বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • ও শেষ বৈশাখ

    Rifon Sircar লেখকের গ্রাহক হোন
    ০৯ আগস্ট ২০২২ | ৯৬ বার পঠিত
  • বাঙালি চলতি হাওয়ার পন্থী, তাকে ক্যালেন্ডারের দুয়ো দেখাতে যাওয়া অর্বাচীনের কাজ।তাই বৈশাখ মানেই অলওয়েজ পঁচিশ।এর বাইরে আমাদের বাংলা তারিখ মনে রাখার কোনো হুলিয়াই নেই, এই সবই আবার মনে রাখার সংস্কৃতি দেখানোর তাগিদে।তাই আমিও বচ্ছরকার প্রথম দিন পয়লা না পহেলা লিখব বলে দ্বন্দ্বে পড়ি।নত্ব-সত্ব না জানা লোকেদের এসব হয়.. মুগ্ধবোধ পড়িনি তাই মনে যা আসে তাই লিখে দিই।কিন্তু আরেকটা নতুন নববর্ষের ঠিক আগে আগেই যখন এই লেখা লিখছি, তখন নববর্ষ মনে আমার একটা গোটা দিনকেই মনে হয়, যা সেই চৈত্রের শেষ বিকেল থেকে শুরু হয় আর বৈশাখের প্রথম দিনেই শেষ।

    শুধু কি তাই?এতটুকুতেই শেষ?হালের বাঙালির এক সপ্তাহের নিউ ইয়ার ইভ, এক পক্ষকালের দুর্গাপুজো ছেড়ে জাস্ট একদিন বছর বরণ, তাই কি হওয়ার কথা ছিল?তাই হয়।তবে আমার মতো যাদের কোনো দিনই স্পেশাল নয়, এমন মানুষদের পয়লা বৈশাখ একটু অন্যরকম।ছেলেবেলায় এই দিন বলতে শুধু বুঝতাম নতুন জামা আর সন্ধ্যায় কিছু মিষ্টির প্যাকেট।সকালে এই সব দিনে স্কুল থাকতে নেই আর টিউশন থেকে বাগিয়ে আনা বিকেলবেলার  ছুটি, ঘুম থেকে উঠতে নির্ঘাত দশটা ।মা ও এই সব দিন আমার শৈশবের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায়নি, তবে ঘুম থেকে উঠেই আমাদের এক টুকরো ছোট্ট ঘর জানান দিত আজ বচ্ছরকার প্রথম দিন।সারা ঘর বেলফুলের গন্ধতে ভরে আছে, সকালে মায়ের ঘরে পুজো দেওয়া ফলের টুকরো গুলো দেখছি ছোট্ট রেকাবিতে ঢাকা।এরপর মা আলতো করে ধমক দেবে, আমিও চোখ পুছতে পুছতে ঘুম কাটিয়ে গন্ধ নেবো বেল ফুলের গন্ধময় ঘরের।প্রথম দিনেই একটু পরেই মা অঙ্ক করতে বলবে, আমি অঙ্ক বই খুলতে না খুলতেই টের পাচ্ছি গোটা ঘর আর বেল ফুলের গন্ধে ভরে নেই, পাশের এক ফালি বারান্দায় মা লুচি ভাজছে ।আমি এইবারই বুঝতে পারি আজ স্পেশাল কিছু।তাই যেই অঙ্ক কোনোদিনই করিনি এমন অনুশীলন পৃষ্ঠা খুলে বসি, খাতায় সদ্য কেনা পেন দিয়ে তার আগে অন্তত দু চার খানা অঙ্ক তুলে ফেলছি।যা আমার প্রায় এক জন্মের না জানা কঠিন কোনো জগদ্দল।আমি অঙ্ক করার ভান করে যাই পাক্কা দশ মিনিট।তারপর মা পড়াশুনোর বহর ও অঙ্ক খাতায় দূর থেকে চোখ বুলিয়ে ভাবে , অনেক হয়েছে।তাই আমিও ছাড়পত্র পাই লুচি আর সাদা আলুর তরকারির, এবার বুঝতে পারি আর পাঁচটা দিনের থেকে সরে যাচ্ছে কোথাও।তখনই পিছনে তাকালে দেখতে পাই , কয়েকটা দিন আগে আমি নিয়ে এসছি আমার আরেক কলোনী পাড়ার স্মৃতি।যেখানে গোটা কতক গাজন সন্ন্যাসী  ঘুরে বেরিয়েছে পাড়ার জুড়ে।ওদের ওই পোশাক দেখে কৌতূহল জাগলেও সব মিটেছিল  অদূরে এক চড়ক পার্বণে।কলকাতার চরক আসলে কলকাতাতেই বিশেষ, এর বাইরে সবই যেন নিয়ম রক্ষার উপাচার।ক্লাস থ্রি-ফোর এর অবুঝ মন কি এসব বোঝে ?তাই সে বায়না করে যাওয়ার।শোনা মাত্রই তার সব দেখা চাই ,চালতাবাগানের ঝুলন থেকে লাটুবাবু-বাজারের চড়কের ঝাঁপ।

    আবার যে মন দুই দিন আগে গাজনের ঝাঁপ দেখে ফিরলো, তাকেই আবার শেষ বেলায় শহরতলির চৈত্রসেল দেখতে হবে।শৈশবে মায়ের সাথে বাজার করার এই চৈত্র আঁচ নিয়েছি ছেলেবয়েসে।বাবা এসব সেলের পথে ঢোকেন না।তাই , নিম্ন মধ্যবিত্তের সংসার কে যেন নতুন বছরে আরেকটু নতুন করতে চান মা।চৈত্র সেলে জামা জুতো নয় ঘরের ছোটো ছোটো জিনিস কেনেন মা।ওটুকু বয়েসেই আশ্চর্য্য হয়ে তাকিয়ে দেখি সব।প্রায় তিন ঘন্টা ঘুরলে শেষ হতো আমাদের কেনাকাটি।এর একদিন পরই হয়তো নতুন বছরের ভোর.. এই সবই মনে আসে আমার শৈশব নববর্ষের  স্মৃতি।এতো কিছুর পরও মনে পড়ে, এইসব মার্চ এপ্রিলের গরম কোনো ঝক্কি আনিনি।ওটুকু বয়েস তখন  দিব্যি জানান দিত, হাতে গোনা আর কটা দিন পরেই গরমের ছুটি।তাই এও যেন আমার নববর্ষের পরিপূরক।যার শুরু হতো এই বছর পয়লার দিন থেকেই।

    আমাদের যাদের ছোটবেলা এক পাড়া থেকে আন্য পাড়ায় কেটেছে, তাই তাদের ইমেজ ফ্রেমও বদলে গেছে বারবার।চড়কের সাথে নববর্ষের সম্পর্ক ওই বয়েসে আন্দাজের বাইরের কোর্টে ছিলো, বয়েস বাড়তে সেসবই যেন বসন্তের নিভে আসা শেষ বাড়ায়।সেসব দিন কার হাত ধরে যেতাম, কে কিনে দিয়েছিল বিডন স্ট্রিট থেকে প্রথম গ্যাস বেলুন, তারা কোথায় আজ?ঠিক কত জন নেই আজ.. প্রশ্ন আসছে একটা আগাম নববর্ষের আগে।সুমন বলেছেন, "যারা চলে গেছে তারা রয়ছে ,স্মৃতি প্রতিটির কোনো কক্ষে" ।এই নববর্ষ তাই আসুক তাদের আবার মেলে দিক.. তবু তো থাকবে কিছু শেষ চৈত্রের রোদ।

    তবে শেষ কত বছর চৈত্র সেলের ব্যাবসা জমেনি ছোট দোকান গুলোর, এসব আক্ষেপ এবারও শুনব হয়ত।চড়কেরর ক'টা  মেলা এখন কলকাতায় হয়?এসবই এখন ঘুরে ফিরে ভাসে।এটাই হয়তো বয়স বাড়ার নতুন কোর্ট।তাই সব কিছু দেখতে দেখতে যাই।তবুও চাই , চৈত্র শেষের আগেই যেন আমাদের বাড়িতে একটা নতুন বাংলা ক্যালেন্ডার ঢোকে , যাতে এই বার থেকে যেন আমাদের সাব কনশান মাইন্ড একটা নতুন বৈশাখের খোঁজ রাখতে পারে।সচেতন ভাবে যেন একটা নতুন বৈশাখ আসে, যেখানে আমার মত নাদান বাঙালিরাও স্মৃতি অ্যালবাম ঘাটতে ঘাটতে বাংলা নববর্ষকে দুয়ো থেকে সুয়ো রানি করুক ,তবেই তো ফেলে আসা বৈশাখ গুলোর সাথে আরেকবার চিয়ার্স করা যাবে।
     
    *রোয়াক / দ্বিতীয় বর্ষ, প্রথম সংখ্যায় প্রকাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ঝপাঝপ মতামত দিন