• হরিদাস পাল  আলোচনা  বিবিধ

  • দেশ কাল রাজনীতির ভাবনায় নজরুল 

    Lipikaa Ghosh লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | বিবিধ | ২৯ আগস্ট ২০২১ | ৩৪৬ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • দেশ, কাল ও রাজনীতির ভাবনায় নজরুল ইসলাম:

    অনেক আগে থেকেই নজরুল ইসলামের মন রুশ বিপ্লব, রেড ফোর্স দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল। ১৯১৭ সালের ৭ই নভেম্বর রাশিয়ার জার শাসনের অবসান হলে একই সঙ্গে প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। তিনি ঐ বছর ৪৯ নম্বর বেঙ্গল রেজিমেন্ট নাম লিখিয়ে বিশ্ব যুদ্ধের সৈনিক হয়েছিলেন। ১৯১৮ সালের ১৭ই জুলাই রাশিয়ার জার ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের মৃত্যু দণ্ড দেওয়া হয়েছিল। এর পর রাশিয়ার গৃহযুদ্ধ বাধলে রুশ বিপ্লবকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য ১৯১৮তে রেড ফোর্স গঠন করা হয়েছিল। রাশিয়ার শ্রমিক বিপ্লবী ও কৃষক শ্রেণীর যোগদানে গড়ে উঠেছিল এই দল। তারা বিপ্লব-বিরোধীদের সঙ্গে লড়াই করত। এই রেড ফোর্স এর কোনোও পতাকাও ছিল না, তারা গোপনে কাজ করত। সেই সময় রুশ বিপ্লব যেমন সারা বিশ্বকে প্রভাবিত করেছিল, সারা বিশ্বের শ্রমিক কৃষকরাও নিজেদের বিপ্লব বলে মনে করেছিল। তেমনি লাল ফোর্স সারা বিশ্বের সাম্রাজ্যবাদকে লাল চোখ দেখিয়েছিল। বিশেষ করে ভারতের ব্রিটিশ সরকার এই সময় বজ্র আঁটুনি দিয়ে রেখেছিল যাতে কোনো ভাবের রেড ফোর্সের প্রভাব ভারতে না পড়ে। বলা বাহুল্য এই রেড ফোর্সের বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ যোগ দিয়েছিল। একজন ভারতীয়র নামও জানা যায় যিনি এই দলে যোগ দিয়েছিলেন, মার্তুজা আলি। সেই সময় আবার ভারতের জাতীয় কংগ্রেসেরও কোনও পতাকা ছিলনা। তাই একটা প্রভাব যে ভারতে পড়তে পারে এই ভেবে সতর্ক ছিল ব্রিটিশ সরকার। অবশ্য সেই সময় গান্ধিজির নিরুপদ্রব অসহযোগ আন্দোলন সরকারকে কিছুটা স্বস্তি দিয়েছিল।

    ১৯১৯ এ নজরুল ইসলাম সেনাবাহিনীর হাবিলদার থাকা অবস্থায় লিখেছিলেন এই রুশ বিপ্লব, লাল ফৌজ, বালুচিস্তানের বাসিন্দাদের নিয়ে গল্প, “ব্যাথার দান”। প্রকাশিত হয়েছিল বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য পত্রিকায়।

    এই গল্পের কাহিনী দারা আর সয়ফুল মুল্ককে নিয়ে এগিয়েছে। বালুচিস্তান থেকে আফগানিস্তান হয়ে তুর্কিস্তান বা ককেসাস গিয়ে তারা রেড ফৌজে যোগ দিয়েছে। এখানে একটি প্রধান নারীচরিত্রও আছে। দুজনেই একই মেয়ের প্রেমে ব্যাথা পেয়ে শেষে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছিল রেড ফোর্সে নাম লিখিয়ে। গল্পটা প্রেমের গল্প হলেও তার মধ্যে দেশপ্রেম ও আন্তর্জাতিকতা ফুটে উঠেছিল। উনিশ কুড়ি বছর বয়সেই তাঁর গল্পের নায়কদের লাল ফোর্সের পাঠিয়েছিলেন নজরুল। তবে লাল ফৌজ শব্দটি পরিবর্তন করে “মুক্তিকামী সৈন্যদল” দিয়ে ১৯২০ সালে প্রকাশ করেন বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য পত্রিকার সহ-সম্পাদক মুজফফর আহমেদ। সে যাত্রা রাজরোষ থেকে বেঁচে যান নজরুল ইসলাম।

    সেনাবাহিনী থেকে ফিরে কলকাতায় বসে লিখেছিলেন - “মুহাজিরিন হত্যার জন্য দায়ী কে?” বলে একটি প্রবন্ধ। লিখেছিলেন ১৯২১ সালে। প্রকাশিত হয়েছিল নবযুগ পত্রিকায়। এই ছোট্ট (২০”×২৬” মাপের) দৈনিক সান্ধ্য “নবযুগ” পত্রিকাটি খুব সাড়া ফেলেছিল। ফজলুল হকের আর্থিক সহযোগিতায় চলা এই পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন নজরুল ইসলাম ও মুজফফর আহমেদ। এই মুজফফর আহমেদ নজরুলের বন্ধু এবং স্বাধীনতা সংগ্রামী। পরবর্তীতে ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির প্রথম সারির নেতৃত্বে ছিলেন। ফজলুল হক সেই সময় কলিকাতা হাইকোর্টের উকিল । অর্থাৎ রাজনীতি ছিল তাঁর সঙ্গে সঙ্গেই। মুহাজিরিন এর কথায় আসা যাক। ১৯২০ তে যে হিজরৎ আন্দোলন হয়েছিল তাতে প্রায় আঠারো হাজার মুসলমান আফগানিস্তানে চলে গিয়েছিল। “হিজরৎ” এই আরবি শব্দের অর্থ স্বেচ্ছা নির্বাসন। আর “মুহাজির” শব্দের অর্থ হল স্বেচ্ছা-নির্বাসনে যাঁরা যান বা নির্বাসিত যাঁরা। হজরত মুহাম্মদ এক সময় মক্কা থেকে হিজরৎ করে বা স্বেচ্ছা নির্বাসিত হয়ে মদিনা এসেছিলেন। “মুহাজিরিন” হল “মুহাজির” এর বহুবচন। এই মুহাজিরিনের উপর ব্রিটিশ সীমান্তরক্ষী রা গুলি চালিয়ে চল্লিশজন নিরস্ত্র মুসলমানকে হত্যা করেছিল। তারই প্রতিবাদ নজরুল ইসলাম এই প্রবন্ধে করেছিলেন। তাঁর ভাষায় -

    “তোমাদের একজনকে মারলে আমাদের এক হাজার লোককে খুন কর আর আমাদের হাজার লোককে পাঁঠা কাটা করিয়া কাটিলেও তোমাদের কিছু বলিতে পারিব না? মনুষ্যত্বের, বিবেকের, আত্মসম্মানের স্বাধীনতার উপর এত জুলুম কেহ কখনও সহ্য করিতে পারে কি?”

    এই প্রবন্ধটি প্রকাশের পর, পরবর্তীতে এই ধরনের ব্রিটিশ বিরোধী লেখা যাতে না ছাপানো হয় তার জন্য  ব্রিটিশের পুলিশ সতর্ক করেছিল। যদিও এমন সতর্ক বার্তা আগেও পেয়েছেন। তবে এই ধরনের লেখার জন্য কাগজটিও খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল।

    এদিকে তুরস্কের প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা, বিপ্লবী রাজনীতিবিদ মোস্তফা কামাল আতাতুর্ককে নিয়ে কবিতা লিখলেন ১৯২১ সালে, সম্পূর্ণ নিজস্ব ভাবধারায় । কামাল পাশার মধ্যে ভারতের স্বাধীনতার কাণ্ডারীকে খুঁজেছিলেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর তুরস্কের পরাজয় হয়েছিল গ্রিকদের হাতে। প্রথম দিকে আনোয়ার পাশা, তালাত পাশা ও জামাল পাশা চেষ্টা করলেও সফল হতে পারেন নি। পরে বীর কামাল পাশা দেশের বাইরে এশিয়া মাইনরে এসে বহিশক্তির সাহায্যে সেনাবাহিনী গঠন করে নতুন উদ্যমে যুদ্ধ করে গ্রিকদের পরাজিত করেছিলেন এবং তুরস্ককে নতুন করে সাজিয়ে তুলেছিলেন। ১৯২১ সালে নজরুল ইসলাম লিখেছিলেন -

    “ঐ খেপেছে পাগলি মায়ের দামাল ছেলে কামাল ভাই।
    অসুর পুরে শোর উঠেছে জোরসে সামাল সামাল ভাই।
    কামাল তুনে কামাল কিয়া ভাই।”

    এখানে কামাল পাশার সঙ্গে আনোয়ার পাশার নামও উল্লেখ করেছেন। এই আনোয়ার পাশা কামাল পাশার আগে তুরস্ক জয় করতে গিয়ে হেরে গিয়েছিলেন। যুদ্ধক্ষেত্রে প্রাণ হারান, তাঁর সংগ্রামের রাস্তা কামাল পাশার থেকে আলাদা ছিল। তবু তিনি আনোয়ার এর নাম রেখেছিলেন তাঁর কারণ তিনি দেশের জন্য লড়াই করেছেন যে বীরেরা, তাঁদের বন্দনা করেছেন, শুধু জয়ীদের নয়। এ কথাও সত্যি কবিতাটি তিনি যখন লেখেন তখনও কামাল পাশা জয়ী হয়ে উঠতে পারেন নি। জয়লাভ করেছিলেন পরে। তিনি এটাই বোঝাতে চেয়েছেন যে শুধু জয়ীকেই বন্দনা নয়, সংগ্রামীকে বন্দনা করা হবে। সংগ্রামী মানেই সম্ভাবনা।

    তিনি কখনো তুরস্কের কামাল পাশার মধ্যে কখনো রাশিয়ার ভ্লাদির ইলিচ লেনিনের মধ্যে খুঁজে ফিরেছেন ভারতের কাণ্ডারীকে। তাঁর বিশ্বাস ছিল এমন কেউ একজন পরাধীন ভারতের হাল ধরতে এগিয়ে আসবে, হবে প্রলয়। আর সে ভারতকে পৌঁছে দেবে স্বাধীনতার তীরে। এই আশা নিয়ে লিখেছেন -“মাভৈ মাভৈ জগৎ জুড়ে প্রলয় এবার ঘনিয়ে আসে / জরায় মরা মুমূর্ষুদের প্রাণ - লুকায় ঐ বিনাশে / এবার মহা নিশার শেষে / আসবে ঊষা অরুন হেসে করুন বেসে”

    প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ৪৯ নম্বর বেঙ্গল রেজিমেন্ট ভেঙে গেলে নজরুল ইসলাম ১৯২০ এপ্রিলে যখন কলকাতায় এসেছিলেন তখন ভারত অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছিল। পাঞ্জাবের ওপর অত্যাচার, শাসন সংস্কার আইন মানতে পারে নি অনেকেই। যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের সশস্ত্র আন্দোলনের দেখানো পথে বাংলা এগিয়ে চলেছে। বড় দুর্গম সেই পথ। আত্মগোপন আর প্রাণ বলিদান ছিল দেশসেবার আরেক নাম। সেই সময় শান্তিপূর্ণ ভাবে আন্দোলন করে স্বরাজ আদায় করার রাস্তা দেখালেন গান্ধিজি। দেশের জন্য আত্মগোপন আর আত্মবলিদান নয় সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা করে সকলের সামনে সভা সমিতি করে আন্দোলন এগিয়ে নিয়ে যাওয়া ছিল উদ্দেশ্যে, উদ্দেশ্য ছিল স্বরাজ অর্জন। যদিও ততদিনে সাম্প্রদায়িকতা তীব্র আকার নিয়েছে। স্বরাজের অর্থ এক এক দলের কাছে এক এক রকম। তবু আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে হিন্দু মুসলমানের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি গড়ে তোলার পথ দেখেছিল অনেকেই। ১৯২১ সালে নজরুলের লেখার মধ্যেও সাময়িক পরিবর্তন এলো। কবি অসহযোগ আন্দোলনের আহ্বায়ক গান্ধিজির সমর্থনে গান লিখেছিছেন -

    “এ কোন পাগল পথিক ছুটে এলো বন্দিনী মার আঙিনায়
    ত্রিশ কোটি ভাই মরণ-হরণ গান গেয়ে তার সঙ্গে যায়”

    আবার গান্ধিজির অসহযোগ ও আইন অমান্য আন্দোলনকে সমর্থন করে এই আন্দোলন নিয়ে লিখেছিলেন “মরণ-বরণ” কবিতা।

    “এস এস এস ওগো মরণ!
    এই মরণ-ভীতু মানুষ মেষের ভয় করছে হরণ”

    কারাগারে যাঁরা বন্দী হলেন তাঁদের জন্য আরো লিখলেন - “বন্দী-বন্দণা”

    “আজি রক্ত নিশি ভোরে
    একি এ শুনি ওরে
    মুক্তি কোলাহল বন্দী শৃঙ্খলে,
    ঐ কারাবাসের মুক্তি হাসি হেসে
    ফুটবে ভয়-বাধা স্বাধীন হিয়াতলে”

    এই সময় দেশবন্ধু অসহযোগ আন্দোলন করে জেলে গিয়েছিলেন। ১৯২১এ দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের স্ত্রী বাসন্তী দেবীর অনুরোধে কবি লিখলেন অসহযোগ আন্দোলনের বিপ্লবী-বন্দীদের জন্য - “ভাঙার গান”। যে সমস্ত বিপ্লবীরা জেলে বন্দী আছেন তাদের কারাগার ভেঙে বের করে আনার কথা ঘোষণা করলেন। কবিতাটি লিখেছিলেন শ্রী সুকুমার রঞ্জন দাশের সামনে কলকাতায় বসেই। লিখেছিলেন -

    “কারার ঐ লৌহ কপাট
    ভেঙে ফেল কররে লোপাট
    রক্ত জমাট শিকল পূজার পাষাণ বেদী”

    এই গানটি কবিতা আকারে বাসন্তী দেবী তাঁদের “বাঙলার কথা” পত্রিকায় প্রকাশ করেছিলেন। এর জন্য বাসন্তী দেবীকে কারবরণ করতে হয়েছিল বলেই অনেকের দাবি। এই কবিতাটির মধ্যে শুধু যুবসমাজকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করার মন্ত্র নয়, যুবসমাজকে উত্তপ্তও করেছিলেন যা ব্রিটিশ সরকারের চক্ষুশূল হয়েছিল।

    “লাথি মার ভাঙ রে তালা, যত সব বন্দিশালায়, আগুন জ্বালা আগুন জ্বালা, ফেল উপাড়ি” - কখনো অসহযোগ আন্দোলনের কবিতা হতে পারেনা তা সেদিন সবাই বুঝেছিল। গান্ধিজি ও তাঁর আন্দোলনের প্রতি শ্রদ্ধা থাকা সত্ত্বেও তাঁর সশস্ত্র আন্দোলনের ভাবনা প্রকাশিত হয়েছিল কবিতায়।

    কাজী নজরুল ইসলাম প্রথম বিশ্বযুদ্ধে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন রাজনীতিতে আসবেন বলে, এমনটাই নাকি কবি বলেছিলেন বন্ধুদের কাছে। কলকাতায় প্রথমে শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়ের মেসে, পরে ৩২ নম্বর কলেজ স্ট্রিটে থাকতেন। সেখানে বন্ধু হিসাবে পেয়েছিলেন দশ বছরের বড় মুজফফর আহমেদকে। তাঁর সঙ্গে আগে থেকেই পত্রালাপ ছিল। মুজফফর আহমেদ বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য পত্রিকার একজন সহকারী সম্পাদক ও সব সময়ের কর্মী ছিলেন। থাকতেন ঐ ৩২ নম্বর কলেজ স্ট্রিটে। কবি সেনাবাহিনীতে থাকাকালীন যেমন পাঞ্জাবি মৌলবীর সহযোগিতায় ইরানের কবি হাফিজের কবিতা পড়েছিলেন তেমন বাংলা সাহিত্যের চর্চাও করতেন। তিনি বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য পত্রিকায় নিয়মিত লেখা পাঠাতেন। সেই থেকেই বন্ধুত্ব মুজফফর আহমেদের সঙ্গে। একসঙ্গে থাকতে এসে সে বন্ধুত্ব আরো গভীর হয়েছিল। মুজফফর আহমেদ ছিলেন সক্রিয় রাজনীতিবিদ। রাজনীতি নজরুল ইসলামেরও মননে ছিল যা তাঁর সাহিত্যে প্রকাশিত হয়েছে বারবার।

    তাঁর “থাকব নাকো বদ্ধ ঘরে দেখব এবার জগৎটাকে” মনটা ঘুরে ঘুরে সেই রাজনীতি আর সাহিত্যের বেড়াজালে বাঁধা পড়ত। মুজফফর আহমেদ আর কবির যুগ্ম সম্পাদনায় ফজলুল হকের অর্থানুকূল্যে দৈনিক সান্ধ্য “নবযুগ” প্রকাশিত হয়েছিল। তবে পত্রিকাতে সংবাদ ছাপানো হলেও ব্রিটিশ-বিরোধী লেখাও ছাপানো হত। মুজফ্ফর আহমেদ কৃষক শ্রমিকদের সমস্যা ও আন্দোলনের কথা লিখতেন। এভাবেই এগিয়ে গিয়েছিলেন তাঁরা। মাঝে মাঝে পুলিশের সতর্ক বাণী কানে যে আসেনি তা নয়।

    এরই মধ্যে ১৯২১ এর ডিসেম্বরে লিখে ফেললেন "বিদ্রোহী" কবিতা। কদিন পর ১৯২২ এর ৬ তারিখে বিজলী পত্রিকায় প্রকাশিত হবার সঙ্গে সঙ্গে আগুনের মত ছড়িয়ে পড়েছিল জনপ্রিয়তা। বলা বাহুল্য তার সবচেয়ে জনপ্রিয় কবিতা এটি।

    পরে ধূমকেতু পত্রিকায় ১৯২২ এর ২৬শে সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হয়েছিল নজরুল ইসলামের “আনন্দময়ীর আগমনে” কবিতা -

    “আর কতকাল থাকবি বেটি মাটির ডেলার মূর্তির আড়াল!
    স্বর্গ যে আজ জয় করেছে অত্যাচারী শক্তি চাঁড়াল।
    দেবশিশুদের মারছে চাবুক, বীর যুবকদের দিচ্ছে ফাঁসি
    ভূভারত আজ কসাই খানা,
    আসবি কখন সর্বনাশী!”

    সেবার আর পুলিশ সতর্ক করেনি। এই কবিতা প্রকাশের পর পরই ৮ই নভেম্বর পত্রিকাটি নিষিদ্ধ করেদিল। ২৩শে নভেম্বর যুগবাণী বাজেয়াপ্ত করে কবিকে কুমিল্লা থেকে গ্রেফতার করেছিল। বিচারাধীন নজরুল ১৯২৩ এর ৭ই জানুয়ারি আত্মপক্ষ সমর্থন করে লিখেছিলেন রাজবন্দীর জবানবন্দী। এতেই শেষ লাইনে লিখেছিলেন -
    “সত্যের প্রকাশ নিরুদ্ধ হবে না। আমার হাতের ধূমকেতু এবার ভগবানের হাতের অগ্নি-মশাল হয়ে অন্যায় অত্যাচার দগ্ধ করবে...”।

    - কদিন পরে ১৬ই জানুয়ারি বিচারে তাঁর একবছর কারাদণ্ড হয়েছিল। এই সময় হুগলীর জেলে বন্দীদের উপর অত্যাচার ও তাদের দুরবস্থা দেখে তিনি আটত্রিশ দিন অনশন করেছিলেন। সাড়া পড়ে গিয়েছিল সারা বাঙলায়। রবীন্দ্রনাথও টেলিগ্রাম পাঠিয়েছিলেন স্নেহধন্য নজরুলকে।

    তবে রাজনীতিতে জড়িয়ে ব্রিটিশরা তাঁকে আরো একবার কারাদণ্ড দিয়েছিল ১৯৩০ নাগাদ। তাঁর মোট পাঁচটি বই নিষিদ্ধ করেছিল।

    আরও পড়ুন
    অমৃত  - Lipikaa Ghosh
    আরও পড়ুন
    মালিক - Chayan Samaddar


    ১৯২৩ এ হুগলির জেল থেকে ফেরার পর হুগলিতেই থাকতে গেলেন সপরিবারে। সেখানে থাকাকালীন সক্রিয় ভাবে রাজনীতিতে অংশ গ্রহণ করলেন। ১৯২৪এ হুগলীতেই গান্ধিজির সঙ্গে একটি সভায় সাক্ষাত্ হয়েছিল তাঁর। তবে গান্ধিজির দ্বারা খুব বেশি অনুপ্রাণিত হতে পারেন নি। তিনি ব্যক্তিগত ভাবে সশস্ত্র আন্দোলনে বিশ্বাসী ছিলেন।

    তাই গান্ধিজির ও অসহযোগ আন্দোলনের বিরোধিতা না করে আবার এও লিখেছিলেন -

    “সুতা দিয়ে মোরা স্বাধীনতা চাই বসে বসে কাল গুনি।
    জাগোরে জোয়ান! বাত ধরে গেল মিথ্যার তাঁত বুনি।”

    সাহিত্যচর্চা করতে করতেই রাজনীতির সক্রিয় সদস্য হয়েছিলেন। তিনি বঙ্গীয় প্রাদেশিক কংগ্রেসের সদস্য হয়েছিলেন। ১৯২৫ এর নভেম্বর নাগাদ কুতুবউদ্দিন আহমদ, হেমন্ত সরকার, সামসুদ্দিন হুসেন প্রমুখ মিলে একটি দলও গঠন করেছিলেন প্রথমে এর নাম ছিল “লেবার স্বরাজ পার্টি” এটি তখন জাতীয় কংগ্রেসের একটি দল ছিল। এই দল গঠণের পর “লাঙল” নামে সপ্তাহিক পত্রিকা বের করেছিলেন ডিসেম্বর থেকে। এখানেই তাঁর “সাম্যবাদী, “কৃষকের গান” প্রকাশিত হয়েছিল।

    ১৯২৬ এ পুরোপুরি রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েছিলেন। এই সময় কৃষ্ণনগরে এসেছিলেন সপরিবার। গ্রামে গ্রামে ঘুরে কৃষক, শ্রমিকদের সঙ্গে মিশে তাদের ঐক্যবদ্ধ করার জন্য বক্তৃতা দিতে শুরু করলেন। এলাকার ছাত্রদের নিয়ে স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী গড়ে উঠেছিল, তাঁদের তিনি কুচকাওয়াজ শেখাতেন। কৃষ্ণনগরের ছাত্র সম্মেলনে তরুণদের দেশপ্রেমে উজ্জীবিত করতে যে উদ্বোধনী সঙ্গীত লিখেছিলেন তা তখন সকল তরুণের মুখে মুখে ফিরত-“চল চল চল/ ঊর্ধ্ব গগনে বাজে মাদল/ অরুন্ প্রাতের তরুন দল,
    চল রে চল রে চল”।
    তিনি কৃষ্ণনগরের সবার প্রিয় “কাজীদা” হয়ে উঠেছিলেন। ঐ বছরেই বঙ্গীয় প্রজা সম্মিলনী সহ বেশ কয়েকটি অধিবেশনও যোগ দিয়েছিলেন।

    ১৯২৬ এ ঢাকা বিভাগ থেকে কেন্দ্রীয় আইন সভার নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন নজরুল ইসলাম। তাঁর জনপ্রিয়তা কাজে লাগাতে চেয়েছিল কংগ্রেসের স্বরাজ দল। মুসলমানদের জন্য দুটো আসন সংরক্ষিত ছিল, ভোটার সংখ্যা ছিল ১৮১১৬ জন। তখন সম্পত্তির উপর ভোটদানের অধিকার মিলত। সেই নির্বাচনে মোট পাঁচ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। বিধান চন্দ্র রায় তাঁকে সহযোগিতা করেছিলেন অর্থনৈতিক ভাবে, কিছু অর্থ দিয়ে। কিন্তু তাঁর বন্ধু স্থানীয় কেউ চাননি তিনি এই নির্বাচনে অংশ নিন। তিনি ফিরে আসতে পারেন নি। নির্বাচনে জিততেও পারেন নি। হিন্দু মেয়েকে বিয়ে করার প্রভাব নির্বাচনে পড়েছে কিনা তা নিশ্চিত করে না বলা গেলেও কিছুটা অনুমান করাই যায়।

    তবে কবি, গায়ক, গীতিকার হিসাবে জনপ্রিয়তা তাঁর কম ছিল না। বরং সমসাময়িক সাহিত্যিকদের থেকে বেশ এগিয়েই ছিলেন।  প্রথম থেকেই তিনি সব স্তরের মানুষের কাছে প্রিয় হয় উঠেছিলেন, ঠিক যেমন সেনাবাহিনীতে থাকার সময় কবিতাআবৃত্তি ও গানগেয়ে সবার প্রিয় হয়ে উঠেছিলেন। আবার কলকাতায় এসে “ভারতীর আড্ডা”, “গজেনদার আড্ডা”, “বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য পত্রিকার আড্ডা” এমন অনেক আড্ডায় তিনি মধ্যমণি হয়ে উঠেছিলেন। তাঁর রচনাগুলি উৎকর্ষতার দিক থেকে হয়ত সব সময়  শিখর ছুঁতে পারেনি। অনেক সমালোচনাও হয়েছে তাঁর লেখার মান নিয়ে। কিন্তু যে বাংলার মানুষ রবীন্দ্রনাথকে সসম্মানে মাথায় করে রেখেছে, তারাই নজরুলকে ভালোবেসে বুকের মধ্যে রেখেছে। তাঁর জনপ্রিয়তা এমনি ছিল যে চটকলের শ্রমিকরাও তাঁকে তাদের আড্ডায় নিমন্ত্রণ করত। তারা তাঁর জন্মদিন পালন করত। রাজনীতির মাঠে বিত্তশালীদের ভোট না পেলেও সাধারণ মানুষের ভালোবাসার ভোট তিনি চিরকাল পেয়ে এসেছেন।  পরাধীন ভারতের তৎকালীন স্বাধীনতা সংগ্রামীদের সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করেছিল তাঁর রচনা। সে গল্প হোক বা কবিতা বা প্রবন্ধ। তিনি নিজেও কৃষকদের সঙ্গে নিজেকে একাত্ম করেছিলেন, তাদের  বিদ্রোহী হবার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন,  লিখেছিলেন - “ওঠ রে চাষী জগৎ বাসী ধর কসে লাঙ্গল / আমরা মরতে আছি, ভালো করেই মরব এবার চল।”

     শ্রমিক কৃষকদের জন্য ইন্টারন্যাশনাল সঙ্গীতটির বঙ্গানুবাদ করেছিলেন নজরুল ইসলাম মুজফফর আহমেদের অনুরোধে। জনৈক ফরাসি শ্রমিক ও কবি ইউজিন এদিন পোতিয়ে গানটি লিখেছিলেন। সুর দিয়েছিলেন পিয়ের দ্য গিটার।  বহু ভাষায় গানটি অনুবাদ করা হয়েছে কিন্তু গাওয়া হয় একই সুরে। আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংগঠনকে বিশেষভাবে ফুটিয়ে তোলে এই গান । বিশ্বশ্রমিক সম্মেলনে মোট চল্লিশটি দেশ তাদের ভাষায় একসঙ্গে গানটি একই সুরে গায়। সেই গানের বাংলা অনুবাদ করলেন “গণবাণী”র জন্য । ইংল্যান্ডের ভার্সান না পেয়ে আমেরিকান ভার্সন (নাট্যকার অপটন সিং ক্লেয়ারের “Hell: a Verse Drama" নাটিকা) থেকে অনুবাদ করেদিলেন।

    তাঁর পরে অনেকে অনুবাদ করেছেন কিন্তু তিনি ৩৭ নম্বর হ্যারিসন রোডের অফিসে বসে যে অনুবাদ করেছিলেন তা আজও সর্বশ্রেষ্ঠ। তিনি "অন্তর ন্যাশনাল সঙ্গীত" নাম দিয়ে লিখেছেন

    “জাগো-
    জাগো   অনশন-বন্দী উঠরে যত
                 জগতের লাঞ্ছিত ভাগ্যহত।
    যত      অত্যাচারে আজি বজ্রহানি
    হাঁকে    নিপীড়িত-জন-মনমথিত বাণী,
    নব        জনম লভি অভিনব ধরণী
    ওরে     ঐ আগত।
    আদি    শৃঙ্খল সনাতন শাস্ত্র- আচার
    মূল     সর্বনাশের; এরে ভাঙিব এবার।
    ভেদি    দৈত্য -কারা
    আয়    সর্বহারা
    কেহ    রহিবেনা আর পরপদ আনত।

    কোরাস:- নব ভিত্তি পরে
    নব   নবীন জগত হবে উত্থিত রে।
    শোন  অত্যাচারী! শোন রে সঞ্চয়ী।
    ছিনু   সর্বহারা, হব সর্বজয়ী।
    ওরে   সর্বশেষের এই সংগ্রাম মাঝ
    নিজ   নিজ অধিকার জুড়ে দাঁড়া সবে আজ।
    এই    ‘অন্তর ন্যাশনাল সংহতি’রে
    হবে    নিখিল মানবজাতি সমুদ্ধত।”

    অনুবাদটি ১৯২৭ এর ২১শে এপ্রিল গণবাণীতে প্রকাশিত হয়েছিল। বাংলার মজুরের কানে সে গান পৌঁছানোর জন্য তিনি নোটেশনও খুঁজেছিলেন। কিন্তু তখন তিনি পান নি। তাই শোনাতে পারেননি তাদের।

    ১৯২৬ এর নির্বাচনে পরাজয়ের পর সক্রিয় রাজনীতি থেকে অনেকটাই সরে এসেছিলেন। তিনের দশক থেকেই মন দিয়েছিলেন সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে। তিনি একদিকে যেমন তিন হাজারের বেশি গান রচনা করেছেন, তেমনি তাতে সুর দিয়েছেন, গ্রামফোনে রেকর্ড করেছেন, বাংলায় গজল গেয়েছেন। বেতার চলচ্চিত্র সবখানেই যাতায়াত করে কৃতিত্বের ছাপ রেখেছেন। গেয়েছেন সাম্যের গান - যার অভাবে তখন সমাজ আর রাষ্ট্র ধুঁকছিল। এই সময় কলকাতায় সাম্প্রদায়িক অসন্তোষ দেখা দিলে তিনি অসন্তোষ সামনে রেখে লিখেছিলেন - “কাণ্ডারী হুঁশিয়ার”, “পথের দিশা”। ১৯২৬ এ “মন্দির ও মসজিদ” এবং “হিন্দু–মুসলমান” নামে দুটি প্রবন্ধও লিখেছিলেন। এই ঘটনা ব্যথিত কবি গান আর কবিতার মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ভাবনা। ১৯২৭ এর জুলাই এ আবার “পথের দিশা”-য় নতুন কাউকে খুঁজেছেন যে জাতিকে পথ দেখাবে -

    “ভগবান আজ ভূত হ’ল যে প’ড়ে দশ-চক্র ফেরে,
    যবন এবং কাফের মিলে হায় বেচারায় ফিরছে তেড়ে!
    বাঁচাতে তায় আসছে কি রে নতুন যুগের মানুষ কেহ?
    ধুলায় মলিন, রিক্তাভরণ, সিক্ত আঁখি, রক্ত দেহ?
    মসজিদ আর মন্দির ঐ শয়তানদের মন্ত্রণাগার,
    রে অগ্রদূত, ভাঙতে এবার আসছে কি জাঠ কালাপাহাড়?
    জানিস যদি, খবর শোনা বন্ধ খাঁচার ঘেরাটোপে,
    উড়ছে আজো ধর্ম-ধ্বজা টিকির গিঁঠে দাড়ির ঝোপে!”

    কখনো উদাত্ত কণ্ঠে গেয়েছেন হিন্দু মুসলমানের গান -
    “একই বৃন্তে দুটি কুসুম হিন্দু মুসলমান / মুসলিম তার নয়নমনি হিন্দু তাহার প্রাণ”

    কখনো জাত পাতের বিরুদ্ধে গিয়ে বলেছিলেন -
    “জাতের নামে বজ্জাতি সব জাত জালিয়াত খেলছে জুয়া / ছুঁলেই তোর জাত যাবে? জাত ছেলের হাতের নয়তো মোয়া”

    ভারতীয় নামের জাতিটাকে উন্নতশিরে দেখতে চেয়েছিলেন। পরাধীনতার গ্লানি নয় স্বাধীনতার আনন্দে সমাজটাকে তিনি প্রেম আর প্রীতি দিয়ে বাঁধতে চেয়েছিলেন। তাঁর কলম থেমে যাবার আগে পর্যন্ত যেমন রাজরোষ তাঁর পিছু ছাড়েনি, বারবার তাঁর বই বাজেয়াপ্ত করেছে, তাঁকে জেলে ভরেছে, তেমনি সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও নতুন সমাজ গঠনের ভাবনাও তাঁকে ছাড়েনি। তিনি স্বপ্ন দেখেগেছেন এক কাণ্ডারী আগমনের। আর রেখে গিয়েছেন দেশের জন্য তাঁর সাম্য ও সম্প্রীতির ভাবনাকে -“গাহি সাম্যের গান/ যেখানে আসিয়া এক হয়ে গেছে/ সব বাধা- ব্যাবধান।/ যেখানে মিশেছে হিন্দু বৌদ্ধ মুসলমান ক্রিসচান/ গাহি সাম্যের গান”
    তাঁর কলম থেমে যাবার পরে যখন ধর্মের ভিত্তিতে দেশ ভাগ হয়ে স্বাধীনতা এসেছে, তাঁর ভাবনা ভাবনাই রয়ে গেছে। আর আজ স্বাধীনতার চুয়াত্তর বছর পরেও যখন মন্দিরে মসজিদে ধাক্কা লাগে, কৃষক আত্মহত্যা করে তখন তাঁর ভাবনাকে আমরা কতটা স্বার্থক করতে পেরেছি সে প্রশ্ন থেকেই যায়।
     

    - লিপিকা ঘোষ

    তথ্যসূত্র :
    ১) স্বাধীনতা সংগ্রামে নদীয়া
    ২) বাংলা সাহিত্যে নজরুল
    ৩) কাজী নজরুল ইসলাম
    ৪) নজরুল চরিত মানস।
  • বিভাগ : আলোচনা | ২৯ আগস্ট ২০২১ | ৩৪৬ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। পড়তে পড়তে প্রতিক্রিয়া দিন