ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  ধারাবাহিক  উপন্যাস  শনিবারবেলা

  • দক্ষিণ দামোদর জনপদ

    কৃষ্ণা মালিক
    ধারাবাহিক | উপন্যাস | ১২ জুন ২০২২ | ৮৭১ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • শুরু হল কৃষ্ণা মালিকের নতুন ধারাবাহিক উপন্যাস।
    ছবিঃ ঈপ্সিতা পাল ভৌমিক


    এক


    গেটটা সশব্দে বন্ধ করতে চাইনি। তবু যে তা হল, সে খানিকটা দরজার নড়বড়ে ভাব, আর হাওয়া তাতে হাওয়া দিল বলে। এটাও আমার এ যাবতের বদনসিবি, যা চিরকাল দেখে এসেছি। নিজের নিয়তি-বাধ্যতার জীবনের নিজেকে নিয়ে ঠাট্টা। যা নই, লোকে তাই ভাবল। যা করিনি, যা বলিনি, যা ভাবিওনি তাই – তা-ই শূন্যস্থানে বসে গেল। এটা বহুদিন জানি বলে মেনে নিয়েছি উপরচাপান এই ব্যাপার।

    গেটের ওপারের মানুষটার খারাপলাগাটা ধর্তব্যের মধ্যে এল। কিন্তু কিছু করার নেই। ধরা যাক, ক্রুদ্ধ বাক্যালাপের পর পুনরায় গেট খুলে নরম করে বিদায়সম্ভাষণ জানিয়ে আলগোছে গেটখানা বন্ধ করে দিলাম। কিন্তু সেটা হাস্যকর শুধু নয়, চরম নাটকীয় হয়ে যাবে না? তাই অন্য পক্ষের বিরূপ ভাবনার সম্ভাবনা ষোলোআনা থাকা সত্ত্বেও আবারও একবার নিজেকে পরিস্থিতির হাতে ছেড়ে দেওয়া ছাড়া গত্যন্তর রইল না।

    একটা বারোয়ারি উঠোন। ভাড়াবাড়ির। ভাড়াটে বলতে আমি একাই। মাঝের কমন রাস্তাটুকু পার হয়ে আসার সময় পাশে পাশে গাছের ছায়াগুলো লম্বা হয়ে পড়েছে। বস্তুর থেকেও ছায়া যে কখনও কখনও বেশি লম্বা হয়ে যায়, আজ কি প্রথম জানলাম? এই যে, যে মানুষটি অজান্তেই আমার জীবনটাকে নিয়ন্ত্রণ করে ফেলেছেন, তিনি আমার জীবনে কি বিরাট হয়ে ছায়া ফেলছেন না?

    সারাদিন পুড়ে পুড়ে দিনমান এই বিকেলবেলা বিশেষ একটু উজ্জ্বলতা পেয়ে গেছে। এখন কিছুই আর আসে যায় না লাগাতার দহনে। দহন অতিক্রম করে অপরাজেয় আনন্দ বিভা বিস্তার করে যে মন্ত্রে তা যেন গাছের পাতায় পাতায় হাওয়ার দোলায় বেজে উঠছে নিরুচ্চারে। অথচ আনন্দধ্বনির ভেতর ঝাপসা কুয়াশার মত এক বিষাদবাণী কেবল আমারই শিরাউপশিরায় রিনরিন করে বয়ে চলেছে। মুহূর্তে ক্লান্ত লাগে দৃশ্যমান যা কিছু – সব।

    বৈশাখ মাসের এই বিকেলগুলো এক-একদিন এমনই ভীষণ গুমোট। নদীর উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া বাতাস নিশ্চয় শীতল হয়। কিন্তু এই বাড়িটা নদীর দক্ষিণ পাড়ে বলে সব সুফল চলে যায় শহরের দিকে। হাওয়া নেই বলে ফুলের সুঘ্রাণ পাওয়া গেল না। প্রাচীরের গায়ে হাসনুহানা, মাধবীলতা ফুটে আছে। আজ ওসবে চোখ পড়ল না।

    তিন ধাপ সিঁড়ি ভেঙে উঠে এসে বারান্দার চেয়ারে বসে পড়লাম। মনের যে পরিসর, তাকে আকাশ বলব, না খাতা; অথবা ঘর বা কুঠুরি? যা-ই বলা হোক, সে বেবাক শূন্য হয়ে থাকল কিছুটা সময়। আঘাতের তীব্রতায় যেমন প্রথমটায় যন্ত্রণার অনুভূতি থাকে না, তারপর সমস্ত স্নায়ু-শিরা-উপশিরা অনুভবে সাড়া দেয়, শরীরের সমস্ত তন্ত্রী ঝনঝন করে ওঠে, তেমনি প্রথমে চেতনা অসাড়, তারপর গোটা শরীর মুচড়ে উঠল। গভীর বেদনা যেন বাঁধ ভেঙে অজস্র ধারায় চোখ থেকে নেমে আসতে লাগল কান্না হয়ে। নিজেকে আটকাতে পারছি না।

    আজকের এই ঘটনার কি খুব দরকার ছিল? কোনো সম্পর্ক যদি ভাঙতেই বসে তবে তাকে এত কদর্যতার ভেতর ফেলে পায়ে দলে যেতে হবে কেন? একদিন সুসময় ছিল – এই ভেবেও সেই সম্পর্কের এতটুকু মর্যাদা কি প্রাপ্য হতে পারে না?

    নিভুনিভু প্রদীপ শিখার মত এই ছাপোষা জীবন। সবকিছুই সাব-স্ট্যান্ডার্ড। এই ছোট গঞ্জের মত জায়গাটাতে নিম্নরুচি, সংস্কৃতি-বিস্মৃত, অমানবিক, ছিদ্রঅন্বেষণকারী অনেক মানুষ রয়েছে। মানবিক মুখগুলো হারিয়ে যাচ্ছে।এই চূড়ান্ত ক্ষয়ধরা সময়ে ক্লীবত্ব মানুষকে যেন ভোঁতা করে দিচ্ছে। যেন মৃন্ময় মূর্তি তীব্র দহনে আমাপা বৃষ্টিতে ক্ষয় পাচ্ছে – গলে গলে যাচ্ছে। সহানুভূতিশীলতা হয়তো স্বাভাবিক প্রবণতা। কিন্তু চোখে পড়ে কই? বরং অন্যকে পিষে দিতেই যেন মানুষের সুখ। সেই সারিতে সন্দীপনকে বসাতে মন চায় না। তাতে তার অপমানের সঙ্গে সঙ্গে নিজেরও যে অপমান হবে!

    মিষ্টির রসে ডুবে থাকা মাছি উঠে আসতে পারে না সেই রসকুণ্ড থেকে। ডানা, পা, শুঁড় রসে ভারি। নিয়তির হাতে নিজেকে সঁপে দিয়ে অন্ধের মত এদিক ওদিক ঘোরে। আয়ু থাকলে সে বাঁচে আরও কিছুদিন। কিছুদিন আরও স্বাধীনভাবে জীবনকে নেড়েচেড়ে দেখে নেয়। কিন্তু তার দৃষ্টির ঘোরাফেরা একটা নির্দিষ্ট সীমায়, জীবনকালও সেই গণ্ডির ভেতরেই সীমাবদ্ধ। অধিকাংশ মানুষের জীবনই এই। এই অঞ্চলের মানুষও তার ব্যতিক্রম নয়, বরং নারীপুরুষ নির্বিশেষে সবাই একরকম। নিশ্চেষ্ট, উদ্যমহীন। খেয়ে-পরে অর্থ উপার্জন করার আত্মকেন্দ্রিকতার বাইরে হাজার অপমান আর অসম্মানেও তারা বোবা। চেনা ছকের বাইরেও যে জীবনের যে একটা উদ্দেশ্য থাকতে পারে, এমন কথা তারা সম্ভবত চিন্তাতেই আনতে সক্ষম নয়।

    প্রকৃতির ছায়াতলে বসে যতটুকু পাওয়া গেছে, তাই নিয়ে অগাধ শান্তি ও তৃপ্তির ভেতর জীবন কাটানোটা অমূল্য তাতে সন্দেহ নেই। ‘ইছামতী’ উপন্যাসে বিভূতিভূষণ এই ছবিই দেখাতে চেয়েছেন ভবানীর মধ্যে দিয়ে। তিনি নিজেও হয়তো এমনই জীবন খুঁজেছেন! কিন্তু এ তো ভবানীর মত জীবন নয়, নিরূদ্যম জীবনে শান্তির কামনা যদি বা থেকে থাকে, তা থেকেই তৃপ্তি খুঁজে তারা পায় না। তাই কেবল ধান আছে, ধন আছে দামোদরের এই অববাহিকায়। আর কিছু তেমন চোখে পড়ে না। প্রবাদপ্রবচনগুলো তো আসলে জীবনসত্য। ‘মশা, বান আর ধান –- এই তিনে বর্ধমান’– প্রবাদটা আকাশ থেকে তো আর পড়েনি?

    এত বছর ধরে সন্দীপনকে দেখে তার সম্পর্কেও ব্যতিক্রমী বিশেষণটা পুষ্ট হয়ে উঠতে পারল না। অথচ তার জীবনবৃত্তে সেও অনেকটা জায়গা জুড়ে আছে। তাকে অস্বীকার করা যায় না কোনোভাবেই। তবু সে যতটা, সায়নদীপ জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোত জড়িয়ে না থেকেও তার থেকে যে অনেক বেশি! তার বসবাস, সন্দীপন আর সায়নদীপ – এই সবটা মিলিয়েই তার বাঁচন – এই সত্য সে অস্বীকার করে কী করে!

    সায়নদীপ জিগ্যেস করেছিলেন, এই অঞ্চলকে দক্ষিণ দামোদর বলে কেন?

    তখন আমার নিজের আবেগের উপর নিয়ন্ত্রণ নেই। প্রিয় লেখককে সামনে দেখে বুক কাঁপছে। উত্তরে একটা লম্বা বক্তৃতা দিয়ে ফেলেছিলাম – “প্রবাহপথের প্রেক্ষিতে অঞ্চলটা নদীর পশ্চিমদিকে তো বটেই, তবে শহর বর্ধমানের দক্ষিণ দিকে নদী বয়ে গেছে, আর তারই দক্ষিণদিকে পড়ে এই অঞ্চল। তাই দক্ষিণ দামোদরই বলা হয়। নদীটা বর্ধমানের রথতলা কাঞ্চননগরের পশ্চিম গা বেড় দিয়ে শহরের দক্ষিণ দিকে এসেছে। তারপর পূর্বমুখী হয়ে শক্তিগড় পর্যন্ত গিয়ে আবার দক্ষিণবাহিনী। মোটের উপর দক্ষিণ-পূর্ব দিকেই অনেকটা পথ বয়ে গেছে। নদের পশ্চিমদিকের অববাহিকাও বর্ধমান শহরের দক্ষিণে নদের দক্ষিণ পাড়ের পর থেকে হুগলি জেলার সীমানা পর্যন্ত বর্ধমান জেলার বিস্তীর্ণ এলাকাই হল দক্ষিণ দামোদর।”
    একটু থেমে বললাম, “বর্ধমান জেলার দক্ষিণ দামোদর অঞ্চলের পশ্চিমদিকে বাঁকুড়া জেলার সীমানা। আরপূর্বে দামোদর। সে আবার কারালা ঘাট শুঁড়েকালনা পেরিয়ে মুইদিপুরের কাছে দুটো শাখায় ভাগ হয়েছে। প্রধান শাখা দামোদর, অন্যটির নাম মুণ্ডেশ্বরী।”

    গাঁয়ে টেলিফোনের লাইন ছিল না। কোনোদিনই তার দেখা পাওয়া গেল না। চিঠি লিখেছি আমরা। কলকাতা থেকে দ্বিতীয় চিঠিতে সায়ন লিখেছিলেন, “দুঃখনদী পাড়ের বাসিন্দাটি কেমন আছে?... ”

    উত্তরে ইতিহাস আউড়েছি – দামোদরের মত বৈচিত্র্যপূর্ণ নদী উপত্যকা ভারতবর্ষে কমই আছে। মৎস্যপুরাণে এই নদকে বলা হয়েছে মহাগৌরী। বর্তমানে একে দুঃখের নদ বলে এর বদনাম করা হলেও কোনো পৌরাণিক গ্রন্থে এর বন্যার ভয়াবহতার কোনো উল্লেখই নেই। তার কারণ নিশ্চয়, তখন নদী স্বাভাবিকভাবে বয়ে যেত। নদীর স্বাভাবিক খাতগুলি ও নির্গত খালগুলির গর্ভ পলি জমে ভরে যায়নি। স্বাভাবিক বন্যায় পলি ধুয়ে যেত। এর আর একটা সুফল ছিল, চাষের জমিগুলো জমা পলিতে হত আরও উর্বর।

    কত দ্রুত থেমে গেল সব কথা। দুঃখনদীর পাড়ের বাসিন্দাটি কেমন আছে এ প্রশ্ন তাঁর মনে আর জাগে কি? অথচ এখানে থেমে থাকা একটা নদী বারোমাস ঘরের ভেতর। পাড় ভাঙছে, ভাসাচ্ছে। গেঁজিয়ে উঠছে ঘুলিয়ে আসা আবর্জনা। আর এত জল যে ডোবাভাসা হয়ে আছি। কিছুতেই ডাঙা পাচ্ছি না।

    সন্দীপন চলে গেল রাগ করে। তার রাগেরও মূলে যে আসলে সায়নদীপ চক্রবর্তী, একথা সে কোনোদিনই জানবে না। সন্দীপন তাকে চায়, সে চায় সায়নকে। একটা অসম্ভবের বেদনাফল আঁকড়ে সে বসে, আর কষ্ট পেল সন্দীপন! তাকে সায়নের কথা বলে দিলে সে অন্তত অনিশ্চয়তার হাত থেকে মুক্তি পায়। কিন্তু শান্তা কিছুতেই সায়নের কথা কারও সঙ্গে আলোচনা করে আটপৌরে করবে না। সেটা তার একান্ত নিজের একটা পৃথিবী, তাকে বোঝার মন কারও নেই, তার বিশ্বাস সন্দীপনেরও না।

    এমন সম্পর্কের কোনো অর্থ নেই বলেই সবাই নিশ্চিত সিদ্ধান্ত টানবে। অথচ চারপাশে সংসারধম্ম করা – বৈধ ছাড়পত্রের জীবনের হাহুতাশ, এমনকি হাহাকারেও বাতাস ভারি। তার আর সন্দীপনের যৌথ যাপনের কথাও কতই না পল্লবিত। তারা একসঙ্গে রাত্রিবাসও করে না। তবু তারা এই গাঁ-গঞ্জের বিধিবদ্ধ দৈনন্দিনতায় আলোচ্য বিষয়। সন্দীপন এসব খেয়াল করে না, সে প্রাণচঞ্চল সহজ এক মানুষ। শুধু খেয়াল নয়, কেয়ারও করে না। কিন্তু নিজে সে খেয়াল করে সবকিছু। অতি তুচ্ছ জিনিসও তার নজর এড়িয়ে গেলে সে নিজের উপর বিরক্ত হয়।

    এই এক দ্বৈত স্বভাব তার, পরিবার নিয়ে উদাসীনতা, আর নিজের চারপাশ সম্বন্ধে টনটনে। আসলে সচেতন মানুষ হিসাবে নিজের জন্ম ও বসবাসের জায়গাটা নিয়ে তার খুব গর্ব। আজকাল কেই বা এসব মাথায় রাখে? রাখে না বলেই যেন তার নিজের এই ধরনের একটা আদিখ্যেতা। অন্যদের চোখে অন্তত আদিখ্যেতাই।

    শান্তার এই ব্যাপারটা নিয়ে সায়ন কিছুটা জানতেন। সন্দীপনের সঙ্গেও কথা হত এই নিয়ে। অথচ এখানে যত ধান – ধান আর মানব ধন ধনী করেছিল একদিন এই অঞ্চলকে। এখানকার উর্বর মৃত্তিকায় উপ্ত হয়েছিল বনষ্পতির মত কিছু মানুষ। যেন এক ঐশ্বর্যমণ্ডিত বিরাট ইমারত। কিন্তু যে কোনো ইমারতে মহাকাল ধ্বংস নিয়ে আসে, তার হাত থেকে তার নিস্তার নেই।


    (ক্রমশঃ)
  • ধারাবাহিক | ১২ জুন ২০২২ | ৮৭১ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Soumitra Chakraborty | ১২ জুন ২০২২ ১২:৫৬508888
  • গুরুচণ্ডালী বেশ মজার তো! বাংলায় লেখাগুলো চমৎকার আসছে। উপন্যাস ইন্টারেস্টিং। পরবর্তী লেখার অপেক্ষায় থাকলাম। 
  • | ১২ জুন ২০২২ ১৫:০৫508921
  • বাহ। পড়ছি
  • kk | 174.53.251.123 | ১২ জুন ২০২২ ২১:৪৬508940
  • আমিও পড়ছি। চলুক। ছবিটাও দারুণ!
  • অচিন্ত্য রায় | 2409:4061:2c08:d376:b642:2596:5c4b:6c83 | ১৩ জুন ২০২২ ১১:৪৩508957
  • ভালো লাগলো ধারাবাহিক চলুক
  • Ranjan Roy | ১৩ জুন ২০২২ ১৯:২৭508964
  • পড়ছি, প্রতি সপ্তাহে কি একটি করে কিস্তি? অপেক্ষায় থাকব।
  • অরিন্দম মুখোপাধ্যায় | 42.110.170.153 | ১৫ জুন ২০২২ ১১:২৭509020
  • বাহ! শুরুটা বেশ ভাল। তারপর
  • প্রদীপ কুমার মণ্ডল। | 43.226.31.175 | ১৮ জুন ২০২২ ১২:৫২509133
  • নাম গুলি খুব সুন্দর লাগছে। কারণ সবই s দিয়ে।আর s মানেই সুইট বা সল্ট।
  • কৃষ্ণা মালিক | 113.21.75.244 | ২৩ জুলাই ২০২২ ০৮:০৮510175
  • সকলকে ধন্যবাদ। 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। না ঘাবড়ে প্রতিক্রিয়া দিন