ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  আলোচনা  ইতিহাস

  • লাগ্‌ লাগ্‌ লাগ্‌ লাগ্‌ এইই শংকরের দোহাই... 

    Goutam Dutt লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | ইতিহাস | ১৬ মে ২০২২ | ২১৯ বার পঠিত
    • এটা কি বলোতো মুকুল ?
    • কলম।
    • এবার ?
    • বাতি।
    • এই বাতি’তে না তোমার সোনার কেল্লা দেখা যাবে। এই যে আলো, এই আলোর মধ্যেই।
    • কোথায় ?
    • এখানে তো হবে না। এসো, এসো, এসো এইখানে বোসো।

    (আলোটা নেভানো হয় সুইচ টিপে)
     
    • এ আলোটা ফেলব তোমার মুখে আর তুমি সেটার দিকে চেয়ে থাকবে। কেমন !
    • তা’হলেই সোনার কেল্লা দেখা যাবে ?
    • রেডি ?
    • রেডি।
    • মুউউকুউউউল। আলোটার দিকে চেয়েএএএ থাকোওওও। চেয়েএএএ থাকোওওও আলোর দিকেএএএএএএ।  চেয়েএএএ থাকোওওও। চেয়েএএএ থাকোওওও। সোনাআআর কেল্‌লাআআ। সোনাআআর কেল্‌লাআআ। সোনাআআর কেল্‌লাআআ। সোনাআআর কেল্‌লাআআ। সোনাআআর কেল্‌লাআআ। মুউউকুউউউল শুনতে পাচ্ছো ?
    • পাচ্ছি
    • কোথায় সোনার কেল্লাটা ? মুমুউউকুউউউল, কি নাম কেল্লাটার ? মনে পড়ছে ? বলো
    • জয়...জয়......শল......মীর...।

             এতক্ষণে নিশ্চিত ধরে ফেলেছেন। সংলাপগুলো কোন সিনেমার !   সেই ডাঃ হাজরা আর ভূপর্য্যটক মন্দার বোস। যোধপুরের সার্কিট হাউস !

             জাতিস্মরের থেকে জেনে নেওয়া সেই মুকুলের বাড়ির ঠিকানা। ওখানেই নাকি গুপ্তধন মিললেও মিলতে পারে। আর এই যে সম্মোহিত বা ‘হিপ্নোটাইজ’ করে মানুষের অবচেতন মন থেকে কথা জানতে চাওয়া এও জাদুবিদ্যার এক অংশ। একে আবার কেউ কেউ ইংরেজিতে ‘মেসমারাইজ’ পদ্ধতিও বলে থাকেন।

             সত্যজিত রায়ের ‘হিপনোসিসের’ ব্যাপারে মনে হয় খুব ইন্টারেস্ট ছিল। ‘গুপি বাঘা ফিরে এলো’ সিনেমাতেও এর প্রয়োগ দেখা যায়। কাকাবাবু যারা পড়েছি, তাদের কাছে কাকুবাবুর হিপনোটাইজ করার ক্ষমতা অজানা নয়। সেই ক্ষমতার ব্যবহার করে তিনি কত যে রহস্যের সমাধান করেছেন, তা সন্তুর মুখে অনেক শোনা।    

             ফ্রাঞ্জ ফ্রেডরিখ অ্যানটন মেসমার (১৭৩৪-১৮১৫ সাল)। ১৮ শতকের মধ্যভাগে কিছু মানুষের মানসিক সমস্যার সফল চিকিৎসা করিয়ে বেশ খ্যাতি লাভ করেন তিনি। তিনি একটি বিশেষ চিকিৎসাপদ্ধতিতে রোগীদের চিকিৎসা করতেন যার নাম ‘এনিম্যাল ম্যাগনেটিজম’।  তিনি যেন ছিলেন কোনো তান্ত্রিক। আর ম্যাগনেটিজম হচ্ছে তার তন্ত্রমন্ত্রের নাম, যার কাছে গেলে অসুখ বিসুখ রোগীর দেহ ছেড়ে পালাবার পথ খুঁজতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে! অথচ, এনিম্যাল ম্যাগনেটিজম বলতে আসলে নাকি কিছুই নেই!  কিন্তু, তিনি এই অলীক বস্তুর নামেই নিজের চিকিৎসাপদ্ধতিকে বাস্তব রূপ দিয়েছেন, সুস্থ করেছেন হাজারো রোগীকে। তার সম্মোহনী চিকিৎসাপদ্ধতির দ্বারা কত শত মানুষ যে উপকার পেয়েছেন তার ইয়ত্তা নেই।

    https://assets.roar.media/Bangla/2018/03/mesmer1-680x339.jpg?w=700
    ফ্রাঞ্জ মেজমার

             প্রাচীনকাল থেকেই এই সম্মোহন বিদ্যা প্রচলিত রয়েছে মানব সমাজে। সেকালে এই বিদ্যাকে যাদুবিদ্যা, বশীকরণ বিদ্যা বা অলৌকিক ক্ষমতা বলে মানুষ বিশ্বাস করা হতো। অষ্টাদশ শতকে সম্মোহন বিদ্যার নামকরণ হয় ‘মেজমেরিজম’। অষ্ট্রিয়ার ভিয়েনা শহরের ড. ফ্রাঞ্জ ফ্রেডরিখ অ্যানটন মেসমার সম্মোহন বিদ্যার চর্চা শুরু করেন। ফলে এর ব্যাপক প্রচার শুরু হয় এবং পরবর্তীতে তার নামানুসারে এর নামকরণ করা হয় ‘মেজমেরিজম’।       ( সম্মোহনের হরেক কথন - Agnishwar Nath)
                  
             দক্ষিণ জার্মানির একটা খুব ছোট্ট গ্রাম ইজনাঙ্গ। ১৭৩৪ সালের ২৩শে মে এই গ্রামেই জন্ম হয় ফ্রাঞ্জ অ্যান্টন মেজমার। বাবা অ্যান্টন মেজমার এবং মা মারিয়া উরসুলা।  তিন ভাইয়ের মধ্যে ছোট ভাই।

             বাড়ির আশেপাশেই একটা হ্রদ। নীল জলে ঘেরা। নাম কন্সট্যান্স। ছেলেবেলা কেটেছে এই জলের ধারেই খেলাধুলোয়।  যখন আট বছর তার বয়স তখন বাড়ির কাছাকাছিই এক ছোটদের স্কুলে ভর্তি হন তিনি। বাবার ইচ্ছে ছিল ছেলে পাদ্রী হবে। সে অনুযায়ী জেস্যুট কলেজ এবং ‘জ্যেসুট থিওলজিক্যাল স্কুল অব ডিলিঞ্জেন’ এ ধর্মতত্ত্বের শিক্ষা হয় তার।   এরপরেই তিনি বুঝতে পারেন যে এ লাইন তাঁর নয়। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মতত্ত্বের পাশাপাশি দর্শন, গণিত, পদার্থবিজ্ঞান এবং যুক্তিশাস্ত্রের শাখায় শুরু করেন তাঁর উচ্চশিক্ষা। সেখান থেকে তিনি পান ‘ডক্টর অব ফিলোসফি’র সম্মান। এরপরে চলে আসেন ভিয়েনা’য়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের জন্য ভর্তি হ’ন, ভিয়েনা ইউনিভার্সিটি’তে। ১৭৬৫ তে ডাক্তার হ’ন।

             পসার তেমন ভাবে শুরু করতে না পেরে, চৌকস ছেলে ভিয়েনার এক বড়লোক ব্যবসায়ীর মেয়ে মারিয়া আনা ভন পস’কে বিয়ে করে ফেলেন ১৭৬৮ সালেই। তখন তাঁর বয়স ৩৪। শ্বশুরমশাই তাঁকে এক প্যালেস উপহার দেন। সেই বাড়িরই একতলায় খুলে ফেলেন তাঁর চিকিৎসার গবেষণাগার।

             মনে আছে তো সেই “সাড়ে চুয়াত্তর” ছবির কথা। ১৯৫৩ সালের সিনেমা !  সেই ‘অন্নপূর্ণা বোর্ডিং হাউস’এর মালিক রজনীবাবু’র (তুলসী চক্রবর্তী) পকেট হাঁতরাতে গিয়ে রজনীবাবুর স্ত্রী’র (মলিনা দেবী) হাতে আসে এক প্রেমপত্তর। ওই বোর্ডিং-এ তখন তুমুল উত্তেজনা রামপ্রীতি (উত্তমকুমার) আর রমলা’র (সুচিত্রা সেন) প্রেম—পিরিত—চিঠি চালাচালি নিয়ে।  বোর্ডিং-এর চাকর মদনে’র (নবদ্বীপ হালদার) মাধ্যমে চিঠি চালাচালি হয় এ কথা জানাজানি হয়ে পড়ে। কোনোরকমে একখান চিঠি হস্তগত করে কয়েকজন উৎসাহী বোর্ডার রজনীবাবুর বাড়ি ফেরার দিন তাঁর পকেটে গুঁজে দেন। অতঃপর সে চিঠি গিয়ে পড়ে স্ত্রীর হাতে। আর যায় কোথায়, বাঙালী সন্দেহ। উনি মানে রজনীবাবুর স্ত্রী’র মনে বদ্ধমূল ধারণা হয়য় যে তাঁর কর্ত্তা নির্ঘাত কোনো রুপসী ডাইনি’র খপ্পরে পড়েছেন। ব্যস, রজনীবাবুর স্ত্রী তার সই’কে দিয়ে বাড়িতেই শুরু করে দেন ঝাড়ফুঁক, উচাটন, বশীকরণের সবকিছু। সেই গুণীন নাকি তুকতাক করে এই ডাইনিভুত’কে তাড়িয়ে দেবে। সিনেমার শেষে মধুর সমাপ্তি হয় অধৈর্য্য হয়ে যখন মলিনা দেবী ঘোড়ার গাড়ি চেপে সটান এসে হাজির হ’ন বোর্ডিং-এ। এই সম্মোহন বা যাদুবিদ্যা অনেকদিন ধরেই প্রচলিত ছিল।

                মেজমার প্রথমে এই ম্যাগনেটিক থেরাপি’র প্রয়োগ করেন এক মৃগীরোগীর ওপরে। তিনি রোগীকে এক গ্লাস আয়রন মিশ্রিত জল পান করতে দেন। এরপর তিনি রোগীর দেহের চারদিকে চৌম্বক সেঁটে দেন। কিছুক্ষণ পর রোগী বলতে থাকেন, তিনি তার দেহের ভেতরে কোনো কিছুর তরঙ্গ অনুভব করছেন এবং এই তরঙ্গের ঢেউ তার রোগ ভালো করে দিচ্ছে! ব্যস, ম্যাগনেট থেরাপি প্রমাণিত!
     
             উজ্জীবিত হয়ে এবারে ডাঃ মেজমার বুকে বল পান। তিনি দেখেন যে ওই ম্যাগনেট বা চুম্বকের কাজ তাঁর নিজের দুহাতেই করা যাচ্ছে। ব্যস, আর পায় কে !  ১৭৭৫ সালেই এই পদ্ধতি বিখ্যাত হয়ে পড়ে। আসলে ব্যাপার যেটা হয়েছিল তা হল, ডাক্তারবাবু জানতেই পারেননি যে ভুলভাল এক পদ্ধতি দিয়ে তিনি চিকিৎসার এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছেন। তিনি নিজে ছিলেন খুবই সুদর্শন আর তারা কথা বলার কায়দাও ছিল দারুন। তিনি যে ওই পদ্ধতিকে ম্যাগনেটিক থেরাপি বলে চালাচ্ছিলেন তা আদপে ছিল ‘হিপনোটিজম’ বা সম্মোহন। তবে এর অনেক বছর পরে, ১৮৪৩ সালে জেমস ব্রেইড এই হিপনোসিস থিওরিকে প্রিতিষ্ঠিত করেন। যদিও সে সময়ের অন্য ডাক্তারেরা তাঁকে হাতুড়েই বলতেন।

             তা ডাঃ মেজমারে’র এই সাইকোম্যাটিক চিকিৎসা ভিয়েনাতে মাত্র দুবছর চলেছিল। বেশ ছিলেন মানসিক রোগীদের নিয়ে। কিন্তু এক অন্ধ রোগীকে এই থিওরি প্রয়োগ করতে গিয়েই বিপত্তি ঘটালেন। বউ কে নিয়ে সোজা প্যারিস পালালেন ডাক্তারসাহেব। সেখানে একটা ডাক্তারখানা বা চেম্বার খুলে ফেলেন ১৭৭৮ এ। এইখানে তাঁর প্রচুর ভক্ত জুটে যায়। ১৭৭৯ সালে তিনি একটা বই লিখে ছেপে ফেলেন। ‘রিপোর্ট অন দ্য ডিসকভারি অব এনিম্যাল ম্যাগনেটিজম’। এর পরে প্রচুর রোগীর লাইন পরতে লাগল তাঁর দরজায়। ১৭৮০ সালে তিনি রোজ প্রায় দুশ’ রুগী দেখতেন।

    https://assets.roar.media/Bangla/2018/03/Mesmerism-680x479.jpg?w=700
    একসাথে অনেক রোগীর চিকিৎসা করাচ্ছেন মেজমার

             এইবারে হ’ল কি, একসাথে অনেক রুগীর চিকিৎসা করতে গিয়ে বেশ কিছু মহিলারা খিঁচুনির কবলে পড়েন। সঙ্গে সঙ্গে তিনি সেই সব মহিলা রুগীদের পাশের একটা ‘ক্রাইসিস রুম’ নামের ঘরে ঢুকিয়ে দিতেন। সেই ঘরের ভেতরের কাজকারবার নিয়েই শুরু হ’ল ফিসফিসানি। গুজব ছড়িয়ে গেল যে, ডাঃ মেজমার ওই গোপন ঘরে ফরাসী সুন্দরীদের সাথে যৌনাচার করছেন। ব্যস। ফ্রান্সের সম্রাট তখন ষোড়শ লুই। আর লুই এর গিন্নি আবার ডাক্তারের খুব ভক্ত। সম্রাটের মাথায় চাপল যে, এই মেজমার’ই তার বউ’কে যাদু করেছে। সেই “সাড়ে চুয়াত্তর”-এর উল্টো ব্যাপার আর কি !  তবে এখানে ওঝা বা গুণীন নয়। সম্রাট বলে কথা। বসিয়ে দিলেন একখানা তদন্ত কমিশন। যার প্রধান তদন্তকারীরা ছিলেন তখনকার দুই বিখ্যাত বিজ্ঞানী। অ্যান্টনি ল্যাভয়সিয়ে এবং বেঞ্জামিন ফ্রাংকলিন। সম্রাটের আদেশ। না হলে মাথাও কাটা যেতে পারে। তাই খুব দ্রুত রিপোর্ট পেয়ে গেলেন সম্রাট ষোড়শ লুই।

             রিপোর্টে জানা গেল যে, চিকিৎসাপদ্ধতি পুরোটাই অবৈজ্ঞানিক আর ম্যাগনেটিক ফ্লুইড বলে কিছুই হয় না। আর কি !  নেতাজির অন্তর্ধান রহস্যের মত ভ্যানিশ হয়ে গেলেন প্যারিস থেকে। কিন্তু গোটা প্যারিস জুড়ে খুলে গেল ব্যাঙের ছাতার মত ‘এনিম্যাল ম্যাগনেটিজম মানসিক চিকিৎসালয় !

             তবে মেজমার ফ্রান্স, জার্মানি, ব্রিটেন, অস্ট্রিয়া এবং সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন শহর ঘুরে ভিয়েনায় ফিরলেন ১৭৯৩ সালে। কিন্তূ সেখান থেকেও আবার তাড়া খেলেন। এর পরে বাকি জীবনটা জার্মানি’র সেই কন্সট্যান্স হ্রদের তীরে মিরসবার্গে কাটালেন ডাক্তার। ১৮১৫ সালে মারা যান এই ডাক্তার কিন্তু তার প্রায় তিন দশক পরে চিকিৎসাবিজ্ঞান ব্যাখ্যা খুঁজে পায় এই হাতুড়ে ডাক্তারের।

             ১৮৪০ সালে স্কটল্যান্ডের ডাক্তার জেমস ব্রেড এই পদ্ধতির নতুন নামকরণ করেন। গ্রিক শব্দে ঘুমের দেবতার নাম ‘হুপ্নস’। এই শব্দের অর্থ হলো ঘুম। সম্মোহিত ব্যক্তি যেহেতু এক প্রকার ঘুমের ঘোরে কাজ করে যায়, তাই ড. ব্রেড এই বিদ্যার নাম দিলেন ‘হিপনোটিজম’।        

             পৃথিবীতে অনেককিছুই যুক্তিযুক্তভাবে ঘটে, কিন্তু মানুষের কাছে সেই যুক্তি খুব সহজেই পৌঁছায় না। তখন সেটাকে উপযুক্ত জ্ঞান ও প্রমাণের অভাবে দৈব কোনোকিছু বলে ধরে নিতে বদ্ধপরিকর হয়ে পড়ে সে। ব্রিটিশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃক নিযুক্ত একটি কমিটি বিস্তর অনুসন্ধানের পর রায় দেয় যে, হিপনোটিজম একটি বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি। এরপর যত দিন এগোচ্ছে, বড় বড় চিকিৎসক-বিজ্ঞানীরা এই বিদ্যাটির উপর অত্যুৎসাহী হয়ে বিভিন্ন গবেষণা চালিয়ে আসছেন। বর্তমানে এটি সর্বজনস্বীকৃত যে, হিপনোটিজম একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি।

             এই নিয়ে প্রচুর তর্কবিতর্ক এখনো বহমান। প্রচুর বই লেখা হয়েছে বিদেশে। ‘সম্মোহন’-এর বিবরণ পাওয়া যায় অনেক সভ্যতারই প্রাচীন সব পুঁথিতে । যেমন, খ্রিস্টপূর্ব ২৬০০ সালের চৈনিক চিকিৎসক ওয়াং তাই-এর লেখা, খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ সালের হিন্দু ধর্মগ্রন্থ বেদ, ৩০০০ বছরের পুরনো মিশরীয় প্যাপিরাস-পুঁথি, ইহুদি ধর্মগ্রন্থ তালমুদ। ব্রিটেনের প্রাচীন আদিবাসী, যাদের ‘কেল্টিক জনগোষ্ঠী’ নামে অভিহিত করা হয়, তাদের পুরুতরাও মন্ত্রোচ্চারণ করে রোগীদের মধ্যে এক আচ্ছন্ন অবস্থার সৃষ্টি করত। এই পুরুতদের বলে ‘ড্রুইড’, তাই তাদের সৃষ্ট এই নিদ্রার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ড্রুইডিক স্লিপ’ বা ‘ড্রুইডীয় নিদ্রা’।

             উনিশ শতকের শেষদিকে ফ্রান্সে প্রায় কাছাকাছি সময়েই দুই বিখ্যাত সম্মোহনবিদ গবেষণা করতে থাকেন– জঁ মার্তিন শার্কো এবং ইপ্পোলিত বার্নহাইম। শার্কো বলতেন, সম্মোহন হল কৃত্রিমভাবে সৃষ্টি হওয়া হিস্টেরিয়া রোগ (এই রোগটির ধারণা আজ আর চিকিৎসা বিজ্ঞানের কাছে স্বীকৃত নয়)। তিনি বলতেন, সম্মোহনের বিভিন্ন স্তর আছে এবং তাদের প্রত্যেকেরই কিছু বিশেষ লক্ষণ তিনি চিহ্নিত করেছিলেন, যেমন অবশ ভাব, শরীর শক্ত হয়ে যাওয়া, মূর্ছা ইত্যাদি। শার্কোর এই নাটকীয় সম্মোহন-তত্ত্বের বিপরীতে বার্নহাইম যা বলেছিলেন তা অনেক বেশি কাণ্ডজ্ঞানসম্মত, এবং অনেক বেশি করে আধুনিক মতামতের কাছাকাছি। তিনি বলতেন, সম্মোহন শুধু মেয়েদের বা রুগীদের ব্যাপার নয়, এ সবাইকেই করা যায়, এবং এ হল স্রেফ সম্মোহনবিদের নির্দেশে (‘সাজেশন’ বা ‘অভিভাবন’) মানসিকভাবে প্রভাবিত হয়ে সেইমতো আচরণ করবার ব্যাপার। আরও পরে জার্মানিতে ফ্রয়েড যখন সম্মোহন নিয়ে কাজ করেন, তখন তিনি শার্কো ও বার্নহাইম উভয়ের দ্বারাই প্রভাবিত ছিলেন। প্রথমে এ নিয়ে উৎসাহী হলেও পরে ফ্রয়েড দেখেন, সম্মোহন করে মোটেই রোগ সারানো যায় না, এবং সম্মোহন ছেড়ে নিজস্ব ‘সাইকো-অ্যানালিসিস’ পদ্ধতি চালু করেন।

             ‘এ পর্যন্ত যে ইতিহাস বললাম সেটা নিয়ে সংক্ষেপে একটু ভেবে দেখা যাক। এক্কেবারে প্রাচীনকালের সম্মোহন বলতে বোঝানো হচ্ছে তন্ত্র-মন্ত্র দিয়ে বশ করা (এখনও অনেকে তাই বোঝেন)। অষ্টাদশ শতকে জার্মান ডাক্তার মেসমার বিশেষ অঙ্গভঙ্গি ও পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে তাঁর রুগীদের মধ্যে যে মানসিক উত্তেজনা ও শারীরিক খিঁচুনি আনতে পারতেন সেটাকেই বলা হল ‘সম্মোহন’। উনিশ শতকে ফরাসি চিকিৎসক শার্কো বললেন, সম্মোহন হচ্ছে কৃত্রিমভাবে তৈরি বায়ুরোগ। কিন্তু ওই একই সময়ে ওই ফ্রান্সেই আবার বার্নহাইম বললেন, সম্মোহন আসলে স্রেফ মনোবিদের ‘সাজেশন’ বা নির্দেশ মেনে আচরণ ছাড়া আর কিছুই নয়। বিশ শতকের একেবারে গোড়াতে ফ্রয়েড বললেন, সম্মোহন মানে সচেতনের বেড়া ভেঙে অচেতন মনের বেরিয়ে আসা। আর রাশিয়াতে পাভলভ বললেন, সম্মোহন হচ্ছে ঘুম ও জাগরণের এক মধ্যবর্তী অবস্থা। কিন্তু তার পরেই বিশ শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত আসতে লাগল জাগ্রত ও স্বাভাবিক অবস্থাতেই সম্মোহনের রাশি রাশি তথ্য– উইজলি ওয়েল্‌স্‌, মিলটন এরিকসন, সালভাতর রুশো, লেসলি কুন প্রমুখ মহারথীদের হাত ধরে। পঞ্চাশের দশকে মনোবিদ থিওডোর সার্বিন এইসব দেখেশুনে চিন্তা করলেন, আচ্ছা, যুগ যুগ ধরে এই যে এতসব আলাদা আলাদা বিষয়কে ‘সম্মোহন’ বলে চালানো হচ্ছে, ব্যাপারটা আসলে এমন নয় তো যে, সব যুগেই মনোবিদ ও রুগীর নিজস্ব বিশ্বাসই প্রতিফলিত হয়েছে তাঁদের আচরণে? এই মত খ্যাত হয় ‘সোশ্যাল রোল প্লেয়িং’ নামে। বিশ শতকের বাকিটা জুড়ে মার্কিন মনোবিদ থিওডোর বার্বার ও তাঁর শিষ্যরা প্রমাণ করলেন, ‘মনোযোগ’, ‘প্রণোদনা’ এই জাতীয় জানাচেনা ধ্যানধারণা দিয়েই সবকিছুর যৌক্তিক ব্যাখ্যা সম্ভব, ‘সম্মোহন’ বলে আলাদা একটা অদ্ভুত অজানা বিশেষ কিছু আছে বলে ধরে নেবার মোটেই  দরকার নেই।’

             তাহলে মশাই’রা ! আশা করি সম্মোহনের একটু অন্তত বোঝা গেল। এবারে শোনাই আসল গপ্পোখানা। যেটার জন্যেই এই লেখা।

             আমাদের আজকের পশ্চিমবঙ্গ দু-তিনশ’ বছর আগে সত্যিকারের ‘সোনার বাঙলা’-ই ছিল। সেকালের নবাবেরা অর্থ আদায় করেছেন, প্রচুর সম্পদও সঞ্চয় করেছেন কিন্তু তা খরচ করেছেন এ দেশেই। লুন্ঠনও করেছেন অগুনতি। কিন্তু সমাজ ব্যবস্থায় রাস্ট্রশক্তি কখনো হাত বাড়ায় নি। আর তাই সাধারণ জনগনের উৎপাদনের উৎস বন্ধ হয়নি কখনোই। মুসলমান আমলের শেষ দিকে এই সোনার বাঙলায় এমন অনেক পরিবারই ছিল যারা সোনার থালায় ভাত খেত। এ কথা গোলাম হোসেন তাঁর ‘রিয়াছল সালাতিন’ নামের গ্রন্থে লিখেই গেছেন সেই অষ্টাদশ শতকের শেষ দিকে। মোগলেরা সেই সোনার থালাগুলো লুঠ করিয়াছে কিন্তু দেশের লোকের উপার্জনের পথ বন্ধ করে দেয় নি।

             কবি রাজশেখর হাজার বছর আগের গৌড়ের মেয়েদের বেশ সম্বন্ধে বলিয়াছিলেন—“বুকে তাহাদের চন্দনপঙ্ক, গলায় সূত্রহার, সীঁথি পর্যন্ত টানা ঘোমটা, অনাবৃত বাহুযুগল, গায়ে অগুরুর প্রসাধন, রঙ যেন নবদূর্বাদলের ন্যায় শ্যামল সুন্দর—এই হইতেছে গৌড়দেশের নারীদের বেশ।”

             পল্লীগ্রামের নারীদের সাজসজ্জার বর্ণনা কবি চন্দ্রচন্দ্র যাহা দিয়েছেন তাও উল্লেখযোগ্যঃ   কপালে কাজলের টিপ, হাতে চাঁদের আলোর মত সাদা পদ্মডাঁটির বালা, কানে কচি রীটাফুলের দুল, স্নিগ্ধ চুলের খোঁপায় তিলের পল্লব—পল্লীবাসী বধূদের এই বেশ মানুষের গতিবেগ মন্থর করিয়া দেয়।

             এমনই ছিল আমাদের সোনার বাঙলা। 

    ইংরেজ বিশেষ করে, বাঙলায় এসে সোনার থালাগুলো যা ছিল তা তো নিয়েছেই উপরন্তু বিলেতী পণ্য আমদানি করে গায়ের জোরে সেই পণ্য এদেশে ঢুকিয়ে আয়ের পথটাও নষ্ট করে দিয়েছে। জোর করে নীলচাষ করে চাষীদের চরম সর্বনাশ করেছে। তাঁতীদের ওপরে জোর করে কাপড় বোনার জন্য এমন অত্যাচার করেছে যে, এক সময়ে বাঙলার তাঁতীরা তাঁদের হাতের বুড়ো আঙুল নিজেরাই কেটে ফেলেছে। এরা এমন এক জাতি, যারা এ দেশ ছেড়ে চলে গেলেও রেখে গেছে এমন একদল আত্মকেন্দ্রিক মানুষ যারা এ দেশে জন্মেও মনে প্রাণে বিদেশী। এই দলের মানুষের সাথে দেশের মাটির যোগ নেই। এরা শুধুই দেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে শুধু ইংরেজদের স্বার্থে কাজ করে গেছে। দাসত্ব করে বাহবা বা পুরষ্কার পেয়েছে। গুপ্তচর হয়ে ধরিয়েও দিয়েছে বাঙলার স্বাধীনতা কামী একদল তরুণ-তরুনী’কে। এখনো এই একবিংশ শতাব্দীতে এসেও আমরা তাঁদের দেখি চতুর্পাশ্বেই।

             আবার এদের মধ্যেই ছিলেন ডেভিড হেয়ার এর মতো মানুষজন। তাঁদের তৈরি করা অনেক কিছুই আজ আমরা ব্যবহার করছি। তাদের লেখা থেকে জানতে পারছি সে সময়ের না জানা অনেক কিছুই। এমন কিছু মানুষের জন্যে সত্যিই মাথা উঁচু করা যায়।

             গপ্পো শোনাতে গিয়ে প্রচুর ভাট বকে যাচ্ছি আমি। এবারে আসি আসল গল্পে। আপনারা জানলে অবাক হবেন যে, আমাদের এই বাংলায় ১৮৫৮ সালে একটা যুগান্তকারী আবিষ্কার করেছিলেন সে সময়ের হুগলী জেলার এক ম্যাজিষ্ট্রেট !  ফেলুদা’র সেই সিধুজ্যাঠা সোনার কেল্লা সিনেমায় প্রথমেই জানতে চেয়েছিলেন যে  “উইলিয়াম হারসেল” কে ?  তিনি তখন হুগলী জেলার ইংরেজ ম্যাজিস্ট্রেট। তিনিই প্রথম টিপছাপ নেওয়ার এক পরিকল্পনা তদানীন্তন সরকারের কাছে অনুমোদনের জন্যে পেশ করেন। তারপর থেকেই দলিলপত্র রেজিস্ট্রি এবং নানাবিধ কাজে এর ব্যবহার শুরু হয়য় যা আজও চলছে।

             এবারে শোনাই ওই সম্মোহন বিদ্যের এক সফল প্রয়োগের কথা যা ঘটেছিল আমাদের এই হুগলী-তেই। সময় ১৮৪৫। কোনো এক এপ্রিলের দিন।

             এই প্রয়োগ যিনি করেছিলেন তিনিও একজন স্কটিশ ইংরেজ। নাম ডাঃ জেমস্‌ ইসাডেল। জন্ম ৬ই ফেব্রুয়ারি, ১৮০৮। বাবা ডি. ডি. জেমস ইসাডেল। মা মার্গারেট ব্লেয়ার। তিন ভাই। ডাঃ ইসাডেল জ্যেষ্ঠ।

             এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে ডাক্তারি পাশ করার পরে ১৮২৯ সালে এম.ডি. ডিগ্রি লাভ। ১৮৩০ সালে ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানীতে সিভিল সহকারী সার্জেন হিসেবে চাকরীতে যোগদান। প্রথমে কিছুদিন উত্তর প্রদেশের আজিমগড়ে কাজ করার পর, ১৮৩১ সালে ভারতের তদানীন্তন রাজধানী কলকাতায় আগমন।

             ব্যক্তিগত জীবনে তিনি তিনবার বিয়ে করেছেন। প্রথমা স্ত্রী মেরি অ্যান ক্রিষ্টি’কে বিয়ে করে (৬ই জুন, ১৮৩৮) কলকাতায় আসার পথেই ৯ই নভেম্বর ১৮৩৮ এ যখন মারা যান তখন ক্রিষ্টি’র বয়স মাত্র আঠারো।

             দ্বিতীয় বিয়ে ১৭ই নভেম্বর ১৮৪২ এ। হুগলীর চুঁচুড়ায়। পাত্রী সোফিয়া ঊলমান্‌। তখন ডাঃ ইসাডেল হুগলীতে পোস্টেড। ঊলমান্‌ ও মারা যান কলকাতায় ১৮৫০ এ।

             তৃতীয় বিয়ে কলকাতায়। ৩রা ফেব্রুয়ারি, ১৮৫১। পাত্রী এলিজা মর্টন।

             এরপরেই পোস্টিং পান হুগলীর ইমামবাড়া হাসপাতালে সিভিল সার্জন হিসেবে। এর সাথে হুগলী জেলের দায়িত্বভার ও তার ওপরেই এসে পড়ে। ১৮৩৯ সালের নভেম্বর থেকে ১৮৪১ এর ডিসেম্বর অব্দি হুগলী কলেজের প্রিন্সিপ্যাল ও ছিলেন তিনি। এই ইমামবাড়া হাসপাতাল তৈরি করেছিলেন সেকালের এক জনহিতৈষী ব্যক্তি হাজী মহম্মদ মহসীন।

             ঘটনার সূত্রপাত হুগলির ইমামবাড়া হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের উদ্দেশ্যে আসা এক কয়েদিকে কেন্দ্র করে। তখনও অ্যানাসথেসিয়ার ব্যবহার শুরু হয়নি। কারণ ক্লোরোফর্ম তখনো অনাবিস্কৃত। 



                আর এখানেই  ডাঃ জেমস ইসাডেল একটি অদ্ভুত উপায় বের করলেন  যাতে  প্রায় দেড় ঘন্টার মধ্যেই  অজ্ঞান হয়ে গেল কয়েদি আর সে এমন ঘুম যা  কোনো কিছুতেই ভাঙলো  না। এরই ফাঁকে ডাক্তাররাও সেরে ফেললেন অস্ত্রোপচার। না, একফোঁটাও চিৎকার করল না রোগী।  ডাক্তাররাও বুঝে উঠতে পারলেন না। কিন্তু কি এমন করলেন ইসাডেল !!!

              করলেন সম্মোহন। এদিকে জ্ঞান ফিরলে, কয়েদিও অবাক! যদিও তার আগে এর বহুল ব্যবহার করে দেখেছিলেন ডাঃ জেমস ইসাডেল। ১৮৪৫-এর এপ্রিল থেকে ১৮৪৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সম্মোহনের সাহায্যেই ৭৩টি অপারেশন করেছিলেন তিনি। রোগী বিন্দুমাত্রও টের পায়নি। সেই শুরু শল্য  চিকিৎসায় সম্মোহনের ব্যবহার।

             সেই কয়েদী’র নাম মাধব কাউড়া। সাত বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত এক আসামী। বিশাল এক হাইড্রোসিল (বাংলায় ‘কুরণ্ড’) নিয়ে খুবই কষ্ট পাচ্ছে সে। ডাক্তার সাহেব তাকে চ্যারিটি হাসপাতালে আনালেন অপারেশন করবার নিমিত্ত। এটা পুরুষদের একটি অণ্ডকোষ বৃদ্ধি জনিত রোগ। অণ্ডকোষ থেকে একদিক দিয়ে জল বেরোনোর ব্যবস্থা করে একটা ইঞ্জেকশন পুশ করলেন আরেকদিকে। যন্ত্রণায় মাধবের করুণ অবস্থা হ’ল।

             এমন অবস্থা দেখে ডাঃ ইসাডেল তাঁর জুনিয়র সার্জনকে জিজ্ঞেস করলেন যে সে মেসমেরিজম সম্পর্কে কিছু জানে কি না !  সে উত্তর দিল যে এমন চেষ্টা করতে দেখেছে সে কলকাতার মেডিকেল কলেজে কিন্তু কিছুই করা যায় নি ফাইনালি। ডাঃ ইসাবেল বললেন যে আমি মনস্থির করেই ফেলেছি যে আজ আমি এই রুগীর ওপরেই তা প্রয়োগ করে দেখবো। আমি এতদিন শুধু থিওরিই শুনে এসেছি। আজ পরখ করে দেখতে চাই।  

             চেয়ারে বসে থাকা সেই কয়েদি তখন যন্ত্রনায় আকুলিবিকুলি করছে। তার দু হাঁটুর মাঝে নিজেকে দাঁড় করিয়ে ডাঃ ইসাডেল তাঁর হাত দুটো আস্তে আস্তে কয়েদির মাথা থেকে পেট পর্যন্ত বোলাতে থাকলেন ইঞ্চিখানেক দূরত্ব বজায় রেখে। সেই ম্যাজিশিয়ানরা যেমনটা দেখান তেমন করেই। এইভাবে প্রায় আধ ঘন্টা ধরে চলল সম্মোহিত করার পদ্ধতির চেষ্টা। কিন্তু সফলতা এলই না। আরো বেশ কিছুক্ষন এমন করার পরে যখন কিছুই হ’ল না তখন প্রায় হাল ছেড়ে দিলেন ডাক্তার। বসে পড়লেন বিশ্রাম নিতে। মাধব যখন একটু চোখ বুঁজেছে সেসময় তাকে চোখ খুলতে বললেন। সে বলে উঠল যে ঘরের ভেতরে বড্ড ধোঁয়া। আবার উঠে পড়লেন ডাঃ ইসাডেল। এবার গভীর শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে ডাক্তার রুগীর মাথার পেছন দিক থেকে তাঁর হাতদুটোকে সামনের বুক পিঠ পেট অব্দি বোলাতে লাগলেন। এবারে ক্রমশঃ ঢুলে পড়তে থাকলো রুগী। যন্ত্রণাক্লিষ্ট মুখ আস্তে আস্তে স্বাভাবিক হ’তে থাকল। চীৎকার করে ডাঃ ইসাডেল রুগীর নাম ধরে ডাকলেন। সাড়া পেলেন না। সহকারী সার্জনকে এইভাবে পদ্ধতি চালিয়ে যেতে বলে ডাক্তার কাছারিতে গেলেন। জজ্‌ মিস্টার রাসেল আর প্রধান কালেক্টর মিঃ মানি’কে একবারের জন্যে অনুরোধ করলেন তাঁর সাথে আসবার জন্যে। ফিরে এসে রুগীর হাঁটুর খুব কাছে একটা জ্বলন্ত আগুন  ছোঁয়াতে গেলেন। রুগীর কোনোরকম তাপউত্তাপ নেই। আনন্দে ডাঃ ইসাডেলের চোখের কোনায় তখন জলের চিক্‌চিক্‌।    

             পরে তার বই’তে ডাঃ ইসাডেল এ ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে লিখছেন যে, এরপরে তাকে জিজ্ঞেস করলেন যে তার তেষ্টা পেয়েছে কি না !  সে হাঁ করে দিল শুধু। তাকে এক গ্লাস এমোনিয়া মিশ্রিত জল আস্তে আস্তে খাওয়ানো হ’ল। তার চোখের পাতা জোর করে খুলে দেখলাম যে কেমন ঘোলাটে চোখ যেন। এই করতে করতে দুপুর একটা বেজে গেল। তিন তিনটে ঘন্টা কাবার।

             তিনটে নাগাদ ফিরে এসে ডাক্তার দেখলেন রুগী একই ভাবে বসেই আছে। এর মধ্যে এসব শুনে, জেলের এক বাঙালি ডাক্তার এসে হাজির। তিনি স্কানে গেছে যে সাহেব ডাক্তার এক রুগীর ঘুম ভাঙাতে পারছেন না। রুগীর পাশে বসেই সেই বাঙালি ডাক্তার হাতে জল নিয়ে আস্তে আস্তে রুগীর মুখে ছিটোতে থাকলেন। এর মধ্যেই ডাঃ ইসাডেল দৌড়ে ডাকতে গেছেন আবার সেই জজ্‌ সাহেব আর কালেক্টর মশাইকে। উদ্দেশ্য একটাই। এ অবস্থায় যদি কিছু আগের ঘটনা স্বীকার করানো যায়। এর মধ্যে জলের ঝাপটা খেয়ে রুগী অল্প চোখ খুলতে শুরু করেছে। এর মধ্যেই শুরু হল প্রশ্ন করা –
     
    • কেমন আছো ?
    • খুব ভাল।
    • গলায় বা কোথায় কোনো ব্যাথা আছে ?
    • গলায় শুধুই অল্প অস্বস্তি আর কোনো কিছু নেই।
    • আজ কি হ’ল তোমার সাথে ?
    • আমি ইমামবাড়া হাসপাতালে গেছিলাম আমার বিচি থেকে জল বার করতে।
    • জল বার করা হয়েছে ?
    • হ্যাঁতো।
    • তারপরে কি হ’ল বলো –
    • তারপরে তো আমি ঘুমিয়ে পড়েছি। আর কিছু মনে নেই।
    • জল খেয়েছিলে ?
    • খুব তেষ্টা পেয়েছিল। কিন্তু কিছুই পাই নি। তাপ্পরে এই কুরিম ডাক্তারবাবু তো আমারে জাগালো।
    • শরীরে কি জ্বালা করছে ?
    • না না।
    • কোনো অচেনা গন্ধ পেয়েছিলে ?
    • না।
    • যখন ঘুমিয়ে ছিলে তখন কেমন লাগছিল তোমার ?
    • দারুন।
    • ঘুমোনো অবস্থায় তুমি কি কিছু শুনেছিলে ?
    • একটা আওয়াজ শুনেছি কিন্তু চিনতে পারিনি।
    • আমাকে ছাড়া আর কাকে কাকে দেখেছো তখন ?
    • কাউকেই না।
    • তোমাত বিচিতে আর কোনো যন্ত্রণা ছিল ঘুমনোর সময়ে ?
    • নাতো।
    • আর এখন ?
    • খুব অল্প যেন।  
    • আজ কতোবার হাগতে গেছো ?   (সেদিন রুগীর ডায়েরিয়া হয়েছিল)
    • চারবার।  হাসপাতালে আসার আগেই। এখানে হয়য় নি আর।

    এরপরেই রুগী হঠাৎ করেই কাঁদতে শুরু করে। জজ্‌ সাহেব আর কালেক্টরকে দেখে তার মনে হয়, আবার বুঝি বিচার শুরু হ’ল।
              
             “এই সব কথোপকথন আমাদের সামনেই হয়েছিল। আর আমরা এও বিশ্বাস করলাম যে রুগীকে পুরোই অজ্ঞান করা হয়েছিল তার যন্ত্রণার কারণেই”।

                               সহি -    এফ. ডাব্লিউ. রাসেল  /  ডি. জে. মানি
                                          বুধন চন্দ্র চৌধুরী – সাব-এসিস্ট্যান্ট সার্জন। 

            
             ১৮৪৫-এর এপ্রিল থেকে ১৮৪৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সম্মোহনের সাহায্যেই ৩৭টি অপারেশন করেছিলেন তিনি। রোগী বিন্দুমাত্রও টের পায়নি। সেই শুরু শল্য  চিকিৎসায় সম্মোহনের ব্যবহার।

              এক্কেবারে নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি। আর তার জনপ্রিয়তার কারণেই প্রথমে ক্যালকাটা নেটিভ হাসপাতালের একটি ঘরে পৃথকভাবে শুরু হয় সম্মোহন হাসপাতালের কাজ। প্রথম দশজন রোগীর মধ্যে সাত জনকে সম্পূর্ণ সুস্থ করা হয় এখানে। এমনকি, জটিল টিউমার অপারেশনও করা হয়। পরে এখানকার কাজের অগ্রগতি দেখে ১৮৪৬ সালে কলকাতার “মট লেন”--এ সম্পূর্ণ পৃথক একটি হাসপাতাল খোলার অনুমতি দেয় তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার। নাম হয় ‘ক্যালকাটা মেসমেরিক হাসপাতাল’। হাসপাতালের দায়িত্ব নেন  ডাঃ জেমস ইসাডেল।
                              

    খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এই চিকিৎসা পদ্ধতি সর্বসাধারণের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে  কারণ   প্রথম বেদনাহীন অস্ত্রোপচার। পদ্ধতি ওই একটিই, সম্মোহন! সম্মোহনের পর রীতিমতো সূচ ফুটিয়ে রোগীর জ্ঞান পরীক্ষা হত। নিশ্চিত করে তবেই আসল কাজ হত। তবে বেশ সময় লাগত এই সম্মোহনের কাজে। অনেক ক্ষেত্রে কয়েক দিনও লেগে যেত। শুধু অপারেশনই নয়, অন্যান্য চিকিৎসাও হত। তার জন্য ছিল আলাদা বিভাগ।  কিন্তু এই কাজে  বিপদের সম্ভাবনা কম ছিল না।
            
    ১৮৪৬ সালের ২২শে জুন, হুগলী থেকেই এক চিঠি লেখেন ডাঃ ইসাডেল। তখনকার ব্রিটিশ পত্রিকা “দি ইংলিশম্যান” এর সম্পাদককে।

             সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার আগে, আমি আপনাকে আট মাসের মধ্যে আমার মেসেরিকাল অনুশীলনের একটি "জীবনবৃত্তান্ত" প্রেরণ করে আনন্দিত বোধ করছি।

             আমি আমার অভিজ্ঞতায় বুঝেছি যে, বাংলায় নেটিভদিগের এই বেদনাহীন অস্ত্রোপচারের সুযোগ তাদের জন্মগত অধিকারের মধ্যে পড়ে এবং আশা রাখি যে এর থেকে তাঁরা যেন বঞ্চিত না হয়।

             আমাকে এবারে আরো বৃহত্তর জগতের মধ্যে যেতে হচ্ছে, যেখানে আশা রাখি যে এই কৌতূহলী এবং আকর্ষণীয় বিষয়টিকে তার ব্যবহারিক প্রয়োগের মধ্যে দিয়ে আরো উন্নত করে তুলতে এবং আশা করবো যে মানবজাতির অন্যান্য জাতগুলিও এই প্রাকৃতিক নিরাময় শক্তির দ্বারা কতটা উপকৃত হতে সক্ষম, তা নির্ধারণ করতে।

                                                                                                                      আপনার একান্ত অনুগত,
                                                                                                                           জেমস্‌ এসডেল, এম.ডি.

    হুগলী, ২২শে জান. ১৮৪৬

            
             ১৮৪৮ সালে জনগনের টাকায় শুরু হয় কলকাতার মেসমেরিক হাসপাতাল। আঠারো মাস চলার পরে বাংলার ডেপুটি গভর্ণর জেনারেল, স্যার জন লিটারের আদেশে তা চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়। কটন সাহেবের লেখা অনুসারে দেখা যায় যে, যদিও “মট্‌ লেন”-এর ‘মেসমেরিক হাসপাতাল’ ১৮৪৬ সালে খোলা হয়, কিন্তু পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় ১৮৪৮ সালেই। ইলিয়টসান্‌ বলে একজন এই মেসমেরিজম পদ্ধতি চালিয়ে যান তাঁর ‘সুকিয়া স্ট্রীট’-এর ডিসপেনসারি থেকে। ১৮৫১ সালে তিনি ফিরে যাওয়ার আগে অব্দি এ চেম্বার চালু ছিল। 

            ১৮৪৮ সালে লর্ড ড্যালহাউসি ডাঃ ইসাডেল’এ প্রেসিডেন্সি সার্জন পদে অভিষিক্ত করেন এবং ভারতীয় নৌবাহিনীতে তাঁকে মেরিন সার্জন করা হয় ১৮৪৯ সালের ২৯শে মে। 

             ব্যক্তিগত ভাবে সম্মোহন চিকিৎসা চালিয়ে গিয়েছিলেন ডাঃ ইসাডেল। ১৮৫১ সালে তাঁর অবসরের সাথে  ইতি হয় এই চিকিৎসা পদ্ধতির। ততদিনে ক্লোরোফর্মও চলে আসে এই দেশে।

             ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানী থেকে ডাক্তার অবসর নেন ১৮৫৩-য়। এর পরে স্বদেশে ফিরে তিনি ‘লণ্ডন মেসমেরিক হাসপাতাল এবং ‘স্কটিশ কিউরেটিভ মেসমেরিক এসোসিয়েশন’ এই দু জায়গারই সহ সভাপতি পদে বৃত হন।

             পরে স্কটল্যাণ্ডের সাইডেলহামে ১০ই জানুয়ারি, ১৮৫৯ সালে নিভে যায় তাঁর জীবনদীপ।   

             কিন্তু এইরকম অদ্ভুত চিকিৎসা পদ্ধতির ইতিহাস আজও রয়ে গেছে ভারতে। যার স্মৃতি বয়ে চলেছে  হুগলির ইমামবাড়া হাসপাতাল এবং কলকাতা।

             ডাঃ ইসাডেল তাঁর বই’য়ে তাঁর বাবাকে লেখা যে চিঠি দিয়ে বই শুরু করেছিলেন, আজ আমি আমার গল্প শেষ করি সেই চিঠিখানা দিয়েই...

    প্রিয় বাবা,

             তোমার ভাল লাগতে পারে জেনে যে, আমার এখনকার কাজের বিষয়টা বেশ নতুন এবং অভিনব। আমি এই বাংলার অধিবাসীদের যন্ত্রণা দূর করতে একটা নতুন উপায়কে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছি।

             আশা রাখি খুব শীঘ্রই এই প্রাকৃতিক শক্তির দ্বারা মানবসমাজের আরো নানা দিকে উপকার করতে পারবো। আমায় এখন সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বলা হয়েছে আর সেই জন্যেই আমি আগামীকাল, সোমবার এগারোশো মাইলের যাত্রার জন্যে তৈরি।  

                                                                                                                তোমার প্রিয় ছেলে
    হুগলী                                                                                                               জেমস
    ০১/০২/১৮৪৬

    (সমাপ্ত)

    কৃতজ্ঞতা ও ঋণস্বীকার—

    ১।      হুগলী জেলার ইতিহাস ও বঙ্গসমাজ – সুধীরকুমার মিত্র
    ২।     রিয়াজ-উস্‌-সালাতীন - বাংলার ইতিহাস - গোলাম হোসায়ন সলীম
    ৩।     উইকিপিডিয়া
    ৪।     পিপলস্‌ মেডিসিন – ওয়েব
    ৫।     জিওবাংলা ডট কম – ওয়েব
    ৬।     আরকাইভ ডট ওআরজি – ওয়েব
    ৭।     চুঁচুড়া ব্লগপোস্ট ডট কম – ওয়েব
    ৮।     রোর মিডিয়া বাংলা – ওয়েব
    ৯।      অগ্নিশ্বর নাথের ‘সম্মোহনের হরেক কথন’ - রোর মিডিয়া বাংলা – ওয়েব
    ১০।    দেবাশিষ ভট্টাচার্য –‘সম্মোহন, তত্ত্বচর্চা ও ইতিহাস’ – ৪নংপ্ল্যাটফর্ম ডট কম
    ১১।    পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য গ্রন্থাগারের ওয়েব
    ১২।    আরো বিভিন্ন তথ্য ও ছবির জন্য গুগুল
    ১৩।    সোনার কেল্লা সিনেমার কিছু সংলাপ

    ©গৌতম দত্ত

     
  • আলোচনা | ১৬ মে ২০২২ | ২১৯ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। দ্বিধা না করে মতামত দিন