• বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়।
    বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে।
  • কলকাতার কানাচে - ১ ঃ সেক্টর ফাইভ পর্ব

    সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়
    ধারাবাহিক | ২৮ মার্চ ২০১১ | ৫৭ বার পঠিত

  • কলকাতা নয়, তবু কলকাতার দ্রষ্টব্য দেখতে হলে এখানে আসতেই হবে। এখানে মানে আমাদের সল্টলেক সেক্টর ফাইভে।

    আমাদের এই সেক্টর ফাইভ নাকি শিল্পায়নের শোকেস। অন্য কিছু নয়, শোকেসের হাল দেখলেই গোডাউনের অবস্থা টের পাওয়া যাবে। ঢুকলেই দেখবেন সার বাঁধা ইয়া লম্বা সব ঢ্যাঙা ঢ্যাঙা বিল্ডিং। পাশাপাশি গা ঘেঁষাঘেঁষি করে দাঁড়িয়ে আছে। যেন যতিহীন কবিতার লাইন। সারি-সারি তালগাছ। এক-এক পায়ে দাঁড়িয়ে। স্লিক অ্যান্ড স্মার্ট, কিন্তু মাঝে কোনো বিরতির বালাই নেই। অবশ্য বিরতি থাক বা না থাক, বিল্ডিংরা সকলেই খুব ইউনিক। এখানেই তৈরি হচ্ছে বিশ্বের সর্বপ্রথম "আইটি হ্যাবিট্যাট'। এখানেই পাবেন বিশ্বের প্রথম এবং সম্ভবত একমাত্র "বুদ্ধিমান' বাড়ি। যার নাম ইনফিনিটি। কতটা বুদ্ধি আছে বিল্ডিং দেখে টের না পাওয়া গেলেও (নিশ্‌চয়ই আছে, কোম্পানি কি আর ঢপ দিচ্ছে?) ,নামের বাহারটি প্রশংসনীয়। অটোর ড্রাইভার কিংবা বাসের কন্ডাক্টার "নামবেন কোথায়?' জিজ্ঞাসা করলে সটান যখন বলবেন "ইনফিনিটি', দেখবেন সীমার মধ্যে অসীম কেমন করে আপন সুর বাজায়, সেই রহস্য আপনার হাতের মুঠোয়। বুক আপনিই ফুলে উঠছে গর্বে। নিজেকে কেমন একটা জর্জ গ্যামো, জর্জ গ্যামো মনে হচ্ছে।

    অটো থেকে নেমে রাস্তার সামনে এই সব ঢ্যাঙা বিল্ডিং এর সামনে দাঁড়াবেন। গায়ে পুলক লাগবে। চোখে ঘোর ঘনাবে। না ঘনানোর কিছু নেই। এতো আর সরকারি আপিস নয়, এসব কাচের বাড়ি। সূর্যের আলো পড়লে সেই কাচ ঝকঝক করে। ঠিকরে পড়ে আলো। মেনটেনান্সের বহর দেখলে মাথা ঘুরে যাবে। কপাল ভালো থাকলে রাস্তা থেকেই দেখতে পাবেন, স্রেফ বাইরের দেয়াল পরিষ্কার করতেই কি হ্যাপা। ঠিকে মজদুররা আট-দশ-বারো-চোদ্দো তলার ছাদ থেকে কোমরে দড়ি লাগিয়ে বাঁদরের মতো ঝুলে পড়ছে। তারপর নামতে নামতে কাচ পরিষ্কার করছে। বিল্ডিং এর ভিতর থেকে দেখলে এদের স্পাইডারম্যানের মতো লাগে। দেখে আপনার গা শিউরে শিউরে উঠবে। দেখলে হবে, খচ্চা আছে।

    এই সব উন্নততর বিÒডিংএর ঠিক সামনেই দেখবেন সরু সরু রাস্তা। পাকা না কাঁচা বোঝা শক্ত। বৃষ্টি পড়লে খাটাল, আর না পড়লে নাগপুরের পঞ্চম দিনের পিচ। কোপানো আলুক্ষেত। ফুটপাথের এক্কেবারে বালাই নেই। লোকে রাস্তা দিয়েই হাঁটবে ধরে নিয়েই টাউন প্ল্যানিং করা হয়েছে। ইদানীং কোনো কোনো জায়গায় রাস্তা কেটে করে ফুটপাথ বানানো হলেও খুব কায়দা করে নীল রেলিং দিয়ে সেসব ঘিরে দেওয়া হয়েছে। উদ্দেশ্য খুব সৎ। লোকে যেন ফুটপাথ থেকে রাস্তায় না নামে। তা, লোকে সেই ভয়ে ফুটপাথে ওঠাই ছেড়ে দিয়েছে। দোকানগুলো অবধি নেমে এসেছে রাস্তায়। সরু রাস্তা আরও সরু হয়েছে। এবং সেখানে পিলপিল করছে লোক। রোগামোটালম্বাসরু। লাইন দিয়ে যাচ্ছে। তার মধ্যে দিয়ে নানা রোমহর্ষক কায়দায় এঁকেবেঁকে অটো চলেছে। আমাদের ছোটো অটো চলে আঁকেবাঁকে। অফিস টাইমে তাতে টার্জান থাকে। বাসরা রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে। নড়েওনা চড়েওনা। কন্ডাক্টররা চিল্লাচ্ছে, রিক্সারা ভেঁপু বাজাচ্ছে, গাড়িরা তেড়ে হর্ন দিচ্ছে, আর বাকিরা শাপশাপান্ত করছে। রাস্তার হরেকরকম দেশি-বিদেশী গাড়ির ভিড়। সিগনালের বালাই নেই। একেকটা মোড়ে জনা ছয়েক করে পুলিশ আর হোমগার্ড আকাশের দিকে লাঠি উঁচিয়ে আছে। গাড়িরা খানিকটা সার দিয়ে চলেই যেখানে খুশি নাক গুঁজে দিচ্ছে। উল্টো দিকের রাস্তা থেকে তখন আরেকগুচ্ছ গাড়ি এসে হাজির হচ্ছে। সবাই মিলে হর্ন দিচ্ছে, খিস্তি করছে, আর যেখানে সেখানে নাক গুঁজে জটটা আরও খোলতাই করে তুলছে।

    এসবের মধ্যে যেকোনো দিকে দু-পা এগোলেই দেখা যাবে কোনো একদিকের রাস্তা বন্ধ। কাজ হচ্ছে। এসব কাজ রোজই হয়। বিশেষ করে সোম থেকে শুক্কুর। লোকের যখন অফিস টাইম, এখানে রাস্তা তখনই সারানো হয়। দশটা থেকে পাঁচটা। শনি-রোব্বার বাদ। ওনাদেরও তো ঘর সংসার আছে নাকি? কনস্ট্রাকশন কোম্পানিতে কাজ করে বলে কি মানুষ নয়? তাই দেখবেন, ডিভাইডারের উপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছে অটো। ফুটপাথের থুড়ি রাস্তার চায়ের দোকানের ভিতরে বেঞ্চির ফাঁক দিয়ে চলছে মোটর সাইকেল। লাফাতে লাফাতে। এসবের মধ্যেই শোফার ড্রিভন কার থেকে নামছেন কর্পোরেট বড়ো কর্তা। গ্লাভস পরা ড্রাইভার দরজা খুলে সেলাম করছে। ল্যাপটপ নিয়ে আপিসবাবুরা চায়ের দোকানে বসে ঠেক দিচ্ছেন। ঠোঁটে লিপস্টিক দেওয়া সুন্দরী ফুকফুক করে বিড়ি ফুঁকছে। কপাল ভালো থাকলে দু-এক পিস ভ্যাবাচ্যাকা সায়েবও দেখতে পাবেন, সুট-কোট-টাই পরে রাস্তা দিয়ে ন্যালাক্ষ্যাপার মতো হাঁটাহাঁটি করছে। কেউ পুঁছছেও না। আপনি আবার দেখে ছবি তুলতে দৌড়বেন না যেন। এখানে ওসবকে হ্যাংলামি বলে।

    সেক্টর ফাইভে থাকতে হলে হ্যাংলামি-ট্যাংলামি এক্কেবারে স্ট্রিক্টলি নো-নো। বাঁচতে হলে কেতায় বাঁচুন। সব সময় রেলায় থাকবেন। অফিসের সামনে দেখবেন গিজগিজ করছে লোক। পুরো মেলা বসে গেছে। জমি-বাড়ির দালাল, ইনসিওরেন্সের এজেন্ট থেকে শুরু গাড়ি কোম্পানির সেলসম্যান আর ক্রেডিট কার্ডের বেচুবাবু পর্যন্ত সব্বাই আছে এই দঙ্গলে। তার সঙ্গে আছে ভিখিরি বালক। হরেকরকম দোকানদার। ঢাকাই মসলিন থেকে শুরু করে ঢাকাই পরোটা, বেনারসি পান থেকে শুরু করে কাশ্মীরি আলুরদম পর্যন্ত, সব এক ধারসে কেনাবেচা হচ্ছে। রেলায় না থাকলে কে যে গলা কেটে নেবে ধরতেই পারবেন না। অফিস থেকে বেরোলেই কেউ না কেউ আপনাকে ধরিয়ে দেবে গুচ্ছ লিফলেট। ব্যাঙ্কের এজেন্ট কানের কাছে এসে বলবে হোক লোন নেবেন নাকি? সামলাতে সামলাতে জান কাহিল হয়ে যাবে। তার চেয়ে সব্বাইকে এক ধারসে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করবেন। লিফলেট হাতে গুঁজে দিলেই ফেলে দেবেন। ক্রেডিট কার্ডের এজেন্টকে দেখলেই মাছি তাড়ানোর ভঙ্গী করবেন। "আজকে একটাও বিক্রি হয়নি' বলে সেন্টু দিলে "তো আমি কি করব?' বলে একটা নির্বিকার মুখভঙ্গী করবেন। দেখবেন, সব ব্যাটা বজ্জাত ঢিট। এক ধারসে স্যার (বা ম্যাডাম) বলে ডাকছে। সম্মান পেতে হলে তাচ্ছিল্য করুন। অন্যের মাথায় উঠতে হলে তার কাঁধে তো পা দিতেই হবে। সেক্টর ফাইভের এই হল প্রাথমিক শিক্ষা। নইলে এখানে আপনি টিকতে পারবেন না।

    একবার রেলা নেওয়া আয়ত্ত্ব হয়ে গেলে অবশ্য একটু দোকান-টোকান গুলো ঘুরে দেখতে পারেন। দোকান বলতে অবশ্য ঝুপড়ি। এদের বলে অনুসারী শিল্প। শহরের পাশের বস্তির মতো এক্কেবারে গা ঘেঁষাঘেঁষি করে রাস্তার উপরে গ্যাঁট হয়ে বসে আছে। বেশিরভাগই অস্থায়ী। পুলিশ তাড়া মারলে সব দৌড় মারে। তারপর আবার কোনো একটা ব্যবস্থা করে ব্যাক টু দা স্কোয়্যার ওয়ান। এখানে পাবেন হরেক রকম খাবার-দাবার। ঝালমুড়ি-জিলিপি-সিঙ্গাড়া থেকে শুরু করে ইডলি-ধোসা, মাছের-ঝোল-ভাত থেকে চিকেন-চাউমিন, লুচি-আলুদ্দম থেকে শুরু করে মোমো-বিরিয়ানি পর্যন্ত। শুধু খাবারই নয় অবশ্য। নজর রাখলে আরও হরেক কিসিমের কারবার দেখতে পাবেন। কোনো দিকে নেমপ্লেট লেখানোর বরাত নেওয়া হচ্ছে। কেউ বা রাবার স্ট্যাম্প বানাচ্ছেন। কোথাও টেবিল পেতে বসে ইনসিওর‌্যান্স পলিসি বিক্রি হচ্ছে। হার-দুল-ঢাকাই-মসলিনও মাঝে সাঝে বিক্রি হতে দেখা যায়। এরা অবশ্য রেগুলার নয়। মেয়েরা ভিড় করে দেখে ঠিকই, কিন্তু কেউ মনে হয় কেনেনা।

    শুধু হাড়-হাভাতেদের কারবারই নয়, ক্যাট জনতাও এখানে নানা ধান্দা করে চলে অবিরত। এক কোনে দেখবেন কোনো এক জিম-কাম-রিসর্টের লিফলেট বিলি হচ্ছে। অন্য দিকে কোনো এক পরিবেশবাদী এনজিও পরিবেশ-সচেতনতা বাড়ানোর জন্য দুটি ধোপদুরস্ত ছেলেমেয়েকে ফিট করেছে। তারা জনে জনে লোক ধরে রি-ইউজ আর রিসাইক্লিং এর সুফল বোঝাচ্ছে। পরিবেশ বলতে এ তল্লাটে লোকজন ফরেন কিছু একটা ভাবে। যেখানে বসবাস করে সেটা ঠিক পরিবেশ পদবাচ্য নয় বলেই বোধহয়। একপাশে দেখবেন এফেম চ্যানেলের গাড়িও দাঁড়িয়ে থাকতে পারে। তারা নানাবিধ কম্পিটিশন করে লোককে প্রাইজ দেবার তাল করছে। লোকে ভিড় করে দেখছে। এইসব কারবার থেকে দূরে থাকাই মঙ্গল। অন্য কিছু না, আপনার মোবাইল নাম্বারটি খপ করে নিয়ে নেবে, তারপর কাকে বেচে দেবে তার ঠিক নেই। ব্যস, তারপরেই নানা কন্ঠে শুনতে থাকবেন না বিজ্ঞাপনী অমৃতবাণী। একমাত্র গাড়ি কোম্পানির মিনিস্কার্ট পরা মেয়েদের দেখলে ঘাবড়াবেন না। নানা নতুন গাড়ি লঞ্চ করলেই ওরা আসে টেস্ট ড্রাইভ দেবার জন্য। পছন্দ হলে বোঁ করে নতুন গাড়ি চেপে ঘুরে আসতে পারেন। কেউ কিচ্ছু বলবেনা। আর মিনিস্কার্ট দেখে ভয় পাবার কিছু নেই, ওটা বেচারিদের ইউনিফর্ম, আদতে বিপজ্জনক কিছু না। শীতকালে বেচারিরা ঠান্ডা লাগে বলে স্কার্টের উপরে কম্বল দিয়ে পা ঢেকে বসে থাকে। কম্বলটা কোম্পানি সাপ্লাই করে কিনা জানা নেই।

    বাইরের ভ্রমন শেষ হলে ফুস করে একখানা বিল্ডিংএ ঢুকে পড়তে পারেন। আপনি এখানে চাকরি করেন না? তাতে কি। এই এক এক খানা বাড়ি, জাস্ট বাড়ি নয়। আস্ত একেকটি শিল্পতালুক। ইংরিজিতে যাদের এসইজেড বলে। শুধু অফিস বানালে তো আর উন্নয়ন হলনা। তাই এদের ভিতরে আছে কফিশপ থেকে শুরু করে ডলার ভাঙানোর দোকান পর্যন্ত উন্নততর জীবনযাপনের নানাবিধ উপকরণ। গেটে অবশ্য সিকিউরিটি আছে, কিন্তু সে তো শুধু অবাঞ্ছিত অতিথিদের আটকানোর জন্য। ভিখিরি ও ফেরিওয়ালাদের এখানে আটকানো হয়। আপনার ভদ্রসভ্য পোশাক। মুখে বিরক্তি। রেলা নিয়ে সিকিউরিটিকে বলুন, ভিতরে কফি খেতে যাব। আপসে ছেড়ে দেবে। ঢুকলেই দেখবেন, এক সম্পূর্ণ আলাদা জগৎ। উল্টে দেখুন, পাল্টে গেছে। বাইরে খোয়া ওঠা রাস্তা, থুতু-পানের-পিক-বাসের হর্ন-ভিখিরি আকীর্ণ জগৎ, আর ভিতরে মেঝেতে হাঁটতে গেলে পা পিছলে যায়। থুতু ফেলা তো দূরস্থান, পা ফেলতেই দ্বিধা হবে। যদি নোংরা করে ফেলি। বাইরে গাদাগাদি বাস, আর ভিতরে চকচকে লিফট আর কাচের সিঁড়ি। বাইরে তিন টাকার চা আর ভিতরে একশো টাকায় এক কাপ কফি। আপনাকে কফি খেতেই হবে, তার কোনো মাথার দিব্যি কেউ অবশ্য দেয়নি। ঘুরুন-টুরুন, এদিক-সেদিক উঁকি দিন। দেখে নিন, এই সেই তীর্থ, যেখানে সফটওয়্যার কেরানিরা কাজ করেন। আমেরিকা-ইউরোপের প্রয়োজনে নানাবিধ সফটওয়্যার কেরামতি দেখান। ক্লায়েন্টের হিসেবে দিনকে রাত ও রাতকে দিন করেন। ভারতকে জগৎ সভায় উচ্চ আসনে তুলে ধরেন।

    ঘুরুন, দেখুন, আমোদিত হোন। আর কাচের দেয়াল দিয়ে মাঝে মাঝে বাইরে দেখুন, গিজগিজ করছে আ-মোলো-যা থার্ড ওয়ার্ল্ড। আর ভিতরে, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত চাঁদোয়ার নিচে এই আমাদের একটুকরো আমেরিকা। এ পোড়া দেশে হাড়-হাভাতেরা সবই নষ্ট করে দেয় বলে একে দেয়াল দিয়ে ঘিরে রাখতে হয়েছে। লুকিয়ে রাখতে হয়েছে আম-জনতার কাছ থেকে। এই দেয়াল-ঘেরা একটুকরো গর্বের বাগানই হল আমাদের স্বপ্ননগরী, যার নাম সল্টলেক সেক্টর ফাইভ।

    কলকাতায় শিল্পায়নের শোকেস স্বচক্ষে দেখতে হলে নির্দ্বিধায় চলে আসুন আমাদের গর্বের সেক্টর ফাইভে। কলকাতার প্রাণকেন্দ্র থেকে জ্যাম লাগা বাইপাস ধরে মাত্র দেড় ঘন্টার দূরত্বে, ঘামচ্যাক সল্টলেক উপনগরীর একদম নাকের ডগায়, নেতাজী সুভাষচন্দ্র আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ছয় লেনের রাস্তা ধরে মাত্র পনেরো মিনিট দূরে, পূর্বতন নিউটাউন এবং বর্তমান জ্যোতিবসুনগরের ধূধূ প্রান্তরের লাগোয়া আমাদের এই স্বপ্ননগরী। যদি সিধে বিমানবন্দর থেকে এখানে প্রবেশ করেন, তবে জ্যোতিবসু নগর থুড়ি জেবিনগরের ধূ-ধূ মাঠ দেখে ঘাবড়াবার কিছু নেই। চোখ বুজে দেখুন, এই ফাঁকা ময়দান একদিন কল্লোলিনী তিলোত্তমা হবে। রাস্তায় ইতস্তত ঘুরে বেড়ানো গোরু গুলি ইউনিফর্ম বদলে সফটওয়্যার কেরানি হবে। রাস্তায় কংক্রিটের চাঙড় ফেলে ট্রাফিক কন্টোলের মহান প্রচেষ্টাকেও ব্যঙ্গ করার মতো কিছু নেই। এই এলাকাও একদিন কলকাতা পুলিশের পক্ষপুটে স্থান পাবে। মোড়ে-মোড়ে সিগনাল হবে। এদিক সেদিক উড়ালপুল। নাইট ক্লাব, উন্নয়ন হবে, কলসেন্টার ও সফটওয়্যার হবে। যদি কলকাতা দিয়ে এখানে ঢোকেন, তবে বাইপাসে জ্যাম নিয়ে অকারণে মাথা খারাপ করবেন না। চোখ বুজে দেখুন, অদূর ভবিষ্যতে এই যানজট অতীত হবে। সেদিন আর বেশি দূরে নয়, যখন সুদূর পরমা আইল্যান্ড থেকে তৈরি হবে লম্বা এক উড়ালপুল। কলকাতা শহর থেকে সিধে উড়ে আসবেন শিল্পায়নের এই তীর্থক্ষেত্রে।

    এই দুই প্রবেশ পথের মধ্যবর্তী জনপ্রস্রবনগিরিসদৃশ আপিসপাড়াই আমাদের সেক্টর ফাইভ। আমাদের শিল্পায়নের শোকেস। কলকাতা নয়, তবু কলকাতার দ্রষ্টব্য দেখতে হলে এখানে আসতেই হবে।
  • বিভাগ : ধারাবাহিক | ২৮ মার্চ ২০১১ | ৫৭ বার পঠিত
  • আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা

  • করোনা

  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত