• খেরোর খাতা

  • আমার বন্ধু প্রতীক

    Kulada Roy লেখকের গ্রাহক হোন
    ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ১০২ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • আমার বন্ধু প্রতীক সাইফুল। কবিতা লিখত। গল্পও লিখেছে বেশ কিছু। কোনো বই নেই। 
     
    ঢাকার চারুকলা থেকে ব্যাচেলর ডিগ্রী পাশ করেছিল। আমাদের মধ্যে প্রতীকই প্রকৃত লেখক হয়ে উঠেছিল। ওর বাবা ছিল কবি। নাট্যকার। কালিবাড়ির পুকুরের উপর ছিল ওদের বাসা। সামনে ছিল কবির চেম্বার। ছিল মৌমাছির চাক। বাবুই পাখির ঘর। পাখির পালক। কয়েকটা মানিপ্লান্ট। আর বিড়াল। কয়েকটি ক্যাশ বই। তাতে লেখা নাক্সভমিকা আর নানারকম পদ্য। 
    ওদের বাড়ির বারান্দা থেকে বড়শি পেতে মাঝে মাঝে পুকুর থেকে মাছ ধরেছি।।
     
    এই চেম্বারে বর্ণির বাওড় থেকে আবুল হাসান এসে বসে থাকতেন। সদ্য লেখা কবিতা শোনাতেন। পরে রাজা যায় আসে, পৃথক পালঙ্ক, যে তুমি হরণ করো নামে তাঁর তিনটি কবিতার বই প্রকাশিত হয়।তিনি আমার প্রিয় কবি।
     
    প্রতীক আর আমি হেঁটে হেঁটে সারা শহরটা ঘুরে বেড়াতাম। শহরের প্রতিটি বাড়িঘর গাছপালা মানুষজনকেই চিনতাম। প্রতীক কবিতা পড়ে শোনাত। পরে রূপোলী ফিতে নামে কবিতার একটি ভাঁজপত্রও বের করি দুজনে। ছাপা খরচ ছিল দশ টাকা। এই দশ টাকা দিতেন স্বপন চৌধুরী। জনতা ব্যাংকে চাকরি করতেন। বিনিময়ে তার কবিতাও ছাপাতে হতো। আমরা দেশের নানা কবিদের কাছে ডাকে পাঠাতাম।
    মীরাপিসির কাছ থেকে নিয়ে দুজনে ভাগ করে পড়ছি মৈত্রেয়ী দেবীর ন হন্যতে। ভিক্টর হুগোর দি হ্যাঞ্চ অব নতরদ্যাম। দুজনে গ্রীঞ্জোরি হয়ে ঘুরে বেড়াই সে সময়ে। দুজনে আবিষ্কার করি, আমাদের ছোট্ট শহরটা জলের তলা থেকে ভেসে উঠেছে। থেকে থেকে শ্যাওলার গন্ধ ভাসে। আবার কোনো একদিন জলের নিচে চলে যাবে। 
     
    আমি যখন 1983 সালে সেই শহরটা ছেড়ে আসি, তারপরও প্রতীক রূপোলী ফিতের কয়েকটি সংখ্যা বের করেছে। 
     
    মাঝে মাঝে প্রতীক ময়মনসিংহ গেছে আমার কাছে। আমি না থাকলেও আমার বন্ধুদের কাছে গিয়ে থেকেছে। বোটানিক্যাল গার্ডেনে বসে ছবিও এঁকেছে। আধো অন্ধকারে আধো আলোতে শালগাছের ছায়া দেখে বলেছে, হট হট। হট যা। 
    কোনো একদিন খুব গোপনে বলেছে, গাছগুলোও মাঝে মাঝে হাটে। 
     
    1993 সালে বরিশালে চলে যাই। একদিন আমার মা আমার কাছে আসে। অনেক রাতে আমার ঘুম ভাঙ্গে। দেখি জানালার বাইরে চাঁদের আলোয় ভেসে যাচ্ছে। বাগানে গন্ধরাজ ফুটেছে। তার ঘ্রাণ পাওয়া যাচ্ছে। মা আমার দিকে ঝুঁকে বসে আছে। তাঁর চোখ থেকে জল পড়ছে। আমাকে ফিসফিস করে বলছে, প্রতীক চলে গেছে। .....কবি প্রতীক। ...তোর বন্ধু। ...আর কখনো আসবে না। 
     
    শুনে আমি চোখ বন্ধ করি। আবার ঘুমিয়ে পড়ি। ঘুমিয়ে পড়ে বুঝতে পারি, মা এই কথাটি বলেনি। বলতেই পারে না। আরো ঘুম গভীর হলে মনে হয়, মা আমার বাড়িতে সেদিন আসেনি। আমি দু:স্বপ্ন দেখেছি। দেশের বাড়িতে মা'র কতো কাজ। সেসব ছেড়ে আসে কীভাবে-- এই রাতে। এই জোৎস্নায়। এই মৃত্যু-অমৃত্যুর ঘটনাকালে। 
     
    প্রকৃত কবির কখনো মৃত্যু হয় না। ন হন্যতে হন্যমানে শরীরে।
  • ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ১০২ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

কুমুদি পুরস্কার   গুরুভারআমার গুরুবন্ধুদের জানান


  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভেবেচিন্তে প্রতিক্রিয়া দিন