• হরিদাস পাল
  • খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে... (হরিদাস পাল কী?)
  • ধর্মনিরপেক্ষতা

    সুকান্ত ঘোষ
    বিভাগ : আলোচনা | ০২ মার্চ ২০২০ | ২০১ বার পঠিত
  • এক এক সময় প্রবীর ঘোষ-কে আমার ওই রিচার্ড ডকিন্স টাইপের মনে হয়। বড় বেশী র‍্যাডিকাল কথাবার্তা বলে ফেলে কখনও কখনও – ফলে হয় কি, প্রচলিত অর্থে মৌলবাদের বিরুদ্ধে বলতে বা লিখতে গিয়ে এরা নিজেরাই অপ্রচলিত অর্থের মৌলবাদী হয়ে ওঠেন। সেই জন্যই বলাই বাহুল্য সব কথার সাথে একমত হওয়া যায় না। কিন্তু আজকাল যা শুরু হয়েছে – মনে হচ্ছে এর থেকে বেড়িয়ে আসার জন্য সেই প্রবীর ঘোষের দাওয়াই-টাই ঠিক। সেই যে কি বলে না ইংরাজীতে – “ডেসপারেট টাইমস্‌ নীডস ডেসপারেট মেজারস্‌”, আমাদের দেশের সেই অবস্থা এসে গেছে মনে হয়।

    আজ থেকে প্রায় বছর কুড়ি আগের লেখা প্রবীর ঘোষের প্রবন্ধ “ধর্মনিরপেক্ষতার মুখ ও মুখোশ” প্রবন্ধটি আবার পড়ছিলাম। প্রবন্ধটি শুরু হয়েছে এক অত্যন্ত রদ্দি কবিতা দিয়ে, কার লেখা জানি না – আর কবির উল্লেখ নেই বলে ধরে নিচ্ছি যে এটা প্রবীর ঘোষেরই লেখা হয়ত! এত রদ্দি কবিতা লিখতে এলেম লাগে – তবে কিনা প্রাসঙ্গিকঃ

    “ধর্মনিরপেক্ষ মানে, দুদু খাব, তামুকও খাব
    ধর্মনিরপেক্ষ মানে, পক্ষ নেওয়া সুবিধা বুঝে
    ধর্মনিরপেক্ষ মানে, ফড়ে-দালাল নেতা ছাতার
    ভোট কুড়োবার ফন্দি ফিকির
    ধর্মনিরপেক্ষ মানে, বাঁজা বুদ্ধি, খাজা বুদ্ধির
    ফরমাইসি কচকচানি
    লক্ষ্মী সোরেন, করিম চাচা, মনে রাখিস এ তোর দেশ
    এ তোর বাতাস, এ তোর আকাশ, ঘুরে দাঁড়া
    ছাতা-মাথা আবর্জনা ঝেঁটিয়ে তাড়া”।

    প্রবীর ঘোষ এবার সেই ডেসপারেট মেজারস্‌ নিয়ে লিখছেনঃ

    “ধর্মনিরপেক্ষতাকে ভারতের সংবিধানে দু-মলাটের মধ্যে বন্দি অবস্থা থেকে মুক্ত করার এক্টাই রাস্তা – প্রয়োগ। কেন্দ্রীয় ও রাজ্যসরকারকে ধর্মনিরপেক্ষতার যথাযথ প্রয়োগ করতে হবে। এই প্রয়োগের সঙ্গে জনসমর্থন যুক্ত করতে সমস্ত মিডিয়াকে কাজে লাগিয়ে লাগাতার প্রচার চালাতে হবে। এই প্রচার হলো, সচেতন করার অর্থাৎ ‘অ্যাওয়ারনেস’ বাড়াবার প্রচার। প্রচারের মূল সুর হবে, ভারতীয় সংবিধানের ‘ধর্মনিরপেক্ষ (secular) শব্দের অর্থ তুলে ধরা। বোঝাতে হবে – সংবিধানকে মর্যাদা দিতে হলে ভারতকে ধর্মের ক্ষেত্রে থাকতে হবে নিরপেক্ষ, বিযুক্ত। রাষ্ট্রনীতি, রাজনীতি ও শিক্ষানীতি ধর্মীয় অনুপ্রবেশ থেকে মুক্ত থাকবে। সেই সঙ্গে ভারতকে ধর্ম্নিরপেক্ষ দেশ হিসাবে প্রতিষ্ঠা করার জন্য আবশ্যিক ও প্রাথমিক কিছু শর্ত পালন করতে হবে।

    আবশ্যিক ও প্রাথমিক শর্তগুলি হলঃ

    ১) প্রকল্পের শিলান্যাস, উদ্বোধন-সহ সমস্ত রকম রাষ্ট্রীয় কার্য-কলাপে পুজো বা অন্য কোন প্রকার ধর্মীয় আচার পালন এবং ধর্মীয় অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে হবে।
    ২) শিক্ষায়তনগুলিতে ধর্মীয় প্রার্থনা ও পুজো বেআইনী ঘোষণা করতে হবে।
    ৩) শিক্ষাক্ষেত্রের পাঠক্রমে ঈশ্বর তত্ত্ব আধ্যাত্মবাদ ও প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মীয়-বিশ্বাস ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত করাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে। পাঠ্যপুস্তকে দর্ম থাকতে পারে, শুধু ইতিহাস জানার প্রয়োজনে, ইতিহাসের পাতায়। ধর্মগুরু ও তথাকথিত অবতারদের জীবনীকে পাথ্যভুক্ত করা চলবে না।
    ৪) ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও কার্যকলাপে রাষ্ট্রনায়ক, বিধায়ক, রাজনৈতিক নেতা সহ সরকারি আমলাদের যেকোনও রকম অংশগ্রহণ, সহযোগিতে ও পৃষ্ঠপোষকতা নিষিদ্ধ করতে হবে।
    ৫) কোনও রাষ্ট্রনায়ক, সাংসদ, বিধায়ক বা রাজনৈতিক নেতা ধর্মীয় কার্যকলাপে সহযোগীতা বা পৃষ্ঠপোষকতা করলে অথবা প্রকাশ্যে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিলে অংশগ্রহনকারীকে রাষ্ট্রনায়ক বা সাংসদ বা বিধায়ক হিসাবে রাখা প্রতিটি পদ থেকেই বহিষ্কার করতে হবে।
    ৬) সরকারি প্রচার-মাধ্যমে ধর্মীয় প্রচারকে নিষিদ্ধ করতে হবে।
    ৭) কোনও আবেদন পত্রে আবেদনকারীর ‘ধর্ম’ জানতে চাওয়া চলবে না।
    ৮) সাংসদ, বিধায়ক অথবা মন্ত্রী হিসাবে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে শপথ নেবেন ‘সত্য-এর নামে। ‘ঈশ্বর’ ইত্যাদির নামে নয়।
    ৯) আদালতে ধর্মগ্রন্থ ছুঁয়ে শপথ গ্রহণ বাতিল করতে হবে।
    ১০) সংবিধান হবে আবশ্যিক ভাবে ধর্মীয় বিশান এবং অনুশাসনের ঊর্ধে।
    ১১) কোন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দান করা অর্থকে ‘করমুক্ত’ করার সরকারি নীতি বাতিল করতে হবে।
    ১২) কোন পুজো বা ধর্মীয় অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রনায়কেরা – যখন জনগণের উদ্দেশ্যে শুভেচ্ছা জানান, তখন রাষ্ট্রনায়কদের পৃষ্ঠপোষ্কতার রাষ্ট্রনীতি আর ধর্মনিরপেক্ষ থাকে না। ধর্মনিরপেক্ষতার স্বার্থে ধর্মীয় অনুষ্ঠান উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানাবার এই প্রচলিত সরকারি নীতি বাতিল করতে হবে।
    ১৩) কোন ধর্মের তীর্থযাত্রীদের যাত্রা খরচে সরকারি অনুদান বা ভরতুকি দেওয়া স্পষ্টতই ধর্মীয় ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় সহযোগীতা এবং পৃষ্ঠপোষকতা। রাষ্ট্রের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র বজায় রাখতে হলে ‘হজ’-সহ যে কোন তীর্থযাত্রিদের যাত্রা খরচে সরকারি অনুদান বা ভরতুকি দেওয়ার প্রথা বাতিল করতে হবে।
    ১৪) সরকারি তহবিল থেকে কোন ধর্মগুরুর মাইনে দেওয়া চলবে না। ইমামদের সরকারি তহবিল থেকে মাইনে দেওয়ার যে প্রথা এদেশের কিছু প্রদেশে চালু আছে তা বাতিল করতে হবে।
    ১৫) রাষ্ট্রীয় নেতাদের মৃত্যুকে উপলক্ষ করে ধর্মগ্রন্থ পাঠ ও সরকারি প্রচার মাধ্যম দ্বারা তা প্রচারের যে প্রথা রাষ্ট্র চালু রেখেছে, রাষ্ট্রের ধর্মনিরপেক্ষতা বজায় রাখার স্বার্থে সেই প্রথা বাতিল করতে হবে।
    ১৬) আমাদের দেশের সংবিধানের মূল নীতিকে বজায় রাখতে হলে রাষ্ট্রের ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ চরিত্রকে বজায় রাখতেই হবে।

    এই অবস্থায় ধর্মনিরপেক্ষতার পরিপন্থী প্রতিটি আইনকে বাতিল করতেই হবে”।

    তো এই হল প্রবীর ঘোষের লেখা ২০ বছর আগের। আর একটা বেশ ইন্টারেষ্টিং জিনিস নিয়েও নাড়াঘাঁটা করেছিলেন - তা হল 'ধর্মনিরপেক্ষতা'-র অর্থ 'সর্ব ধর্মের সমন্বয়' বলে প্রোজেক্ট করা।

    আর এখনকার কথা আর কি বলব - হতাশায় কিছু বলতে/লিখতে ইচ্ছে করে না। শুধু বর্তমান সরকারের আজে-বাজে কাজকর্মের জন্য নয় - বরং আমরা যেটা বেশী আলোচনা করি না সেটা নিয়ে - দুম করে দাঙ্গা বাধানো যায় না। তার ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে হয়। এবং সেই জমি তৈরীতে আমরা নিজেরাই সার দিয়ে গেছি - হয়ত অজান্তেই।

    সেদিন দেখলাম রোদ্দুর রায় গাঁজা খেয়ে খুব হাই হয়ে গেছে, ভালোই হয়েছে একদিক দিয়ে। ১-৪৫ মিনিটের পর থেকে বেশ কিছু যা বলার ছিল আমার, তা সে গাঁজা খেয়ে বলে দিল - আর টাইপ করতে হল না!

  • বিভাগ : আলোচনা | ০২ মার্চ ২০২০ | ২০১ বার পঠিত
  • আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা ভাইরাস

  • করোনা ভাইরাস

  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত