• বুলবুলভাজা  আলোচনা  বিবিধ

  • প্রিয় বইয়ের সাথে আলাপ

    কল্লোল দাশগুপ্ত লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | বিবিধ | ২৫ এপ্রিল ২০১০ | ৫৪৫ বার পঠিত
  • (প্রথম পর্বের পর)

    পাদ্রীর আবির্ভাব।

    নেমন্তন্নে যাবার কথা ছিলো দুই বন্ধুর, বেসিল আর মি: সুইনবার্নের, মিসেস থর্নটনের বাড়িতে। ওখানে থাকবেন ক্যাপটেন ফ্রেজার, বাঁদর বিশারদ। তাঁরই সম্মানার্থে এই নিমন্ত্রন। মিসেস থর্নটন একজন সুন্দরী ধনী বিধবা মহিলা।
    এমন সময় মি: সুইনবার্নের ডেরায় হাজির হন এক বৃদ্ধ পাদ্রী। রেভারেন্ড এলিস শর্টার। খুব বিপদে পড়ে এসেছেন সাহায্যের জন্য। প্রাণ নিয়ে টানাটানি। ফলে বিস্তারে তাঁর সেই অভুতপূর্ব বিপদের কথা শুনতে গিয়ে নেমন্তন্নে যাওয়া হলো না মি: সুইনবার্নের।
    বিপদটি বড়ই সাংঘাতিক রকমের। কিছু গুন্ডা মহিলা সেজে, জোর করে রে: শর্টারের দাড়ি-গোঁফ কামিয়ে, ওঁকেও মহিলা সাজতে বাধ্য করে। এতে নাকি ওনাকে অবিকল কর্নেল হকারের মায়ের মতো দেখতে লাগে। এই গুন্ডার দল কর্নেল হকারকে খুনের ষড়যন্ত্র করছে। রাতে কর্নেল হকার পরিচিত ছাড়া কাউকে বাড়িতে ঢুকতে দেন না। তাই রে: শর্টারকে বুড়ি সাজানো। শেষতক নানান ""অশ্লীল"", ""অমর্য্যাদাকর"" কান্ডো-কারখানা ঘটিয়ে সেই গুন্ডার দল এবং ঘটনায় জুড়ে যাওয়া এক পুলিশের হাত থেকে পালাতে সক্ষম হন রে: শর্টার।
    মি: সুইনবার্ন আর রে: শর্টার আসেন বেসিলের ডেরায়। সেখানে আরেকপ্রস্থ কাহিনী শোনার পর, বেসিল, রে: শর্টারের কাছে তাঁর মাথাজোড়া টাকটি চেয়ে বসে। সে এক হুলুস্থুলু কারবার। প্রকশ পায় বেসিলের কাছেও আর একজন রে: শর্টার এসেছিলেন যাঁকে বেসিল তার শোবার ঘরে আটকে রেখেছে।
    জানা গেল ঐ রে: শর্টারেরা আসলে ""আটকদার""। ক্যাপটেন ফ্রেজার এঁদের নিয়োগ করেছেন যাতে বেসিল ও মি: সুইনবার্ন নেমন্তন্নে অনুপস্থিত থাকেন। তাহলে উনি সেদিন নিভৃতে মিসেস থর্নটনকে বিয়ের প্রস্তাব দিতে পারেন।
    এ কিস্‌সাটিরও জায়গায় জায়গায় ছোট ছোট সব মন্তব্য, লক্ষ্য করার মতো।
    কে এক ক্যাপটেন ফ্রেজার আজ তাঁর ওখানে আসবেন, বাঁদর সম্পর্কে তিনি নাকি একজন বিশেষজ্ঞ।
    তার সম্মানে পার্টি দিচ্ছেন কে?
    বেসিলের বান্ধবী। সমাজে তিনি সহৃদয়া এবং অতিথিবৎসলা বলে সুপরিচিতা। ইদানিং রাজনীতি নিয়ে মত্ত আছেন।
    এই জাতীয় লোকজন সম্পর্কে চেস্টারটনের বিরক্তি এবং ব্যাঙ্গ খুব পরিষ্কার, লুকানোর কোন ইচ্ছে নেই। সেই সময়ে কোন মহিলা রাজনীতিতে উৎসাহী সেটা বেশ ""প্রগতিশীলতা""র লক্ষণ। কিন্তু এই ""প্রগতিশীল""দের লেখক কি চোখে দেখেন, তা পরিষ্কার আগের কিস্‌সায় লর্ড ব্যুমেন্টের ""প্রগতিবাদী"" পরিচয়ে।
    আর, ক্যাপটেন ফ্রেজার? ক্যাপটেন, সৈন্যবাহিনীর হতে পারেন। তবে পদ হিসাবে সৈন্যবাহিনীর ক্যাপটেন খুব তেমন
    একটা পদের নয়। অর্থাৎ ভিক্টোরিয় আমলের অভিজাতকূলে পাত্তা পাবার মতো নয়। বরং জাহাজের ক্যাপটেন অনেক বেশী গ্রহণযোগ্য। জাহাজের সাথে যুক্ত মানুষ আবার বাঁদর বিশেষজ্ঞও বটে (ব্যাঙ্গার্থে); মনে কি পড়ে প্রিয়? কোন নাম? ডারউইন, চার্লস।
    পরে, শেষ কিস্‌সাতে, নাম করেই ডারউইনের ""যোগ্যতমের টিঁকে যাওয়া""র তত্ত্ব নিয়ে আপত্তি বেশ স্পষ্ট। ধর্মযাজকদের নিয়ে ছোট্ট একটা বাঁকা হাসি।
    যখন রে: শর্টার লেখককে বলছেন -
    ভাবতে পারেন চ্যান্সীর এই নিরীহ ধর্মযাজককে জোর করে এজটা বুড়ী সাজানো হয়েছিলো? বুড়ি সাজিয়ে আমাকে দিয়ে মারাত্মক রকমের একটা অপরাধ করিয়ে নেবার চেষ্টা হয়েছিলো, ভাবতে পারেন এ কথা?
    চেস্টারটনের ঝিলিক দেওয়া জবাব -
    পারাটা একটু কষ্টকর বটে, তবে কি জানেন আপনাদের ধর্মযাজকদের যে কী করতে হয়-না-হয় আমি ঠিক জানি না। তবে ও কাজটা বোধহয় আপনাদের কর্মতালিকার অন্তর্ভুক্ত নয়।
    এবং আবারও শার্লক হোমস বা ঠিকঠাক বললে শার্লক হোমস সংষ্কৃতি নিয়ে-
    যখন রে: শর্টার তার গল্পটি, প্রচুর অপ্রাসঙ্গীক ভূমিকাসহ সবিস্তারে বলতে শুরু করেছেন, তখন -
    সবিস্তার ভূমিকা। রে: শর্টার বেশ ধীরে সুস্থে এইসব খুঁটিনাটি ঘটনার বর্ণনা দিয়ে চলেছেন, আর বেশ আগ্রহের সঙ্গে। ভদ্রলোকের বোধহয় গোয়েন্দা কাহিনী পড়া আছে; সেই যে সেই সব বই - গোয়েন্দারা যেখানে এইসব আপাত-অপ্রাসঙ্গীক খুঁটিনাটি ঘটনার ওপরেই সব থেকে বেশী গুরুত্ব আরোপ করেন!

    স্থান রহস্য।

    লেফটানেন্ট ড্রামন্ড কীথ এবং তাঁর ব্যক্তিগত উদ্ভট অ্যাডভেঞ্চারের কিস্‌সা নিয়ে শ্রোতাবর্গের মধ্যে অসম্ভব অবিশ্বাস। অথচ তাঁকে উপেক্ষা করার উপায় নেই কারুর। ভীষণ অবিন্যস্ত সাজপোষাক, একটি কিটব্যাগ, তাতে দুটো বর্শা, একটা সবুজ ছাতা, একটা শতচ্ছিন্ন পিকউইক পেপার্স, বড় একটা রাইফেল, এক বোতল প্রাচ্য দেশীয় মদ ও একটি মরচে ধরা তরোয়াল - এই হলেন তিনি। প্রায়ই বাড়ি বদলান আর বন্ধুদের থেকে টাকা ধার করেন। রূপার্টের বদ্ধমূল ধারণা লেফটানেন্ট একটি ঠগ বিশেষ, লেখকও তার সাথে প্রায় একমত। শুধু বেসিল স্থিরনিশ্চিত যে উনি বড় বেশী সত্যবাদী। আর সত্যিগুলো বলেন বড় বেশী সাদামাঠা ভঙ্গীতে।
    একবার, একটা নতুন ভাড়া নেওয়া বাড়ির জন্য লেফটানেন্ট বেসিলের কাছে কিছু টাকা ধার চাইতে, গোলমালটা পেকে ওঠে। রূপার্ট সোজাসুজি সন্দেহ প্রকাশ করে। যদিও এই ""সোজাসুজি সন্দেহ""টা, ভিক্টোরীয় ভদ্রতা বজায় রেখেই করা হয়। ফলে লেফটানেন্ট ওদের নিয়ে যান ওনার বাড়ির দালাল মি: মন্টমরেন্সির কাছে। মি: মন্টমরেন্সি একটা পোষা বেজী, একটা পোষা মাকড়শা এবং একটি পোষা সাপ নিয়ে ঘোরেন। এহেন বাড়ির দালালকে লেফটানেন্ট বারবার অনুরোধ করেন যে, উনি নিরিবিলিতে থাকতে চান, তাই বাড়িটাকে যেন সবুজ রং করানো হয়, যাতে কারুর চোখে না পড়ে।
    ঘটনাচক্রে একটা উটকো ঝামেলায় জড়িয়ে পড়ে, পুলিশের কাছে লেফটানেন্টকে তার ঠিকানা দিতে হয় - এলম নিবাস, বাক্সটন কমন, সারে।
    পরে পুলিশ তদন্ত করতে গিয়ে দ্যাখে, অমন ঠিকানায় কোন বাড়ির অস্তিত্বই নেই। ওরা তিন জন বের হয় বাড়ির খোঁজে।
    শেষ পর্যন্ত বাক্সটন কমনের এক এলম গাছে ভরা প্রান্তরে তারা বাড়িটি খুঁজে পান, অবশ্যই বেসিলের কৃতিত্বে, একটা মহাদ্রুম এলমের মগডালের কাছে গাছবাড়িতে।
    সেই গাছবাড়ির বৈঠকখানায় শ্যাম্পেনে চুমুক দিতে দিতে বেসিল আবারও তার প্রত্যয়ের পুনরাবৃত্তি করে - লেফটানেন্ট বড় বেশী ও বড়ই সাদামাঠা সত্যবাদী। উনি যদি লন্ডনের কোন ঘিঞ্জি অঞ্চলে বাসা নিয়ে তার নাম দিতেন এলম নিবাস, তাতে কেউ অবাক হতো না। সেটাই আসলে অবাক করার বিষয়।
    মানুষ চেনার এই যে গপ্পো, যা মানুষের ভিতরের মানুষটাকে চিনতে চায়, বাহ্যিক মানুষটাকে নয়,এটা আমরা আগেও দেখেছি - প্রতিভার অপমৃত্যু-তে।
    একদিকে শার্লক হোমস যখন আঙ্গুলের ক্ষয়ে যাওয়া নখ, জুতোর গোড়ালি, কলারের ভাঙ্গা কোনা থেকে মানুষ সম্পর্কে ""অকাট্য"" ধারণা তৈরী করছেন, তখন একটা মানুষের বলা গল্পের পটভূমি, তার শরীরভাষার মতন, সেইসময়কার যুক্তিকাঠামোর বাইরে থাকা বিষয় কে, গুরুত্ব দিয়ে ভাবা - নি:সন্দেহে সাহসের পরিচয়। এর কিছু আগেকার ঘটনা (১৮৩৮) গৌতম ভদ্র তার ""জাল রাজার কথা""তে, দেখিয়েছেন মানুষ চেনার ঐ সব লক্ষণগুলিকে, ঔপনিবেশিক বিচারব্যবস্থা কিভাবে অস্বীকার করছে। সেদিনের বৃটিশ বিচারব্যবস্থা যখন প্রতাপচাঁদকে চিনতে চাইছে, তার চোখের রং, উচ্চতা, কাটা দাগ বা জরুলের উপস্থিতি দিয়ে, তখন সাধারণ মানুষ (পক্ষে বা বিপক্ষে) চিনতে চাইছে, চোখের দৃষ্টি, কথার/ দাঁড়ানোর/বসার ভঙ্গী দিয়ে।

    নৃত্যের তালে তালে।

    বেসিলের নানান কিসিমের বন্ধুদের একজন নৃতত্বের প্রোফেসর শ্যাড। উনি সেই বিরল মানুষদের একজন যাঁর বাড়ি বয়ে আড্ডা মরতে যায় বেসিল।
    সেদিন কথা হচ্ছিলো ওনার সাম্প্রতিক একটি প্রবন্ধ নিয়ে ""জুলু স্বার্থ ও নয়া ম্যকাঙ্গো সীমান্ত""। যাতে প্রোফেসর জুলুদের আচার-অনুষ্ঠানের নানান বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা পেশ করেছেন। সেইসঙ্গে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন ইংরেজ এবং জার্মান কর্তৃপক্ষের কার্যকলাপের বিরুদ্ধে, যারা স্থানীয় আদিবাসীদের আচার-অনুষ্ঠানের ওপর অন্যায় হস্তক্ষেপ করছে বলে তিনি মনে করেন।
    বেসিলের তর্কটা অন্য স্তরের। তার বক্তব্য, প্রোফেসর একজন জুলু বিশেষজ্ঞ হতেই পারেন, কিন্তু বেসিল নিজে তার চেয়ে অনেক বেশী জুলু। কারন, প্রোফেসর মনে করেন জুলুরা একটা অনুন্নত স্তরে আটকে আছে, আর বেসিল ঐ উন্নত-অনুন্নত-র ধারণাটাকেই চুনৌতি দিয়ে বসে আছে।
    এইসব আড্ডার মাঝেই খবর আসে, প্রোফেসর বৃটিশ মিউজিয়ামের ""এশিয়াটিক ম্যানুস্ক্রিপ্ট"" বিভাগের কীপার হিসাবে মনোনীত হয়েছেন।
    পরদিন সকালেই প্রোফেসরের বাড়ি থেকে জরুরী তলব পেয়ে দুই বন্ধু সেখানে গিয়ে দেখে উনি নেচে চলেছেন। ঋষির মতো মগ্ন- শান্ত মুখে, নর্তকীর মত চঞ্চল পায়ে উনি নেচে চলেছেন বাড়ির ভিতরদিকের বাগানে। পরিবারের অন্যান্যরা ভয়ানক রকমের দুশ্চিন্তায়। তাদের বদ্ধমূল ধরনা, প্রোফেসর পেগলে গেছেন।
    ওদিকে সেদিনই বৃটিশ মিউজিয়ামের চাকরীটার ব্যাপারে পাকা কথা বলতে আসবেন সেখানকার এক হোমরাচোমরা।
    বেসিল চট করে চলে যায় বাগানে প্রোফেসরের মুখোমুখি। ওনার সাথে কিছুক্ষন কথা বলতে বলতেই পকেট থেকে নোটবই আর পেন্সিল বার করে প্রোফেসারের সাথে সাথে ঘুরে ঘুরে কিসব টুকতে শুরু করে। তারপর একটা সময়, পেন্সিল পকেটে পুরে, নোটবই হাতে প্রোফেসরের সাথে নাচতে শুরু করে।
    এর মধ্যে বৃটিশ মিউজিয়ামের মি: বিংহ্যাম হাজির হয়েছেন এবং দুই বৃদ্ধের এহেন নৃত্যাচরণে তিনি যারপরনাই স্তম্ভিত।
    বেসিল শেষ পর্যন্ত তাকে বোঝাতে সক্ষম হয়, যে প্রোফেসর আসলে একটা নিরীক্ষা চালাচ্ছেন। ব্যক্তিমানুষ একক প্রচেষ্টাতেই ভাষা তৈরী করতে পারে, সেই তত্ত্বটিই তিনি প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছেন। মি: বিংহ্যাম প্রোফেসরকে তার নাচ না থামানো পর্যন্ত মাসিক আটশো পাউন্ড ভাতা দিতে সম্মত হন।
    এ কিস্‌সাটির মজা দুটি জায়গা থেকে।
    নৃতত্ত্ববিদ্যা তখন জ্ঞানচর্চার জগতে হৈচৈ ফেলে দেওয়া নতুন শাখা। ই বি টেইলর, জে জি ফ্রেজারের হাত ধরে তখন নৃতত্ত্ববিদ্যা, অ-ইউরোপীয় অপর-মানুষদের বিশ্লেষনে ইউরোপীয় জ্ঞানপথ আলোকিত করছে, তখন চেস্টারটন একজন সম্মানিত নৃতত্ত্ববিদকে তাঁর জ্ঞানচার্চার ভিত্তি নিয়েই প্রশ্নের মুখে ফেলে দিচ্ছেন। তুমি একজন বৈজ্ঞানিক; এবং সেইসূত্রে জুলুদের সম্পর্কে অনেক তথ্যই হয়তো তুমি জানো। কিন্তু বাপু আমিও কিছু কম জানিনা। হয়তো তোমার থেকে বেশীই জানি। তার কারণ, আমি নিজেই একটি জুলু। মেজাজের দিক থেকে তাদেরই আমি স্বগোত্র।
    বা
    ক্রম-বিবর্তনের যে বিশেষ-স্তরটিতে জুলুরা এখন রয়েছে, কোনমতেই তাকে আমি অনুন্নত বলতে রাজি নই। জুলুরা শুনেছি চাঁদের দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে ওঠে, শুনেছি তারা অন্ধকারে ভূতের ভয় পায়। তা তাতে দোষটা কি হলো? আমি অন্তত: এর মধ্যে কিছুমাত্র নির্বুদ্ধিতা দেখতে পাচ্ছি না। আমার তো বরং একে রীতিমত একটা তাত্ত্বিক ব্যাপার বলে মনে হচ্ছে। জীবনের রহস্য কিংবা তার অনিশ্চয়তাকে উপলব্ধি করেছে বলেই কি তাদের নির্বোধ ঠাউরে নিতে হবে?
    আজকের নিম্নবর্গীয় ইতিহাস চর্চা প্রায় কাছাকাছি প্রশ্নই তুলে ফেলেছে।
    সেই সময়, মানুষের সামাজিক ইতিহাসের সব যুগান্তকারী আবিষ্কারে ব্যক্তি মানুষের প্রয়াসকে ছোট করে দেখার চল। মানুষের যৌথ-সামাজিক ভূমিকার সপক্ষে মত প্রবল হয়ে উঠছে। তখন,ব্যক্তি মানুষের প্রচেষ্টায় একটা নতুন ভাষা তৈরী হচ্ছে- স্রোতের বিরুদ্ধে যাওয়ার এই আশ্চর্য্য প্রত্যয়ের নাম - চেস্টারটন।

    বৃদ্ধার নির্বাসন।

    আধ ক্রাউন বাজি রেখে লেখক আর রূপার্ট এক গোয়ালার পিছু নেয়। রূপার্টের মতে - গোয়ালা না হাতি, ছদ্মবেশী শয়তান কোথাকার।
    কারন কি? না, লোকটা দুধের বালতি নিয়ে হাঁটছে। তাতে অজস্র দুধ চলকে পড়ে যাচ্ছে রাস্তায়,এতে তার কোন হুঁশ নাই। অতএব বিষয়টি সম্যক জরিপ করতে পিছু নেওয়া। লেখক এই ধারণায় রূপার্টের সাথে একমত নন, তাই বাজি।
    গোয়ালাটি একটা বাড়ির ভিতর ঢুকে গেলে, রূপার্টও সেই বাড়িতে ঢুকে পড়ে এবং পাঁচ মিনিট পরে গোয়ালা বেরিয়ে গেলে ফিরে আসে রহস্যের দমফাটা উত্তেজনা নিয়ে। না, গোয়ালাটি নিরীহ এবং নির্দোষ - রুপার্ট নিশ্চিত। রহস্য অন্যত্র। ঐ বাড়ির ভিতরের একটি ঘরে একজন মহিলা কাঁদছেন আর কোন অদৃশ্য রহস্যময় শয়তানের কাছে কাকুতি মিনতি করছেন তাঁকে ছেড়ে দেবার জন্য।
    যথারীতি রহস্য উদ্‌ঘাটন ও সমাধানের জন্য দুই মূর্তি যান তৃতীয় মূর্তির কাছে। বেসিল সব শুনে-টুনে ওদের নিয়ে নতুন এক রেস্টুরেন্টে খেতে যাবার কথা আর তারপর থিয়েটার দেখতে যাবার কথাও বলে। কারণ, ভাই রূপার্ট সম্পর্কে বেসিলের ধারণা - ছোকরার যুক্তিগুলো সব মোক্ষম। দু:খের কথা, ঐ যুক্তিবুদ্ধির বাড়াবাড়িই ওর বিচারবুদ্ধির মাথা ঘুলিয়ে দেয়।
    কিন্তু ভবি ভোলার নয়। তাই লেখক আর রূপার্ট শেষ পর্যন্ত বেসিলকে নিতান্ত অনিচ্ছুক সাথী হিসাবে ঐ উদ্ধার অভিযানে সামিল করতে সক্ষম হয়। পরিকল্পনা মতো বেসিল ঐ বাড়িতে ঢুকে দুই ""পাহারাদার""এর সাথে অপরিকল্পিত ভাবে প্রায় মিনিট কুড়ি ধরে আলাপ জমিয়ে আসে। বেসিল বেরিয়ে আসার সময় দরজায় দাঁড়িয়ে বিদায়ের আগমুহুর্তের কথাবার্তা শুনে বোঝা যায় আলাপের বিষয়টি দার্শনিক, সম্ভবত: আত্মার অস্তিত্ব-অনস্তিত্ব নিয়ে।
    বেসিলের যারপরনাই আপত্তি সত্ত্বেও ওরা তিন জনেই ঐ ""পাহারাদার" দুজনের ওপর হামলা চালাতে সিদ্ধান্ত নেয়। যদিও বেসিলের মতে - ও দুটি ছেলেই অত্যন্ত সৎ। অক্সফোর্ড থেকে ডিগ্রি নিয়ে বেরিয়েছে, ব্যবহারও চমৎকার। দোষের মধ্য চরম ডারউইন ভক্ত। ঐ যে বিবর্তনবাদ না কি-সব কথা উঠেছে আজকাল-ঐসব মাথায় ঢুকেছে আর কি।
    তা সে যাই হোক, এক ভায়ানক রকমের ধস্তাধস্তির পর ওদের দুজন আর তাদের আরও দুই সাকরেদকে বেঁধে ফেলা হলো। বেসিলকে ওদের পাহারায় রেখে দুই মূর্তি চললেন সেই বন্দী নারী উদ্ধারে। যেতে যেতে শুনতে পেলো বেসিল এবং কবজা করে ফেলা ছোকরাদের একটি, পুরোনো আলোচনাটা চালু করে দিলো।
    ওদিকে সেই মহিলাকে উদ্ধার করতে গিয়ে আর এক উদ্ভট ঝামেলা। রূপার্ট যখন ওঁকে আশ্বস্ত করলো যে ওনার আর কোন বিপদ নেই উনি মুক্ত, মহিলা গোঁ ধরলেন - মুক্তি চাই না ওনার। কোনোভাবেই মুক্ত হতে চান না তিনি। শুধু তাই নয়, উল্টে উনি সেই ""পাহারাদার"" ছোকরাদের জন্য ভীষণ চিন্তিত হয়ে পড়লেন। শেষ পর্যন্ত, বন্দী ছোকরাদের নিয়ে আসা হলো, বেসিলও এলো তাদের সাথে। এবং তখনই ঘটে গেলো এই আখ্যায়িকার, বা শুধু এই আখ্যায়িকারই বা কেন, এই গোটা উপন্যাসের সবচেয়ে চমকপ্রদ ঘটনাটি। বন্দী নারী চকিতে উঠে দাঁড়ালেন এবং অসাধারণ সম্ভ্রমে অভিবাদন করলেন - হ্যাঁ, আমাদের অতিপরিচিত বেসিলকে।
    জানা গেলো, বেসিল একটি গুপ্ত বিচারলয় পরিচালনা করে। প্রথম জীবনে আমি ছিলাম একজন জজ। সবাই যাতে সুবিচার পায় সেই চেষ্টাই তখন আমি করেছি। কিন্তু সে চেষ্টা যে সম্পূর্ণই অর্থহীন, ধীরে ধীরে তা আমি উপলব্ধি করতে পারলাম। বুঝতে পারলাম যে মানুষের তৈরী এই আইনকানুনগুলো একটা অর্থহীন ঠাট্টা মাত্র। যে আদালতে সুবিচার হবার কথা, বিচারের নামে সেখানে প্রহসন চলছে। জমকালো পোষাকে জজের আসনে আমি বসে থাকতাম, লোকে বলতো ন্যায়াধীশ। হা:, ন্যায়াধীশ! আসলে যে আমি একটা সাক্ষীগোপালমাত্র, তা আর কেউ না বুঝুক আমি বুঝতাম। লজ্জায় আমার মাথা কাটা যেতো। কীইবা আমার ক্ষমতা! দুটি মাত্র ওষুধ আমার হাতে - জরিমানা আর জেল। আর তাকেই সম্বল করে কি না আমি সমাজের সর্বব্যাধি নিরাময় করতে চলেছি। জেলে দেওয়া বা জরিমানা করা আমার উদ্দেশ্য নয়, আমার উদ্দেশ্য কলহবিবাদের মীমাংসা করা। আর তা যদি হয়, তো জেল-জরিমানাতে কিছুমাত্র কাজ হবে না। তার চাইতে বাদী-বিবাদীকে যদি চুমু খেতে বাধ্য করা হয় বা দুজনকেই ধরে যদি চাবকে দেওয়া যায়, তো ঢের সহজেই তার একটা মীমাংসা করে ফেলা যায়। পরস্পরের সঙ্গে কয়েক মিনিট আড্ডা, কিংবা ডুয়েল লড়েও মীমাংসা করা যায়। এ সব দাওয়াই ঢের বেশী কার্যকারী। মুস্কিল হলো আইন তা বোঝে না। জেল-জরিমানার মধ্য দিয়েই সব ব্যাপারের ফয়সলা করতে চায়।
    এই উপলব্ধির পরই আমি ঐ বিচারব্যবস্থা ছেড়ে আসতে বাধ্য হই। তারপর থেকেই আমি এক নতুন বিচারব্যবস্থার প্রবর্তন করেছি। মানুষের যা কিছু নৈতিক অপরাধ তার অবসান ঘটানই আমার এই নতুন বিচারব্যবস্থার উদ্দেশ্য। খুনজখম বা বিনা অনুমতিপত্রে কুকুর পোষা, এসব ছোটখাট অপরাধ নয়, বরং এর চাইতে ঢের বড়ো অপরাধ, সমাজ জীবনকে যা দুর্বিষহ করে তুলেছে - স্বার্থপরতা, কুৎসা রটনা, মা-বাবার বা সন্তানের প্রতি দুর্ব্যবহার এসবরই আমি বিচার করে থাকি। শাস্তি হিসাবে আমি যে দন্ডই দেই না কেন, অপরাধীরা তা সন্তুষ্টচিত্তেই মেনে নেয়।

    আধুনিক আইনব্যবস্থার এই অসাধারণ সমালোচনা, আজ থেকে একশো বছরেরও আগে এইভাবে করেছেন যিনি, তাঁকে কোন সেলামই যথেষ্ট নয়।
    আমরা খালি বিস্ময়ে লক্ষ্য করে যেতে পারি কিভাবে এই অনন্য প্রতিভা, শুধু শাস্তিব্যবস্থাই নয় অপরাধের সংজ্ঞাও অন্যভাবে নির্ধারণ করেছেন। মাত্র কয়েক দশক আগে মাত্র কয়েকটি রাষ্ট্র স্বীকার করেছে যে কারাগার আসলে সংশোধনাগার। অথচ আশ্চার্য্যজনকভাবে ঐ কারাগারব্যবস্থার সাথে জড়িত, শাস্তিব্যবস্থা, অপরাধ-নির্ধারণব্যবস্থা, বিচারপদ্ধতি এই সব কিছুই অপরিবর্তিত রয়ে গেলো!
    না এই বিচারপদ্ধতি, না এই শাস্তিব্যবস্থা কোনটাই অপরাধীকে তার অপরাধ নিয়ে সচেতন করে না। অপরাধ যে করেছে তার এই উপলব্ধিই জন্মায় না যে সে আসলে খুব খারাপ কিছু করেছে। তাই শাস্তি মেনে সে নেয় না, তাকে হিংসার আশ্রয় নিয়ে মানানো হয়।
    আজ মানবাধিকার কর্মীদের একাংশ এটা নিয়ে যে লড়াই করছেন, তার শুরুর ঋত্বিক তো এই গিলবার্ট কীথ চেস্টারটন।
    আর একটা উপলব্ধি ভাগ করে নিয়ে আমার প্রিয়তম বইগুলোর একজনের সাথে আলাপ করিয়ে দেবার নটেগাছটি মুড়াবো।
    যদিও ১৮৬৭ সালেই দাস ক্যাপিটাল লেখা হয়ে গেছে। মার্কস বুর্জোয়া ব্যবস্থাকে বিদ্ধ করছেন - এই ব্যবস্থায় সব কিছুই বিনিময়মূল্যে নির্ধারিত। তবুও আজ থেকে একশো বছরেরও আগে এটা ভাবতে পারা যে একদিন এই ব্যবস্থায়, রহস্য-রোমাঞ্চ থেকে প্রেমিকার সাথে নিভৃতালাপের মূহুর্ত, নির্জনতা থেকে ব্যক্তিত্ব নির্মান কিংবা জ্ঞানচর্চা সবই বেচা যাবে - সেখানে, সেখানেই চেস্টারটন স্রেফ অনন্যসাধারণ।
    --------------------------------------------------::-------------------------------------------------------------
    অনুবাদ নিয়ে কিছু বলার নেই। নীরেনবাবুর মতো স্রষ্টা যখন চেস্টারটন অনুবাদ করেন, তখন আমাদের মতো অগা-বগার ওসব নিয়ে ফুট কাটতে যাওয়া - সখ্‌ত বে-আদবী।


  • ২৫শে এপ্রিল, ২০১০
  • বিভাগ : আলোচনা | ২৫ এপ্রিল ২০১০ | ৫৪৫ বার পঠিত
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

কুমুদি পুরস্কার   গুরুভারআমার গুরুবন্ধুদের জানান


  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ঝপাঝপ মতামত দিন