• বুলবুলভাজা  ইস্পেশাল  উৎসব ২০১৩

  • তারা দু'জন

    রূপঙ্কর সরকার লেখকের গ্রাহক হোন
    ইস্পেশাল | উৎসব ২০১৩ | ০২ নভেম্বর ২০১৩ | ৩৩৫ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • গাঙ্গুলি বাড়ির বৌ হয়ে যেদিন প্রথম এসেছিল সৌদামিনী, শাশুড়িমা থুতনি ধরে চুমু খেয়ে বলেছিলেন, তোমার নামটা বাছা আমি একটু বদলে দেব। একে অতবড় নাম ধরে ডাকাও যায়না, তাছাড়া আর একটা সমস্যাও আছে। তোমার কোনও ডাক নাম নেই? সৌদামিনী বলল, হ্যাঁ আছে তো, মিনু। উনি বললেন, তাহলে আজ থেকে সবাই মিনু বলেই ডাকবে তোমায়। সবাই আর কে, বাড়িতে তো আর মোটে তিন জন, কত্তা, গিন্নী আর সৌদামিনীর বর মহাদেব। সৌদামিনী তবুও জিজ্ঞেস করল, সমস্যা কী একটা আছে বলছিলেন মা? গাঙ্গুলি গিন্নী বললেন, আসলে আমাদের বাড়িতে যে কাজের মেয়ে, তার নামও সৌদামিনী। অবশ্য তাকে আমরা সদু বলে ডাকি। এ নামটা তো আমার মায়ের আমলের, এই আধুনিক যুগেও এমন নামে দু-দুজন? যাক, সমস্যা আর থাকল না।

    সদু মেয়েটা বেশ, চেহারাতেও খানিক শ্রী আছে, তাছাড়া খুব গপ্পি। যতনা বাসন মাজে, বকবক করে তার ঢের বেশি। গাঙ্গুলি গিন্নীকেই এতদিন তার বকবকানি শুনতে হত, এখন মিনুকে পেয়ে সিন্ধবাদের বোঝা তার কাঁধে চাপিয়ে দিয়ে কেটে পড়লেন তিনি। কেটে পড়া মানে যে চিরতরে কেটে পড়া, তা কে জানত আগে। রাত দুপুরে চোয়ালে ব্যাথা শুরু হ’ল, তারপর শ্বাস কষ্ট। মহাদেব অনেক খুঁজেও পাড়ায় কোনও ডাক্তার পেলনা। ট্যাক্সি খুঁজতেই আধঘন্টা। কোনওমতে হাতে পায়ে ধরে একজনকে রাজি করিয়ে রওনা দিলে কী হবে, হাসপাতাল অবধি পৌঁছনোরও সময় দিলেন না তিনি, বাড়িতে চারটে মানুষ ছিল, এখন তিন।

    মা মারা যেতে মহাদেবের চেয়ে বেশি কাঁদল সৌদামিনী, মানে, মিনু আর তার চেয়েও বেশি কাঁদল সৌদামিনী, মানে, সদু। মা বড় ভাল মানুষ ছিল গো, নিজের মায়ের মত দেখত আমায় গো, এখন আমার কী হবে গো – ইত্যাদি। শ্রাদ্ধের দিন সকাল থেকে রাত অবধি থাকল, খুব কাজ করল, মহাদেব কিছু টাকা দিতে গেলে সে এক হাত ঘোমটা টেনে দৌড়ে মিনুর কাছে এসে  নালিশ জানাল, আমার মা মরেছে, আর তাই জন্যি খেটেছি বলে আমায় টাকা দিচ্ছ? তোমরা কেমন মানুষ গো ? মিনু বলল, আমি কি দিয়েছি নাকি, আমায় বলছিস কেন? কিন্তু দ্রব্য মূল্যের উত্তোরোত্তর বৃদ্ধি এবং পারিপার্শ্বিক চাপ ক্রমশঃ বেড়েই চলে। একদিন সদু এসে মিনুর ঘরে পর্দা ধরে পায়ের বুড়ো আঙুল দিয়ে ছবি আঁকতে লাগল, ও বৌদি, কুড়ি টাকা মাইনেয় আর চলছেনা গো, সামনের মাস থেকে পঁচিশ করে দাও। মিনু বলল, তা দাদাকে বলনা, আমায় বলছিস কেন? সদু বলল, দাদার সঙ্গে এসব কথা বলতে লজ্জা লাগে না, তুমি বলে দিও।

    সৌদামিনী, অর্থাৎ সদু এবাড়ির বাঁধা কাজের লোক নয়, সে ঠিকে ঝি। ঠিকে ঝি রা সাধারণতঃ কোনও বাড়িতেই খুব বেশিদিন থাকেনা। ব্যতিক্রম যে কিছু দেখা যায়না তা নয়, তবে ব্যতিক্রম, ব্যতিক্রমই। এর একটা কারণ আছে, এবং সেটা খুব স্পষ্ট। সভ্যতার অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে বাজারে জিনিষের দাম বাড়ে লাফিয়ে লাফিয়ে, যাতায়াতের খরচ বাড়ে, বাড়িভাড়া বাড়ে, অনেক কিছুই বাড়ে। এছাড়াও খরচ বাড়ে অন্যদিকে। এক সময়ে বিলাস ব্যসনের কিছু মাধ্যম, যেমন, ইলেকট্রিক পাখা, টেলিভিশন, রেফ্রিজারেটর,  এগুলো শুধুমাত্র বাবুদের দখলে থাকত, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা নীচের দিকে গড়াতে শুরু করেছে এবং সে সব জিনিষ, হাত ফেরতা হলেও, আয়ত্ব করতে টাকার দরকার। সেই কারণেই ঠিকে ঝিদের মাস মাইনের চাহিদাও বেড়ে চলে অনবরত। এবার যে সব পুরোন বাড়িতে তারা কাজ করত, সেখানে কত আর মাইনে বাড়াতে বলা যায়। আর সে মাইনে বাড়লেও এক-দু বছর অন্তর অন্তর সামান্য কিছু বাড়ে। ওদিকে নতুন বাড়িতে কাজ নিলে, প্রথম থেকেই অনেক বেশি মাইনেতে নিয়োগ হয়। তখন পুরোন বাড়ির কাজ ছাড়তে বাধ্য হয় তারা। কতগুলো বাড়িতে আর একসঙ্গে কাজ করা যায় ? সৌদামিনী, অর্থাৎ সদু কিন্তু গাঙ্গুলিবাড়ির কাজ ছাড়েনি। খুব বেশি বাড়িতে কাজ করেও না সে।

    গাঙ্গুলিবাড়িতে লোকসংখ্যা চার থেকে কমে তিন হয়ে গেছিল, আবার বেড়ে চার হয়ে গেল। শ্রাবণী পূর্ণিমার দিন ফুটফুটে মেয়ে হ’ল সৌদামিনীর, মানে, মিনুর। মহাদেব মুগ্ধ হয়ে মেয়ের মুখ দেখতে দেখতে বলল, কী নাম রাখা যায় বলত? শ্রাবণী, না পূর্ণিমা ? মিনু বলল, ধুশ্‌ এ সব নাম আদ্দিকালের, মডার্ন নাম রাখতে হবে। মহাদেব বলল, কেন, নামদুটো খারাপ ? মিনু বলল, অনেক ভেবেচিন্তে কাজ করতে হয়, জান? তোমার মেয়ের নাম যদি পূর্ণিমা রাখ, শ্বশুরবাড়ি গিয়ে দেখবে কাজের লোকের নামও পূর্ণিমা। তখন নাম পাল্টে ডাকতে হবে। কী দরকার বাবা, এখনই একটু ভেবে চিন্তে এমন নাম বের কর, যেগুলো বস্তি ফস্তিতে পৌঁছতে সময় লাগবে। মেয়ের নাম হ’ল, দেবাদৃতা। মায়ের কিছু না পেলেও, বাপের নামের খানিকটা জুটল তার।

    নতুন খেলনা পেয়ে সৌদামিনী, অর্থাৎ মিনুর চেয়ে সৌদামিনী, অর্থাৎ সদুর আহ্লাদ যেন বেশি। কোল থেকে নামাতেই চায়না। অন্যবাড়ির ঠিকে কাজ মাথায় উঠল, এবাড়িতেই পড়ে থাকে অনেকক্ষণ। মিনুও খানিক হাঁফ ছেড়ে বাঁচে, কারণ কোমরে একটা ব্যাথা মাঝে মাঝেই চাড়া দিচ্ছে বাচ্চাটা আসার পর। সদু একটু বেশি সময় থাকাতে সুবিধে তো খানিক হয়েইছে। একদিন সদু মেয়েটাকে তেল মাখাচ্ছে, মিনু খাটে শুয়েই জিজ্ঞেস করল, হ্যাঁরে, তোর বিয়ে তো আমার আগেই হয়েছে, বাচ্চা টাচ্চা নিবিনা? সদু বলল, সবার কপাল কি আর সমান বৌদি ? মিনু বলল, তার মানে? কপাল আবার কী, ডাক্তার দেখিয়েছিস? সদু বাচ্চাকে খাটে শুইয়ে বলল, ডাক্তার? ডাক্তার কি সবটাই করে দেবে? বলে দরজার দিকে হাঁটা দিল। মিনু বেশ খানিকক্ষণ সময় নিল কথাটা বুঝতে। তারপরও ভাবল, ঠিক বুঝলাম তো?

    কোমরের ব্যথাটা বেড়েই চলে। এখন উঠে বসে কাজ করতে খুব অসুবিধে। বসলে ওঠা যায়না, উঠলে বসা যায়না, ভাতের ফ্যান গালতে জীবন বেরিয়ে যায়। সদু বলল, সরো সরো আমি গেলে দিচ্ছি ফ্যান। এমনি কি আর বলেছে? ক’দিন পরই পর্দা ধরে পায়ের বুড়ো আঙুল দিয়ে অ্যাবসট্রাক্ট আর্ট – মিনু বলল, উঃ কীঃ, মাইনেঃ? সদু বলল, না না তোমার এখন ব্যাথা উঠেছে, তবে থাক। মিনু বলল, নাঃ, বলনাঃ, উঃ – সদু বলল, এই, মানে বলছিলাম, চল্লিশে আর চলছেনা, গোটা দশেক টাকা যদি – মিনু বলল, ওরে বাবারেঃ, তোঃর দাদাকেঃ বলনা – সদু বলল, দাদাকে বলতে আমার লজ্জা করে, তুমিই বোলো।

    ব্যাথা এখন অসহ্য। বড় ডাক্তার দেখানো হয়েছে, তাঁরা বলেছেন, পেলভিক মিসঅ্যালাইনমেন্ট। চাইল্ডবার্থের পর এমন হতে পারে। প্রথম প্রথম ডাক্তার না দেখিয়ে ব্যাথা কমাবার অসুধ খেয়েছেন, না? এখন দেরী হয়ে গেছে। দেখছি, মালিশের লোক পাঠিয়ে দেব, দেখুন কতটা হয়। মহাদেব বলল, ফিজিওথেরাপিস্ট ?  ডাক্তার বললেন, তা বলতে পারেন, তবে এদের আমরা বলি কাইরোপ্র্যাক্টর। এদের কাজ শিরদাঁড়ার ওপর। দেবাদৃতা এখন পাঁচ, ডাক নাম আদুরি। ইস্কুলে যাওয়ার জন্য তৈরী করা, টিফিন গুছিয়ে দেয়া, সব সদু মাসিই করে। মেয়েটা বড় ভাল। মাইনে একটু বাড়িয়ে নিয়েছে বটে, তবে কাজ বেড়েছে অনেক।

    আজ রবিবার। কাইরোপ্যাক না কী বলে ছাই, লোকটা এসে গেছে। মিনুর ভীষণ লজ্জা করে। বামুন বাড়ির বৌ, সায়ার দড়ি খুলে কোমরের তলায় নামিয়ে – ছিঃ। তবে ছেলেটা ভাল। যে শিরা গুলোর ওপর ওর কাজ, তার এক সেন্টিমিটার দূরে আঙুল যায়না। বলল, দিদি, এখন আগের চেয়ে ভাল ফীল করছেন না? একদম সেরে না গেলেও আপনাকে কাজ চালানোর মত করে দেব। একটু সময় লাগবে, এই যা। আচ্ছা, আপনি তো শোয়া, এখন রান্না বান্না কে করে, লোক রেখেছেন? মিনু বলে না ভাই, এই দেখনা, আমার চিকিৎসার খরচ সামলে, আমার মেয়ের পড়ার খরচ সামলে, আবার রান্নার লোক রাখার মত বড় চাকরি তো তোমার জামাইবাবু করেন না ভাই, ওই নিজেই রান্না বান্না চালিয়ে – কাইরো বলে, আর কেউ নেই আপনাদের? ননদ টনদ ? – নাঃ, আমরা তিন জনই। শ্বশুর মশায় ছিলেন, মারা গেলেন এই তিন বছর হ’ল। ছেলেটা বলে , তবে উনি কে? জামাইবাবুর সঙ্গে ওদিকের ঘরে ঢুকলেন? মিনুর পায়ের তলায় মাটি ছিলনা, সরবার প্রশ্ন নেই, তবে মাথা ঘুরতে লাগল, আজ তো রবিবার, বেলা তিনটের সময়ে পাশের ঘরে –

    মিনু এখন উঠে বসতে পারে। কিছুটা রান্না বান্নাও করতে পারে। দেবাদৃতা ক্লাস নাইনে। মাস্টার রাখা যায়, তবে এখনো যা বিদ্যে, মিনু ওর পড়া দেখিয়ে দিতে পারে সায়ান্স সাবজেক্টগুলো ছাড়া। সেগুলোর জন্য বিমলদার কোচিং আছে। দেবাদৃতা কোচিংয়ে বেরোতেই পরদায় সদু, আবার বুড়ো আঙুল দিয়ে ছবি। ও বৌদি, কিছুটা না বাড়ালে – সৌদামিনী, অর্থাৎ মিনু, অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে বলল, যে টাকা দেয়, তাকে বলগে যা। সদু বলে, তুমি বলনা, আমার লজ্‌- ঝট করে ঘুরল মিনু, তোর যে লজ্জা করে, এই কথাটা বলতে লজ্জা করলনা ? এখন তো মাইনে বাড়াতে বলবিই, যতদিন আশ মিটছিল, ততদিন কম টাকাতেও চলছিল, বল? বৌদি উঠে বসেছে, চলাফেরা করছে, খুব অসুবিধে, তাই নারে?

    সদু সোজা হয়ে দাঁড়ায়। বয়স তো ভালই হ’ল, কিন্তু এখনো বাঁধুনি মজবুত। মুখ উঁচু করে কিন্তু গলা নামিয়ে বলে, দেখ বৌদি, যার যা দরকার। তেনারও কিছু দরকার, আমারও কিছু দরকার। অতবড় মানুষটা দরকার মেটাতে কি অলিগলিতে ঘুরবে? না আমিই খুঁজতে বেরোব পালের ষাঁড়। কাল থেকে আর আসতে হবেনা, তাইতো? মিনু অসহায়ের মত বলে, একথা তুই বলতে পারলি, সদু? ঠিক আছে, আমি আর কোনও কথা বলবনা। মেয়েটা বড় হচ্ছে। কখন কী হয়ে যায় – সদু বলে, কখনো কিছুই হবেনাকো। ও মেয়ে তো আমারও মেয়ে। তুমি আর কতটুকু করলে?

    মেয়ের বিয়ে দেবার আগেই মহাদেব কৈলাশে। বংশের রোগ, খাবি খেল, বলল, তাড়াতাড়ি সরবিট্রেট – আলমারির সেকেন্ড তাকে – সরবিট্রেট অবধি যেতে দিলে তো। আদুরির বিয়ে দেয়া মিনুর পক্ষে মুশকিল ছিল। তবে কিনা মেয়ে দেখতেও যেমন সুন্দরী, পড়াশোনাতেও তেমনি। পিএইচডি টা করতে করতেই অংশুমানের সঙ্গে আলাপ। এখন ইলিনয় তে থাকে। প্রথম প্রথম ফোনে বলত, মা বোকার মত ইলিনয়েস বোলোনা তো, লোকে কী ভাববে? ‘এস’ টা উচ্চারণ হয়না। আমেরিকা থেকে টাকা আসত। বাজার হত, ইলেক্ট্রিকের বিল হ’ত, সদুর মাইনেও হত। মিনু মাঝে মাঝে ভাবে, এক বাড়িতে এক ঠিকে ঝি কতবছর একটানা কাজ করেছে, তার কোনও রেকর্ড হয়, গিনেস বুকে? কী সব খবর আসে, টোস্টারে ইলেক্ট্রিক শর্ট সার্কিট না কী বলছিল, শোনার আগেই হাত থেকে ফোন পড়ে গেল তো – সদু দৌড়ে এসে ধরে ফেলল, না হলে মিনু নিজেই পড়ে যেত। দেবাদৃতা নামটা কেন রাখতে গেলাম? দেবতাদের আদুরি হয়ে গেল আমার আদুরিটা -

    মিনুর জ্বর এসেছে। কালও ভাত খায়নি। এর মধ্যেই কথাটা বলতে হবে? ঝি রা ঝি-ই, এরা মানুষ কোনওদিন হবেনা। বলে কিনা একশ টাকায় আর কাজ করা যায়না। আমার নিজের তো পেট চালাতে হবে, নাকি? বেশি বাড়িতে কাজও করিনা এখন, মোটে দুটো। বুড়িদের কেউ কাজ দেয়না। মিনু খিঁচিয়ে ওঠে, কী করে বলিস এসব কথা? কিছু তো নেই সংসারে। বাপের দেয়া গয়না গুলো ছিল, তাই একটা করে বেচছি, আর ছ’সাত মাস করে টানছি। তুই তো নিজেই যাস স্যাকরার কাছে আমার সঙ্গে। তাও কোনদিন চোর এসে নিয়ে গেলে উপোস করে মরব। আর মাইনে বাড়াতে পারবনা আমি। যাবার হয় চলে যা। সদু আস্তে আস্তে ঘর থেকে বেরিয়ে সদর দরজা খুলে চলে গেল। মা মাগো – খুব জ্বর মা, মিনুর চোখের কোন দিয়ে শেষ দুটো জলের ফোঁটা গাল গড়িয়ে নেমে গেল। যাক আপদ গেল, আর জল নেই চোখে। কী করবি কর। 

    পরদিন মিনু স্বপ্ন দেখল, কলতলায় বাসন মাজার আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। একটু হেসেও নিল জ্বরজ্বালার মধ্যেই। কত কালের অভ্যেস, সে যে নেই, তা ভাবতেই পারা যায়না। রান্নাঘরেও খুটখাট আওয়াজ, চোর এল নাকি? কাল তো মাগি দরজা খুলেই বেরিয়ে গেছে। ওঠারও ক্ষমতা নেই। এবার চোখেও ভুল দেখছি, বিছানার পাশে কমপ্ল্যানের গেলাস হাতে কে রে ওটা ? আঁচল খুলে চৌকো দুটো টুকরো বের করে সে – এই যে, দুটো ক্যালপল, দুটাকা –পারলে দিও, না পারলে থাক। দরজার দিকে যেতে যেতে বলে, বুড়িটা মরলে বাঁচি।

    সৌদামিনী অর্থাৎ মিনু চিঁ চিঁ করে জিজ্ঞেস করে, কোন বুড়িটা রে? সৌদামিনী অর্থাৎ সদু উত্তর দেয়, দুটোর যে কোনও একটা।

  • বিভাগ : ইস্পেশাল | ০২ নভেম্বর ২০১৩ | ৩৩৫ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন গ্রাহক পুনঃপ্রচার
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • সিকি | 132.177.170.201 (*) | ০৩ নভেম্বর ২০১৩ ০৭:১৬76939
  • একটা যেন ঘোরের মধ্যে শেষ করলাম। এমন আখ্যান লিখতে বোধ হয় এমন একটা বয়েস লাগে।
  • আবির | 76.215.158.118 (*) | ০৩ নভেম্বর ২০১৩ ০৮:২৯76942
  • চমৎকার, মন খারাপ করে দেওয়া গল্প। তারা দুজন তো শুধু এরা দুজনই নন, আরও অনেক অনেক দুজন, তিনজন, চারজনের কথা বলল, বলেই চলেছে।
  • aranya | 78.38.243.161 (*) | ০৩ নভেম্বর ২০১৩ ০৮:৫১76943
  • অপূর্ব লেখা
  • sch | 126.203.192.12 (*) | ০৩ নভেম্বর ২০১৩ ১১:৩৯76940
  • আজকাল বেশী লোকের পা ছুঁতে ইচ্ছে করেনা - আপনার পা টা এই মুহুর্তে ছুঁতে খুব ইচ্ছে করছে
  • kumu | 133.63.112.27 (*) | ০৩ নভেম্বর ২০১৩ ১২:৪৩76941
  • অ সাধারণ।
  • i | 212.159.170.124 (*) | ০৩ নভেম্বর ২০১৩ ১২:৪৩76938
  • আগেও পড়েছি অন্যত্র। আবারও এক টানে পড়ে ফেলি। আবারও চমৎকার লাগে পড়তে।
  • jhiki | 233.255.225.70 (*) | ০৪ নভেম্বর ২০১৩ ০২:২০76944
  • খুব ভালো লাগল।
  • Bhagidaar | 218.107.71.70 (*) | ০৪ নভেম্বর ২০১৩ ০২:২৩76945
  • বেশ!
  • ন্যাড়া | 219.131.62.145 (*) | ০৪ নভেম্বর ২০১৩ ০৪:৫২76948
  • মারকাটারি। অনেকদিন পরে মনপসন্দ ছোটগল্প পড়লাম।
  • ঐশিক | 213.200.33.67 (*) | ০৪ নভেম্বর ২০১৩ ০৫:১৯76946
  • রূপঙ্কর দা ,
    দারুন লাগলো।
    আপনার ওই বেলুরু আর হ্যালেবিডু নিয়ে লেখাটা এট্টু এখেনে তুলে দেবেন, খুব ভালো লাগছিল পড়তে।
  • nina | 22.149.39.84 (*) | ০৪ নভেম্বর ২০১৩ ০৭:৫৫76949
  • দারুণ!!!!!
  • রূপঙ্কর সরকার | 126.203.209.99 (*) | ০৪ নভেম্বর ২০১৩ ০৭:৫৬76947
  • সকলে এমন আপ্লুত করে দিলেন, কাকে ছেড়ে কার কথা বলি। সবাইকে অনেক অনেক ভালবাসা।

    ঐশিক, হ্যাঁ ওটা ব্লগে তোলবার তোড়জোড় চলছে। বেশ খানিক পরিমার্জনার পর।
  • sudipta | 212.142.93.23 (*) | ০৭ নভেম্বর ২০১৩ ০৫:৪৪76950
  • osadharon
  • Ranjan Roy | 24.99.94.247 (*) | ০৮ নভেম্বর ২০১৩ ০৪:০৫76951
  • কিছু বলতে ইচ্ছে করছে না। পড়ে চুপচাপ বসে আছি। মনের ভেতরে কতগুলো পরত। আর এমন অসাধারণ ফিনিশ!
  • রূপঙ্কর সরকার | 126.203.202.92 (*) | ০৯ নভেম্বর ২০১৩ ১১:১৫76952
  • রঞ্জন -
  • kumu | 132.161.22.218 (*) | ১০ নভেম্বর ২০১৩ ০৪:৩০76953
  • আদৃতার কথাটা পড়ে মন খারাপ হয়ে গেল।ও বিদেশেই থাক না!
  • রোবু | 213.147.88.10 (*) | ১০ নভেম্বর ২০১৩ ০৪:৩৯76954
  • আহ। কী অসাধারণ!
  • | 24.97.233.105 (*) | ১০ নভেম্বর ২০১৩ ০৯:২৬76955
  • ভালই লাগল।
  • রূপঙ্কর সরকার | 126.203.209.102 (*) | ১১ নভেম্বর ২০১৩ ০৪:৫৮76956
  • মাঝে মাঝে এসে সবাইকে থ্যাঙ্কু দিয়ে যাই।

    কুমু ম্যাডাম,
    দেবাদৃতা বেঁচে থাকলে মিনুর প্রেডিকামেন্ট চূড়ান্ত হ'তনা তো। তাই বেচারাকে মারতেই হ'ল।
  • অরিন্দম | 127.194.201.241 (*) | ১৯ নভেম্বর ২০১৩ ০৪:৪৩76957
  • অসামান্য । বিশেষ করে লেখার বাঁধুনি আর পরিমিতিবোধ (ভাষার কথা বলছি, কল্পনার কথা বলছি না) এদুটোর ভূয়সী প্রশংসা প্রাপ্য ।

    অন্যদের করা মন্তব্য থেকে বুঝতে পারছি অনেকেই আপনার লেখার সঙ্গে পূর্বাবধি পরিচিত । পরিচয় গাঢ় করার দরকার আমারও ।
  • শঙ্খ | 169.53.46.142 (*) | ১৯ নভেম্বর ২০১৩ ০৬:১২76959
  • রূপঙ্করদার লেখা সবদিনই ভালো লাগে। এই লেখাটাও দারুণ হয়েছে।
  • রূপঙ্কর সরকার | 126.203.221.253 (*) | ১৯ নভেম্বর ২০১৩ ১২:৫৬76958
  • এই তো পরিচয় হ'ল। আপনাকে ধন্যবাদ
  • Madhuparna | 222.186.183.51 (*) | ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ০৯:০৭76960
  • অসাধারণ গল্প
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ঠিক অথবা ভুল মতামত দিন