• বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়।
    বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে।
  • করোনা ও বাঙ্গুরঃ যা শুনলাম, যা দেখলাম,

    অভিজিত মজুমদার
    বিভাগ : বুলবুলভাজা | ১৫ মে ২০২০ | ২১৪৬১ বার পঠিত
  • পশ্চিমবঙ্গের করোনা মোকাবিলার হালহকিকৎ নিয়ে অনেক কিছু ইতিউতি ঘুরে বেড়াচ্ছে। কিছু হোয়াটস্যাপে, কিছু সংবাদপত্রে। তার সত্যতা যাচাই করার জন্য এই লেখা নয়। এই লেখার উদ্দেশ্য নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়া।

    আমার এক অতি নিকটাত্মীয়ের এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে জ্বর শুরু হয়। অন্য কোনও উপসর্গ ছিল না। তিনি কলকাতার একটি প্রাইভেট হাসপাতালের ফিভার ক্লিনিকে দেখান। ডাক্তার বাবু কিছু টেস্ট লিখে দেন। তার সাথে বাঙ্গুরে গিয়ে কোভিডের টেস্ট করানোর পরামর্শ দেন। ইতিমধ্যে হোয়াটস্যাপে ছড়িয়ে পড়েছিল বাঙ্গুর হাসপাতালের ভিডিও, যা হয়ত আপনারাও দেখেছেন। সেই ভিডিও দেখে আমার সেই আত্মীয় ও তার পরিবার আতংকিত হয়ে পড়েন ও বাঙ্গুরে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁরা খোঁজ করতে থাকেন কোনও প্রাইভেট হাসপাতালের যেখানে কোভিডের টেস্ট হয়। কিন্তু জানা যায় যে ভর্তি না হলে কেউ টেস্ট করাবে না এবং যে কটি বেসরকারি হাসপাতালে কোভিডের চিকিৎসা হচ্ছিল তার কোথাও জায়গা নেই। আমরা আমাদের পরিচিত যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে ওনাকে এদিক ওদিক ভরতি করার চেষ্টা করলাম, কিন্তু কোনও ফল হল না। এর মধ্যে ওনার শারীরিক পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে থাকে, কাশি শুরু হয় ও কাশির সাথে রক্ত উঠতে থাকে। শেষমেশ এক স্কুলের বন্ধু, যে নিজেও ডাক্তার, তার কল্যাণে একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করাতে পারলাম এবং কোভিডের টেস্ট হল। জানা গেল যে তিনি কোভিড পসিটিভ। সেই প্রাইভেট হাসপাতাল থেকেই রোগীকে পাঠিয়ে দেওয়া হল বেলেঘাটা আই ডি-তে। পরিবারের লোকজনকে বলা হল আইসোলেশনে থাকতে, বাড়ি থেকে বের হতে না, এবং কোনও প্রয়োজন হলে থানায় যোগাযোগ করতে।

    এর পর ঘটনাক্রম যে দিকে গড়াল তার ভালো ও খারাপ দুটো দিক আছে। আগে খারাপ দিকটা বলে নি।

    এক, পরিবারের লোকজনের আজ অবধি টেস্ট হয় নি। আর হবে বলে মনে হচ্ছে না।
    দুই, রোগীকে বেলেঘাটা আই ডি থেকে বাঙ্গুরে পাঠানো হলেও বাড়ির লোকজনকে জানানো হয় নি।
    তিন, রোগীকে যখন বাঙ্গুরে নিয়ে যাওয়া হয় তখন তার জিনিষপত্র পড়ে থাকে আই ডি-তেই। ফলে, বাঙ্গুরে ভর্তি হওয়ার পর রোগীকে প্রায় তিনদিন কাটাতে হয় টুথব্রাশ, টুথপেস্ট, তোয়ালে, জামাকাপড়, মায় চপ্পল ছাড়া। খালি পায়ে বাথরুমে গিয়ে অন্য কোনও ইনফেকশন ঘটে যাওয়া অসম্ভব ছিল না। বাড়ি থেকে পুলিশে বারংবার ফোন করেও এইসব দরকারি জিনিষপত্র পৌঁছনোর বন্দোবস্ত করা সম্ভব হয় নি। শেষ পর্যন্ত তিনদিন পর আবার নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে এইসব জিনিষ পৌঁছনোর ব্যবস্থা করা হয়।
    চার, রোগীর কাছে মোবাইল না থাকায় (সরকারি নিয়মে), যোগাযোগ করা ও নিয়মিত খবর পাওয়া রীতিমত চ্যালেঞ্জিং হয়ে গিয়েছিল। হাসপাতালে ফোন করলে শুধু এইটুকুই জানা যেত যে রোগী “ভালো আছেন”।

    এইবার আসি ভালো দিকের কথায়।

    এক, বাঙ্গুর হাসপাতাল নিয়ে যে সব আতংকের কথা প্রচার করা হচ্ছে, তা সর্বৈব ভুয়ো। রোগী, যিনি উচ্চবিত্ত এবং রীতিমত পাঁচতারা জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত, তাঁর নিজের কথায়, “সরকারি হাসপাতাল যে এত ভালো ও পরিচ্ছন্ন হতে পারে, তা নিজে না দেখলে বিশ্বাস করতে পারতাম না। যারা বলেছিল বাঙ্গুরে গেলে আর বেঁচে ফিরতে পারবি না , টু হেল উইথ দেম”। মনে রাখতে হবে, রোগী জেনেরাল ওয়ার্ডে ছিলেন, কোনও স্পেশাল ব্যবস্থা করা হয় নি।
    দুই, আবারও রোগীর নিজের কথায়, “ডাক্তার, নার্স, এমনকি সাফাই কর্মীদেরও ব্যবহার এত ভালো ও তাঁরা এত কোওপারেটিভ যে ভাবা যায় না”।
    তিন, চিকিৎসা ব্যবস্থার যেটুকু খবর আমরা পেয়েছি, তাতে কোথাও কোনও ত্রুটি হয় নি। ব্লাড টেস্ট, চেস্ট এক্স রে, সোয়াব টেস্ট সব নিয়ম মেনে হয়েছে। রোগীর যখন শ্বাসকষ্ট শুরু হয়, তখন তাঁকে যথানিয়মে অক্সিজেন দেওয়া হয়।
    চার, শুধু বাঙ্গুরের ডাক্তাররাই নয়, ওখানে এস এস কে এম, ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ ও অন্যান্য জায়গার ডাক্তারদের টীম আসছেন। এপিডেমিওলজির স্বনামধন্য স্পেশালিস্ট ডাক্তারদের টীম কাজ করছেন।
    পাঁচ, রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
    ছয়, আমাদের পকেট থেকে এক পয়সাও খরচ করতে হয় নি (অন্যান্য রাজ্যের অবস্থার খবর কিন্তু অন্যরকম।) এমনকি হাসপাতালের আম্বুলেন্স রোগীকে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে গেছে।

    এতটা লেখার একটাই কারন। অকারণে ভয় পাবেন না। তাতে বিপদ বাড়বে বই কমবে না। আমরা যদি হোয়াটস্যাপ ভিডিও দেখে ভয় না পেয়ে, চিকিৎসকের পরামর্শমত রোগীকে প্রথমেই বাঙ্গুরে নিয়ে যেতাম, তাহলে তাঁর ভোগান্তি কম হত।


  • বিভাগ : বুলবুলভাজা | ১৫ মে ২০২০ | ২১৪৬১ বার পঠিত
  • আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1 | 2
  • dc | 103.195.203.23 | ১৯ মে ২০২০ ২০:০৭93480
  • r2h, সরকারের দায়িত্ব হলো স্বাস্থ্য আর শিক্ষা খাতে বেশী করে খরচা করা, ভালো শিক্ষা আর স্বাস্থ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, নমিনাল দামে বা বিনে পয়সায় অন্তত একটা লেভেল অবধি সবার জন্য পড়াশুনো আর শিক্ষার যোগান দেওয়া। আমাদের দেশের সরকার ছোট থেকেই দেখে আসছি ঠিক উল্টোটা করে। হাজারটা ব্যবসায়ে নাক গলায়, যেটা সরকারের কাজ না। একগাদা পাবলিক সেক্টর কোম্পানি খুলেছে যেগুলো চূড়ান্ত ইনএফিসিয়েন্ট, আর সেটা হতে বাধ্য, কারন সরকারের কাজ সরকার চালানো, ব্যবসা চালানো না। এদিকে শিক্ষা আর স্বাস্থ্যখাতে খরচ দিন দিন কমিয়েই চলেছে, ফলে সরকারি ইস্কুল আর হাসপাতালগুলো ভেঙে পড়েছে। এসব পলিসি কবে পাল্টাবে জানিনা।
  • ছাগলছানা | 2a09:bac0:202::811:ce31 | ২৪ মে ২০২০ ২০:২২93610
  • সবই বুঝলাম কিন্তু তিনি যে এই ভয় পেয়ে কয়েক গুচ্ছ মানুষকে নিজের সংস্পর্শে (অবশ্যই প্রভাব খাটিয়ে) নিয়ে এসেছেন. তাদের কি হবে?

    তাদের কে তিনি কনভিন্স করতে পেরেছেন তো বাঙুর e গিয়ে টেস্ট করতে?
  • ছাগলছানা | 2a09:bac0:202::811:ce31 | ২৪ মে ২০২০ ২০:২৩93611
  • "এর মধ্যে ওনার শারীরিক পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে থাকে, কাশি শুরু হয় ও কাশির সাথে রক্ত উঠতে থাকে। শেষমেশ এক স্কুলের বন্ধু, যে নিজেও ডাক্তার, তার কল্যাণে একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করাতে পারলাম এবং কোভিডের টেস্ট হল। জানা গেল যে তিনি কোভিড পসিটিভ। সেই প্রাইভেট হাসপাতাল থেকেই রোগীকে পাঠিয়ে দেওয়া হল বেলেঘাটা আই ডি-তে।"

    এই দলটার কথা বলা হচ্ছে. সবাই তো কিছু না কিছু সংস্পর্শে এসেছে
  • করোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1 | 2
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত