• হরিদাস পাল  গপ্পো

  •  দেখো আমি বাড়ছি না মাম্মি 

    gargi bhattacharya লেখকের গ্রাহক হোন
    গপ্পো | ০৮ মে ২০২১ | ১২৭৮ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • - তোর বাড়িটা দেখছি পাখিদের মেটারনিটি হোম হয়ে গেছে – চোখ টিপে আমার বাল্যবন্ধু বলল, তারপর চোখটা আরো টিপে বলল – বুইলি, আমার মনে হয় দরজায় নেমপ্লেটে ‘ডা.’ দেখে তোকে ডাক্তার ঠাউরেছে, তাই এত ভিড় এখানে।

     

    কিন্তু আমার ডিগ্রি নিয়ে এই গল্প নয়, এখানে আদৌ কোনো গল্প আছে কিনা কে জানে! কিংবা হয়ত আছে, এক চিরাচরিত কাহিনী, যার নড়নচড়ন নেই, আদি-অন্ত নেই, কূটস্থ, সদা নিত্য।

     

    ছোট্ট ফ্ল্যাটে বারান্দা একফালি, তাতে অ্যালামণ্ডা, অপরাজিতা, মানিপ্ল্যাণ্ট – এইসব টবে বসিয়ে মনের সুখে ঘরকন্না করছিলুম, হঠাৎ দেখি পাখিদের আগমন ঘটতে শুরু করেছে – পায়রা, ঘুঘু, টুনটুনি, আর বুলবুলি। একা নয়, জোড়ায় এবং পোয়াতি। সকলেই চায় ঘর বাঁধতে। গত বছর বুলবুলি বাসা করে তিনটি ছানার জন্ম দিয়েছিল। সেই বাসাটা ফেলি নি, অ্যালামণ্ডার লতায় পাতায় দিব্যি ছিল। এবছরে আবার দেখি একসেট বুলবুলি এসে ডিম পেড়েছে সেখানেই (গত বছরের জোড়াটাই কি? নাকি যারা জন্মেছিল?)।

     

    প্রথম প্রথম ভালোই চলছিল, আমিও সক্কাল সক্কাল উঠে মন্দিরে মাথা ঠেকানোর মতো করে তাদের দেখতে যেতুম, ওরাও কিছু বলত না। মুশকিল হল ছানাদের ডানা গজালে, তারা উড়তে চায়, পুরোটা পারে না। তাদের মা তখন সন্তানদের রক্ষার্থে আমার পুরো ফ্ল্যাট দখল করে নিল, আমাকে নির্বাসনে পাঠাবার তাল করতে লাগল। গোটা ঘরে ‘ট্রর্‌র্‌’ করে ঘুরে বেড়ায়, ডাইনিং টেবিলে বসে আমাকে চোখ রাঙায় আর গাল পাড়ে। গেল যা, আমার বাড়ি, খরচা করে কেনা, দলিল দেখাতে হবে নাকি? মা বুলবুলির সেসবে আগ্রহ নেই দেখলুম, সে ছানাদের ওড়া শেখাতে ব্যস্ত। এমন করে যেদিন তারা উড়তে শিখল, সেদিন ছানা সমেত মা বিদায় নিল।

     

    পরদিন সকালে উঠে দেখি বাসা শূন্য। এক পেয়ালা চা নিয়ে বসে আমি সে শূন্য নীড়ের দিকে তাকিয়ে পাখিদের মায়েদের কথা ভাবছিলাম, আর জীবজগতের সকল মায়েদের সম্বন্ধে একটা থিওরি খাড়া করার চেষ্টা করছিলাম। মা জন্ম দিলে, বড় করলে, বাচ্ছারা কেমন নতুন জীবন শুরু করলে মাকে ছেড়ে দিয়ে ইত্যাদি। বিদ্যুৎ চমকের মতো মনে হল, এ থিওরি আর যেখানেই হোক না কেন বাঙালী মায়েদের সম্বন্ধে খাটবে না। হলফ করে বলতে পারি, বুলবুলি যদি বাঙালী হত তবে, ছানারা উড়তে শিখলেও সেখানেই তাদের বসিয়ে রাখত, নিজে পোকা-টোকা ধরে খাওয়াত, ছানারা বড় হয়ে সঙ্গী/সঙ্গিনী যোগাড় করলে তাদেরকে সে বাসা ছেড়ে দিয়ে গদগদ হয়ে পাশের ডালে বসে ঢুলত, আর মাঝেমধ্যে তীক্ষ্ণ চোখে ছানার সংসার পর্যবেক্ষণ করত, ছানারা খাবার আনতে গেলে তাদের ঘরদোর গুছিয়েও রাখত, পাশের বাড়ির বুলবুলি মায়ের সাথে পিনপিসি করত। মানে এককথায়, এমন সদা আশঙ্কাপ্রবণা, ভয়ঙ্কর রকমের স্নেহপরায়ণা, চিরটাকাল আঁচলের তলায় আগলে রাখার চেষ্টায় অতি প্রযত্নশীলা বাঙালী মায়েদের তুলনা একমাত্র বাঙালী মায়েরাই।

     

    কথা হচ্ছিল দিদি-জামাইবাবুর সাথে। একথা সেকথার পর জামাইবাবু দুঃখ করে বললেন – তোমার দিদির সাথে আমার মায়ের বনিবনাটা কিছুতেই আর হল না।

     

    দিদি রান্নাঘরে চা করছিল। ধাঁ করে ধেয়ে এসে জামাইবাবুর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল – তা আর হবে কীকরে? তাঁর খোকা যে বড় হয়েছে, সেকথা বুঝলে তো? খোকাকে প্লাস্টিকের জাগ থেকে জল দিলে? খোকার শরীর খারাপ করবে। খোকাকে ভাতের থালা কেন তুলতে বললে? ও তো কোনোদিন এসব করে নি, আমি তুলে দিচ্ছি। কেন, খোকা কী ননীর পুতুল, যে সংসারের দুটো কাজ করলে গলে যাবে? যত্ত সব।

    - আহা, সে তো মায়ের চিন্তা হয় বলে।

    - চিন্তা? চিন্তা কেন হবে? আমি কি পর? রীতিমতো বিয়ে করে আনা বউ। তোমার ক্ষতি করাই কি আমার উদ্দেশ্য নাকি, হ্যাঁ?

     

    বাদীপক্ষের এহেন অভিযোগে বিবাদীপক্ষ যথারীতি দুবার খাবি তুলে চুপ করে গেলেন। সেদিকে ভ্রূক্ষেপ না করে দিদি তার কথার এক্সপ্রেস একই গতিতে চালিয়ে গেল – বুঝলি, তখন সবে বিয়ে হয়েছে, দুজনে মিলে বাইকে করে বেরবো, বেলুড় মঠ যাবো। ওমা, বাইকে ওঠার আগে বললেন, শোনো, বাইক চালানোর সময় খোকাকে যেন হঠাৎ করে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরো না, কাতুকুতু দিও না, এক্সিডেন্ট হতে পারে। বোঝ, তুই একবার ভাব সিনটা। - বলে দিদি ফুঁসতে লাগল।

     

    আমি পেটে হাত দিয়ে হাসতে লাগলাম, জামাইবাবু দিদির ক্রোধাগ্নিতে ভস্ম হয়ে যাবার আশঙ্কায় নিজের হাত-পায়ের নখের প্রতি ভয়ানক মনোযোগী হয়ে উঠলেন। তাঁকে রক্ষা করলেন তাঁর শ্বশ্রূমাতা, অর্থাৎ কিনা দিদির মা। সদর্পে প্রবেশ করে নিজ জামাতাকে উদ্দেশ্য করে বললেন - বুঝলে, মাম্পিকে (অর্থাৎ দিদিকে) থাইরয়েডের ওষুধটা রোজ সকালে খালিপেটে খাইয়ে দিও তো, ওর আবার মনে থাকে না, ছোটবেলা থেকে আমিই মনে করে করে সব ওষুধপত্তর খাইয়েছি কিনা। আচ্ছা, থাক বরং, আমিই রোজ ভোরবেলা ছটার সময় ফোন করে মনে করিয়ে খাইয়ে দেব’খন।

     

    জামাইবাবুর নাকের পাটা ফুলে উঠল, সে শাউড়ির অনুপ্রবেশের বিরক্তি চাপার চেষ্টায়, নাকি হাসি চাপার চেষ্টায় – তা বলতে পারব না। কারণ, আমি তাঁকে বলতে শুনেছিলাম একবার - তোমার দিদিকে বিয়ে করেছি বটে, কিন্তু মনে হয় সদাসর্বদা আরো একজন অদৃশ্যভাবে সাথে সাথে চলছে। ঘুমেও নিস্তার নেই।

        

    এহেন অবস্থায়, মঞ্চে কাতুসোনার প্রবেশ। নিজের পঞ্চমবর্ষীয় পুত্রর দিকে তাকিয়ে দিদি হাঁ হাঁ করে উঠল – আর চকোলেট খেতে হবে না, তুই দেখছি একটার পর একটা খেয়ে চলেছিস।

    কাতু পিতার শরণ নিল।

    - ওকে এত বেঁধে-ছেঁদে রাখবার দরকার কি? নিজের মতো থাকতে দাও না।

    - আমার ছেলের দিকে আমি নজর দেব না? আমার ছেলে না? আমি মা না?

    - সেকথা তো আমার মার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য?

    - তুমি কি কাতুর বয়সী নাকি? তোমার তো বিয়ে হয়ে গেছে? আমার ছেলের বিয়ে হলে আমি ফিরেও তাকাবো না।

    - বাজে বকো না, ফিরে তাকাবে না, হুঁঃ –

     

    দর্শকাসনে বসে আমি সুরম্য দৃশ্য উপভোগ করছি – লেগে যা, লেগে যা, নারদ নারদ।

    কিন্তু কাতুসোনা যুদ্ধবিরতি টেনে দিল। ঝটপট দুজনের মাঝখানে গিয়ে প্রতিজ্ঞা করল – আমি বিয়েই করব না। - আরে, এ ছেলের নাম ভীষ্ম হওয়া উচিত ছিল তো।    

    যুদ্ধ খতম হল। মনে হল যুদ্ধ থামানোর ব্যাপারে কাতুর নিয়মিত চর্চা আছে।

     

    মোদ্দাকথা যা বুঝলুম, তা হল এই যে, সর্বকালের বাঙালী মায়েরা, তা সে দিদি হোক, তার মা, বা তার শাশুড়ি হন, যুগ যুগ ধরে এরা সকলে একই ইস্কুলে পড়েছেন, একই টিউশনি থেকে মাতৃত্বের আদব-কয়াদার নোট নিয়েছেন। এবং সেখানে পরম্পরা ধরে রাখারও একটা ব্যাপার আছে। ব্যতিক্রম যে একেবারেই নেই তা নয়, আর সে কথা অস্বীকার করার মত বাড়তি মাথাও আমার কাঁধে নেই, কিন্তু তাঁদের নিয়ে গল্পটা নয়।

     

    আমরা ইউনিভার্সিটিতে ছাত্রী তখন। আমাদের ক্লাশের একটি মেয়ের জোরদার প্রেম চলছে। যথারীতি বাড়িতে জানতে পেরে তীব্র গণ্ডোগোল শুরু হল। তখনকার বাবারা কালের গতিকে পুরোপুরি কমল মিত্র না হলেও আধাআধি কমল মিত্রত্ব তদবধি রক্ষা করতে পেরেছিলেন। তাই কন্যা সংশোধনের ভার পড়েছে মায়ের ওপর। মা খিল দিয়ে পেটান নি বটে, কিন্তু প্রভূত বকাবকি করেছেন। দরজা বন্ধ করে মেয়ে হাপুস নয়নে কাঁদছে, আর ভাবছে সম্পর্কটায় ইতি টানবে কিনা। হঠাৎ দরজা খুলে মায়ের প্রবেশ। মেয়েকে অমন পাগলপারা কাঁদতে দেখে তাঁর বোধহয় দয়া হয়েছিল, কিংবা স্মৃতিগুলি বিস্মৃতির অতল হতে ভেসে উঠেছিল – কে জানে! কিন্তু মা সেদিন তাঁর মনে মনে দোদুল্যমান অবস্থার মেয়েকে দিব্যি পড়ে ফেলেছিলেন। তারপর বললেন – তা বাপু, আমিও তো ভালোবাসার বিয়ে করেছি। বাড়িতে জানতে পেরে আমার মা শিকলি তুলে ঘরে বন্ধ করে রেখেছিল। তা বলে আমি কি থেমেছিলুম? আমার যা করার করেছিলুম, তোর বাবাকে বিয়ে করেছিলুম। (মেয়ের চোখের ধারা ততক্ষণে বন্ধ হয়ে গেছে, সে হাঁ করে গিলছে সব কথা)। তা, আমার তোর ভবিষ্যৎ চিন্তা করার কথা, তাই বললুম, এবার তুই যা করার কর। আমি কি বারণ করেছি? – হতভম্ব মেয়েকে পেছনে ফেলে তিনি বিদায় নিলেন।

    এরই নাম পরম্পরা রক্ষা।

     

    তবে একথা মানতেই হবে, মায়েদের একটা অদৃশ্য স্ক্যানার মেশিন আছে। সে দিয়ে মাথার চুল থেকে পায়ের নখ, মায় ভেতরটা পর্যন্ত পড়ে ফেলা যায়। তারপর সবটা পড়ে নিয়ে ‘আমি কিছুই জানি না’ – এরকম ভাব করার জন্য অভিনয়ের যে নৈপুণ্য লাগে তা আলাদা করে কবে কোথায় শেখানো হয় বলতে পারি নে। কিন্তু যদি কিছু ভাগ্যবশত সেই মেশিনের পরিধিতে না আসে, সঙ্গে সঙ্গে মায়েদের সামাজিক নেটওয়ার্ক সক্রিয় হয়ে ওঠে। আর বাঙালী মায়েদের নেটওয়ার্ক – বিএসএনএল থেকে জিও – সব হার মানবে।

     

    সেই নেটওয়ার্ক তৈরি করা কম খাটুনির নাকি? আত্মীয়স্বজন তো আছেই, নিজের ছেলে/মেয়ের বন্ধু ও বান্ধবীরা কোন অজ্ঞাত সময়ে সে নেটওয়ার্কের অংশ হয়ে পড়েছে, তা তারা নিজেরাও জানে না। ফলে প্রতি মুহূর্তে আপনার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ সেখানে পৌঁছে গেল। আপনি ভাবলেন, কেমন দিলুম! ঘণ্টা। আপনি জানলেনও না আসলে আপনার মাতৃদেবীই আপনাকে দিলেন। প্রয়োজন মতো কান্না-কাটি করার কাঁধ, বা পৃষ্টে দুটি কিল। তারপর, যখন আপনি দেখলেন, মাতা অতি সহনশীল, শান্ত, তখন দুর্বল মুহূর্তে সবটা বলে দিলেন হুড়মুড় করে। ব্যাস হয়ে গেল, এরপর আপনি জানেনও না কী ফেরত আসবে। সান্ত্বনা আসতে পারে, আবার সুদূর ভবিষ্যতে কোনো প্রসঙ্গ ছাড়াই বুমেরাং হয়ে আপনার সকল বলা কথা বিচিত্র রূপ ধরে ফিরে আসতেও পারে। কী আসবে কখন, কোথায়, কেন - সেকথা শুধু সেই দেবীই জানেন।

     

    সন্তান সামলানোর স্ট্রাটেজি বলে কথা। আর তা যে কখনো কখনো মাত্রা ছাড়িয়ে যায়ই যায়, সেটা স্বীকার করতেই হবে। আমার এক বর্ষীয়সী আত্মীয়া সবাইকে জল খাওয়ানোর কাজে নিজেকে সদা ব্যাস্ত রাখেন। অত্যন্ত স্নেহশীলা এই আত্মীয়া বাড়ির যত বাচ্ছা আছে, সকলের পেছনে জলের গ্লাস বা বোতল হাতে দৌড়ে বেড়ান। প্রপাপালিকা তিনি নন, কিন্তু সকলে জল বড় কম খায় - এমন আশঙ্কা কীকরে যেন তাঁর মনে গেঁথে গিয়েছিল।

     

    ছোটরা বড় হল, তাঁর জল খাওয়ানো থামলো না। এমনকী নিজের মেয়ের বিয়ে হয়ে গেল, তাও থামলো না। শুনলুম আমার সেই আত্মীয়া আমার মাকে দুঃখ করে বলছে – বুঝলে অমুকদি, আমার মেয়েটা জল খায় না মোটে। বাপের বাড়িতে এলে, কতবার বলি জল খা, জল খা, কথা কানেই তোলে না। জামাইও জল খায় না গো একদম। তাকেও বলি, জল খাও, জল খাও, গ্লাশে করে এগিয়ে দি, একটুখানি চুমুক দিয়ে খেয়ে রেখে দেয়। - এবার গলা খাটো করে আমার মায়ের দিকে চেয়ে বললেন – সেইজন্য জামাই দেখি বাথরুমও যায় না। আড়াই ঘণ্টা আমাদের বাড়িতে সেদিন বসে রইল, লক্ষ্য করে দেখলুম, একবারও গেল না। কেন বলো তো? জিজ্ঞেস করে দেখবো একবার?

     

     

    আমার মা কী উত্তর দিয়েছিলেন সেকথা এখানে নিষ্প্রয়োজন। তবে বঙ্গজননীরা এতটাও করতে পারেন সন্তানের দুশ্চিন্তায়।

     

    সবশেষে আসি স্বীয় মাতৃদেবীর কথায়। সপ্তাহখানেক আগে তাঁকে জানিয়েছিলাম – তোমায় নিয়ে একটা লেখা লিখবো। নিশ্চিত জানি তদবধি জননী আমার বেশ চাপে রয়েছেন।

     

    খুব সাদাসিধে শিক্ষিত মানুষ একজন, শান্ত, এখনো সুন্দরী, কম কথা বলেন, নিজেকে জাহির করতে খুব অপছন্দ করেন। নিজ পছন্দগুলোকে কবে এই সংসারের জাঁতাকলে আর আমায় মানুষ করতে করতে পেছনে ফেলে এসেছেন নিজেই জানেন না। শুনেছিলাম, বিয়ের আগের শখ হিসেবে একটা হাওয়াইয়ান গিটার তাঁর সাথী হয়ে এই বাড়িতে এসেছিল। কিন্তু বাস্তবের তাপে ক্রমে আলমারির মাথা, তারপর ছাদে আশ্রয় নিয়েছিল, সেখান থেকে রদ্দির দরে কখন বিক্কিরি হয়ে গেল, আর ফেরে নি।

     

    লকডাউনের বাজারে এহেন মাকে ভিডিও কল করতে দেখি, কেবল তাঁর মাথার চুলের একটুখানি দেখা যাচ্ছে, পেছনে বাকিটা দেওয়াল। ওফফফ, প্রতিবার একই গল্প। - মা, ও মা, মোবাইলটা ঠিক করে ধরো, মুখ দেখা যাচ্ছে না যে। - এবারে মোবাইল বিভিন্ন এঙ্গেলে ঘুরতে লাগল, মায়ের মুখ ছাড়া আলমারি, সোফা, পড়ার টেবিল - ঘরের বাকি সব কিছু দৃশ্যমান হল। তাতেই কথা হয় প্রতিদিন, দিনে অন্তত তিনবার। 

     

    তাবলে, আমার মাকে পুরোনোপন্থী বললে চলবে কেন? তিনি ইমেল খুলে প্রিন্ট বার করতে পারেন, স্ক্যান করতে পারেন, মোবাইলে টিভি দেখেন, ওয়েবসিরিজ দেখেন, দরকার মতো সেইসব চ্যানেল অনলাইন সাবস্ক্রাইব করেন। পুরনোপন্থার ক্ষেত্রে কেবল মেয়েদের ভাসান নাচ, মদ খাওয়া, আর পলিটিক্স করা (ভাবুন! বাংলায় আজ একথা কী দুঃসহ) তাঁর অপছন্দের। আমি ধমকে উঠি, এত জেন্ডার ডিস্ক্রিমিনেশান কেন? তিনি আপাতত চুপ করেন।

     

    লোকে মনে করে যে, আমার মতো একজন পুরোপুরি না হলেও, আধাআধি নারীবাদীর মা হিসেবে আমার মা-মানুষটি খুব চাপে থাকেন, আসলে কিন্তু উলটোটা। প্রকৃতক্ষেত্রে আমিই ব্যাপক চাপে থাকি। কেন? ওই যে অদৃশ্য স্ক্যানারটা, যা দিয়ে ছোটবেলা থেকে তিনি আমাকে দিনে গড়ে বারকুড়ি স্ক্যান করে আসেন, এমনকী আমার মনের পেছনদিকটাও পড়ে ফেলেন। তা আমি সামনে থাকি, বা নাই থাকি।

     


    আরও পড়ুন
    দরজা - gargi bhattacharya
    আরও পড়ুন
    মালিক - Chayan Samaddar
    আরও পড়ুন
    প্লাবন - Anirban M

    ফলত, আমার সকল কলিগদের তিনি চেনেন, আমার প্রেম-অপ্রেম সকলই তিনি জানেন, আমার বন্ধুদের, মায় বন্ধুর বন্ধুদের নাড়িনক্ষত্র তিনি মুখস্থ করে ফেলেছেন। কথা মাটিতে পড়তে সময় পায় না, তার আগেই বুঝে যান কার কথা, কী প্রসঙ্গে হচ্ছে। তা বলুন দিকি, আসল চাপে কে আছে?

     

    এবং ফলত, জননী-জন্মভূমি আমার প্রতিটি লেখা ঝপাং করে তাঁর সেই স্ক্যানারে ফেলে স্ক্যান করে ফেলেন চটপট। তারপর, নিদান দেন – এটা তো সেই অমুক সময়ের ঘটনা, ওটা তো তাকে নিয়ে লেখা। আমি মাঝেমধ্যে লজ্জায় পড়ে যাই। আর কী কী জানে রে বাবা? তাহলে কি…?  

     

    স্ক্যান আর রিপোর্ট না মিললে, সরাসরি জিজ্ঞাসা করেন না, ঘুরিয়ে বলেন – বুঝলি, তোর ক-কাকিমা জানতে চাইছিল, এমন ঘটনা কী সত্যি ঘটেছে নাকি? আমি তো বলে দিয়েছি, না ঘটে নি। তাই না? – এদিকে আমি ঠোঁট টিপে থাকি, পাছে সত্যিটা বেরিয়ে যায়।

     

    সমস্যা গভীরতর কবিতার ক্ষেত্রে। সেখানে সকল কথা অমন পষ্ট করে লেখা থাকে না, যায়ও না। অমন ধরা-না-ধরার মাঝেই যে তাদের অবস্থান সে কথা কে আর বোঝাবে? সদ্যোজাত হাতে গরম কবিতা একখান পাঠালেই ফোন – তোর কি শরীর খারাপ? তোর কি মাথা ব্যথা? তোর কি মন ব্যথা?

     

    একটা কবিতায় কী কুক্ষণে লিখেছিলুম, “জাগিয়ে রাখে আমার পাপ”। আমি না দেখেও বলতে পারি সে রাতে মার ঘুম হয় নি। পরদিন প্রভাতকালে ফোনাঘাত – তোর কবিতাটা পড়লাম কাল। ভালোই হয়েছে, আচ্ছা… ওই পাপ শব্দটা কি ভুল করে বসে গেছে?

    - মানে? ভুল করে বসবে কেন?

    - মানে টাইপ করে গিয়ে? অন্য কিছু লিখতে চাইছিলিস কি?

    - অন্য কিছু কী লিখবো? চাপ? তাপ? মাপ? পাপই লিখেছি।

    - ও আচ্ছা, মানে সেটাই আমি জিজ্ঞাসা করছিলাম আর কি।

    বুঝতে পারি, মা আসলে জানতে চাইছেন, পাপ বলতে আমি কী বোঝাতে চাইছি। কী সে পাপ? আর আমি সে পাপ করলুমই বা কবে? সত্যি মা হবার কী জ্বালা।

     

    জ্বালা আমারও কম নয়। রানিং কমেন্টারি চলতেই থাকে দিনভর। স্যাম্পেল-স্বরূপ -

    - কী খেলি? রোজ একটু দুধ খেলেও তো পারিস। দুচারটে আমণ্ড বাদামও খেলেও চলে। নেটে দেখলাম বাদাম খুব উপকারি।

    - চিংড়িমাছ কিনলি? লাউ দিয়ে খেতে খুব ভালো লাগে, কিন্তু দেখ তোর আবার সহ্য হবে কিনা।

    - তোর বাড়িতে দেখে এসেছি জলের বোতলগুলো পুরনো হয়ে গেছে, সেগুলো পালটাতে হবে, কবে পালটবি?

    - হাঁটতে যাচ্ছিস? বাঃ, বেশ ভালো, তবে বেশি হাঁটলে পায়ে ব্যথা করবে যে? বরং রোজ একটু ব্যায়াম করেলে তো পারিস?

    - বাড়িতে ব্যায়াম করছিস? বাহ্‌ বাহ্‌। কিন্তু দেখিস, একা একা করতে গিয়ে লেগে যেন না যায়।

    - কাকে ফোন করছিলিস? কলিগদের? বন্ধুকে? তোর সেই বন্ধু যার তিনবার ব্রেক-আপ হল, তার খবর কী?

    - কী করছিস? পড়ছিস? এত কী পড়িস? মাথাটা একটু রেস্টও তো দিয়ে হয়। একটু সিনেমা দেখলেও তো পারিস? টিভি তো চালাস না, মাসে মাসে পয়সা গুনিস শুধু। তা, ওয়েবসিরিজ দেখলেও তো হয়?

    - তুই দেখছি আজকাল কালো হয়ে যাচ্ছিস। একটু নিজের যত্ন-আত্তি করলেও তো পারিস?

    - ফটোটা দেখলাম তোর, মুখটা বড্ড সাদা লাগছে। নির্ঘাত অ্যানিমিয়া হয়েছে।

     

    সবচেয়ে মজার যেটা সেটা হল, আমার কোনো পরীক্ষা নেবার থাকলে, পরীক্ষার পরে গুচ্ছ খাতা সঙ্গে করে ফিরলে মাতা আকুল হয়ে জিজ্ঞেস করেন - কী রে তোর পরীক্ষা কেমন হলো?

    কেমন করে বোঝাই, আমি আর পরীক্ষার্থী নই, এখন পরীক্ষক। মা আমি বড়ো হয়ে গেছি। 

     

     

     

    এত পর্যন্ত লিখেছি, দেখি সেই বন্ধু ফোন করে খবর নিচ্ছে – কীরে, তোর পাখি আর পাখির ছানাদের কী সংবাদ?

    - সংবাদ কিছু নেই। তারা ফুররর হইয়াছে। আচ্ছা শোন, একটু হেল্প কর তো। তোর মাকে নিয়ে –

    - মার কথা আর বলিস না। যা ঘ্যানঘ্যানে হয়েছে না। এখন বাই উঠেছে, কাজের লোক রাখা চলবে না। রোজ পাঁচ মিনিটের ফোন, তাতেও মাথা ধরে যায়।

    - আচ্ছা, যদি তোকে সবটা মিলিয়ে বলি মাকে নিয়ে এক লাইনে কিছু বল, কী বলবি?

    ওপারে অসীম নিস্তব্ধতা ঘর করল। আধমিনিট পর দেখি, বন্ধুর গলা পালটে গেছে।

    - না রে, কিছু বলবার নেই এককথায়। যদি বলতেই হয়, তবে বলব, মার কাছে সেসব কথা আজও বলতে পারি, যা আর কাউকে পারি না। বাড়ির লোকটিকে না, তোকে না, কাউকে না। মাকে পারি। মাও যে সেসব সমস্যার সমাধান করে উঠতে পারে তা নয়, শোনে মন দিয়ে, দুটো এদিক ওদিকের কথা বলে রেখে দেয়। তাতেই শান্তি।

     

    ফোনটা আস্তে করে কেটে গেল।

     

    আরেকটা ফোন আসার সময় হয়েছে। রাত সাড়ে দশটা বাজতে চলল। এসময় মার রোজকার বরাদ্দ তৃতীয় ফোনটা আসে। প্রতিদিন একই প্রশ্ন – খেয়েছিস? এবার ঘুমোবি? নাকি আরো পড়বি? রাত করিস না আর। কাল সকালে ক্লাশ আছে তো?

     

    উত্তরগুলো ঘুরিয়ে ফিরিয়ে এক। তবু রোজ আসে ফোনটা। এই অতিমারির দিনে, ঝড়জলের দিনে, রোদ উঠলে বা না উঠলে, আমি সাড়া দিলে বা না দিলে – একদিনও থামে নি। থামলে আমার সামনে অপ্রতিরোধ্য অন্ধকার।

     

     

    সহসা মনে হল, আমি কি কখনো পাল্টা জিজ্ঞেস করেছি – মা তুমি খেলে? তোমার অত ওষুধ, সেগুলো খেলে? কে জানে কোনোদিন জিজ্ঞাসা করেছি কিনা? আজ করব। আর বলব - মা বাইরের পৃথিবীটা বড় কষ্টের। আমি বড়ো হতে চাই না।   

     

    [সমাপ্ত]

     

    [গল্প বা রম্য লেখার ক্ষেত্রে চিঠির মতো পুনশ্চ যোগ করা যায় কিনা জানি না, কিন্তু এটুকু না বললেই নয়। সেদিন রাতে নিয়মিত প্রশ্নগুলোর পর যেই আমার গুছিয়ে রাখা সংলাপটা গলা কাঁপিয়ে বলব বলে তৈরি হচ্ছি, অমনি দেখি মাতৃদেবী সন্দিগ্ধ স্বরে জিজ্ঞাসা করলেন – তোর সেই লেখাটা কতদূর রে? ওই যে, যেটা নাকি আমাকে নিয়ে লিখছিস? কী আর লিখবি, লিখবি তো যে আমি সারাক্ষণ তোর পেছনে টিক্‌টিক্‌ করি। তা লেখ। তবে, অমুক মাসি, তমুক দিদি – এদের নিয়ে লিখলে তারা যদি রেগে যায়, আমি কিন্তু কিছু করতে পারবো না, বলে দিচ্ছি।

    বিস্মিত, বাক্‌রুদ্ধ, বিপদের দিনে আঁচলের নীচে আশ্রয়গ্রহণকারিণী বঙ্গতনয়াকে আরো চমৎকৃত করে বঙ্গজননী টুক করে ফোনটি কেটে দিলেন।]

     

     

     

     

     

                 

         

     

         

     

  • বিভাগ : গপ্পো | ০৮ মে ২০২১ | ১২৭৮ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • নন্দিতা ঘোষ | 103.121.116.251 | ০৮ মে ২০২১ ১৬:৫৮105712
  • দারুন লাগল পড়ে। নিজের মনেই হাসছিলাম । খুব চেনা মানুষ দের নিয়ে লেখা তো।

  • :|: | 174.255.132.81 | ০৯ মে ২০২১ ০৪:৪৯105722
  • হেপ্পি মাদার্স ডে! 

  • Amit | 220.244.155.140 | ০৯ মে ২০২১ ০৬:৪১105724
  • ঘর ঘর কি কাহানি। 


  • গবু | 42.110.136.16 | ০৯ মে ২০২১ ০৮:৩৫105731
  • বাঃ ভালো লাগলো।

  • বাভ্রবী | 2402:3a80:1f0a:80b1::cb:3106 | ০৯ মে ২০২১ ০৯:৫১105741
  • খুব সুন্দর লাগলো...☺️

  • প্রভাতী | 2409:4061:2d93:ed14:67e3:31d4:3ce3:eb35 | ০৯ মে ২০২১ ১০:৪১105743
  • খুব ভালো লাগলো পড়ে...

  • প্রীতি | 2409:4061:2ec1:f604:b196:309e:cccf:c588 | ০৯ মে ২০২১ ১০:৪৪105744
  • সত্যিই খুব ভালো লাগল পড়ে

  • গার্গী | 14.140.229.202 | ০৯ মে ২০২১ ১১:২৬105749
  • ভালো লাগল বলে আমারও খুব ভালো লাগল।

  • | ০৯ মে ২০২১ ১৫:২৬105763
  • আমিই বোধহয় একমাত্র যার এরকম কন্ট্রোল ফ্রিক মায়েদের নিয়ে অস্বস্তি আছে, খানিকটা বিরক্তিও। সন্তানকে কিছুতেই অ্যাডাল্ট ভাবতে না পারাটা  কেমন যেন। 


     সাধারণভাবে মায়েদের এই ইমেজ খুব জনপ্রিয়। সেদিক থেকে লেখাটা সার্থকভাবেই ছবি ফুটিয়ে তুলেছে। 

  • Shreya | 122.176.67.39 | ০৯ মে ২০২১ ২২:৩৩105787
  • I am reading this story for the 3rd টাইম ...alada alada audience

আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লড়াকু মতামত দিন