• বুলবুলভাজা  পড়াবই  বাংলাদেশের হৃদয় হতে

  • বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত তিনটি জরুরি বই একনজরে

    দময়ন্তী, মো. সাইফুজজামান
    পড়াবই | বাংলাদেশের হৃদয় হতে | ১৬ আগস্ট ২০২০ | ৫৯৬ বার পঠিত
  • ২/৫ (১ জন)
  • জমিয়ে রাখুন পুনঃসম্প্রচার
  • বাংলাদেশ - ১ | বাংলাদেশ - ২
    বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বই। পড়লেন দময়ন্তী এবং মো. সাইফুজজামান।


    বঙ্গবন্ধুর হত্যা, সেই অনিশ্চিত দিনকাল ও তার কুশীলবদের কথা
    দময়ন্তী


    বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৭১-এর পরেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বছর হল ১৯৭৫। ১৫ অগাস্ট ১৯৭৫-এ স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান খুন হন এক সামরিক অভ্যুত্থানের ফলে। ক্ষমতা দখল করেন খোন্দকার মোস্তাক আহমেদ। ঠিক তিরাশি দিন পর ৬ নভেম্বর ১৯৭৫, ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশারফের নেতৃত্বে পুনরায় সামরিক অভ্যুত্থান ঘটে, পদচ্যুত হন মোস্তাক আহমেদ। ক্যান্টনমেন্টে গুজব রটে খালেদ মোশারফ এবং এ টি এম হায়দার আসলে ভারতের এজেন্ট, বাংলাদেশকে ভারত সরকারের হাতে তুলে দেবেন এঁরা। ৭ নভেম্বর আরও একটি সামরিক অভ্যুত্থান কর্নেল আবু তাহের এবং মেজর জেনারেল জিয়ায়ুর রহমানের নেতৃত্বে, নিহত হন ৬ নভেম্বরের দুই নায়ক। আমরা জানি বঙ্গবন্ধুর খুনিরা সকলেই নিরাপদে দেশের বাইরে পালাতে সক্ষম হয়েছিল। গোটা নভেম্বর মাস জুড়ে বাংলাদেশে ঘটে চলে অভূতপূর্ব সব ঘটনা। এরপর বাংলাদেশ দীর্ঘকালের জন্য ঢুকে যাবে এক অন্ধকারে, ধীরে ধীরে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও অর্জন মুছে দেবার চেষ্টা শুরু হবে, শুরু হবে রাজাকারদের সম্মানিত নাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠালাভ। পাকিস্তান সরকার প্রথমেই বঙ্গবন্ধুর খুনকে স্বাগত জানিয়েছিল, ১৯৭৫-এর নভেম্বরে ও পরবর্তীতে সৌদি আরব ও চিন বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে। আসলে ঠিক কী কী ঘটেছিল ১৫ আগস্টের রাতে? ৬ ও ৭ নভেম্বরে? কারা ছিল মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে, কারা বিপক্ষে আর কারাই বা সময় ও জায়গা বিশেষে চুপ থেকে সুবিধে করে দিয়েছে আততায়ীদের? এই সব নিয়েই সত্য-মিথ্যা মিশিয়ে নানা কাহিনি ছড়িয়ে আছে বঙ্গভবন আর ক্যান্টনমেন্টের ছাউনির আনাচেকানাচে। নজরুল সৈয়দ তাঁর ‘নভেম্বর ১৯৭৫’ বইতে চেষ্টা করেছেন মিথ ও মিথ্যার জাল ছাড়িয়ে সত্যটুকু তুলে আনতে। বিভিন্ন সহায়ক গ্রন্থের বিস্তারিত বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশের ইতিহাসের সমীহ জাগানো কিছু চরিত্রের দিকে সরাসরি শক্তপোক্ত অভিযোগের আঙুল তুলেছেন নজরুল। আজকালকার প্রতিবেদনের ভাষায় যাকে বলে ‘কানেক্টিং দ্য ডট্‌স’ সেই কাজটি বিভিন্ন তথ্যের সমাবেশে করেছেন লেখক।

    নভেম্বর ১৯৭৫
    নজরুল সৈয়দ
    প্রকাশক: ঐতিহ্য, ঢাকা
    প্রকাশ: ২০২০
    মূল্য: ২৮০/- টাকা (বাংলাদেশ)



    শঙ্খ ঘোষের অন্তরঙ্গ বাংলাদেশ
    মো. সাইফুজজামান

    শঙ্খ ঘোষ জন্মেছিলেন ১৯৩২সালের ৫ ফেব্রুয়ারি। অধুনা বাংলাদেশের চাঁদপুর জেলায়। সেখানেই ছিল কবির মামাবাড়ি। বাংলাদেশের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। প্রাণচঞ্চল পদ্মাপারে কেটেছে তাঁর শৈশব-কৈশোরের দিনগুলো। দেশভাগের নিয়তি মাথায় নিয়ে তাঁকে আবাস গড়তে হয় পশ্চিমবঙ্গে। বাংলাদেশের সাহিত্য, সমাজ, সংস্কৃতির সঙ্গে সঙ্গে রয়েছে তাঁর লেখালেখিরও গভীর সম্পর্ক। এই বইয়ে তেমনই একগুচ্ছ লেখা একত্রে সংকলন করেছেন কবি পিয়াস মজিদ। বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, সাংস্কৃতিক আন্দোলন, সামরিক শাসন, বাংলাদেশের কবিতা এসবই তাঁর এই লেখাগুলির মধ্যে ঘুরেফিরে এসেছে। ১৯৫০-এর দশকে লেখা কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় একটি কবিতায় লিখেছিলেন, “ওপারে যে বাংলাদেশ/ এপারেও সেই বাংলা।” এই কথাটিকে ঘুরিয়ে শঙ্খ ঘোষ অমর একুশের গ্রন্থমেলার উদ্‌বোধনী অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে বলেছিলেন, “এপারে যে বাংলা, ওপারেও সেই বাংলা।” সূচিপত্র দেখলেই গ্রন্থটির সম্পর্কে আগ্রহ জন্মাবে। একুশ, একাত্তর ও নববর্ষ নিয়ে কয়েকটি ভাগ রয়েছে এই গ্রন্থে। ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান, গানের ভিতর দিয়ে, শিক্ষা আন্দোলন, স্মৃতি ও ভ্রমণ বিষয়ে মোট ২৩টি লেখা এই গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে। বাংলাদেশ নিয়ে শঙ্খ ঘোষের অন্তরঙ্গ রচনার সংকলন ‘সন্ধ্যানদীর জলে: বাংলাদেশ’।

    সন্ধ্যানদীর জলে: বাংলাদেশ
    শঙ্খ ঘোষ
    প্রথমা প্রকাশন, ঢাকা
    প্রকাশ: ২০১৯
    ২৮০ টাকা (বাংলাদেশ)



    সমাজতন্ত্র—তত্ত্বে ও বাস্তবে
    মো. সাইফুজজামান

    পৃথিবীতে কার্ল মার্কসের অর্থনীতি তত্ত্ব ও সমাজতন্ত্রের চিন্তাভাবনা আজও প্রাসঙ্গিক। রাশিয়ার সমাজতন্ত্র একসময় বহু দেশের মানুষকে মুক্তির পথে এগিয়ে যেতে উদ্‌বুদ্ধ করেছিল। শ্রমিকশ্রেণির উন্নতি, ব্যক্তিমালিকানার উচ্ছেদ, কৃষিতে যৌথ উদ্যোগ, রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ, কমিউনিস্ট পার্টির নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি সমাজতন্ত্রের প্রধান লক্ষ্য। ১৯১৭ সালের অক্টোবর বিপ্লব রাশিয়ায় সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা কায়েম করে। তারই সূত্র ধরে পুঁজিবাদ ও সমাজতন্ত্রের তুলনামূলক আলোচনা এই গ্রন্থে দেখা যায়। সমাজতন্ত্র, সামাজিক গণতন্ত্র, কলকারখানা রাষ্ট্রীয়করণ, সর্ব স্তরে অবৈতনিক শিক্ষা ছিল ব্রিটেনের সমাজতান্ত্রিক পদক্ষেপ। প্রতিবেশী ভারত তখন জওহরলাল নেহরুর নেতৃত্বে এক ধরনের ‘সমাজতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠা করেছে। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের পর সংবিধানে জাতীয় চার নীতি, বাঙালি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা-র সমন্বয়ে সংবিধান রচিত হয়।

    কিন্তু, সমাজতন্ত্র শুধুমাত্র কাগজের পাতাতেই লিপিবদ্ধ থেকে গেছে। ৫০ বছরে তার বাস্তবায়ন হয়নি। তৃতীয় বিশ্বের বহু মানুষের দৃষ্টিতে মনে হয়েছিল সমাজের নীচু তলার শ্রমিকেরা একতাবদ্ধ হবে। যারা অপরের শ্রমের ফল আত্মসাৎ করে, শ্রমিকশ্রেণি তাদের উৎখাত করবেই। সমাজতন্ত্র ব্যবস্থাটির প্রবর্তনে লেনিন ও তার অনুসারীদের ক্রিয়াকাণ্ড এবং মার্কসের তত্ত্ব ও মতাদর্শের মধ্যে কতটা সামঞ্জস্য ছিল তা বিশ্লেষণ করেছেন লেখক। বাস্তবে সমাজতন্ত্র ব্যবস্থাটি কতটা যুক্তিযুক্ত, এর বিকল্প কিছু আছে কি না, গ্রন্থটিতে এই প্রশ্নগুলিরও উত্তর অনুসন্ধান করা হয়েছে।

    আমার সমাজতন্ত্র: সমাজতন্ত্রের উত্থান, পতন ও ভবিষ্যৎ
    আজিজুর রহমান খান
    প্রথম প্রকাশন, ঢাকা
    প্রকাশ: ২০১৯
    মূল্য: ৩২০ টাকা (বাংলাদেশ)



    থাম্বনেল গ্রাফিক্স: স্মিতা দাশগুপ্ত
    বাংলাদেশ - ১ | বাংলাদেশ - ২
  • বিভাগ : পড়াবই | ১৬ আগস্ট ২০২০ | ৫৯৬ বার পঠিত
  • ২/৫ (১ জন)
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। বুদ্ধি করে মতামত দিন