• টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। যে কোনো নতুন আলোচনা শুরু করার আগে পুরোনো লিস্টি ধরে একবার একই বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গেছে কিনা দেখে নিলে ভালো হয়। পড়ুন, আর নতুন আলোচনা শুরু করার জন্য "নতুন আলোচনা" বোতামে ক্লিক করুন। দেখবেন বাংলা লেখার মতো নিজের মতামতকে জগৎসভায় ছড়িয়ে দেওয়াও জলের মতো সোজা।
  • দ্য ওয়ার্ল্ড আফটার করোনা ভাইরাস

    কল্লোল
    বিভাগ : আলোচনা | ২৮ মার্চ ২০২০ | ৪৪২ বার পঠিত
  • ইউভাল নোহা হারারি একজন ইজরায়েলি ঐতিহাসিক। "সাপিয়েন্স" গ্রন্থটির জন্য মূলত বিশ্ব ওনাকে চিনেছে। সম্প্রতি উনি The world after corona virus শীর্ষক একটি আর্টিকেল প্রকাশ করেন। আর্টিকেলটির বঙ্গানুবাদ করেছেন বিশ্বজিৎ হাজরা।

    *দ্য ওয়ার্ল্ড আফটার করোনা ভাইরাস*
    --- ইউভ্যাল নোহা হারারি

    বিশ্বব্যাপী সঙ্কটের মুখোমুখি মানবসমাজ। সম্ভবত আমাদের প্রজন্মের সবচেয়ে বড় সঙ্কট। সামনের কয়েকটা সপ্তাহে সাধারণ মানুষ আর সরকারগুলো যা যা সিদ্ধান্ত নেবে, তা সম্ভবত আগামী বেশ কয়েকটা বছর ধরে সারা পৃথিবীকে প্রভাবিত করবে। শুধু স্বাস্থ্য-পরিসেবা নয়, গভীর ভাবে প্রভাবিত হবে আমাদের অর্থনীতি, রাজনীতি, এমনকি সংস্কৃতিও। যা করার, তা দ্রুত করতে হবে। ডিসিসিভলি করতে হবে। আজকে আমরা যা করবো, আগামীদিনে তার সুদূরপ্রসারী প্রভাব থেকে যাবে। শুধু অল্টারনেটিভ বেছে নেওয়া নয়, নিজেকে প্রশ্ন করুন, এই ঝড়-ঝাপটা কেটে গেলে ঠিক কি রকম পৃথিবীকে আপনি দেখতে চান। হ্যাঁ, যে ঝড়টা এসেছে সেটা কেটে যাবে, মানবসমাজ উঠে দাঁড়াবে, এমনকি আমি-আপনি সহ আমাদের মধ্যে বেশীরভাগ মানুষ বেঁচে-বর্তেও থাকবে ... তবে সেটা এক নতুন পৃথিবীতে!

    আজকে যেগুলো আপনি ‘শর্ট-টার্ম এমারজেন্সি পদক্ষেপ’ হিসাবে দেখছেন, তার অনেকগুলোই কিন্তু ভবিষ্যতে থেকে যাবে। ‘এমারজেন্সি’-র মজাই তাই। এই পদক্ষেপগুলো ইতিহাসের চাকাকে ঝপ্‌ করে অনেকটা এগিয়ে দেয়। নর্মাল সময়ে যে ডিসিশন-গুলো নিতে বছরের পর বছর লেগে যায়, সমাজ জুড়ে তর্ক-বিতর্ক চলে, এমারজেন্সি-সিচুয়েশনে সেই ডিসিশন-গুলো নিয়ে ফেলাটা জাস্ট কয়েক ঘন্টার মামলা। ইম্‌ম্যাচিওর, এমনকি ভয়ঙ্কর কিছু টেকনোলজিকেও এই সময় আমরা ছাড়পত্র দিয়ে ফেলি, কারন হাত-পা গুটিয়ে কিছু না করে বসে থাকার বিপদ তার চেয়েও বেশী। তখনকার মতো আস্ত একটা দেশ হয়ে ওঠে লার্জ স্কেল সোশ্যাল এক্সপেরিমেন্টের গিনিপিগ মাত্র। কেমন হবে, সমস্ত ক্ষেত্রে যদি ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ চালু হয়? কিংবা ধরুন দূর থেকে কম্যুনিকেট করাটাই যদি নিয়ম হয়ে দাঁড়ায়? কেমন হবে, যদি সমস্ত স্কুল-কলেজ-ইউনিভার্সিটিগুলোকে অনলাইন করে দেওয়া হয়? নর্মাল সময়ে সরকার, এডুকেশনাল বোর্ড অথবা ব্যবসায়ীরা এ’সব কথা ভুলেও ভাববে না। কিন্তু এটা নর্মাল সময় নয়। এই সঙ্কট-মুহূর্তে দুটো ক্ষেত্রে আমাদের অপশন বেছে না নিয়ে উপায় নেই। প্রথমটা হলো ‘সর্বগ্রাসী নজরদারি’ এবং ‘নাগরিক ক্ষমতায়নের’ মধ্যে। দ্বিতীয়টা হলো ‘জাতীয়তাবাদী বিচ্ছিন্নতা’ ও ‘বিশ্বব্যাপী সংহতির’ মধ্যে।

    *চামড়ার নীচে নজরদারি*

    আজকের মহামারী রুখতে গেলে, সবাইকেই নির্দিষ্ট একটা গাইডলাইন বাধ্যতামূলক ভাবে মেনে চলতে হবে। দু’ভাবে এটা করা যায়। তার মধ্যে একটা হলো, সরকার সর্বত্র নজরদারি করুক এবং নিয়ম ভাঙলেই কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করুক। মানব-ইতিহাসে এই প্রথম টেকনোলজিকে কাজে লাগিয়ে সেটা সম্ভবও বটে। মাত্র ৫০ বছর আগেও কে.জি.বি-র পক্ষে সোভিয়েত ইউনিয়নের ২৪০ মিলিয়ন নাগরিকের ওপর ২৪ ঘন্টা ধরে নজরদারি চালানো সম্ভব ছিলো না। সমস্ত নাগরিকদের সম্পর্কে গাদা গাদা ইনফর্মেশন জোগাড় করে সেই বিপুল তথ্যকে প্রসেস করাটা তো ছিলো কল্পনারও অতীত। এই কাজগুলো করার জন্য কে.জি.বি-কে তখন কিছু চর তথা অ্যানালিস্টের ওপরেই ডিপেন্ড করতে হয়েছিল। আর এটাও ঠিক, যে দেশের সবগুলো মানুষের পেছনে একটা করে চর লাগানোটা জাস্ট অসম্ভব ছিলো। কিন্তু আজকের দিনের সরকারগুলো ঠিক এই কাজটাই নিঃশব্দে করে ফেলতে পারে সর্বব্যাপী সেন্সর আর শক্তিশালী অ্যালগোরিদমকে কাজে লাগিয়ে। নাঃ, একটাও রক্ত-মাংসের মানুষ লাগবে না!

    করোনা-ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়তে ইতিমধ্যেই বেশ কিছু দেশের সরকার এই রাস্তায় হাঁটছে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো চীন। সাধারণ মানুষের স্মার্টফোনে নিবিড় নজরদারি চালিয়ে, কোটি কোটি ফেস-রেকগনাইজিং ক্যামেরাকে কাজে লাগিয়ে, এবং মানুষকে তাদের শরীরের তাপমাত্রা থেকে শুরু করে অন্যান্য মেডিকেল-রিপোর্ট দিতে বাধ্য করে সরকার অত্যন্ত দ্রুত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত লোকজনকে চিহ্নিত করতে পেরেছে। তাদের গতিবিধিকে ট্র্যাক করতে পেরেছে। কারা কারা তাদের সংস্পর্শে আসছে, সেটাও ঝপ্‌ করে আইডেন্টিফাই করে ফেলতে পেরেছে। মোবাইল অ্যাপেই নাগরিকদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে একজন করোনা-ইনফেক্টেড মানুষের থেকে তিনি কতোটা দূরত্বে আছেন।

    এই ধরনের টেকনোলজির ব্যবহার আজ কেবল পুর্ব-এশিয়াতেই সীমাবদ্ধ নেই। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সম্প্রতি করোনা-আক্রান্তদের চিহ্নিত করতে সে’দেশের সিকিউরিটি এজেন্সিকে এমন একটি নজরদারি-প্রযুক্তি ব্যবহার করার অনুমোদন দিয়েছেন, যা সাধারনত টেররিস্টদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়। কিছু পার্লামেন্ট সদস্য এই নিয়ে আপত্তি জানালে তিনি পত্রপাঠ ‘এমারজেন্সি-ডিক্রি’ জারি করে ব্যাপারটি চালু করে দেন।

    আপনি বলতেই পারেন, এ আর এমন নতুন কথা কি? আজকালকার দিনে সরকার এবং কর্পোরেট সংস্থাগুলি এর চেয়েও শক্তিশালী প্রযুক্তি ব্যাবহার করছে মানুষকে ট্র্যাক করার জন্যে, নজরে রাখার জন্যে, ম্যানিপুলেট করার জন্যে। কিন্তু তবুও বলবো, আমরা যদি সতর্ক না হই, তাহলে অচিরেই এই মহামারীটি ‘মানুষের ওপর নজরদারি চালানোর’ ইতিহাসে একটা গুরুত্বপূর্ণ মোড় হয়ে উঠবে। কারন, দু’দিন আগেও যাঁরা রাষ্ট্রের এই নজরদারি-ব্যবস্থাটির সোচ্চার বিরোধিতা করতেন, অ্যাবনর্মাল সিচুয়েশনে পড়ে তাঁরাও আজ নিজের থেকেই ব্যাপারটি নিপাট ভালো মানুষের মতো মেনে নিয়েছেন। তার চেয়েও বড় কথা হলো, সমগ্র নজরদারি-ব্যবস্থাটি ‘চামড়ার ওপর’ থেকে তার দৃষ্টিকে গেঁথে দিচ্ছে আরও গভীরে, ‘চামড়ার ভেতরে’! এর আগে পর্যন্ত, আপনার আঙুলটি একটি মোবাইল ফোনের স্ক্রিন টাচ্‌ করলে অথবা কোনও লিঙ্কে ক্লিক করলে সরকার বড়জোর জানতে পারতো যে আপনি কোন্‌ লিঙ্কে ক্লিক করেছেন। এখন সরকার আপনার আঙুলের তাপমাত্রা এবং চামড়ার নীচের ব্লাড-প্রেশারও জানতে পারবে। ড্রামাটিক চেঞ্জই বটে!

    *এমারজেন্সি পুডিং*

    মুশকিল হলো, আজকের নজরদারি-ব্যবস্থায় আমরা কেউই জানি না যে ঠিক কিভাবে আমাদের জরীপ করা হচ্ছে, অথবা আগামী দিনেই বা ঠিক কি কি ঘটতে চলেছে। নজরদারি-প্রযুক্তি সাংঘাতিক দ্রুতবেগে ডেভালপ করছে। ১০ বছর আগেও যেগুলো কল্পবিজ্ঞানের গপ্প মনে হতো, আজ সেগুলো নিছকই প্রস্তর-যুগের প্রযুক্তি বলে মনে হয়। কল্পনার খাতিরে, মনে করুন সরকার বললো যে প্রত্যেক নাগরিককে একটা করে ‘বায়োমেট্রিক-ব্রেসলেট’ পরতে হবে, যা ২৪ ঘন্টা ধরে আপনার ব্লাড-প্রেসার এবং শরীরের তাপমাত্রা মাপবে। সেই তথ্যগুলো তারপর অ্যালগোরিদমে ফেলে সরকার খতিয়ে দেখবে। আপনি অসুস্থ কিনা, সেটা আপনি নিজে টের পাওয়ার আগেই অ্যালগোরিদমগুলি ব্যাপারটা বুঝে ফেলবে। আপনি কোথায় কোথায় ছিলেন, কার কার সাথে দ্যাখা করেছেন, সেটাও সরকার পরিষ্কার বুঝতে পারবে। ইনফেকশনের চেন-কে এই পদ্ধতিতে ছোট করে আনা, এমনকি একেবারে কেটে ফেলাও সম্ভব। এই ধরনের একটা সিস্টেম মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই করোনার মতো মহামারী রুখে দিতে পারে। ফাটাফাটি ব্যাপার, তাই না?

    কিন্তু সমস্যাটা হলো, এটাই আবার একটা ভয়াবহ নজরদারি-ব্যবস্থাকেও সমাজে বৈধতা দেবে। এদ্দিন পর্যন্ত আমি মোবাইলে ‘ফক্স নিউজের’ একটি ভিডিও লিঙ্কে ক্লিক করেছি, নাকি ‘সি.এন.এন’-এর, তা থেকে আপনি বড়জোর আমার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে বুঝতে পারতেন, কিংবা খুব বেশী হলে আমার ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে। কিন্তু এবার আপনি তার সাথে সাথে আমার হার্ট-রেট, ব্লাড-প্রেসার অথবা বডি-টেম্পারেচার দেখে এটাও বুঝতে পারবেন যে ওই ভিডিওটি দেখে আমি হাসলাম, কাঁদলাম, নাকি প্রচন্ড রেগে গেলাম!

    মাথায় রাখতে ভুলবেন না, রাগ – আনন্দ – একঘেঁয়েমি – ভালোবাসা হলো জ্বর অথবা কাশির মতোই জৈবিক ক্রিয়াকলাপ। কাশি-শনাক্তকারী একই প্রযুক্তি হাসিকেও চিহ্নিত করতে পারে। কর্পোরেট সংস্থা অথবা সরকারগুলি যদি পাইকারি রেটে আমাদের এই বায়োমেট্রিক-ডেটা অ্যানালাইসিস করে, তাহলে আমাদের নিজেদের চেয়েও ভালোভাবে ওরা আমাদের বুঝতে পারবে। ওরা কেবল আমাদের অনুভুতিগুলির পূর্বাভাসই পাবে না, চাই কি সেগুলোকে ম্যানিপুলেটও করতে পারবে। এবং সর্বোপরি সেই পদ্ধতিতে ওরা আমাদের কাছে যা ইচ্ছে তাই বেচে দিতে পারে, সেটা একটা পণ্যই হোক, অথবা একটা বিশেষ রাজনীতি। বায়োমেট্রিক নজরদারির কাছে কেমব্রিজ অ্যানালিটিকার ডেটা-হ্যাকিং কৌশলও জাস্ট শিশু। ২০৩০ সালের উত্তর কোরিয়ার একটি সিচুয়েশন কল্পনা করুন। আপনার কব্জিতে বায়োমেট্রিক-ব্রেসলেট লাগানো রয়েছে। আপনি রাষ্ট্র-নায়কের ভাষণ শুনতে শুনতে ভীষণ রেগে উঠছেন। ওমনি বায়োমেট্রিক-ব্রেসলেট সেটা ধরে ফেললো। আপ্‌ তো গ্যায়া!

    এমারজেন্সি পরিস্থিতিতে একটি ‘অস্থায়ী ব্যবস্থা’ হিসাবে বায়োমেট্রিক-নজরদারিকে আপনি অবশ্যই অ্যালাউ করতে পারেন। কিন্তু এই ‘অস্থায়ী ব্যবস্থা’গুলির একটা খারাপ স্বভাব হলো এমারজেন্সি কেটে গেলেও এরা বহাল তবিয়তে থেকে যেতে চায়। কারন, দেশে নিত্য-নতুন এমারজেন্সি পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার তো আর বিরাম নেই! আমার স্বদেশ ইজরায়েলে ১৯৪৮ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় এই রকম জরুরী অবস্থা জারি হয়েছিলো। তাতে প্রেস-সেন্সরশিপ থেকে শুরু করে জমি বাজেয়াপ্তকরন হয়ে পুডিং তৈরির পদ্ধতির ওপরেও (আমি একদম ইয়ার্কি মারছি না) কিছু ‘অস্থায়ী বিধি-নিষেধ’ আরোপিত হয়েছিলো। বহুদিন হয়ে গেলো স্বাধীনতা যুদ্ধে ইজরায়েল জিতেছে। তারপর থেকে আর কখনও জরুরী অবস্থা জারিও করেনি। কিন্তু ১৯৪৮ সালে জারি হওয়া সেই ‘অস্থায়ী বিধি-নিষেধ’গুলোর মধ্যে বেশ কিছু পরবর্তীতে দিব্যি স্থায়ী ভাবেই রয়ে যায় (মাত্র এই সেদিন, ২০১১ সালে, সেদিনের সেই জরুরী ‘পুডিং-ডিক্রি’টি সরকার দয়া করে বাতিল করলো)!

    করোনা ভাইরাসের প্রকোপ থেমে গেলেও বেশ কিছু দেশের তথ্য-লোভী সরকার বায়োমেট্রিক নজরদারি চালিয়েই যেতে চাইবে। তখন তাদের অজুহাত হবে, করোনা-সংক্রমণের সেকেন্ড ওয়েভ আসতে চলেছে ... অথবা মধ্য আফ্রিকায় একটি নতুন ইবোলা ভাইরাস ধরা পড়েছে ... অথবা অন্য কিছু। ব্যাপারটা নিজেই বুঝে নিন। আমাদের প্রাইভেসি বজায় রাখতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একটা বড় লড়াই চারদিকে শুরু হয়েছে। করোনা-সঙ্কট সেই লড়াইয়ে একটা টিপিং-পয়েন্ট হয়ে উঠতে পারে। ‘প্রাইভেসি’ আর ‘হেলথ’-এর মধ্যে মানুষকে কোনও একটা বেছে নিতে বললে স্বাভাবিক ভাবে সে ‘হেলথ’-কেই বেছে নেবে।

    *সাবান পুলিশ*

    কিন্তু মানুষকে ‘প্রাইভেসি’ আর ‘হেলথ’-এর মধ্যে কোনও একটাকে বেছে নিতে বলাটাই বিরাট গোলমেলে ব্যাপার। এটা কি ‘বেছে নেওয়ার’ মতো কোনও বিষয় নাকি? ‘প্রাইভেসি’ আর ‘হেলথ’, এই দুটোই তো আমার চয়েস। এই দুটো জিনিসের ওপরেই তো আমার অধিকার থাকা উচিৎ। আমাদের স্বাস্থ্যকে সুরক্ষিত রাখতে এবং করোনা-সংক্রমণকে আটকাতে আমরা ‘সর্বব্যাপী নজরদারি ব্যবস্থা’র বদলে ‘নাগরিক ক্ষমতায়ন’কেও বেছে নিতে পারি। দক্ষিন কোরিয়া, সিঙ্গাপুর এবং তাইওয়ান এই পদ্ধতিতে করোনা-সংক্রমণ রুখতে দুর্দান্ত সাফল্য পেয়েছে। হ্যাঁ, এটা ঠিক যে কিছু কিছু ‘নজরদারি ব্যবস্থা’ ওরাও নিয়েছিলো। কিন্তু মূলত ওরা নির্ভর করেছিলো ব্যাপক টেস্টিং-এর ওপর, ওয়েল-ইনফর্মড নাগরিকদের স্বতঃস্ফূর্ত রিপোর্টিং এবং সহযোগিতার ওপর।

    কেন্দ্রীয় নজরদারি এবং কঠোর শাস্তির সাহায্যেই কেবল মানুষকে দিয়ে কার্যকারী-গাইডলাইন মানিয়ে চলানো যায়, এটা ভুল ধারনা। সরকার যদি নিষ্ঠার সাথে মানুষের কাছে বৈজ্ঞানিক ভাবে বিষয়গুলো তুলে ধরে, মানুষের কাছে সরকারের যদি বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি হয়, তাহলে ঘাড়ের ওপর সর্বক্ষণ কোনও ‘বিগ ব্রাদার’ নিঃশ্বাস না ফেললেও মানুষ গাইড-লাইন মেনে চলে। নিজের থেকেই। সাধারণ ভাবে বলতে গেলে একটি স্বতঃপ্রানিত এবং সচেতন জনগোষ্ঠী, পুলিশের ডান্ডার ভয়ে সিঁটিয়ে থাকা অজ্ঞ একটি জনগোষ্ঠীর তুলনায় অনেক বেশী কার্যকরী।

    ‘সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার’ বিষয়টাকেই দেখুন। স্বাস্থ্যবিজ্ঞানে এটা একটা যুগান্তকারী ব্যাপার ছিলো। ছোট্ট এই পদক্ষেপটা আজও লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রাণ বাঁচিয়ে চলেছে। অথচ সেভাবে দেখলে মাত্র এই সেদিন, ১৯শতকে বিজ্ঞানীরা বিষয়টির গুরুত্ব বুঝতে পেরেছিলেন। তার আগে এমনকি ডাক্তার-নার্সরাও হাত-টাত না ধুয়েই একটার পর একটা অপরেশন করতেন। আজকে যে কোটি-কোটি মানুষ নিজের থেকেই রোজ সাবান দিয়ে হাত ধোয়, তার পিছনে কি কোনও ‘সাবান-পুলিশের’ চোখরাঙানি আছে? একদম নয়। বরং তারা সহজ-সরল একটা বৈজ্ঞানিক সত্যকে বুঝতে পেরেছে। আমি সাবান দিয়ে হাত ধুই, কারন আমি জানি যে ব্যাকটেরিয়া-ভাইরাসের মতো ক্ষতিকর জীবানুগুলো সাবান দিয়ে হাত ধুলে নষ্ট হয়ে যায়। সিম্পল।

    তবে গণ-সম্মতি এবং সহযোগিতার এ’রকম একটি স্তরে পৌঁছতে গেলে একটা বিষয় লাগবেই, সেটা হলো ‘বিশ্বাস’। মানুষকে বিজ্ঞানের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে, সরকারি কর্তৃপক্ষের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে, মিডিয়ার ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে। বিগত কয়েকটা বছর ধরে দায়িত্বজ্ঞানহীন রাজনীতিবিদরা ইচ্ছাকৃতভাবে বিজ্ঞানের বিশ্বাসযোগ্যতাকে, সরকারি কর্তৃপক্ষের বিশ্বাসযোগ্যতাকে এবং মিডিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতাকে ধূলোয় মিশিয়ে দিয়েছেন। এখন সেই দায়িত্বজ্ঞানহীন লোকগুলোই আরও কর্তৃত্ববাদের রাস্তায় দেশকে নিয়ে যেতে পারে এই যুক্তিতে, যে, ‘সঠিক রাস্তায় চলতে গেলে আম-পাবলিকের কথা শুনলে চলে না’!

    সাধারণভাবে, বছরের পর বছর ধরে একটু একটু করে নষ্ট হয়ে যাওয়া বিশ্বাস রাতারাতি ফিরে আসে না। তবে এটাও ঠিক যে এখন নর্মাল সময় নয়। সঙ্কটকালীন মুহূর্তে মনেরও দ্রুত পরিবর্তন ঘটে। আপনি বছরের পর বছর ধরে আপনার ভাই-বোনদের সাথে তিক্ত তর্ক-বিতর্ক চালিয়ে যেতে পারেন। কিন্তু পরিবারে একটা সঙ্কট আসুক। ওমনি দেখবেন পারস্পরিক আস্থা আর ভালোবাসার বন্ধন আপনাদেরকে পাশাপাশি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সর্বব্যাপী নজরদারি-ব্যবস্থার বদলে বিজ্ঞান, সরকারী কর্তৃপক্ষ এবং মিডিয়ার ওপর মানুষের বিশ্বাস পুনর্নির্মাণ করতেও আবার খুব বেশি দেরি হয় না। আমাদের অবশ্যই নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করা উচিত, তবে এই প্রযুক্তিগুলো যেন নাগরিকদের ক্ষমতায়নকে নিশ্চিত করে। আমি অবশ্যই আমার শরীরের তাপমাত্রা এবং রক্তচাপ মনিটারিং-এর পক্ষে, তবে সেই ডেটা যেন কোনভাবেই একটা ‘সর্বশক্তিমান সরকার’ গঠনের জন্য ব্যবহার করা না হয়। বরং সেই ডেটা যাতে আমাকে আরও ওয়েল-ইনফর্মড একজন নাগরিক হিসাবে আমার চয়েস বেছে নিতে সাহায্য করে, এবং সরকারকেও তার পদক্ষেপের জন্য জবাবদিহি করতে বাধ্য করে।

    আমি যদি ২৪ঘন্টা আমার মেডিকেল-কন্ডিশন ট্র্যাক করতে পারি, তাহলে অন্যের জন্য আমি বিপদের কারন হয়ে উঠছি কিনা সেটা যেমন বুঝতে পারবো, তেমনি নিজের ভালোটাও একই সাথে খেয়াল করতে পারবো। আমি যদি করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ব্যাপারে নির্ভরযোগ্য তথ্য অ্যাক্‌কেস করতে পারি, অ্যানালাইসিস করতে পারি, তাহলে সরকার এই সংক্রমণ রুখতে ঠিক কি কি করছে, সেটাও আমার কাছে জলের মতো পরিষ্কার হয়ে যাবে। মনে রাখবেন, যে প্রযুক্তি দিয়ে সরকার আমাদের ওপর নজরদারি করে, সেই একই প্রযুক্তি দিয়ে চাইলে আমরাও সরকারের ওপর নজরদারি চালাতে পারি।

    করোনা-মহামারী, সেই হিসাবে নাগরিকত্ব-কেও একটা বড় পরীক্ষার সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনের দিনগুলোতে আসুন আমরা নির্ভর করি কেবলমাত্র বিজ্ঞান-সম্মত তথ্য এবং স্বাস্থ্য-বিশেষজ্ঞদের ওপর, কোনও মতেই ভিত্তিহীন ‘কন্সপিরেসি-থিওরি’ অথবা স্বার্থপর রাজনৈতিক নেতাদের ওপর নয়। সঠিক চয়েসটা বেছে নিতে না পারলে হয়তো আমরা আমাদের পরম প্রিয় ব্যক্তি-স্বাধীনতাকে বিসর্জন দিয়ে ফেলবো স্রেফ এটা ভেবে, যে নিজের শরীর-স্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখতে এ’ছাড়া আমার আর অন্য কিছুই করার ছিলো না।

    *আমাদের একটা গ্লোবাল-প্ল্যান দরকার*

    এবার আসা যাক দ্বিতীয় চয়েসটি প্রসঙ্গে। ‘জাতীয়তাবাদী বিচ্ছিন্নতা’ ও ‘বিশ্বব্যাপী সংহতির’ মধ্যে কোনটিকে আমরা বেছে নেবো? করোনা-সংক্রমণ এবং তজ্জনিত অর্থনৈতিক সঙ্কট, দুটোই হলো গ্লোবাল-ক্রাইসিস। দুনিয়া জোড়া সঙ্কট। কাজেই বিশ্বব্যাপী সহযোগিতার মাধ্যমেই একমাত্র এই সঙ্কট থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব।

    করোনা-সংক্রমণকে আটকাতে সবার আগে দরকার দুনিয়া জুড়ে তথ্যের অবাধ আদান-প্রদান। এই জায়গাটায় আমরা, মানুষরা, করোনা ভাইরাসের তুলনায় এগিয়ে। মানুষকে আক্রমণ করার ব্যাপারে চীনের একটি করোনা ভাইরাস, আমেরিকার একটি করোনা ভাইরাসকে কার্যকরী টিপ্‌স দিতে অক্ষম। কিন্তু চীনের মানুষ আমেরিকার মানুষকে করোনা-সংক্রমণ রোখার ব্যাপারে অনেক গুরুত্বপূর্ণ টিপ্‌স দিতে পারে। একজন ইতালিয়ান ডাক্তার সকালবেলায় মিলান শহরে বসে যা আবিষ্কার করলেন, তা সন্ধ্যের মধ্যেই তেহ্‌রানে অসংখ্য মানুষের প্রাণ বাঁচাতে পারে। যখন ইংল্যান্ডের সরকার অনেকগুলি আর্জেন্ট স্টেপের মধ্যে কোন্‌টি আগে নেওয়া উচিৎ তাই নিয়ে কনফিউশনে পড়ে, তখন কোরিয়া তাকে দারুণ ভাবে সাহায্য করতে পারে, যারা হয়তো মাসখানেক আগেই ওই একই সমস্যায় পড়েছিলো। এ’সব কিছুই অসম্ভব নয়, তবে তার জন্য সবার আগে আমাদের মধ্যে বিশ্ব-ব্যাপী সহযোগিতা ও বিশ্বাসের মনোভাব গড়ে তোলা দরকার।

    দেশগুলোকে নিজেদের মধ্যে ইনফর্মেশন শেয়ার করার ব্যাপারে মুক্ত মনে এগিয়ে আসতে হবে। নম্র ভাবে অন্য দেশের কাছে পরামর্শ চাইতে হবে। অন্য দেশের দেওয়া তথ্য এবং বিশ্লেষণগুলোকে খোলা মনে গ্রহণ করতে হবে। বিশ্বাস করতে হবে। টেস্টিং কিট এবং রেস্পিরেটরি মেশিনের মতো অত্যাবশ্যক মেডিকেল-ইক্যুইপমেন্টগুলি তৈরি করা এবং ছড়িয়ে দেওয়ার জন্যও আমাদের একটা গ্লোবাল উদ্যোগ নিতে হবে। প্রতিটি দেশ আলাদা আলাদা করে এই কাজটি নিজের চৌহদ্দিতে করার বদলে যদি একটি গ্লোবাল উদ্যোগকে ঠিক ভাবে কোঅর্ডিনেট করা যায়, তাহলে জীবনদায়ী যন্ত্রগুলির আরও ব্যাপক উৎপাদন ও প্রয়োজন অনুযায়ী সেগুলির বিতরন সম্ভব। একটি যুদ্ধের সময় দেশগুলি যেমন মূল শিল্পগুলিকে ‘জাতীয়করণ’ করে, তেমনি করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে মানব-যুদ্ধের সময় আমাদের গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন-লাইনকে ‘মানবিক’ করার প্রয়োজন হতে পারে। ‘ন্যাশনালাইজ’ করার বদলে দরকার হতে পারে ‘হিউম্যানাইজ’ করা। অল্প কিছু করোনা-আক্রান্ত রোগী আছে, এমন কোনও ধনী দেশকে স্বেচ্ছায় এগিয়ে এসে বহুমূল্য সরঞ্জাম পাঠিয়ে দিতে হবে সেই সব গরীব দেশে, যেখানে করোনা-আক্রান্তের সংখ্যা অনেক। সেই ধনী দেশকে এটা বিশ্বাস করতে হবে যে প্রয়োজনে সে-ও একই রকমের সাহায্য পাবে অন্য দেশগুলোর কাছ থেকে।

    চিকিৎসকদের একজোট করার জন্যও আমরা এ’রকম একটা গ্লোবাল-উদ্যোগ নিতে পারি। কম আক্রান্ত দেশগুলো তাদের চিকিৎসকদের পাঠাতে পারে বেশী আক্রান্ত দেশগুলোতে। তাতে, প্রয়োজনীয় সাহায্য করাও হবে, আবার সেই চিকিৎসকরা অমূল্য অভিজ্ঞতা অর্জন করে নিজের দেশে ফেরার পর সেটা কাজেও লাগাতে পারবেন। মহামারীর ভরকেন্দ্র উল্টে গেলে, সাহায্যের গতিমুখকেও উল্টে দিতে হবে।

    অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও এই একই রকমের গ্লোবাল-সহযোগিতা প্রয়োজন। গ্লোবাল-ইকোনমির যুগে প্রতিটি দেশের সরকার যদি অন্যের স্বার্থকে উপেক্ষা করে খালি নিজের স্বার্থ দেখে, তাহলে সামগ্রিক ভাবে ক্যাওস বাড়বে বৈ কমবে না; দুনিয়া জোড়া অর্থনৈতিক সঙ্কট আরও গভীরই হতে থাকবে। আমাদের একটা গ্লোবাল-প্ল্যান-অফ্‌-অ্যাকশন চাই। এবং সেটা এক্ষুনি।

    আরও একটা জিনিস দরকার। সেটা হলো পৃথিবীর এ’প্রান্ত থেকে ও’প্রান্তে যাতায়াত করার জন্য একটি গ্লোবাল-বোঝাপড়া। মাসের পর মাস ধরে আন্তর্জাতিক যাতায়াত বন্ধ করে রাখলে তা পরিস্থিতিকে আরও বিগড়ে দেবে। করোনা-সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই তাতে আখেরে দূর্বলই হবে। গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞানী, চিকিৎসক, সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ীদের একটি লিস্ট বানিয়ে তাঁদের এক দেশ থেকে অন্য দেশে যাতায়াত করার ব্যাপারে সবাই সবাইকে সহযোগিতা করুক, এটাই কাঙ্খিত। একটা কমন বোঝাপড়ার ভিত্তিতে প্রথমে প্রতিটা দেশ তার নিজের দেশের এই ধরনের মানুষদের স্বাস্থ্য-পরীক্ষা করুক, যাঁরা অন্য দেশে যাবেন। আপনি যখন নিশ্চিত হবেন যে ভালো ভাবে পরীক্ষা করা একদল নীরোগ, সুস্থ-সবল কাজের মানুষই কেবল প্লেনে করে আপনার দেশে আসছে, দেখবেন আপনার টেনশনও কমবে। আপনিও তাতে উৎসাহীই হবেন।

    দুঃখের বিষয়, বর্তমানে খুব কম দেশই এ’সব নিয়ে ভাবছে। আন্তর্জাতিক ভাবেই আমরা প্যারালাইসড হয়ে পড়ছি। মনে হচ্ছে একটা বদ্ধ ঘরে কিছু বাচ্চা আটকে পড়েছে, যেখানে বড়রা কেউ নেই। গত সপ্তাহে সারা পৃথিবীর বড় বড় রাষ্ট্রনায়কদের একটা এমারজেন্সি মিটিং হবে বলে মনে হয়েছিলো, যাতে করে অন্তত একটা কমন প্ল্যান বানানো যায়। এই সপ্তাহে জি-সেভেনের নেতারা কোনোক্রমে একটা ভিডিও-কনফারেন্স করেছেন বটে, কিন্তু কাজের কাজ কিস্যুই হয়নি।

    অতীতে এই ধরনের সঙ্কটকালীন পরিস্থিতিতে, যেমন ২০০৮ সালের অর্থনৈতিক সঙ্কটই হোক অথবা ২০১৪ সালের ইবোলা-মহামারী, আমেরিকা একটা বিশ্ব-নেতৃত্বসুলভ ভূমিকা গ্রহণ করেছিলো। এবারে নেতার ভূমিকা থেকে সে পরিষ্কার ইস্তফা দিয়ে দিয়েছে। মার্কিন-মহত্ত্বকে আঁকড়ে ধরাই এখন তার কাছে প্রায়োরিটি, বিশ্ব-মানবতার ভবিষ্যতের চেয়েও।

    এই মার্কিন প্রশাসন এমনকি তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুদেরও ত্যাগ করেছে। ইউরোপিয়ন ইউনিয়ন থেকে আমেরিকায় ঢোকার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করার আগে এরা একবার বিষয়টা আগাম জানানোর পর্যন্ত প্রয়োজনীয়তা বোধ করেনি। জার্মানির একটি ফার্মাসিউটিক্যাল সংস্থাকে ১বিলয়ন ডলার দিয়ে করোনা ভাইরাসের ভ্যাক্সিনের একচেটিয়া অধিকার কিনতে চেয়ে এরা জার্মানিকেও কলঙ্কিত করেছে। এমনকি এই মার্কিন প্রশাসন আজ যদি হঠাৎ ভোল পালটে কোনও গ্লোবাল-প্ল্যান নেয়ও বা, তাহলেও খুব কম দেশই তাকে নেতা বলে মানবে, যে নেতা আবার কখনোই কোনও দায়িত্ব নেয় না, যে নেতা কখনোই নিজের ভুল স্বীকার করে না এবং যে নেতা সবসময়েই অন্যের ঘাড়ে সমস্ত দোষ চাপিয়ে ক্রেডিটের পুরোটা নিজে মেরে দেয়।

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই ফেলে যাওয়া শূন্যস্থানকে যদি দ্রুত অন্য দেশগুলি পূরণ করতে না পারে, তাহলে বর্তমান মহামারীটিকে সামলানো তো কঠিন হবেই, তার সাথে সাথে আন্তর্জাতিক সম্পর্কগুলোও আগামী দিনে আরও বিষিয়ে উঠবে। প্রতিটি সঙ্কট তবু একটি সুযোগকেও সামনে আনে। আমরা আশা করবো করোনা-মহামারী, পৃথিবীর দেশে-দেশে বর্তমান বিভেদের সাংঘাতিক বিপদটা সম্পর্কে মানবজাতিকে সতর্ক করবে।

    বিশ্ব-মানবতার সামনে আজ দুটো রাস্তা খোলা। যে কোনও একটা বেছে নিতে হবে। আমরা কি বিভেদ-বৈষম্যের সঙ্কীর্ণ পথেই পা বাড়াবো? নাকি বিশ্ব-সংহতির পথে? যদি আমরা অনৈক্যের পথ বেছে নিই, তাহলে তা শুধু এখনকার সঙ্কটকেই দীর্ঘায়িত করবে না, ভবিষ্যতে এর চেয়েও আরও খারাপ সঙ্কটকে ডেকে আনবে। আর আমরা যদি বিশ্ব-ব্যাপী সংহতি তথা সৌভ্রাতৃত্বের পথকে বেছে নিই, তাহলে তা শুধু করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধেই নয়, ভবিষ্যতের সমস্ত মহামারী তথা সঙ্কটের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমাদের জয়কে নিশ্চিত করবে। একবিংশ শতাব্দীতে গভীর ভাবে প্রভাবিত হবে গোটা মানব জাতি ।
  • আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1
  • সন্দীপ | 162.158.63.51 | ২৮ মার্চ ২০২০ ২২:৫৭730345
  • করোনা পরবর্তী পৃথিবী কেমন হবে -
  • করোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1
  • গুরুর মোবাইল অ্যাপ চান? খুব সহজ, অ্যাপ ডাউনলোড/ইনস্টল কিস্যু করার দরকার নেই । ফোনের ব্রাউজারে সাইট খুলুন, Add to Home Screen করুন, ইন্সট্রাকশন ফলো করুন, অ্যাপ-এর আইকন তৈরী হবে । খেয়াল রাখবেন, গুরুর মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করতে হলে গুরুতে লগইন করা বাঞ্ছনীয়।
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত