এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  পড়াবই  মনে রবে

  • শরৎকুমারকে পুনরায় নির্মাণ- এক প্রস্থান বিন্দুর খোঁজ

    যশোধরা রায়চৌধুরী
    পড়াবই | মনে রবে | ২৬ ডিসেম্বর ২০২১ | ১৮৬০ বার পঠিত | রেটিং ৪.৮ (৬ জন)

  • প্রথমেই বলি এ লেখা খুব সামান্য লেখা। তাড়া হুড়োর লেখা। ফেসবুক পোস্টের চেয়ে সামান্য বড় কিন্তু নিবন্ধের চেয়ে অনেক বেশি অগোছাল আর তরল। তবু এই দু-চারদিনে যেটুকু লিখে উঠতে পারলাম। অবিশ্বাস্য ফাঁকা ভাবের ভেতরেও।

    পুরোনো একটি ছবিতে দেখছি শরৎকুমার পুরোপুরি কর্পোরেট বেশে। যে সময়ের ছবি, সে সময়ে কবি বললেই মনে আসে ধুতি ও শার্ট, ধুতি ও পাঞ্জাবি, ধুতি ও ফতুয়া। পাজামা পাঞ্জাবি। শরৎ সেখানে বিপ্রতীপ, স্মার্ট, পাশ্চাত্য পোশাকে অনায়াস।

    আমরা এও জেনেছি তখন, ততদিনে, যে, শরৎকুমার সওদাগরি আপিসের চাকুরে। অফিসার। তখন বাতাসে ভাসে যে যে পেশার কথা, তথাকথিতও সাহিত্যিক, কবির, তা ছিল মান্য অধ্যাপক বা শিক্ষকের পেশা। সেখানেও তিনি অপ্রতিম, অতুলনীয়।

    আজকের শরৎ বিদায়ের পর বার বার উঠে এসেছে মধ্যরাতে কলকাতা শাসন করা যুবকদের কথা। ফুটপাত বদল হয় মধ্যরাতে। ইতিমধ্যে মিথ। পঞ্চাশের গল্প কথায় বিধৃত। সুতরাং, ক্লিশেও। প্রচুর সম্পর্ক করার, প্রচুর মদ্যপান করার, সারারাত কলকাতার পথে ঘোরার, যখন তখন রাস্তায় হাল্লা মাচানর, মদ্যপানের ঠেকে গিয়ে হৈচৈ ফেলে দেওয়ার ইত্যাদির কাহিনিতে পরিপূর্ণ পঞ্চাশের এই কবিকুলের অবাধ্য যৌবনের ইতিহাস। লেখার ইতিহাসের চেয়ে এইসব "বাওয়ালি"র ইতিহাস অনেক বেশি মুখরোচক আর প্রচলিত।

    কিন্তু এই ক্লিশেগুলির মধ্যে, যেভাবে কুয়াশায় পথ কেটে চলে মানুষ, আমরা খুঁজব সেই প্রস্থান বিন্দু, যা ধরিয়ে দেবে শরৎকুমারের নিজস্ব অর্জন। অনেকের মধ্যে তিনি কীভাবে একা হচ্ছেন। সেইটে দেখার ইচ্ছে থাকবে আমাদের।

    শরৎকুমার-সুনীল-শক্তি-সমরেন্দ্র-তারাপদ বেলালদের ঘনিষ্ঠ বৃত্তের। আবার আত্মস্থও। চাকরিতে প্রাইভেট কোম্পানির একজিকিউটিভ বলে নিজের একটা আলাদা সত্তা বা আইডেন্টিটি বহন করেন। স্ত্রী বিজয়া, নিজের ভাষায়, উৎপল কুমার বসুর সঙ্গে বাদানুবাদে, প্রায় চ্যালেঞ্জ নিয়ে কবিতা লেখেন যিনি, তিনিও সংস্কৃত ভাষার স্কলার এবং পড়ুয়া। সংসার আর কৃত্তিবাসের এক্সটেন্ডেড বাউন্ডুলে কমিউনিটি সংসার, দুয়ের ভেতোর দিয়ে বিজয়া ও শরৎ নিজেদের বহন করে নিয়ে চলেছেন দশকের পর দশক। দাপুটে দম্পতি। ছেলে সায়নকে বড় করছেন বিজয়া। স্মৃতিতে অমলিন, সায়ন কতোটা ক্ষতবিক্ষত হয়েছিল কৃত্তিবাসী ঐ বাউন্ডুলে বোহেমিয়ান যাত্রাপালার জন্য। শক্তি মাতাল হয়ে চুল ধরে টেনে তুলে এক পাশে ফেলে দিয়েছিলেন সায়নকে, ভোলেননি বিজয়া। এগুলো যৌথ গল্প গাথার অংশ, আজও অগ্রন্থিত। যেমন শরতেরই এক স্মৃতিকথা থেকে চুরি করে বসিয়েছিলাম একটি উপন্যাসে যে, সেইটির খণ্ড অংশ রইল এখানে। সে সময়টা এভাবেই ধরা দেয় গল্পকথার ও পঞ্চাশ দশকের রূপকথার অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হিসেবে আমার কাছে।

    "আজ খাওয়া হল কবিরাজি কাটলেট আর কফি। জনা পাঁচেক ছিল। লোভে লোভে আশপাশের টেবিল থেকে ও আরো কয়েকজন এসে জুটল।
    সব মিলিয়ে বেশ। আড্ডায় শরৎ রসিয়ে রসিয়ে বলছিল বেশ্যা পল্লীতে ওর অভিজ্ঞতার কথা। সোনা নামে এক বারবনিতা ওকে দিয়ে নিজের প্রেমিককে চিঠি লিখিয়ে নিয়েছিল। কুচবিহারে থাকতো সেই প্রেমিক। বেশ কিছুদিন 'কামাই' দিচ্ছিল। তাই চিঠি লেখার প্রয়োজন।
    পিয়োতমো! বেশ নিকেচ... সোনা আমাকে বলল।
    শরৎ বড় চাকরি করে। কিন্তু কি যে মজা করে কথা বলে।
    তারপর?
    দু’মাস আগে বলে গেলে এই শনিবার আসবে? আমাকে ভুলে গেছ পাষাণ? কী নিষ্ঠুর তুমি, উঃ! কাকে পেয়ে আমায় ভুলে গেলে গো?
    শরৎ বলছে... আর সবাই হেসে লুটোপুটি। কে একজন ফুট কাটল, এসব তোর মাথা থেকে বেরল? এরকম নেকু নেকু করে লেখা?
    তারাপদ ভারি গলায় বলল, আরে সোনাটোনা কেউ আছে নাকি, সবটাই শরৎ বানিয়ে বলছে রে।
    শরৎ বেজায় রেগে বলল, তাহলে আমি বলবই না।
    সুনীল গম্ভীরভাবে বলল, আরে পুরোটা শোনাই যাক না। গল্পটা কোন দিকে গিয়ে দাঁড়ায়। শরৎ, কনটিনিউ!
    শরৎ বলে চলে, আমি একটু পরে রেগে বললাম, আচ্ছা আমাকে দিয়ে পেয়ারের নাঙকে চিঠি লেখাচ্ছিস তো, কে এমন কার্তিক এই লোকটা? সোনা বলে, রাগ করে না লক্ষ্মী ছেলে, আসলে এ লোকটা মাসে মাসে আমায় দু’শো টাকা করে দেয়। ব্যবসা আছে। ঘরে বউ আছে ... কিন্তু আমার কাছে যদি না আসে অন্য কারুর ঘরে যায়? সে বড় কষ্টের হবে। নইলে সংসারে মন বসাক না কেন... তাতে আমি বাদ সাধব নিগো!
    পরের বার, শরৎ বলল, গিয়ে দেখি দিদির ঘরের দোর বন্ধ। টোকা দিতেই খুলল। দেখি জংলা জামা পরা লোকটা ভেতোরে। সোনা পেটিকোট বুকের কাছে জড়ো করেই এসেছে।
    তারপরে শোন না, সেদিন তো চলে এলাম, ভাই টাই বলে গায়ে হাত বুলিয়ে ভাগিয়ে দিলে। পরের দিন ফাঁকায় ফাঁকায় গিয়ে দেখি, সোনা তো ঘরে আলমারি খাট সব করে ফেলেছে। ঘরের কোনে টেলিফোন। কালী রামকৃষ্ণ জগন্নাথের ছবি সরিয়ে আয়না দেওয়া টেবিল... সব ঐ কুচবিহারের পয়সায়। বেটাছেলে নাকি কেঁদে বলেছে ওকে বিয়ে করতে চায়।
    অ্যাঁ, বিয়ে? বেশ্যাকে বাবু বিয়ে করতে চাচ্ছে?
    উফ। শোনই না। তখন সোনা বলল কি বলত, আমি তো সধবা । আমার তো স্বামী আছে। মুর্শিদাবাদ জেলায়। স্বামীটা পঙ্গু। তাকেই তো টাকা পাঠায় সোনা। অভাবে সোনাকে এই পথে পাঠিয়েছে। এখনও সোনা স্বামীর কথা ভেবে কপালে সিঁদুর দেয়।
    বোঝ! সমস্বরে চেঁচিয়ে ওঠে সবাই।
    চোখ বড় করে সমরেন্দ্র বলে, ঠিক। বেশ্যাবৃত্তি ওর জীবিকা বটে, কিন্তু সনাতন বিশ্বাসটা নিজের কাছে একইরকম আছে। বহু ব্যবহৃত ওর শরীরটা। মনটা নয়।
    শরৎ শেষ কথা বলে। আরে আমিও তো চাকরি করি... আমারও তাই। জীবিকা আলাদা, আমি আলাদা। জীবিকা শরীরটাকে ছুঁতে পারে, নিংরে ফেলতে পারে। আমার মনকে ছুঁতে পারে না।"
    (মদীয় উপন্যাস কমলা রঙের রোদ্দুর থেকে)।


    এক গোষ্ঠীর ভেতরে থেকেও, শরৎকুমার কীভাবে যেন নিজস্ব। শক্তি বা সুনীলের বিপুল জনপ্রিয়তা পাননি। কিন্তু অনেকে ভাবে কৃত্তিবাসের ঐসব হৈচৈ এর ফলে প্রতিফলিত দ্যুতিতে তাঁর আলো। আমার মতে একেবারেই তা নয়। কারণ শরৎদার লেখা আমাকে চিরদিন টেনেছে তার নিজের ভঙ্গির জন্য। তাঁর লেখার ভেতরেও নিজস্বতা প্রচুর। শরৎ মূলত কবিতার কবিতা-কবিতা, লিরিকাল, স্বপ্নিল, রোমান্টিক লুক কে ভেঙে দিতে উদ্যত। তাঁর কবিতা গদ্যময়। তাঁর নিজের ভাষায় "ডোজ দিতে" উৎসুক।
    (একটি ভিডিওতে সেরকমই বলছেন তিনি, প্রমাণ আছে। কোন লেখায় পাইনি অবশ্য)। ফলে পরবর্তী প্রজন্মের অনেকের কাছে কবিতাগুলি সুকুমার-সৌন্দর্যে ভরপুর না। কাঠখোট্টা টাইপ। আমার কাছে তারা মিনিমালিস্ট জাপানি চিত্রকলার মত। অমোঘ। শীর্ণ বপু কিন্তু অগাধ গভীর।

    তোমার জন্য শোকসভা হবে না মহম্মদ আলি
    কেননা
    ক্ষমতার লড়াইয়ে তুমি ছিলে না
    নামডাকে ছিলে না
    তাছাড়া, তুমি পা ফসকে পড়ে গেছ।
    অতএব এই কবিতা।
    শুক্রবার সকালের পর কাজ করনি তুমি
    তবু শনিবার অবধি মাইনে পাবে।
    ঠিকেদার সদয় হলে
    পনেরো হাজার টাকা জীবন বীমা
    তা-ও পাবে তোমার বিবি,
    পঙ্গু হয়ে বেঁচে থাকলে যা পেতে না।
    মেট্রো রেল ভবনের ওই উঁচু দেওয়াল
    তোমার হাতে রং...
    মানুষকে ছোট দেখাচ্ছে, ছোট দেখাচ্ছে
    ভাবতে ভাবতে তোমার পা ফসকে গেল।
    এই খবরটাও সকলের জানা দরকার।

    (এলিজি / শরৎকুমার মুখোপাধ্যায়)


    হতে পারে তাঁর কবিতা স্বনির্বাচিত ভাবে গদ্যময়, হতে পারে ছন্দের প্রয়োগ না করা থেকে শুরু করে শব্দের নির্মাণে, আটপৌরে দেশজ শব্দের প্রতি মনোযোগ, বিষয়ে দৈনন্দিন ও মিনিমালিস্ট থাকাকেই তিনি বেছেছিলেন। এই সবকিছুর ভেতরে একটি পরিচ্ছন্ন, সুষমাময় শিল্পবোধ না থাকলে কখনো এমন নিয়ন্ত্রিত ভাবে কলম চালান যায়না। আর সে কারণেই শরৎকুমার একজন কবি। প্রতি মুহূর্তে একটি বিশেষ মনোভঙ্গি, দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে চলেছেন তিনি। ছোট গল্পের বইতেও শরতের এই মনোভঙ্গির বিষয়টা এসেই যায়।

    দশ তলার বারান্দায় গেঞ্জি পরা একটা লোক
    হাওড়া ব্রিজের দিকে, ন-তলায় টেরিকটের শার্ট একা দুলছে
    সাততলায় শান্ত স্বামী-স্ত্রী, চায়ের কাপ,
    কাঠের টবে গুল্মলতা।
    সন্ধে হয়-হয়।
    ছ-তলাটা খাঁচার মত, বাচ্চারা মারপিট করছে
    পাঁচতলার চাকর পাশের ফ্ল্যাটের ঝিয়ের সঙ্গে
    হেসে হেসে, চারতলায় এখনও ঝুলছে মেরুন শাড়ি।
    সন্ধে হয়-হয়।
    তিন তলার বারান্দাও মেরুন শাড়িতে ঢাকা
    দোতলার গিন্নী চুল বেঁধে চুলের গুটি
    উড়িয়ে দিলেন হাওয়ায়,
    এক তলায় ব্যাঙ্ক, আজ বন্ধ।
    আট তলার কথা বলা হল না,
    ওই স্লাইডটায় কোনো ছবি নেই
    শুধু সন্ধে হয়-হয়।

    (স্লাইড/শরৎকুমার মুখোপাধ্যায়)

    এই কবিতাটি নিয়ে একটি মন্তব্যে সন্দীপন চক্রবর্তী সেদিন যা লিখল সেটিও উদ্ধৃত না করা অসমীচীন হবে।

    "মিড-লং শট থেকে ক্রমে জুম করে মিড-ক্লোজ শটে দেখছি, দশতলার বারান্দা। তারপর এক্সট্রিম লং শটে একঝলক হাওড়া ব্রিজ। তারপরের শটেই ক্যামেরা টিল্ট ডাউন করে নামছে ধীরে ধীরে দশতলার বারান্দা থেকে। ন’তলা। তারপরেই একটা স্মুথ কাট করে ক্যামেরা সোজা চলে আসছে সাত তলায়। আবার টিল্ট ডাউন করে নামছে। ধীরে। এভাবেই নামবে পুরোটা। একতলা পর্যন্ত। তারপর যেন একটু থেমে থাকছে ক্যামেরা। আচমকা জার্ক দিয়ে ক্যামেরা আছড়ে পড়ছে আটতলায়। মিড শট থেকে আস্তে আস্তে ক্লোজে যাচ্ছে। ছবিটা স্টিল হয়ে ধরে রাখল কিছুক্ষণ। ফিল্মের মত কবিতা। আসলে যে বইতে এই কবিতাটা আছে, সেখানেই, তার তিনটে কবিতা পরেই আরেকটা কবিতা আছে – ‘সিকি’। তার শেষ লাইন – ‘আমার শাটার নড়ে, মুভি-ক্যামেরায় ছবি ওঠে’। আর এ কবিতা যেন সেই মুভি ক্যামেরাতেই তোলা ছবি।"

    শিল্পবোধ এক পরিবর্তনশীল জিনিস আর তাই মডার্নিস্টের আঁকা ক্লাসিকাল পন্থীর পছন্দ হয়না। শরৎকুমারের চেতনা এক রকমের সমসাময়িক দৃষ্টিতে দেখার চেষ্টা করেছে গোটা কবিতা বিষয়টিকে, আর সে কারণেই, শরৎ তাঁর সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যমগুলির মধ্যে সিনেমার মত মাধ্যমটিকে নিয়ে বিশেষ ভাবে কাজ করতেই পারেন। যেভাবে আমরা জীবনানন্দের ক্যাম্পে কবিতায় পাই সিনেমা, অথবা, ভাস্কর চক্রবর্তীর লেখায় পাই সিনেমার চলন... সেভাবেই এখানেও পাচ্ছি।


    আমাকে নিজে তিনি পোস্ট কার্ড লিখে বন্ধুতা পাতিয়েছিলেন লেখা পড়ে। সেটা আমার কবিতা লেখা হয়ে চলার বছর ছ-সাতেক পরের কথা। নিজে থেকে গিয়ে আলাপ করিনি। বড়রা ডেকে আলাপ করেছেন, এই সৌভাগ্যকে দামি মনে করেছি। শরৎদা-বিজয়াদি দু’জনে এভাবে প্রায় আত্মীয় হয়ে ওঠেন। বিজয়াদি একেবারেই আপনজনের মত যে কোন লেখা পড়ে ফোন করতেন আর এক একটি শব্দ ব্যবহার নিয়ে ঘন্টাখানেক বিতর্ক হত। বিজয়াদি ছিলেন তৎসম ও তদ্ভব বাংলা শব্দের প্রতি পক্ষপাতী আর ইংরেজি হিন্দি শব্দ ব্যবহারের ব্যাপারে ছুঁৎমার্গ ছিল তাঁর। সে এক বিশেষ সময়, যখন বারে বারে তিরস্কৃত হচ্ছি বিজয়াদির কাছে, আমার লেখার এই সব প্রবণতা নিয়ে।

    শরৎদা অন্যভাবে উৎসুক, জানতে চাইছেন নানা কথা, কবিতার পেছনের কথা, অ্যানেকডোট বলছেন। উজ্জ্বল দুটি চোখ দিয়ে দেখছেন যেন পরবর্তী প্রজন্মের পৃথিবীকে। এরই ভেতর আমার বর তৃণাঞ্জন চক্রবর্তী সম্পাদনা করল, শূন্য তাপাঙ্কের নীচে নামে একটি ফরাসি সমসাময়িক কবিতার অনুবাদ গ্রন্থ। সে বইতে বড় বড় সমসাময়িক ফরাসি কবির অনুবাদ করলেন এখানকার বড় কবিরা। শরৎদা বিজয়াদি উৎপল কুমার বসু, তুষার চৌধুরী, আরো অনেকেই যুক্ত হলেন সে পরিকল্পনায়। বইটি বেরুল ২০০৫। তার আগে এক বছর ধরে কাজ চলেছিল। যাঁরা ফরাসির মূল ভাষা জানতেন না, তাঁদের লাইন বাই লাইন শব্দ ধরে ধরে প্যারাফ্রেজ করে দেওয়ার দায়িত্ব পড়ল আমার ও আরো অনেক ফরাসি জানা ছেলেমেয়ের। আমি অ্যাঁলা বস্কে-র হাসপাতাল সিরিজের কবিতাগুলি শব্দ ধরে ধরে বাংলা করে দিয়েছিলাম। শরৎদা সেগুলিকে নিয়ে কাজ করলেন, কবিতার আকৃতি দিলেন তাদের। সেই সময়ে আমাদের নৈকট্য বেড়েছিল ওঁদের সঙ্গে। শরৎদা এক্সাইটেড কবিতাগুলি পড়ে... তৃণাঞ্জনকে ফোন করে বললেন, যশোধরা অনুবাদ করে দিয়েছে বলে ভেব না আমি কিছু কাজ করছি না। তবে ও যেটা করে দিয়েছে সেটাও ভাল, পড়তে পড়তে তো এমন আনন্দ হচ্ছে, ওকে জড়িয়ে ধরে চুমু খেতে ইচ্ছে করছে আমার!

    এই সব দু-চার পয়সার মত আমাদের জীবনের অলেখা কাহিনি খুচরো খাচরা এদিকে ওদিকে ছড়িয়ে থাকা। আজ এখানে লিখতে ভাল লাগছে।

    যেমন, শরৎদা বিজয়াদি, দু’জনেই, সাগ্রহে এসেছিলেন, ২০১০ নাগাদ আমার মায়ের বাড়িতে। সে বাড়ির ছাতে শব্দহরিণের অনুষ্ঠানে কবিতা পড়লেন শীতের রাতে। সেই সব কবিতার মধ্যে অজস্র বিতর্কিত বিষয় নিয়ে শ্রোতাদের সঙ্গে বাদানুবাদ চলল। মহাশ্বেতা দেবী বা মাও সে তুং, কেউ ছাড়া পেলেন না শরতের কলমের খোঁচা থেকে। শরৎদা বলেছিলেন, রাতে স্বপ্ন দেখেই উঠে লিখে ফেলতেন কবিতা। এই করে করে হার্টের রোগ ধরিয়েছিলেন। কি দুর্দান্ত সেসব লেখা। আমরা বায়না ধরেছিলাম শরৎদার কাছে, সেদিন, রান্না শিল্প সিরিজের লেখা পড়ার জন্য। আমার অতি প্রিয় "দই-পাতা" কবিতাটি পড়েছিলেন শরৎদা।

    এক লিটার দুধ ঘন করে নাও।
    ঠান্ডা হতে দাও।
    একশো গ্রাম টক দই ঘেঁটে মসৃণ করে রাখ।
    ওদের মিলন হবে।
    মাটির পাত্র হলে ভাল।
    নাহলে চীনেমাটির বাসন।
    দুধ কুসুম গরম থাকতে টকদই ভাল করে মিশিয়ে নাও।
    একটা কাঠের তক্তার ওপর দুধের পাত্রটি বসিয়ে ঢাকা দিয়ে দাও।
    তারপর মোটা কাপড় দিয়ে বেশ করে মুড়ে দাও, যাতে ঠান্ডা হাওয়া না ঢোকে।
    ওম পেলে মিলন সার্থক হবে।
    চার ঘন্টা ঐভাবে থাকুক।
    ঘর থেকে বেরিয়ে এস।
    তারপর ঢাকনা খুলে দেখবে, দই স্থির হয়ে গেছে। জল কাটছে।
    মাঝখানে নাড়াচাড়া করতে নেই।
    দই চমকে গেলে কখনোই বসবে না।
    দুধ কাটিয়ে ছানা করা সহজ
    দই পাতা সহজ নয়।
    একজন সহানুভূতিশীল মানুষের স্নেহস্পর্শ পেলেই দুধ জমে দই হয়।
    দইয়ের মধ্যে প্রাণ আছে।
    সে প্রাণ স্পর্শকাতর।
    এ কথা স্মরণ রাখা উচিত।
    বাজারে যে মিষ্টি দই পাওয়া যায় তা অকবিতা।

  • পড়াবই | ২৬ ডিসেম্বর ২০২১ | ১৮৬০ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • | ২৭ ডিসেম্বর ২০২১ ১৭:৩২502345
  • চুল ধরে টেনে তুলে ফেলে দেওয়া! ছিহ! 
  • সম্বিৎ | ২৮ ডিসেম্বর ২০২১ ০৯:৩১502351
  • লেখাটা খুবই ভাল। ঠিকই লিখেছ যে বোহেমিয়ানার গল্পয় চাপা পড়েছিল কবিতা। তাই বোধহয় সুনীলের তুলনায়ও তারাপদ, শরৎকুমাররা স্বল্পপঠিত থাকেন। অগ্রজ কবিদের নিয়ে এরকম লেখার একটা সিরিজ দাবী করলাম।
  • Kausik Gh | ২৮ ডিসেম্বর ২০২১ ১৮:১৭502357
  • এ লেখায় সর্বোচ্চ রেটিং দিলে ছোট হাতে বড়ো কাজ করা হয়ে যাবে। অতোটা বড়ো আমি নই।
    আর দ, অনেককাল আগে ঘটে যাওয়া ঘটনায় শরৎকুমার শক্তি সায়ন সবাই ইতিহাসের চরিত্র। চুর ধরে টেনে ফেলে দেওয়া ঐতিহাসিক ঘটনা। এখানে ঘটনার বর্ণনা পাচ্ছি মাত্র।
  • Sekhar Mukhopadhyay | ০১ জানুয়ারি ২০২২ ১৭:০৩502414
  • বহুদিন পর এলিজি-র শরতের কথা মনে পড়ল। সত্যিই জমে গেছে।জমে দৈ।
  • arindam | 2409:4060:2e0a:2287:cdc0:7bcd:6197:2788 | ০২ জানুয়ারি ২০২২ ১৮:০৮502438
  • খুব ভালো । 
  • Yashodhara Raychaudhuri | ০৩ জানুয়ারি ২০২২ ০০:০৬502449
  • কী আশ্চর্য কথা বললে গো  সম্বিৎ !
     
    আমি ত সিরিজ করে একটা লেখা লিখব বলে কলম টেনে নিলাম এই লেখাটার ঠিক পর পরেই!! অদ্ভুত সমাপতন । 
     
    হ্যাঁ খুব অদ্ভুত লাগছে যে এঁরা কেউ নেই এখন যাঁদের নিয়ে এত কথা এত কাহিনি। 
  • ঈশিতা ভাদুড়ী | 115.187.48.232 | ০৩ জানুয়ারি ২০২২ ০০:৪৫502452
  •  বেশ ভালো লাগল 
  • সেবন্তী ঘোষ | 103.10.117.44 | ০৩ জানুয়ারি ২০২২ ০৩:৫৭502459
  • শরৎকুমারের লেখা ধরিয়ে দেওয়ার জন্য কোন প্রশংসাই যথেষ্ট নয়।  জীবন যাপনের চমক কবিকে ঢেকে দেয় বড়ো।
  • | ০৩ জানুয়ারি ২০২২ ০৮:১৬502461
  • কোশিক ঘোষ, আমাকে উদ্দেশ্য করে করা মন্তব্যটা আদৌ বুঝলাম না। হঠাৎ এই  ম্যানপ্লেইনিঙের কারণ কি তাও বুঝলাম না। 
  • সংযুক্তা বাগচি | 110.225.12.36 | ০৩ জানুয়ারি ২০২২ ১৫:৩১502469
  • ভারি চমৎকার লাগল ।
    আর দই-পাতা কবিতাটি একেবারে মুক্তোর মত লাবণ্য-দ্যুতিময়।
  • Ekak | 103.76.82.95 | ০৩ জানুয়ারি ২০২২ ১৫:৪৭502470
  • যে কোন সময়েই হোক না কেন একজন মানুষের এবিউসিভ আচরণ তখন ও বাকিদের চোখে এবিউসিভ ছিল এখনো আচে। শক্তিকে নিয়ে এরকম অনেক কীর্তি আচে নানান ইকুয়েশনে লোকে মুখ খোলেনা। 
  • সিএস | 103.99.156.98 | ০৩ জানুয়ারি ২০২২ ১৬:৪২502471
  • এই লেখাটা নিয়ে কিছু বক্তব্য ছিল, লেখা হয়ে ওঠেনি। যেমন, লেখাটির নামটি বেশ গ্রাম্ভারী রকমের - পুনরায় নির্মাণ বা প্রস্থান বিন্দু শব্দগুলো দিয়ে যা তৈরী করা হয়েছে। স্ট্যান্ডার্ড লিটল ম্যাগাজনীয় প্রবন্ধের এইসব শব্দ ব্যবহার না করলেও চলত হয়ত, যখন প্রথমেই লেখা হয়েছে যে এই লেখাটি তাড়াহুড়ো করে লেখা। উপরন্তু শরৎকুমারের লেখার যে বৈশিষ্ট্য লেখাটিতে ধরা হয়েছে, যথা ডাইরেক্টনেস বা সাধারণ শব্দ ব্যবহার, তার সাথে শিরোনামটি খাপ খায়নি, আমার কাছে অন্তত।

    যে কবিতাগুলিকে ব্যবহার করা হয়েছে সেগুলো কবে লেখা হয়েছে উল্লেখ থাকলে কবিতার চরিত্রবদল কোন এক সময়ে গিয়ে ঘটছে না প্রথম থেকে সেসব বোঝা যেত। যেমন, রান্না সিরিজের কবিতাটি, এই সিরিজ কখন লেখা ? ১৯৮০-র পরে, মৃদুল দাসগুপ্তর রান্না সিরিজের পরে না আগে ? যদি পরে হয়, তাহলে বোঝা যেত, যে শরৎকুমারের ক্ষেত্রে যে ইউনিকনেসের কথা বলা হয়েছে তার পূর্বসুরী কৃত্তিবাসীদের মধ্যে না হোক, অন্য কোথাও ছিল কিনা, বাংলা কবিতার জগতেই।

    কৃত্তিবাসীরা অনেকেই কিন্তু তাদের কবিতা একরকমের নয়। শক্তি ও সুনীলের কবিতা আলাদা যদিও তাদের নামের মধ্যে হাইফেন বসিয়েই লেখা হয়, তাদের থেকে উৎপলকুমার আলাদা বা প্রণবেন্দু। তারাপদ রায় অন্তত প্রথম দিকের মেজর কবিতাগুলোতে ডাইরেক্ট আর আট্পৌরে জীবনের ওপর ফোকাস। কিন্তু এক জায়গায় সকলের মিল আছে, সেটা হল কৃত্তিবাসীদের কবিতার স্পিরিটে যা মূলতঃ আত্মবিবরণময়। এটা আমার মনে হয়না নিছক গীনসবার্গদের প্রভাব থেকে আসছে, ১৯৫০-র দশকে যারা কবিতা লিখছে, সেই সময়ের শহর - রাজ্য বা দেশের পরিস্থিতি এবং ঐসব যুবাকবিদের আত্মপ্রতিষ্ঠার জায়গা থেকেই আসছে, সেখান থেকেই বেশী আসছে হয়ত যার চূড়ান্ত রূপ দেখা যবে হাংরিদের কবিতায়। তো এই আত্মবিবরণময় কবিতা শরৎকুমার লিখেছিলেন কি ? মনে হয় লিখেছিলেন, ঐসকল প্রভাব এড়ানো সম্ভব ছিল না; মধ্যরাত শাসন করার লাইন সমেত কবিতাটিও ঐ ধারারই। ক্রমশঃ হয়ত কবিতার বদল ঘটে শরৎকুমারের লেখায়।

    আরো কথা থাকে, যেমন সিনেমার আঙ্গিক লক্ষ্য করা গেছে যে কবিতাটিতে সেটি নিয়েও। কোন সময়ের লেখা এটি ? ১৯৬৮ - ৬৯ এর পরের লেখা, গল্পকারদের গল্প বদলে দেওয়ার ঝোঁক যখন ছিল যেমন শাস্ত্রবিরোধী বা শ্রুতি, সেইসব লেখা প্রকাশের পরে কি ? সেইসব লেখাও কিন্তু 'সিনেম্যাটিক'। সন - তারিখের উল্লেখ থাকলে ব্যাপারগুলো খোলসা হত, গল্প লেখার নতুন ধরণ কবিকে প্রভাবিত করছে কিনা।

    তো বলার কথা হল, শরৎকুমারের লেখার প্রোগ্রেশনটি আমি এই লেখায় পাইনি, আরো কিছু আশা করেছিলাম। শরৎকুমারও মনে হয় নিজেও ওনার কবিতা নিয়ে পাঠকদের কাছ থেকে আরো বেশী আশা করেছিলেন, তিক্ততা এসেছিল পরে হয়ত, যদিও একটা লেখায় লিখেছিলেন তিক্ত হয়ে না যাওয়ার কথা। শক্তি চট্টোপাধ্যায় যখন শান্তিনিকেতনে পড়াচ্ছেন সেইসময়ে শরৎকুমারও সেখানে, তো শক্তি মারা যাওয়ার পরে সুনীলের লেখায় উদ্ধৃত শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের কথায় পড়ি যে "শরৎ যেন অন্য মানুষ হয়ে গেছে। অনেক দূরে সরে গেছে।" অথবা "শরৎ আমাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু, এক সময় কত আমোদ - আহ্লাদ হয়েছে, কত জমিয়ে রাখত, ওকে এখনও, মাঝে মাঝে অন্তত, সেইভাবে পেতে ইচ্ছে করে। কিন্তু শরৎ এখন আড্ডা - হইচই-এর মধ্যে থাকেই না, এড়িয়ে যায়"। জানি না, দীর্ঘ দীর্ঘ বন্ধুত্ব থেকে সরে যাওয়ার সাথে শরৎকুমারের কবিজীবনের অপ্রাপ্তি যূক্ত ছিল কিনা।
     
     
  • Yashodhara Raychaudhuri | ০৩ জানুয়ারি ২০২২ ১৭:০১502472
  • সি এস এর দীর্ঘ মন্তব্য মন দিয়ে পড়লাম। অবশ্যই পাঠকের তরফ থেকে বেশ জরুরি কিছু অ্যানালিসিসের  দাবি রেখেছে। সেগুলো ক্রমশ লেখা হতেই পারে। ইন ফ্যাক্ট একটা প্রাথমিক খসড়া থেকে ওইদিকে যাওয়া যায়। শরতের সব বই হাতে নিয়ে,সব লেখা পড়ে একটা বড় লেখা যখন লেখা হবে তখনই তা সম্ভব। তাড়াহুড়োর ডিসক্লেইমার দেওয়ার পরেও এই দাবি আর থাকেনা। তাও কী কী দরকার আছে করার তার আউটলাইন পাওয়া গেল। 
     
    প্রথম বেমানান শীর্ষকের ব্যাপারটা জাস্ট বিরোধিতা করার জন্য/ সমালোচনা করার জন্য মনে হয়েছে। "সেইসব কৃত্তিবাসীরা যাদের সবকিছুই ক্লিশে" এরকম একটা ট্যাগলাইন দিলে বোধ করি খুশি হতেন। 
  • সিএস | 103.99.156.98 | ০৩ জানুয়ারি ২০২২ ১৮:১৫502475
  • যশোধরাকে বলার -

    কৃত্তিবাসীরা ক্লিশে কেন হবে, এখনও অনেক কবিতা ঝকঝক করে। অতএব ঐ ট্যাগলাইনটি বেমানান হত।

    শিরোনামে শব্দ ব্যবহার নিয়ে আপত্তি পাঠক হিসেবে, অ্যাকাডেমিক ও ক্লিশে ধরণের জন্যই। উপরন্তু কৃত্তিবাসীদের কবিতা আলোচনায় মনে পড়েনা এরকম কোন ব্যবহার দেখেছি, প্রফেসরপ্রতিম লেখার ধরণ থেকে ওনারা দূরেই থাকতেন। তো এইসব ব্যাপারগুলো মাথার ভেতরে ছিল আমার ঐ মন্তব্যের সময়ে। 'জাস্ট' বিরোধিতা করার জন্য লেখা হয়নি, বরং বলতে পারি সচেতনভাবেই মন্তব্যটি করা হয়েছে। আরো একটি বিষয় হল যা আগের পোস্টে লেখা হয়নি, যে, শিরোনামটি যদি ভারী হয় তাহলে তার সাথে সংগতি রেখে লেখাটিতে আরো ডিটেলস আশা করছিলাম আর সেইসব ডিটেলস যদি না থাকে (যেহেতু তাড়াহুড়োর লেখা) তাহলে শিরোনামটি অন্য হতে পারত।

    কিন্তু আপত্তিটা থাকছে। সেটা শুধু এই লেখাটির জন্যই নয়, অন্য অনেক লেখাতেও থাকে। লেখক হিসেবে সেই আপত্তিকে আপনি অস্বীকার করতেই পারেন।
     
  • aranya | 2601:84:4600:5410:b0ce:3124:a6c7:65c1 | ০৪ জানুয়ারি ২০২২ ০০:৩৯502485
  • 'প্রস্থান বিন্দু' - এর অর্থ ​​​​​​​কী? 
  • একক | ০৪ জানুয়ারি ২০২২ ০৯:৪৭502487
  • এক্সিট পয়েন্ট এর বাংলা তরজমা বোধহয়।  শেয়ার মারকেটে ও এক্সিট পয়েন্ট হয়। সোশিলজিতে এর মানে,  একটা যুগ শেষ হবার বিন্দু, ব্যক্তি বা ঘটনা। মানে যদি এক্সিট পয়েন্ট অর্থে লেখা হয়ে থাকে আর কী। অন্য কিছু হলে, জানি না।
  • সন্দীপন | 2401:4900:3a1b:c1d:5879:561d:1133:b5b5 | ০৪ জানুয়ারি ২০২২ ১২:৪৫502490
  • চমৎকার  লেখা। হয়তো  শুরুয়াৎ হিসেবে। সি এসের মন্তব্যের  মধ্যেও ভাবনার উপাদান আছে। তবে প্রস্থানবিন্দু নিয়ে অত আপত্তির কারণ নেই। অ্যাকাডেমিক আলোচনার  সঙ্গে  একেবারে  পাঁচিল  তোলা সম্পর্ক  তো নেই অন্যান্য  ধারার।
  • পুরঞ্জয় মুখোপাধ্যায় | 42.110.136.171 | ০৬ জানুয়ারি ২০২২ ২১:৩৩502521
  • এসব কথন গল্পের টানে ধরে রাখে পাঠককে।
    আপনি কবি বলেই না এমন হৃদয়গ্রাহী চলতি ভাষায় ভঙ্গিতে লিখে গেলেন হুহু করে। আরও লিখুন কবি।   
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। সুচিন্তিত মতামত দিন