• বুলবুলভাজা  ভোটবাক্স  বিধানসভা-২০২১  ইলেকশন

  • মুর্শিদাবাদের মুসলিম ভোট: খণ্ডচিত্রে

    মৌসুমী বিলকিস
    ভোটবাক্স | বিধানসভা-২০২১ | ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | ১১০৯ বার পঠিত | ১ জন)
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • আসাদুদ্দিন ওয়াইসি-র দল ‘অল ইন্ডিয়া মজলিশ-ই ইত্তেহাদুল মুসলিমিন’ (এআইআইএমআইএম বা সংক্ষেপে এমআইএম) ২০১৯ সালে বিহার উপনির্বাচনে ৫টি আসন জিতে সাড়া ফেলে দিয়েছিল। ২০২১ সালের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোটেও লড়ার কথা জানিয়েছে দলটি। ফুরফুরা শরিফের পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকির সঙ্গে জোটের লক্ষে এমআইএম- প্রধান আসাদুদ্দিন ওয়াইসি সাক্ষাৎও করেছেন। মুর্শিদাবাদ জেলার মুসলিম জনতা কী ভাবছেন? তারই হদিশ খুঁজলেন মৌসুমী বিলকিস।

    ১। চায়ের দোকান। বাবলাবোনা। ডোমকল।
    কথোপকথনে রুহুল বিশ্বাস (৪২), ভাগচাষি। আজিজুল মণ্ডল (৪৫), ভাগচাষি। আসরাফুল মণ্ডল (৫০), ক্ষুদ্র চাষি। হান্নান মণ্ডল (৬০), পাট ব্যবসায়ী।

    আসাদুদ্দিন ওয়াইসি-কে চেনেন বা জানেন?
    : না, চিনি না। দেখিনি কোনওদিন।
    টিভির খবরে দেখেছেন?
    : না, দেখিনি।
    ওনার এমআইএম পার্টির কাজকর্ম এদিকে দেখা যায়?
    : আমাদের এদিকে আসেনি।
    : টিভিতে দেখা যায়।
    : টিভিতে দেখা যায় (বক্তাকে)? টিভিতে দেখা যায় বলছে (প্রতিবেদককে)!
    যদি এমআইএম পার্টির মিছিল এদিকে বেরোয়?
    : তাহলে মার খাবে।
    : আমাদের এখানে তৃণমূল, কংগ্রেস আর সিপিএম- এছাড়া আর কোনও পার্টি নাই।
    আর বিজেপি-র মিছিল হলে?
    : বিজেপি-ও মার খাবে।
    কিন্তু কিছু কিছু গ্রামের কোনও কোনও বাড়িতে বিজেপি-র পতাকা উড়ছে দেখা গেল।
    : আমি বিজেপি ধরে নেন (নিজের দিকে নির্দেশ করে)। এই কথা কেন বলছি? চোরাগোপ্তা থাকবেই। ওটা আলাদা জিনিস। কিন্তু প্রকাশ্যে নাই।
    মিম পার্টি প্রার্থী দিলে এদিকের মুসলিমরা ভোট দেবে?
    : (একাধিক স্বর একসঙ্গে) না।
    : সিপিএম, তৃণমূল আর কংগ্রেস এই তিন পার্টির নড়ন-চড়ন হচ্ছে। এর বাইরে আর কেউ ভোট পাবে না।
    কেন?
    : ওদের নীতি খারাপ তার জন্য।
    : ওরা বিহারে ভোট নষ্ট করল। ওখানে এমআইএম পার্টিকে ভোট দিয়ে কী লাভ হয়েছে? বিজেপি-র লাভ হল।
    : মুসলমানের ক্ষতি হয়েছে।
    : এখানে এমআইএম পার্টির জায়গা নাই।
    এমআইএম পার্টি মুসলিম জনগণের ভালর জন্য ভোটে লড়ছে শোনা যাচ্ছে?
    : তা করবে না। কী ভাল কাজ করেছে ওরা? ওদের ভাল কাজ এখন অব্দি দেখিনি।
    : মানুষ এখন এমআইএম পার্টির কাজ বুঝে গেছে। ভাল যখন করবে তখন দেখবে, বুঝবে, ভোট দেবে। আপাতত এই ইলেকশনে ওদের ভোট হবে না।
    : মানুষ আগে বুঝবে, বুঝে ভোট দেবে। এবারকার ভোট এত সহজ না।
    যে কোনও বিষয়ের প্রথম দিকে এখন পর্যন্ত কোনও মুসলিম ছেলেমেয়েকে কম দেখা যায়। এইসব জায়গায় মুসলিম জনতার পৌঁছতে কোনও পার্টি সাহায্য করতে পারে?
    : পার্টি থেকে হয় তাই? সব জনগণের, মানে সবারই সবকিছু দরকার আছে।
    : না না, পার্টি থেকেই তো হয়। হিন্দুরাও পারবে না, মুসলমানরাও পারবে না।
    : আমাদের ডোমকলের জনকল্যাণ মাঠে একবার বামফ্রন্টের মিটিং হয়েছিল… তাতে রেজ্জাক মোল্লা বলেছিলেন, ‘ভারতবর্ষে কি মুসলিমের যোগ্যতা নাই মুখ্যমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার? কেন হতে পারে না?’ তারপর থেকেই কিন্তু রেজ্জাক মোল্লা রাগ করে নেমে গেছেন।
    এমআইএম পার্টি মুসলিমদের উন্নতি করবে?
    : কী উন্নতি হবে? কেউ কিছু দেয় না।
    : যত টাকাপয়সা তো মমতা সরকারই দিল। ভুল কথা বললে তো হবে না। ‘কন্যাশ্রী’, ‘রূপশ্রী’… যত টাকা মমতা সরকারই দিল। আগে কেউ পেয়েছে? ৩৫ বছর বামফ্রন্ট রাজত্ব করেছে, কেউ দশ টাকা পেয়েছে?

    ২। রাস্তা। বরফখানা গ্রাম। প্রসাদপুর অঞ্চল। জিয়াগঞ্জ।
    কথোপকথনে সাবের আলি শেখ (৩৭), দিনমজুর।

    : এই যে ‘কন্যাশ্রী’, ‘রূপশ্রী’… আপনাকে যদি বসে বসে টাকা, চাল-ডাল দিই সেটা মঞ্জুর করবেন না আপনাকে যদি কাজ দিই… কাজ করে রোজগার করবেন সেটা মঞ্জুর করবেন? বলুন? (লেখককে)
    আপনারা কোনটা চাইছেন?
    : আমরা চাইছি কর্ম… কাজ চাইছি। দু টাকা কেজি চাল, পাঁচ টাকা কেজি ডাল… এসব চাই না, কাজ চাই (উত্তেজিত)।
    এমআইএম পার্টি এসব সমাধান করতে পারবে?
    : সেটা ভাবছি না। ভাবছি আরেকটা নতুন পার্টি যদি আসে তাহলে উপকার হবে। সাধারণ মানুষের যেটায় উপকার হবে সেই পার্টিতেই আমরা যাব।
    এই গ্রামে হিন্দু-মুসলিম সবাই বাস করেন?
    : না ম্যাডাম, এখানে সবাই মুসলিম।
    ফুরফুরা শরিফ বিষয়ে জানেন?
    : না ম্যাডাম। আমরা যাইনি কখনও। নাম শুনেছি। ব্যাস, ওই টুকুই।
    এমআইএম পার্টি মুসলিমদের উন্নতি করবে?
    : এটা আসলে মানুষের ভুল। এই পার্টি সবাইকে নিয়ে চলার চেষ্টা করছে… পিছিয়ে পড়া মানুষ যেমন দলিত, আদিবাসী বা মতুয়া…
    দলিত, আদিবাসী, মতুয়া এঁদের সঙ্গে এমআইএম পার্টির কী সম্পর্ক?
    : এরা চাইছে পিছিয়ে পড়া মানুষকে নিয়ে কাজ করবে, সবাই যাতে সমান অধিকার পায়।
    কিন্তু সবাই বলছে বিহারের নির্বাচনে এমআইএম পার্টি বিজেপি-র সুবিধা করে দিয়েছে।
    : না, এই ভাবনা ভুল। বিহারের কিষানগঞ্জে বিজেপির থেকে এমআইএম পার্টি বেশি ভোট পেয়েছে।
    এমআইএম পার্টির হয়ে এতকিছু বলছেন, আপনি কি এমআইএম-এর সদস্য?
    : না, আমি সাধারণ মানুষ।
    এখানে এমআইএম পার্টির পতাকা দেখছি। সংগঠন আছে?
    : নিশ্চয় আছে। নাহলে পতাকা উড়বে কেন? মিটিং হয়েছে। আবার হবে। মিছিলও হবে। তাতে বাধাবিঘ্ন সবই হচ্ছে। আগামী দিনে মিম পার্টি এখানে খাড়া হবে। এটাই আশা করছি।



    ৩। চায়ের দোকান। রসুলপুর। ডোমকল।
    কথোপকথনে আনোয়ারা বেওয়া (৬০), দোকানের মালকিন। মিলন (৩০), আনোয়ারার ছেলে।

    : এমআইএম পার্টিও যা, বিজেপিও তাই। একই তো, ওরা দল বাঁধছে। মুসলমানের ক্ষতি করার জন্য দল বাঁধছে।
    : না মা, এমআইএম পার্টি আলাদা, বিজেপি আলাদা পার্টি।
    : না না, তুমি বুঝতে পারছ না। ওরা একজোট হবে।
    এমআইএম পার্টি প্রার্থী দিলে এই এলাকার মুসলিমরা ভোট দেবে?
    : না, মিম পার্টিকে দেবে না। আমরাও দেব না।
    : মা, যতই বল ওরা কিন্তু ভোট পাবে অল্পবিস্তর।

    ৪। চায়ের দোকান। ব্রিজ মোড়। ডোমকল।
    আব্দুল গণি মণ্ডল (৫১)। শ্রমজীবী এবং ক্ষুদ্র কৃষক।

    : সারা ভারতবর্ষের দিক দিয়ে যদি লক্ষ করা যায়… এত হত্যা, ধর্ষণ, মহামারী, এত লুঠ… এতকিছুর পরেও আসাদুদ্দিন ওয়াইসি বলুন আর আব্বাস সিদ্দিকিই বলুন মুসলমানের পক্ষে কেউই দাঁড়ায়নি, তার উপর আরএসএস-বিজেপি-র মতো শক্তিকে আটাকানোর চেষ্টাও করেনি। সেজন্যই এখানকার সাধারণ মানুষ মনে করছে এমআইএম পার্টির সঙ্গে বিজেপি-র গাঁটছড়া সম্পর্কই আছে। যেদিন ২০১৯-এ ১১ ডিসেম্বর পার্লামেন্টে সিএএ আইন পাশ হচ্ছে সেদিন আসাদুদ্দিন ওয়াইসি পার্লামেন্টে সিএএ-এর কাগজ ছিঁড়েও ফেললেন। সেটাও আমরা দেখলাম। কিন্তু এর বার্তাটা কী?
    আসাদুদ্দিন ওয়াইসি বা আব্বাস সিদ্দিকি এখানকার জনগণের জন্য কিছু করবেন মনে হচ্ছে?
    : না না, জনগণের জন্য কোনও নেতারা কিছু করবেন না। জনগণের জন্যে যদি কিছু করতে হয় তো জনগণকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। জনগণকেই ঠিক করতে হবে আমরা কী করব।

    ৫। ব্রিজ মোড়। ডোমকল।
    আব্দুল জলিল (৬৩)। দলিল লেখক।

    : মুসলমানদের জন্য কেউ কিছু করবে না। এরা ভোট ব্যাঙ্ক। ওই ইমাম ভাতাতে কিছু হবে না। প্রাথমিক যেটা দরকার… শিক্ষা, চাকরি… এই সমস্ত মুসলিমদের কে কতটা দিল?
    পাইয়ে দেওয়ার কথা বলছেন?
    : না না, পাইয়ে দেওয়া না… ন্যায্য যেটা… নিজের যতটা অধিকার সেটা তো পাবে?
    ফুরফুরা শরিফ বিষয়ে কী ভাবেন? এখানে কেমন প্রভাব?
    : কিছু ভাবি না। কিন্তু আছে… অনেক লোক আছে যারা ওদেরকে ভাল চোখে দেখে, মুসলিম ধর্মের প্রতিনিধি হিসেবেই দেখে। বাঙালি মুসলিমের ওপর সামান্য কিছু প্রভাব আছে। কিন্তু ফুরফুরা শরিফের ওনারা তো বাঙালি মুসলিম না বোধহয়। হয়তো যুগ যুগ ধরে বাংলায় ওনারা বাস করছেন। কিন্তু ওনারা উর্দুভাষী মুসলিম। আসাদুদ্দিন ওয়াইসিও তাই। ধর্মীয় আবেগ এক হলেও বাঙালি মুসলিমদের সঙ্গে ওনাদের সংস্কৃতির কোনও মিল নেই।



    পুনশ্চ:
    মুসলিম মেয়েদের অধিকার নিয়ে এমআইএম দল ভাবতে পারে?

    কলকাতা
    শাশ্বতী ঘোষ। নারী আন্দোলনকর্মী এবং অধ্যাপিকা।

    : বিজেপি যে তিন তালাক আইন এনেছে আমি তার বিরোধী। কারণ কোনও ধর্মে যদি কেউ তালাক দেয়, কেউ বিবাহ বিচ্ছেদ করে তাকে ক্রিমিনালাইজ করার কোনও জায়গা নেই। কিন্তু এই আইনে তার জেল হবে… এই যে বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা হয়েছে আমার তাতে তীব্র আপত্তি রয়েছে। তালাক হোক, কিন্তু সেটা হোক আদালতের মাধ্যমে- এইটা যদি দলগুলো তাদের কেন্দ্রীয় দাবির মধ্যে আনে… সম্পত্তি, বিবাহ… যেগুলিতে বিচ্ছিন্নতা রয়েছে… হিন্দু মেয়েদের আইনগুলো আছে প্রয়োগ হয় না। যে হিন্দু মেয়েরা সক্ষম, মামলা লড়তে পারে সে অধিকার পেতেও পারে।

    কিন্তু মুসলিম মেয়েদের ক্ষেত্রে সেই আইনগুলোই নেই। এই বৈষম্যের জায়গাটা নিয়ে কোথাও একটা সরব হওয়া দরকার। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নাবালিকা বিবাহ রোধ- এগুলোর সঙ্গে সঙ্গে সম্পত্তি, বিধবা স্ত্রীদের অধিকার এবং তিন তালাকের ব্যাপারটা নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা খুব প্রয়োজন। কিন্তু এটা কোনও রাজনৈতিক দলই, এমনকি তারা যদি নিজেদের ধর্ম নিরপেক্ষ বলে দাবিও করে তাহলেও তারা এই দাবিগুলো তুলবে কিনা সন্দেহ। কারণ এই দাবিগুলো তুললেই মুসলিম জনতার মধ্যে এবং রাজনৈতিক দলের মধ্যে পিতৃতান্ত্রিক ভাবনাগুলোকে, পুরুষ শাসনের ভাবনাগুলোকে জারি রাখার পক্ষে যে সমস্ত লোকেরা রয়েছেন তাঁরা কিন্তু ধর্মে হস্তক্ষেপ করছে বলে রে রে করে উঠবেন এবং যারা এই দাবিগুলো তুলবেন তাঁদের সমাজ বিচ্ছিন্নতা, রাজনৈতিক বিচ্ছিন্নতা শুরু করে দেওয়া খুব সহজ হবে বলে আমার মনে হয়।

    মুর্শিদাবাদ। বহরমপুর।

    খাদিজা বানু। ‘রোকেয়া নারী উন্নয়ন সমিতি’-র সম্পাদক। দরিদ্র মুসলিম মহিলাদের শিক্ষা সংক্রান্ত, আইনি ও স্বনির্ভরতার সহায়তা দান করে সংস্থাটি।

    : সরকারকে যারা টাকা ঢেলে ক্ষমতায় নিয়ে আসে… এই আম্বানি, আদানি, টাটা, বিড়লা, গোয়েঙ্কা… নিজেদের স্বার্থই দেখে। ফলে যতদিন এঁদের স্বার্থে আইন তৈরি হবে কোনও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষের, বিশেষ সম্প্রদায়ের লোকের, বিশেষ সম্প্রদায়ের নারীদের কিচ্ছু ডেভেলপমেন্ট হবে না। তাহলে চাই এই সিস্টেমটার আমূল পরিবর্তন।

    বর্তমান ব্যবস্থাটার নাম হচ্ছে ‘পুঁজিবাদী ব্যবস্থা’, পুঁজিপতি শ্রেণির স্বার্থে প্রোডাকশন। এখানকার আইন এমনকি বিচারও তাঁরা ঠিক করে দিচ্ছেন আজকাল। বিচারের মধ্যে দুর্নীতি ঢুকে গেছে, পুলিশ-প্রশাসনের মধ্যে দুর্নীতি ঢুকে গেছে। এবং গোটা দেশে দেখা যাচ্ছে সাধারণ মানুষের জন্য যে পণ্য পরিষেবা- শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, চাকরি, অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান… এইসব মূল পরিষেবা কোটি কোটি মানুষকে তাঁরা দিতে চান না। যাদের নুন আনতে পান্তা ফুরায় তাদের জন্য কিছু নাই। এরকম একটা সিস্টেম চললে কেউ কখনও ক্ষমতায় এসে আলাদা করে কিছু করতে পারে? পারা সম্ভব? দেশটার চালক হচ্ছে আদানি, আম্বানি-রা। এঁদের পরিবর্তন না করে এমআইএম কী করে পারবে? এমআইএম-এর ক্ষমতা আছে তালাক বন্ধ করা, বহু বিবাহ বন্ধ করা, সম্পত্তিতে সম অধিকার নিয়ে আসা? তাহলে তাকে তো গর্জে উঠতে হবে মুসলিম পার্সোনাল ল-এর বিরুদ্ধে। পারবে এমআইএম? কক্ষণও না।



    ছবি- মৌসুমী বিলকিস
  • বিভাগ : ভোটবাক্স | ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | ১১০৯ বার পঠিত | ১ জন)
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Amit Sengupta | 122.163.59.102 | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ১২:২৮102429
  • মুসলিম ভোট বিজেপি আশা করেনা, পাবো না। এরা চায় এই ভোট তৃণমূল, মিম ও অন্যান্যদের মধ্যে ভাগ হোক। হিন্দু ভোট যেন বেশিরভাগ ওরাই পায়। এই আশঙ্কাজনক ব্যাপারের দিকে যাচ্ছে বাংলা। মিম, ফুরফুরা যত অ্যাক্টিভ হবে তত বিজেপির সুবিধা। কংগ্রেস ও বামেরা যত নিজেদের মুসলিম ও হিন্দু ভোট ফিরে পাবে, বিজেপির লাভ। যতই অপছন্দ করি, তৃণমূল একমাত্র শক্তি যে আটকাতে পারে সাম্প্রদায়িক ফ্যাসিস্ট পার্টিটাকে। 

  • Amit Sengupta | 122.163.59.102 | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ১৩:২৪102433
  • *পাবেনা। পাবোনা নয়। প্রথম লাইন। 

  • শেখর সেনগুপ্ত | 2402:3a80:a64:c86b:6274:35ac:50b3:190a | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ১৩:৫৫102434
  • মিডিয়াতে ২১-এর রাজ্য নির্বাচন নিয়ে এক বাইনারির খেলা চলছে। হয় বিজেপি নয় তৃণমূল।  অমিতবাবু যখন এই সিদ্ধান্তে ইতিমধ্যেই উপনিত হয়ে পড়েছেন যে তৃণমূলই একমাত্র শক্তি যে নাকি বিজেপি-কে রুখতে পারে, তখন সরাসরি বলুন না যে কংগ্রেস  ও বামদের উচিত হয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ  না করা বা নিজ নিজ দলের কর্মী ও সমর্থকদের তৃণমূলকে ভোট দিতে বলা।  তাহলেই তো ল্যাঠা চুকে যায়! নইলে ভোটের পর ত্রিশঙ্কু অবস্থা হলে  গোটা তৃণমূল দলটার বিজেপি-তে বিলীন হওয়ার একটা সম্ভাবনা তো থেকে যাবে।


    বর্তমানে ওয়াশিং পাউডার নির্মার কার্যকলাপ যা দেখছি তাতে কি এরকম আশঙ্কা অমূলক? কী বলেন অমিতবাবু?

  • রমিত চট্টোপাধ্যায় | 202.8.114.50 | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ১৬:৩১102439
  • মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তো নিজেই বলেছিলেন বিজেপি অস্পৃশ্য নয়, বাংলায় স্বাগত। তবে আজ তাদের উল্টো গান কেন ? তাহলে কি একেক সময় একেক দল এদের কাছে অস্পৃশ্য হয়ে যায়। যেমন 2011 তে বামের থেকে খারাপ কেউ ছিল না। আবার আজ যদি মিম সবচে বড় দল হতো তবে তারা অস্পৃশ্য হত। তখন কালীঘাটে হিন্দুত্বের ঝান্ডা উড়ত। যেমন এখন মালদাতে এক ডায়লগ , কালনায় অন্য ডায়লগ শোনা যায়। 

  • Amit Sengupta | 122.163.59.102 | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ১৮:৫১102440
  • সেটাই তো ভয়। সামান্য গরিষ্ঠতা পেলেও তৃণমূল দল রাখতে পারবেনা। জোড়া ফুল ঝেঁটিয়ে পদ্মফুল হয়ে যাবে। আর বিজেপি বৃহত্তম দল হলে তো কথাই নেই। বাম আমলে যেরকম পাড়াত সম্মানিত শিক্ষিত পুরোন কংগ্রেসি ভদ্রলোক জেঠু দেখা যেত, স্বাধীনতাসংগ্রামী ইত্যাদি, সেরকম বয়স্ক বামেরা তাঁদের আদর্শ নিয়ে থাকবেন কিন্তু ভোটের বাজারে অচল। কমবয়েসী লড়াকু মস্তানরা ছিল তৃণ, এখন বিজেপি। বামেদের লড়াকু ছাত্র যুব ফ্রন্ট আর তাদের টানেনা। 

  • শুদ্ধসত্ত্ব দাস | ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ০৩:০১102604
  • খুবই মূল্যবান তথ্য। এই পরিস্থিতি নিয়ে আপনার নিজস্ব বোঝাপড়াটা যুনতেও আগ্রহী। মানে হাওয়া কোন দিকে যাচ্ছে বলে আপনার মূল্যয়ন।

আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

AIMIM, Muslim Vote, Muslim Voter, Furfura Sharif, BJP-Oaisi, Oaisi-Abbas Siddiqui, Vote, West Bengal Election, West Bengal Assembly Election 2021
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লুকিয়ে না থেকে মতামত দিন