পুরো ঢেকে যাওয়ার আগে মোরসালিনের প্রশ্নে তার হুঁশ ফিরে। মুখটা উপরে তুলে তাকায়, তাকিয়েই থাকে এক নাগাড়ে, অনেকটা সময় কোন কথা বের হয় না মুখ থেকে, চোখ জোড়া হারিয়ে যেতে থাকে সামনের অনন্ত আকাশ পানে।
     
    ব্রিজটা এখনো খুলে দেয়া হয়নি, শেষ মুহুর্তের ধোঁয়া-মোছা-মহড়া চলছে। তাই ব্রিজে উঠার রাস্তায় প্রবেশাধিকার নেই কারো … তবে তাতে হতোদ্যম হয় না দর্শনার্থীরা, বাইপাস রাস্তা ধরে ব্রীজের ডানে-বাঁয়ে নদীর ধার ঘেঁষে বহুদূর বিস্তৃত যে রাস্তা তাতে তাদের ঢল নামে …. সমুদ্রপারে সূর্যের থালা পানিতে নেমে যেতে দেখতে যেভাবে ভীড় জমায় দুর-দূরান্তের পর্যটক, এখানেও তেমনি মনোরম বিচ -বসন্তের রচনা হয়েছে ব্রিজকে ঘিরে।
     
    ‘ঐ যে ধলা দালানডা দেখতাছেন, তার পিছে ওই যে নাম্বা খাজুর গাছটা, তার পিছে ওই যে…পিছে…ওই …।‘  ভাংতির বিরতিতে এক সময় ছেলেটা নিজে থেকেই বাড়ি দেখায়। দিনের আলো ফুরোতে ফুরোতে  যেন ঐ খেজুর ঝোঁপের উপর ধপ করে নিভে গেছে। অনেক চেষ্টা করেও ঘরের ছবিটা দেখতে পায় না মোরসালিন।
     
    ‘বাবা কি করে তোর?’ – বাচ্চাটির গায়ের গেঞ্চির  স্পাইডারম্যানটা দেখতে দেখতে জিজ্ঞাসা করে। 
     
    ‘ঐ যে বিল্ডিংডার কথা কইলাম, ঐহানে খাতিনদারি করে, আগে ক্ষেতি করত… আমাগো বাড়িও ঐহানেও আছিল!’  - বলেই সামনে তাকায়, একজন কেউ ডাকছে তাকে নীচে থেকে; প্রমত্তা নদীর তীরে শক্তিশালী বাঁধ গড়ে তোলা হয়েছে, ব্লকগুলি মাটির অনেক গভীরে কামড় বসিয়ে ধীরে ধীরে ঢালু হয়ে গড়িয়ে গেছে নীচের দিকে, যেখানে পানির স্রোত উছলে উছলে পড়ছে। শহর থেকে আসা অনেক  তরুন তরুণী সেই কলকল ধ্বনিতে বুঁদ হতে তীরের ব্লকগুলিতে পা দুলিয়ে বসেছে, নদীর পাগল করা হাওয়া তাদের রেশমমসৃণ চুল আর মিহি সুতোয় বোনা নরম মেদহীন জামাকাপড়ে ঝাপ্টা দিয়ে যাচ্ছে, তাদের উচ্চ পারফিউমের মনমাতানো মহুয়া বাতাসে ভর করে এই এতদূরের নাকগুলিকেও হানা দিয়ে যাচ্ছে।
     
    আওয়াজকে অনুসন্ধান করতে মোরসালিনের দিকে প্রশ্নাতুর চোখে তাকায় ছেলেটি।  এক সময় সেখানে ফুটে উঠা আস্বাসের উপর ভর রেখে ছুটতে শুর করে… ব্লকের ঢালে গড়িয়ে যেতে যেতে সে পতঙ্গে মিলিয়ে যেতে থাকে। মোরসালিনের চোখ যতই ক্ষুদে বণিকটির পিছু ধাওয়া করতে থাকে, ততই যেন ব্রিজটি সামনে এগিয়ে আসতে থাকে। ছেলেটা যত নীচু হতে থাকে, ব্রিজটা ততই উঁচু হতে থাকে তার দৃষ্টিসীমাকে অদ্ভুত সব কনিক উপহার দিয়ে। 
     
    মাস তিনেকের মধ্যেই উদ্বোধন হচ্ছে ব্রিজটা, পৃথিবীর সব থেকে বড় ব্রিজগুলোর একটি সে, তাই  চারদিকে সাজ সাজ রব, শত শত মানুষ খেটে মরছে দিন রাত, এই এত বড় ব্রিজটার প্রতিটা লোহা লক্কড় তন্ন তন্ন করে ঠুকে দেখা হচ্ছে,  যেন কোথাও না থাকে চুল পরিমাণ ফাঁক। স্বপ্নের ব্রিজের উদ্বোধনটাও স্বপ্নের মত করেই উপহার দিতে চায় তারা জাতিকে। উদ্বোধন যতই এগিয়ে আসছে ততই অস্থিরতা বাড়ছে মানুষগুলোর মধ্যে, ব্রিজ ও তার সংলগ্ন রাস্তার অনেকটা পর্যন্ত কাউকে সহ্য করছে না তারা, যা পাচ্ছে তাই ছোঁ মেরে তুলে নিচ্ছে। যেমন, তখন মাত্র ২০০ গজ দূরে ছিল মোরসালিনরা। সিকিউরিটি পোশাক পরা লোকটা যদিও মোলায়েম করে ফেলেছিল গলার স্বর, তার চোখে-মুখে কৌতুক, আফসোস ও বিরক্তি একে একে ক্রীড়া করে যাচ্ছিল - আর মানুষ হইল না, এই সময়ে এত কাছাকাছি আসার কথা ভাবতে পারে কেউ, স্টুপিড পাব্লিক!  মোরসালিন অবশ্য গাড়ি থেকে নেমে এসেছিল, সে বারবার বলার চেষ্টা করছিল সে এই এলাকারই ছেলে, এই মাটিতেই তার জন্ম। অফিসারটা সেসবে কানে নেয়ার ফুরসৎ ছিল না, বরং একটি উচ্চপদস্থ গাড়ির শব্দকে চিতার মত ছুটে আসতে দেখে সে প্রায় কুত্তা খেদাও করেছিল মোরসালিনদের, ‘আর এক সেকেন্ডও না, মামলা খাইতে না চাইলে ..।‘ 
     
    ড্রাইভার খুচরো নিয়ে এসেছে অনেকক্ষণ, কিন্তু পার ধরে ধরে পতঙ্গের ছুটে চলা যেন শেষ হয় না, মনে হয়ে বেজায় ব্যবসা হচ্ছে। ব্লকের পরে যে নদী, তাকে এক ফালি কেকের মত দেখায়, তার ওপারেই গড়ে উঠেছে চরের মত দ্বীপ। ঐখানে আস্তে আস্তে সবুজ হয়ে উঠেছে, আরো দূরে চোখে মেললে এমন ফালি ফালি করে কাটা কেক ও তার পারেই মনোহর সবুজ দ্বীপ আরো অনেক চোখে পড়ে। মোরসালিনের কাজিন বেশ জানাশোনা লোক, তার সাথে কিছুটা সময় থাকলে জানা যায়, এ তল্লাটের হেন কোন গুরুত্বপূর্ণ কেউ নেই যার সাথে তার কানেকশান নেই। সেই আশার বাণী শুনালো, ব্রীজ উদ্বোধন হওয়ার সাথে সাথে এই ওয়াকওয়েরও উদ্বোধন হয়ে যাবে, টেন্ডার হয়ে কাজও শুরু হয়ে গেছে, তখন আর এই এবড়ো থ্যাবড়ো ধুলো রাস্তার হ্যাপা নিতে হবে না, টেমস নদীর ওয়াকওয়েকেও হার মানাবে। গ্রাম আর গ্রাম থাকবে না তখন, পাতায়া বিচ থেকে বেশী লোক টানবে। চিকচিক করতে থাকে মোরসালিনসহ অন্য শ্রোতাদের চোখ। এমনকি হাতে ধরা আয়না সামনে রেখে লিপস্টিক বুলাতে থাকা বিদেশী মেমদের মত দেখতে তাদের মেয়ে সঙ্গিটিও চোখ তুলে তাকায়।  মাটির রাস্তায় ধুলো, সেই ধুলোর বাতাসে তামাটে নোনা নেশাটে গন্ধ, পর্যটকদের নাসারন্ধ্রে মাতাল করে দিতে থাকে। 
     
    শিশু বিক্রেতা ফিরে আসে, কিন্তু যেমনটা ভেবেছিল মোরসালিন, তেমন ঘটেনি… সেই গামলা, যেটা তার পেটের উপর ধরে রেখেছিল সে, খুব কম ওজনই খোয়াতে পেরেছিল। রীতিমত ঘামছিল সে, শীতের এই পড়ন্ত বিকেলেও। মোরসালিন যখন পঞ্চাশ টাকার নোটটা দেয়ার জন্য হাত বাড়ায়, খুশীতে মুখের চামড়াটা অনেকটাই খুলে যায় না তার। সে কায়দা করে তার ক্ষুদে পকেটের পুরোটা দখল করা মানিব্যাগ বের করে, সেখান থেকে একটা দশ টাকার নোট কায়দা করে উঠায় সে। তারপর নতুন টাকাটা অবশিষ্ট টাকাগুলোও গোণে কায়দা করে, সব শেষে, সেগুলোকে গুঁজে দেয় তার জিন্সের ফুল প্যান্টের পকেটে যেটি সুন্দর করে সেট হয়ে গিয়েছিল পেটের সাথে…. তারপর হাঁটা দেয় সেই এবড়েথেবড়ো ব্লক রাস্তায়।
     
    ‘জানিস, এখানে দুবাইয়ের মত করে নদীর মাঝখানে দ্বীপ হবে, পানির নীচ দিয়ে টানেল এর মত করে রাস্তা বানানো হবে’… মোরসালিন লোকাল কাজিনের রুপকথা শুনছিল ওয়াক ওয়ে ধরে হাঁটতে হাঁটতে, হঠাৎ বন্ধুটির দিকে তাকাতেই দেখতে পেল সে আবার চোখ বুঁজে ফেলেছে, আর তার সাথে আসা মেয়েটি ব্যস্ত হয়ে পড়েছে নিজের পোট্রেট নিতে।
     
    ‘এই শোন’ … মোরসালিনের ডাকটা শুনে কয়েক গজ এগিয়ে যাওয়া শিশু বণিকটি পিছন ফিরে দেখতে পেল একটা নীলমত কি যেন পকেট থেকে বার করা হচ্ছে। বাসা থেকে বেরুনোর সময় চার প্যাকেট চুইঙ্গাম পকেটে পুরে নিয়েছিল মোরসালিন। কিন্তু সাথে আসা বন্ধুর বোনটি তাকে অবাক করে চুইংগাম চিবুতে অস্বীকৃতি জানাল। সে এই বিকেলে এই অনিন্দ্য সুন্দর পদ্মাপারে ছবি  তোলায় এত বিভোর ছিল যে, এমনকি চুইংগামের মৃদু ডিস্টার্বও এলাউ করছিল না।  
     
    ‘এইডা কি?’ ---ছেলেটি চিনতে পারে না, চুইংগাম যে এই থ্রি-ফোর-ফাইভ জি’র যুগে দেখেনি, তা নয়; কিন্তু মোরসালিনের কাছে থাকা চুইংগামগুলো ছিল স্পেশাল, বিদেশ থেকে আনা হয়েছিল, এগুলো শুধু দামীই ছিল না, দেখতে অন্যরকম ছিল।
     
    ‘এটা একটা খাওয়ার জিনিস, চকলেটের মত, চাবাইতে থাক, কিন্তু গিলবি না’
     
    লোকগুলি যেমন, এই প্যাকেটটাও তেমন অচেনা ঠেকে ছেলেটির, হাব ভাব কিছুই বুঝতে পারে না,  হাতে নিয়ে কিছুক্ষণ তন্ময় হয়ে তাকিয়ে থাকে। পরে খোসাটা খুলতে চেষ্টা করে, কিন্তু বিদেশী এই চুইংগাম এর প্যাকেজিং সে ঠিক বুঝে উঠতে পারে না। মোরসালিন ওর হাতে থেকে প্যাকেটটি নিয়ে এক মোচরে খুলে ফেলে, পাঁচটা ছিল, প্রতিটাতে তাই থাকে।
     
    দেখতে তার পিস্তলটার গুলির মত মনে হচ্ছিল। সে মুখে পুরতে যেয়েও পুরে না, মা বারবার বলে দিয়েছে, বিদেশী লোকজনের কাছ থেকে কোন জিনিস না নিতে। সে জিনিসটা ফেলে দেয়ার কথাও ভাবে একবার। কিন্তু এ লোকগুলোর সামনে কাজটি করতে সাহস হয় না তার। সে মোরসালিনদের কোন ধন্যবাদ না দিয়ে হাঁটা দেয় সেই দিকটিতে, যেখানে তার  বাড়ি  বলে জানিয়েছিল। 
     
    অনেকটা পথ এসে, অন্তত মোরসালিনদের চোখের আড়ালে তো বটেই, সে একবার পেছনে তাকিয়ে নেয়, তারপর পকেটের মধ্যে আংগুলগুলো নিয়ে বেশ কসরত করে - তার জিন্সের লম্বা পকেটের অনেক নীচে পড়ে গিয়েছিল প্যাকেটটা। হাতে আটকানোর পর এক ঝটকায় তুলে ফেলে পাশের খাদে ফেলে দিতে যেয়ে হঠাৎ  থমকে যায়। …. নাহ্‌, রেখে দেবে সে, বন্ধুদের দেখাতে হবে জিনিসটা, সবাই কি হিংসে করবে তাকে! মা জানতেই পারবে না, সে তার জুতোর বাক্সটার মধ্যে লুকিয়ে রেখে দেবে জিনিসটা। বন্ধুরা অবশ্য শুধূ দূর থেকেই দেখতে পাবে, তাদের কখনো ধরতে দেবে না সে। সে আবার ঢুকিয়ে রাখে প্যাকেটটা তার পেটের সাথে ফিট করা জিন্সের পকেটে।  তারপর মাথা নীচু করে ফের হাঁটতে শুরু করে।
     
    সাঁঝ হয়ে এসেছে, দূরের সেতুর বাতিগুলো জ্বেলে দেয়া হয়েছে, এখন চলছে ট্রায়াল কাল, তাই সব কিছুই চলে একমাত্র জ্যাম ছাড়া। অবশ্য কিছুদিনের মধ্যেই যখন চালু করে দেয়া হবে, সে দু পারের ব্যবধান কমিয়ে দেবে যোজন যোজন। পুরো সেতু জুড়ে নানা রংয়ের পসরা, একটা স্বপ্নপুরীর মত লাগছে তাকে এখন। সেই স্বপ্নপুরির ঠিক প্রবেশমুখে শিশু বণিক আস্তে আস্তে মিলিয়ে যেতে থাকে … তার বাড়ির খাদে।
     
     
  • গপ্পো | ১৪ জানুয়ারি ২০২৩ | ৯০ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভ্যাবাচ্যাকা না খেয়ে মতামত দিন