বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • মহানায়কের স্ত্রী

    Sobuj Chatterjee লেখকের গ্রাহক হোন
    ০৫ আগস্ট ২০২২ | ১৬৭ বার পঠিত | রেটিং ৪ (১ জন)
  • কিশোরকুমারের একটা গানের কটা লাইন মনে পড়ে গেল: "চারিদিকে পাপের আধার নেই তো কোথাও আলো / মনে হয় যে অন্ধ হওয়াই ছিল অনেক ভালো!"... 

    এই তো জীবন কালী দা! আর কত চূনকালি মাখবো বলুন না! তাই ভাবছিলাম প্রাসঙ্গিক নাই বা হলো, জ্ঞানতঃ বা অজ্ঞানতঃ  নিজের জীবনের কিছু হেনস্থার সাথে লুডো খেলে আসি। ছক্কা নয়তো অক্বা। কেঁচে যায় ঘুটি পাক্কা! 

    চলুন যাবেন নাকি আমার সাথে শ্যাওলায় স্কী খেলতে খেলতে ১৯৭২ সালে; কিছু অখাদ্য না হয় খেয়েই আসি। 

    সুস্বাদু "আচ্ছে খাবার" খেতে খেতে তো পেটে চড়া পড়ে গেল! 

    আমি ছোট বেলা থেকেই হাইলি মায়োপিক। এজন্য বন্ধুবান্ধবরা ভালোবেসে অনেক সময় আমাকে খ্যাপাতো বা হ্যাটা করতো। আমি কিছু মনে করলেও মুখে বলতাম না, কারণ চোখ হারালেও বন্ধু হারাতে পারব না এরকম একটা ইমোশনাল আইডেন্টিটি ক্রাইসিস কুরে কুরে খেত আমায়। 

    তখন ক্লাস টেনে পড়ি। আমাদের কেমিস্ট্রি প্র্যাকটিক্যাল ক্লাস চলছিল। সাধারণত প্র্যাকটিক্যাল ক্লাসটা দিনের শেষ পিরিয়ড হতো। আমাদের পাড়ার এক বন্ধু, সে আমার স্কুলের ছাত্র নয় কিন্তু আমায় খুব ভালোবাসতো। প্র্যাকটিক্যালি আমার বন্ধু ভাগ্য বেশ ভালোই ছিল। তো সেই দিন সে স্কুল পর্যন্ত ধাওয়া করে গিয়ে আমাকে ক্লাস থেকে বের করে আনলো। তারপর যা বলল, তাতে  প্রথমে একটু ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলাম। ও বলল চুচূঁড়ায় উত্তমকুমারের স্ত্রী এসছে। চল যাবো দেখতে। 
    এর আগে অনেক ভেঞ্চারে আমি ওর সাথী হয়েছি। তাই ভরসা আছে। বাজে কথা বলার ছেলে ও নয়। 
    আমি বললাম গৌরী দেবী তো? ওকে আবার দেখার কি আছে? তা ছাড়া ওই মারাত্মক ভিড়ে, গরমে পুলিশের লাঠি খেয়ে উত্তমকুমারের বৌকে দেখার ইচ্ছা আমার মোটেও নেই। এদিকে প্র্যাকটিক্যাল ক্লাস কমপ্লিট হয় নি এখনও। আমি মিস করতে পারবো না।
    ও তখন রেগে গিয়ে বললো নিকুচি করেছে তোর ক্লাসের। আ বে  উত্তম কুমারের হিট ছবি 'স্ত্রী' এসেছে। 
    আজ আর মনে নেই রূপালী না কৈরীতে দেখেছিলাম।
    ও একেবারে দুটো টিকিট সঙ্গে নিয়ে চলে এসেছে। অগত্যা মধুসূদন! স্কুল থেকে বাড়ি না গিয়ে সরাসরি ইভনিং শোয়ে মহানায়কের স্ত্রী।

    আমি কোনও দিনই সিনেমাখোর বলতে যা বোঝায় তা ছিলাম না। সুতরাং এ ব্যাপারে খোঁজ খবরে মোটেও যত্নশীল ছিলাম না। তাছাড়া আমার পিতাশ্রী অ্যামেচার নাট্যাভিনয়ের সাথে যুক্ত থাকার দরুন তাঁর সঙ্গে এই শিল্প সম্পর্কে অনেক সময়ে দীর্ঘ আলোচনা হত। তার থেকে যেটা বেরিয়ে আসত, তা হল এ বিষয়ে তাঁর পছন্দ, অপছন্দ, গুণগত মান, রুচি এবং দর্শন। তাঁর মুখে নিয়ত শুনতাম শিশির ভাদুড়ী, অহীন্দ্র চৌধুরী, ছবি বিশ্বাস, পাহাড়ী সান্যাল, তুলসী চক্রবর্তী এবং আরো অনেক দিকপাল অভিনেতার নাম। তাছাড়া তিনি ছিলেন সৌমিত্রর একনিষ্ঠ ভক্ত। সুতারাং তেমনি ভাবে উত্তম রূপের সাড়া পাই নি। যদিও পরবর্তীকালে সেই ধারণার প্রভূত পরিবর্তন হয়। 

    আমাদের চুঁচূড়া শহরের প্রাণকেন্দ্রে দুই বোনের মতো পাশাপাশি দুটি সিনেমা হল আছে। রূপালী আর কৈরী। তাতেই মূলতঃ বৃহত্তর হুগলী-চুঁচূড়া পৌরসভা বাসীর বিনোদনের ক্ষুধা মিটত। 

    যাই হোক আমরা যথারীতি সময়ে হলে পৌঁছে এক কাপ করে চা ও ধূমপান করে থার্ড বেল বাজার আগেই ঢুকে পড়লাম। কাঠের চেয়ার গুলো দুমদাম করে পড়তে লাগলো। আসন অধিকারের সঙ্গে দর্শকদের চীৎকার আর লাইট ম্যানের টর্চের বিক্ষিপ্ত আলো নীচের তলাটা মুখর। কানায় কানায় ভর্তি হয়ে গেল হল। 

    শুরু হলো সিনেমা! খানিকটা বাদে শিব পূজা করে অল্প টলতে টলতে জমিদার মাধব দত্তর আবির্ভাব। ব্যাস, গুরু গুরু চিৎকারে কান পাতা দায়; সঙ্গে তীক্ষ্ম সিটির আওয়াজ। প্রায় দুই মিনিট কিছু শুনতেই পেলাম না।

    বেশ বড় ছবি। দেখতে দেখতে একটা সময় ইন্টারভ্যালের বেল বাজলো। পড়িমরি করে দৌড়! ধুমপান শেষ করে যাতে অন্ধকার হবার আগেই ফিরতে পারি। শ্যামলের কাছেই সিগারেট ছিল। একটা ধরিয়ে অল্টারনেটিভলি টানতে লাগলাম আমরা দুজনে। এদিকে হিসির জায়গায় লম্বা লাইন। শ্যামল আমায় সিগারেটটা দিয়ে হিসি করতে চলে গেল। ওখান থেকে ও হলে ঢুকে গেল। আর আমাকে বলল যে তাড়াতাড়ি আসতে। কিন্তু ও চলে যাওয়ার পর একের পর এক লোক আমার সিগারেট থেকে বিড়ি ধরাতে লাগল। না বলতেও পারছি না, অথচ দেরি হচ্ছে। একেই বলে আপদ। যথারীতি আমিও হিসি করে যখন ঢুকতে গেলাম, লাইটম্যান বলে টিকিট দেখান। এদিকে টিকিটটা তো বন্ধুর কাছে। যা হোক তাকে ম্যানেজ করা গেল। এমনি করে বেশ খানিকটা দেরি হয়ে গেল। আরো মুশকিল টর্চ জ্বাললেই দর্শক হৈ হৈ করে উঠছে। 
    অগত্যা আমার কাছে সিটে পৌছানোটা প্রায় বিভীষিকাময় হয়ে উঠলো। এর চেয়ে কিশোরের গানের মতো পুরো অন্ধ হওয়া ভালো ছিল। হলে বসে নচিকেতা ঘোষের সুরে মান্না দের অপূর্ব গান শোনা যেত। 
    পর্দা জুড়ে তখন গুরু দারুন লিপ দিচ্ছে - হাজার টাকার  ঝাড়বাতি টাতে। আর সমস্ত হল মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে শুনছে আর গুরু গুরু করে গর্জন করছে। 
    এদিকে আমি গুড়ি মেরে প্রায় আমার সিটের কাছে চলে এসেছি। এরই মাঝখানে অন্ধকারে সবাই আমার উদ্দেশ্যে বলছে দাদা বসে পড়ুন। অন্ধকারের এই হলো সুবিধা আপনি কৈশোরে রাতারাতি দাদা হয়ে যেতে পারেন। 

    অবশেষে আমিও গানে আবিষ্ট হয়ে একটা ঘোরের মধ্যে রো এর ভিতরে ঢুকে পড়লাম এবং বেশি দূরে নয়, নিজের সিটে গিয়ে ধপ করে বসে পড়লাম। 
    হঠাৎ আমার  ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় সজাগ হলো; আর একটা ঠান্ডা  স্রোত আমার শিরদাঁড়া বেয়ে নামতে শুরু করলো। প্রথমত সিটটা হঠাৎ এতো নরম আর  উঁচু হলো কি করে? পিছনের দর্শক আমাকে বসতে বলছে কেন?  আমি তো বসেই আছি। 
    আমার আশঙ্কা শেষ হতে না হতেই, এক মহিলার চাপা চিৎকার - ওগো শুনছো , দ্যাখো আমার কোলে কে বসে পড়েছে?! ব্যাস!  এটুকুই যথেষ্ট!  আমার পায়ে যেন ততক্ষণে ভূতের রাজার জুতো উঠৈ এসেছে! শুধু তালি দেওয়া বাকি! 
    হায় রে -
    কে কার কথা শোনে! সবাই তখন হাজার টাকার ঝাড়বাতি আর মাধব দত্তকে নিয়ে ব্যস্ত। সেই মুহুর্তটুকু গুরু আমাকে মহিলার স্বামীর হাত থেকে বাঁচিয়ে দিলে। গুরুর ঝাড়বাতির আলোয় আমি আমার বন্ধুকে দেখতে পেয়ে গেলাম। আসলে আমি এক রো আগে নিশ্চিন্ত হয়ে ঢুকে আমার সিট মনে করে মহিলার কোলে বসে পড়েছিলাম। 

    মহিলাটি বলছে, তোমাকে ডাকছি তুমি শুনছোই নাতো! 
    ভদ্রলোক বারবার পিছনে দেখছে আর পাশের লোককে বলছে, - কি সাংঘাতিক বলুন তো অ্যাঁ, স্ত্রী দেখতে এসে পরস্ত্রীর কোলে বসে পড়েছে! শেষে ভদ্রমহিলা বললে, তুমি চুপ করো তো। যেমন দেখছিলে দ্যাখো। 
    আমি চ্যালেঞ্জ নিয়ে বলতে পারি ভারতের আর কোনো নায়ক হলে আমার প্যাঁদানি একটাও মাটিতে পড়তো না । আশ্চর্য হলেও সত্যি, কেউই একবিন্দু সময় নষ্ট করতে রাজি নয়। 
    সবাই বলছে চুপ করুন না মশাই! দেখতে দিন। 

    একজন স্টারের পর্দা তে ব্যাক্তিত্ব এত বিস্ময়কর হতে পারে তাই কল্পনার অতীত!

    আমার এই কাহিনী সাহস করে কোনো দিন বাবাকে বলতে পারি নি।  ইন ফ্যাক্ট কাউকেই বলতে পারি নি। যে গুরু ডুবিয়ে ছিল সেই গুরুই বাঁচিয়ে দিলে। পাশাপাশি সৌমিত্র এত সুন্দর এবং বলিষ্ঠ অভিনয় করেছেন কিন্তু সে যেন কোথায় ভেসে গিয়েছিল। বড়ী তাজ্জব কি বাত! 

    হল থেকে বেরিয়ে একটা চা এর দোকানে স্বস্তির শ্বাস ফেলে বসলাম। চা-বিস্কুট খেয়ে যখন ধূমপান করছি তখন বন্ধু হাসতে হাসতে বলল, তুই শালা ইচ্ছে করেই বসে পড়েছিলি নারে? 

    এখন বোঝা গেল তো, কেন কাউকে বলি নি? বিশ্বাস সেদিনও ছিল না। আজ ও নেই। আমাদের সেই বন্ধুও আজ আর নেই! আরো অনেককেই হারিয়েছি। বেঁচে আছে এক অমর অক্ষয় দিগশূন্যপুর। যেখানে গিয়ে মনে হয় গলা ছেড়ে বলি ... চি  চি ং   ফাঁক! অমনি সব  মণি, মাণিক্য জ্বল জ্বল করে উঠবে... 

    মাইরি বলছি, বিশ্বাস করুন আমি নির্দোষ!! বাকিটা সমষ্টিগত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। আলোচনা করতে মতামত দিন